Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৮
আশফিয়া হিয়া

জানালার পর্দাগুলো বাতাসের তালে মৃদ্যু দুলছে। বৃষ্টির শীতলতা এখনো কাটেনি। বাহিরে এখনো ঠান্ডা, ভেজা আবহাওয়া বিরাজমান। এই বৃষ্টিমুখর পরিবেশে ঘুমটাও বেশ ভালো হয়, রুদ্ধর ক্ষেএও তার ব্যাতিক্রম হয়নি তাছাড়া তার শরীরে জ্বরও রয়েছে সব মিলিয়েই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে সে। বিছানার মাঝখানে ঘাড় অব্দি কাঁথা টেনে উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে। ঘরে যে একটু আগেই এতকিছু ঘটে গেল তার বিন্দুমাএ আঁচও সে পায়নি। আরু গিয়ে রুদ্ধের পাশে বসল, তার এলোমেলো চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। আরামে রুদ্ধর মুখ দিয়ে উম্ শব্দ বেরিয়ে এলো। আরু আলতো হেসে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। বেশকিছুক্ষণ পর রুদ্ধর ঘুম হালকা হয়ে এল। চোখ জোড়া মেলতেই আরুকে দেখে, শোয়া অবস্থায় চিন্তিত মুখে আরুর কপাল ছুঁয়ে দেখল। আরু অবাক হয়ে বলল,

– ” কি দেখছেন?”
রুদ্ধ জবাব দিল না, তবে বালিশ থেকে মাথা তুলে আরুর কোলে মাথা রেখে দু হাতে কোমর জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করল। রুদ্ধর এমন অপ্রত্যাশিত কান্ডে আরু শিউরে উঠল। হুটহাট তার শরীরে রুদ্ধর এহন স্পর্শ সে সইতে পারে না। তার ছোট খাটো দেহখানা কেঁপে ওঠে। আরু নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
– ” দরজাটা খোলা আছে, বড় মা এসে পড়বে।”
– ” আসুক।”
আরু রাগন্বিত স্বরে বলল,
– ” কিহ্ আসুক মানে? আপনার কি একটুও লজ্জা নেই, উঠুন প্লিজ।”
রুদ্ধ বিরক্ত হয়ে উঠে গেল। বালিশে মাথা রেখে বলল,
– ” রুম থেকে বেরিয়ে যাবি এখন, তোকে যেন আর আমার রুমে আসতে না দেখি।”
আরু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল হঠাৎ এই আচরণে, লোকটার তো মেয়েদের থেকেও বেশি মুড সুইং হয়। এই ভালো ব্যবহার করছে, এই তাকে কাছে টেনে নিচ্ছে, আবার কখনো ধমক দিয়ে তার ছোট হৃৎপিন্ড তাকে কাঁপিয়ে তুলছে। আরু মুখটা লটকে বলল,
– ” আবার কি করেছি?”
রুদ্ধ চোখ পাকিয়ে বলল,
– ” কি করেছিস বুঝিস না? তোকে টাচ করলেই শুধু বলিস ছাড়ুন ছাড়ুন, ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম এবার নিজের রুমে যা, সময় হলে আমি নিজেই ধরে নিতে পারব তখন কারো বারণ শুনবো না তোরও নয়।”
রুদ্ধর প্রথম কথাগুলো বুঝে নিলেও শেষ কথা বুঝতে আরুর দু মিনিট সময় লেগেছে। দু মিনিট পরে সে রুদ্ধকে কিছু না বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল চুপচাপ। লোকটা দিল দিল ভীষণ নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে এখন মনে হচ্ছে আগের রুদ্ধ ভাই ভালো ছিল। বোম মারলেও যার মুখ দিয়ে শব্দ বের হতো না। এখন তার কথাগুলোই আরুর কাছে এক একটা বিস্ফোরণ মনে হয়।

আহি আজ স্কুলে এসেছে। সে নিয়মিতই স্কুলে আসে বাড়িতে আবার পড়াশোনার দিক দিয়ে ভীষণ কড়া। আহি সবসময় পেছনের দিকে বসে। পেছনে বসার মজায় আলাদা ইচ্ছে মতো খাওয়া যায়, ঘুমিয়ে থাকা যায় আবার গল্পও করা যায়, টিচাররা টেরও পায় না। আহির হাতে বর্তমানে কেকের প্যাকেট রয়েছে, নিজে তো খাচ্ছে সাথে বান্ধুবীদেরও খাওয়াচ্ছে। তিনজন কেক খাচ্ছে আর খাতায় কাটাকুটি খেলছে, ওদিকে কখন তাদের সামনে ইংরেজী স্যার এসে দাঁড়িয়েছে তারা টেরই পায়নি। স্যার শব্দ করে টেবিলে এক বাড়ি মারল, তিন বান্ধুবী ভয়ে লাফিয়ে উঠল। কেক আহির গলায় বেঁধে গেল কাঁশতে কাঁশতে তার গলার অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। স্যার ধমক দিয়ে তিনজনকে ক্লাস থেকে বের করে দিল, সাথে এটাও বলল আরেকদিন এমন দেখলে তার বাবার কাছে কপ্লেইন করবে। ক্লাসের বাকিরা মিটিমিটি হাসছে তা দেখে অপমানে আহির মুখটা থমথম হয়ে গেল, ক্লাসের বাইরে তিন বান্ধুবি কান ধরে দাঁড়াল। আহি জেরিনকে বলল,
– ” আজকে কিভাবে টের পেয়ে গেল এত দিন ধরে খাচ্ছি একদিনোও বুঝতে পারেনি।”
জেরিন বলল,
– ” আমার মনে হয় কেউ বলে দিয়েছি নাহলে টের পাওয়ার তো কথা নয়।”
নিরা বলল,
– ” আমারোও তাই মনে হয়।”

স্কুল ছুটি হলো দুপুর একটায়। আহি বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে স্কুল গেট দিয়ে বের হতেই তাদের বাড়ির গাড়ির দেখা পেল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো আজ গাড়িতে শুধুমাএ ড্রাইভার আংকেলই নেই তার সাথে ইয়াজও রয়েছে। ইয়াজকে দেখে আহি এতটাই অবাক হয়েছে যে সে কোনো রিয়্যাকশন দিতেই ভুলে গেছে। ইয়াজ কখনই তার স্কুলে আসে না, আরু প্রায় সময় এলেও ইয়াজকে কখনো আসতে দেখা যায় নি। গাড়ির ভেতর থেকে ইয়াজ আহিকে দেখে নেমে দাঁড়াল, তখনও আহিকে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে নিজেই তার দিকে এগিয়ে গেল। ইয়াজ তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ” কি ব্যাপার এভাবে দাঁড়িয়ে আসিছ কেনো আমাকে চোখে পড়ছে না?”
– ” তুমি হঠাৎ এখানে?”
– ” আজ তো আরু আসেনি তাই ভাবলাম যাওয়ার পথে আমিই তোকে নিয়ে যাই।”
– ” কি ব্যাপার বলো তো তুমি এত ভালো হয়ে গেলে কি করে?”
– ” সেটা তুই বুঝবিও না গাঁধা।”
আহি মুখ ভেংচি কাটল তার অগোচরে। ইয়াজ গাড়ি দিকে এগিয়ে গেল, আহিও তার পেছন পেছন এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু পেছন থেকে তার নামের ডাক শুনে ঘুরে দাঁড়াল। মেয়েটি আহির ক্লাসমেট আহি ওকে দেখেই শরীর জ্বলে উঠল, তাদের ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার সময় এই মেয়েটায় বেশি হাসছিল, আহির তো এটাও সন্দেহ হয় এই মেয়েটায় হয়ত তাদের নামে নালিশ করেছে। মেয়েটা তার সামনে এসে বলল,

– ” ওইটা বুঝি তোমার ভাই।”
– ” না।”
মেয়েটা আত্নবিশ্বাসের সাথে জবাব দিল,
– ” ভাইই হবে তোমাদের গাড়ি থেকেই তো নামল।”
আহি বিরক্ত হয়ে বলল,
– ” সে যেই হোক তোমার কি?”
মেয়েটি আমতা আমতা করে বলল,
– ” উনার নাম্বারটা দেয়া যাবে? আমার কিছু কথা ছিল।”
আহি মুখের ওপর বলল,
– ” না দেয়া যাবে না, আর সে আমার ভাই হয় বুঝেছো তাই এইসব উল্টো পাল্টা চিন্তা নিজের মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল।
বলেই সে গাড়ির দিকে চলে গেল। গাড়িতে উঠেই শব্দ করে ডোর লাগাল। শব্দ শুনে ইয়াজ চমকে গেল বিরবির করে বলল, এর আবার কি হলো?

দেখতে দেখতে কেটে গেল সাতদিন। এই সাত দিন সকলেই খুব ব্যস্তটার মধ্যে কেটেছে। আরুর ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছে ঈদের পরেই তাদের পরীক্ষা। রুদ্ধও নিজের বিজনেস নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল কয়েকদিন, ঢাকার বাইরে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে হয়েছে বেশ কয়েকদিন। দুজন দুজনার দেখা পায়নি অনেকদিন হলো। রুদ্ধ আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরল, ফ্রেশ হয়ে নিচে নামার আগে আরুর রুমে টোকা দিল কয়েকবার তবে ওপাশ থেকে কোনো সারা শব্দ পাওয়া গেল না, দরজাটায় আলতো করে ধাক্কা দিতে দরজা খুলে গেল। তবে রুমের আশে পাশে কোথাও আরুর দেখা নেই। রুদ্ধ চিন্তিত হয়ে নিচে নেমে এল কোথায় গেল মেয়েটা?
আরুর জন্য নতুন প্রাইভেট টিচার রাখা হয়েছে। এতদিন যিনি ছিলেন তার হঠাৎ ব্যাংকে জব হয়ে যাওয়ায় আরুকে পড়াতে পারবে না, তিনিই নতুন টউটর ঠিক করে দিয়ে গেছেন। ছেলেটি ঢাকা ইউনিভার্সিটির থার্ড ইয়ারে পড়ছে, ছেলেটির নাম তামিম, পড়ায় ও বেশ ভালো। যেখানে এখনকার টিচাররা এক ঘন্টা পড়িয়ে উঠতে পারলে বাঁচে সেখানে ছেলেটা দেড় ঘন্টা করে সময় দিয়ে পড়াচ্ছে। তাই মিতা বেগম আর বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামাননি।
আরুর আজ পড়া হয়নি, কাল বৃষ্টিতে ভিজে তার ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে সেই অজুহাত দিয়েই কোনোরকম বেঁচে গেছে। আরু স্টাডি টেবিলে বসা তার থেকে পাঁচ ছয় হাত দূরে চেয়ারে তামিম বসা। আরু পড়ছিল হঠাৎ মনে হলো কেউ তার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রয়েছে, কথাটা ভাবতেই সবার আগে তামিমের কথাটায় তার মনে হলো, সে চট করে মাথা উঁচিয়ে তামিমের দিকে তাকাতেই দেখল সে আশে পাশে দেখতে ব্যস্ত। তামিম বলল,

– কোনো সমস্যা? ”
– না তো তবে মনে হচ্ছিল কেউ অনেক্ষণ ধরে দেখছে আমাকে।”
তামিম ভীত হওয়ার ভান ধরে বলল,
– ” কি বললে তোমাদের বাসায় আবার ভূত পেতনি নেই তো?আমার আবার এসবে খুব ভয়।”
ভূত পেতনির কথা উঠলেই আরুর গল্প করার ইইন্টারেস্ট বেড়ে যায়। এসব কারো সাথে ঘটেছে কিনা এইসব জানার জন্য সে ভীষণ আগ্রহী হয়ে থাকে আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না, আরু উৎসক নয়নে প্রশ্ন করেই ফেলল, তামিম ও জবাবে হ্যাঁ বলতে আরুর শোনার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেল। শেষমেষ তামিমও তাকে তার জীবনের ঘটে যাওয়া গল্প শেয়ার করতে লাগল। আরু উৎসুক নয়নে সেই গল্প শুনতে লাগল। কিন্ত তাদের এই গল্প শোনার মাঝে স্টাডি রুমের দরজায় যে রুদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে সেটা কেউই টের পায়নি।

হঠাৎ দরজায় প্রচন্ড শব্দে দুজনই কেঁপে উঠল। দরজার দিকে তাকাতেই ভয়ে আরুর আত্না শুকিয়ে গেল, বার বার ঢোক গিলতে লাগল। রুদ্ধর শক্ত চোয়াল, কটমটে চোখের শক্ত চাহনি সবটায় আরুর দিকে নিবদ্ধ যেন এখনি চোখ দিয়ে আরুকে গিলে খেয়ে ফেলবে। আরু বেশিক্ষণ ওই চোখে দৃষ্টি রাখতে পারল না, দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। রুদ্ধ রুমের ভেতর প্রবেশ করে বুক স্লেফ থেকে বই বের করতে লাগল, বই বের করলেও তার দৃষ্টি জোড়া আরুতেই নিবদ্ধ হয়েছে। আরু আড়চোখে একবার সেদিকে তাকিয়ে অংক করায় মনোযোগ দিল।

আজ বোধহয় আরুর কপাল পুড়ারই দিন, তাইতো একের পর এক কান্ড তার সাথে হচ্ছেই, এই যেমন অংক বুঝতে না পারায় তামিম তাকে বুঝানোর জন্য আরুর হাত থেকে কলম নিতে গিয়ে দুজনের হাতে সামান্য স্পর্শ লাগল যেটা দেখে রুদ্ধ আর নিজেকে সামলাতে পারল না বই শব্দ করে বন্ধ করে দিল, সেই শব্দে আরু আবারোও কেঁপে উঠল। আর কেউ না বুঝলেও সে তো ঠিকই বুঝতে পারছে রুদ্ধর রাগের কারণ। তামিম বেশ বিরক্ত হলো তবে মুখে কিছুই বলল না, সে সাধারণ ভাবেই আরুকে পড়া বুঝিয়ে দিতে লাগল। আরও ঘন্টাখানিক পড়িয়েই ছেলেটা উঠে দাঁড়াল চলে যাবার উদ্দেশ্যে। আরু পালাবার পথ খুঁজতে লাগল কারণ রুদ্ধ এখনও স্টাডি রুমের সোফায় বসে আছে। এতক্ষণ নিশ্চয়ই আমাকে পাহাড়া দিচ্ছিল মনে মনে কথাটা ভাবতেই আরু আরোও ভীত হলো। উনার হাতে কিছুতেই একা পড়া যাবে না নাহলে আমার ভুতের কাহিনী শোনার শখ আজ একদম মিটিয়ে দিবে। আরুও তামিমের পিছু পিছু বেরিয়ে যেতে নিল ঘর থেকে। হঠাৎ রুদ্ধকে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখে সে ভীত হলো ভীষণ। তামিম ছেলেটা ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে, আরু আর কোনোদিকে না তাকিয়ে দৌড় লাগাল, রুদ্ধও তার পেছন পেছন হাটাঁ শুরু করল। রুদ্ধর হাঁটার গতি দেখে মেয়েটা আরোও বেশি ঘাবড়ে গেল। রুমা বেগম সোফায় বসে টিভি দেখছিলেন, আরুকে দৌড়ে আসতে দেখেই উঠে দাঁড়াল, আরু গিয়ে তার পেছনে লুকিয়ে পড়ল।

– ” বড় মা আমাকে বাঁচাও তোমার ছেলে আমাকে মেরে ফেলবে।”
রুদ্ধ চোখ মুখ শক্ত করে এগিয়ে এল,
– ” মা ওকে ছাড়ো, আমার সামনে আসতে দাও।”
রুমা বেগম বলল,
– ” কি হয়েছে বাবা এমন করছিস কেনো? মেয়েটা ভয় পাচ্ছে তো।”
রুদ্ধ এবার প্রচন্ড জোরে ধমক দিল আরুকে যেই ধমক শুনে মেয়েটা হ্যাঁচকি তুলে কেঁদে ফেলল।
রুমা বেগম আরুর মাথায় হাত বুলিয়ে রুদ্ধকে কড়া গলায় শাসল করলেন তাও লাভের লাভ কিছুই হলো না। এত চ্যাঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বাড়ির সবাই বেড়িয়ে এল। মিতা বেগম এগিয়ে এসে বলল,
– ” নিশ্চয় কোনো একটা অকাজ করেছে নাহলে তো ছেলেটা আর এমনি এমনি বকবে না ওকে।”
আরু ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
– ” আমি কিছু করিনি।”
রুমা বেগম বলল,

– ” আহ্ মেজো তুই আবার শুরু করিস না দেখছিস মেয়েটা কেমন ভয় পাচ্ছে।”
রুহানি ও আহি দুজন একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। আহি রুহানিকে ফিসফিসিয়ে বলল,
– ” আপু নিশ্চয়ই কিছু করেছে নাহলে ভাইয়া হঠাৎ এমন রেগে যাবে কেনো বলে তো?”
– ” হয়েছে তোর ছোট মাথায় এত পেশার নেওয়ার প্রয়োজন নেই ওদেরটা ওদের বুঝতে দে। ”
আহি চুপ করে গেল। একবার রুদ্ধর মুখ দেখছে তো একবার আরুর।
রুদ্ধ এবার আরুর দিক থেকে শক্ত চাহনি সরিয়ে মিতা বেগমের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,
– ” আরুর টিচার করে বদলালে আমাকে তো কিছু জানালে না?”
– ” তুই তো কাজের চাপে থাকিস তাই আর জানানো হয়নি। ছেলেটা ভালোয় পড়ায়, ওর যে আগে টিচারটা ছিল না তার জব হয়েছে সেই তো ঠিক করে দিয়ে গেছে ছেলেটাকে।”
রুদ্ধ আরুর দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বলল,
– ” পড়ানোর থেকে গল্পটাই বেশি হচ্ছে আজকাল।”
মিতা বেগম বলল,
– ” কিছু বললি?”
– ” না কিছু না।
সে গট গটে পায়ে ওপরে চলে গেল। রুমা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ছেলেটার এত রাগ হুটহাট কি হয় কে জানে? এই ছোট মেয়েটা কিভাবে যে তার ছেলেটাকে সামলাবে সেটা ভেবেই সে চিন্তায় মরছে। রুদ্ধ যেতেই আরু কোনোরকম হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। এখন কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে কথাটা ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে।

রাত এখন ১১ টার কাটায়, বাড়ির সকলেই কিছুক্ষণ আগে খাবারবে পার্ট শেষ করেছে। আরু ফ্রেশ হয়ে রুহানির রুমের দিকে যাচ্ছিল ওমনি তার হাত কেউ টেনে রুমের ভেতর ঢুকিয়ে নিল। আরু চোখ বন্ধ করে ফেলল সঙ্গে সঙ্গেই। চেনা পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণ, নিশ্বাসের শব্দ, হাতের উষ্ণতা সবটাতে আর চিনতে বাকি নেই মানুষটা কে। রুদ্ধ আরুর হাত ছেড়ে বেডে গিয়ে বসে পড়ল। মুখের ওপর কারোর নিঃশ্বাসের উষ্ণতা টের না পেতেই আরু পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল। রুদ্ধকে ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকতে দেখে আশ্চর্য হলো, তাকে এভাবে এখানে এনে ল্যাপটপ খুলে বসে থাকার মানে কি? আরু গলা খাঁকারি দিয়ে শব্দ করার চেষ্টা করল। রুদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৭

– ” কাম।”
আরু এগিয়ে যেতেই তাকে পাশে বসতে ইশারা করল, আরু বিনা বাক্যে পাশে বসল, রুদ্ধ তার দিকে ল্যাপটপ ঘুরিয়ে দিতেই আরু ভয়ে লাফিয়ে উঠল। একবার রুদ্ধর দিকে তাকাচ্ছে তো একবার ল্যাপটপের দিকে। আরেকবার অসহায় চোখে দরজার দিকে দেখল যেটি আপাতত বন্ধ হয়ে আছে। আরুর বর্তমান অবস্থা হয়েছে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here