Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ১৫

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৫

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৫
noorayn

আরহাম একটু আগেই শাওয়ার নিয়ে ফিরেছে।
“নিয়েছি শাওয়ার, এবার হয়েছে তোর?”
“হ্যাঁ।”
“ঘুমাবো আমি, বুকে নাও।”
“আসছি দাড়া।”
–আরহাম কামরার আলো নিভিয়ে এসে শুয়ে পড়েছে। তারপর,
আলিশাকে বুকে নিয়ে তার মাথায় হাত বুলাতে লাগলো।
–আরহামের বুকে নিতে দেরি তবে আলিশার বকবক শুরু করতে দেরি হয়নি। সে আজ সারাদিন কি কি করলো? কে তাকে কি বলেছে ; সবকিছু একটানা বলতে লাগলো আরহামকে।
–আরহাম চুপচাপ সব শুনছিলো তারপর নিজেও বলে উঠলো –
“সব কি তুই একাই বলবি? আমাকেও সুযোগ দে কিছু বলার।”
“আমি কি মানা করেছি বলতে?”

“তুই চুপ না থাকলে আমি কিভাবে বলবো?”
“আচ্ছা চুপ হয়েছি। এবার বলো।”
“আজ কার সাথে মিটিং হয়েছে জানিস?”
“না বললে, কিভাবে জানবো?”
“এলভি ডিসুজার সাথে।”
–নামটা শুনেই আলিশা এক লাফে আরহামের বুকের উপর উঠে গেলো।
“কিইইই?”
“এই ভোটকি? আগেই তো বুকে নিয়ে ছিলাম। এখন আবার উঠলি কেন এভাবে? তুই কেমনে আমার বাচ্চা সামলাবি?”
“তোর বাচ্চা এখন ঘুমাচ্ছে। তাই আপাতত বাচ্চার মায়ের দিকে খেয়াল দে।”
“আবার তুই তোকারি শুরু করেছিস?”
“আচ্ছা আর বলবোনা। এবার বলো কি হয়েছে?”
“এলভি আমার সাথে মিউজিক কোলাব করতে চাচ্ছে।”
“আসলেই? জানো? আমি এলভির বিগ ফ্যান। তার সব মিউজিক এত্ত হিট! ওর সাথে কোলাব করলে তো এ.এম.কে ব্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে উঠে যাবে।”

“জানি, তবে এলভি একটা কন্ডিশন দিয়েছে।”
“কি কন্ডিশন?”
“ও আমাকে ২ বছর এর জন্য ইউকে নিয়ে যেতে চায়। সেখানে, আমাকে ট্রেইন আপ করা হবে। তারপর ওর সাথে আমার ৫ টা কন্ট্র্যাক্ট সাইন হবে।”
“মানে কি! ২ বছর কি মুখের কথা? তুমি কোথাও যাবেনা।”
“আরেহ, সব কথা তো শোন।”
“বলো”
“এখনই, কিছু ফাইনাল করিনি। জাস্ট কথা চলছে।”
“আমি জানিনা কিছু। আমি তোমাকে কোথাও যেতে দিচ্ছিনা।”
“যাচ্ছিনা তো।”
“সত্যিই?”
“হুম…এখন ঘুমা।”
আলিশা নিশ্চিন্তে আরহামের বুকে মাথা রেখে চোখ বুজলো।

ক্যাম্পাসের বট গাছের নিচে গোল হয়ে বসে আছে আরহামের দলবল।
আরহামের হাতে গিটার। সে গিটারে নতুন সুর তোলার প্রয়াস করছে। তার পাশেই বসে আছে – আরাফ, রিহান, নিধি, কাহাফ, আদি এবং নেহা।
আরহাম যখন গিটারে সুর তুলতে ব্যাস্ত তখন নেহা এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলো তার দিকে। যা খেয়াল করে কাহাফ বললো –
“কিরে ঢংগি? এভাবে আমাদের চকলেট বয়কে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিস কেন?”
–কথাটা শুনতেই, সবার দৃষ্টি নেহার দিকে গেলো। এতে নেহা বেশ বিব্রতকর বোধ করলো।
“ক..কই না তো।”
“সেটা তো দেখতেই পারছি আমরা…” (সবাই একসাথে)
–সবাই একইসাথে বলার কারনে নেহা এবার কোনো রাখঢাক করলোনা। সে সরাসরিই আরহামের দিকে চেয়ে বললো
“বেব ইউ আর লুকিং সো হট..”
–আরহাম কেমন করে যেন নেহার দিকে তাকালো। যেন চোখ দিয়েই তাকে ভষ্ম করে দিবে।
–আরাফ তা বুঝে পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে বললো –
“আরে, সবাই যদি চকলেট বয়কেই চায় তবে আমাদের মত
নিরীহ বয়দের কি হবে?”
–তার এমন কথায় সকলে একসাথে হেসে উঠলো।

আরহাম বাড়ি ফিরেই ; কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা তার হোম স্টুডিওর দিকে চলে গেলো।
–পিছন থেকে শাইনা বেগম অনেক ডেকেছেন তাকে তবে আরহাম কোনো উত্তর দেয়নি দেখে তিনি নিজে নিজেই বকতে শুরু করলেন – “ছেলেটা দিনকে দিন রসাতলে যাচ্ছে। রাত করে বাড়ি ফেরে। না আছে তার কোনো খাওয়া- দাওয়ার ঠিক, না আছে কোনো খবর।”
আয়শা কাজ করতে করতে শাইনাকে শান্ত করার ব্যার্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
“আপা শান্ত হও, ছেলেটা মাত্রই ফিরেছে।”
“আয়শা তুই চুপ থাক। লাই দিয়ে দিয়ে ছেলেটাকে আরও বেয়াদব বানাচ্ছিস।”
“আপা, আরহামের বয়সই এখন এমন।”
“দু’দিন পর বাচ্চার বাপ হবে সে। আর এখন কিসের এত ছাড়? আজ ওর বাপ আসুক।”
আয়শা এবার আর কোনো কথায় বললেন না।

আলিশা তার দাদির রুমে বসে বসে গল্প করছে।
–আরহাম নিজেদের রুমে আলিশাকে না পেয়ে সোজা দাদির রুমে চলে আসলো।
“লিশা রুমে আয়।”
“আসবোনা, আজ আমি দাদির সাথেই ঘুমাবো।”
“আবার কি করেছি আমি?”
“আজ আমাকে শপিংয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।”
“আজ সময় হয়নি। আচ্ছা কাল নিয়ে যাবো।”
মেহরোজা আক্তার নাতনিকে তাড়া দিতে বললেন –
“যা পরী যাহ…আমার নাতিটা তোরে ছাড়া যাইবোনা।”
বেশকিছু সময় পর….
–অনেক কসরতের পর আলিশাকে নিয়ে নিজেদের রুমে ফিরতে সক্ষম হলো আরহাম।
–আরহাম-আলিশা দুজনেই বেডে শুয়ে পড়তেই ; আলিশা হঠাৎ নিজ থেকেই আরহামের গালে চুমু দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরলো।
আরহাম ভ্রু কুঁচকে সন্দেহর দৃষ্টিতে তাকাতেই সে একটা ক্যাবলা মার্কা হাসি দিলো।

“কি চাই?”
“কিছু চাইবো কেন আজব?”
“এত আদর তো আপনি এমনি এমনি করেন না।”
“ইয়ে মানেএএ…”
“বলে ফেলেন ম্যাডাম।”
“ওই..মানে.. মিথি বলছিলো যে, পরশু তাদের সাথে লং ড্রাইভে যেতে তারপর সবাই মিলে মিথির বাড়িতে নাইট স্টে করবো। তো মানে…তাই আমিও ভাবছি…”
“চুপ, আর একটা কথাও নয়। ঘুমা।”
“আমিও যেতে চাই প্লিজ।”
“ঘুমাতে বলেছি।”
“প্লিজ।”
“Have you gone mad?

এই অবস্থায় তোর সাহস কিভাবে হয় এসব ভাবার? আর নাইট স্টে মানে? এসব আমি পছন্দ করিনা আলিশা।”
–ব্যস! আলিশার বুঝতে আর বাকি নেই যে, এই গন্ডার রেগে গিয়েছে। কারন – একমাত্র রেগে গেলেই আরহাম তাকে আলিশা বলে ডাকে।
“আমার আর বাড়িতে ভালো লাগছেনা। আমি নিজের যথেষ্ট খেয়াল রাখবো। তবুও প্লিজ…”
“আমি ঘুরিয়ে আনবো।”
“আমি ওদের সাথে যেতে চাই। ওরা সবাই তো জানে আমার কন্ডিশন তাই আমার খেয়াল রাখবে…”
“উঠে যাবো আমি?”
–আলিশা আর কিছুই বলেনি। তবে, মনে মনে ভেবে নিয়েছে যে ; সু্যোগ বুঝেই নাহয় পরে সে আরহামকে মানিয়ে নেবে।

রাত প্রায় ৩ টা বাজে….
আলিশা একটু আগেই আরহামকে ঘুম থেকে তুলে কিচেনে পাঠিয়েছে তার জন্য খাবার বানিয়ে আনতে।
বেশ কিছুক্ষন পর…
আরহাম হাতে খাবারের বাটি নিয়ে ফিরে এসেছে।
আলিশা জিজ্ঞেস করলো –
“কি বানিয়েছো?”
“মাশরুম স্যুপ।”
“খাইয়ে দাও।”
আরহাম কোনো বাক্য ব্যায় না করে চুপচাপ আলিশাকে খাওয়াতে শুরু করলো।
–একটু আগেই খাবার শেষ করে শুয়েছে আলিশা।
কিন্তু ঘন্টা দুয়েক যেতে না যেতেই সে ভীষণ ঘামতে শুরু করলো। তার শরীরও কেমন জ্বালাপোড়া করছে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৪

–আলিশার নড়াচড়ার কারনে আরহামও ঘুম থেকে উঠে গেলো।
সে সাইড ল্যাম্প অন করে দেখলো – আলিশার সারা শরীরে র‍্যাশ উঠেছে।
–চুলকাতে চুলকাতে জ্বলছে আলিশার সারা শরীর।
আরহাম ভয়ে তড়িঘড়ি করে বরফ এনে ডলতে লাগলো।
তবে, সময় পেরুলেও কোনো ফায়দা পাওয়া যায়নি।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here