দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১৭+১৮
আনায়া আফরিন
~শীতের সকাল।চারপাশেই কেমন যেনো এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি।মেহের ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে আসলো।রুমটা অন্ধকার।বিছানার পাশের একটি লাইট জ্বলছে কেবল।এখন তার লাইট নিভালে ভয় লাগে না।পাশের ঘুমন্ত ব্যক্তিটা মনে হয় তাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবে এই মনোভাব নিয়ে সে ঘুমোয়।আর এটা যে সত্যও।বারান্দার পর্দাটা সরিয়ে দিলো।এরিকের চোখে আলো লাগছে।ধীরে ধীরে তার ঘুম ভাঙছে।মেহের দৃশ্যটার দিকে আপন মনে তাকিয়ে রইলো।মনে পড়লো অতীতের একখান দৃশ্য।
~~৪ বছর আগের ঘটনা-
দিনটা ছিলো শীতের সকাল।পৌষ মাসের শেষের দিকে।
চৌধুরী বাড়িতে আজ অতিথি হিসেবে আছেন রহমান বাড়ির লোকজন।পিঠাপুলির আয়োজন করছেন মিতালি আর সবিতা বেগম।রুদ্ভিকা আর আনায়া পিঠার ঘ্রাণে ঘুম থেকে উঠে গিয়েছে আজ সকালেই।আদিল সোফায় বসে আছে।শুক্রবার ছিলো দিনটা।মিতালি বেগম খুন্তি হাতে এসে বললেন-
“বাবা সবাই তো আসলো।মেহেরের ঘুম এখনো ভাঙেনি।আনায়া ডেকেছে দু”বার।কিন্তু আসলো না।তুই গিয়ে একটু ডেকে দে বাবা।ও তো আবার তোর কথা শুনে অনেক!”
আদিল বাধ্য ছেলের মতো উঠে চলে গেলো মেহেরকে ডাকতে।সে এমনিতেও বড়দের কথা অমান্য করেনা তার উপর আবার মেহেরকে দেখার সুযোগ।তার বুঝি আজ লাল শুক্রবার।মুখখানা গম্ভীর রেখে খুশি মনেই গেলো মেহেরকে ডাকতে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
দরজা ভিড়ানো ছিলো।আনায়া চাপিয়ে রেখে গিয়েছে।আদিলে গিয়েই দেখতে পেলো রুমটায় অসংখ্য হলুদ আর নীল রঙের ছোট ছোট বাতি জ্বলছে।মেহের ঘুমে মগ্ন।পা-এর অংশের জামাটা কিছুটা এলোমেলো।আদিল চোখ সরিয়ে নিলো।আলতো করে কাথাটা নিচে নামিয়ে দিলো যাতে মেহেরকে ডাকলে মেয়েটা যাতে উঠে বিব্রতবোধ না করে।মেহেরের রুমের বারান্দাটা তুলনামূলক সবার থেকে বড়।পর্দাটা সরাতেই শীতের সকালের মিষ্টি রোদ্দুরটা একবারে মেহেরের চোখে লাগলো।পর্দাটা সরিয়ে আদিল মেহেরের বিছানার পাশে বসলো।তাকিয়ে রইলো এক নজরে।এই মেহেরটা তার। এই চাঁদটা তার-ভাবতেই তার শরীরে অদ্ভুত এক শিহরণ ঘটলো ভালো লাগার।এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে কানের নিচে গুজে দিতেই মেহেরের ঘুম ভেঙে গেলো।পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখতেই পেলো তার মামাতো ভাই নামক প্রেমিক পুরুষটি তার সামনে।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো সে।ঘুম ঘুম স্বরেই বললো-
“আদিল ভাই আপনি এতো সকালে আমার রুমে?”
আদিল শান্ত স্বরে মেহেরের দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো-
“তোকে দেখার জন্য এ হৃদয় ব্যাকুল হয়ে গিয়েছিলো তাই দেখতে চলে এলাম!”
মেহের চোখ দুইটা বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।পরক্ষণেই তার ল*জ্জা মিশ্রিত মুখটির দেখা পেলো আদিল।বিছানার থেকে নেমে আদিলকে তাড়া দিতে থাকলো।ব্যস্ত গলায় বলল-
“বাসার কেউ দেখলে কি ভাববে ভাইয়া?জলদি বের হও জলদিইইইইইইইইইই!”
আদিল এবার মেহেরের ঠোঁ*টজোড়ার উপর আঙুল দিলো।মেহের নিশ্চুপ।আদিলের স্পর্শ পেলেই তার হৃদয় থমকে যায়।আদিল ঠোঁ*টে স্পর্শ করেছে মেহেরকে শান্ত করানোর জন্য।তার আর মেহেরের মধ্যিখানে এখনও যথেষ্ট দুরত্ব।মেহের শান্ত হতে আদিল একটু ঝুকে গেলো মেহেরের দিকে।আদিলের তুলনায় মেহের একটু শর্ট।মেহের স্তব্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো।আদিল বললো-
“আমি আমার ফুফুর অনুমতিতেই তোর রুমে প্রবেশ করেছি এই সকালে মেহু।তোকে নিজের করে না পাওয়া অব্দি আমি তোকে কখনো অপ্রয়োজনে ছু*বো না।যতোটুকু ছো*য়ার অধিকার একজন ভাই-বোনের মধ্যে বরাদ্দ থাকবে ততোটুকুই স্প*র্শ করবো।তুই নিশ্চিন্তে থাক!”
~বর্তমান-
মেহের আর ভাবতে পারলো না।চোখ থেকে নোনা জল গড়িয়ে পড়লো।আফসোস হলো তার বড্ড।আদিল কেন তাকে নিজের করে নিলো না।পরক্ষণেই মনে পড়লো সে এখন বিবাহিত।তার প্রাক্তন এখন পর পুরুষ।তাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রইলো সেই সকালটাকে।এই সকালটা উপভোগ করতে থাকলো।এরিক “মমম” শব্দ করে নিজের ঘুম ভাঙাতে লাগলো।তার আবার সামান্য আলোতেই ঘুম ভেঙে যায়।তাই আজও ঘুম ভেঙে গেলো।উঠেই দেখতে পেলো রাজনন্দিনীর স্নিগ্ধ মুখখানা।মুচকি হাসলো সে।মেহের এরিকের দিকে তাকিয়ে বললো-
“শুভ সকাল”
এরিকও ঘুম ঘুম চোখে উত্তর দিলো-
“শুভ সকাল রাজনন্দিনী”
এরিকের মুখের “রাজনন্দিনী” ডাকটা বরাবরই মেহেরের হৃদয়কে স্তব্ধ করে দেয়।মেহেরের এই ডাকটা যেনো এই কয়েক মাসে বড্ড প্রিয় হয়ে গিয়েছে।মেহের কি জানে যে এই ডাকের মালিকটাও যে ধীরে ধীরে তার প্রিয় হয়ে যাচ্ছে?!
~আনায়ার ঘুম ভেঙেছে ফোনের শব্দে।বেলা তখন ১২টা।রাতে তার এখন খুব কম ঘুম হয় তাই দিনের বেলা ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেয়।ঘুম ঘুম চোখেই ফোনটা বিছানা হাতরে খুজে নেয়।অচেনা নাম্বার।কিছুক্ষণ সময় নিয়ে রিসিভ করলো আনায়া।ওপর পাশ থেকে সালাম আসতেই আনায়া জবাব দিলো।অপর পাশের ব্যক্তিটি প্রশ্ন করলো-
“ম্যাম আপনার নামে একটি পার্সেল ছিলো বইয়ের।আপনার দেওয়া ঠিকানায় এসেছি।রিসিভ করবেন কোথায়?”
আনায়া বুঝলো না কিসের বই।সে তো কোন বই অর্ডার দেয়নি।পরক্ষণেই মনে পড়লো তার শুভাকাঙ্ক্ষীর দেওয়া বইগুলোর কথা।কণ্ঠ ঝেড়ে সে তার বাড়ির ঠিকানা আর কয় তলায় আসতে হবে সেটা বললো।কলটা কেটে ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হলো।চুলগুলো কোনরকম হাত দিয়ে ঠিক করে খোপা করে নিলো।ধপ
করে এসে ডাইনিং রুমে বসলো।তার মা নাস্তা বানাচ্ছে।খুন্তির আওয়াজ ছাড়া চারপাশে আর কোন আওয়াজ নেই।আদিল বাসায় নেই,অফিসে।বাবা একটু বাহিরে গিয়েছেন বন্ধুদের সাথে দেখা করতে।সবিতা বেগম তাকে দেখেই বললেন-
“আনায়া তোর ঘুমের রুটিন দিন দিন এমন হচ্ছে কেন?সকালে উঠবি।মন আর স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকবে।”
কথাটা বলতে বলতেই সে আনায়ার সামনে নাস্তা এনে রাখলো।আনায়া মায়ের কথা শুনলো নাকি বোঝা গেলো না।সে চুপচাপ পরোটার ভিতর ডিম দিয়ে তা মু*ড়ি*য়ে চিবোতে লাগলো সোফায় হেলান দিয়ে।আনায়া ডাইনিং টেবিলে নাস্তা করে না সবসময়।তার যেখানে ইচ্ছা সেখানেই করে।কিছুক্ষণ পরই কলিং বেল বেজে উঠলো।আনায়া মা-কে বললো-
“হয়তো বই এসেছে।তুমি রান্না করো।আমি দেখছি।”
সবিতা বেগম আর কিছু বললেন না।আনায়া দরজা খুলতেই দেখলো ডেলিভারি ম্যান এসেছে।পার্সেল নিয়ে নিজের রুমে গেলো।কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো পার্সেলটার দিকে।তারপর খুললো।বই গুলো দেখে তার মনটা ফুরফুরে হয়ে গেলো।সব তার উইশলিস্টের বই।সাথে চাবির রিং+অনেক গুলো বুকমার্ক।একটা বড় নোটবুকও দিয়েছে।সাথে অসংখ্য চকলেট।আনায়া সব দেখলো।মুচকি হাসছে সে এসব দেখে।চোখ পড়লো ছোট্ট একট চিরকুটের দিকে।আনায়া বইগুলো রাখলো জায়গা মতো।অতঃপর চিরকুটটা খুললো।বিড়বিড়িয়ে পড়তে লাগলো-
“আপনার চোখের অশ্রু দেখে মনে হলো আপনি মহা দুঃখী এক নারী।বই পড়ুন,হাসুন।অশ্রু বিসর্জন না দিয়ে বইয়ের মাঝে দুঃখগুলো বিসর্জন দিয়ে দেন।আপনার অশ্রু বিসর্জন হতে দেখলে আমার দুঃখ হয় কেনো জানি,ভালো থাকুন।ডাক্তারদের প্রেমে না পড়ে বইয়ের প্রেমে পড়ুন।আর আমার পরিচয় নিয়ে আত*ঙ্কিত হবেন না।আমি আপনার হৃদয়ের কাছের কেউ না তবে আপনার হৃদয়ের রক্ষক হিসেবে থাকতে চাই মিস আনায়া।”
আনায়া পুরোই অবাক।চিঠিখানা তার অদ্ভুত লাগছে।আবার কেন জানি তার ভালো লাগছে।তার ভাই আর দুই বোন ছাড়া তার একতরফা প্রেম আর কে জানে ভেবেই সে অবাক হলো।ঘাটলো না।মনকে সান্ত্বনা দিলো হয়তো মেহু বা রুদুই দিয়েছে।কিন্তু সে জানে তারা দিবেনা তাও সান্ত্বনা দিতে দ্বিধা কোথায়?
এসব ভাবতে ভাবতেই তার ফোনটা আবারও বেজে উঠলো।স্ক্রিনে ঝলঝল করতে লাগলো “মামুনি” নামটা।কল ধরতেই সালাম দিলো সে।জবাব দিলো মিতালি বেগম।ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করে মিতালি বেগম জিজ্ঞাসা করলো-
“আদিল কি অফিসে রে মা?”
আনায়া বললো-
“হ্যাঁ সে তো সেই সকালেই অফিস চলে গিয়েছে।কোন কাজ ছিলো মামুনি?”
মিতালি বেগম হতাশার সুরে ওপাশ থেকে উত্তর দিলেন-
“হ্যাঁ রে।আজ কলেজে নাকি ফিহা যায়নি।রুদ্ভিকা একা আসবে।তোর ফুফাও অফিসে।সে গিয়ে দিয়ে এসেছিলো এখন আনবে কে মেয়েটাকে!আমি তো যেতেও পারছি না বাসায় কিছু কাজ আছে।তাই আদিলকে বলতাম যেয়ে একটু নিয়ে আসতে।”
আনায়া-“ওর ছুটি কয়টায় যেনো হয়?”
মিতালি বেগম-“এইতো আর আধ ঘন্টা পরই ছুটি।৩ টার দিকে হয়।”
আনায়া-“তুমি চিন্তা করো না মামুনি।আমি নিয়ে আসছি”
মিতালি বেগম তড়িঘড়ি করে বললেন-
“তোর একা যাওয়ার দরকার নেই মা।বাহিরে এমনিতেই মেয়েদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই।থাক মা আমি দেখছি।”
আনায়া-“আহা মামুনি এতো চিন্তা করো না তুমি।বড় হয়েছি আমি।আমিই গিয়ে আনতে পারবো তাকে।তুমি রুদু কে বলে দাও কলেজের ভিতরে দাড়াতে।আসছি আমি।”
মিতালি-“তাহলে সাবধানে যাস মা।আর বোনকে নিয়ে জলদি ফিরে আসিস!”
আনায়া-“আচ্ছা রাখি আমি মামুনি”
কল কেটে দিলো আনায়া।সবিতা বেগমের কাছে যেতেই তাকে বললো।সবিতা বেগম প্রথমে শুনে না করলেও পরে রুদ্ভিকার কথা ভেবে হ্যাঁ বলেছেন।দু’জন একসাথে আসলে আর কি হবে।যেই ভাবা সেই কাজ।আনায়া রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলো।তারা একা এসে যেয়ে অভ্যাস আছে।সে মাঝে মাঝেই নিজের মনকে খোলা হাওয়া খাওয়াতে একা একা বাহিরে আসে।ঘুরে,চা খায়,কিছু পছন্দ কিনে তারপর বাসায় ফিরে যায়।আদিল বাসায় থাকলে সে সঙ্গ দেয়।তবে আজ কেউ নেই।তাই তার পথ আজ তার একার হলো।
~এরিদ অনবরত ফোন করে যাচ্ছে এরিককে।তবে সে ধরছে না।আজ তার অফিসে অনেক চাপ।তাই সে এরিককে মেসেজ দিয়ে বললো আফরিনকে যেনো সে নিতে যায় কলেজ।তারপর সে আর তেমন ঘাটলো না।কারণ এরিক মেসেজ দিলে সিন করে সাথে সাথে।ভাই-বোনের প্রতি সে বড় যত্নশীল।তাই এরিদ ভাওবলো এরিক দেখে নিয়েছে তার মেসেজ।`
~অন্যদিকে এরিকের আজ হসপিটালে প্রচুর রোগী।তার কেভিনের বাহিরে এখনো অনেক বড় লাইন।সে আজ দুপুরে লাঞ্চ করার সময় টুকুও পায়নি।ফোন তার এসিস্ট্যান্ট এর কাছে রেখে দিয়েছে।তাই তারও আর মেসেজটা দেখা হলো না।`
আনায়া পৌছালো কলেজের গেইটের সামনে।গিয়ে দেখতে পেলো রুদ্ভিকা আর আফরিন একসাথে দাঁড়িয়ে।সে মুলত রিক্সা দিয়ে গিয়েছে।গাড়ি আদিল নিয়ে গিয়েছে একটা আর তার বাবা নিয়েছে একটা।আর তার এমনিতেও গাড়ির থেকে বেশি রিক্সাতেই ভালো লাগে।রুদ্ভিকা যেনো আনায়াকে দেখে খুশিতে আপ্লুত হয়ে গেলো।মেহেরের বিয়ের পর তার আর আনায়া-আদিলের মুখ দেখা হয়নি।বহুদিন পর বোনকে দেখে খুশিতে মেয়েটা লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে আনায়াকে।আনায়াও অতি স্নেহে বোনকে জড়িয়ে ধরলো।আফরিন এতোক্ষণ তাকিয়ে দেখছিলো এতো মিষ্টি একটা দৃশ্য।আনায়া আফরিনের দিকে তাকালো।তাকে ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করলো।আফরিনের কেন জানি মনে হয় আনায়া আর মেহের একই।তার আনায়াকে বেশ লাগে।সেই একদিনের পরিচয়েই আনায়াকে আফরিনের মনে ধরেছে।তাদের এই সুন্দর সময়টাকে আরো দীর্ঘ করতে আনায়া দুইজনকে টেনে নিয়ে গেলো একটা রেস্টুরেন্টে।গল্প করতেই আনায়া আফরিনকে প্রশ্ন করলো-
“মেহের কেমন আছে আফরিন?”
আনায়া মুখে হাসি বজায় রেখেই জবাব দিলো-
“আমার ভাবি সেই ভালো আছে।ভাইয়া তাকে যেই ভালোবাসে।রীতিমতো চোখে হারায় ভাবিকে।”
আনায়ার মুচকি হেসে জবাব দিলো-
“মাশ-আল্লাহ।ডাক্তার সাহেবকে যে পেয়েছে সে নিতান্তই ভাগ্যবতীই হবে!”
রুদ্ভিকা আড়চোখে তাকাল আনায়ার দিকে।আনায়ার চোখের পানি গুলো রুদ্ভিকার চোখ এড়াতে পারলো না।আফরিন যাতে না দেখে তাই আনায়া কৌশলে পানি মুছে ফেললো।পরক্ষণেই আফরিন হাসতে হাসতে বলে উঠলো-
“আমার এরিদ ভাইও একজনকে চোখে হারায়।এত্তো ভালোবাসে তার চৈত্রিকাকে।”
এতোটুকু শুনেই রুদ্ভিকার নাকে-মুখে উঠে গেলো খাবার।আনায়া পিঠে হাত বুলয়ে দিতে থাকলো।রুদ্ভিকার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গিয়েছে এতোক্ষণে।সে আফরিনকে তড়িত গতিতে জিজ্ঞাসা করলো-
“সে কি কাউকে ভালোবাসে?কে সে?নাম কি তার?”
রুদ্ভিকার এহেন আচরণে আনায়া পুরোই অবাক।রুদ্ভিকা কখনো এতো উদগ্রীব হয়ে কাউকে কিছু বলে না।সে তাকিয়ে রইলো।আফরিনও কিছুটা অবাক হয়েছে।সে বললো-
“আছে আছে একজন আছে।জানতে পারবে সময় হলে!”
বলে সে মুচকি হাসলো।কফিতে চুমুক দিলো।রুদ্ভিকা অনুভব করলো মন খারাপেরা ভিড় করেছে তার হৃদয় কিন্তু কি কারণে বুঝতে পারলো না।আনায়াও নিশ্চুপ।তাদের নিরবতার মধ্যেই কাটলো বেশ কিছু সময়।দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।আফরিনের মনে পড়লো তার ভাইদের কথা তো সে ভুলেই দিয়েছে।ফোন বের করতেই দেখলো তার ফোন বন্ধ।মানে চার্জ শেষ।আনায়া আর রুদ্ভিকাও এবার উঠলো।এমনিতেই শীতের সময়।৫ টার দিকেই মাগরিবের আযান পড়ে যাবে।তারাও রওনা দিলো বাসার উদ্দেশ্যে।বেশ কিছু সময় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে রইলো তারা।তারা ভাবলো আগে আফরিনকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে তারপর তারা বাসায় ফিরবে।
ফোন করে সে সবিতা বেগম আর মিতালি বেগম উভয়কেই ঘটনা বললো।সবিতা বেগম একটু রেগে গেলেন যদিও তবে মিতালি বেগম বললেন দ্রুত বাসায় ফিরতে।রাত হচ্ছে ধীরে ধীরে।আনায়া অনেক ক্ষণ পর একটা বড় অটো পেলো।অটোওয়ালা যদিও তার বেশি একটা সুবিধার লাগছিলো না তবে না পাওয়ার রাস্তায় এই একটা পেয়েছে এইতো অনেক।মনে মনে পজিটিভ ভাবলো।মেয়ে দুটোকে নিয়ে উঠলো।আফরিন তার ভাইদের জানালো না।তার বড্ড অভিমান হয়েছে ভাইদের প্রতি।কেউ একট ফোন পর্যন্ত করলো না।এরিদ ভাই তো পারতো ভাবির থেকে রুদুর নাম্বার নিয়ে তার খোজ নিতে কিন্তু তাও করলো না।তাই সে মুখ ফুলিয়ে গাড়িতে বসে রইলো।গাড়িতে থাকা তিনজনই স্তব্ধ।ঘড়ির কাটায় ৬টা বেজে গিয়েছে।রুদ্ভিকার কেমন যেনো অনুভব হলো।তার মনে হচ্ছে রাস্তা ফুরাচ্ছে না।আবার আজকের রাস্তাগুলোও অচেনা।আনায়াকে ফিসফিসিয়ে বললো কথাটা।আনায়া এবার খেয়াল করলো ব্যাপারটা।সে এতোক্ষণ চোখ বন্ধ করে রুদ্ভিকার কাধে মাথা রেখে বসেছিলো।শান্ত গলায় অটোওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলো-
“জায়গাটার নাম কি জানতে পারি চাচা?”
লোকটি একটু সময় নিয়ে উত্তর দিলো-
“ভয় পাবেন না।আপনাদের গন্তব্যে পৌছে দিচ্ছি শর্ট কার্ট রাস্তা দিয়ে।”
আনায়া এবার একটু ভারী গলায় জিজ্ঞাসা করলো-
“এই অন্ধকার রাস্তা দিয়ে কি করে যাবেন?গাড়ি অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে চলুন”
লোকটি গাড়ি থামালো না।একটি অন্ধকার গলিতে ঢুকপ।আনায়ার পুরো শরীর জমে গেলো।রুদ্ভিকা আর আফরিন যেনো বুঝতে পারলো খারাপ কিছু হতে চলেছে।
রাত ১১:২০।মেহের ডাইনিং রুমে বসে আছে।চোখ দুটো তার লাল হয়ে আছে।হয়তো কেদেছে।এখনও চোখ দিয়ে নিজের না চাইতেও পানি পড়ে যাচ্ছে।অতিরিক্ত চিন্তা আর কষ্টে বোধহয়।রহিমা খালা বারবার তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে কিন্তু সে দরজার দিকেই তাকিয়ে।এসময় এরিক বাসায় ফিরলো।এই শীতের রাতেও তার শরীরে ঘাম।চেহারায় ক্লান্তির ছাপ।সারাদিন যা গিয়েছে তার উপর।অন্য দিন এরিক আসতেই মেহেরের মুখখানা দেখতে পেতো তবে আজ পাচ্ছে না।মৃদু স্বরে ডাক দিলো-
“মেহের!”
মেহের তাকালো না এরিকের দিকে।এরিক এবার দ্রুত মেহেরের সামনে গেলো।যেতেই এরিক বললো-
“মেহের রাজনন্দিনী আমার,কি হয়েছে তোমার?চোখ- মুখের এই অবস্থা কেন?”
মেহের একটু দূরে সরে গেলো।এরিক অবাক হলো।এরিক ঝুকে বসলো মেহেরের দিকে।মেহের তখন টলটলে চোখে এরিককে প্রশ্ন করলো-
“সারাদিন একটা কলও করার প্রয়োজন বোধ করলেন না কেন হ্যাঁ?কল দিয়েছি ধরেনও নি!”
বলেই ফুপাতে লাগলো।এসময় এরিদ বাসায় প্রবেশ করলো।তার অবস্থাও ভাইয়ের মতোই।এসেই দেখলো ভাবি ফুপাচ্ছে আর ভাই ঝুকে বসে আছে।মেহেরকে সে সর্বদা নিজের বোনের মতোই দেখে।তাই এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলো-
“ভাবি কাদছো কেন?কি হয়েছে ভাবি?শরীর খারাপ?”
মেহের এবার তার দিকে তাকিয়ে বললো-
“দুই ভাই আজ সারাদিন এতোই ব্যস্ত ছিলে যে আমার কলটাও ধরোনি।তোমরা কেউ আফরিনকে আনতে যাওনি?”
এরিদ-“আমি তো রিক ভাইকে মেসেজ দিয়ে বলেছি যে আজ আমি অনেক ব্যস্ত তাই তাকে গিয়ে নিয়ে আসতে।আফরিন কি রাগ করেছে?আচ্ছা আমি ওকে মানাচ্ছি ভাবি।”
এরিক অবাক হয়ে বললো-
“আমাকে কখন মেসেজ করলি?আমি তো সারাদিন মোবাইলই ধরিনি ভাই।”
মেহের এবার ফুপিয়ে বলে উঠলো-
“মেয়েটা বাসায় আসেনি।একটু আগে মা কল করেছিলো,আজ রুদুকে আনতে আনায়া গিয়েছিলো।তারা দুজনও নাকি বাসায় ফিরেনি।আমার বোনগুলো কোথায় কে জানে?”
এরিদ আর এরিকের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো।আফরিন বাসায় আসেনি শুনে মনে হলো তাদের পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।এরিদ এবার উচ্চস্বরে বলে উঠলো-
“বাসায় আসেনি মানে কি?বাজে কয়টা ও এখনো বাসায় আসেনি আর রুদ্ভিকা আর আনায়া-ই বা কোথায় চলে গেলো?”
এরিক এবার এরিদকে কিছুটা রাগান্বিত সুরে বললো-
“তুই দেখবি না যে আমি মেসেজ দেখেছি কি না?এমন কাজ তুই কীভাবে করলি?কি করবো আমরা এখন?”
এরিদ-“খুজতে হবে ওকে এখন।আমি ওর বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করি কোথাও আছে নাকি!”
মেহের-“নেই কোথাও ও।আমি খালার থেকে সব জেনে জিজ্ঞাসা করেছি।সকলে বলে আফরিনকে শেষবার তারা রুদ্ভিকা আর তার বোন মানে আমার অনুর সাথে দেখেছে।কোথায় গেলো মেয়ে তিনটা”
মেহের চোখ থেকে পানি পড়ছেই অনবরত।এরিক আলতো হাতে জল মুছে দিলো।নরম সুরে বললো-
“ঘুমাও তুমি।চিন্তা করো না আমরা তিনজনকেই ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।কেদো না মেহু।শরীর খারাপ করবে।”
মেহের চুপ করে বসে রইলো।এরিদ ছুটে গিয়েছে সাথে সাথেই।এরিক প্রথমে ভাবলো তার পুলিশে কমপ্লেইন করবে কিন্তু ভাবলো আগে তারা খুজে দেখুক।দুই ভাই গেলো বোনকে খুজতে।এরিদের বোধহয় বোনের পাশাপাশি আরেকটি নারীর জন্যও মনটা পুড়ছিলো।
আদিল বসে আছে অফিসে।তার বাসায় ফেরার সময় হয়েছে সেই কখন কিন্তু বন্ধুর দুঃখ শুনতে শুনতে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে সে।ফারাজের আজ ঝগড়া হয়েছে তার বড় বোনের সাথে।তাই সেই শো*ক বে*চা*রা এখানে এসে পালন করছে।আদিলও আর কিছু বলেনি।সে শুনছে কেবল।এমতাবস্থায় ফোন দিলেন তার মা সবিতা বেগম।ফোন কাটতেই ওপাশ থেকে মায়ের কান্নারত গলা শুনতে পেলেন।আদিল জানে তার মা সহজে কাদে না তবে আজ কি হলো।মা-কে জিজ্ঞাসা করলো-
“কি হয়েছে মা?”
ওপাশ থেকে সবিতা বেগম কাদতে কাদতে বললেন-
“তোর বোন সেই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে রুদ্ভিকা আনতে,মেয়েটা এখনও বাড়ি ফিরেনি বাবা।রুদ্ভিকাও ফিরেনি।কোন বিপদ হলো নাকি আমার মেয়ের বাবা?”
আদিল অবাক হয়ে গেলো।বিষ্মিত স্বরে বললো-
“ওরা বাসায় আসেনি আর তুমি এই খবর আমাকে রাত ১১:৩০ এ দিচ্ছো মা।এটা কোন কথা।আচ্ছা শুনো লেদো না আমি দেখছি।”
বলেই কল কেটে দিলো সে।দ্রুত হাতে অফিসের সকল কিছু গুছিয়ে বের হতে লাগলো।ফারাজ কারণ জিজ্ঞাসা করতেই আদিল সব বললো।ফারাজ বিস্মিত হলো।বুকে কী যেনো হারানোর ভয় হলো?ফারাজ বুঝেছে বোধহয়।আদিলের সাথে তাই সেও গেলো।
৪টা পুরুষ তিনজন রমণীকে নিয়ে এসেছে একটি পুরনো স্টোর রুমে।চারদিকে অন্ধকার।রুমটির চারপাশে ময়লা জিনিস।মাঝখানে পুরো খালি।একবারেই অল্প আলোর একটি লাইট জ্বলছে মাঝে।চোখ বন্ধ করে আনায়া,আফরিন আর রুদ্ভিকাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।চোখের কাপড় খানা খুলতেই আফরিন মেজেতে বসে পড়লো।রুদ্ভিকাও ভার সামলাতে না পেরে বসে পড়লো।আনায়া চেষ্টা করলো দাঁড়িয়ে থাকার।তবে পা দুটো সায় দিলো না।সে অনুভব করলো তার পাশে একজনের অস্তিত্ব।তাকিয়ে আকার দেখলো।একটি রমণী।কোলে গুটিসুটি মে*রে একটি বাচ্চাও বসে আছে যেনো।মেয়েটি একবারে মায়ের মতো আগলে রেখেছে বুকের মাঝখানে বাচ্চাটিকে।কারো উপস্থিতি অনুভব করতেই বাচ্চাটি একটু গুঙিয়ে উঠলো।রুদ্ভিকা আর আফরিন তাকালো সেই দিকে।রুদ্ভিকার কিছুক্ষণ মুখটির দিকে তাকিয়ে রইলো।পরক্ষণেই অবাক নয়নে তাকিয়ে বলে উঠলো-
“শ-শ্রী আপু?ত-তুমি আমাদের সেই শ্রী আপু না?”
মেয়েটি এবার পরিপূর্ণ ভাবে চোখ মেললো।বাচ্চাটিকে সুন্দর করে কোলে নিলো।মেয়েটির পা দুটো বা*ধা।আনায়া অবাক নয়নে মেয়েটির দিকে চাইলো।তার চোখের পলক পড়ছে না।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত।কাপা কাপা গলায় বলে উঠলো-
“অ-অধুউ।আমার অধু”
অপর পাশের মেয়েটির চোখেও সে কি জলের স্রোত।নিঃশব্দে কাদছে মেয়েটি।বিড়বিড় করে মেয়েটি বলে উঠলো-
“অনু।আমার অনু।”
রুদ্ভিকার দিকে তাকিয়ে বললো-
“রোদ তু-তুমি এখানে?তোমরা কি করো এখানে?জা/নো/য়া/র গুলো তোমাদের এনেছে এখানে তাই না?”
রুদ্ভিকা আর আনায়া যেনো ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।এতো বছর পর এই মানুষটাকে দেখছে তারা।তারা যেনো অধরার উপর ঝা/পি/য়ে পড়ে।অধরাও কোলের শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে দুটোকে আগলে নেয় বাহুতে।আফরিন কেবল চেয়ে চেয়ে দেখছে তাদের।হঠাৎ করেই সে শুনতে পেলো এক পরিচিত কণ্ঠস্বর।তবে তার বিশ্বাস হচ্ছে না ছেলেটি এখানে আছে।তাদের কথোপকথন শুনে আফরিনের হৃদয় থমকে গেলো।যেই লোকটি তাদের ধরে এনেছে সেই লোকটির আওয়াজ শুনা গেলো।বলছে সে-
“স্যার পাচটা মেয়ে কালকে রাতের মধ্যে পাঠাতে হবে।কিন্তু আমাদের কাছে ৪ টা আছে আর আরেকটা বছর চারেক হবে এমন একটা বাচ্চা আছে।এইটা দিয়েই চালিয়ে দেই বস।”
পাশের ছেলেটি শান্ত স্বরে বললো-
“যদি আরেকটা মেয়ে না পাওয়া যায় তাহলে এটা দিয়ে চালিয়ে দিবো।বাবাকে জিজ্ঞাসা করি আগে এটা দিয়ে চলবে নাকি”!”
“আচ্ছা বস”
আফরিনের মনে হলো সে কানে ভুল আওয়াজ শুঞ্চহে।পৃথিবীতে একই ধরনের দেখতে ৭ টা মানুষ হলে একই ধরনের আওয়াজ অজস্র মানুষের হবে না কেন!আফরিন নিজেকেই নিজে বোঝ দিলো।অতঃপর সে বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলো।বাচ্চাটি কাদছে।অধরা বলে উঠলো-
“কি হয়েছে মা?কষ্ট হচ্ছে?চিন্তা করো না আমরা চলে যাবো”
বাচ্চাটি এবার কাদতে কাদতেই পানি চাইলো।আনায়া এটা শুনে উঠে দাড়ালো।চিল্লিয়ে বললো-
“এই যে শুনছেন?”
২ মিনিট পর একজন লোক এসে কর্কশ গলায় জিজ্ঞাসা করলো-
“কি চাই?”
আনায়াও এবার মেজাজ দেখিয়ে বললো-
“এনে ফেলে রেখেছেন এখানে অন্য ঘরের নারীদের।নিজের বাসায় তো কেউ নেই বোধহয়।বাচ্চাটা পানি খাবে।পানি লাগবে।”
লোকটা এবার তেড়ে এসে বলে উঠলো-
“এভাবে বললে কে তোদের পানি দিবে হ্যাঁ?তোদের সাথে এখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারি আমি।দে*মা*গ কমা।”
আনায়া এবার নিজেকে কিছুটা শান্ত করে বললো-
“পানি লাগবে।বাচ্চাটা পানি চাচ্ছে।”
লোকটি বললো-
“এই রাতে পানি কোথায় পাবো?সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে!”
অধরা এবার ছলছল নয়নে বললো-
“বাচ্চা মানুষ ও।সেই দুপুর থেকে মেয়েটা কিছু খায়নি।পানিও না।এখন একটু পানি দেন না।মরে যাবে আমার বাচ্চাটা!”
আফরিনের এটা শুনে কেন জানি বড্ড যন্ত্রণা হলো বুকে।উঠে দাড়ালো সে।তেড়ে গিয়ে লোকটিকে বললো-
“সামান্য পানি খাওয়ার মতো মানসি*কতাও নেই তোদের।এজন্যই তোদের জা/নো/য়া/র বলা উচিত।”
লোকটি নিজের কলার ছাড়িয়ে আফরিনকে সজো*রে একটি থা*প্প*ড় দিলো।এই নরম শরীর থা*প্প*ড়ের তীব্রতা সইতে না পেরে দূরে ছি*ট*কে পড়লো।রুদ্ভিকা তড়িঘড়ি করে উঠে আফরিনকে ধরলো।আনায়া দৌড়ে যাওয়ার আগেই লোকটি তার চু*লে*র মুঠি শ*ক্ত করে ধরে টান দিলো।আনায়া ব্যাথায় আহ্ করে উঠলো।অধরা উঠতে নিলে দেখলো তার শরীরে আর কোন শক্তিই অবশিষ্ট নেই।বুকে লেপ্টে থাকা ছোট্ট শরীরটার মাথায় হাত দিতেই দেখলো মেয়েটা জ্বরে পু*ড়ে যাচ্ছে।পানি চাচ্ছে।অধরা এবার নিজের ভাগ্যের প্রতি আশা ছেড়ে দিলো।সব কে*ড়ে নেয় ভাগ্য তার থেকে।তাও আবার নির্ম*মভাবে।নিজের বলতে এই মেয়েটাই তো আছে তার তাও কি ক*ষ্ট পেতে দেখছে।রুদ্ভিকা একবার বোনের দিকে তাকালো,একবার আফরিনের দিকে।সে মিনতি করতে থাকলো আনায়াকে ছেড়ে দিতে।পাশের রুম থেকে তখন একজন পুরুষ বেরিয়ে এলো।গম্ভীর গলায় জিজ্ঞাসা করলো-
“এখানে হচ্ছেটা কি?এতো চি/ল্লা/চি/ল্লি মাথায় গিয়ে লাগছে।”
“বস এই মেয়েগুলো বেশি কথা বলে।বাচ্চাটা পানি চাচ্ছে,এমন ভাবে হু/কু/ম করছে যেনো আমরা এদের কথা মানতে বাধ্য!”
“নারীদের এতো তেজ আসে কোথা থেকে?সবগুলোকে একবারে…..”
লোকটি এবার ভালো করে সামনে তাকাতেই চুপ হয়ে গেলো।আফরিন পুরোই নিস্তব্ধ।থা*প্প*ড়ের ঘোর তার কেটে গেলো।চোখ দিয়ে এবার তার জল গড়িয়ে পড়লো।সে সামনে যাকে দেখেছে সে করে,কীভাবে সম্ভব?তার শরীর কাপছে।হৃদয় মু/চ/ড়ে যাচ্ছে।কাপা কাপা বলে উঠলো-
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১৫+১৬
“আ-আরশ।”
রুদ্ভিকাও অবাক।সে কি দেখছে এটা।আফরিন রুদ্ভিকার দিকে তাকিয়ে কাপা গলাতে বললো-
“রুদু এই সব মিথ্যে না বলো?এটা কি আর-আরশ?আমি ভুল দেখছি তাই না রুদু?”
রুদ্ভিকাও স্তব্ধ।আফরিন তাকিয়ে রইলো আরশের দিকে।আরশও তাকিয়ে রইলো।সে কিছু বললো না।
