Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০
তাবাস্সুম খাতুন

নিশানের কথা থামতেই হঠাৎ সিমি কাঁপা কন্ঠে নিশানের উদ্দেশ্য জোড় গলায় বললো,
“আপনি স্বাভাবিক না। মানসিক রুগী। কি নৃশংস ভাবে হত্যা করছেন? আপনাকে পাবনায় ভর্তি করানো উচিত। এমন মানসিক রুগী আমি কখনো দেখি নি।”
সিমির কথা শেষ হতেই নিশান হাতে থাকা বড়ো ছুরিটা ফেলে দিয়ে দ্রুত পায়ে সিমির কাছে আসলো। সিমির বাহু জোরে চেপে ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“আমি মানসিক রুগী। তবে সেইটা তোর জন্য। আর কি বললি পাবনা? আমার একান্ত পাগলামির পাগলা গারদ তুই। তোকে ঘিরেই আমি পাগলামি করে মানসিক রুগী হয়ে উঠেছি। Because I need you by any means, at any cost.”
সিমির মুখ কুঁচকে গেছে। খুব শক্ত ভাবে নিশান তাকে চেপে ধরেছে। সে রিনরিনে সুরে বললো,
“আমার ব্যাথা লাগছে ছাড়ুন প্লিজ।”
নিশান আরো শক্ত করে সিমিকে নিজের একটু কাছে এনে একই ভঙ্গিতে বললো,
“লাগুক!লাগার জন্যই শক্ত করে ধরেছি। বেশি ফটর ফটর করা শিখে গেছিস তুই।”
সিমি চোখ বন্ধ রেখেই বললো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“হ্যা শিখেছি এখন কি করবেন? আপনার এই বন্ধ টর্চার সেলে কি আমাকেও এইভাবে খুন করবেন করেন খু..
বাকি কথা শেষ করার আগেই নিশানের শক্ত হাতের থাবা পড়লো সিমির বাম গালে। সিমির মাথা ঘুরে উঠলো। এমনিতে চোখের সামনে খুন দেখে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলিয়ে রাখছে এখন এইভাবে চড় খাওয়াই তার সেন্স আর কাজ করছে না। মাথা ঘুরে উঠলো আচমকা নিশানের বাহুতে ঢলে পড়লো। নিশান এক হাত দিয়ে সিমিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। সিমিকে ঐভাবে নিয়ে তার মায়ের কাছে গেলো। সেলিনা তাঁদের দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসলো। নিশান যা দেখে বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিয়ে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বললো,

“আমি চাইলে আপনাকে কুপিয়ে হত্যা করতে পারি। তবে আমি সেইটা করবো না। কারন আপনি আমাকে গর্ভে রাখছিলেন। মানুষ করছেন এইজন্য আপনি মাফ পেলেন মৃত্যু থেকে। তবে বেঁচে থেকেও যেন আপনি মরে যাওয়ার যন্ত্রনা ভোগ করেন প্রতি নিয়ত সেইসব আমি করে রেখেছি।”
সেলিনা কিছু বললো না। নিশান জিহানের উদ্দেশ্য বললো,
“পুলিশের কাছে প্রমান আর এই মহিলাকে দিয়ে দে। যেন তার কঠিন তম শাস্তি হয়। অন্তত্য যাবৎ জীবন জেলের ঘানি টানা লাগুক।”
জিহান মাথা নাড়লো। নিশান সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো। রুম থেকে বেরোনোর আগে সেলিনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

“আল্লাহর কাছে আমার একটাই দোয়া। যেন এমন নিচ মন নিয়ে, নিজের সন্তান কে খুন করতে চাওয়া মা যেন কোন সন্তানের কপালে না থাকে। আজীবন বন্দা থাকুক সেই মা তবুও সন্তানের মুখ না দেখুক।”
বলে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে যেতে জিহানের উদ্দেশ্য বললো,
“আমি আমার ইশুকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হচ্ছি। খোঁজ নিতে আসিস না আমার। আমি আমার ইশুকে নিয়ে পার্সোনাল সময় কাটাতে চাই। ওকে সময় দিতে চাই আমার প্রাইভেসি চাই।ভালো থাকিস আল্লাহ হাফেজ।”
বলে বেড়িয়ে গেলো।টর্চার সেল থেকে বেড়িয়ে সে নিজের গাড়িতে উঠে বসলো। সিমিকে নিজের কোলে নিয়ে রাখছে সিমির মাথাটা বুকে রেখে সিট্ বেল বাঁধলো। এক হাতে সিমিকে শক্ত ভাবে জড়িয়ে ধরে আরেক হাতে গাড়ির স্টেয়ারিং ঘুরিয়ে এয়ারপোর্ট উদ্দেশ্য যেতে লাগলো। নিশান গাড়ি চালাতে চালাতে সিমির চুলে গভীর চুম্বন এঁকে ফিসফিস করে বললো,

“জানবাচ্চা এইবার সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার আগের মতো হবে। আবারো আমাদের সন্তান আসবে আমার অস্তিত্ব দুনিয়ার আলো দেখবে। শুধু আমার অবাধ্য হলে তোকে কষ্ট পেতে হবে। আমার বাধ্য হয়ে থাকিস জানবাচ্চা তোকে আগলিয়ে রেখে সবকিছু পারি দিতে রাজি আছি। তবে আমার অবাধ্যতা হলে মেরে দাফন দিয়ে নিজেও মরে তোর পাশে নিজের দাফন করাতেও রাজি আছি। ”
নিশান থামলো। একটু নিচু হয়ে সিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“আমার শুধু তোকে লাগবে। পুরো দুনিয়া গোল্লায় যাক শুধু তুই আমার এই তানভীর চৌধুরী নিশানের একান্ত পার্সোনাল মেটার হয়ে থাক।”

নিশান সিমির কানে ছোট্ট কামড় দিয়ে মুখ তুলে নিলো। গাড়ি চালাতে লাগলো। আধা ঘন্টা ড্রাইভ করার পরে গাড়ি এসে থামলো এয়ারপোর্ট এর সামনে। সিট্ বেল্ট খুললো। সিমির বাহু ধরে নিজের সামনে আনলো সিমির মুখটা। নিশান তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে তার প্রেয়সীর দিকে। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়েছে। মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে। চোখের কোনটা ভিজে আছে। বাম পাশের গালটা লাল টুকটুক করছে।ঠোঁট দুটোর রং যেন রক্ত জবার মতো দেখা যাচ্ছে। নিশান কত ক্ষণ তাকিয়ে ছিলো সে জনেনা। জানতে চাই ও না শুধু বলতে চাচ্ছে বারবার একটাই কথা,
“তোকে দেখার এই স্বাদ কখনো না মিটুক জানবাচ্চা।তুই এইভাবেই থাক। আর আমি আজীবন ঠিক এইভাবে মুগ্ধ হয়ে তোকে দেখে যেতে চাই। তুই আমার সুখের নীড়। এমন এক সুখ যার দিকে আমি হাজার জনম তাকিয়ে থাকলেও আমার বিরক্ত আসবে না। কোন ক্লান্তি আমার চোখ ছুঁতে পারবে না। তোর বন্ধ চোখে তেই আমি নিঃস হয়ে যাচ্ছি। আর খোলা চোখে তোর ওই পলক হীন ছোট ছোট চাহুনিতে এই তানভীর চৌধুরী নিশান যে কত হাজার বার খুন হয়েছে তার ধারণা তোর নেই জানবাচ্চা।”

নিশান নিজেকে সংবরং করলো সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে সোজা এয়ারপোর্ট এর দিকে চলে গেলো। জিহান এসে গাড়ি নিয়ে যাবে। এয়ারপোর্ট এ ঢুকে সবকিছু শেষ করে প্লেনে উঠে বসলো। সে আজকে সকালেই প্লেনের টিকিট কেটে রাখছিলো। রাত দুইটা তিন মিনিটে ফ্লাইট।এখন বাজে একটা পঞ্চাশ। নিশান প্লেনে উঠে নিজেদের সিট্ এ বসলো। সিমি এখনো সেন্সলেন্স হয়ে পরে আছে।নিশান সিমিকে নিজের কোলে বসিয়ে মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে আছে। প্লেন উড়ার আগে এয়ার হোস্টেজ গুলো সবাইকে সিট্ বেল্ট বাঁধতে বললো। নিশানের কাছে এসে মেয়ে এয়ার হোস্টেজ টা নরম সরে ইংলিশ এ বললো,

“স্যার আপনার ওয়াইফ কে পাশের সিট্ এ বসিয়ে সিট্ বেল্ট নিজেও বেঁধে নেন। উনাকেও বেঁধে দেন। প্লেন এক্ষুনি রওনা দেবে।”
নিশান গম্ভীর মুখে নিজেও ইংলিশ এ জবাব দিলো,
“ওর কোন সিট্ বেল্ট এর দরকার লাগবে না।আমি একাই ওর সিট্ বেল্ট এর থেকেও বেশি নিরাপদ স্থান। আপনি আসতে পারেন।”

এয়ার হোস্টেজ টা সৌজন্যে মূলক হাসি দিয়ে চলে গেলেন।নিশান সিমির কোমরের খাঁজে হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের সাথে। প্লেন রওনা দিলো। তাঁদের গন্তব্য পৌঁছাতে আট ঘণ্টা সময় লাগবে।পুরো তিনটা ঘণ্টা কেটে গেলো সিমির এখনো জ্ঞান ফেরে নি। প্লেনের মধ্যে লাইট অফ আছে। শুধু একটা রঙিন লাইট জ্বলছে।নিশান হুট করে এই অন্ধকার আবছা আলোর মধ্যে সিমির ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলো। নিশান জোরে সিমির ঠোঁটে কামড় দিলো। সিমি যেন এইবার একটু নড়েচড়ে উঠলো। হুট করে সিমির মনে হলো তার শ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে। আর একটু এইভাবে শ্বাস বন্ধ থাকলে অক্কা পাবে। হঠাৎ চোখ জোড়া সে খুলে ফেললো।তার চক্ষু জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেছে। সে নড়তে চাইলো কিন্তু পারলো না।বুঝতে পারলো কেউ তাকে আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে আছে।সিমি এইবার নিশানের পেটে জোরে চিমটি কাটতেই নিশান সিমিকে ছেড়ে দিলো। সিমি নিজেকে ছাড়া পেয়ে বুকে হাত দিয়ে বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিতে লাগলো। নিশান সিমির উড়না দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে নিলো। সিমি নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো,

“নিশ্বাস আটকিয়ে মারতে চাইছিলেন নাকি?”
নিশান সিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ধীরে বললো,
“স্লো লি কথা বল জানবাচ্চা আমরা প্লেনের ভিতরে আছি।”
প্লেনের ভিতরে আছে মানে সে যাচ্ছে কোথায়? সিমি তাড়াতাড়ি নিশানের দিকে ফিরে বললো,
“কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
নিশান একই ভঙ্গিতে বললো,
“যেইখানেই যাই।এত প্রশ্ন আমি পছন্দ করিনা তুই জানিস।”
সিমি কিছু বললো না। তবে নিজেকে নিশানের কোল থেকে নামাতে গেলেই নিশান সিমির কোমরের খাঁজে হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে বললো,

“উহুম নড়ার চেষ্টা করিস না। চুপচাপ বসে থাক।”
সিমি অবাক হয়ে গেলো নিশানের কথা শুনে। তাই ধীরে বললো,
“মাথার তার কি সব কয়টা গিয়েছে? কিভাবে বসবো? প্লেন ভর্তি মানুষ কি ভাবছে ছিঃ?”
“প্লেনের মানুষ কি ভাবলো কিনা ভাবলো না তাতে আমার কিছু আসে যাই না। তুই আমাকে নিয়ে কি ভাবিস এইটাই মোস্ট ইম্পরট্যান্ট।”
সিমি কি বলবে আর এই মানুষটাকে? না আছে লজ্জা। আর না আছে তার মতো মাসুম বাচ্চার প্রতি একটু মায়া। তবুও সে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে যেমন তেমন করে বললো,

“একটু আগে যা করলেন। এইটা কি ঠিক ছিলো? যদি কেউ দেখে ফেলতো।”
নিশান আগের মতোই জবাব দিলো,
“দেখে দেখুক। যার দেখতে ইচ্ছা করবে না চোখ বন্ধ রাখুক।”
নিশানের তেড়া কথা শুনে সিমির কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বেরোচ্ছে লজ্জায় সে বিড়বিড়ালো,
“অসভ্য লোক একটা।”
সিমির বিড়বিড়আনি নিশানের কানে গেলো কিনা জানেনা। কিন্তু হঠাৎ নিশান সিমির দিকে ঝুঁকে কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে নেশাক্তময় কন্ঠে বললো,
“নিজেকে সামলিয়ে রাখ জানবাচ্চা আমি কিন্তু আবারো সেই আগের অভদ্র নিশান হয়ে উঠেছি। হুটহাট সুইট কিছু ফিল করার জন্য তৈরী হয়ে থাকিস। ”

নিশানরা চলে যেতেই সেলিনা কে পুলিশের হাতে তুলে দিলো জিহান। সবকিছু প্রমান স্বরূপ। সেই হিডেন ক্যামেরায় ধরা পড়া ভিডিও আর কল রেকর্ড। পুলিশ শার্লিনের কথা জানতে চাইলে জিহান বললো,
“উনি মারা গেছেন এক দিন আগে। হার্ট অ্যাটাক করছিলো দাফন দেওয়াও শেষ।”
পুলিশ আর বেশি ঘটলো না। সেলিনা কে গ্রেফতার করে নিলো। কালকে কোর্ট এ তুলে তার বিচার হবে।জিহান সব কাজ শেষ করে ভোর রাতে বাসায় ফিরলো। সবাই যে যার রুমে। কিন্তু কেউ ঘুমাই নি। সবাই চিন্তিত
কি হচ্ছে সেইটা নিয়ে? জিহান নিজের রুমে ঢুকে দেখলো সামিয়া বেডে বসে আছে। জিহান ভিতরে ঢুকে বললো,

“তুমি ঘুমাও নি এখনো?”
সামিয়া বেড থেকে নেমে বললো,
“ঘুম কি আর সাধে আসবে?”
জিহান নিজের শার্ট এর বোতাম খুলতে খুলতে বললো,
“সাধে না আসলে আয়োজন করে আনো।”
“আয়োজন করতে গেলেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাই। সেগুলোর উত্তর না পেলে কেমনে আয়োজন করবো স্যার?”
জিহান নিজের শার্ট খুলে ওয়াশরুম এ যেতে যেতে বললো,

“সাওয়ার নিয়ে আসি।”
বলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। সামিয়া দাঁড়িয়ে রইলো। কি হয়েছে সেখানে সে জানতে চাই। আর নিশান ভাই আর সিমি কি বাসায় আসছে নাকি আসি নি? অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে লাগলো। দশ মিনিট পরে জিহান সাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসলো। পরনে একটা কালো টাউজার আর ঘি রঙের শার্ট পরে। সে বাইরে এসে চুল শুকাতে লাগলো। ফজরের আজান শেষ হলো মাত্র। প্রতিটা মানুষ রুম থেকে বাইরে বেড়িয়ে ড্রইং রুমে এসে বসলো। কেউ কি বাড়ি ফিরে নি? সামিয়া কিছু বলবে এর মধ্যে জিহান বললো,
“বাইরে আসো সেখানে সবার সামনে বলি।”
সামিয়া কিছু বললো না। জিহানের পিছু পিছু গেলো। জিহান কে দেখে সবাই উতসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। জিহান ড্রইং রুমে এসে একটা সিঙ্গেল সোফায় বসলো। সবাই আবারো সিঁড়ির দিকে তাকালো নিশান আর সিমি আসছে কিনা। কিন্তু না আসছে না।জিহান বললো,

“নিশান আর সিমি কবে ফিরবে জানিনা।”
কবে ফিরবে মানে? সবার ভ্রু কুঁচকে গেলো। তাজউদ্দিন প্রশ্ন করলো,
“কবে ফিরবে মানে? কোথায় গিয়েছে?”
জিহান একটা শ্বাস নিয়ে বললো,
“নিশান সিমিকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে। আসবে যখন হয়তো ওদের ফেরা উচিত হবে তখন।”
জিহানের কথা শেষ হতে রোজিনা অতিশয় গলায় প্রশ্ন করলো,
“আর বড়ো আফা।”
জিহান সবার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেলিনার সাথে কি করেছে সবটা বললো। যা শুনে তাজউদ্দিন বললো,
“উচিত শিক্ষা হবে এইবার।”

জিহান উঠে দাঁড়ালো। সামিয়ার কাছে এসে বললো,
“আমার ঘুম লাগছে উপরে আসো।”
বলে চলে গেলো। সামিয়া একপলক সবার দিকে তাকিয়ে উপরে চলে গেলো। এইদিকে সবাই উঠে নিজেদের কাজ করতে লাগলো। ছেলে মেয়ে দুটো অনেক কিছু সয্য করেছে এখন নাহয় একটু একাতিত্ব থাকুক তারা পৃথিবীর যেই প্রান্তে হোক। সুখে থাকলেই আলহামদুলিল্লাহ।
সকাল সাতটা বাজে। সিমরান একটা সাদা রঙের গ্রাউন। হাতে সাদা কাঁচের চুরি ঠোঁটে হাল্কা লাল লিপিস্টিক দিয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। সদর দরজা পেড়িয়ে যেতেই মুখোমুখি হলো তিহানের সাথে। সিমরান কে হঠাৎ এই বেশে দেখে সারা দেহ যেন কেমন কেঁপে উঠলো। সিমরান তিহানের পাস কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই তিহান বলে উঠলো,

“হঠাৎ বিধবা সাজ সাজলে যে?”
সিমরানের পা জোড়া থেমে গেলো সে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো,
“হয়তো আমাকে বিধবা সাজে বেশি মানাই। অথবা কাফনের কাপড়ে।”
কাফনের কাপড়ে মানে মৃত্যুর কথা বলছে। তিহানের বুকটাতে যেন কেউ জোরে আঘাত করলো সে বললো,
“কাফনের কাপড় মৃত্যুর সময় পরিধান করতে হয় মেয়ে। সবসময় নিজের মৃত্যু ডেকো না।”
সিমরান নিজেকে শক্ত করে বললো,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৯

“যার একুল অকুল তিন কূলে কেউ নেই। তার জীবনে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া বেশি উত্তম। আমি এখন আসছি।”
বলে আর এক সেকেন্ড এর জন্য সিমরান দাঁড়ালো না। নিজের মতো চলে গেলো। তিহান তার দিকে তাকিয়ে রইলো আহত চোখে। তার কষ্ট হচ্ছে। আসলেই অনেক কষ্ট হচ্ছে। না আর না আজকে রাতে তাকে নিয়ে অনুভব করা সকল কথা বলে দেবে সে তাকে। হুম বলে দেবে।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০ (২)