তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৭
নওরিন মুনতাহা হিয়া
“হবু স্বামী” শব্দটা শুনে মেঘ বেশ অবাক হয়। আদ্রিয়ান ঘুম থেকে উঠার পর মেঘের সাথে এমন উগ্র ব্যবহার কেন করছে? কাল রাতের সব ঘটনা কি সে ভুলে গেছে? আর হবু স্বামী শব্দটা দ্বারা কি ফারহানকে বুঝাল! নবীন বরণ অনুষ্ঠানের প্রপোজের ঘটনার জন্যই কি সকাল থেকে এমন ব্যবহার করছে আদ্রিয়ান? মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ সকাল থেকে আপনি এমন রাগী আর গম্ভীর কণ্ঠে কেন কথা বলছেন? আর ফারহান চৌধুরী আমায় কলেজে কেন পৌঁছে দিবে? ওনি আমার হবু স্বামী হন না! এখন ও আমাদের বিয়ে হয়নি!”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মেঘের মুখশ্রীর দিকে তাকায় আদ্রিয়ান৷ তার বুকটা ধপ করে উঠে। এই মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে তার কণ্ঠ দিয়ে কোন শব্দ উচ্চারণিত হয় না। আদ্রিয়ানের কর্কশ কণ্ঠে বলা কথা বা ধমক শুনে মেঘের কষ্ট হচ্ছে তা সে জানে। কিন্তু আদ্রিয়ান চাই মেঘের থেকে দূরে সরে যেতে! মেঘ যদি সত্যি ফারহানকে ভালোবাসে! তবে তার সাথেই সুখে থাকুক। ঘৃণা‚ অবহেলা সয্য করার অভ্যাস আদ্রিয়ানের হয়ে গেছে! মনের আর কোন দুবর্লতা মেঘের প্রতি রাখবে না আদ্রিয়ান! হয়ত লুকিয়ে আজীবন ভালোবেসে যাবে। কিন্তু প্রকাশ করবে না! আদ্রিয়ান মেঘের দিক থেকে চোখ সরিয়ে বলে
“ফারহান চৌধুরীর সাথে তোমার বিয়ে হয়নি। কিন্তু ফিউচারে হবে! তোমাদের দুইজনের একসাথে সময় কাটান উচিত! তুমি বরং আজ ফারহানের গাড়ি করে কলেজে যাও।”
আদ্রিয়ানের মুখে এমন কথা শুনে মেঘ হতভম্ব হয়ে যায়! তার নিজ চোখ আর কানের উপর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তার। এই কথা কি সত্যি আদ্রিয়ান বলল! যে আদ্রিয়ান‚ “ফারহান চৌধুরী” এই নামটা শুনলে আগুনের ন্যায় জ্বলে উঠত! মেঘের পাশে ফারহানকে সয্য অবধি করতে পারত না। সেই আদ্রিয়ান বলছে ফারহানের গাড়ি করে মেঘকে কলেজে যেতে! হঠাৎ এতো পরিবর্তন কেন হল আদ্রিয়ানের? সকাল থেকে এমন অদ্ভুত ব্যবহার কেন করছে! মেঘ বলে
“কিন্তু আমি ফারহান চৌধুরীর সাথে গাড়ি করে কলেজে যেতে চাই না।”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান বিস্ময়ের সহিত বলে উঠে
“তবে তুমি কি চাও মেঘ?”
মেঘ স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দেয়
“আপনার সাথে কলেজে যেতে চাই।”
শান্ত আর নির্লিপ্ত চোখে মেঘের দিকে তাকায় আদ্রিয়ান। কোন অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ‚ এমন দহন যন্ত্রণায় আমায় পুড়িয়ে শেষ করে দিচ্ছ মেঘ? কি চাও তুমি মেঘ? আমি কষ্ট পায়! বিশ্বাস কর আমার কষ্ট হচ্ছে। তোমার থেকে দূরে সরে থাকা সম্ভব নয়। তবুও আমি চেষ্টা করছি। তোমার থেকে দূরে সরে থাকার কিন্তু তুমি কেন স্বইচ্ছায় আমার কাছে আসতে চাও মেঘ? আদ্রিয়ান তার মনে থাকা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে না বরং গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে
“ওকে‚ তুমি খাওয়া দাওয়া শেষ করে রেডি হয়ে থেকো।”
“হুম অবশ্যই। সকালের নাস্তা রেডি হয়ে গেছে। আপনি টেবিলে বসুন।”
চেয়ার টেনে টেবিলে বসে যায় আদ্রিয়ান। কাল রাত থেকে আদ্রিয়ান অসুস্থ ছিল। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীর ভীষণ দুবর্ল হয়ে। তাই আদ্রিয়ানের জন্য মেঘ চিকেন স্যুপ আর হালকা নাস্তা রেডি করেছে।
ড্রাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া শুরু করে দেয় তারা দুইজন। আদ্রিয়ান বেশ মনোযোগ সহকারে আনন্দ করে খাবার খাচ্ছিল। মেঘের রান্নার হাত বরাবর ভীষণ প্রশংসনীয়! কিন্তু প্লেটে থাকা খাবার খেতে বেশ কষ্ট হচ্ছে মেঘের । তার ঠোঁট দুটো যেন জ্বলে যাচ্ছে! কাল রাতে আদ্রিয়ান এগ্রসিভ হয়ে মেঘের ঠোঁটে বেশ জোরে কয়েকবার বাইট করে। যার ফলে মেঘের নরম ঠোঁট জুড়া রক্তাক্ত হয়ে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ঠোঁটের গলায় বেশ কয়েক জায়গায় লাল পার্রপেল মার্ক হয়ে গেছে।
মেঘ বেশ সাবধানে আর ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ ব্রেডে কামড় দিয়ে গিয়ে তার ঠোঁটের দাতঁ বসিয়ে দেয়। ক্ষত স্থানে দ্বিতীয়বার কামড় লাগায় ঠোঁট কেটে রক্ত বের হয়ে যায়। মেঘ ব্যাথায় আত্মানাথ করে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠে
“আহ্”
হঠাৎ মেঘের ব্যাথাত্তুর কণ্ঠ শুনে আদ্রিয়ান অবাক হয়ে যায়! প্লেটে থাকা খাবারের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মেঘের দিকে তাকায়। কিন্তু আদ্রিয়ানের চোখ আটকে যায়। মেঘের ঠোঁটে, গলায় থাকা অসংখ্য লাভ বাইটের দিকে। মেঘের নরম ঠোঁটের আশেপাশে অসংখ্য কামড় আর ক্ষত! তাছাড়া গলায় লাল ছোট ছোট দাগ রয়েছে! আদ্রিয়ান অবাক হয়ে প্রশ্ন করে উঠে
___ মেঘ তোমার ঠোঁট এমন কামড় দিয়েছে কে? আর গলায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ কেন? তোমার শরীরে কি এলার্জি হয়েছে? ___.
আদ্রিয়ানের প্রশ্ন শুনে মেঘের লজ্জা পায়! কাল রাতে তাদের একে অপরের সাথে কাটান ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কথা মনে পড়ে যায়! কিন্তু আদ্রিয়ান এলার্জির কথা কেন বলল? কাল রাতের কোন ঘটনা কি আদ্রিয়ানের মনে নেই! মেঘের বেশ রাগ হয় আদ্রিয়ানের উপর। নিজেই কাল মেঘের ঠোঁটে কামড় দিয়ে রক্ত বের করে ফেলেছে! অথচ এখন সকালে জিজ্ঞেস করছে ঠোঁটে কামড় কে দিয়েছে? মেঘ দাঁত কটমট করে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান স্যার আমার শরীরে কোন এলার্জি হয়নি! বরং কাল রাতে আপনিই কিস করার সময় এমন কামঁড় দিয়েছেন!__.
পাশে থাকা পানি ভর্তি গ্লাস থেকে মাএই সামান্য মুখে মুখে দিয়েছিল মেঘ। কিন্তু হঠাৎ মেঘের মুখে “কিস” শব্দটা গলায় পানি আটকে যায়। আদ্রিয়ান কেশেঁ উঠে তার মুখ থেকে সমস্ত পানি মেঝেতে পড়ে যায়! সে অবিশ্বাস্য চোখে মেঘের ঠোঁট‚ আর গলার দিকে তাকায়! মেঘের ঠোঁটের দাগ থেকে স্পষ্ট মনে হচ্ছে কেউ কামড় দিয়েছে! কাল রাতে আদ্রিয়ান মেঘের সাথে আর কি কি করেছে! আদ্রিয়ান বলে উঠে
“নাউজুবিল্লাহ”
আদ্রিয়ানের চমকে যাওয়া চোখ মুখ দেখে মেঘ মনে মনে হাসে। মেঘ বুঝতে পারে কাল রাতের কোন ঘটনা আদ্রিয়ানের মনে নেই! আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে উঠে
“মেঘ‚ তোমার সাথে কাল রাতে কি করেছি আমি? মানে শুধু কি কিস করেছি । না এর চেয়ে ও বেশি কিছু!
আদ্রিয়ানকে জ্বালাতন করতে মেঘের বেশ মজা লাগছে। মেঘ মিটমিট করে হাসে আর মিথ্যা লজ্জা পাওয়ার অভিনয় করে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ আপনার কি কাল রাতের কোন ঘটনা মনে নেই? শুধু কি কিস করেছেন? আর ও কত কি করেছেন? আবার এখন আমায় জিজ্ঞেস করছেন?”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান শুকন ঢুক গিলে‚ আদ্রিয়ান সন্দিহান দৃষ্টি নিয়ে বলে উঠে
“মেঘ‚ আমার হার্ট অ্যাটাক করি ও না! সত্যি কি বল কাল কি করেছি তোমার সাথে আমি?”
মেঘ পুনরায় লজ্জা পেয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ কাল রাতের ঘটনা মনে করলে আমার লজ্জা করে। আপনি যে এতো রোমান্টিক তা কিন্তু আমার জানা ছিল না।”
____ মেঘের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ান আর কোন প্রশ্ন করল না! কাল রাতের ঘটনার জন্য তার খারাপ লাগছে না বরং আপসোস হচ্ছে। নিজের বউয়ের সাথে কাল সারারাত বাসর করল কিন্তু কোন ঘটনাই তার মনে পড়ছে না! অবশেষে দীর্ঘ নয় বছর পর নিজের স্ত্রী সাথে বাসর করল আদ্রিয়ান। এখন মেঘ শুধুমাএ আদ্রিয়ানের! ওই ফারহান চৌধুরী নয়! আদ্রিয়ানের মুখে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠে কিন্তু তা মেঘের নজরে আসার আগেই লুকিয়ে ফেলে! মেঘ অপর পাশে টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে তার মিটমিট করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে হাসছে। তারা মনে মনে দুইজনে অনেক খুশি কিন্তু কেউ প্রকাশ করে না!
[ সময় ১০ : ০০ ]
কলেজ গেইটের সামনে এসে থামে আদ্রিয়ানের গাড়ি! গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আদ্রিয়ান। আজ সকাল থেকে আদ্রিয়ান বেশ চুপচাপ মেঘের সাথে কোন কথা বলছে না। সমগ্র রাস্তায় ড্রাইভ করার সময় একবার ফিরে অবধি তাকায় নি মেঘের দিকে! আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ‚ আমরা কলেজে পৌঁছে গেছি। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াও।”
ভালোবাসো? আর হাসবেন্ড বলে ডাক দিলে?”
আদ্রিয়ানের মুখের রিয়েকশন দেখে মেঘ শব্দ করে হেঁসে উঠে। এরপর তার গলা জড়িয়ে ধরে বলে উঠে
গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে যাওযার উদ্দেশ্য পা বাড়ায় মেঘ। কিন্তু হঠাৎ করে থেমে যায়। অপর পাশে ঘুরে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে তার শার্টের কর্লার শক্ত করে চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। মেঘের এমন কাণ্ডে আদ্রিয়ান অবাক হয়ে যায়‚ সে ভ্রু কুঁচকে মেঘের দিকে তাকায়। মেঘ আদ্রিয়ানকে নিজের আর একটু কাছে নিয়ে এসে‚ তার মুখ এগিয়ে নিয়ে যায় আদ্রিয়ানের গালে এরপর সেখানে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়িয়ে দিয়ে শব্দ করে চুমু খায় আর বলে
“আই লাভ ইউ ডক্টর আদ্রিয়ান রোদায়ান। মাই সুইট হাসবেন্ড।”
গালে মেঘের উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়া পেয়ে আদ্রিয়ান থমকে যায়। তার সারা শরীর পাথরের ন্যায় অবশ হয়ে যায়! মেঘের দিকে অবাক করা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে। মেঘের বলা কথাটা কর্ণপাত হওয়ার পর আদ্রিয়ান যেন দ্বিগুণ অবাক হয়ে যায়। মেঘ আদ্রিয়ানকে ভালোবাসি বলল! আর শেষ কি বলল হাসবেন্ড মানে স্বামী! আদ্রিয়ানের স্ত্রী হিসাবে মেঘ তার পরিচয় দিল। মেঘ আদ্রিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে এরপর বলে
“ওকে বাই। আমি ক্লাসে গেলাম।”
অপর পাশ ঘুরে মেঘ দরজা দিয়ে নামার আগেই আদ্রিয়ান শক্ত করে তার হাত চেপে ধরে। এরপর নিজের কাছে নিয়ে এসে অবিশ্বাস্য চোখে বলে
“মেঘ‚ তুমি একটু আগে কি বললে? তুমি আমায়?
আদ্রিয়ানের মুখের রিয়েকশন দেখে মেঘ শব্দ করে হেঁসে উঠে। এরপর তার গলা জড়িয়ে ধরে বলে উঠে
“কেন আপনি আমায় ভালোবাসেন না আদ্রিয়ান? যার সাথে তিনবার কবুল বলে বিয়ে হয়েছে। তাকে স্বামী বলে ডাকলে অসুবিধা কোথায়?”
মেঘের কথায় আদ্রিয়ান পুনরায় প্রশ্ন করে উঠে
—– কিন্তু মেঘ, তুমি ফারহান চৌধুরীকে ভালোবাস? তোমার হবু স্বামী হয় ফারহান.
মেঘ আহ্লাদী কণ্ঠে আদ্রিয়ানের কথার উত্তরে বলে
—– না। আমি ফারহানকে ভালোবাসি না। এই মেঘ শুধুমাএ তার প্রকৃত স্বামী আদ্রিয়ান রেদোয়ানকে ভালোবাসে!
মেঘের কথা আদ্রিয়ানের কার অবধি পৌঁছানর সাথে সাথেই৷ মেঘের পিঠে ধাক্কা দিয়ে আলতো করে তার শরীরের সাথে মিশিয়ে জােরে বলে উঠে
____ আমি ও তোমায় ভীষণ ভালোবাসি মেঘ। আই লাভ ইউ সো মাচ। তুমি শুধু আমার বউ। শুধুমাএ আমার মাল্লিকানায় বন্ধি তুমি।—
শক্ত করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তারা দুইজন। আদ্রিয়ানের মুখে এই ভালোবাসি শব্দটা শুনার জন্য মেঘ দীর্ঘ বছর অপেক্ষা করেছে। অবশেষে তার স্বামীর থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে সে! মেঘের দুই চোখ অশ্রু জলে ভরে যায়। আদ্রিয়ানের হৃদয়ে যেন অদ্ভুত সুখের অনুভূতি হয়! মেঘের চুলের ভাঁজে শব্দ করে চুমো খায় আদ্রিয়ান।
প্রায় দশ মিনিট ধরে মেঘকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে আদ্রিয়ান। হঠাৎ কলেজের ঘণ্টার শব্দ শুনে মেঘের ক্লাসে যাওয়ার কথা মনে পড়ে। মেঘ আদ্রিয়ানের পিঠে আলতো হাতে থাপ্পড় দিয়ে বলে
—– আদ্রিয়ান ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। ছাড়ুন এখন —.
মেঘের কথা যেন আদ্রিয়ান কানে তুলল না সে জেদ দেখিয়ে বলে
—- না, ছাড়ব না। আজ সারাদিন তোমায় জড়িয়ে ধরে রাখব মেঘ।
মেঘ বুঝল আদ্রিয়ান আজ তাকে ছাড়বে না! যদিও মেঘের ও ইচ্ছা করছে আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে থাকতে। কিন্তু তার ক্লাস! মেঘ এইবার একটু মাথা উঁচু করে আদ্রিয়ানের গলার উপরে বেশ জোরে কামড় বসায়। আদ্রিয়ান ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে, এই সুযোগে মেঘ নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। আদ্রিয়ান বলে
—- এইটা কি ছিল মেঘ? হঠাৎ কামড়ঁ দিলে কেন?
আদ্রিয়ানের প্রশ্নে মেঘ খিলখিল করে হেঁসে উঠে আর বলে
—- কাল রাতের ছোট প্রতিশোধ ছিল এইটা। আর আমি কামড়ঁ নয় বরং লাভ বাইট দিয়েছি।—-.
—– ওহ্ তাই না। এখন আমি একটা লাভ বাইট দেয় তোমায় মেঘ।
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ ভয় পেয়ে বলে
—- না, আদ্রিয়ান ব্যাথা পাব তো।
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান তার গাল এগিয়ে দেয় মেঘের কাছে। এরপর বলে
—- যদি ব্যাথা না পেতে চাও। তবে এখানে আলতো করে চুমু দাও —.
মেঘ ঠোঁট এগিয়ে দিয়ে আদ্রিয়ানের গালে চুমু খায়। কিন্তু এরপর ও আদ্রিয়ান সন্তুষ্ট হয় না এইবার তার ঠোঁটে ইশারা দিয়ে বলে
—- এখানে চুমু খাও —.
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৬
মেঘ চোখ বড়বড় করে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। এরপর ধীরে ধীরে তার ঠোঁট আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কাছে এগিয়ে নিয়ে যায়। আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ করে ফেলে। মেঘ বলে
—- না খাব না —
মেঘ কথা বলে এক দৌড়ে গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে যায়। আদ্রিয়ান চোখ খুলে আশেপাশে মেঘকে না দেখতে পেয়ে শব্দ করে হাসে। সত্যি হয়ত এখন থেকে মেঘ আর তার বৈবাহিক জীবন শুরু হবে।
