না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮
মাইশা জান্নাত নূরা
বাংলো বাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে গাড়ির ব্রেক কষলো সারফারাজ। অতঃপর গম্ভীর স্বরে আহাদকে উদ্দেশ্য করে বললো….
—”লেজবিহীন বাঁ*দর দু’টো গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলো আহাদ। এদের নিয়ে খান ভিলায় যাওয়া পসিবল না এইমূহূর্তে।”
আহাদ ঘাড় ঘুরিয়ে তেজ আর নির্ঝরের দিকে তাকাতেই তেজ ইশারায় বুঝালো যে ওরা শুনেছে। আহাদ তাই কিছু বললো না। অতঃপর ওরা দু’জনেই গাড়ি থেকে নামলো। পরপরই সাৎ করে সারফারাজ ওর গাড়ি নিয়ে স্থান ত্যগ করলো। একটা দমকা হাওয়া তেজ ও নির্ঝরের শরীরে এসে হালকা বা*রি খেলো। নির্ঝর ওর পশ্চাৎদেশের উপর এখন আর হাতও রাখতে পারছে না। ব্য*থা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এতো বাড়ছে যা বলে প্রকাশ করার মতো না। নির্ঝর তেজের দিকে নিজের পিছন ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে বললো….
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—”ভাই, দেখো তো আমার পশ্চাৎদেশ কি প্যন্টের উপর থেকে ফুলো ফুলো লাগছে?”
এই মূহূর্তে দাঁড়িয়ে নির্ঝরের এমন প্রশ্ন শুনে তেজ দাঁত কি*ড়-মি*ড়িয়ে বললো…..
—”ইচ্ছে তো করছে গরম কড়াইয়ের উপর তোকে বসিয়ে রাখতে। সর সামনে থেকে।”
এই বলে তেজ হালকা খুঁ*ড়িয়ে খুঁ*ড়িয়ে হেঁটে বাংলোর ভিতরে যেতে শুরু করলো। নির্ঝরও পিছন পিছন আসতে আসতে বিরবিরিয়ে বললো…..
—”পশ্চাৎদেশের সাথে তোমার মাথার তালুও হট হয়ে আছে দেখছি তেজ ভাই। ব্যপার না। আমার পশ্চাৎদেশের রূপ আমি নিজেই দেখে নিবো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড় হালকা বাঁ*কিয়ে।”
বাড়ির ভিতর আসার পর নির্ঝর দেখলো তেজ ফ্রিজ থেকে কিছু বের করছে। পরক্ষণেই তেজকে কোল্ড ব্যগে অনেকগুলো বরফের টুকরো ভরে নিতে দেখে নির্ঝরের বুঝতে বাকি রইলো না এই বরফ সে কি কাজে ব্যবহার করবে।
তেজ কোল্ড ব্যগটা নিয়ে আগের ন্যয় হালকা খুঁ*ড়িয়ে খুঁ*ড়িয়ে নিজের রুমে চলে আসলো। নির্ঝরও দেড়ি করলো না। সেও চলে আসলো তেজের রুমে। তেজ নিজের পশ্চাৎদেশকে প্যন্ট থেকে মুক্ত করে বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে নির্ঝরকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
—”শুনেছি বরফ লাগালে ব্যথার উপশম হয় অনেকটা। এই ব্যগটা ধর আমার পশ্চাৎদেশের উপর৷ দেখি কতোটা উপকারে লাগে শোনা কথা আমার।”
নির্ঝর ভদ্রের ন্যায় তেজের পাশে এসে দাঁড়িয়ে কোল্ড ব্যগটা ধরলো ওর পশ্চাৎদেশের উপর। কিয়ৎক্ষণ পর তেজ দাঁতে দাঁত চেপে বললো…..
—”এক জায়গাতেই ধরে থেকে জায়গাটাকে প্যরালাইসড করে দিয়েছিস শা*লা! সরিয়ে সরিয়ে ধর।”
কমোর ঝুঁকিয়ে কাজটা করতে নির্ঝরেরও ক*ষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিছুটা। নির্ঝর বললো….
—”ভাই, তোমার পশ্চাৎদেশের হাল তো পুরাই বেহাল হয়ে গিয়েছে। কেমন কালচে লালের মতো হয়ে আছে প্রতিটি মা*রের দা*গ গুলো। আর ফুলো ফুলোও লাগছে।”
—”কু*র*বানির বক*রা তো আমিই হয়েছি। ভাইয়ার সব ঝাল আমার পশ্চাৎদেশের উপরেই পড়েছে। তুই তো পিছনে ছিলি বে৷ ২-৪ টে কি খেয়েছিস এতেই মা-বাবা সহ পুরো চৌদ্দ গুষ্টিকে স্মরণ করে চিল্লিয়েছিলি।”
নির্ঝর ওর ৩২ পাটি দাঁত বের করে হেসে বললো….
—”ছোট হয়েছি আর ফায়দা লুটবো না তা কি হয় বলো ভাই!”
তেজ বিরবিরিয়ে বললো….
—”তোমার ফায়দা লুটানো বের করছি দাঁড়াও।”
এই বলে তেজ শোয়া থেকে উঠে প্যন্টটা ঠিকঠাক ভাবে পড়ে নিতে শুরু করলো। নির্ঝর বললো….
—”আর দিবে না বরফ, ভাই?”
তেজ বললো….
—”না, আমার আর দেওয়া লাগবে না। এবার তুই শুয়ে পড়। আমি দিয়ে দেই তোকে বরফ।”
নির্ঝর খুশি খুশি ভাব নিয়ে প্যন্ট নামিয়ে উপুর হয়ে শুয়ে পড়লো৷ তেজ কোল্ডটা নিয়ে বেশ জোড়েই রাখলো নির্ঝরের পশ্চাৎদেশের উপর। সঙ্গে সঙ্গে নির্ঝর হা করে চিল্লাতে নিলে তেজ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো…..
—”একটা আওয়াজ মুখ থেকে বের করলে কোল্ড ব্যগ থেকে সব বরফ বের করে তোমার পশ্চাৎদেশের রাস্তা দিয়ে সোজা ভিতরে ঢুকিয়ে দিবো বলে দিলাম।”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে দু’হাতে ওর মুখ চেপে ধরলো। তেজ আবারও কিছুটা জোর দিয়ে কোল্ড ব্যগটা নির্ঝরের ব্য*থার স্থানে চেপে ধরে বললো….
—”ফায়দা লুটো তুমি! তাই না! কেমন লাগছে এইবার? তোমার বড় হওয়ায় আমায় এইভাবে ফায়দা লুটতে দেখে মজা লাগছে না?”
নির্ঝরের দু’চোখের আকৃতি বড় বড় হয়ে গিয়েছে। সে এপাশ-ওপাশ মাথা নাড়ালো জোড়ে জোড়ে। তেজ ব্যগটা নির্ঝরের ওখানে রেখেই বললো….
—”আরেকবার যদি দেখেছি আমার ক*ষ্টের সময় মজা নিয়েছিস তখন এর থেকেও বেহাল অবস্থা আমি তোর করবো নিজ্ঝরিয়া।”
এই বলে তেজ ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। এতোক্ষণ ধরে চেপে রাখা সব ব্যথাতুর চিৎকার নির্ঝর এবার গলা খেঁ*কড়ে বের করলো যেনো। ওর চিৎকারে পুরো রুম কেঁপে উঠলো যেনো।
সারারাত কেবল এপাশ-ওপাশ করেই কাটিয়ে দিয়েছে পিহু। ঘুমের কোনো লেশ খুঁজে পায় নি গতরাতে সে। ঘরের ভিতর থাকতেও ভিষণ ফাঁ*পড় লাগছিলো তাই ভোর সকালেই ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে আর না শুয়ে নিচে রান্নাঘরে এসে সবার জন্য একা হাতে নাস্তা তৈরি করতে শুরু করেছিলো সে।
প্রতিদিনের সময়েই আতুশি ও শিউলি একসাথে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে আসতেই দেখলেন পিহু ইতিমধ্যে সব নাস্তা তৈরি করে ফেলেছে। রুটি ও পরোটা গুলো যেনো ঠান্ডা না হয়ে যায় তাই সেগুলো হটপটে ভরে রাখছে পিহু। আতুশি পিহুর কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললেন….
—”একি পিহু মা, এতো সকালে রান্নাঘরে এসে একা হাতে তোমায় সবার জন্য নাস্তা তৈরি করতে কে বলেছিলো শুনি?”
পিহু হালকা হেসে বললো….
—”কেউ বলে নি তো। আমি নিজ থেকেই করেছি সব।”
শিউলি কিছুটা নারাজ ভাব নিয়ে বললেন….
—”কাজটা কিন্তু তুমি একদমই ঠিক করো নি বড় বউমা। এ বাড়িতে তোমার তিন-তিন জন যুবতী শ্বাশুড়ি মা আছেন। এসব রান্না বান্নার কাজ প্রতিদিন আমরাই করি৷ আর তুমি এভাবে এখন সব কাজ করে বসলে তো লোকে আমাদের বুড়ি বলবে। বুড়ি ডাকটা শুনতে কি আমাদের ভালো লাগবে বলো? কতোই বা বয়স হয়েছে আমাদের?”
শিউলির এমন কথা শুনে পিহু না হেসে পারলো না। আতুশি শিউলির কথায় সমর্থন করে বললেন…..
—”মেজো ভাবী কিন্তু একদম ঠিক কথাই বলেছে বউ মা৷ আজ করেছো করেছো। এরপর যেনো আর না দেখি তোমাকে রান্নাঘরের আশেপাশেও ঘেঁষতে। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদের বলবে আমরা বানিয়ে দিবো। ঠিক আছে?”
পিহু বললো….
—”বিয়ের আগে তো আমি ঘরের সব কাজই করতাম চাচী মা। এখন যদি এভাবে বসে থাকি তাহলে তো অলস হয়ে যাবো আমি দিন দিন।”
শিউলি বললেন….
—”অলস হলে হবে। আমাদের সারফারাজ বাবা সহ এ-বাড়ির সব পুরুষরা এতো কষ্ট করে টাকা-পয়সা কামাই-রোজগার করতেছে কি জন্য? বাড়ির সকল বউরা যেনো আরাম-আয়েশ করে নিজেদের জীবন কাটিয়ে দিতে পারে সে জন্যই তো? তাই পরে যদি তুমি ঘরের কাজ করা ভুলেও যাও তাতেও আহামরি কোনো সমস্যা হয়ে যাবে না। দরকার পড়লে সার্ভেন্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তাই যা বলা হলো তোমায় তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে কেমন!”
পিহু আর কথা বাড়ালো না। কারণ সে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে ওনাদের কথার সাথে সে কথা বলে পেরে উঠবে না। আতুশি ও শিউলি পিহুর বানানো সব খাবার গুলো টেবিলে এনে সাজিয়ে দিলো। যে খাবার গুলো দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে সেগুলো তো পিহু আগেই হটপটে ভরে রেখেছে। সেই হটপট গুলোও টেবিলে এনে রাখলো ওনারা।
ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে সেখানে বসলেন আতুশি ও শিউলি। পিহু পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আতুশি শিউলির দিকে তাকিয়ে চোখ ইশারায় তাকে কিছু বুঝাতে চাইলে শিউলি বুঝে উঠতে না পারায় ভ্রু নাচিয়ে ‘কী’ বললেন। পিহু বিষয়টা লক্ষ্য করে বললো….
—”ছোট চাচী মা, আপনি কি কিছু বলতে চান আমায়!”
পিহু বুঝে গিয়েছে দেখে আতুশি গলা খাঁ*ক*ড়ি দিলেন তৎক্ষনাৎ। এতোক্ষণে শিউলি আতুশির মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন…..
—”হুম, চায় তো বলতে। কিন্তু তুমি কিভাবে নিবে না নিবে তা ভেবেই হয়তো সংকোচ করছে।”
পিহু বললো….
—”কি এমন বিষয় যা বলতে ছোট চাচী মা’র এমন সংকোচ বোধ হচ্ছে!”
শিউলি ইশারায় আতুশিকে বলতে বললেন পিহুকে যা বলার। আতুশি বললেন….
—”আব-বড় বউমা, আমি বলতে চাইছিলাম কি নীরার তো যথেষ্ট বয়স হচ্ছে! এবার আমাদের ওর কথা চিন্তা করা উচিত।”
পিহুর ভ্রুযুগল কিন্ঞ্চিত কুঁচকে এলো। পিহু বললো…
—”আপনি নীরার মা, ছোট চাচী মা। তাই নীরার বিষয়ে ভালো-মন্দ যেকোনো বিষয়ে চিন্তা করার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার আছে।”
এই বলে পিহু আতুশির পাশের চেয়ারটা টেনে সেখানে বসলো। আতুশি পিহুর দিকে ঘুরে বসে ওর দিকে তাকিয়ে বললেন….
—”সেটা নীরা কানাডা যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমিও ভাবতাম কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি আলাদা হয়ে গিয়েছে। নীরা আর আগের মতো নেই। পরিবর্তন এসেছে ওর প্রতিটি আচারণে, অভ্যাসে। তাই এখন আর নিজেরা সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্ত যে ও মাথা পেতে মেনে নিবে এমন আশা রাখি না বউমা।”
পিহু আতুশির কথার এমন ধরণে তার ভিতরে জমে থাকা খারাপ লাগার কিছুটা ছাপ খুঁজে পেলো। পিহু বললো….
—“নীরা আগে কেমন ছিলো তা আমি জানি না ছোট চাচী মা। তবে এ বাড়িতে এসে নীরার সাথে মেশার পর ওকে আমি অনেকটাই চিনেছি। ও আপনাদের সবাইকেই অনেক ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। নীরা এটাও মানে আপনারা ওর জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেক্ষেত্রে ওর ভালোটাই যে হবে তা ও নিজেও মানে।”
পিহুর কথাগুলো শুনে আতুশি ও শিউলির ঠোঁটে হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠলো। পিহু ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে একগ্লাস পানি নিয়ে পান করতে শুরু করলো। আতুশি বললেন…..
—”তুমি আমাদের চিন্তা অনেকটা কমিয়ে দিলে বউমা। এখন আসল কথায় আসি। আমরা মহিলারা নীরার জন্য একজন ছেলেকে পছন্দ করেছি। ওর বিয়ের বিষ…..!”
আতুশি পুরো কথা শেষ করতে পারলেন না। তাঁর আগেই পিহু ওর মুখ ভর্তি পানি সব ঝেড়ে ফেললেন আতুশির মুখে-চোখে। আতুশি তৎক্ষনাৎ চোখ-মুখ কুঁচকে নিলেন। পিহুর কাঁশি উঠে গিয়েছে আতুশির কথা শুনে৷ শিউলির মুখ হা হয়ে গিয়েছে। অটোমেটিক একটা হাত তার মুখের উপর চলে গিয়েছে।
ইলমার ঘুম আজ অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছে। তাই নিজের ও অনুর দু’জনের জন্যই রান্নাটা সে নিজেই করে নিয়েছে দ্রুতই। অনু এখনও ঘুম থেকে উঠে নি। কফিশপের যেই কাজটা তেজের সুবাদে ইলমা পেয়েছিলো তেজের বন্ধু জাকিরের কফিশপে সেখানে ১ম দিনই যেতে লেইট করেছিলো সে এরপর পরদিন তো গেলোই না অনুকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলো জন্য। আজ তাই সময় মতো কাজে যেতে চায় ইলমা৷ এরপর খুব বেশি সমস্যা না হলে কাজে যাওয়া মিস দিবে না বলেও মনঃস্থির করে ইলমা।
ইলমা ফ্রেশ হয়ে অনুর রুমে যেতেই দেখলো অনু বাহিরে যাওয়ার জন্য রেডি হয়েছে। ইলমা ভ্রু কুঁচকে বললো…..
—”এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি!”
অনু ওর কাঁধ ছুঁই ছুঁই চুলগুলো চিরুনি করতে করতে বললো….
—”কাজে যেতে হবে আপা। গতকালও যেতে পারি নি। আজও যদি না যাই ওনারা আমায় কাজ থেকেই বের করে দিবেন। তখন আমি চলবো কিভাবে বলো? একে তো কম পড়াশোনা জানা মেয়ে আমি, আগের কোনো কাজের অভিজ্ঞতাও নেই তাই এই কাজটা হাতছাড়া হলে আমায় নতুন কাজ জোগার করতে বড্ড বেগ পেতে হবে।”
ইলমা বললো…..
—”কি কাজ করো তুমি?”
অনু ইলমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। ইলমার দৃষ্টি অনুর উপরেই স্থির। অনুর পরণে রয়েছে একটা ঢোলা-ঢিলা চেক প্রিন্টের লং শার্ট আর কালো প্যন্ট। মাথায় ক্যপটা টেনে নিয়ে নিজের মেয়েলি রূপটাকে যথাযথ আড়াল করার চেষ্টা করলো অনু। বাহিরের দুনিয়ায় এভাবেই চলাচল করে আসছে অনু ঢাকায় আসার পর থেকে। অনু বললো….
—”গার্মেন্টসে লোকের কাজ তদারকি করাই দায়িত্ব আমার। জানো আপা! আমার নিয়ন্ত্রণে ১০০ জন মহিলা ও পুরুষ কাজ করেন। মোটামুটি ভালোই পারিশ্রমিক পাই। তা দিয়েই দিন চলে যাচ্ছে আমার স্বাচ্ছন্দ্যে।”
ইলমার মুখে গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট হলো। গার্মেন্টসের পেশা সম্পর্কে হালকা-পাতলা ধারণা ইলমার আছে। সে নিজে না করলেও আশ্রমে থাকাকালীন ওর পরিচিত কয়েকজন বড় আপুর থেকে গল্প শুনেছিলো। অনু যে সেকশনে আছে সেই সেকশনের মানুষদের সাথে অনেক দূর্ব্য*বহার করেন তাঁর উপর ধাপে থাকা লোকেরা। গা*লি-গা*লাজও করে থাকে। অনু যথেষ্ট কম বয়সী একজন মেয়ে। এই বয়সে দাঁড়িয়েও অতীতে অনেক কিছু সহ্য করেছে সে। তারপর নতুন জীবনে এসে দাঁড়িয়ে বাস্তবতার এমন জ*ঘ*ন্য রূপ অনু রোজ দেখে যাচ্ছে এটা ইলমা মেনে নিতে পারছে না যেনো কিছুতেই।
অনুর এখন পড়াশোনা করার বয়স। অনু ভালোভাবে পড়ালেখা করে সম্মানিত স্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পারলেই ওর জন্য ওর মায়ের নিজের জীবন স্যকরিফাইস করাটা সার্থক হবে। ওর মায়ের শেষ ইচ্ছেটাও পূরণ হবে।
ইলমাকে নিরব থাকতে দেখে অনু বিছানার উপর থেকে নিজের কাঁধ ব্যগটা উঠিয়ে নিয়ে বললো….
—”আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আপা। এখন আমি আসি! বাসায় ফিরতে আমার রাত হয়ে যাবে। ওভারটাইম করে কালকের অনুপস্থিতির অভাবটা পূরণ করবো আজ। তাই তুমি খেয়ে নিও।”
এই বলে অনু চলে যেতে নিলে ইলমা অনুর হাত ধরে ওকে থামিয়ে দিলো। অনু প্রশ্নসিক্ত নয়নে তাকালো ইলমার দিকে। ইলমা বললো…..
—”তোমাকে আর কাজে যেতে হবে না অনু।”
ইলমার এরূপ কথা শুনে অনু অবাক স্বরে বললো….
—”এ তুমি কি বলছো আপা! কাজে যেতে হবে না মানে! এই যে বললাম এটাই আমার চলাচলের একমাত্র উপায় তারপরও….!”
অনুকে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে ইলমার অনুর হাত ধরে ওকে বিছানায় এনে বসালো। ইলমা নিজেও বসলো অনুর মুখোমুখি। অতঃপর শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”তোমার মা সারাজীবন অন্যের বাড়িতে, জমিতে কাজ করে তোমাকে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন কি তোমার এমন অনিশ্চিত ও অসম্মানজনক একটা ভবিষ্যত হবে এই ভেবে?”
অনুর চেহারার ধরণ পরিবর্তন হলো। অনু ভার ভার কন্ঠে বললো….
—”তখন পরিস্থিতি অন্যরকম ছিলো মা। আমার সব খরচ বহন করার জন্য আমার মা ছিলেন। কিন্তু এখন? এখন কে আছে আমার বলো? আমার নিজের ভরোন-পোষণের দায়ভার কি আমার নিজের উপর বর্তায় নি?”
ইলমা অনুর হাতের উপর হাত রেখে বললো…
—”এতোদিন তোমার কেউ ছিলো না ঠিকই কিন্তু এখন আছে। আমায় তুমি তোমার বড় আপা ভাবো না! আপন মনে করো না!”
—”করি তো। একমাত্র তোমাকেই এখন আমি আমার আপন কেউ বলে মনে করি আপা।”
—”তাহলে আর কিসের চিন্তা রইলো তোমার? আমি তোমার সব খরচ বহন করবো। পড়াশোনা করবে তুমি। অনেক পড়াশোনা করবে। অনেক অনেক বড় হবে। একদিন অনেক সম্মানের একটা চাকরি তুমি করবে। তখন তোমার অধিনে শুধু ১০০-২০০ না হাজার হাজার মানুষ কাজ করবে। কেউ সাহস করবে না তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে উঁচু গলায় কথা বলার। দূর্ব্য*বহার করা তো বহু দূরের বিষয়।”
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭
অনুর দু’চোখ ছলছল করে উঠলো। অনু বললো….
—”এভাবে হয় না আপা। আমার মতো গরীবের এতো বড় স্বপ্ন দেখা পাপ।”
ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকালো অনুর দিকে। অনু মাথা নুইয়ে নিলো।
