তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮ (২)
আশফিয়া হিয়া
চট্টগ্রামে পৌছাতে পৌছাতে দুপুর দুটো বেজে গেল।
আরুর মামা বাড়িটা দোতলা বিশিষ্ট বেশ সাজানো গুছানো। মিতা বেগমের দুই ভাই, ভাইয়ের বউ,ছেলে – মেয়েরা মিলে যৌথ পরিবার তাদের। গাড়ি থেকে নামতেই আরুর বড় মামা রেদোয়ান চৌধুরী ছোট মামা রিয়াদ চৌধুরী এগিয়ে এল। রিয়াদ চৌধুরীর দুই মেয়ে – এক ছেলে। বড় মেয়ে নুহা আরুর সমবয়সী তাদের দুজনের আবার খুব ভাব। ছোট মেয়ে রুহা নবম শ্রেণীতে পড়ছে। ছোট ছেলে তামিম ক্লাস ফাইভ এ পড়ছে। সকলের সাথে কুশল বিনিময় শেষ হতেই রেদোয়ান চৌধুরী নুহা ও রুহাকে সবার রুম দেখিয়ে দিতে বলল। রোহান সে সময় বাড়িতে ছিল না। বোনের বিয়ে বলে কথা সে এখন ভীষন ব্যস্ত। ঘরের দিকে যেতে যেতে আরু নুহাকে বলল,
– ” পুকুরে পানি আছে?”
– ” পুকুর ভরা পানি এখন গোসল করলে সেই মজা হবে।”
– ” ঠিক আছে তাহলে কালই নামবো। ”
– ” আচ্ছা।”
দো – তলায় বেশ বড়সড় চারটে রুম রয়েছে। মেয়েদের জন্য একটা রুম দেয়া হয়েছে সেখানে সব বোনেরা মিলে একসাথে থাকবে। রুদ্ধ ও ইয়াজকে একটা রুমে দেয়া হয়েছে। আরু রুমে গিয়েই পিহুকে দেখে জড়িয়ে ধরল,
– ” কেমন আছো আপু।”
– ” তুই বেচেঁ আছিস তাহলে। ” আরু তাকে ছেড়ে বিছানায় চার হাত – পা ছড়িয়ে শুয়ে বলল,
– ” আমার তো এখনো বিয়েই হয়নি জামাই না দেখে এতো সহজে মরছি না।”
রুহানি বলল,
– ” তোর জামাই দেখা বাকি আছে নাকি?”
আরু কিছু বলবে তার আগেই পিহু বলল,
– ” কি ব্যাপার বল তো কেউ আছে নাকি?”
– ” আরে কিসব বলছো তোমরা এমন কিছুই না। আমি একটু ঘুমিয়ে নেই পাঁচমিনিট পর ডেকে দিও।”
দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে আরু পড়েছে মহা ঝামেলায় বড়দের সকলের খাওয়া হয়ে গেছে এখন খেতে বসেছে বাড়ির ছোটরা। সুমিতা বেগম সবাইকে খাবার বেড়ে দিল। রোহান আরুর পাশে বসেছে। আরুর মুখোমুখি রুদ্ধ বসেছে। আরুর পাশে রোহানকে বসতে দেখেই রুদ্ধর রাগ উঠে গেল। রোহান তাকে একের পর এক খাবার বেড়ে দিচ্ছে আর বলছে আরু এটা নাও এটা খুব মজা হয়েছে। আরু না না করছে তাও সে থামছে না। রুদ্ধ এবার কন্ঠে বিরক্তি নিয়ে বলল,
– ” ওকে জোর করো না। ও নিজেরটা নিজেই নিয়ে নিতে পারবে।”
রোহান মুখে জোর পূর্বক হাসি টেনে বলল,
– ” অনেকদিন পড়ে এসেছে তো লজ্জা পাচ্ছে বোধ হয় তাই এগিয়ে দিচ্ছি।”
রুদ্ধ এবার সরাসরি আরুর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,
– ” তুই লজ্জা পাচ্ছিস?”
আরু মাথা নেড়ে না বোঝাল। রোহানের মা সুমিতা বেগমের বিষয়টা খুব একটা ভালো লাগল না। তাও সে বলল,
– ” আরু তো আমাদের নিজেদের মেয়ে ও নিজেই নিয়ে নিতে পারবে তুই আর জোর করিস না। ”
রোহান কিছু বলল না৷ সবাই চুপচাপ খাওয়ায় মনযোগী হলো।
আগামীকাল হলুদ বাড়ির গেটসহ চারপাশ খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে। রুদ্ধ পুকুড় পারের সিড়িঁতে বসে মোবাইল এ মেইল চেক করছে। পাশে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে তাকাল। নিধি এসে বসেছে তার পাশে। রুদ্ধ নিধিকে এই সময় একদমই আশা করেনি।
– ” অফিসের কাজ করছো?”
রুদ্ধ স্বল্প স্বরে জবাব দিল,
– ” হুম।”
– ” আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবে?”
– ” সবার সাথে যেও আমার এখন সময় হবে না।”
– ” ওরা তো আজ যেতে পারবে না।”
রুদ্ধ কিছু বলল না। রুদ্ধর নির্লিপ্ত ব্যবহার নিধিকে ভাবাচ্ছে। তার প্রতি কেমন উদাসীন। খালামণি তবে কি এখনো কিছু জানায়নি রুদ্ধকে? নিধি আর বসে থাকল না উঠে চলে গেল। সে যেতেই আরুর অভিমানী কন্ঠস্বর শোনা গেল,
– ” রুদ্ধ ভাই?”
তার চোখ দুটো ছলছল করছে। আরু এমনই রাগ উঠলেই তার চোখে পানি এসে যায়।
রুদ্ধ তাকে পাশে বসতে ইশারা করল। আরু এগিয়ে গেল কিন্তু বসল না। রুদ্ধ তার হাত টেনে পাশে বসিয়ে দিল। এরপর নরম স্বরে শুধাল,
– ” কি হয়েছে?”
– ” আপনি নিধি আপুর সাথে কি কথা বলছিলেন?”
– ” সেটা জেনে তোর কাজ?”
আরু উঠে চলে যেতে নিল রুদ্ধ আবার তার হাত টেনে বসিয়ে দিল। তার নাকে টোকা দিয়ে বলল,
– ” নাকটা সবসময় লাল হয়ে থাকে কেনো?”
আরু হাত দিয়ে নাক ডলতে লাগল ভালো ব্যাথা পেয়েছে।
– ” বলুন না?”
– ” বাইরে নিয়ে যেতে বলছিল।”
” আপনাকে কেনো বলবে?”
রুদ্ধ কাঁধ উচিয়ে বলল,
– ” আমি বড়ো ভাই সেই হিসেবে বলতেই পারে।”
– ” তাহলে আমিও রোহান ভাইয়াকে বাইরে নিয়ে যেতে বলতেই পারি। দাঁড়ান বলে আসি।
– ” এখান থেকে উঠে দেখ ঠ্যাঙ ভেঙ্গে রেখে দেব।”
আরু বিড়বিড় করে বলল,
তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮
– ” নিজের বেলায় কিছু না আমি কিছু বললেই দোষ।”
রুদ্ধ তার কথা শুনতে পেয়েও কান দিল না। কিছুক্ষণ পরেই আরু নিজের কোমরে একটা হাতের অস্তিত্ব টের পেল। হাতটা তাকে কাছে টেনে বুকিয়ে জড়িয়ে ধরল। আরুও আবেশে বুকে মাথা এলিয়ে দিল।
