তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬২
নওরিন মুনতাহা হিয়া
খোলা জানালার কাঁচে থুঁতনি গেঁড়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে মেঘ। মৃদু বাতাসে তার এলোকেশী চুল উড়ছে। দূরে সিটে হেলান দিয়ে বসে থাকা আদ্রিয়ান, তার ঘাড় ঘুরিয়ে মাথা উঁচু করে বেশ দীর্ঘসময় ধরে পর্যবেক্ষণ করছে মেঘকে! তার ” প্রিয় মেঘবালিকা”। যাকে সে ভীষণ ভালোবাসে! নূহা পাশে বসে ছিল, মুগ্ধ করা দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের তাকিয়ে থাকা দেখে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয় মেঘের শরীরে।
হঠাৎ নূহার ডাকে, জানালা কাছ থেকে সরে এসে নূহার দিকে তাকিয়ে বলে
—-” কি হয়েছে নূহা?”
নূহা চোখ দিয়ে তাদের থেকে দুই সিট আগে বসে থাকা আদ্রিয়ানের দিকে ইশারা দেয়। মেঘ চক্ষু ইশারায় তাকায় সামনের দিকে! প্রথমে ঘটনা না বুঝতে পারলেও, পরে আদ্রিয়ানের এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা দেখে সব বুঝতে পারে! নূহা দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে
—-” দেখ, আদ্রিয়ান স্যার। প্রায় তিরিশ মিনিট ধরে তোর দিকে তাকিয়ে আছে মেঘ। প্রেমে পড়ে গেছে তোর!”
দুই চোখ মিলিত হয় দুইজনের। আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে মেঘ লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিয়ে, পাশে থাকা নূহার কথার উত্তর মেঘ চরম সত্যি বলে উঠে
—-” নিজের বউয়ের প্রেমে পড়া অন্যায় নয়।”
“বউ” শব্দটা শুনে নূহা চমকে যায়। অবিশ্বাস্য চোখে মেঘের দিকে তাকায়। তারা দুইজন যে প্রেম করছে তা মেঘ জানত, কিন্তু বিয়ে করেছে কবে? আদ্রিয়ান স্যার, মেঘের স্বামী হয়?সত্যি! নূহার যেন কথাটা বিশ্বাস হচ্ছে না। নূহা বলে
—-” বউ মানে মেঘ, তুমি আর আদ্রিয়ান স্যার বিবাহিত?”
নূহাকে মেঘ সত্যি বলে দেয়। কারণ সে বিশ্বাস করে নূহাকে! তাছাড়া তাদের দুইজনের সম্পর্কের কথা যখন, নূহা জেনে গেছে। তখন লুকিয়ে রাখা উচিত হবে না। মেঘ হ্যাঁ বোধক সম্মতি দিয়ে বলে
—-” হ্যাঁ আমরা বিবাহিত। ডক্টর: আদ্রিয়ান রোদায়ানের বউ হয় আমি।”
নূহা হকচকিয়ে যায়, তবে আগ্রহ দেখিয়ে মেঘের দিকে ফিরে প্রশ্ন করে উঠে
—-” মেঘ, কবে বিয়ে করলে তোমরা? একবার ইনভাইট ও করলে না?”
নূহার প্রশ্ন শুনে মেঘ হাসে। বিয়ের দাওয়াত সে কি করে দিবে? যখন, তাদের বিয়ে হয়েছিল তখন মেঘও জানত না৷ চৌদ্দ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার, বিয়ে, স্বামী, সংসার বিষয়ে তার কোন ধারণা ছিল না। আর বড়ো হয়ে যখন বুঝল, তখন সব শেষ। তার স্বামী তার থেকে দূরে চলে যায়! অতীতের ঘটনা মনে করে কিছুটা কষ্ট পায় মেঘ, তবে এখনও অবধি আদ্রিয়ানকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। সুখে হাসি ফুটে উঠে। শুরু যেমনই হোক তাদের, শেষটা সুন্দর হবে! মেঘ হাসি মুখে বলে
—-” প্রায় নয় বছর আগে বিয়ে হয়েছে আমাদের। তখন তোমায় কি করে ইনভাই করতাম। শুনি?”
নয় বছর আগের বিয়ে হয়েছে মানে? মেঘের সব কথা নূহার মাথার উপর দিয়ে গেল। সে অবাক করা কণ্ঠে প্রশ্ন করে উঠে
—-” নয় বছর আগে মানে? কি বলছ তুমি? মেঘ তোমাদের বিয়ের ঘটনা শুনতে চাই আমি। দ্রুত বল। ”
এরপর মেঘ তাদের দুইজনের বিয়ের ঘটনা শুনায় নূহাকে। তাছাড়া অনেক সময়ের রাস্তা, তাই গল্প করে কাটিয়ে দিলে মন্দ হয় না। নূহা মেঘের বিয়ের সব কথা বেশ মনোযোগ সহকারে শুনছে, আর উপভোগ করছে। কিন্তু হঠাৎ তার চোখ যায় বাসের প্রথম সিটে বসা তিহানের দিকে। যে এখন, আদ্রিয়ান আর মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। হয়ত তার কষ্ট লাগছে!
প্রথম সারির সিটে বসে তিহান সব দেখল, হৃদয় মাঝে এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হয়। খুব কষ্টও হয় না আবার কোন যায় আসে না এমন মনে হচ্ছে না৷ বেশ হেসেঁ তার বৈবাহিক জীবনের ঘটনা বর্ণা করছিল মেঘ! তিহান সেইদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। সিটে হেলান দিয়ে বসে যায়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর গাড়ি এসে থামে, এক জঙ্গলে ঘেরা রিসোর্টের সামনে! সকল ছাএ ছাএী সিট থেকে উঠে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। মেঘ আর নূহা বাস থেকে নেমে দাঁড়ায়! রিসোর্টের ভিতরে ঢুকে যায়, এরপর তাদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে চলে যায়। তারা সকলে এখানে দুই থেকে তিন দিনের মতো থাকবে! বন অঞ্চলের মানুষ জনের স্বাথ্য – সেবা নিশ্চয়ই করা তাদের মূল কাজ। প্রতিবছর ফাস্ট ইয়ারের ছাএ ছাএীদের জন্য এই ধরণের শিক্ষাণীয় ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। যাতে তারা ক্লাসের পাশাপাশি প্র্যাকটিকালি শিক্ষা লাভ করতে পারে।
রোল অনুসারে মেঘ আর নূহা একই রুমে থাকবে। তারা দুইজন রুমে যায়! দীর্ঘ সময় জার্নি করে আসার ফলে নূহার শরীর অনেক টার্য়াড, বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ে আর বলে
___ ” আমার শরীর প্রচুর টার্য়াড। একটু ঘুমাতে চাই।”
নূহার টায়ার্ডনেন্সের কথা শুনে, মেঘ বলে
—” নূহা, তুমি গোসল করে ঘুমিয়ে নাও।”
বিছানা ছেড়ে উঠে ব্যাগের থেকে তার প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে গোসল করতে যায় নূহা। রুমের আলমারিতে মেঘ তার ব্যাগের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে। দুইদিন কম সময় না, এতোসময় ল্যাগেজ থেকে জামা কাপড় নিয়ে পড়া যাবে না। তাই আলমারিতে রাখা বেটার হবে। ব্যাগ খুলে মেঘ যখন, তার জামা পএ আলমারিতে রাখতে যাবে। হঠাৎ খেয়াল করে, আদ্রিয়ানের কয়েক পিস শার্ট আর গেঞ্জি আর ব্যাগে রয়েছে। মূলত বিভিন্ন ডকুমেন্ট আর জামা কাপর বলে আদ্রিয়ানের ল্যাগেজে আর জায়গা ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে মেঘের এখানে ভরতে হয়েছে।
মেঘ ব্যাগ করে জামাকাপড় বের করে বিছানায় রাখে! এখন কি সে এই কাপড় আদ্রিয়ানকে দিয়ে আসবে? কেউ যদি দেখে নেয়! রিসোর্টে অনেক স্টুডেন্ট রয়েছে? কিন্তু সবাই হয়ত রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে এখন। তাছাড়া আদ্রিয়ান গোসল করে কি পড়বে। তার সব জামাকাপড় এখানে? মেঘ তাই সিদ্ধান্ত নেয়, সে চুপিচুপি গিয়ে আদ্রিয়ানকে তার জামাকাপড় দিয়ে আসবে।
রুম থেকে বের হয়ে চুপিচুপি আদ্রিয়ানের রুমের দিকে এগিয়ে যায় মেঘ। হাত রাখে থাকা কাপড়, পরহিত উড়ানার আড়ালে লুকিয়ে রাখে যেন কেউ দেখতে না পায়। ধীরে ধীরে পা ফেলে এক দৌড়ে আদ্রিয়ানের রুমের ভিতরে ঢুকে পড়ে মেঘ। সব স্টুডেন্ট এখন রুমে তাই কেউ দেখেনি!
আদ্রিয়ানের রুমের ভিতরে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয়! কিন্তু রুমে কোথাও আদ্রিয়ান নাই! সম্পূর্ণ রুম ফাঁকা। আদ্রিয়ান স্যার, কোথায় চলে গেছে? বাসে একসাথে এসেছে? তবে কি ক্যাম্পের কাজের বাহিরে গেছে? মেঘ রুমে চারপাশে, বেলকনির মধ্যে খুঁজে দেখে। তবে ওয়াশরুম থেকে পানির ঝর্ণার শব্দ শুনে বুঝে যায়, সে ওয়াশরুমে আছে। মেঘ তার হাতে থাকা জামাকাপড়, বিছানায় রাখে!
ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেল হয়ে আসে আদ্রিয়ান। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে মেঘ, তার কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। কিন্তু হঠাৎ থমকে যায়! সদ্য গোসল শেষ করে আসা আর্দ্রর পরহিত শর্ট প্যান্ট। আর হাতে টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে থাকে। ভেজা চুল বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বুকের অংশ খালি! সুঠাম পেশীবহুল উন্মুক্ত দেহ, হাতের শক্ত মার্সেল! চুল বেয়ে টপটপ পানি গড়িয়ে পড়ছে! এই অবস্থায় আদ্রিয়ানকে অনেক সুর্দশন লাগছে।
মেঘ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে তার স্বামী দিকে! নিজ স্বামীর উপর ক্রাশ খেয়েছে সে। এমন হ্যান্ডসাম পুরুষের উপর থেকে নজর সরান খুব মুশকিল। কি সুন্দর দেখতে তার জামাই। বাংলাদেশেন মেয়েদের মতো বলতে ইচ্ছা করছে, মেঘ তুই জিতছস।
হঠাৎ রুমে মেঘকে দেখে অবাক হয় আদ্রিয়ান! মেঘ এখানে কি করছে? কিন্তু মেঘ এমন অদ্ভুত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে কেন? চোখের ইশারা দিয়ে আদ্রিয়ান বুঝায়, এমন করে তাকানর কারণ কি? কিন্তু মেঘ বুঝে না, শুধু ঢ্যাপঢ্যাপ করে আদ্রিয়ানের সারা শরীর পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। প্রথমে মেঘের এমন দৃষ্টি কারণ, আদ্রিয়ান না বুঝলেও। পরে ঠিকই বুঝে।
এক পা এক পা করে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ান মেঘের কাছে! তার সম্মুখে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ান তার নিকটে আসার পর, মেঘের মুগ্ধতা যেন দিগুণ বেড়ে যায়! মৃদু হেঁসে আদ্রিয়ান বলে
—-” মিসেস রেদোয়ান, পরপুরুষের দিকে এমন করে তাকিয়ে থাকতে লজ্জা করে না? টির্চার হয় তোমার।”
আদ্রিয়ানের কথায় হুঁশ ফিরে মেঘের। এতোখন যাবত তার তাকিয়ে থাকা নিয়ে সে লজ্জিত নয়। বরং বলে উঠে
—-” নিজ স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকা অন্যায় নয়। জামাইকে দেখার সম্পূর্ণ অধিকার তার বউয়ের আছে।”
আদ্রিয়ান বলে
—-” কিন্তু আমি আপনার শিক্ষক হয়। শিক্ষক কিন্তু পিতৃসমতুল্য!
আদ্রিয়ানের কথায় ভ্রু কুচকায় মেঘ! কড়া কণ্ঠে বলে উঠে
—-” তবে এখন কি আপনাকে বাবা বলে ডাকব?
“বাবা” ডাক শুনে আদ্রিয়ান শুকনো ঢুক গিলে। বউয়ের মুখ থেকে বাবা ডাক শুনার ইচ্ছা তার নাই! আদ্রিয়ান বলে
—-“না, তুমি ডাকবে না। তবে তোমার বাচ্চার মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে চাই।”
বাচ্চার কথা শুনে বেশ লজ্জা পেয়ে যায় মেঘ। সে মাথা নিচুঁ করে লাজুক হাসে, এরপর আদ্রিয়ানের হাতে মৃদু থাপ্পড় দিয়ে বলে উঠে
___” আদ্রিয়ান, তুমিও না?
“তুমি” শব্দটা কণ্ঠ দিয়ে উচ্চারণ করার সাথে সাথেই মেঘের আঙ্গুলে ঠোঁট চেপে ধরে আদ্রিয়ান। এরপর হুশিয়ারি দিয়ে বলে উঠে
—–” তুমি বলে ডাকবে না আর কখন? আপনি বলবে।”
মেঘ অবাক হয়! যেখানে সব স্বামীরা তার স্ত্রী মুখ থেকে “তুমি” ডাক শুনতে চাই। তখন আদ্রিয়ান নিষেধ করছে কেন? বাসে তার এক ক্লাসমেট ও বলল, তার বয়ফ্রেন্ডকে সে আপনি বলে ডাকে বলে। তার সাথে রাগ করে কথা বলে না! মেঘ বলে
___” কেন ডাকব না?”
আদ্রিয়ান শান্ত হয়ে বলে উঠে
___” কারণ তোমার কণ্ঠে আপনি ডাক শুনতে আমার ভালো লাগে না। সাধারণ সবাই আপনি অপর মানুষকে বলে! আমি সারাজীবন তোমার কাছে দূরের অপর মানুষ হয়ে থাকতে চাই। যাতে তুমি সারাজীবন ধীরে ধীরে তুমি আমায় জানতে পার।”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ হাসে!মেঘ বলে
__” ডাকব না তুমি করে। শুধু আপনি।”
কিন্তু এতোখন তার এই রুমে থাকা উচিত নয়। কেউ যদি দেখে নেয়? তাছাড়া নূহা রুম থেকে বের হয়ে তাকে খুঁজবে! বিছানায় রাখা কাপড় উঠিয়ে মেঘ আদ্রিয়ানের হাতে দিয়ে বলে উঠে
___” আদ্রিয়ান, আপনার শার্ট আর গেঞ্জি আমার ল্যাগেজে ছিল। এই নেন। আর আমি এখন যায়।”
মেঘের যাওয়ার কথা বলার আগেই, আদ্রিয়ান তার হাতে টাওয়াল ধরিয়ে দিয়ে মাথার দিকে ইশারা করে বলে
___” চুল মুছে দেও আগে। পরে যাবে।”
বিছানা বসে আদ্রিয়ান। মেঘে এগিয়ে আসে তার কাছে! কোমড় টেনে ধরে মেঘকে নিজ উরুর উপর বসায় আদ্রিয়ান। এরপর মেঘ হাতে থাকা টাওয়াল দিয়ে কোলে বসে মাথা মুছিয়ে দেয় আদ্রিয়ানের।
রাতে রিসোর্টে সকল ছাএ ছাএীরা গান বাজনার আয়োজন করে। কাল থেকে তাদের ক্যাম্প শুরু। রাতে কাজ করা সম্ভব নয়! বাহিরে চাঁদের আলো আর রিসোর্টের ঝাঁকজমক পূর্ণ পরিবেশ! সবাই গানের সুর তুলে! কেউ আবার নাচ করছে। মেঘ দূরে এক কোণায় বসে আছে, সবার পারফর্ম করা শেষ হলে হাততালি দিচ্ছে। জিয়াও এখানে বসে।
আদ্রিয়ান উপস্থিত হয় তখন। মেঘের দিকে তাকায় মুচকি হাসি দেয়। জিয়া আর আদ্রিয়ান পাশাপাশি বসে থাকায়, জিয়া ভেবেছে তাকে দেখে আর্দ্র খুশি হয়েছে! কিন্তু তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল! আদ্রিয়ান গিয়ে ছাত্র ছাএীর সাথে বসে!
___ জঙ্গল ঘিরে থাকা রিসোর্টের আশেপাশে অনেক গাছপালা রয়েছে। মৃদু বাতাসে শীতল আবহাওয়ায় বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে। শীতে কিছুটা কেঁপে উঠে মেঘ। দূরে বসে থাকা আদ্রিয়ান খেয়াল করল! রিসোর্টের ভিতর থেকে সবার জন্য কফির অর্ডার করল। কফি নিয়ে আসে ওয়াইটার! এই শীতে কফি খাওয়া মন্দ হবে না।
তিহান মনমরা হয়ে বসে আছে সবার মাঝে। তার মুখে কোন আনন্দ নাই! মেঘের নজরে এল তিহানের এমন উদাসীন মুখ। মেঘ নূহাকে বলে
___” নূহা, তিহানের কি হয়েছে? এমন মনমরা কেন?”
নূহাও অনেক সময় ধরে তিহানকে খেয়াল করছে৷ তার মন খারাপের কারণ নূহা জানে! কিন্তু মেঘকে কি বলবে? তিহান তাকে পছন্দ করে? অবশ্য মেঘ, এখন জেনে কি করবে? সে অন্য একজনের বউ! তাছাড়া হয়ত মেঘ জানলে তিহানের থেকে দূরে থাকবে। বা তিহান ও হয়ত ভবিষ্যতে লজ্জিত বোধ করবে! নূহা বলে
___” হয়ত ওর মন খারাপ। পরিবারের কোন প্রবেলেম হয়েছে? ”
___” হুম হয়ত। চল গিয়ে তিহানের সাথে কথা বলি।”
নূহা ভাবে, মেঘ যদি এখন তিহানের সাথে কথা বলে তবে হয়ত তিহান আরেও কষ্ট পাবে। এখন তাদের দুইজনের দূরে থাকা উচিত। তাছাড়া আদ্রিয়ান স্যারও, এখানে উপস্থিত রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে নূহা বলে
____” হয়ত তিহান তার ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করতে না চাই। তবে আমাদের জোর করা উচিত হবে না৷ আমি পরে ওর সাথে কথা বলে নিব। ”
নূহার কথায় সম্মতি বলে উঠে
___” হুম তুমি ঠিক বলেছে। পড়ে ওর সাথে কথা বলা ঠিক হবে।”
নূহা আর মেঘ গানের আয়োজন উপভোগ করতে থাকে! তিহান দূর থেকে মেঘের দিকে তাকায়! গান, কৌতুক শুনে কতো সুন্দর হাসছে। এই হাসির প্রেমে সে পড়েছিল। কিন্তু এখন তার থেকে দূরে থাকতে হবে। সবার পারফরম্যান্সের মাঝে মেঘের গান করার আবদার আসে। নবীন বরণের দিন অনেক সুন্দর গান করেছিল মেঘ!
সবার অনুরোধ রাখতে গিয়ে মেঘকে বাধ্য হয়ে গান করতে হয়।
জিয়া তার জায়গায় থেকে সরে গিয়ে, দূরে বসে থাকা আদ্রিয়ানের শরীর ঘেঁষে বসে। আদ্রিয়ান বিরক্ত হয়। চোখ রাঙিয়ে তাকায় জিয়ার দিকে! জিয়া কিছুটা ভয় পায়। আদ্রিয়ান এইবার জায়গা থেকে উঠে, আগে জিয়ার বসা জায়গায় মানে মেঘের পাশে বসে।
বন্ধুদের থেকে গিটার নিয়ে মেঘ বাংলা গানের সুর তুলে, যা সে আদ্রিয়ানেক উদ্দেশ্য করে গায়
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬১
____ কি করে বল তোকে বোঝায় ~~
~~ হৃদয় জুড়ে তুই শুধু একায়~~
~~ দুইটি চোখে তরি ছবি ভাসে দিবানিশি~~
~~~তোকে অনেক ভালোবাসি ~~
~~বড়ো বেশি ভালোবাসি~~
