Home তুমি আছো মনের গহীনে তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ২৩

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ২৩

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ২৩
Jannatul ferdosi rimi

আরহাম মেহেভীনের মাথা বুলাতে বুলাতে, খাটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মেহেভীন আরহামের হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে।ঘুমের মাঝে হঠাৎ করেই মেহেভীন উঠে পড়ে, এতে আরহামের ও ঘুম ভেঙ্গে যায়। আরহাম মেহেভীনের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আর ইউ অকে? এনিথিং রং? ‘
মেহেভীন মুখ চেপে ওয়াশরুমে চলে যায়। আরহাম বুঝতে পারছে মেহেভীনের বমি আসছে। মেয়েটাও সকাল থেকে কিচ্ছু খায়নি, তার মধ্যে বমির জন্যে আরো দূর্বল হয়ে যাবে। মেহেভীন ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে যায়। আরহাম উঠে গিয়ে, মেহেভীনের হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে, মেহেভীনের দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। মেহেভীন পানিটা আস্তে করে খেয়ে নিয়ে, বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে পড়ে। প্রচন্ড দূর্বল লাগছে তার শরীরটা। আরহাম মেহেভীনের দিকে প্রশ্ন নিক্ষেপ করে বলে,

‘বেশি খারাপ লাগছে? আমি কি আরিয়ানকে ডেকে আনবো? ‘
মেহেভীন কোনরকম বলে,
‘তার প্রয়োজন নেই। আরিয়ান কেবলমাত্র ওটি করে ফিরেছে। একটু ঘুমাচ্ছে এখন। শুধু শুধু বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই। আপনিও তো সেই কখন এসেছেন কিছু তো খেলেন না। আপনি বরং খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। ‘
কথাটা বলার সাথে সাথে মেহেভীনের বমি চলে আসে। এইবার মেহেভীন আরহামের শার্টের উপরেই বমি করে ফেলে। আরহাম পুরো শার্ট নষ্ট হয়ে গেছে। মেহেভীনের অপরাধের চোখে তাকিয়ে থাকে আরহামের দিকে। মেহেভীনের বিড়বিড় করে বলে,
‘মেহেভীন এইবার তুই একেবারে গেলি রে। এমনিতেই মানুষটা মাত্র অফিস থেকে এলো তারমধ্যে আবার তার নষ্ট করে ফেললি তুই। ‘
মেহেভীন ভাবলো আরহাম বোধহয় তাকে অনেক বকাবকি করবে, এইভাবে বমি করে তার শার্টটা নষ্ট করে ফেলায়। কিন্তু আরহাম এইসব কিছুই করলো না। আরহাম চমৎকার হাসি দিয়ে বলে,
‘ডোন্ট বি প্যানিকড ওকে? প্রেগ্ন্যাসির সময় এইসব কিছুই নরমাল। ঘন-ঘন বমিও হয়। এইসব নিয়ে এতো চিন্তার কিছুই নেই। তাই তুমি একটু বসো। আমি এখুনি চেঞ্জ করে নিয়ে আসছি। ‘
আরহাম উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়। মেহেভীন অবাক পানে আরহামের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। সে শুধু ভাবছে আরহাম কীভাবে সহ্য করলো? অন্য একটা মেয়ে তার গায়ে বমি করে ফেললো, সে ঘৃণায় মুখ ছিটকে নিয়ে যাবে। বকাবকি করবে। তা না করে উল্টো হেসে দিয়ে মেহেভীনকে ভালো করে বুঝিয়ে, চেঞ্জ করতে চলে গেলো। কেমন অদ্ভুদ ভালো মানুষ আরহাম। আচ্ছা অভ্র যদি এখন এইসময় এইরকম পরিস্হিতিতে থাকতো? তাহলে কী করতো? নিশ্চই আরহাম যা করেছে, তার উল্টোটা করতো। এইরকম একটা বাজে পরিস্হিতিতে আরহামের মতো দায়িত্ববান মানুষটাকে পেয়ে, মেহেভীন সত্যি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

মায়রা খুশিমনে নিজের লাগেজ গুছিয়ে ফেলছে। বাবাকে বলে সে অভ্রকে চট্টগ্রামের ট্যাুরের জন্যে রাজি করিয়ে ফেলেছে। মায়রার ধারণামতে অফিসের এতো কাজের চাপে বোধহয় অভ্রের মেজাজ সবসময় উগ্র থাকে,তাই এইভাবে মায়রার সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলে,কিন্তু একটিবার দুজনে মিলে কোথাও ঘুড়তে চলে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ট্যাুরে শুধু অভ্র এবং মায়রা থাকবে। দুজন একা বেশ আনন্দ নিয়ে ঘুড়ে বেড়াবে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে। এই বেড়ানোর ছলে, মায়রা তার এবং অভ্রের মাঝে সব দূরত্ব মিটিয়ে ফেলবে,তাদের মাঝে কোন মেহেভীন নামক কাটা থাকবে না। মায়রা তার পেটে হাত রাখে। এই সন্তানের ভবিষ্যৎ এর জন্যে হলেও সব ঠিক হতে হবেই। মেহেভীনকে কিছুতেই মায়রা অভ্রের জীবনে ফিরে আসতে দিবে। মায়রা বারান্দায় গিয়ে দেখে, অভ্র কোথাও নেই। অভ্র আবার কোথায় গেলো? অভ্রকে খুঁজতে খুঁজতে মায়রা ড্রইং রুমের কিনারা গিয়ে শুনতে পেলো অভ্রের গলা। অভ্র ফোনে কাউকে কিছু বলছে।

আরহাম ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আরেকটা শার্টটা পড়ে,সোজা রুম থেকে বেড়িয়ে পড়ে। মেহেভীন বুঝতে পারলো না আরহাম হঠাৎ কোথায় গেলো?
মেহেভীন আরহামের পিছন পিছন নীচে চলে গেলো।
এখন প্রায় গভীর রাত। বাড়িতে সবাই এখন ঘুমিয়ে আছে।আরহাম রান্নাঘরে গিয়ে, সুপ বানানো শুরু করলো মেহেভীনের জন্যে। মেহেভীন তা দেখে,আরহামের কাছে গিয়ে বললো,
‘ কি করছেন কি? আপনি তো এখনো ও কিছুই খাননি। নিজে না খেয়ে, আমার জন্যে সুপ বানাচ্ছেন কেন? আমি এখন সুপ খাবো না। ‘
আরহাম মেহেভীনের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ একদম স্টুপিডের মতো কথা বলবে না। সকাল থেকে না খেয়ে, শুধু বমি করছো। এইভাবে চলতে থাকলে তো অসুস্হ হয়ে পড়বে। চুপচাপ টেবিলে বসো। ‘
মেহেভীন কিছু বলার আগেই আরহাম আরেকদফা মেহেভীনকে রামদমক দিলো। মেহেভীন ধমক খেয়ে চুপচাপ বসো পড়লো। লোকটা এমনভাবে ধমক দেয়, যেন কোন সুস্হ মস্তিষ্কের মানুষ অজ্ঞান হয়ে যাবে। মেহেভীনের তো এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
আরহাম সুপটা বানিয়ে, টেবিলে রেখে মেহেভীনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
‘চুপচাপ সুপটা খেয়ে নাও। নো মোর টক।’
মেহেভীন মাথা নাড়িয়ে খাওয়া শুরু করলো। আরহাম নিজের জন্যে লুডুস বানাতে চলে গেলো। আজকের রাতটা লুডুস খেয়েই, সে কাটিয়ে দিবে।

আরহাম মেহেভীনের দিকে কড়া নজর রেখে রান্না করছে,যেন মেহেভীন পুরোপুরি সুপটা খায়। মেহেভীনের আরহামের দিকে মুচকি হেসে খাওয়া শুরু করলো। এই মুচকি হাঁসির মানে বুঝতে পারলো না আরহাম। মেহেভীম মুচকি হাসার সঠিক কারণ হচ্ছে আরহামের এই ছোট্ট ছোট্ট যত্নগুলো। সব মেয়েই হয়তো এইরকম একজন স্বামী পাওয়ার জন্যে প্রতিক্ষা করে। আরহামের প্রেয়সী যে হবে, সে নিশ্চই খুব ভাগ্যবতী হবে,কিন্তু কে সেই ভাগ্যবতী? আচ্ছা তার মতো ভাগ্য যদি মেহেভীনের হতো তাহলে কী খুব খারাপ হতো? অভ্র ও যদি আরহামের মতো হতো তাহলে মন্দ হতো না। মেহেভীনের ভাবনার মাঝেই,আরহাম লুডুসটা নিয়ে এসে বসে পড়লো।
আরহাম ভ্রু কুচকে বললো,
‘ এইযে স্টুপিড মেয়ে। সুপটা যে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে খেয়াল আছে তোমার? সত্যি স্টুপিড এর কত প্রকার
কাজ আছে তা তোমাকে না দেখলে বুঝা যাবে না। ‘
আরহাম কথাটি বলেই, নিজের খাওয়া বাদ দিয়ে মেহেভীনের সুপের বাটি নিয়ে মেহেভীনকে খায়িয়ে দিচ্ছে। আরহামের কান্ডে মেহেভীন আনমনে হাসে আরেকবার। সত্যি তার ধারণা ভূল। অভ্র চাইলেও আরহামের মতো হতে পারবে না।মেহেভীন আনমনে বললো,
‘ আরহাম হাসান তালুকদার একজনই আছে। সবাই আরহাম হাসান তালুকদার হতে পারেনা। ‘

ফারিয়া পুরো পাড়া জুড়ে আজ সবার বাড়িতে ঘুড়েছে। বাড়িতে আজ সে কিছুতেই যাবে না। বাড়িতে গেলে নিশ্চিত জুতোর বাড়ি খেতেই হবে। ফারিয়ার স্যার আজ তার মানে বাড়িতে বিচার দিয়েছে। গনিত পরীক্ষায় আবারো ফেল করেছে সে।
ফারিয়া ভাবে তার মাথায় গবর থাকলে, কি সে করবে? সব করার তো ওই ডক্টরের করতে হবে। আচ্ছা ওই ডক্টর তো কল করলো না? ফারিয়া নিজ থেকেই আরিয়ানকে ফোন করলো। আরিয়ান ঘুমাচ্ছিলো, ফোনের আওয়াজ পেয়ে সে ধরফরিয়ে উঠে বসে। সে ভেবেছে হয়তো হসপিটাল থেকে ফোন করেছে, তাই সেই দ্রুত ফোন রিসিভ করে। ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে তেজি গলায় মেয়ের কন্ঠে বলে,
‘ এইযে ডক্টর সাহেব শুনছেন? ‘
‘সরি কে আপনি? আমার এখন ডিউটি নেই। আমি ঘুমাচ্ছি। সো বায়। ‘
‘একদম কাটবেন না। আপনি আমাকে ফারিয়া।চিনেছেন? যার নাম্বার আজ সকালে নিয়েছেন। আপনার চিকিৎসার কি হলো?আমি বাড়িতে ঢুকতে পারছি না আর এদিকে আপনি শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন?কেমন ডক্টর আপনি?’
আরিয়ান মাথায় হাত দিয়ে দিলো। আজ এই মেয়ের জন্যে তার ঘুম আজ হারাম হয়ে যাবে

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ২২

মায়রা আরেকটু কাছে গিয়েই শুনতে অভ্র কাউকে ফোনে বলছে,
‘একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমাকে চট্টগ্রাম যেতে হচ্ছে। আমি যত দিন থাকবো না ততদিন তোকেই মেহেভীনের সব খবর আমাকে দিতে হবে। তোর যত টাকা লাগে আমি দিবো।কিন্তু যে করেই হোক মেহেভীন কোথায় আছে ঠিক কার সাথে সব ইনফরমেশন আমার লাগবে। যতক্ষন পর্যন্ত মেহুর খবর পাচ্ছি না ততক্ষন পর্যন্ত আমি শান্তি পাচ্ছি না রে। ‘
কথাটি বলেই অভ্র ফোনটা কেটে দেখে,মায়রা তার দিকে অশ্রুমাখা চোখে তাকিয়ে আছে। অভ্র সেই চোখের চাহনীকে গুরুত্ব না দিয়ে চলে যেতে নিলে,মায়রা অভ্রের হাত ধরে ফেলে

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ২৪