Home দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৮১

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৮১

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৮১
রিক্তা ইসলাম মায়া

শীতের উষ্ণময় পড়ন্ত বিকাল। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা হেলিয়ে আছে। আছরের আযান হলো বেশ সময় হয়নি। কাঁধের টনটন ব্যথায় মায়া মাথা উঠিয়ে বসল বারান্দার কাউচের উপর থেকে। কাঁদতে কাঁদতে এখানেই হেলিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিল ওহ। তীব্র ব্যথা অনুভব করতেই কাধে একহাত ঘষতে ঘষতে বাহিরের দৃষ্টি ফেললো ফুলা ফুলা চোখে। চোখ জ্বালা করে উঠতেই বিরক্তিতে উঠে দাঁড়াল। এই অসময়ে কতক্ষণ ঘুমিয়ে জানা নেই মায়ার। দুপুরে দিকে না খেয়ে বসেছিল এখানে। তারপর রিদের কথা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরেছিল। এখন পড়ন্ত বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামবে। ফ্রেশ না হয়ে মায়া গায়ে হলুদ ওড়না জড়িয়ে রুম থেকে বের হলো। পেটে খুদা লেগেছে বেশ। না খেলেই নয়। দোতলা ঘর থেকে বের হয়ে সিঁড়ি ধরে মায়া নিচে নামল।

নিচের ফ্ল্যাটের দরজাটা খুলা থাকায় ঝামেলা বিহীন ঢুকে গেল। ক্লান্ত আর ঘুমের রেশ ঠিকঠাক কাটাতে পারেনি বলে আশপাশটা তেমন লক্ষ করলো না। সোজা সামনে চলল। বসার ঘরে মায়া ঢুকতে রিদ চোখ তুলে তাকাল সেদিকে। সদ্য ঘুম জড়ানো ফুলা চোখ গুলোর দিকে এক পলক তাকিয়ে রিদ ফের দৃষ্টি সরিয়ে শফিকুল ইসলামের দিকে তাকাল। মায়া বেখেয়ালি পনায় তখনো রিদের উপস্থিতটা ধরতে পারল না। বসার ঘর থেকে কিছুটা দূরে যেতেই হঠাৎ মায়া থামে। চমকে উঠে পাশে তাকাতেই চোখে পড়ল শফিকুল ইসলামের মুখোমুখি রিদ বসে আছে সোফায়। চমকিত মায়া আড়ষ্ট হয়ে একপাশে দাঁড়াতেই দেখল ড্রয়িংরুমে পূর্ব থেকে সবাই উপস্থিত ছিল শুধু মায়া ছাড়া। মায়া এক পলক আশেপাশে তাকায়। জুই আর রেহেনা বেগমকে দেখল কিচেনের সামনে দাঁড়ানো। আর শফিকুল ইসলামের সাথে আরিফও রিদের মুখোমুখি বসে আছে। আসিফ রিদ থেকে দুই কদম দূরে দাঁড়ানো। আসিফের দৃষ্টিও মায়ার উপর। মায়া সঠিক বুঝল না এখানে কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে মায়া এতো বুঝতে পারলো মায়া এই আলোচনার মাঝে ঢুকেছে। মানে এই আলোচনা আরও পূর্ব থেকেই শুরু হয়েছে। মায়া কৌতূহলতা দূর হলো রিদের কথায়। রিদ শফিকুল ইসলাম উদ্দেশ্য ফের বলল…

—” আপনার জামাই হিসাবে আমাকে পছন্দ না। আমার যে শশুর হিসাবে আপনাকে মনে ধরেছে এমনটাও না। দুজনই দুজনের অপছন্দের তালিকায়।তারপরও কম্পোমাইজ করতে হবে দুজনকে। কারণ একটাই! আপনি আপনার মেয়েকে ভালোবাসেন। আমিও আপনার মেয়েকে ভালোবাসি। আপনি ত্যাড়ামি করবেন আর আমি যে তা সয্য করবো এমনটাও না। আপনার মেয়ে আমার বউ আজ বিগত এগারো বছর ধরে। রিতের ছয় বছর পর থেকে সে আমার সাথে আমার বউ হয়ে জড়িয়ে আছে। তারমানে রিত আপনার মেয়ে হয়েছিল মাত্র ছয় বছর। এখন আমার ইহকাল পরকালের সাথে সাথে দুনিয়ার বাকি জীবনটাও তো আপনার মেয়ের সাথে কাটাতে হবে। এবার হিসাব করে দেখতে গেলে, আপনার থেকে আমার দাবি বেশি আপনার মেয়ের উপর। এখন আপনি যদি বাবা হয়ে আমার বউকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চান তাহলে সেটা একান্ত আপনার চিন্তা। তবে এই ক্ষেত্রে আমার চিন্তাটা একেবারে ভিন্ন। আমার বউয়ের দ্বিতীয় বিয়ে মানেই হলো কাড়ি কাড়ি লাশের বন্যা বয়ে যাওয়া। আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি। কতটা ভালোবাসি সেটা হিসাব করা দুষ্কর।

নিজেও আজ পযন্ত হিসাব মেলাতে পারিনি এই বিষয়ে। আপনার মেয়েকে ছাড়া আজকাল আমার শুয়ে বসেও শান্তি লাগে না। অশান্তি অস্থির লাগে। আমার অবাধ্য মনটা সারাক্ষণ বউ বউ করে। মানে তাঁর আপনার মেয়েকেই লাগবে। আর আমি হলাম বাঁধ্য পুরুষ। অবাধ্য মনের লাগাম টানতে বউ নিতে চলে আসলাম। বউ না পেলে আপাতত আমি আপনাদের কিছু করবো না। কিন্তু যারা বিয়ে করার উদ্দেশ্য আমার বউকে দেখতে আসতে রাজি হবে তাদের পুরো পরিবারের লাশ এনে আপনার বাড়িতে ফিরবে। আপনি মেয়ের জন্য ছেলে খুজতে খুজতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন কিন্তু আমি সেই ছেলেদের লাশ ফেলতে ফেলতে ক্লান্ত হবো না। আমার প্রফেশন এটাই! তবে রোজ কতটা মানুষ খুন করি সেটা দেখার বিষয় আপনার না। আপনি বাবা হয়ে শুধু দেখবেন আপনার মেয়েকে আমি কতোটা সুখে রাখছি আমার কাছে! আমি তাকে অসুখী রাখছি কিনা সেটা আপনার মেইন ফ্যাক্ট হওয়া উচিত। নাকি আমি কতটা খারাপ মানুষ সেটা দেখা উচিত? আমি গ্যাংস্টার সেটা বাহিরের মানুষের জন্য। বউয়ের জন্য আমি শুধুই তার ভালোবাসার জায়গায়। তার একমাত্র নিরাপদ স্থান। আমার মনে হয় না এর থেকে বেশি আপনাকে আমার আর কিছু বলতে হবে। বউয়ের মন রাখতে এখানে আসা। নয়তো কথা আমি নিজের বাপেরও শুনি না।

রিদের দায়সারা কথায় দম মেরে বসে আছে আরিফ। আপাতত সে কিছুই বলতে চাচ্ছে না। দুইদিক থেকেই সে ফেঁসে আছে। এদিক সেদিক দুটোই তার। মায়ার হঠাৎ সুইসাইড করার কারণ জানার কৌতূহলটাও বেশ কিন্তু ঝামেলায় মায়াকে এখনো কিছু জিজ্ঞেসা করা হয়নি তার। আগের মায়ার বিষয়টা জানবে তারপর বাকি সব ডিসিশন! শফিকুল ইসলামের বরাবরই রিদকে অপছন্দ। মায়াকে রিদের কাছে ফিরত পাঠাতে চাই না বিগত সময়ের গঠিত মায়ার হঠাৎ সুইসাইড করাকে কেন্দ্র করে। মায়া কিছু না বললেও তিনি জানেন রিদই হয়তো মায়াকে সুইসাইড করতে বাধ্য করেছে। এখন উনার কথা হলো বিয়ে মাসেককের ভিতর যদি উনার মেয়ে মরতে যায় তাহলে আগামী দিন গুলোতে যে উনার মেয়ে রিদের কাছে ভালো থাকবে তার কি নিশ্চিয়তা। এমনটাও তো হতে পারে কাল উনার মেয়েকে এই ছেলে নিজেই মেরে ফেলল। অস্বাভাবিক কিছু না।

এই ছেলের নামে রোজ খুন খারাপি হয়। গুন্ডামীতে সেরা। এমন ভয়ানক ছেলের কাছে কোনো বাবাই তাদের মেয়েদের নিয়ে নিরাপদ মনে করে না। তিনিও করে না। প্রথম থেকেই রিদের উপর উনার বিশ্বাস ছিল না। মায়ার ভবিষ্যত নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিল। হলো তাই! এই ছেলে জন্য উনার মেয়েটা মরতে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো পুনরায় ফিরে পেয়েছেন উনার মেয়েকে। এবার যদি তিনি আবারও একিই ভুল করে, এই ছেলের সাথে উনার মেয়েকে সংসার করতে পাঠায় তাহলে সংসার তো হবেই না বরং এবার নিশ্চিত নিজের মেয়েকে হারাবেন চিরতলে। তিনি দৃঢ় নিজের সিদ্ধান্তে! যতকিছু হোকনা কেন মেয়েকে তিনি পাঠাবেন না এই ছেলের সাথে। দরকার হলে মেয়েকে তিনি কুমারী করে রাখবে সারাজীবন তারপরও এমন স্বামী ঘরে আর পাঠাবেন না। এতে যা করা লাগে তিনি করবেন। বেশ গম্ভীর কণ্ঠে বললে শফিকুল ইসলাম…

–” আমি এই নিয়ে বেশ কয়েক বার বলে ফেলেছি মেয়েকে আমি তোমার ঘরে পাঠাবো না। এবার যতকিছু হোকনা কেন! যে সংসারে ছাব্বিশ দিনের মাথায় আমার মেয়ে সুইসাইড করতে যায় সে সংসারের দরকার আপাতত আমি মনে করছি না। মেয়ে আমি পাঠাব না তোমার ঘরে! সব বাবা-মা ই সন্তানের ভালো চায়। আমি বাবা হয়ে নিজের সন্তানকে এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারবো না। যেখানে সন্তানের নিজের জীবনের নিরাপদ নেই। আপসোস তোমার সন্তান নেই। থাকলে তুমিও বুঝতে বাবাদের কষ্ট কতোটা হয় নিজের সন্তানদের কষ্ট দেখলে। দোয়া করি আল্লাহ যেন তোমাকে মেয়ে সন্তান দান করেন। এবং সেই সন্তানদের ধারা তোমাকে বুঝাক বাবাদের কষ্ট কাকে বলে!
শফিকুল ইসলামের কথায় রিদ সহমত পোষণ করে হেয়ালি কথায় বলে…

—” একজেক্টলি! আমিও সেটাই বলছি। আপনি মেয়ে না দিলে তো আমি বাবা হতে পারবো না। আপনার দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হলেও আমার আপনার মেয়েকে চাই।
রিদের দায়সারা কথায় থমথমে খেয়ে যায় শফিকুল ইসলাম। খানিকটা রাগান্বিত কন্ঠে বলল..
—” আমার মেয়ের জন্য কি দুনিয়াতে ছেলের অভাব পড়ছে? তোমার থেকে ভালো ছেলের হাতে আমার মেয়েকে তুলে দিব আমি। দেখিও তুমি। জান থাকতে তোমার ঘরে পাঠাবো না আমি আমার মেয়েকে। তুমি যদি জোর করে আমার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাও তাহলে তোমার বাড়িতে গিয়ে সুইসাইড করে মরবো আমি। তখন তুমি থাকিও আমার মেয়ের ঘৃণা আর অপরাধী হয়ে সারাজীবন।

আসিফ ভয়ার্ত চোখ বুলিয়ে তাকাল রিদের দিকে। উপস্থিত সবাই দৃষ্টি রিদের উপরই। রিদ শফিকুল ইসলামে কথায় তেমন প্রতিক্রিয়া জানাল না। তিনি না করবেন এমনটা সে জানতো। তবে এমন ক্রিমিনাল মাইন্ডের কথা বলবে সেটা সবেমাত্র জানতে পারল। শশুরটাও দারুণ মাইন্ডের! রিদের বেশ লেগেছে। বাবার মৃত্যুর কথা শুনে মেয়ে এবার জীবনে যেতে চাইবে না রিদের সাথে। শশুরের ক্রিমিনাল মাইন্ডের প্রসংশা করতে হয়। রিদ আলতো হাসলো! বউয়ের মন রাখতে এখানে আসা তার। এবার যদি শশুর মশাই রিদের ভালোমানুষি বুঝতে না চায় তাহলে সে আর কি করবে? তার তো কিছু করার নেই! ভালো মানুষ তো আর সে না। তা তার যা করার তাই করবে। রিদ আগের নেয় শান্ত স্বরে বলতে লাগল…

—” আপনার মেয়ে আমার সবচাইতে বেশি দুর্বলতা জায়গায়। এতক্ষণে সেটা আপনিও বুঝে গেছেন। যায় হোক! আমার একটায় কথা, এখন যদি আপনি বাড়াবাড়ি করে আমার বউ, আমাকেই না দেন। এবং আমার সংসার ভেঙ্গে অন্য কোথায় বিয়ে দিতে চান। সে ক্ষেত্রে আমি কাউকে বিচার করবো না। দরকার পরলে আপনাদের সবাইকে মেরে বউ উঠিয়ে নিয়ে যাবো। জোর করে সংসার করবো আপনার মেয়ের সাথে। তাতেও যদি বউ রাজি না হয়, তাহলে আপনার মেয়েকে মেরে তার লাশ নিয়ে সংসার করবো। তারপরও বউকে ছাড়ছি না আমি। করুক বউ আমাকে ঘৃণা! তাতে আমার কি? বউ পাশে থাকাটা জরুরি! ভালোবাসাটা জরুরি না! এখন আপনি ঠিক করেন, সবকিছু সুন্দর শালীন ভাবে করতে চান? নাকি লাশের বন্যা বানিয়ে থামতে চান। আপনি যাহ চাইবেন সেটাতেই আমি রাজি। চয়েস ইজ ইউর!
রিদের কথায় তেতে উঠে শফিকুল ইসলাম। ক্ষেপান্তর গলায় বলে…

—” তোমার কি মনে হয়? আমি তোমার হুমকিকে ভয় পায়? যাও! যা করার করো! দিব না আমি আমার মেয়েকে। তোমার ক্ষমতা, গুন্ডামীকে আমি ভয় পায় না। মেরে ফেলো আমাদের! তারপরও মেয়েকে পাঠাব না তোমার ঘরে।
শফিকুল ইসলামের কথায় ঠাস করে দাঁড়িয়ে পড়ল রিদ। সম্মতি দিয়ে শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সোজাসাপ্টা উত্তরে বলল…

—” ওকে ডান! তাই হোক! আমি আমার করনীয় করছি! এবার আপনি পারলে আমাকে আটকে দেখান!
কথা গুলো বলতে রিদ মায়ার দিকে এগিয়ে গেল শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে। থমথমে পরিবেশটা মুহূর্তে উত্তেজিত হয়ে উঠল রিদ আর শফিকুল ইসলামের মুখোমুখি অবস্থাতে। মায়া কম্পিত শরীরে ভয়ার্ত মুখে বারবার তাকাচ্ছে রিদ আর শফিকুল ইসলামের দিকে। মায়া কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। বলার মতো কথা এই মূহুর্তে গলা দিয়ে আসছে না। রিদ এগিয়ে এসে মায়ার হাত টেনে ধরে নিজের সাথে জোর করে নিয়ে যেতে থাকল। মায়া পরিস্থিতি অনুকূল বুঝে রিদ থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো শফিকুল ইসলামের মুখের দিকে তাকিয়ে! শফিকুল ইসলাম রিদের কাজে চমকাননি! তিনি পূব থেকে নিশ্চিত ছিল রিদ যেন এমন কিছু করবে। তিনি এগিয়ে গেলেন রিদের সম্মোহে দাঁড়িয়ে বাঁধা দিল। দীর্ঘ এগারো বছর পর মুখোমুখি হল জামাই শশুর। মায়া নিজের হাত রিদের হাত থেকে ছাড়ানো চেষ্টা করে’ ছাড়ুন বলছি! বলে। রিদ মায়াকে ছাড়ল না বরং সবকিছু অপেক্ষা করে নিয়ে যেতে চাইলে কেঁদে উঠে মায়া। টেনে ধরে রিদের হাত। হাতে টান পরতেই রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার দিকে। মায়া চোখে পানি নিয়ে রিদের সাথে যেতে চাচ্ছে না দেখে মূহুর্তে রাগে তেতে উঠে রিদ। সবকিছু ছেলে খেলা পেয়েছে? বাপ-বেটি মিলে তার মজা পেয়েছে? তার ছটফট কারও চোখে না পরলে, সে কেন অন্যের কথা শুনতে যাবে? রিদ মায়া হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরে রাগে কটমট করে তাকাল মায়া দিকে। আরিফ দ্রুততা সঙ্গে এগিয়ে এসে শফিকুল ইসলামকে বাঁধা দিয়ে রিদের উদ্দেশ্য বলল…

—” ভাইয়া প্লিজ এই মূহুর্তে রাগারাগি করে কোনো সমাধান পাবেন না। রিতুর হঠাৎ সুইসাইডের বিষয়টাতে আমরা সবাই ভয় পেয়েছি। এজন্য বাবা রিতুকে আপনার সাথে পাঠাতে আপত্তি করছে। তবে ভাইয়া আমি কথা দিচ্ছি আমি বাবাকে বুঝিয়ে রিতুকে আপনার কাছে পাঠাব। প্লিজ ভাইয়া কিছুদিন সময় দিন ওদের। রিতুও মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব! প্লিজ বুঝার চেষ্টা করুন। অন্তত কয়েকটা দিন দেন!

রাত বারোটা! আবছা অন্ধকার রুম। ডিম লাইটের মৃদু আলো জ্বলছে রুমে! মায়া খাটের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে। হাতে কর্ণার ল্যামপের সুইচ। সেটাকে বারবার অন অফ করছে মন খারাপে। বিকালে দিকে আরিফের কথায় রিদ ঝামেলা করেনি। চলে গিয়েছিল মায়াকে অগ্নি দৃষ্টিতে শাসিয়ে! মায়া ভাবেনি রিদ মায়ার জন্য শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলতে আসবে। মায়া অবিশ্বাস লেগেছিল রিদের উপস্থিতটা। কিন্তু বাবা আর রিদের মধ্যে বনাবনি হতে না দেখে মায়া সেচ্ছায় চুপ ছিল। মায়া এবার সত্যি রিদের সাথে যেতে চাই না। আর কেনই বা ওহ যাবে? রিদ তো দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। তার বউও আছে। তাহলে কেন আসল মায়াকে নিতে? দুই বউ নিয়ে সংসার করতে চায় বলে এজন্য? কিন্তু মায়া তো সতীন নিয়ে সংসার করতে চায় না বলেই দুইদিন আগে, সেদিন রাস্তায় রিদকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বলেছিল শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে মায়াকে নিয়ে যেতে নয়তো ওহ যাবে না। কারণ মায়া পূর্ব থেকেই জানতো শফিকুল ইসলাম মায়াকে রিদের কাছে আর পাঠাবেন না। আর রিদও যে ত্যাড়া মানুষ জীবনের কারও কাছে নত হয়ে কিছু করবে না কখনো।

রিদের শফিকুল ইসলামের কাছে আসা মানে রিদ খানের ইগোতে লাগা। কিন্তু রিদ সম্পূর্ণ মায়াকে ভুল প্রমাণ করে ইগো ফেলে আসল মায়ার জন্য শফিকুল ইসলামের কাছে। এতে মায়া অন্তত চমকে ছিল। কিন্তু তাই বলে মায়া সব ভুলে রিদের কাছে ফিরে যাবে এমনটাও না। মায়ার কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে তৎক্ষনাৎ একটা প্রশ্ন উদয় হলো! আচ্ছা উনার দ্বিতীয় বউটা এখন কোথায় আছে? খান বাড়িতে উনার রুমে আছে? হয়তো আছে! বিয়ে যেহেতু করেছে সেহেতু এক রুমে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। সেদিন তো দুজন একসঙ্গেই ছিল। গলায় দলা পাকিয়ে আসা কষ্ট গুলো মায়া শুকনো ঢুক গিলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। মায়া কাঁদতে চায় না। তারপরও কেঁদে ফেলে। শক্ত হতেই পারে না। কি করবে মায়া রিদকে ছাড়া তো অন্য কোনো দুনিয়া সে দেখেনি। দেখতেও চাই না। রিদ না হলেও মায়া জীবনের দ্বিতীয় কোনো পুরুষ আসবে না।

একদম না। রিদের ছুঁয়া থাকবে শেষ। রিদই মায়ার স্বামী হয়ে থাকবে। সংসার না করুক। ডিভোর্সও দিবে না রিদকে মায়া। কক্ষনো না। আবার একত্রে সংসার ও করবে না। মায়া দু’হাতে চোখের জল মুছতে মুছতে বারান্দায় খটখট শব্দ পেল। মায়া আবছা আলোয় সেদিকে তাকায়। এতো রাতে কিসের শব্দটা সে বুঝল না। তাই সেটা আমল নিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে শব্দটা তীব্র হতেই মায়া বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল বারান্দা থেকে কিসের শব্দ আসছে সেটা দেখতে। বাহিরে ঠান্ডা বেশ। গায়ের ওড়না নিতে গিয়েও নিল না। সেতো রুমে একাই। তাছাড়া এতো রাতে বারান্দায় হয়তো রাস্তার বিড়াল লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। মায়া তাড়িয়ে দিলে চলে যাবে ভেবে ছেড়ে রাখা এলোমেলো চুল গুলো হাত খোঁপা করতে করতে এগোল সেদিকে। বারান্দা দরজার খোলায় আছে। মায়া কাছেকাছি যেতেই হঠাৎই ধুপ শব্দ করে কিছু বারান্দায় লাফিয়ে পড়ার শব্দ হতেই মায়া চমকে উঠে তাড়াহুড়ো সেদিকে ছুটে গেল। আবছা আলোয় মায়া বারান্দা ঢুকতে কেউ ওকে এলোমেলো ভাবে ঝাপিয়ে চেপে ধরে নিজের সাথে। আতংকিত মায়া চমকে উঠে বলে…

—” আরেহ কে আপনি ছাড়ুন? আরেহ! ছাড়ুন! উফফ!
জোড়াজুড়িতে মায়া বুঝল মানুষটি কে। কিন্তু থামানোর মতো পরিস্থিতি রইল না। জোড়াজুড়িতে মায়া বলে…
—” না! না! দেখুন! আমার জামাটা ছিঁড়বেন না। এটা আমার নতুন জামা! ছিঁড়লে আম্মু বকবে। প্লিজ ছিড়বেন না। আরেহ শুনুন। কি করছেন! উফফ!
—” আমি না থাকলেই তোর যত সাজগোজ থাকে।
—” ইশ আমি ব্যথা পাচ্ছি! আমি সাজেনি শুধু নতুন জামাটায় পরেছিলাম… আহ!
তীব্র গলা ব্যাথায় মৃদু চেচিয়ে উঠে মায়া। জোড়াজুড়িতে রিদকে থামানো দায়। অন্যান্য দিনের মতো কোমল আচরণ রিদ করছে না মায়ার সাথে। তার আচরণে মায়ার প্রতি রাগটায় প্রকাশ পাচ্ছে। রিদ মায়াকে দেয়ালে সঙ্গে চেপে ধরে অন্যহাতে জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলল ফ্লোরে। মায়া বরাবরই বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেও বিফল হল। জোড়াজুড়ির একটা সময় রিদ মায়াকে চেপে কোলে তুলে বারান্দা থেকে রুমে আসল। ডিল মেরে মায়াকে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে গায়ের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল…

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৮০

—” তোদের বাপ-বেটির নাটক অনেক সয্য করেছি। আমি শান্তি না পেলে তোদেকে শান্তিতে থাকতে দিব? ভালো মানুষ আমি না। তাই খারাপটায় করবো তোদের সাথে।
মায়া তাড়াহুড়ো পাশের কম্বলটা টানতে চাইল নিজের গায়ে জড়াতে। তার আগেই রিদ মায়ার একটা পা ধরে টেনে নিজের মুখোমুখি করল। আতংকিত মায়া কিছু বলতে চেয়ে মুখ খুলল…
—” দেখুন আমা..
মায়ার বাকশক্তি আর রিদের ধৈর্য দুটোই লোপ পেল। মায়া গোঙ্গাল। ছটফট করলো রিদের বহুতলে পিষ্ট হয়ে।

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৮২