Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৯

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৯

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম ভুরু নাচিয়ে কথা টুকু বললো,নুবাও তালে তাল মিলিয়ে ভুরু নাচালো।
পরি দুই হাত জোর করে অনুরোধ করে বললো
_”আল্লাহর দোহায় লাগে। মারবেন না।”
পরির ঠোঁটের কোনো বেয়ে রক্ত পড়ছে। নাবিল এতো জোরেই তাকে একটা থাপ্পর মেরেছে যে,সে ছিটকে ফ্লোরে পড়েছে।নাবিল তেরে এসে পরির চুলের মুঠি চেপে ধরে রাগে দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_”তোর এহনো এমন সাহস হয় নাই যে তুই আমারে বিষ দিবি,দেওয়াল হইলে আরো আগেই দিতি। নির্ঘাত তোর বাপ,মায়ে সহোযোগিতা করছে।এহন বল কে এই কাম করছে,না হইলে আমি ভুইলা যামু তোর পেটে আমার সন্তান আছে। দরকার পড়লে পেটের টারেও মারমু।এহন জলদি বল কোন খানকির বাচ্চা তোরে এই সাহস দেহানোর সুযোগ কইরা দিছে?”
পরির শরীর কাঁপছে,তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে,কথা বলতে পারছে না সে।পরি হাঁসফাঁস করে উঠলো।পেটে হাত চেপে ধরে কম্পিত কন্ঠে বললো

_” পেটে চাপ লাগছে, দয়া করে আমাকে একটু ঠিক মতো বসতে দিন।মনে হচ্ছে পা বাকিয়ে যাবে।”
নাবিল পরির গাল চেপে ধরে হুংকার ছেড়ে বললো
_”তুই আমার প্রান নিতে চাইবি আর আমি তোরে পূজা করমু।কথা না কইলে এক লাথি মাইরা কবরে পৌছায় দিমু,তার পর তোর ১৪ গুষ্টিতে জেন্ত পুতমু,আর যদি স্বীকার করোস এই কু বুদ্ধি কে দিছে তাইলে শুধু তারেই মারমু, অবশ্য আমি জানি তোর মা ছাড়া কেউ এমন করে নাই, কারণ তোর বাপ তো বাইত্তে নাই নিশ্চয় তোর নটি মা এই কাম করছে। তাড়াতাড়ি মুখ দিয়া স্বীকার কর।”
পরি চোখের পলক ফেলে ফুঁপিয়ে উঠে বললো

_”মেরে ফেলুন আমাকে, আল্লাহ কেনো আমার জীবনটা এরকম ধংস করে দিলো? এর থেকে ভালো সবাইকে মেরে শান্তি হোন। হ্যাঁ আমি, আমার মা, আমার বোন আমার বাপ,সবাই মিলে আপনার মতো অমানুষে মেরে একটা ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি,এবার আমাদের মেরে ফেলুন।”
নাবিল পরিকে ছেঁড়ে দিয়ে যেই না উঠে দাঁড়াতে যাবে তখনি কেউ এসে পিছন থেকে বারি কষলো নাবিলের মাথায়।তাও লোহার পাইপ দিয়ে। ক্ষেপে থাকা নাবিল হঠাৎ ঘটনা টের পেলো না।কেউ যে পিছনে আসছিলো রেগের ঠেলায় তাও টের পেলো না।যেনো সে কিছু সময় নিজের অস্তিত্ব হারিয়েছিলো।
লোহা দিয়ে মারার ফল স্বরুপ নাবিলের মাথার চামড়া ফেটে রক্ত বেড় হয়ে আসলো,আর একটু হলে মাথার হাড্ডি ভেঙ্গে যেতো। পরি পিলে চম্কে উঠলো।দুই হাত মুখে চেপে ধরলো।
নাবিল এক হাত মাথায় চেপে পিছ ফিরে লাল বর্ন চোখে দেখতে চাইলো কে? তবে পিছন ফিরতেই পরশ হাওলাদার নাবিলের পিঠে বারি কষলেন,নাবিল কিছুটা ঝুকে পড়লো।এবার তৃতীয় বারি নাবিলের বাহুতে দিলেন তিনি,বারি খেয়ে নাবিল ওখানেই পড়ে গেলো।সাথে সাথে ফ্লোরে রক্তে মাখামাখি হয়ে গেলো।পরির হাত পা কেঁপে উঠলো।পরপর সামনের দিকে তাকিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো

_”বাবা? তুমি একটা কি করলে?”
পরশ হাওলাদার মাত্র বাড়ি ফিরেছিলেন তবে রুম থেকে চিল্লাচিল্লি শুনে ছুটে এসেছিলেন,যখনি তিনি দেখলেন নাবিল তার মেয়েকে মারছেন তার মাথায় আর কাজ করলো না,আজ সে মরবে না হয় নাবিলকে মারবে।তাই কিছু না ভেবেই সুযোগ বুঝে কোপ মেরে বসলেন।
পরির হাত পা কেঁপে উঠলো,এক পলক নাবিলের পড়ে থাকা দেহের দিকে তাকিয়ে তার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো।কেনো জানি বেশ কান্না পেলো তার।পরি আর কিছু না ভেবে কোনো মতে হামাগুড়ি দিয়ে নাবিলের কাছে এগিয়ে গেলো।
নাবিলের জ্ঞান ছিলো তবে সে হঠাৎ বারি খেয়ে দাঁড়াতে পারছিলো না।পরি কে এগিয়ে আসতে দেখেই নাবিল কেমন করে হেসে উঠলো,বাম চোখের কার্নিশ দিয়ে হয়তোবা যন্ত্রনায় পানি গড়িয়ে পড়লো তার তবু সে হাসলো,কোনো মতে বিরবির করে বললো

_”ধো, ধোঁকা বাজ,খুব ভালা কাম করলি তোরা, অনেক ভালা।”
পরি মাথা ঝুলিয়ে না করলো,পরশ হাওলাদার রেগে আবারো বারি দিতে আসলে পরি আর্তনাদ করে উঠলো,এক ঝাটকায় নাবিলের রক্তাক্ত মাথা নিজের বুকে জরিয়ে নিলো, চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”তুমি কি করলে এটা,উনার মতো তোমরাও অমানুষ হয়ে গেছো নাকি? দয়া করে আর একটাও বারি দিও না বাবা।সে আমার সন্তানের বাপ হয়,আমি,,,”
আর বলতে পারলো না পরি,হু হু করে কেঁদে উঠলো,নাবিল আস্তে আস্তে পরির বুকে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।জায়মা বেগম অবাক হয়ে বললেন
_”পরি,এই সব কি বলছিস,এই জানোয়ার মরলে তুই বেঁচে যাবি পরি।”
পরি মাথা ঝুঁকিয়ে না করে বললো

_”আমি আর বাঁচতে চাই না মা, অনেক হয়েছে, উনি জানোয়ার হোক বা অমানুষ।তবে আমার স্বামী,যেভাবেই হোক আমাদের বিয়ে হয়েছে,সে ধর্ষক হোক,খুনি হোক,তবু সে আমার সন্তানের বাপ,আমি চাইনা এমন কিছু করতে।তোমরা বোঝার চেষ্টা করো।থাক না,যেভাবে যাচ্ছে সেভাবে যাক।”
পরি মায়ের কথায় আবেগে ভেসে বিষ মাখা ভাত নিয়ে চলে এসেছিলো,না হলে অনেক আগেই সে এই নাবিলে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো।মেনে নিয়েছিলো সব।
পরশ হাওলাদার রাগি কন্ঠে বললেন
_”এই জানোয়ারের জন্য তোর মায়া হচ্ছে?তোর মনে নেই এই অমানুষ তোর সাথে কি করেছে?”
_”যাই করুক বাবা,উনাকে হসপিটালে নিয়ে চলো।”
পরশ হাওলাদার একটু রেগে বললেন
_”দেখ মা,তোর ভালোর জন্যই করছি,ওকে মেরে ফেলে আমার এখান থেকে চলে যাবো,তখন কেউ তোকে ধংস করবে না,তুই সুখে থাকবি।”
পরি নাবিলকে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো,না না সে পারবে না,জায়গা বেগম এগিয়ে এসে পরির এক হাত টেনে ধরে বললো

_”দরকার পড়লে বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলবি, দূরে কোথাও চলে যাবো আমরা,যেখানে আমাদের কেউ চিনে না,তোকে ভালো জায়গায় বিয়ে দিবো, তুই সুখে থাকবি। তোর বাপ এই অমানুষটাকে টুকরো টুকরো করে কোথাও ফেলে দিবে, তুই বাইরে আয়।”
পরি হতভম্ব হয়ে গেলো,মায়ের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”তোমরা পাগল হয়ে গেছো।নাকি বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।উনি আমার স্বামী হয় মা,আমি সব মেনে নিয়েছি। আমি যেভাবে আছি সেভাবেই ভালো আছি,উনি আমাকে মারুক কাটুক ব্যবহার করুক তবু উনি আমার স্বামী।দয়া করে তোমরা এই সব বলা বন্ধ করে উনাকে হসপিটালে নিয়ে চলো।”
পরশ হাওলাদার অবাক কন্ঠে বললেন
_”তুই পাগল হয়ে গেছিস,ও যদি বেঁচে যায় তবে আমাদের বেঁচে থাকতে দিবে?ওকে মারার চেষ্টা করেছি আমরা,আর ও আমাদের ছেড়ে দিবে?”
পরি মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”বাবা আমি কিচ্ছু বুঝতে চাইছি না,উনাকে দ্বিতীয় বার সুযোগ দেওয়া হোক, আমার শাশুড়ি বলেছেন বাচ্চা হলে উনি ঠিক হয়ে যাবেন,এটা নাকি উনাদের বংশের ধারাই,তা যাই হোক,আমি কাউকে মারতে পারবো না আর না কাউকে মারতে দিবো, কারণ আমি চাই না তোমরা পাপ করো আর তার থেকে বড় কথা, আল্লাহ ব্যতিত কারো জান নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।দয়া করে তোমরা এই ভুল করবে না।”
বলেই হাত জোর করলো পরি। সে কিছুতেই কারো জীবন নিবে না।

আয়রা পুরো ঘড় হামাগুড়ি দিচ্ছে,আর খিলখিল করে হাসছে। আরহাম পিছন পিছন মেয়ের মতো হামাগুড়ি দিচ্ছে।বাবাকে পিছনে হামাগুড়ি দিতে দেখেই আয়রার এতো হাসি পাচ্ছে।
আরহাম মেয়ের পিছনে ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে উঠলো,এক পর্যায়ে সে থেমে গেলো।আরহামকে থেমে যেতে দেখে আয়রাও থেমে গেলো পরপর পিছন ফিরে তার কান্ত বাবার দিকে তাকালো।
আরহাম মেয়ের দিকে তাকাতেই দেখলো , আরহাম থেমে যাওয়ায় মেয়ের মুখের হাসি টুকু মিলিয়ে গেছে। আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো পরপর আবারো হামাগুড়ি দিয়ে আয়রার দিকে এগিয়ে আসলো।
আয়রা আবারো বাবাকে পিছন পিছন আসতে দেখে তাড়াতাড়ি হামাগুড়ি দিয়ে বিছানার তলে ঢুকে গেলো। পরপর খিলখিল করে হেসে উঠলো।আরহাম বিছানার সামনে যেয়ে হাঁপিয়ে উঠলো ,মাথা নিচু করে বিছানার তলে তাকিয়ে দেখলো আয়রা বসে বসে আ উ করে হাসছে।
আরহাম মেয়ের খুশগ দেখে নিজেও আনন্দ পেলো। মৃদু কন্ঠে মেয়েকে হাতের ইশারায় বাইরে ডাকলো

_”বাইরে আসো আম্মু, ব্যথা পাবে, তাড়াতাড়ি পাপার কাছে আসো,এখানে ভাউ(ভূত) আছে, তাড়াতাড়ি পাপার কাছে আসো।
আরহামকে কথা বলতে দেখে আয়রা আরো হেসে উঠলো।নুবা বিছানায় বসে বসে বাপ মেয়ের কান্ড দেখছিলো তবে এবার আরহামকে ক্লান্ত হয়ে যেতে দেখে মৃদু হেসে বললো
_”আপনার মেয়ে কি কথা শুনার মানুষ,এখন ওর সাথে খেলতে বলছে।বিছানার তল থেকে টেনে না বেড় করলে আজ আর বেড় হবে না, বরং আপনাকেই বিছানার তলে ডাকবে।”
বলতে বলতে নুবা শব্দ করে হাসলো, আরহাম অর্ধেক শরীর বিছানার তলে ঢুকিয়ে দিলো। তবে তাকে আসতে দেখে আয়রা অন্য পাশ দিয়ে বেড় হয়ে তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমের দিকে যেতে লাগলো।
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো।পরপর বিছানার তল থেকে বেড় হয়ে, হাঁটুর সাহায্যে একটু উঠে দাঁড়িয়ে,দুই হাত কমড়ে চেপে ধরে বিরবরি করে বললো
_”ahhh, আমার মাজা।”
আরহামের কথায় নুবা মুখে হাত চেপে খিলখিল করে হেসে উঠলো। যেনো সে বেশ মজা পাচ্ছে আরহামকে হেনেস্তা হতে দেখে।

আরশিরা কাল বাড়িতে চলে যাবে,এই নিয়ে আরশি সহ সবার মান খারাপ, বিশেষ করে আমিনা বেগমের,মেয়েটা চলে যাবে সাথে নাতনিও।ঘড়টা শূন্য হয়ে যাবে তার।এই নিয়েই চিন্তিত সে।
আরশি ঘুমন্ত মেয়ের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।তার মাঝে মাঝে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে সে এক বাচ্চার মা হয়ে গেছে।সে তার ভালোবাসার মানুষের সাথে সংসার করছে।ভাবলেই মনটা আনন্দে মেতে উঠে তার।
আরশির ভাবনার ভিতরেই রিহান এসে টপকালো,এসেই হাত মুখ ধোয়া নেই,কোনো কথা বার্তা নেই, শুধু ঝটপট এসে মেয়েকে জরিয়ে ধরার গুন আছে।
আর করলোই তাই ,রিহান এসেই ঘুমন্ত রিশিতাকে কোলে তুলে নিলো।পরপর মেয়ের মুখে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো।আরশি চোখের পলক ফেলে রিহানের দিকে তাকালো। দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে উঠলো আরশি,
_”এই মাত্র মেয়েটাকে ঘুম পাড়ালাম, আপনার কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই।এসেই হাত মুখ ধোয়া নেই, কিছু নেই,আগেই মেয়েকে ধরলেন, কতদিন বলবো এসে আগে ফ্রেশ হয়ে নিবেন।”
আরশির চেঁচানিতে রিহান থতমত খেয়ে গেলো,জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে একটু ভাব নিয়ে বললো

_”আমার মেয়ে হুঁ, তুমি বলার কে?”
আরশি দাঁত কটমট করে উঠলো,নাক ফুলিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বললো
_”তোর মেয়ে,তাহলে তুই জন্ম দিলি কেন ? চুপচাপ ওকে রেখে আগে ফ্রেশ হয়ে আয়,আর যদি একদিন দেখেছি তুই এসেই আগে মেয়েকে ধরছিস তবে তোর পাছায় কিক মেরে আমি হাঁটা দিবো।শরীরের ভিতরে দুনিয়ার জীবাণু দিয়ে ভরা সেই অবস্থায় এসেই আগে মেয়েটাকে কোলে নেয়,যদি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে বুঝিস ঠেলা।”
এতো গুলো কথা বলে আরশি থেমে হাঁপিয়ে উঠলো,পরপর সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো।রিহানের মুখটা চুপসে গেলো।মেয়েকে বিছানায় রাখতে রাখতে মিনমিন করে বললো
_”এটা ভালো মতো বললেই হতো,এতো ফোঁস ফোঁস করার কি আছে।বেবি হওয়ার পর থেকে কথায় কথায় সাপের ন্যাস ফোঁস ফোঁস করে ফেনা তুলো why bab। আমাকে ভালো মতো বললে কি আমি শুনি না?”
_”আমার চোখের সামনে থেকে দূর হোন।”

বলেই আরশি এগিয়ে এসে মেয়েকে বুকে টেনে নিলো।রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,পরপর তার মনে পড়লো কালকেই বাড়ি ফিরবে তারা,তাই হয়তোবা এরকম তেতে আছে সাথে ফোঁস ফোঁস করছে।রিহান আর কিছু বললো না, চুপচাপ ওয়াশ রুমে চলে গেলো। বিয়ে করে যেনো জ্বালার শেষ নেই তার।
প্রেম কররা সময় ভাবতো কবে বিয়ে হবে। লুকিয়ে বিয়ে করার সর ভাবতো কবে সবাই সবকিছু জানবে আর সে অনায়েসেই আরশির কাছে যেতে পারবে।সবাই সবকিছু জানার পর ভাবে “কেনো সবাই সবকিছু জানলো”
আগে বউটাকে রাতে কাছে না পেয়ে ছটফট করতো এখন বউটাই কেটকেট করে,কি আজব ব্যাপার।

নাবিল রক্ত বর্ন চোখে পরির দিকে তাকিয়ে আছে,পরি নাবিলের সামনেই চেয়ার নিয়ে চুপচাপ বসে আছে।নাবিলের হাত,পা, এমন কি মুখ,পুরো শরীর চেয়ারের সাথে বাঁধা।মুখ বেঁধে রাখায় কথা বলতে পারছে না নাবিল। তবে পরির দিকে রক্ত বর্ন চোখে তাকিয়ে আছে।
নাবিলের জ্ঞান ফিরেছে ঘন্টা খানিক হবে। পরশ হাওলাদার doctor ডেকে মাথায় ব্যান্ডেজ করিয়েছেন নাবিলের,৪ টা সিলি পড়েছে।এর পরপর অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়ে নাবিলকে এঁটে সেটে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখেছেন।
নাবিল যেনো পরির দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইছে।মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে।পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো পরপর এগিয়ে যেয়ে নাবিলের মুখের বাঁধন খুলে দিলো।সাথে সাথে নাবিল বরাবরের মতো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে উঠলো।
_”নডির ঘড়ে নডি,আমারে মারবি,সাওয়া ফাইরা রাইয়া দিমু,খুল আমারে খানির বাচ্চা।না হইলে তোগোরে জেন্ত গাইথা রাখমু।”

পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো, নাবিল বেশি কিছু বলতে পারলো না কারণ তার মাথয় পিঠে টান খাচ্ছে।খত স্থান গুলো জ্বলে উঠছে। ব্যথায় টনটন করছে নাবিলের মাথা তবে জবান একটুও ব্যথা করছে না। কারণ আপাতত তার জবানটাই আছে।
পরিকে উত্তর না দিতে দেখে নাবিল চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”ব্যা*** ঘড়ে ব্য** আমাকে খুল কইতাছি।না হইলে মাইরা ফালা, কারণ আমি যদি ছাড়া পাই তোদের জীবন্ত অবস্থায় টুকরা টুকরা করমু।”
পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো।চোখে মুখে মরার কোনো ভয় নেই,যে মরলে অপারে তার কি অবস্থা হবে।
বাকাবাজি শুনে পরশ হাওলাদার এগিয়ে এসে রাগে কটমট করে বললো
_”আরো রাখ বাঁচিয়ে,এখনো সময় আছে মেরে ফেল নয়তো কাউকে বাঁচতে দিবে না এই জানোয়ার।”
পরি চুপ রইলো,যেনো সে কিছু ভাবছে।নাবিল রক্ত ভেজা চোখে পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”তোর সাওয়ায় জোর থাকলে আমরে খুইল্লা মারন চুদা, একবার খালি আমারে খুর দেখিস তোরে আমি কি করি।”
বলেই নাবিল চেয়ার সহ নাড়িয়ে উঠলো,যেনো চেয়ার ভেঙ্গে ফেলবে সে। পরশ হাওলাদার রগে পাশ থেকে সেই লোহার পাইপ নিয়ে এগিয়ে আসলেন,এবার মেরেই ফেলবেন নাবিলকে।
কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই এসে নাবিলের মুখে বারি কষে দিতে চাইলেন তবে পরি চেঁচিয়ে উঠলো।
_”থামবে তুমি?”
পরশ হাওলাদার থেমে গেলেন,জায়গা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_”বসে বসে এই অমানুষের জন্য মায়া কর,দেখবি তোকেই গিলে খেয়েছে।সাথে আমাদের। সব ভুলে গেছিস ,তাই বলে সব?”
বলেই জায়মা রাগে ফুঁসতে লাগলো।
পরি চোখ মুখ খিচে বললো

_”হ্যাঁ সব ভুলে গেছি,উনাকে মারলে হারিয়ে যাওয়া ইজ্জত, হারিয়ে যাওয়া দিন গুলো ফিরে পাবো?”
_”পাবি না তবে এই অমানুষের হাত থেকে মুক্তি তো পাবি।এর ভাষা শুনলেই তো গা গুলিয়ে আসে, তুই কি করে সহ্য করিস।আর সেখানে সারাটা জীবন এই অমানুষের সাথে পার করতে চইছিস?”
পরি বুঝতে পারলো না তার পরিবার এতো পাষান কবে থেকে হলো।একটা মানুষকে মেরে ফেলতে চাইছে।আসলে সে বুঝতে পারে যে নাবিল এটারি যোগ্য তবে সে কাউকে মারতে চায় না।
নাবিল কিছু বলতেই যাবে তার আগেই পরি উঠে দাঁড়িয়ে নাবিলের মুখ আবারো বেঁধে দিলো।নাবিল ছটফট করে উঠলো।পরি নিজের পরিবারের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”তোমরা এখন যাও।”
পরশ হাওলাদার তেতে উঠে বললেন
_”তোকে মেরে ফেলবে ও।”
পরি বিরক্ত হয়ে বললো
_”ফেলুক না মেরে,তাও তোমরা যাও তো।”
পরশ হাওলাদার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন

_”তোমার মেয়েকে নিয়ে যাও এখান থেকে,বাকিটা আমি দেখে নিচ্ছি।না হয় ১ মাস পর্যন্তই কাঁদবে,তার পর সব ঠিক হয়ে যাবে।সাথে বাচ্চাটাকে মারলে এই পুরো অতীত দাফন হয়ে যাবে। ওকে বোঝাও আমরা যা করছি ওর ভালোর জন্য।”
পরি হতভম্ব হয়ে গেলো। বাচ্চাকে মারার কথা শুনে নাবির চেয়ার নিয়ে নড়ে উঠলো।পরি সহ সবাই একটু চমকে গেলো।জায়মা বেগম মেয়ের দিকে এগিয়ে আসলেন ,পরি ভুরু কুঁচকে উঠে দাঁড়ালো।জায়মা বেগম এসে মেয়ের হাত ধরে বললেন
_”চল, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
পরি ভুরু কুঁচকে তার বাবা আর মায়ের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_”তোমরা পাগল হয়ে গেছো?”
_”পাগল আমরা না, পাগল তুই হয়ে গেছিস, এমন একটু সুযোগ হাত ছাড়া করছিস।”
মায়ের কথায় পরি চোখ বুজে ফেললো,পরশ হাওলাদার এগিয়ে এসে মেয়েকে বুঝিয়ে বললেন
_”এই জানোয়ার,তোর সামনে তোর বাপ,মা বোন সবাইকে যা না তা বলছে,মেরে ফেলতে চাইছে,তোর সাথে অন্যায় করেছে।আর তুই তার পক্ষ নিচ্ছিস?”
পরি এবার একটু চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”তোমরা এখান থেকে যাও তো, আমার মাথা খারাপ করো না।যাও। আমি সব সামলে নিবো।তোমরা দয়া করে রুম থেকে বেড় হও।”

পরি এক প্রকার জোর করেই সবাইকে রুম থেকে বেড় করে দিলো।নাবিল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল পরির দিকে।এই মেয়ে হঠাৎ করেই তাকে বাঁচাতে চাইছে কেনো?যেখানে এখন মেরে ফেলে দূরে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।সবাই তার বিরুদ্ধে তবে এই মেয়ে তার পক্ষ নিচ্ছে কেনো?
পরি রুমের দরজা চাপিয়ে দিয়ে এগিয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো,ভালো লাগছে না তার,কি থেকে কি হয়ে গেলো,এখন কি করবে সে।নাবিলকে ছেড়ে দিলে তাদের মেরে ফেলবে।আর নাবিলকে মেরে ফেললে পরি নিজেকে মাফ করতে পারবে না।সে যে নাবিলের মতো অমানুষ না,সে যে খুনি হতে চায় না।
কিছু সময় এভাবেই কেটে গেলো,পরি পেটের উপর হাত রেখে ফুঁপিয়ে উঠলো।কি করবে সে,পেটের সন্তানের বাপের খুনি হবে নাকি নিজেই তাকে ছেড়ে দিয়ে তার হাতে খুন হয়ে যাবে,সাথে তার পুরো পরিবার নিয়ে মরবে.

নাবিলকে ছেড়ে দেওয়া মানে,সে সহ পুরো পরিবারের মৃত্যু।আর যদি মেরে ফেলে তবে তারা বেঁচে গেলেও সারাজীবন একজন খুনি হয়ে বাঁচতে হবে।পরি বুঝতে পারে না এতো মানুষ কে খুন করে নাবিল কি করে শান্তিতে থাকে।পরি তো খুন করার কথা ভাবতেও পারছে না।একটা জলন্ত মানুষকে মেরে ফেলবে ভাবলেই তার কলিজা কাঁপছে।
পরি কিছু সময় ওভাবেই শুয়ে রইলো পরপর উঠে বসলো।এক পলক নাবিলের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাঁড়ালো।নাবিল সাথে করে গ্যান এনেছিলো নিশ্চয় আশে পাশেই রেখেছে কারণ তার পকেটে ত নেই।

পরি আশে পাশে চোখ বুলাতেই বিছানার পাশে দেখতে পেলো।পরি কিছু সময় সেদিকে তাকিয়ে রইলো,পরপর এগিয়ে যেয়ে হাতে বন্দুক তুলে নিলো।মাথার ভিতরে একটা গুলি ঠুকে দিলেই নাবিল শেষ তবে পরি কি আদেও এটা করতে পারবে।
পরি বন্ধুক হাত নিয়ে যেয়ে নাবিলের সামনে আস্তে করে বসে পড়লো।নাবিল কেমন লাল লাল চোখে তার দিকে তাকালো।চোখে চোখ পড়তেই পরি কেঁপে উঠলো।নাবিলের চাহনি তাকে ভিতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে।ছাড়া পেলে নিশ্চয় সবার আগে তাকেই মারবে।
পরি কিছু সময় কপালে হাত দিয়ে বসে রইলো।হাত পা কেমন কাঁপছে তার।পরি সময় নিয়ে চোখ তুলে নাবিলের দিকে তাকালো,যে কিনা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাঁসফাঁস করে উঠলো।পরপর কিছু একটা ভেবে নাবিলের মুখের বাঁধন খুলে দিলো তবে এবার নাবিল গালি দিলো না বরং পরির দিকে চেয়ে রইলো।
পরি নাবিলকে কিছু বলতে না দেখে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো

_”কিছু বলবেন ?যদি বলার থাকে বলতে পারেন ।”
নাবিল শব্দ করে হেসে উঠলো,পরপর কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”কেন, শেষ ইচ্ছা জিগ্গেস করতাছোস?”
পরি উত্তর দিলো না,নাবিল পরির নিরবতা দেখে আর একটু হেসে বললো
_”মারার হইলে মাইরা ফালা, কারণ আমি যদি বাইচা যাই তবে তুই বা তোর পরিবার কেউ বাঁচবো না।তাই যা কোরনের তাড়াতাড়ি কর।”
হুট করেই পরি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।সে কি খুনি যে মানুষ মেরে ফেলবে,তার মেনেও তো মায়া দয়া আছে।পরিকে কাঁদতে দেখে নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_”আমি কনো দিনও তোরে দুটো ভালা কথা বলি নাই।তাই এতো ভাবোনের কিছু নাই,তোর বাপ,মা”য়ে ঠিকি বলছে।তোর কাছে সুযোগ আছে।মাইরা ফালা।”
পরি দুই বন্ধুক সহ দুই হাত কপালে চেপে ধরে মাথা ঝুঁকিয়ে”না ” উচ্চারণ করলো।সে যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে ,কি করসে সে?
নাবিল চোখের পলক কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে আবারো হাসলো পরপর বললো

_”বন্ধুক না চালাইতে পারলে আমারে বল,আমি কইয়া দিতাছি। কিন্তু মনে রাখিস একদম মাথা বরাবর মারবি, কারণ আমি যদি বাইচা যাই তবে তোরে কেউ বাচাইতে পারবো না।”
পরি মুখ তুলে নাবিলের দিকে তাকালো ‌।কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে তার।পেটের ভিতরের বাচ্চাটাও যেনো নড়ে উঠছে।পরি অনুভব করছে তার সন্তানকে।পরি ফুঁপিয়ে উঠলো, কিছু সময় কাঁদল সে পরপর ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে কম্পিত হাতে বন্দুক নাবিলের বাম বুকে চেপে ধরলো।
নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,এক পলক পরির দুধে আলতা ফর্সা হাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিলো সে পরপর পরির দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমার একটা শেষ ইচ্ছা আছে, পূর্ন করবি?”
পরি ছলছল চোখে নাবিলের দিকে তাকালো,যেনো চোখ দিয়ে বুঝালো “বলুন”
নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_”আমার বাচ্চাডারে দুনিয়ার আলো দেখাইস, জন্ম দেওয়ার পর যদি কাছে না রাখোস তবু মারিস না।ওরে ওর দাদা দাদির কাছে ছাইরা দিস,তাও ও বাঁচুক।পেটের ভিতর থাইকা ওর নরম দেহটা কইটা কাইটা বাইর করলে ওর অনেক কষ্ট হইবো। এব*** করিস না।হাত পা গজায় গেছে ওর,ওরে বাঁচতে দিস।”
পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো
_”আপনি তো নিজেই একজন খুনি,যে কিনা অন্যের বুক খালি করে,তার উপর আপনার তো এই বাচ্চার উপর যেমন কোনো মায়াও নেই।থাকলে কি তাকে নিজে মুখে মারতে চাইতেন।তবু এখন কেন বাচ্চার কষ্টের কথা ভাবছেন। আপনার রক্ত দেখে, হয়তোবা আপনার আফসোস হচ্ছে আমি বেঁচে যাবো আপনার সন্তান মরে যাবে তাই বাঁচাতে বলছেন।দুই জনে এক সাথে মরলে আপনার কোনো আপত্তি নেই।সেই জন্যই তখন আমাকে সব নিজ বাচ্চাটাকেও মারতে চাইছিলেন?”
নাবিল জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো

_”তুই তো বাইচাই থাকবি,আর মাত্র কয় মাস,এর লাইগা করলাম,যতোই কস নিজের শরীরের অংশ তঝ তাই মায়া লাগে।”
পরি চোখের পলক ফেলে নাবিলের বুকে আরো জোরে বন্ধুক চেপে ধরলো,তবে তার হাত কাঁপছে।বুকটা কেমন ছ্যাত ছ্যাত করে উঠছে।নাবিল যেনো উৎসাহ দিলো পরিকে তাকে মারার জন্য, শান্ত কন্ঠে বললো
_”বেশি সময় নিস না,যা করার তাড়াতাড়ি কর।”
পরি শুকনো ঢোক গিলে নাবিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”আপনার একটা হৃদয় কেনো নেই নাবিল,যদি থাকতো তবে কত ভালো হতো।আসলে হৃদয় ঠিকি আছে তবে যা শুধু নিজের রক্তের জন্য পুড়ে,আমার জন্যও একটা মন বানিয়ে রাখতেন,তবে আজ এমন কিছু হতো না।”
_”যত পেচাল পারবি তত মায়া লাগবো,ভয় হইবো।কাউরে মারতে গেলে তার চোখের দিকে তাকাতেই নাই।বুকে যাইয়া লাগে হেই চাহনি।কাউরে মারার সময় এতো ভাবনা চিন্তাও করতে নাই। শুধু মনে হইলো ওরে মারার দরকার মাইরা দিলাম।এমনে মারতে হয়। তাড়াতাড়ি কর,এতো সময় নিয়া আমারে অধৈর্য করে দিস না।”
পরির ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ফুঁপিয়ে উঠলো, ভাঙ্গা কন্ঠে বিরবরি করে বললো

_”আমি আপনার মতো খুনি হতে চাই না।”
বলেই বন্দুক ছুরে ফ্লোরে ফেলে দিলো।নাবিল হেসে উঠে বললো
_”তোর বাপরে ডাক দে, তোরে দিয়া হইবো না,তোর কলিজা নাইরে নডি। তুই তোর বাপরে ডাক দে।তার পর দেখবি কেমনে টুস কইরা মাইরা দেয়।”
পরি হতভম্ব হয়ে গেলো,নাবিলের দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_”আপনার সবকিছু সহজ মনে হচ্ছে,কারো প্রান নেওয়া এতটাই সহজ,এতো? আপনার ভয় হচ্ছে না ? এই দুনিয়ায় না হয় মরে বেঁচে গেলেন তবে ওই দুনিয়ায় কি হবে? সবকিছু মজা মনে করছেন?”
_”সেই ডর থাকলে কি আর এই কাম কাজ করতাম। তুই এখন এতো কথা বইলা আমার মাথা গড়ম করিস না। যা করার তাড়াতাড়ি কর, কারণ আমার মত বইদলা গেলে আমি কি করমু আমি নিজেও জানি না। তাড়াতাড়ি মাইরা ফালা,১ সপ্তাহও আমারে মনে রাখতে পারবি না,দেখবি দুই দিনে ভুইলা গেছোস।সুখে থাকবি,ভালো থাকবি,বুঝলি?”

পরি আর এক মূহুর্ত ওখানে দাঁড়াতে পারলো না, চুপচাপ রুম থেকে বড়ে হয়ে গেলো।পরিকে বাইরে বেড় কতে দেখে পরশ হাওলাদার আর জায়মা বেগম এগিয়ে আসলো।
পরি এক পলক তার মা বাবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”আমি উনাকে মারতে পারবো না।”
পরশ হাওলাদার চোখের ইশারায় স্ত্রীকে কিছু বোঝাতেই,জায়মা বেগম পরির হাত চেপে ধরে তাদের রুমের দিকে টেনে নিয়ে গেলেন।পরি কিছু বুঝতে পারলো না। ভুরু কুঁচকে তার মায়ের দিকে তাকালো।
পরশ হাওলাদার পরির রুমে প্রবেশ করলো।নাবিল মাথা উঁচু করে পরশ হাওলাদারের দিকে তাকালো।পরশ হাওলাদার নাবিলের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_”আমার মেয়ে তোকে নিজের হাতে মারবে শুধু অপেক্ষা কর। ”

পরি এক পলক ভাতের প্লেটের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আবারো খাবারে বিষ দিয়েছো মা, oops এবার তো আমার বাবা এই বাচ্চামো করেছে।”
বলেই পরশ হাওলাদারের দিকে তাকালো।নাবিলের জন্য doctor এর দেওয়া মেডিসিন এনেছিলেন,তাই বলেছেন নাবিলকে কয়টা খাবার খাওইয়ে মেডিসিন দিয়ে দিতে।তবে হঠাৎ করেই তাদের এরকম শান্ত কন্ঠ আর মুখ দেখে পরি ধরে ফেললো আসল ব্যাপারটা।
পরি ভাতরে প্লেটটা দূরে সরিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”উনি আমার স্বামী হয় বাবা,থাক না একটু দোষ।থেকে যাক ওই পাপি দুনিয়ায়।তাতে এমন কি? আমি সব মেনে নিয়েছি তোমরাও মেনে নেও।উনাকে আর একবার মারার চেষ্টা করলে মনে রাখবে আরো দুটো প্রান যাবে।না হয় বিষ মাখা ভাত আমিই খেয়ে নিবো।”
পরশ হাওলাদার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৮

_”তুই সত্যিই চাচ্ছিস ও বেঁচে থাক?”
_”হ্যাঁ চাইছি,দেখি বাচ্চাটা দুনিয়ায় আসলে যদি ঠিক হয়ে যায়!”
_”ওরকম মানুষ জিবনে সুধরায় না!”
_”না সুধরাক,আমি মেনে নিবো, আল্লাহ উনাকে উনার প্রাপ্তটা বুঝিয়ে দিবেন,সময় হলে তার জীবন কেড়ে নিবেন তবে আমার কাউকে মারছি

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১০