Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৫)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৫)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৫)
মাইশা জান্নাত নূরা

কিয়ৎক্ষণ আগেই ডাক্তার বাংলো বাড়িতে এসেছেন। অনু তখনও অচেতন। বিছানার একপাশে অনুর মাথার কাছে চেয়ার টেনে বসে ডাক্তার ওর জ্বর আর প্রেসার মাপছেন। ঠিক বিপরীত পাশে নির্ঝর ওর বুকের কাছে এক হাত ভাঁজ করে অন্য হাত মুখের কাছে তুলে দাঁত দিয়ে নখ কাঁ*টছে। এক মুহূর্তের জন্যও নজর সরাচ্ছে না সে অনুর মুখশ্রীপানে থেকে।
ডাক্তার অনুর মুখ থেকে থার্মোমিটারটা বের করে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললেন….

—“প্রেসার একটু কম ছিলো। তাই শরীর দুর্বল হয়ে সেন্স হারিয়েছেন পেশেন্ট। তাপমাত্রাও এখন ১০০° তে নেমেছে। জলপট্টিটা দিয়ে ভালো কাজ করেছে তুমি নির্ঝর। তাই আপাতত পেশেন্টকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। সিজন চেঞ্জ হচ্ছে তো এই সময় একটু-আধটু সর্দি-জ্বর হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়।”
নির্ঝর উদ্বেগ ভরা দৃষ্টি নিয়ে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—“ডাক্তার আঙ্কেল ওনার সেন্স কখন ফিরবে?”
ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে শান্ত গলায় বললেন…..
—“একটু পর আপনা-আপনিই সেন্স ফিরে আসবে। এই ওষুধগুলো আনানোর ব্যবস্থা করিও। সেন্স ফিরলেই আগে গরম দুধ খাইয়ে দিবে, তারপর আনানো ওষুধগুলো। ঠিক আছে?”
নির্ঝর ছোট্ট করে উত্তর দিলো….

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—“আচ্ছা।”
অতঃপর নির্ঝর প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে ডাক্তারের পেমেন্ট ক্লিয়ার করে তাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে রুম থেকে বের হলে ডাক্তারটি বললেন…
—“পেশেন্ট কে হয় তোমার, নির্ঝর?”
এই প্রশ্নটাই বাকি ছিলো! নির্ঝরের মাথার ভেতর মুহূর্তেই কিছু প্রশ্ন এসে বা*রি খেলো….
‘কি বলবি? কি সম্পর্ক তোর অনুর সাথে? কাজিন তো বলা সম্ভব না। তবে কি বন্ধু? না না, ফাঁকা বাড়িতে মেয়ে বন্ধু এনেছি তার উপর সে অসুস্থ খুবই খারাপ ভাবে নিবেন আঙ্কেল। তাহলে? কি বলবি?’
নির্ঝর একবার ঢোক গিলে বললো….

—“উনি! উনি আমার হবু বউ হন। কিছুদিন আগেই পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ের কথা পাকাপোক্ত হয়েছে। আজ এই বাড়িটা ঘুরে দেখার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু এসেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এই আর কি!”
এই বলে নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে নিজের ঠোঁট চেপে ধরলো এমন ভাবে যেনো ওর মুখ কিয়ৎক্ষণ পূর্বে অটোমেটিক খুলে গিয়ে এসব কথা বলে দিয়েছে যা ও নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না এখন। ডাক্তার হালকা হেসে বললেন….
—“বাহ! খুব ভালো খবর দিলে। সারফারাজ তো মসজিদেই বিয়ে সেরে ফেললো। তেজের কোনো খবরই পাই না। তুমি অন্তত একটু জাঁকজমক ভাবে বিয়েটা করো। এই সুযোগে কয়েকদিনের জন্য আমরাও একটু রিলিফ পাবো নিজেদের ব্যস্ত জীবন থেকে।”
নির্ঝর ওর ভ্রুজোড়ার মাঝে হালকা ভাঁজ ফেলে জোড় পূর্বক হেসে বললো……

—“জি জি। তেমনই কিছু করার প্ল্যান আছে।”
ডাক্তার আফসোসের স্বরে বললেন…..
—“আজ সময় কম। নইলে হবু বউমার সেন্স ফেরা পর্যন্ত বসতাম এখানে। অ*সুস্থ বলে তাঁর হাতের রান্না করা খাবার না খেতে পারলেও একসাথে বসে চা খাওয়া যেতো অন্তত!”
নির্ঝর ঢোক গিলে মনে মনে বললো….
—“আপনি যদি বসতেন তাহলে চা পান করার জন্য আমার ঘাড়ের ওপর মাথাটা অবশিষ্ট থাকতো না ডাক্তার আঙ্কেল।”
ইতিমধ্যেই ওরা বাহিরে চলে এসেছে। ডাক্তার তার নিজ গাড়িতে উঠে বসতে বসতে বললেন…..

—“যাই হোক, আজ হলো না। ইনশাআল্লাহ পরে কোনো একদিন ঠিকই সুযোগ হবে।”
নির্ঝর পূর্বের ন্যায় হেসে মাথা নাড়লো। অতঃপর ডাক্তার চলে গেলেন। নির্ঝর ওর বুকের উপর একহাত রেখে শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো….
—“হবু বউ বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের চরিত্র নিয়ে উল্টো-পাল্টা ভাবা থেকে আপনাকে বিরত রেখেছি আঙ্কেল আর আপনি কিনা একসাথে বসে গল্প করার সেই সুসময়ের অপেক্ষায় আছেন বলে গেলেন! ভাগ্যিস অনু এখন সেন্সে নেই। নয়তো এসব শুনলে কি যে হতো! আল্লাহ যা করেন, আসলে মঙ্গলের জন্যই করেন।”
এই বলে নির্ঝর ঔষধ গুলো আনার জন্য বের হলো।

একটু পর তেজ নিজেই দু’কাপ রেডি কফি হাতে করে এনে টেবিলের ওপর রাখলো। ইলমা চোখ তুলে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—“আপনি আনলেন যে!”
তেজ এক কাপ কফি ইলমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো….
—“নিজ হাতে পরিবেশন করতে ইচ্ছে করলো আপনাকে, তাই নিজেই নিয়ে এলাম।”
অপরপাশের চেয়ারটা টেনে তেজ সেখানো বসতেই ইলমা ছোট করে বললো…..
—“আচ্ছা, বুঝলাম।”
তেজ হঠাৎ মুখ দিয়ে ‘চ’ এর মতো শব্দ করে বললো…..

—“এই রে! কফি অর্ডার দেওয়ার সময় তো আপনাকে জিজ্ঞেসই করা হয় নি আপনি কী খান! আমি তো ব্ল্যাক কফিতেই অভ্যস্ত। তাই দু’কাপই ব্ল্যাক এনেছি। দুধ, চিনি ছাড়া।”
ইলমা হালকা হেসে বললো….
—“এত কষ্ট করে এনেছেন যখন, তখন এই কফির স্বাদটা গ্রহণ করে দেখা উচিত।”
—“অভ্যস্ত না হলে এই স্বাদ প্রথম প্রথম হজম করা যায় না। পরে বমি-টমি করে দিলে ঝামেলা! রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই। আমি বরং সাধারণ কফি আবারও অর্ডার করে দিচ্ছি।”
এই বলে তেজ উঠতে নিলে ইলমা হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো….

—“উহুহহ, প্রয়োজন নেই তার। আজ আমি এই স্বাদটাই নিতে চাই। বমি করে দেওয়ার মতো দুর্বল হজমশক্তি আমার না, তেজ। বসুন আপনি। নয়তো আপনার কফিটা ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
এই কথা বলে ইলমা কফির কাপে প্রথম চুমুকটা দিলো। তারপর আরও কয়েকবার দিলো। তেজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইলমার মুখশ্রীপানে। দুধ-চিনি ছাড়া তীব্র তি*ক্ত ব্ল্যাক কফি ইলমা যেভাবে অনায়াসেই পান করছে, ওর এক্সপ্রেশন দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটাই ওর প্রথম ব্ল্যাক কফি পান করার মুহূর্ত। বরং মনে হচ্ছে এটা ইলমার বহু বছরের অভ্যাস। এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই অমনোযোগিতায় তেজ নিজ কফির কাপে চুমুক বসাতেই বেশ খানিকটা গরম কফি ওর মুখে ঢুকে পড়লো। ফলস্বরূপ জিহ্বা আর ঠোঁটে তীব্র ছ্যাঁ*ক লাগতেই তেজ ওর মুখ-চোখ কুঁচকে কাপটা টেবিলের রাখলো।
ইলমা এমনটা দেখে বললো….

—“ছ্যাঁ*ক লেগেছে নিশ্চয়ই! সাবধানে খাবেন তো নাকি?”
এই বলে টেবিলের ওপর রাখা পানির বোতলটা তুলে তেজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো…..
—“নিন, ঠান্ডা পানি একটু মুখের ভেতর ধরে রাখুন। তারপর কুলিকুচি করে ফেলে দিন। জ্বা*লা ভাবটা কমবে এতে কিছুটা।”
তেজ তাই করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বা*লা ভাব অনেকটা কমে গেলো ওর। তেজ বললো….
—“আপনি আসলেই অনেক শক্ত। নয়তো প্রথমবার ব্ল্যাক কফি কেউ এমন স্বাভাবিকভাবে খেতে পারে!”
ইলমা হালকা হেসে বললো….
—“হয়তো।”
এরপর তেজ সাবধানে নিজের কাপের বাকি কফিটুকু পান করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর ইলমা বললো……
—“আপনার ওই ডাক্তার বন্ধুটাকে এখনই একবার কল করে দেখুন না। উনি কোথায় আছেন, কবে নাগাদ অনুকে দেখাতে পারবো।”

—“আচ্ছা, করছি।”
তেজ ওর ফোন থেকে ‘অভিনব’ নামে সেভ করা নাম্বারে কল দিলো। কয়েকবার রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো। ইলমা ফিসফিস করে বললো…..
—“স্পিকার অন করুন।”
তেজ স্পিকার অন করে বললো….
—“অভি, কেমন আছিস?”
ওপাশ থেকে হাসিমুখে অভি বললো….
—“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুই কেমন আছিস বন্ধু?”
—“ভালো আছি। কই আছিস তুই?”
—“চেম্বারেই। কেনো, কোনো দরকার?”
—“দুই-এক দিনের মধ্যে একটু সময় দিতে পারবি?”
—“দেখা করবি?”
—“আমার এক ছোট বোনকে দেখাতাম তোকে।”
অভি ঠাট্টার স্বরে বললো….

—“কী? বিয়ে ঠিক করানোর প্ল্যান করেছিস নাকি আমার সাথে তোর বোনের?”
—“ধুর শা*লা! দুই দিন পর এক বাচ্চার বাপ হবি, আবার বিয়ে করার শখ জেগেছে? ভাবীকে কল করে বলবো তোর এই প্ল্যানের কথা?”
অভি হেসে বললো…..
—“না না, থাক। আমার মজা করার শখ মিটেছে ভাই। তোর ভাবী যে হিট*লারনী! ও থাকতে আরেক মেয়ের কথা ভাবা অসম্ভব।”
—“কদর কর, কদর কর। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মানুষ সবাই পায় না।”
—“হুম। আর শোন, কালই বরং তোর বোনকে নিয়ে চলে আয়। চেকআপটা সেরে নিবো। কারণ পড়শু আমাকে সাত দিনের জন্য আমেরিকা যেতে হবে। এরপর তোর ভাবীর ডেলিভারি ডেট আছে। তখন রোগী দেখা বন্ধ রাখতে হবে।”
—“আচ্ছা ঠিক আছে। কাল বিকেলের সিফটেই যাবো আমরা।”
—“ওকে, দেখা হচ্ছে।”
অতঃপর কল কেটে যেতেই ইলমা বললো….

—“একদম সময়মতো কলটা করা হয়েছে। নইলে আগামী এক মাসেও আপনার বন্ধুর সিরিয়াল পাওয়া যেতো না।”
—“হুম, তখন অন্য ডাক্তার খুঁজতে হতো। সেটা বেশ ঝামেলার ছিলো। তাহলে কালই অনুকে নিয়ে যাবো এই কথাই থাকলো।”
—“হুম। এখন চলুন, উঠি আমরা।”
—“চলুন।”
এরপর দু’জনেই চেয়ার ছেড়ে উঠে কফিশপের বাইরে এলো। তেজ বাইক স্টার্ট করলো। ইলমা পেছন সিটে উঠে বসলো। ঢলে আসা বিকেল প্রহরের রাস্তা ধরে ওরা বাংলো বাড়ির দিকে রওনা হলো।

সারফারাজ শান্ত কন্ঠে নীরাকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
—”সত্যিটা সবার সামনে আনার সময় এসে গিয়েছে নীরা।”
নীরার হাসিমুখটা মুহূর্তেই মলিনতার চাদরে ঢেকে গেলো। নীরা চট করে তাকালো পিহুর দিকে। পিহু চোখ নামিয়ে নিলো নীরার থেকে। নীরা উত্তেজিত কন্ঠে বললো…..
—”কিন্তু বড় ভাইয়া, তুমি তো বলেছিলে সবার সামনে সত্যটা এখুনি আনবে না। অন্যভাবে বিষয়টা মেনেজ করবে।”
—”সেটা কিছুটা সময়ের কাজ নীরা। মাস খানেকও লাগতে পারে। ততোদিন কি তুই নির্বাণকে ছাড়া বা নির্বাণ তোকে ছাড়া থাকতে পারবে বল?”
নীরার চোখজোড়া ছলছল করে উঠলো এবার। নীরা বললো….

—”ওনারা সবাই গুরুজন বড় ভাইয়া। আমাকে ভু*ল বুঝে যদি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় চিরতরের জন্য? আমার কাছে তো সলিড কোনো প্রমাণ নেই যে ২ বছর আগে আমার সাথে যা হয়েছিলো তা সম্পূর্ণই আমার অচেতন অবস্থায়, অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছিলো। ওনারা কি নির্বাণকে মেনে নিবে তখন?”
—”সত্যের মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত তার তি*ক্ততা কতোটা হতে পারে তা আমরা আগাম ভাবে জানতে পারি না নীরা। তবে আমি আমার তরফ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টা করবো সবাইকে বুঝানোর। বাড়ির সবাই তোকে অনেক ভালোবাসে। এ বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য তুই। তোকে ওনারা চিরতরের জন্য দূরে সরিয়ে দিতে পারবে না কখনই।”
—”আমার ভয় করছে বড় ভাইয়া।”
পিহু নীরার কাঁধে হাত রেখে বললো….

—”ভ*য় পেও না নীরা। আমরা আছি তো তোমার পাশে। বাড়ির সবাই নারাজ হলেও আমি সবার পায়ে ধরে হলেও মানিয়ে নিবো তাদের সব সত্য সবার সামনে আসা পর্যন্ত সময় ভিক্ষা চাইবো। তবুও তোমার উপর নারাজ হয়ে থাকতে দিবো না কাউকে দেখিও। আর নির্বাণ তো আদুরে বাচ্চা। ও যখন আসবে এ বাড়িতে তখন কেউ আর নারাজ হয়ে থাকতে পারবে না দেখো। ওকে হামলে পরে পরে আদর করবে সবাই। ১ম সন্তান কিনা ও এই বংশের নাতী।”
নীরা সঙ্গে সঙ্গে পিহুকে জড়িয়ে ধরলো। হু হু করে কেঁদে উঠে বললো…..
—”তোমার মতো ভাবী পাওয়া ভাগ্যের বিষয় ভাবীপু। আমি সব দিক থেকেই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি জানো!”
পিহু হালকা হেসে নীরাকে শান্ত করলো। সারফারাজ বললো….
—”নিচে চলো এবার।”
নীরা মাথা নাড়লো। অতঃপর ওরা ৩জন একসাথে রুম থেকে বের হলো নিচে আসার উদ্দেশ্যে।

নির্ঝর আগেই দুধ গরম করে ফ্লাক্সে ভরে নিয়েছে। অনুর সেন্স ফিরলেই যেনো ওকে থেকে দিতে পারে গরম করার জন্য বাড়তি সময় নষ্ট না হয় এই ভেবে। ফ্লাক্সটা বেডসাইড টেবিলের উপর রেখে অনুর মাথার পাশে চেয়ারে বসে আছে নির্ঝর । দৃষ্টি স্থির অনুর মুখশ্রীপানে। নির্ঝর বললো……
—”যদি সত্যিই আপনি আমার বউ হন অনু, তাহলে আপনার অনেক যত্ন করবো আমি। এমনভাবে আগলে রাখবো আপনাকে, অ*সুস্থতারা এতো সহজে আপনাকে ছুঁতে পারবে না। নাজেহাল করতে পারবে না।”
এর মাঝেই অনু নড়েচড়ে উঠলো। অনুর সেন্স ফিরছে বুঝেই নির্ঝর তৎক্ষণাৎ ফ্লাক্স খুলে গরম দুধ গ্লাসে ঢেলে নিলো। অনু চোখ মেলে পিটপিট করে তাকাতেই দেখলো নির্ঝর নিজের সব ক’টা দাঁত বের করে হাসছে ওর দিকে দুধের গ্লাস বাড়িয়ে রেখেছে। নির্ঝর বললো…..

—“আপনার দুধ।”
অনু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো…..
—“কি?”
—“ইয়ে মানে ডাক্তার আপনাকে গরম গরুর দুধ খেতে বলেছেন।”
—”গরম গরুর দুধ?”
—”থু্ক্কু, গরুর গরম দুধ হবে।”
—“ডাক্তার আসলো কোথায় থেকে?”
—“তখন আপনি বাড়িটা ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলেন। জ্বর ১০০° ছাড়িয়ে গিয়েছিলো আপনার। তাই আমাদের পারিবারিক ডাক্তারকে ডেকেছিলাম আমি। উনি চেকআপ করে গিয়েছেন আপনাকে।”
অনু বললো….

—“এতোকিছু হয়ে গিয়েছে আমার অচেতন অবস্থায়!”
অতঃপর অনু উঠে বসলো বিছানার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে। নির্ঝর গ্লাসটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো….
—“দুধটা!”
—“দিন দিন খাচ্ছি। সেন্স ফিরেছে থেকে দুধ দুধ করে ঘ্যানঘ্যান শুরু করেছেন!”
এই বলে অনু গ্লাসটা নিয়ে তা পান করতে শুরু করলো। নির্ঝর তড়িঘড়ি করে বললো….
—“গরম তো, সাবধানে খে…!”
অনু ইতিমধ্যেই অর্ধেক শেষ করে ফেলেছে। হালকা গম্ভীর স্বরে বললো…..

—“পারতেন তো ফুটন্ত অবস্থাতেই গলার ভিতর ঢেলে দিতেন। তাহলে এখন আবার সাবধান হতে বলছেন কেনো?”
নির্ঝর মুখটা একটু কাঁচুমাচু করে বললো….
—“ডাক্তার আঙ্কেল বলেছিলেন তাই আর কি!”
অনু পুরো দুধ পান করা শেষ করে গ্লাসটা নির্ঝরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো….
—“নিন, শেষ করেছি। এবার শান্তি হয়েছে?”
—“এখন ওষুধ খেতে হবে।”
—“কিসের জন্য?”
—“ঐতো জ্বরের জন্য। যা আপনার ভিতরে ভিতরে এখনো বইছে।”
—“হুম, দিন।”
নির্ঝর ওষুধগুলো বের করে দিলো অনুকে। সঙ্গে পানির গ্লাসটাও দিলো। অনু নির্বিকারভাবে খেয়ে নিলো তা। নির্ঝর মনে মনে ভাবলো……

—”কি মেয়ে রে বাবা! দুধ খাওয়ার নাম শুনে নাক ছিটকালো না, ওষুধের সাইজ নিয়েও প্রশ্ন করলো না। আজকাল এমন মেয়েরও দেখা মিলে!”
—“ইলমা আপা আসে নি এখনও?”
—“না। আসবে হয়তো একটু পর।”
—“আচ্ছা।”
—“এখন শরীর কেমন লাগছে আপনার?”
—“মাথাটা একটু ভার লাগছে। শরীরটাও ঝিম ঝিম করছে হালকা।”
—“ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
অনু ভ্রু কুঁচকে বললো….

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৪)

—“সামান্য জ্বর আর সেন্সলেস হওয়াতে কেউ ভ*য় পায় নাকি?”
নির্ঝর ঠোঁট কাঁ*মড়ে মনে মনে বললো….
—”স্বান্তনা দিলাম তাও পোষালো না!”
অনু ঠান্ডা গলায় বললো….
—“আমাকে আর পাঁচজন ন্যাকাবতী মেয়ের মতো ভাবলে ভু*ল করবেন আপনি, নির্ঝর সাহেব। আমি তেমন না। জ্বর, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া এসব আমার কাছে তু*চ্ছ বিষয়। ভ*য়-টয় এই অনু পায় না এতো সহজে।”
নির্ঝর নিচু গলায় বিরবিরিয়ে বললো…..
—“হ্যাঁ, সেটার প্রমাণ তো ভালোই পেলাম।”

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৯