Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৫)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৫)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৫)
মাইশা জান্নাত নূরা

ঝোপঝাড় পেরিয়ে খানিকটা খোলা জায়গায় আসতেই তেজ ও নির্ঝরের চোখে পড়লো ওদের থেকে খানিকটা দূরে একটা পুরোনো কংক্রিটের বেন্ঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন গার্ডসের উপর। যাদের পরণে রয়েছে কালো ইউনিফর্ম, মুখটা কালো কাপড়ে ঢাকা। শুধু চোখ জোড়া খোলা হয়তো। কিন্তু তাও কালো সানগ্লাসের আড়ালে ঢাকা রয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই তারা নজর কোনদিকে স্থির করে রেখেছে। গার্ডস দু’জনের হাতেই রয়েছে বড় বড় দু’টো ব*ন্দু*ক।
তেজ হাত তুলে নির্ঝরকে থামিয়ে নিচু গলায় বললো…..

—“চুপ করে দাঁড়া। গার্ডস দু’জন কার আন্ডারে কাজ করে তা বোঝা দরকার। নড়িস না।”
নির্ঝর আশেপাশে নজর বুলিয়ে ফিসফিস করে বললো….
—“ভাই, এখানে তো আর কাউকে দেখছি না। আমরা এখানে দাঁড়ালে যদি ওরা আমাদের দেখে পরে সন্দেহের বশে গু*লি করে পেট কা*না করে দেয় তখন কা*না পেটে আমরা খাবার জমিয়ে রাখবো কিভাবে? গেলা মাত্রই তো ঐ ফুটো দিয়ে সব বেড়িয়ে যাবে।”
এইমূহূর্তে দাঁড়িয়ে নির্ঝরের মুখে এরূপ কথা শুনে তেজের ইচ্ছে করছে পাশেই থাকা বিশালাকার কৃত্রিম পুকুরটাতে ওকে ইচ্ছামতো চুবা*নি খাওয়াতে। নির্ঝর ইনোসেন্ট মুখশ্রী করে তাকিয়ে আছে গার্ডস দু’জনের দিকে। তখুনি গার্ডস দু’জনের নজরে পড়লো তেজ ও নির্ঝর। একজন গার্ডস তার হাতে থাকা অ*স্ত্রটা সামান্য উঁচু করে ওদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললেন….

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—“হেই! আপনারা দু’জন, হ্যাঁ আপনারাই। ওখানেই দাঁড়ান একটু।”
নির্ঝর ঢোক গি*লে বললো….
—”যে ভ*য় টা পাচ্ছিলাম সেটাই হলো। অনু তো এমনিতেই আমাকে মৃ*গী রোগী আর ভূ*তে ধরা ভেবেছিলো ১ম দেখাতেই। এর মাঝেই আবাট পেট ফুঁ*টো হওয়া অবস্থা দেখলে কি ভাববে! এ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁহ…!”
তেজ ভিতর ভিতর যথাযথ সাহস সন্ঞ্চার করে বললো….
—”হ্যা, বলুন।”
গার্ডটি পর্যাপ্ত দুরত্ব বজায় রেখে বললেন….

—”সকাল সকাল এখানে কি করছেন আপনারা?”
তেজ আর নির্ঝর একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো একবার। অতঃপর তেজ জোরপূর্বক হেসে বললো…
—”এই তো জগিং করছিলাম। আর কিছুই না। জগিং শেষ এখন বাসায় ফিরবো।”
গার্ডটি ভ্রু কুঁচকে বললেন….
—”নাম কি আপনাদের?”
—”আমার নাম তেজ, ওর নাম নির্ঝর।”
গার্ডটি অবাক স্বরে বললেন….
—”আপনারাই তেজ ও নির্ঝর? বসের ছোট দুই ভাই?”
তেজ বললো….

—”কোন বস? আপনি কি সারফারাজ ভাইয়ের কথা বলছেন?”
—”জ্বি জ্বি।”
—”হ্যা। আমরা ওনার ছোট ভাই। কেনো? কিছু হয়েছে কি?”
—”না, কিছু হয় নি। আপনারা এখানেই বসুন।”
—”বসবো কেনো? আমরা তো বাসায় যাবো বললাম।”
—”যাবেন তো অবশ্যই। বস স্বয়ং আপনাদের নিয়ে যাবে বাসায়। আমি বসকে ইনফর্ম করছি।”
এই বলে গার্ডটি অন্য গার্ডের কাছে গেলো। নির্ঝর বললো….
—”কাহিনী কি হইলো বুঝলাম না তেজ ভাই। সারফারাজ ভাই এইখানে আমাদের জন্য ২ জন গার্ডস মোতায়েন করছেন কেন?”

তখুনি তেজের স্মরণ হলো গতকাল রাতে যখন নির্ঝরের নেশায় যাচ্ছেতাই অবস্থা হয়েছিলো তখন সে নিজেই সারফারাজকে কল করে বলেছিলো এখানে এসে ওদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এরপর তো যা হওয়ার জঙ্গলের ভিতরেই হলো। সারারাত ওদের সেখানেই কেটেছে। তেজ বললো….
—”আজ আমাদের আর রক্ষে নেই রে নিজ্ঝরিয়া। সারফারাজ ভাই আজ নিশ্চিত আমাদের গাছের সাথে উল্টো ঝুলিয়ে উ*দুম কে*লান কে*লাবে।”
নির্ঝরের ভ*য়ের মাত্রা বেড়ে গেলো তেজের কথায়। নির্ঝর কাপা*ন্বিত কন্ঠে বললো….

—”মা-মানে? তুমি কি সারফারাজ ভাইকে বলে দিয়েছো গতকালকের ঘটনা?”
—”না, বলি নি। তবে লুকাবো কিভাবে? এক্ষুণি ভাইয়া চলে আসবেন তখন তো জিজ্ঞেস করবেন সারারাত আমরা কোথায় ছিলাম! তখন তো বলতে হবে কিছু একটা। আর সেটা যুক্তিযুক্তও হতে হবে। জানিস-ই তো ভাইয়া কতোটা চতুর আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন।”
নির্ঝর দু’হাতে ওর মাথার চুলগুলো খা*মচে ধরে ঠোঁট উল্টে বললো…..
—”তেজ ভাই, ভাবো। কিছু একটা ভাবো। একটু আগে আল্লাহর রহমতে বা*ঘ-সিং*হের ক*বল থেকে বেঁচে ফিরেছি কিন্তু এইবার বড় ভাইয়ার হাত থেকে তোমাকেই বাঁচাতে হবে আমাকে সাথে নিজেকেও।”
তেজ ভাবছে কি করবে, কি বলবে সারফারাজের মুখোমুখি হওয়ার পর। তেজের চোখে-মুখেও ভিতীর ছাপ ফুটে আছে স্পষ্ট।

তেজ ও নির্ঝরের সাথে কথা বলা গার্ডটি অন্যজন গার্ডের কাছে যাওয়ার পর পরই সারফারাজকে কল করে তেজ ও নির্ঝরের এখানে থাকার বিষয়ে ইনফর্ম করেছে। কিয়ৎক্ষণ কর তেজ ও নির্ঝর একেবারে গা ঘেঁষা অবস্থায় এসে সারফারাজের ব্লাক বিএমডব্লিউ গাড়িটা থামলো। আকস্মিক ভাবে গাড়িটা সামনে পড়ায় তেজ ও নির্ঝর কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরমুহূর্তেই গাড়িটা যে সারফারাজের তা চিনতে পেরে স্বস্তি পেয়েও পেলো না যেনো। সারফারাজ দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে তেজ ও নির্ঝরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে ওদের দিকে একপলক তাকালো। একেবারে অক্ষত অবস্থায় আদরের দুই ভাইকে সামনে পেয়ে সারফারাজের প্রাণটা যেনো ফিরে এলো ওর মাঝে। সঙ্গে সঙ্গে সারফারাজ তেজ ও নির্ঝরকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো।
সারফারাজের এমন কাজে নির্ঝর আর তেজের ভয় কেটে গেলো অনেকটা৷ দু’জনেই অবাক হয়েছে যথেষ্ট। কিয়ৎক্ষণ পর সারফারাজ নিজের বুক থেকে ওদের ছাড়িয়ে হাসিমুখে বললো….

—”তোরা অ*ক্ষত আছিস! ঠিক আছিস! আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।”
তখুনি সারফারাজের ফোনটা বেজে উঠলে সারফারাজ ওর পাজামার পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই আইজিপির নাম্বার থেকে কল এসেছে দেখে বললো….
—”তোরা দাঁড়া, আমি কথা শেষ করে আসতেছি।”
এই বলে সারফারাজ ওদের থেকে খানিকটা দূরে চলে গিয়ে কল রিসিভ করলো। আহাদও দাঁড়িয়ে আছে তেজ ও নির্ঝরের কাছাকাছিই। তেজ আহাদের কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”আব আহাদ ভাই, সারফারাজ ভাইয়ের কি কিছু হয়েছে?”
আহাদ ভ্রু কুঁচকে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো….

—”বসের কিছু হয় নি, কিন্তু হওয়ার কথা তো ছিলো আপনাদের। কারণ আপনারা কি*ড*ন্যাপ হয়েছেন ভেবে বস গতকাল সারারাত ঘুমান নি। প্রয়োজনের অধিক চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটা গাড়ি ত*ল্লাশি করেছেন পুলিশের দ্বারা। কতোজন স*ন্দেহ বাদীকে ধরে যে জে*লে পু*ড়েছেন চট করেই তার হিসাব দেওয়া মুশ*কিল। বলা চলে পুরো ঢাকা শহর উলোট-পালোট করে ফেলেছিলেন আপনাদের খুঁজে বের করার জন্য।”
আহাদের মুখে এরূপ কথা শোনা মাত্র তেজের চোখজোরার আকৃতি এতোটাই বড় আকার ধারণ করলো যেনো তা কোটর থেকেই বেরিয়ে আসবে এইমূহূর্তে। ওদের পিছনেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নির্ঝর ওর বা হাতের নখ কাঁ*মড়াচ্ছিলো। স্পষ্ট ভাবে তেজ ও আহাদের কথপোকথন নির্ঝর শুনতে পারছিলো না। তেজ বললো…..

—”হোয়াট? একরাতের ভিতর ভাইয়া আমাদের খুঁজতে গিয়ে এতোকিছু করে ফেলেছে!”
আহাদ সংক্ষিপ্ত ভাবে ‘জ্বি’ বললো। সারফারাজ কথা শেষ করে পুনরায় ওদের কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”গার্ডসরা বললো তোরা নাকি এখানে পায়চারি করতে এসেছিলি! বিষয়টা বুঝে আসলো না আমার। গতকাল রাতে আমায় কল করার পর কোথায় ছিলি সারারাত তোরা?”
নির্ঝর তেজের পাশে এসে দাঁড়ালো। তেজ একটু ঘাড় এপাশ ওপাশ নাড়িয়ে বললো….
—”তখন তো গার্ডসদের চিনতাম না তাই মি*থ্যে বলেছিলাম ভাইয়া। আমরা তো আসলে পায়চারি করতে আসি নি এখানে।”

সারফারাজ ওর ভ্রু যুগল কিন্ঞ্চিত কুঁচকে নিয়ে বললো…..
—”কোথায় ছিলি তোরা গতকাল সারারাত?”
নির্ঝর আর তেজ একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো আবারও। নির্ঝর ইশারায় বুঝালো ‘এবারের মতো যেনো সে বাঁচিয়ে নেয়।’ তেজ জিহ্বার অগ্রাংশ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। ওর কন্ঠনালী শুকিয়ে এসেছে প্রায়। মনে মনে বললো……

—”আর যাই হোক হাক্কু দিতে গিয়ে যে আমি ইঁদুরের কাঁ*মড় খেয়ে সেন্স লেস হইছিলাম এটা আমি মইরা গেলেও স্বীকার যাবো না। আই লাভ মাই ইজ্জত।”
সারফারাজ ওদের দু’জনকেই নিরব থাকতে দেখে বললো…..
—”কি রে কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি!”
তেজের ঘোর কাটলে সে জোর পূর্বক হেসে বললো…
—”আসলে ভাই হয়েছে কি, গতকাল রাতে তোমাকে কল করার পর পশ্চিম সাইডের জঙ্গলের ভিতর থেকে আমরা একটা আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম।”

—”কিসের আওয়াজ?”
নির্ঝর মনে মনে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ জপ করছে। তেজ বললো….
—”মনে হচ্ছিলো কেউ আমাদের থেকে সাহায্য চাইছিলো। বলছিলো, ‘বাঁচাও, বাঁচাও, কে আছো বাঁচাও।”
সারফারাজ ওর পান্ঞ্জাবির হাতা জোড়া ফোল্ড করতে শুরু করলো। নির্ঝর আর তেজের চোখ সেদিকে পড়লো। দু’জনেই একসাথে শুকনো ঢোক গিললো। সারফারাজ বললো….
—”হুম তারপর?”
তেজ বললো….
—”তারপর! তারপর!”
সারফারাজ নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”তারপরে কি হয়েছিলো সেটা তুই বল নির্ঝর।”
তেজ দ্রুত স্বরে বললো…..

—”আমি বলছি তো ভাইয়া!”
—”উহুহ, পরে কি হয়েছিলো সেটা আমি নির্ঝরের মুখ থেকে শুনবো।”
নির্ঝরের অবস্থা যেনো এমন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। নির্ঝর বললো…..
—”তারপর আমরা জঙ্গলের ভিতরে যাবো বলে ঠিক করলাম।”
তেজ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। সারফারাজ বললো….
—”জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে কি দেখলি তোরা? কে সাহায্য চাইছিলো তোদের থেকে?”
নির্ঝর বললো….

—”কেউ না। কেউ ছিলো না জঙ্গলের ভিতরে। আ-আমার তো মনে হয়েছিলো কোনো জ্বিন-টিন হবে হয়তো। এসব ঘন জঙ্গলে তেনাদের এমন আওয়াজ দিয়ে মানুষদের ভ*ড়*কানোর স্বভাব কিনা!”
সারফারাজ আহাদকে উদ্দেশ্য করে বললো….
—”আহাদ, আমার হাতিয়ারটা দাও তো।”
নির্ঝর আর তেজ একসাথে বললো….

—”হা-হাতিয়ার! হাতিয়ার কি করবে তুমি ভাই?”
আহাদ গাড়ির পিছন সাইড খুলে একটা বেতের তৈরি পাতলা লা*ঠি বের করে এনে সারফারাজকে দিলো। তেজ আর নির্ঝর হা হয়ে লাঠিটার দিকে তাকিয়ে আছে। দু’জনেই হয়তো ভাবছে এই লাঠি আজ নিশ্চিত ওদের শরীরের উপরেই ভাং*বে সারফারাজ। সারফারাজ বললো…..
—”গার্ডসদের বলো এই সাইডটাতে যেনো আগামী ৩০ মিনিট কেউ না আসে।”
আহাদ সেই অনুযায়ী কাজ করতে গেলো। তেজ আর নির্ঝর একসাথে বললো….

—”ভাই ভাই, এবারের মতো মাফ করে দাও আমাদের। আর কোনোদিন এমন হবে না। সত্যি বলছি।”
সারফারাজ ওর হাতে থাকা বেতের লাঠিটা দিয়ে তেজ আর নির্ঝরের পশ্চাৎদেশে মা*রতে শুরু করলো। যথেষ্ট জোড়েই পড়ছে প্রতিটা মা*র। সারফারাজ তেজের হাত ধরে আছে আর তেজ নির্ঝরের। একবার তেজের পশ্চাৎদেশে মা*র পড়ছে তো আরেকবার নির্ঝরের। দু’জনেই চিৎকার করছে। নির্ঝর বললো….
—”তেজ ভাই আমার হাত ছাড়ো। আআআ, ও মা গো।”
তেজ বললো….

—”সারফারাজ ভাই আমার হাত ধরে আছে। আমি একা কেনো মা*র খাবো। তোর হাত আমি ছাড়বো না ভাই মা*রা না থামানো পর্যন্ত। উরিম্মাআআআ, আআআআ, গেলো রে গেলো আমার পুকি পশ্চাৎদেশ গেলো।”
সারফারাজ মার*তে মা*রতেই দাঁতে দাঁত চেপে বললো….
—”হা*রাম*জা** দল! সারারাত ধরে পুরো ঢাকায় একপ্রকার চিরুনি ত*ল্লাশি চালিয়েছিলাম, সব পুলিশের ঘুম কেঁ*ড়ে নিয়েছিলাম, এতো হয়*রানি হয়েছিলাম এখন তোদের এইসব বানোয়াট কাহিনী শোনার জন্য?”
তেজ বললো….
—”আর মে*রো না ভাইয়া। কথা দিচ্ছি একদম কারাক সত্যি কথাটাই বলবো এখন তোমায়। আমরা বুঝি নি তোমায় আমাদের জন্য এতোটা হয়*রানি হতে হয়েছিলো।”
নির্ঝর বললো….

—”হ্যা হ্যা, বড় ভাইয়া এবারের মতো মাফ করে দাও তুমি আমাদের। সব সত্যি সত্যি বলে দিবে তেজ ভাই তোমায়।”
সারফারাজ থামলো। নির্ঝর আর তেজ দু’হাটু ভাঁজ করে ধর করে বসলো মাটির উপর। তবে পশ্চাৎদেশ পাততে পারলো না। দু’হাতে নিজ নিজ পশ্চাৎদেশ চেপে ধরে মুখ দিয়ে ব্য*থায় ‘আহহ আহহ’ করতে লাগলো কেবল। সারফারাজ অন্যপাশ হয়ে লাঠিটা হাত থেকে ফেলে দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করলো। কিয়ৎক্ষণ পর সারফারাজ তেজ আর নির্ঝরের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো….
—”বল সব সত্য।”
তেজ মাথা নত অবস্থাতেই বললো….
—”গতকাল রাতে আমি নির্ঝরকে হুইস্কি মেশানো জুস খাইয়ে দিয়েছিলাম। যার ফলে ওকে একা সামলে নিয়ে বাইকে করে বাংলো বাড়ি যাওয়া পসিবল ছিলো না আমার জন্য তাই তোমায় কল করে বলেছিলাম এসে আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য।”
সারফারাজ এবার ওর পা থেকে জুতো খুলে তেজ আর নির্ঝরের দিকে তাঁক করে বললো….

—”ইচ্ছে করছে এবার এই জু*তো দিয়ে তোদের পে*টাই।”
তেজ আর নির্ঝর পিছনের দিকে কিছুটা হেলে গিয়েছে হাতজোড়া মুখের সামনে এগিয়ে ধরে। পরক্ষণেই সারফারাজ জুতোটাও নিজের পায়ের কাছে ফেলে বললো….
—”নির্ঝরকে হুইস্কি মেশানো জুস কেনো খাইয়েছিলি তুই সেটা পরে শুনবো এখন বল আমাকে আসতে বলে তোরা দু’টোতে এখান থেকে উধাও হলি কেনো? আর গেছিলিই বা কোথায়? যেখানে তোদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না, ট্রাক করা যাচ্ছিলো না!”
তেজ মিনমিন করে বললো….
—”তোমার সাথে কথা শেষ হওয়ার পর পরই আমার খুব জোর হা*গু পেয়েছিলো।”
সারফারাজ স্পষ্ট শুনতে না পেয়ে ধ*ম*কে বললো….
—”জোড়ে বল।”
তেজ এবার গলা খাঁ*ক*ড়ি দিয়ে খনিকটা জোড়েই বললো….

—”আমার খুব হা*গু পেয়েছিলো ভাই। নির্ঝরের তো বেসামাল অবস্থা ছিলো। ওকে এখানে রেখে যদি কাজ সারতে যেতাম তারপর যদি ও কোথাও চলে যেতো তখন কোথায় না কোথায় খুঁজতাম তাই ওকে সাথে নিয়েই জঙ্গলের পশ্চিম পার্শে গিয়েছিলাম। নির্ঝরকে একটা গাছের সাথে বসিয়ে দিয়ে আমি ঝোপের আড়ালে গিয়ে বসেছিলাম। আশেপাশে কোনো ওয়াশরুমও ছিলো না আর না ছিলো পানির ব্যবস্থা। পুকুরের পানি তো ব্যবহার করা নিষেধ এসব কাজের পর। তাই কাজ সারার পর সিদ্ধান্ত নিলাম পাতা দিয়েই পশ্চাৎদেশ পরিষ্কার করবো। পুরোনো দিনের মানুষদের মতো। এরপর পরিষ্কার করা হতে না হতেই আমার ঐখানে একটা ইঁদুর কাঁ*মড়ে দিয়েছিলো। যা আমি সা*প কাঁ*ম*ড়েছে ভেবে পে*নি*কে পরে সেখানেই সেন্স লেস হয়ে গিয়েছিলাম।

তারপর আর কিছু মনে নাই।”
তেজের মুখে এরূপ কথা শুনে নির্ঝরের পেট ফাঁটছে হাসার জন্য কিন্তু এই মূহুর্তে হাসার মতো বড় ভু*লটা করে বসলে সারফারাজ আবারও জু*তাটা উঠাবে আর সেটা সোজা ওর গালেই পড়বে যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই নির্ঝরের। বহুত কষ্টে নির্ঝর ওর হাসি কন্ট্রোল করছে। সারফারাজ ভাবছে, ‘এদের জন্য সে পুরো একটা রাত ন*ষ্ট করলো। নিজের বউয়ের কাছে গেলো না। এদের মতো অ*প*দার্থ দু’টোকে যে কেউ কি*ড*ন্যাপ করে নিজেদের সময় নষ্ট করতে পারে এটা ভাবাই তো সবথেকে বড় বো*কা*মী ছিলো ওর জন্য।’
সারফারাজ আর কিছু বললো না। চুপচাপ গিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো। তেজের ইচ্ছে করছে এখানেই মাটি খুঁ*ড়ে নিজেকে তার নিচে চাপা দিয়ে দিতে। বড় ছোট দুই ভাইয়ের সামনেই ওর ইজ্জতের চাটনি হয়েই গেলো শেষ মেষ। নির্ঝর ঠোঁট চেপে বললো….

—”সেন্স লেস হয়েছিলে তো বুঝলাম কিন্তু ভাই, তোমার নাকে কি গু এর গন্ধ যায় নি? গু তেও কি সেন্ট স্প্রে করা ছিলো? নয়তো এই গন্ধেও তো সেন্স ফেরার কথা ছিলো তোমার।”
তেজ নির্ঝরকে কাঁচাই চি*বি*য়ে খেয়ে ফেলার মতো দৃষ্টিতে তাকালে নির্ঝর ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে একহাতে মুখ আর অন্যহাতে পেট চেপে ধরে হাসতে শুরু করলো। নির্ঝরের এই হাসি তেজের শরীরে আরো জ্বা*লা ধ*রাচ্ছে। তখুনি সারফারাজ গাড়ির হর্ণ বাজালো।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৪)

আহাদ গাড়িতে এসে বসলো। তেজ আর নির্ঝর একসাথে গাড়ির পিছন সিটে বসে পড়লো ভদ্র ছেলের মতো। সারফারাজ গাড়ি স্টার্ট করলো। তবে বসতে খুব কষ্ট হচ্ছে ওদের দু’জনেরই। বারবার কোনাকানি হচ্ছে। স্থির হয়ে বসতে পারছে না কিছুতেই। তবুও মুখ ফুটে টু শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না ওরা। কারণ সারফারাজ পুরো রে*গে বো*ম হয়ে আছে।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮