দাহশয্যা পর্ব ৮
Raiha Zubair Ripti
তার ঠিক একদিন পরেই মেহরিন রা তাদের নিজ বাড়িতে চলে আসলো। ঊর্মি তার নিজের বাড়িতে৷ ইতি বেগম জিজ্ঞেস করলেন ইমনের কথা। ঊর্মি বলল-
-” ভাইয়া চেষ্টা করছে মা৷ বলছে খুব শীগ্রই আসবে বাড়ি।
ইতি বেগম খানিক টা স্বস্তি পেলেন। রাতে রান্না করার জন্য চাল নেই বাসায়। ইতি বেগম পাশের বাসায় গেল কিছু চাল আনতে৷ তারপর রান্না বসালেন। রাতে ভাত আর শুকনো মরচি বাটা। কাঁচা বাজার নেই রুমে। রাত টা কোনো রকমে এটা দিয়ে চালিয়ে সকালেই যাবে বাজারে।
মোতালেব ভুঁইয়া নিজের রুমে বসে আছেন চুপচাপ। সেরিন রুমে ঢুকে দেখলো বাপজান তার চিন্তিত মুখ করে বসে আছে। সেরিন বাবার পাশে বসে বলল-
-” কি হইছে আব্বা? এমন চিন্তিত কেনো তোমার মুখ?
মোতালেব ভুঁইয়া মেয়ের দিকে তাকালেন। বড় মেয়ে যথেষ্ট বুদ্ধিমতী হলেও তার ছোট মেয়েটা তেমন বুদ্ধিমতী নয়৷ খুব সাধারণ, নিষ্পাপ। সে যে বাপ ছাড়া তেমন কিছু বুঝতে চায় না।
-” সেরিন আমি একটা দায়িত্ব দিব তোকে।
-” হ্যাঁ আব্বু বলো না।
-” আমি ম’রে গেলে মেহরিন আর তো মা কে দেখেশুনে রাখবি সবসময় কথা দে?
সেরিন বাপকে জড়িয়ে ধরলো।
-” হঠাৎ এমন কথা কেনো বলছো আব্বা? আমি তুমি আমরা সবসময় একসাথে থাকবো তো।
-” জীবনের গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না রে মা। কখনও যদি আমার কিছু হয়ে যায় ওদের খেয়াল রাখিস।
-” কিচ্ছু হবে না তোমার আব্বা। তুমি উঠো খেতে চলো। আমি মেহরিন কে ডেকে আনছি।
মেহরিন বাসায় এসে ফ্রেশ হতেই সেরিন আসে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে। মেহরিন ভেজা চুল গামছা দিয়ে ভালো মতন মুছে বলে-
-” কি রেঁধেছ?
-” তোর পছন্দের চিংড়ি মাছ আর গরুর মাংস ভুনা।
মেহরিনের জিভে জল চলে আসলো। বোন কে জড়িয়ে ধরে বলল-
-” তুমি কি জানো আপু? তুমি ওয়ার্ল্ডের বেস্ট বোন আমার কাছে।
সেরিন মুচকি হাসলো।
-” একটা মেয়ের কাছে তার দ্বিতীয় মা হয় তার বোন। আমি তোকে মায়ের মতন ভালোবাসি মেহরিন। কখনও কোনো সমস্যা হলে দুনিয়ার কেউ তোর বিপক্ষে চলে গেলেও আমি সেরিন কখনই তোর বিপক্ষে যাব না। সবসময় তোর এই বোন তোর সাথে আছে। নিজেকে কখনও একা ভাববি না।
মেহরিন সেরিনের হাতের উল্টো পিঠে চুমু খেলো। তারপর হুট করে মনে পরলো সে যে ভেবেছিল ঢাকায় যাওয়ার আগে লোকটার নাম ঠিকানা বোনের থেকে জেনে নিবে। কই আর তো জানা হলো না।
সেরিন মেহরিন কে কিছু ভাবতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
-” কি ভাবছিস?
-” আ…আপু একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম।
-” হুম বল।
-” আচ্ছা আপু আমার যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তার নাম কি? তিনি ঢাকার কোথায় থাকেন?
-” নামটা ঠিক এই মূহুর্তে মনে নেই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে থাকে শুনেছি।
মেহরিনের মনে পড়লো তেহরানের সাথে তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিল মেহরিন।
খাবার ঘর থেকে মোতালেব ভুঁইয়ার ডাক ভেসে আসলো। তিনি মেয়েদের ডাকছেন খেতে আসার জন্য। তিনি মেয়েদের সাথে করেই খাবার খান। এমন দিন খুব কমই হয়েছে যে মোতালেব ভুঁইয়া মেয়েদের রেখে একা খেয়েছেন বাসায়।
মেহরিন সেরিন গিয়ে বাবার দু পাশে বসলো। সানজিদা বেগম খাবার বেড়ে দিলেন। মোতালেব ভুঁইয়া তৃপ্তি নিয়ে খেলেন মেয়েদের সাথে। না জানি কত দিন হায়াৎ আছে তার। বড় মেয়ের একটা আশ্রয় আছে এখন ছোট মেয়ের একটা আশ্রয় পাইয়ে দিলে ম’রেও শান্তি তার।
দুপুরের গরম রোদের পর পরিবেশ কিছুটা শীতল হলো। বিয়ের আর ১০ দিন বাকি মেহরিনের। মেহরিনের বাবা খুব ঘরোয়া ভাবেই দিবে ছোট মেয়ের বিয়ে টা। কারন এলাকায় খুব একটা আয়োজন করে বিয়ে দেওয়া নিষেধ এই করোনার মধ্যে। মোতালেব ভুঁইয়া আত্মীয় স্বজন দের দাওয়াত দিয়েছেন ফোন করে খুব সীমিত পরিসরে। এরমধ্যে মেহরিন জানতে পারলো তার এসএসসির রেজাল্ট দিবে জুনের ৩০ তারিখে। মেহরিনের বিয়ের চার দিন পর। রেজাল্ট নিয়েও বেশ চিন্তা হচ্ছে। প্লাস আসবে তো? না আসলে শ্বশুর বাড়িতে মুখ দেখাবে কি করে।
ঢাকার সুলতান নিবাসে আকস্মিক এক পুলিশের আবির্ভাব হয়। সোলেমান তখন তার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিল। বাশার সুলতানের ডাকে নিচে নেমে এসে দেখে এক পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে আছেন। সোলেমান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো-
-” আপনি কে?
পুলিশ অফিসার টা ইউনিফর্ম দেখিয়ে বলল-
-” শরীরে কিসের পোশাক দেখতে পাচ্ছেন না?
-” অবশ্যই দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আপনাকে ঠিক চিনলাম না। নতুন নাকি?
-” জ্বি।
-” তা আমার বাড়িতে কি?
-” আপনার সাথে কিছু কথা বলার ছিলো।
সোলেমান পায়ের উপর পা তুলে বসে বলল-
-” বলুন।
-” আপনার এক সহকারী মা একটা মিসিং ডায়েরি করেছে।
-” কোন সহকারী?
-” শরীফ চিনেন তো?
-” ওহ্ চিনেছি৷ তা তাকে নিয়ে আমার সাথে কিসের কথা আপনার?
-” ও তো আপনার লোক। ও এতদিন ধরে মিসিং আপনি জানেন না?
-” ও মিসিং সেটা আমি জেনে কি করবো? মিসিং হলে সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব প্রশাসনের আমার না।
-” ও কে লাস্ট কবে দেখেছিলেন?
-” কয়েক সপ্তাহ আগে।
-” আমি শুনেছি ও আপনার দলে থেকে বিপরীতে থাকা দলের হয়ে কাজ করতো। কথাটা সত্যি?
-” যখন জেনেছেন তখন তো সত্যিই।
-” আচ্ছা আপনি রাগের বশে কিছু ক…
সোলেমান অগ্নি চোখে তাকালো। পাশ থেকে বাশার সুলতান ভারী গলায় বলল-
-” এই পুলিশ কি বলছিস? মাথা ঠিক আছে তোর? তোর কাজ ইনভেস্টিগেশন করা। সেটা কর গিয়ে। প্রমান ছাড়া সোলেমান কে কোন সাহসে ব্লেম করছিস? মে’রে একদম পুঁ’ তে রেখে দিব বলে রাখলাম।
-” আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন?
-” ধরে নে তাই। তোকে জাস্ট দু সেকেন্ড লাগবে উড়িয়ে দিতে। তোদের ওসি তোকে কিছু শিখিয়ে দেয় নি?
-” ওসি আমাকে কি শেখাবে?
-” নাম কি তোর?
-” তুই তুকারি করছেন কেনো? আর আমার নাম সাইফ।
-” বের হ এখন সুলতান নিবাস থেকে। বাকিটা আমি দেখছি তোর।
-” কি দেখবেন?
-” পুলিশ স্টেশন যেতে যেতে বুঝে যাবি।
-” তারমানে শরীফ কে আপনারাই কিছু করেছেন তাই তো?
সোলেমান এবার বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। ফোনটা পকেটে ভরে বলল-
-” প্রমাণ আছে?
-” না।
-” আগে প্রমান দেখান তারপর মেনে নিব। আর আমার এত ফালতু সময় নেই আপনার সাথে থেকে সময় নষ্ট করার। আপনি কি জানেন আমার বাড়িতে এসে আমায় মিথ্যা ব্লেম দেওয়ার অপরাধে আমি আপনার চাকরি সহ পুরো জীবনের ক্যারিয়ার জাস্ট খেয়ে দিতে পারি।
সাইফ মাথা নিচু করলো। উঠে দাঁড়িয়ে বলল-
-” এরপর যখন আসবো তখন প্রমান সহকারে আসবো।
-” জ্বি অবশ্যই।
সাইফ চলে গেলো। বাশার সুলতান পকেট থেকে ফোন বের করে থানার ওসি কে ফোন করে বলে দিলো সাইফ ছেলেটা যেন বাড়াবাড়ি না করে। করলে কিন্তু জানে বাঁচবে না।
ইমন মেসের পাশে থাকা চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে ইব্রাহিমের দেওয়া কার্ড টা দেখছে। ফোন করবে,আপাতত একটা কাজের ব্যবস্থা হোক। তারপর না হয় অন্য কাজ খোঁজা যাবে। ইমন ফোন করো।
ইব্রাহিম সবেই বাসায় ফিরেছে। ইব্রাহিমের দুতলা আলিসান বাড়িতে ইব্রাহিম একাই থাকে। বাবা মা কেউ নেই এতিম। আকস্মিক ফোন বাজায় ফোনের দিকে চেয়ে দেখলো অপরিচিত নম্বর। ইব্রাহিম রিসিভ করে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ইমন সালাম দিয়ে বলল-
-” আমি ইমন বলছিলাম।
-” কোন ইমন?
-” সেদিন আপনার কার্ড দিয়েছিলেন। বলেছিলেন চাকরির প্রয়োজন হলে যেন আমি আপনার ফোন দেই।
ইব্রাহিম মনে করার চেষ্টা করলো। তারপর মনে হতেই বলল-
-” ওহ্ হ্যাঁ মনে পড়েছে। কাল দেখা করো ক্লাবে।
-” জ্বি কোন ক্লাবে?
-” শাহবাগ এসে ফোন দিও। ওখানেই থাকবো কাল।
-” জ্বি।
ইব্রাহিম ফোন কেটে দিলো। ইমন ফোন টা পকেটে ভরলো। কিছুটা প্রশান্তি হচ্ছে। চাকরি টা হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে মাকে পাঠাবে মেহরিন দের বাড়িতে। মেহরিন কে নিজের করে নেওয়ার জন্য। তখন নিশ্চয়ই কোনো আপত্তি জানাবে না মেহরিনের বাবা। ইমন মুচকি হাসলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল-
-” প্রিয় মেহরিন,
তোমার প্রতি আমার অনুভূতি আজকালকের নয়। যখন থেকে বুঝতে শুরু করেছি প্রেম ভালোবাসা কী, তখন থেকেই আমার হৃদয়ে তোমার জন্য একটি সুন্দর অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। আর তার নাম আমি দিয়েছি ভালোবাসা। আমার সমস্ত অনুভূতি তোমাকে ঘিরেই আবর্তিত।
কখনও বলা হয় নি,কখনও সাহস করিনি সামনে এসে তোমাকে জানানোর, কিন্তু আমার প্রতিটি নির্জন রাত, প্রতিটি গোপন শ্বাসে তুমি ছিলে আমার অনুচ্চারিত প্রার্থনা। আমার ভালোবাসায় সবসময় তুমি আছো।
চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেল থেকে ০.৭৯ কিলোমিটার দূরের বাটালি হিল নামক পাহাড়টির নিচে দাঁড়িয়ে আছে এজওয়ান। আকাশ টা মেঘলা। যে কেনো সময় বোধহয় বৃষ্টি হবে। মুখে তার মাস্ক। এজওয়ান সচারাচর দিনের বেলায় বাহিরে বের হয় না। বের হলেও মুখে মাস্ক থাকে। মাস্ক খুলে বের হলে লোকজনের নজর সব এজওয়ানের দিকেই থাকে। তার বিশেষ কারন হচ্ছে তার বাহ্যিক সৌন্দর্য। এজওয়ান সুলতানের চোখের মনি নীল থাকার পাশাপাশি ও তার আরেক টা দিক হলো সে দেখতে মোটেও বাঙালী নয়। তার ফেসের গঠন ফ্রান্সের মানুষদের মতন। তার বেশির ভাগ সময়টা বেড়ে ওঠা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। দীর্ঘ ১৬ বছর সে অস্ট্রেলিয়ায় কাটিয়ে গত বছর ২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসে। আর এসেই এখানে ওখানে ঘুরছে। প্রায় মানুষ জানে বাশার সুলতানের একটা ছেলে আছে সে অস্ট্রেলিয়া থাকে৷ কিন্তু কেউ জানে না এজওয়ান সুলতান দেখতে কেমন। আর যারা দেখেছে তারা জানে না এই এজওয়ান আসলে বশার সুলতানের ছেলে।
অনেকক্ষণ ধরে পাহাড়ের গায়ে একা দাঁড়িয়ে ছিল এজওয়ান। বাহাদুর গিয়েছে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে। গতরাতে টানা বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার ধারে কাদায় ভরেছে পথঘাট। চারপাশে ঘন নীরবতা, নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎই এজওয়ানের মনে হলো এক টান সিগারেট না নিলে যেন কিছুই ঠিকঠাক লাগবে না। পকেট থেকে ধীরে হাতে তুলে নিল সিগারেটের প্যাকেট। এদিক-ওদিক তাকিয়ে নিশ্চিত হলো আশেপাশে কেউ নেই। তারপর ধীরে মাস্ক খুলে নিল মুখ থেকে। লাইটার জ্বালিয়ে চেনা ভঙ্গিতে ধরালো আগুন। প্রথম টানটা গিলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে পা বাড়ালো পাহাড়ঘেঁষা আঁকাবাঁকা পথ ধরে। এজওয়ান ভেবেছিল এই পাহাড়ের উপরে কেউ নেই। কিন্তু উপরে আসতেই দেখে পাহাড়ের মাঝখানে এক মেয়ে দু হাত মেলে দাঁড়িয়ে আছে। এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। মেয়েটার পড়নে ব্লাক জিন্স প্যান্ট,আর কালো রঙের হুডি৷
এজওয়ানের কৌতূহল হলো মেয়েটাকে সামনে থেকে দেখার সেজন্য এগিয়ে যেতেই হুট করে মেঘ ডেকে বৃষ্টি পড়া শুরু করলো। মেয়েটা পেছন ফিরলো। এজওয়ান তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে। বৃষ্টির পানিতে দুজনে ভিজে যাচ্ছে। এজওয়ান চোখ ফেরাতে ভুলে গেছে মেয়েটার থেকে। মেয়েটাকে অন্য রকম লাগলো। মেয়েটার শরীরের রং ধবধবে ফর্সা। গোলাপি ঠোঁট, চোখের মনি বাদামী বর্ণের, লম্বা নাক, নাকে গোল রিং এর মতন ছোট নাক পিন। ফেসের কাটিং টা মোটেও বাঙালী নয়। একদম বাহিরের দেশের মতন। বৃষ্টির পানিতে চোখের পাপড়ি কাঁপছে মেয়েটার। এজওয়ান এগিয়ে আসলো ধীর গতিতে। মেয়েটার সামনে দাঁড়িয়ে নেশাধরা গলায় বলল-
-” কে তুমি?
মেয়েটা কিছু বললো না। পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে এজওয়ান হাত টেনে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলল-
-” নাম কি? বাড়ি কোথায় সেটা তো বলে যাও আগুন সুন্দরী।
লাস্টের দুটি শব্দ শুনে মেয়েটা বিদ্যুৎের গতিতে এজওয়ানের থেকে সরে দ্রুত পায়ে চলে যেতে নিলে এজওয়ান ফের হাত ধরে টান দিলে মেয়েটা এজওয়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে তর্জনী তুলে বলে-
-” ব্লাডি রাস্কেল! ডোন্ট ইউ ডেয়ার কাম নিয়্যার মি এগেইন! জাস্ট স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মি!
মেয়েটা চলে গেলো। এজওয়ান বাঁকা চোখে দেখলো মেয়েটার চলে যাওয়া। রাগের কপাল কুচকে আসলো৷ কি তেজ মাইরী। পাহাড় থেকে নিচে নামতেই দেখতে পেলো মেয়েটা কালো রঙের গাড়িতে উঠে চলে গেলো। এজওয়ান গাড়ির পেছনে থাকা নম্বর টা দেখে নিলো নিজের গাড়ির কাছে আসলো। বৃষ্টি আসায় বাহাদুর বসে ছিলো গাড়ির ভিতরে। এজওয়ান কে ভেজা শরীর নিয়ে গাড়িতে উঠে বসতে দেখে বলল-
-” কই ছিলি তুই?
এজওয়ান গম্ভীর গলায় বলল-
-” পাহাড়ের চূড়ায়।
-” কি করতে?
-” আমার একটা কাজ করে দে।
-” বল কি কাজ।
-” ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৩৪২১ এই গাড়ির মালিক কে। সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে বের করবি। নাম কি, কোথায় থাকে,কি করে এভ্রিথিং ।
-” কার গাড়ির নম্বর এটা?
-” সেটা তোর জেনে কাজ নেই। যা বলেছি তাই কর।
বাহাদুর মাথা নাড়ালো। এজওয়ান ক্রোধ নিয়ে গাড়ি চালালো। এই মেয়েকে তো সে দেখে নিবে। এজওয়ান সুলতান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া তাই না? বুঝিয়ে দিবে মেয়েটাকে।
রাতের দিকে আফিয়া সুলতান ফোন দিলেন সোলেমান কে। জিজ্ঞেস করলেন-
-” বিয়ের তো বেশিদিন নেই সোলেমান। আসবি না?
সোলেমান জবাবে বলল-
-” বিয়ের একদিন আগে চলে আসবো। রাখছি।
আফিয়া সুলতান হা হয়ে গেলেন। তার ছেলে আসবে! সে তো ভেবেছিল আসবে না,আফিয়া সুলতান শ্বশুর কে বলবে অভিনয় করতে। যাক সেসব কিছু করার লাগবে না৷ ছেলে যখন বলেছে তখন আসবেই।
ইব্রাহিম আড়চোখে দেখলো সোলেমান কে। সোলেমান সেটা দেখে জিজ্ঞেস করলো-
-” ওভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?
-” বিশ্বাস হচ্ছে না তুই বিয়ে করবি!
-” কেনো সেদিন তো জ্ঞান দিলি ঘরে ঘরণী আনার জন্য। সেটাই তো করছি।
-” প্রেমার উপর রাগ করে এসব করছিস না তো?
সোলেমান তাচ্ছিল্যের সহিত বলল-
-” আমার জীবনে ওর চ্যাপ্টার ৯ বছর আগেই ক্লোজ হয়ে গেছে। ওর চাওয়ার মতন আমার জীবন চলবে না।
পরের দিন সকালে ইমন আসলে শাহবাগে। ইব্রাহিম কে কল দিতেই ইব্রাহিম ইয়াসিন পাঠালো ইমন কে আনতে। ইমন ইয়াসিনের সাথে আসলো ইব্রাহিমের কাছে। ইব্রাহিম ইমন কে দেখে বলল-
-” রাজনীতি বুঝো ছেলে?
-” না ভাইয়া।
-” ড্রাইভিং পারো?
-” জ্বি পারি।
-” বেশ।তুমি আমার গাড়ির ড্রাইভার৷ আমাকে নেওয়া আসা করবে।
-” আমার বেতন টা ভাইয়া কত?
ইব্রাহিম মুচকি হেঁসে বলল-
-” চিন্তা করো না ২০ কে পাবে। যদি দেখি ড্রাইভিং ভালো তাহলে বাড়াবো।
ইমন কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি নিয়ে তাকালো।
দাহশয্যা পর্ব ৭
-” কবে থেকে জয়েন হবো?
-” আজ এখন থেকেই।
ইব্রাহিম গাড়ির চাবি টা ইমনের দিকে দিয়ে বলল –
-” বসো গিয়ে আসছি।
ইমন চাবিটা নিয়ে ইয়াসিনের দেখিয়ে দেওয়া গাড়ির দিকে আসলো। ইমনের মেহরিন কে ফোন করে বলতে ইচ্ছে করলো-
-” চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি মেহরিন শুনছো?
