Home তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪
তানিশা সুলতানা

এ্যানির জন্য সুন্দর একটা ব্যাগ কিনে এনেছে ওয়াং সং। আবরার সেটি দিতে চায় নি তবুও নিতে হয়েছে। এই মুহুর্তে এ্যানিকে সাথে নিয়ে একটু বাইরে বেরিয়েছে। ইভান এবং আহাদ ঘুমুচ্ছে। সুইজারল্যান্ড এ গরম নেই। সব সময়ই শীত। তবে চায়নায় এই মুহুর্তে গরম। ঠান্ডা ঠান্ডা এসির বাতাসে ভীষণ ভালো ঘুম হচ্ছে ওদের।
ঘুমের মধ্যেই ইভান স্বপ্ন দেখে সে ইয়াং সংকে কিস করছে।
মুশলধারায় বৃষ্টি পড়ছে সেই বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে। ভীষণই আপত্তিকর স্বপ্ন। মুহুর্তের মধ্যেই ঘুম ভেঙে যায় ইভানের। এসি থাকার পরেও ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। রীতিমতো হাঁপাচ্ছে। বুকে হাত দিয়ে কয়েকবার জোরে শ্বাস টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। তবে হার্টবিট কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।

খাটের পাশে থাকা টি-টেবিলে পানির গ্লাস রাখা ছিলো। এক চুমুকে পুরো গ্লাস খালি করে ফেলে।
এবার বুঝি একটু শান্তি পেলো।
জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বলে ওঠে
“কালনাগিনীর ঠোঁটে চুমু খেলাম।
এবার বিষ কি গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে? আর আমি মা/রা যাবো?
ভাবতে ভাবতেই আহাদকে লাথি মেরে খাট থেকে ফেলে দেয়। এবং চিন্তিত স্বরে বলে
” এই আহাদ আমার ঠোঁট ভার্জিনিটি হারিয়েছে।
এবার কি হবে রেহহহ? আমাকে কোন মেয়ে বিয়ে করবে?
খাট থেকে পড়েও আহাদের ঘুম ভাঙলো না৷ সে সেভাবেই ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয় এবং ইভানের কথার জবাবে বলে
“মেয়ে বিয়ে না করলে হিজরা বিয়ে করে ফেলিস। ওরা এবলএবল আছে।

সকাল ছয়টা বেজে ৮ মিনিট। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আদ্রিতা। সারা রাত ঘুম হয় নি। ৫ টার দিকেই চোখ লেগে এসেছে।
ভেবেছিলো একদম ১০ টায় ঘুম থেকে উঠবে। ভার্সিটিতেও যাবে না আজকে। কিন্তু ফোনের গুন গুন আওয়াজে ঘুম হালকা হয়ে গেলো। আধবোজা চোখ খুলে হাতড়িয়ে ফোন খোঁজে। বালিশের পাশে পেয়েও যায়। চোখ বন্ধ করে কল।রিসিভ করলো।।এবং কানে নিয়ে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে
” হ্যালো
কে?
আবরার চুপচাপ থাকলো। আদ্রিতার বড় বড় করে নেওয়া নিঃশ্বাসের শব্দ শুনছে।
এ্যানিটাও মিউ মিউ আওয়াজ তুললো। যেনো সে জানে ফোনের ওপাশে তার মা রয়েছে। এবং সে কথা বলতে চাচ্ছে।
এই যাত্রায় আবরার গম্ভীর স্বরে বলে উঠে
“এ্যানিকে রেখে গিয়েছো কেনো?
অতি পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে ঘুম ছুটে গেলো আদ্রিতার। এক লাফে উঠে বসে। কান থেকে ফোন সরিয়ে এক পলক দেখে নেয় নাম্বারটা।
তারপর পূণরায় ফোন কানে নেয়। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে
” মনে ছিলো না
“ও না তোমার বেবি।
তাহলে নিজের বেবির কথা মনে থাকে না কিভাবে?
এ বার কি জবাব দিবে আদ্রিতা। ওর তো মনে ছিলো। ইচ্ছে করেই ফেলে রেখে এসেছে। যাতে এ্যানির ছুতোয় আবরারের সঙ্গে কথা বলতে পারে।
কিন্তু এ কথা তো স্বীকার করা যাবে না।
আদ্রিতার থেকে জবাব না পেয়ে বিরক্ত হলো আবরার।

” কথা বলছো না কেনো?
দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আদ্রিতা।
“পাঠিয়ে দিন ওকে। যত টাকা খরচ হবে আমি দিবো।
” আর ইউ শিওর?
“হুমম
” ওর পাসপোর্ট বানাতে হবে। তার জন্য লিগাল গার্ডিয়ান লাগবে।
আই মিন বাবা মা।।
“আমি তো ওর মা
” আর বাবা?
এ বার কি জবাব দিবে? কয়েক মুহুর্ত চিন্তা করে আদ্রিতা জবাব দিলো
“ওর বাবা নেই।।
আবরার হালকা ঠোঁট নুয়ালো।
” বাবা ছাড়া পাসপোর্ট হবে না।
“তাহলে সিয়াম ভ
বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার ধমকে বলে ওঠে
” জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো ইডিয়েট।

ভয় পেলো এ্যানি। সে আবরারের কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে থাকে। কিন্তু পরমুহূর্তে আবরার ওর মুখ পানে তাকাতেই শান্ত হয়ে যায়।
তবে শান্ত হতে পারলো না আদ্রিতা। তার চোখ দুটো টলমল করে ওঠে।
এতো দূরে এসেছে তবুও ধমকাচ্ছে।
স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছে কোনো ভালোবাসা নেই। চুমু খাওয়া ছিলো শুধুমাত্র লালসা। তার বাইরে কিছুই না।
“জান
ভাবনার মাঝেই ম্যাজিকাল ওয়ার্ড শুনতে পেলো আদ্রিতা। আবরার বললো?
না কি মনের ভুল?
” এ্যানির পাপা আবরার তাসনিন।
আর কেউ নয়।
বুঝেছো জান?
হাত পা কেমন শিরশির করে উঠলো আদ্রিতার। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠতে চায় তবে মুহুর্তেই আবার সেটি গায়েব হয়।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
“কখনো দূরে ঠেলে দেন
আবার কখনো ভালোবাসা দেখান।
কখনো মনে হয় আপনার জীবনের কোথাও আমি নেই।
আবার কখনো মনে হয় আপনার হৃদয়টা শুধুমাত্র আমার জন্যই বরাদ্দ।
এতো খারাপ কেনো আপনি আবরার?
ভালোবাসলে আগলে রাখুন
না বাসলে মুক্ত করুন।
এভাবে আমাকে নিয়ে খেলা করিয়েন না। ম/রে গেলে আফসোস করে কুল পাবেন না।
বলেই কল কাটে আদ্রিতা।
বুকের সঙ্গে ফোন চেপে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে। মানুষটা এমন কেনো?
কেনো বা এতো দুঃখ দেয়?
ওদিকে আবরার ফোনটা পকেটে পুরে এ্যানিকে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নেয়।

সেই যে একদিন কল করে জান ডাকলে। তারপর থেকে আর কোনো খোঁজ খবর নেই আবরারের।
না কল করে আর না মেসেজ দেয়।
এরই মধ্যে সিয়ামের সঙ্গে কথা হয়েছে কয়েকবার। আমানের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।।
শুধু আবরার মিসিং।
আদ্রিতা বুঝে গিয়েছে
তার যখন ইচ্ছে হবে তখনই সে আসবে।
অন্য কারো ইচ্ছে অনইচ্ছার কোনো মূল্য নেই তার কাছে।।
ঠিক আছে
আদ্রিতাও দেখতে চায় তার ঠিক কবে কবে ইচ্ছে হয়।
আজকে শুক্রবার।
আব্দুল রহমান, হাফিজুর চৌধুরী, আরিফ সকলেই বাড়িতে রয়েছে।
অহনার জন্য ছেলে দেখা হয়েছে। তারা আজকে অহনাকে দেখতে আসবে। সেই আয়োজন চলছে সকাল থেকে।
তবে আদ্রিতার কেনো জানি মনে হচ্ছে এই বিয়েতে অহনার মত নেই। সে সিয়ামকে পছন্দ করে।
তবুও কেনো কাউকে বলছে না এটাই বুঝতে পারছে না।।
তবে আদ্রিতা চুপ থাকবে না। সে সবাইকে বিষয়টা জানাবে।
সেই উদ্দেশ্যে আব্দুল রহমানের সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে পানের এগোয়।
ভেতরে ঢোকার আগেই শুনতে পায় কিছু কথা।
আব্দুল রহমান আরিফকে বলছে

“কি পেলাম জীবনে?
না পারলাম ছেলেকে খুশি করতে আর না পারলাম মেয়েকে খুশি করতে।
ওরা আসলে কি চায় আমি বুঝতেই পারি না।
আরিফ বলে
” আপনার ছেলের চাওয়া স্পষ্ট। সে শুধুমাত্র আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করতে চায়।
“তুমি চিন্তা করিও না।
আদ্রিতাকে আমি বাঁচাবো। ম/রে গেলেও ওর হাতে তুলে দিবো না। কথা দিলাম
” যদি আপনার ছেলে বাড়াবাড়ি করে তবে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।
চমকালো আব্দুল রহমান। তাড়াহুড়ো করে বলে
“এমন কথা বলিও না।
তোমরা চলে গেলে
আদ্রিতা চলে গেলে আমি বাঁচতে পারবো না।

” আমাদেরও তো বাঁচতে হবে ভাইয়া।
আদ্রিতা বুঝতে পারলো
তার আর আবরারের মিল অসম্ভব। তাকে পেতে হলে ফ্যামেলি ছাড়তে হবে।
যা কখনোই পারবে না ও।
শুকনো ঢোক গিলে তাড়াতাড়ি রুমে চলে আসে। নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে আবরারের হোয়াটসঅ্যাপ এ টেক্সট পাঠায়

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৩

“আমি আপনার সাথে থাকতে পারবো না।
আমার জন্য আসিফ আদনান ঠিকঠাক।
আবরারের হাতেই ফোন ছিলো। তাই সাথে সাথে মেসেজটা দেখলো
” ইয়াং ইউ
ইমিডিয়েটলি আমার জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করো।
আমি এখুনি বাংলাদেশে যাবো।

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here