তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৪
নওরিন মুনতাহা হিয়া
_ প্রায় তিরিশ মিনিট পর ক্লাস শেষ হয় সকল ছাএ ছাএী বইপত্র গুছিয়ে রাখে ব্যাগে। ক্লাস দেরি করে শুরু হওয়ার কারণে শেষ হতে টিফিন টাইম হয়ে গেছে। টিফিনের ঘন্টা বারি দেওয়ার শব্দ শুনে আদ্রিয়ান সকল শিক্ষার্থীদের অনুসরণ করে বলে উঠে
“তোমরা সকলে টিফিন খেতে কেন্টিনে যাও। আমি বই পএ গুছিয়ে পরে বের হব।”
সকল শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যায় টিফিন খেতে এখন শুধু মেঘ উপস্থিত আছে৷ বোর্ডের চিএ অঙ্কন শেষ করতে মেঘের একটু লেইট হয়ে যায়। মেঘ তার বই পএ ব্যাগে গুছিয়ে রাখে সে ও টিফিন খেতে বাহিরে যাবে। আর অন্যদিকে আদ্রিয়ান বোর্ডে থাকা লেখা মুছার জন্য একটা মুছনি দিয়ে তা পরিস্কার করছিল। ব্যাগ তখন টিফিন খাওয়ার জন্য বাহিরে যাচ্ছিল আদ্রিয়ানকে বোর্ড পরিস্কার করতে দেখে মেঘ এগিয়ে গিয়ে বলে
“আদ্রিয়ার স্যার ‚ মুছনি আমাকে দেন। আমি পরিস্কার করে দিচ্ছি।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আদ্রিয়ান মেঘের কথা শুনে তার সাথে থাকা মুছনি মেঘের দিকে বাড়িয়ে দেয়। মেঘ এগিয়ে গিয়ে তার থেকে মুছনি নিয়ে বোর্ড পরিস্কার করতে থাকে। আদ্রিয়ান তাকিয়ে দেখছে মেঘকে আর মিটমিট করে হাসছে। পরিস্কার করা শেষ হলে ‚ হাতের নোংরা মুছনি টেবিলের উপর রেখে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে মেঘ প্রশ্ন করে
“আপনি তখন ক্লাসে তিহান আর আমাকে বকা দিলেন কেন? আমরা সত্যি কোন কথা বলিনি? তবুও এমন করে পুরো ক্লাসের সামনে অপমান করলেন কেন?”
আদ্রিয়ান জানত মেঘ এই প্রশ্ন তাকে অবশ্যই করবে!সে খুব সাধারণ ভাবে বলে উঠে
“তুমি আর তিহান ক্লাসে কথা বলছিলে তাই বকা দিয়েছি!”
“তিহান আর আমি মুখ দিয়ে একটা শব্দ ও উচ্চারণ করিনি।”
“কিন্তু চোখে চোখে তো কথা বলছিলে।”
“কি চোখে চোখে কথা বলছিলাম মানে? এখন কি আপনার ক্লাসে চোখ দিয়ে কাউকে ইশারা অবধি করা যাবে না!”
মেঘের প্রশ্ন শুনে আদ্রিয়ান তার কপাল আঙুল দিয়ে টোকা দেয় আর তারপর মুখে সয়তানি হাসি দিয়ে বলে
“না‚যাবে না। কারণ আমার ক্লাসের রুলস এইটা। কথা বলা তো দূরের বিষয় চোখে চোখে ইশারা অবধি দেওয়া যাবে না।”
আদ্রিয়ান কথাটা বলে হাসি মুখে সেখান থেকে চলে যায়‚মেঘ অবাক হয়ে পিছন থেকে বলে উঠে
“হোয়াট?এইটা কেমন অদ্ভুত নিয়ম?”
মেঘের কথার উত্তরে আদ্রিয়ান আর কোন কথা বলল না সে বড় বড় পা ফেলে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে যায়। মেঘের মনে মনে শত খানিক গালি দেয় আদ্রিয়ানকে ‚ কিন্তু সম্পর্কে শিক্ষক হওয়ায় বেশি গালি দিতে পারে না। এরপর মেঘ টিফিন করার উদ্দেশ্য কেন্টিনে চলে যায় সেখানে নূহা বসে ছিল।
কেন্টিনের টেবিলের উপর কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাগ রেখে চেয়ার টান দিয়ে বসে পড়ে মেঘ। এরপর নূহা আর মেঘ একসাথে খাবার অর্ডার করে তারা দুইজনে বসে গল্প করতে থাকে।
দুপুর ২: ০০ কলেজ গাউনে মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে কলম হাতে নিয়ে কপাল উঁচু করে ছাএ ছাএীদের সাথে কথা বলছিল আদ্রিয়ান। আজ টির্চার মিটিং করা হয়েছিল মূলত নবীন বরণ অনুষ্ঠানের জন্য। পরশু দিন কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান হবে । অনুষ্ঠানের প্রায় বেশিরভাগ দায়িত্ব এসে পড়েছে আদ্রিয়ানের উপর। কারণ কাল বড়দিন আর এই কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক খ্রিষ্টান। বছরের একদিন তারা পরিবার আত্মীয় স্বজন নিয়ে কাটাতে চাই।
কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান আরো কয়েকদিন পরে হওয়ার কথা ছিল। বড়দিন শেষ হলে কিন্তু অনুষ্ঠানের যে প্রধান অতিথি ওনি জরুরি প্রয়োজনে কয়েক মাসের জন্য বিদেশে চলে যাবে। যদি এখন অনুষ্ঠান না করা হয় তবে ওনি আর আসতে পারবেন না। যার জন্য বাধ্য হয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠান ২৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে। আর সকল দায়িত্ব আদ্রিয়ানের উপর এসেছে। কারণ সকল টির্চার কাল ছুটিতে থাকবে। আর পরশুদিন নবীন বরণ। আর এতো বড়ো অনুষ্ঠান একা হাতে সামলান সহজ বিষয় না ‚ তাই আদ্রিয়ানের কলেজের জুনিয়র আর সিনিয়র সকল শিক্ষার্থীর সাথে মিলে আলোচনা করছিল।
কেন্টিনে বসে গল্প করার মাঝে নূহার চোখ যায় আদ্রিয়ানের উপর। আদ্রিয়ান যখন কথা বলছিল তখন সব ছাএরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল ‚ কিন্তু সব ছাএীরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ছিল শুধু আদ্রিয়ানের দিকে। নূহা মেঘকে ইশারা দেয় গাউনের দিকে এরপর বলে
“মেঘ‚দেখ আদ্রিয়ান স্যার কলেজের মাঠে বসে সবার সাথে কি যেন আলোচনা করছে? আর সকল ন্যাকা মেয়েরা দেখ কেমন করে তাকিয়ে রয়েছে স্যারের দিকে। যেন চোখ দিয়ে গিলে খাবে।”
নূহার ইশারা শুনে মেঘ তাকায় কলেজর মাঠের দিকে আদ্রিয়ানের পড়নে নেভেল্লু কার্লারে শার্ট আর সাদা রঙের প্যান্ট। সকল ছাএ ছাএী ভিড়ে আদ্রিয়ানের সুর্দশন চেহারা আর গম্ভীর মুখ নজর কাঁড়ার মতো। মেঘ আদ্রিয়ানের সমস্ত মুখ মণ্ডল তার চোখের মাপকাঠি দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরিমাণ করে। এই সুর্দশন ‚আর মায়াময় চেহারার অধিকারী পুরুষটা তার স্বামী কথাটা ভেবে মেঘের হাসি পায়। আবার পরক্ষণে অতীতের ঘটনা মনে পড়ে তার মন বিষিয়ে যায়।
নূহা দেখল মেঘ এক দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানকে দেখছে নূহা বলল
“আদ্রিয়ান স্যার সত্যি অনেক সুর্দশন তাই না মেঘ?”
নূহার কথা শুনে মেঘ বলে
”হুম”
মেঘের “হুম” শব্দটা শুনে নূহা সন্তুষ্ট হয় না বরং ভ্রু কুঁচকে বলে
“শুধু হুম। দেখ আদ্রিয়ান স্যারের দিকে কলেজের সব মেয়েরা কেমন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে৷”
নূহার মুখে মেয়েরা শব্দটা শুনে মেঘের চোখ যায় আদ্রিয়ানের আশেপাশে দলবদ্ধ হয়ে থাকা ছাএীদের দিকে। নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কথা এখন ও অবধি মেঘ জানে না। আদ্রিয়ানের আশেপাশে মেয়ে ছাএীর সংখ্যা বেশি কারণ সাধারণ সাজসজ্জা আর অনুষ্ঠানের বিষয়ে পুরুষের চেয়ে নারীদের ধারণা বেশি থাকে। ছাএীরা ইচ্ছা করে আদ্রিয়ানকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছে যার মূল কারণ এটেনশন পেতে চাই। এরপর পরিকল্পনা দিচ্ছে। আদ্রিয়ান বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছে সকলের কথা। যা মেঘের নজর এড়ায় না।
ক্লাসে যখন মেঘ চোখে চোখে কথা বলছিল তখন তাকে দাঁড় করিয়ে সকলের সামনে অপমান করেছে আদ্রিয়ান। আর এখন ছাএীদের সাথে কি সুন্দর করে মিষ্টি ভাষায় কথা বলছে! সব দোষ কি ওনি শুধু মেঘের একা দেখতে পান? ওই সুন্দরী ছাএীদের দেখতে পান না!মেঘ রাগে দাত কটমট করে বলে
“নূহা‚তুমি শুধু সব দোষ ছাএীদের উপর কোন দিচ্ছ। আদ্রিয়ান স্যারকে দেখ ওনি কতো হেঁসে হেঁসে তাদের সাথে কথা বলছে। এক হাতে কখন তালি বাজে না!”
মেঘের কণ্ঠ আর কথাবার্তা কেমন জানি হিংসা পরায়ণ মনে হল নূহার কাছে। আদ্রিয়ান মেঘের শিক্ষক নয় বরং তার স্বামী। নূহা অবাক আর সন্দেহ পূবর্ক কণ্ঠ নিয়ে বলে
“মেঘ ‚ আদ্রিয়ান স্যার অন্য মেয়ের সাথে কথা বলায় তুমি কেন রাগ করছ? সত্যি করে বল মেঘ! তুমি কি আদ্রিয়ান স্যারকে ভালোবাসে? তোমরা কি রিলেশনে আছো?
নূহার প্রশ্ন শুনে মেঘ থতমত খেয়ে যায় সত্যি আদ্রিয়ান যদি অন্য মেয়ের সাথে কথা বলে তবে তার কি? মেঘ বলে
“নূহা ‚ কি বলছ এইসব?আমি কেন আদ্রিয়ান স্যারকে ভালোবাসতে যাব? আর ওনার সাথে আমার কোন প্রেমের সম্পর্ক নাই।”
নূহা আর মেঘের কথা বলার মাঝে অর্ডার করা খাবার চলে আসে। তারা দুইজনে কথা বলা বন্ধ করে খাবার খেতে শুরু করে। মেঘ খাবার মুখ দেয় আর আড়চোখে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে। আদ্রিয়ান আলোচনা মধ্যে হঠাৎ করে পাশে ঘুরে তাকায় তার চোখ পড়ে যায় মেঘের উপর। মেঘ যে দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছিল তা নজর এড়ায়নি আদ্রিয়ানের। মেঘের চোখে মুখে এমন রাগ ফুটে উঠছে কেনো? ওয়েট? মেঘ কি জেলাস ফিল করছে? তাকে অন্য মেয়েদের সাথে দেখে? আদ্রিয়ানের কথাটা ভেবে মুখে হাসি ফুটে উঠে। মেঘ তীর্যক চোখ নিয়ে আদ্রিয়ান আর তার আশেপাশে থাকা মেয়েদের দেখতে থাকে।
আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটি শহরে এখন প্রবল শত্যপ্রবাহ আর শীতের আগমন ঘটেছে। আকাশ থেকে বর্ষণের ন্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি সাদা তুলের বরফ খণ্ড গড়িয়ে পড়ছে। সরু রাস্তার চারপাশে বরফ খণ্ডের উঁচু স্তুপ জমে পড়েছে। শীতের তীব্র থেকে রক্ষা পেতে সকলে উষ্ণ জামাকাপড় পরিধান করেছে। বড়দিন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির জনগণ তাদের বাড়িতে রঙিন মরিচা বাতি জ্বালিয়ে রাখছে। সারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মেলা সহ বিভিন্ন বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। আজ যেন এই নিউইয়র্ক শহরের মানুষজন খুশির উল্লাসে মেতে উঠেছে। প্রচণ্ড শীতের মাঝে বড়দিনকে ঘিরে তাদের মধ্যে আনন্দ আর খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
বরফ তুষার খণ্ড মাঝে সরু রাস্তা দিয়ে আপন গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছে গাড়ি। ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি ড্রাইভ করছে আদ্রিয়ান। তার অপর পাশে সিটে মুখ ভার করে বসে আছে মেঘ। গাড়ির মধ্যে মুখ ভার করে বসে আছে পাশে থাকা আদ্রিয়ানের একবার ফিরে তাকিয়ে অবধি দেখছে না। সকালে সম্পূর্ণ ক্লাসের সামনে করা অপমান সে ভুলে যায়নি। ক্লাস শেষে ভদ্রতার খাতিরে তখন কোন কথা বলেনি! মেঘ ক্লাসে তিহানের সাথে একটু কথা বসছে বলে কি অপমান করল মেঘকে! ক্লাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি অবধি দিল। কিন্তু প্রথম সারিতে বসে থাকা ন্যাকা মেয়েগুলো যে কতো কথা বলছিল তা একবার ও দেখল না। তাদের বকা দিল না ‚দাড়ঁ করাল না। অবশ্য দাঁড় করাবে কেনো? তারা প্রিয় ছাএী হয় না আদ্রিয়ানের!
দুপুরে কলেজ গাউনে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কতো ভালোবাসে আর হেঁসে হেঁসে কথা বলছিল তাদের সঙ্গে। যেনো ছাএী না ওরা তার প্রেমিকা। অথচ মেঘের সাথে কথা বলার সময় মুখ গম্ভীর আর রাগী চেহারা নিয়ে থাকে সবসময়। মেঘের সকল দোষ সবার প্রথম চোখে পড়ে আদ্রিয়ানের। আর ওনার সুন্দর ছাএীরা কোন দোষ করতে পারে না। ঠিক আছে মেঘ যখন এতো খারাপ তবে তার সাথে কথা বলার প্রয়োজন নাই! মেঘের কি ঠেকা পড়ছে ওনার সাথে কথা বলার সয়তান ‚ বদজাত ‚ রাগী লোক একটা।
মেঘের ভার করে রাখা মুখ ‚অভিমানে ফুলে থাকা গাল আর বিরবির করে উচ্চারণিত করা শব্দ সব আড়চোখে পর্যবেক্ষণ করছে আদ্রিয়ান। বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে রাখা মেঘকে দেখতে ভীষণ কিউট আর মিষ্টি লাগছে। আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে। নিশ্চয়ই ক্লাসে অপমান করার ঘটনার কারণে তার উপর রাগ করে বসে আছে।
আদ্রিয়ান ইচ্ছা করে মেঘকে বকা দিতে বা অপমান করতে চাইনি। কিন্তু সে কি করবে! মেঘ আর তিহানকে একসাথে দেখার পর তার রাগ আর হিংসা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি! মেঘ কি বুঝে না আদ্রিয়ান তার প্রতি দ দুর্বল ‚ হয়ত তার মনে থাকা মেঘের প্রতি অনুভূতি গুলো ধীরে ধীরো ভালোবাসায় পরিণত হচ্ছে! আর মেঘকে ভালোবাসা অন্যায় বা অপরাধ নয় ‚ কারণ মেঘ তার স্ত্রী! মেঘকে তিহানের সাথে কোন অন্য কোন পুরুষের সাথে দেখা তার দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ মেঘ আদ্রিয়ানের! মেঘের প্রতি বৈধতা তাকে ছোঁয়ার অধিকার শুধুমাএ আদ্রিয়ানের আছে।
কলেজ গাউনে যখন আদ্রিয়ান অন্য মেয়ের সাথে কথা বলছিল তখন মেঘের রাগ হয়েছিল। কারণ মেঘ আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে! হয়ত মেঘ ক্ষণিক সময়ের জন্য আদ্রিয়ানের উপর রাগ করেছে ‚ অভিমান করেছে। অবশ্যই মেঘের রাগ করা স্বাভাবিক! কিন্তু মেঘের মন থেকে তার প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। মেঘ আজ ও আদ্রিয়ননকে ভালোবাসে!
হঠাৎ আদ্রিয়ানের মাথায় এক দুষ্ট বুদ্ধি আসে সে মেঘের রাগকে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বলে উঠে
“মেঘ ‚ ক্লাসে প্রথম সারিতে আজ যে সুন্দরী এক মেয়ে বসেছিল! তার নাম কি? তুমি কি জানো?”
মেঘ জানালা দিয়ে বাহিরে তুষারপাত দেখছিল হঠাৎ করে আদ্রিয়ানের বলা কথাটা। মেঘের কানে পৌঁছায় সে সঙ্গে সঙ্গে পাশ ফিরে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। মেঘ বলে
“কি বললেন আপনি? আবার বলুন তো?
আদ্রিয়ান আবার বলল
“আমি বললাম। ক্লাসের প্রথম সারিতে আজ একটা সুন্দরী মেয়ে বসেছিল। ওই নীল টপস ‚ আর সাদা রঙের ড্রেস পড়ে। তুমি কি তার নাম যানো মেঘ?
আদ্রিয়ানের প্রশ্ন শুনে মেঘ দাঁত কটমট করে তাকায় আর বলে
”না ‚ জানি না। ক্লাসের সব সুন্দরী মেয়ের বিষয়ে জানার আগ্রহ নাই আমার।”
আদ্রিয়ান হতাশ হয়ে যাওয়া মুখ নিয়ে বলে
“ওহ্ জানো না। তবে মেয়েটা কিন্তু বিউটিফুল ছিল তাই না মেঘ! আদ্রিয়ান মেঘের কানের কাছে গিয়ে বলে “ আর হট। ”
ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়েকে বলছে বিউটিফুল?কতো বড়ো সাহস? মেঘ বলে
“আপনি ওই বিউটিফুল মেয়ের কথা কোন জিজ্ঞেস করছেন হঠাৎ? আর ওর নাম জেনে কি করবেন আপনি?
“সত্যি বলতে ওই মেয়েকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ওর সাথে প্রেম করতে চাই আমি?”
মেঘের রাগের আগুন ঘি ঢালার জন্য আদ্রিয়ানের এই কথায় যথেষ্ট ছিল। বিবাহিত পুরুষ হয়ে ওনি অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করবে! অথচ ওইদিন জিয়াকে বলছিল ওনি না কি পরকীয়া করবেন না। মেঘ বলে
“প্রেম করবেন আপনি? তবে জিয়ার ম্যামের সাথে করুন ওনি তো কতো সুন্দরী। তাছাড়া আপনি না বিবাহিত? বাংলাদেশে না আপনার বউ আছে?
“হুম‚ অবশ্য তা ঠিক জিয়া সুন্দরী আছে। বাংলাদেশ আমার বউ আছে কিন্তু তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিব?
“কেন ডিভোর্স দিবেন তাকে?”
“আসলে কি জানো বাংলাদেশে থাকা আমার বউ অনেক কালো আলকাতরার মতো৷ আর হাতির মতো মোটা! এমন বউয়ের সাথে কি সংসার করা যায়?”
“কি বললেন আমি আলকাতরার ড্রাম ? হাতির মতো মোটা?
আদ্রিয়ান হাসি লুকিয়ে মেঘের দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে বলে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৩
“মেঘ আমি তোমাকে কালো বা মোটা বলিনি? আমি আমার বউকে বলেছি। তুমি কেন রাগ করছ? তুমি কি আমার বউ মেঘ? তুমি কতো সুন্দরী আর আমার বউ শেউরা গাছের পেত্নী।”
গল্পটা ভালো হয়নি। খুব বড়ো আর সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে কাল সারপ্রাইজ পর্ব আছে অপেক্ষা করুন।
