Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ “বিয়ে হতে না হতে স্বামীকে খেএ ফেললো।এখনো একে বাড়িতে রেখেছে,আমি হলে কবে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দিতাম।”
নানির কথায় ইশিতা চম্কে উঠলো,ধীরো কন্ঠে বললো।
_”এই সব কি বলছো নানি, মেহমান হয়ে এসেছো, মেহমান থাকো,কেউ শুনলে কি ভাববে।
ইশিতার নানি মুখ কালো করে বললো
_”কি ভুল বলছি,একে তো বিধবা তার উপর আগেই নাকি আশ্রয়ীতা ছিলো ছ্যে!এটাকে বাড়ি থেকে বেড় করে না কেন। তুই পোয়াতি হলে যে ওর প্রভাব পড়বে না এর কি ভরসা আছে?”
ইশিতা একটু চম্কে উঠলো ,আশে পাশে তাকিয়ে বললো

_”নানি,,দয়া করে চুপ করো।কেউ শুনে ফেললে, খারাপ হয়ে যাবে।”
ইশিতার নানি মুখ বাঁকিয়ে এক পলক নুবার দিকে তাকালো পরপর চুপচাপ বসে রইলো।
ছোট্ট আয়রা হাঁটতে শিখেছে। ৪ থেকে ৫ কদম অনায়াসে হাঁটতে পারে তবে হামাগুড়ি দেয় প্রচুর। অনেক রকমের শব্দ উচ্চারণ করে সে,নুবা এবং পরিচিত মানুষকে দেখলেই চিনতে পারে তবে অপরিচিত মানুষদের সহ্যই করতে পারে না সে। একদম আরহামের মতো। অপরিচিত মানুষ দেখতেই পারে না।
নুবা ভাত নিয়ে আয়রার পিছন পিছন যেতে যেতে বললো
_”পড়ে যাবে তো মা, আস্তে।”
আয়রা জোরে দৌড়াতে যেএ মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো,নুবার কলিজা ছ্যাত করে উঠলো,ছুটে যেতে নিলেই হারুন মির্জা ছুটে এসে নাতিকে কোলে তুলে নিলেন।আয়ার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠলো।
হারুন মির্জা নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন

_”কিচ্ছু হয়নি তো, কান্না করে না দাদু ভাই।”
আয়রা দাদার গলা জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কাদলো।নুবা এগিয়ে এসে আয়রার শরীরে হাত রেখে বললো
_”বেশি ব্যথা পেয়েছো, বলছিলাম দৌড় দিতে না।”
হারুন মির্জা নাতনির কান্না থামাতে না পেরে,ফ্লোরে পা দিয়ে আঘাত করে বললেন
_”একদম মেরে দিবো ওকে, আমার দাদুভাইকে ব্যাথা দেয়। ”
ফ্লোরে আঘাত করতে দেখে আয়রা মাথা নিচু করে তাকালো,পরপর চোখের পানি নিয়ে সামনের ৬ টা দাঁত বেড় করে হাসলো।
নুবা এক হাত দিয়ে আয়রাকে নিতে নিতে বললো
_”আম্মুর কাছে আসো,দাদু কাজে যাচ্ছে।”
দাদু কাজে যাচ্ছে কথাটা শুনে আয়রা দাদার গলা জরিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে উচ্চারণ করলো
_”দাআদাআ।”
নুবা আয়রার হাত টেনে ধরে বললো
_”আসো আব্বু,দাদা ভাই কাজে যাচ্ছে তো।”
আয়রা দাদাকে ছাড়বে না সেই বাহানা ধরলো।নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে এক হাত দিয়ে টেনে নিজের কোলে নিলো।সাথে সাথে আয়রা গলা ফাটিয়ে কেঁদে উঠলো। হারুন মির্জা আবারো নাতনিকে কোলে তুলে বললো।

_”এখন এই বাহানায় খাবে না। তুই আগে ওকে খাওইয়ে নে তার পর না হয় যাবো।”
দাদার কোলে যেএ আয়রা লাফিয়ে উঠলো।নুবা মুচকি হাসলো, দাদাকে কাছে পেলে তার আর কিছু লাগে না। হারুন মির্জা আয়রাকে নিয়ে ঘুরতে লাগলো পিছন পিছন নুবা ঘুরে ঘুরে আয়ারকে খাওয়াতে লাগলো।আয়রা এঁটো মুখ দিয়ে হারুন মির্জাকে মেখে ফেলতে লাগলো।নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_”তুই তো দাদুকে মেখে ফেলছিসরে মা।”
হারুন মির্জা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে আদুরে গলায় আয়রার গালে হাত রেখে বললো
_”থাক,মাখুক,ও ছাড়া কে মাখবে।”
হারুন মির্জা আয়রার সাথে গল্প করতে লাগলেন এদিক দিয়ে নুবা এই ফাঁকে আয়ারকে খাওয়াতে লাগলো ।এর ভিতরে উঁচু পেট নিয়ে আরশি আস্তে আস্তে হেঁটে আসলো তাদের সামনে।নুবা এক পলক আরশির দিকে তাকিয়ে বললো

_”কিছু লাগবে আপু?”
আরশি মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”না কিছু লাগবে না।”
হারুন মির্জা হাতে টিস্যু নিয়ে আয়রার মুখ মুছে দিতে লাগলো।আরশি তা দেখে একটু হেসে বললো
_”আর কত দিন আরু, কয়দিন পর আপনার আদরে ভাগ বসাতে কেউ চলে আসবে তখন কার কোলে উঠবেন।”
হারুন মির্জা মেয়ের কথায় হেসে আয়রার দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে বললেন
_”ফুপিকে বলে দেও যে আয়রার আদরের ভাগ কেউ নিতে পারবে না,তাই না দাদু ভাই।”
বলেই আয়রার গালে চুমু খেলো।আরশি হেসে আয়রার গাল চেপে বললো,
_”দেখা যাবে,তবে এটাই বাস্তব ছোটরাই সব থেকে বেশি আদর পায়।”
পিছন থেকে আমিনা বেগম বলে উঠলেন
_”তবে এটাও মনে রখখবেন,বড়দের মতো আদর কেউ পায় না।”
কথাটা বলতে বলতে আমিনা বেগমের বুক ভারি হয়ে উঠলো,তার বড় সন্তান নেই, আসলেই নেই।
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো
_”হ্যাঁ হ্যাঁ দেখা যাবে, আমারটাকে বলে দিবো যাতে সবসময় নানা,নানির কাঁধে উঠে বসে থাকে।দেখবো কি করে আদর না করে।”
নুবা আয়রার মুখে ভাত দিয়ে বললো
_”আগে সুস্থ সবল আসুক,তার পর আদর খাবে।এতো দিনে আমার আরুই সবার আদর খাবে, এমন কি তার ফুপিরো।”
পরপর কিছু কথা দিয়ে হাসির রোল পড়ে গেলো। আমিনা বেগম এসে আয়রাকে কোলে নিয়ে হারুন মির্জাকে বললো
_”আপনি যেএ শার্ট পাল্টে আসেন।আমি ওকে দেখছি।”
হারুন মির্জা মুচকি হেসে নাতনির কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো।আমিনা বেগম আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_”কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবি,এখন কিন্তু শেষ সময়,যতোই doctor ডেট দিক না কেন।”
_”আচ্ছা বলবো আম্মু, তুমি টেনশন করো না।”
নুবা আয়রাকে খাওয়ানো শেষ করে তার মুখ আর এঁটো হাত মুছিয়ে দিতে দিতে বললো

_”রিহান ভাই কবে আসবে?”
আরশি আস্তে করে সোফায় বসে,পেটে উপর হাত রেখে বললো
_”আজ কালের ভিতরে চলে আসবে।তার পর একদম ডেলিভারির পর আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে।”
নুবা মুচকি হেসে বললো
_”তাহলে তো ভালোই।”
আমিনা বেগম,নাতনিকে নিয়ে ইশিতা আর তার নানির দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_”ইশিতা , উনার এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো।”
ইশিতা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”না না আম্মু,নানি তো আরো প্রশংসায় পঞ্চমুখী।”
বলেই তার নানির দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হাসলো,আধ ঘন্টা খানিক কাটতেই নুবা হাতের কাজ সেরে,আমিনা বেগমের দিকে এগিয়ে এসে বললো
_”‌ দেরটা প্রায় বেজেই গেছে চাচি আম্মু,ওকে গোসল টা করিয়ে দি,দেরি করলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
আমিনা বেগম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_”হ্যাঁ যা। গোসল করিয়ে নিয়ে আছিস ঘুম পাড়িয়ে দিবো।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে আয়রাকে কোলে নিয়ে এগিয়ে গেলো,ইশিতার দাদি মুখ কালো করে নিলো,যা খেলায় করলো আমিনা বেগম তবে কিছু বললো না, কারণ সে কারণটা জানে না।
কেটেছে ৬ থেকে সারে ছো মাস প্রায়।আরশির ১ সপ্তাহ পর ডেলিভারির ডেট দেওয়া হয়েছে।অবশ্য সিজার তবে আরশি নরমাল ডেলিভারি আশা করেছিলো।আয়রা বড় হয়েছে টুকটুক করে হাঁটতে পারে কথা বলে।
প্রথম দিক দিয়ে নুবা প্রায় অর্ধ পাগল হয়ে গেছিলো ফল স্বরুপ তাকে কয় একদিন হসপিটালে ভর্তি রাখা হয়েছিলো। অতঃপর আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেছে।
সবাই ঠিকই বলে, কারও জন্য পৃথিবী থেমে থাকে না। আরহাম চলে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম যেন মির্জা বাড়ির প্রতিটি দেয়াল শোকে ভারী হয়ে উঠেছিল। দিনের পর দিন কান্না, দীর্ঘশ্বাস আর নিঃশব্দতা ঘিরে রেখেছিল সবাইকে। কিন্তু সময়ের নিজস্ব নিয়ম আছে,ধীরে ধীরে মানুষ আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে বাধ্য হয়।

বাড়িতে আবার কাজের শব্দ শোনা যায়, হাসির আভাসও ফিরে আসে। শুধু একজনের জীবনেই সময় যেন থেমে রয়ে যায় ,তবে কেউ থেমে থাকে না তার জন্য।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কারো মনে এখনো রক্ত খনন হয়, সারাদিন ভালো কাটে তবে যখন সে নীরবে যায়,রাত হয় তখনি নুবার হৃদয়ে আরহামের অনুপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে রক্তক্ষরণ ঘটতে থাকে।
তেমন টা আরহামের মা,বাবা,বোন,ভাই সবাই তাকে মনে করে তবে নুবা, হ্যাঁ নুবার বুকে রক্ত খনন হয়।যখনি অতীতের কথা মনে পড়ে তখনি নুবার চোখ বেড়ে অঝরে পানি পড়ে।
সবার সামনে নুবা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে, যেন তার জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই। কিন্তু দিনের আলো নিভে কালো আধার নেমে এলে সেই মুখোশ আর ধরে রাখতে পারে না। নিঃশব্দ ঘরের এক কোণে বসে আরহামের স্মৃতিগুলো বুকে জড়িয়ে ভেঙে পড়ে সে। বালিশ ভিজে যায় অশ্রুতে, বুকের ভেতর জমে থাকা আর্তনাদ কেউ শুনতে পায় না। পৃথিবী তাকে হাসতে দেখলেও,প্রতিটি রাত নুবা একাই কাটায় আরহামের শূন্যতার অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে।মাঝে মাঝে আয়ারকে আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে সে।কি করবে সে,উপায় তো নেই।

নুবা আয়রাকে বাথটাবে বসাতেই আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো।নুবা আয়ারকে হাসতে দেখে আদুরে কন্ঠে বললো
_”শুধু পানিতে ভিজতে ইচ্ছে করে তাই না।”
আয়রা দুই হাত পানিতে নেড়ে নিজেই গোসল করতে লাগলো।নুবা খেয়াল করলো আয়রার মাথায় হালকা আলু হয়ে আছে, নিশ্চয় তখন পড়ে যেএ ব্যাথা পেয়েছে।
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,আয়রার কপালে হাত বুলিয়ে চুমু খেএ বললো
_”ব্যথা পেয়েছে আমার মা”টা ।”
আয়রা দাঁত বেড় করে হাসলো।নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে আয়রার গোসল সেরে তাকে তাওয়াল দিয়ে জরিয়ে রুমে আসলো।রুমে আসতেই তার বুক ভারি হয়ে আসলো। অনেক মাস ধরে রুমটা শূন্য।রুমটায় আসলেই নুবার কান্না পায়।তাই ইদানিং বেশির ভাগ সময় হাজেরার সাথেই থাকে নুবা।
নুবা আয়ারকে বিছানায় বসাতেই আয়রা হামাগুড়ি দিয়ে নুবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো , দুপুর না হতেই ঘুমে চোখ ভেঙ্গে আসলো তার,এখন নিয়ে শুলেই ঘুমিয়ে পড়বে।
নুবা মেয়েকে বুকে জরিয়ে শরীর মুছে দিলো।পরপর শরীরে বেবি পাউডার দিয়ে তাকে পাতলা পোষাক পরিয়ে দিলো।আয়রার হাতের বালা আর পায়ের নুপুর বেজে উঠলো। হারুন মির্জা সখ করে নাতনিকে রুপার জিনিস পড়িয়েছে।যখন সারা বাড়ি তোই তোই করে বেড়ায় তখন নুপুরের শব্দ শুনেই আয়রাকে খুঁজে বেড়ানো হয়, কারণ নিচে ছেড়ে দিলে সে রান্না ঘড় থেকে শুরু করে পুরো লিভিং রুম , ডাইনিং রুম,এমনি হাজেরার রুমে চক্কর দিয়ে আসে।

নুবা আয়ারকে গুছিয়ে পাশে শুয়ে বুকের দুধ দিলো,,নুবা জানে এখনি ঘুমিয়ে পড়বে,আর হলোই তাই আধ ঘন্টা খানিক পাশে শুতেই আয়রা ঘুমিয়ে পড়লো।নুবা উঠে বসলো আয়রার কপালে চুমু এঁকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলরো।
নুবা খেলায় করলো সেও কিছুটা ভিজে গেছে তাই ভাবলো গোসল টা সেরে নিলেই ভালো হবে।নুবা উঠে আস্তে করে আলমারির দিকে এগিয়ে গেলো।যখন ব্যস্ত হাতে সে নিজের জামা কাপড় নিতে ব্যস্ত তখনি নাকে ভসে আসলো পরিচিত ঘ্রাণ।নুবা শুকনো ঢোক গিললো পরপর পাশ ফিরে তাকাতেই আরহামের শার্ট, গেঞ্জি, পেন্ট সবি নজরে পড়লো।
নুবার বুক ভারি হয়ে আসলো,সে চাইলো সরে যেতে তবু পরলো না। কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে কম্পিত হাতে আরহামের শার্ট হাতে তুলে নিলো,পরপর শার্ট মুখের সাথে লাগিয়ে ঘ্রাণ নিতেই নুবার কলিজা কেঁপে উঠলো।সেই চেনা ঘ্রাণ তার শার্ট দিয়ে আসছে,সবার শরীরের একটা আলাদা ঘ্রান থাকে তার উপর আরহামের শার্ট দিয়ে বরাবরই পারফিউম এর ঘ্রান পাওয়া যায়।
নুবা শার্ট জরিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, অতঃপর চোখ বন্ধ করতেই চোখের পাতায় অতীতের কিছু পাতা ভেসে উঠলো।আলহামকে মনে পড়তেই নুবার চোখ বেয়ে পানি পড়লো।নুবা কাঁদতে কাঁদতে কেমন করে হেসে ফেললো।চোখে পানি নিয়ে মুখে হাসি টেনে শার্টে আঙ্গুল বুলাতে লাগলো নুবা। ইদানিং আরহামের কথা একটু বেশিই মনে পড়ে।তারা তো এতোটাও কাছে যায়নি,না এতোটা ভালোবাসা হয়েছে তাদের ভিতরে তাহলে কেনো এতো কষ্ট হয় নুবার? নুবা জানে না!
নুবার ভাবনার ভিতরেই হাজেরা এসে হাজির হলো ব্যস্ত কন্ঠে বললো,

_”বিচুটি পাতা কি ঘুমিয়ে গেছে,তার দাদি জান তাকে ডাকছে।”
মায়ের কন্ঠে নুবার হুস ফিরলো, সারাদিন আয়রা তোই তোই (দুষ্টামি)করে দেখে হাজেরা আয়রাকে বিচুটি পাতা বলে ডাকে।নুবা পিছন ফিরে তাকালো।মেয়েকে এভাবে আরহামের শার্ট আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাজেরার একটু খারাপ লাগলো তাও মৃদু কন্ঠে হেসে বললো
_”আবারো নক করে আসতে ভুলে গেছি।”
নুবা মায়ের কথায় হেসে বললো
_”এখন তো যার জন্য নক করে আসবে সেই নেই।এতো দিক ধরতে হবে না আর আয়ারকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি।”
হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের গালে হাত রাখলেন,মায়ের আদুরে হাত পেয়ে নুবা ঠোঁট ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। হাজেরা মেয়ের চোখের পানি মুছে বললেন।
_”সবার একদিন যেতে হবে,আগে বা পরে।এখনো কিচ্ছু শেষ হয়নি।আয়রা কে নিয়ে বেঁচে থাক, নতুন করে জীবন শুরু কর সবি তোর ইচ্ছে। বয়স এখনো পাড় হয়ে যায়নি।”
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে শার্ট আলমারিতে তুলে রাখতে রাখতে বললো

_”দোয়া করি আমার মৃত্যু পড়ো যাতে আমি আয়রার মা থাকি,আরহাম শাহারিয়ার মির্জার স্ত্রী থাকি,এই বাড়ির বড় বউ থাকি। এর থেকে বড় চাওয়া আর আমার নেই,এখন আয়রাই আমার দুনিয়া।সে আমার কাছে ভরসা করে রেখে গেছে আমি সেই ভরসা টুকু ভাংতে দিবো না ইনশাআল্লাহ।”
হাজেরা শান্ত কন্ঠে বললো
_”তুই যা ভালো বুঝিস,তা দুপুরের খাবার তো খেলি না নিচে আয়।”
_”তুমি যাও আমি গোসল সেরে আসছি।”
_”আচ্ছা”
বলেই হাজেরা চলে গেলো,নুবা এক পলক আরহামের জামা কাপড়ের দিকে তাকিয়ে ভারি কন্ঠে বললো
_”ধুলো পড়ে যাবে তবু হয়তোবা এগুলো পড়ার মানুষ ফিরবে না,তবে ভয় নেই। আপনার রেখে যাওয়া একটা জিনিসো আমি কাউকে দিবো না।সেটা হোক জামা কাপড় বা আপনার রেখে যাওয়া ছোট্ট আমানত,যতো দিন বেঁচে আছি,ততদিন সবি আমার জিম্মায় থাকবে।”

রাত ৯ টা নাগাত, প্রতিদিনের মতো সবাই খেতে বসেছে নুবা সবে মাত্র খেতে বসলো তখনি হারুন মির্জা বলে উঠলেন
_”আয়রা কোথায়।”
নুবা প্লেটে ভাত তুলতে তুলতে বললো
_”আশে পাশে তাকিয়ে দেখো, হয়তোবা কোথাও ঘুরঘুর করছে।”
হারুন মির্জা চিন্তিত কন্ঠে বললেন
_”এভাবে ফ্লোরে সারাদিন তোই তোই করলছ নিশ্চয় ঠান্ডা লেগে যাবে,এখন তো দেখি র জন্য পুরো ফ্লোরে কিছু বিছিয়ে রাখতে হবে।”
আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললেন
_”সেটা করলেই ভালো হয়।”
এমন সময় তুরতুরে আয়রা হামাগুড়ি দিয়ে এসে দাদার চেয়ার ধরে দাঁড়ালো। হারুন মির্জা আদুরে কন্ঠে বললো

_”এই তো আমার দাদু ভাই, আপনাকেই তো খুঁজছিলাম।”
আয়রা দাঁত কেলিয়ে হাসলো। হারুন মির্জা নাতনিকে কোলে তুলে নিলো, সাথে সাথেই আয়রা হারুন মির্জার খাবারের প্লেটে দুই হাত চালালো।নুবা সেদিকে খেয়াল করে মৃদু কন্ঠে বললো
_”নামিয়ে দেও,না হলে খেচে দিবে না।”
হারুন মির্জা নাতনির দুই হাত ধরে বললেন
_”থাক, আমার দাদু ভাই খেতে এসেছে।তাই না দাদু।”
সবাই মৃদু হাসলো, কিছু সময় যাওয়ার পড়েই ইশিতার নানি হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
_”তা,আপনের বড় পোলার বউ এর তো বয়স অনেক কম,আবার বিয়া টিয়া দিবেন নাকি,আসলে আমগো একটা পোলা আছে বউ টা মইরা গেছে একটা ছোট্ট মাইয়া আছে দিলে তো ভালোই হয়।”
ইশিতা নানির কথায় সবাই চমকে উঠলো,ইশিতা চোখ মুখ খিচে নিলো,এই নানির মুখটা সে বন্ধ করতে পারলো না।কি যে করবে।
হারুন মির্জা,বুড়ো মানুষ দেখে ইশিতার নানিকে কিছু বললো না শুধু শান্ত কন্ঠে বললো

_”আমার ছেলের বউকে আমরা বিয়ে দিবো না,তবে ভবিষ্যতে যদি ও চাই তবে দিতে পারি,এটা নিয়ে আপনার মাথা ব্যথা করতে হবে না।”
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,এই বাড়িতে আসার পর থেকে এই বুড়ি নুবাকে বিভিন্ন কথা বলেই যাচ্ছে,নুবা শুধু বুড়ো মানুষ দেখে শুনে যাচ্ছে তবে আজ তো অতিরিক্ত করে ফেললো
ইশিতার নানি পরপর বলে উঠলো
_”না মানে বলছিলাম যে,এই গুলা অশুভ হয় বুঝলেন। আমার নাতনিডা আছে ভবিষ্যতে পোয়াতি হইলে নিশ্চয় এর প্রভাব পড়বো।বুঝতে তো হইবো।”
এরকম কথায় সবাই একটু ক্ষেপে গেলো,নুবার গলায় ভাত আঁটকে গেলো, ঠোঁট দুটো তিরতির করে কেঁপে উঠলো, কেমন কান্না পেলো তার তবে প্রতিবাদ করতে চাইলো সে কিন্তু প্রতিবাদ করার শব্দ খুঁজে পেলো না,আমিনা বেগম নুবার চুপসানো মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগি বলে উঠলেন

_”এই সব কিরকম কথা আপনার,আপনি আসার পরের থেকে আমার বড় ছেলের বউ এর পিছনে পড়ে আছেন, আমি কিন্তু সবি জানি তবে আজ না বলে পারছি না।আর দুটোই আমার ছেলের বউ।তাই তাদের দেখার দায়িত্ব আমাদের, আপনার আমার ছেলের বউদের নিয়ে চিন্তা না করলেও হবে। এই সব কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস করি না।”
ইশিতার দাদির মুখ চুপসে গেলো,ইশিতা লজ্জিত বোধ করে বললো
_”আম্মু আপনারা কিছু মনে করবেন না,উনি একটু এমনি,বুঝতেই তো পারছেন এই বয়সে এসে কি আর করবে।”
ইশিতার নানি কালো মুখ করে ইশিতার দিকে তাকালো,আরশি মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠলো

_”ভাবি তোমার নানির মুখে লাগাম টানতে বলিও না হলে আমাদের মুখ ছুটলে লাগাম টানার সময় পাবে না।”
হারুন মির্জা সবার কথা শুনে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_”আমার ছেলের বউ, আমার ঘড়ের লক্ষী।সেটা ছেলে থাকুক আর না থুকক।ওর বিষয়ে আপনি কথা না বললেই আমরা খুশি হবো।”
সবাইকে এভাবে কথা বলতে দেখে হাজেরা বেগম শান্তির নিশ্বাস ফেললেন।সে না থাকলেও তার মেয়েটাকে দেখার লোক আছে ভেবেই তার বুক ভরে আসলো।নুবার চুপসানো মুখটা আবারো শীতল হয়ে আসলো।সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে উঠে গেলো,নুবা উঠতে নিলেই আমিনা বেগম এগিয়ে এসে নুবার মাথায় হাত রেখে বললেন

_”শুন,কেউ কিছু বললে,মুখের উপর কড়া জবাব দিবি কারণ সবসময় আমরা থাকবো না।এটা মনে রাখছি নরম মানুষকে জাতে বেশি,শক্ত থাকবি।’
আমিনা বেগমের কথায় নুবার বুক ফেটে নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো।আরহামের কথা মনে পড়লো তার,আরহামো তো বলেছিলো এই কথা।তবে অনেক তাড়াতাড়িই চলে গেলো।
হাজেরা বেগম দুর থেকে বিষয়টা খেলায় করে হাসলেন,এর আগে কথায় কথায় নুবাকে আবার বিয়ে দেওয়ার কথা উঠেছিলো।সেই কথা শুনে,নুবার কি রাগ,এর পর থেকে ভুলেও কেউ এরকম কথা তুলে না, আজ তো হাজেরা ভেবেছিলো নুবা রেগে তবে হয়তোবা সবাই কথা বলায় নুবা চুপ করে ছিলো।

আয়রাকে ঘুম পাড়িয়ে নুবা চোখ বন্ধ করতেই চোখের সামনে আরহাম ভেসে উঠলো।মনে হলো পিছন থেকে এসে সেই আগের মতো জরিয়ে ধরেছে।নুবা নড়লো না যদি সেই অনুভূতি সরে যায় তাই চুপচাপ এঁটে শুয়ে রইলো।ঘুমের ভিতরে হাসলো নুবা,চোখ বেয়ে পানি পড়লো।এই সব তার হয়ে গেছে,এই রুম এই বাড়ি,নামের পিছনে মির্জা লেগেছে তবে যার জন্য এতো কিছু হলো সেই নেই।ভাবলোও নুবার দম বন্ধ হয়ে আসে।
সকাল সকাল বাড়ির সবাই চিন্তিত হয়ে এদিক ওদিক কাউকে খুঁজছে,সকালে আয়ারাকে লিভিং রুমে এসে ছেড়ে দিয়েছিলো এখন আর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।প্রথমে সবাই শান্ত থাকলেও এখন আয়রাকে না খুঁজে পেয়ে চিন্তিত হচ্ছে।
নুবা সব জায়গা চোখ বুলিয়ে দেখলো তবে পেলো না,আয়রাকে না দেখে নুবা অস্থির হয়ে উঠলো মৃদু কন্ঠে ডাকলো

_”আরু সোনা। আম্মু।”
তবে উত্তর এলো না,নুবা প্রায় কেঁদে ফেলবে এমন। পরপর ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_”কোথায় গেলো,এই মাত্র এখানে ছেঁড়ে গিয়েছি।”
রিহান আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_”উম, চিন্তা করো না, আশে পাশেই আছে।যেই তুরতুর করে নিশ্চয় কোনো চিপা চাপায় লুকিয়ে আছে।”
তখনি উপর থেকে হাজেরা বলে উঠলো
_”উপরে তো নেই।”
অবশ্য সরি বেয়ে আয়রা উপরে যেতে পারবে না তাও মাঝে মাঝে দু এক সিরি উঠে যায় তাই দেখে আসলো হাজেরা তবে নেই।
নুবার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলো। হঠাৎ করেই কোথায় উধাও হয়ে গেলো,বাপের মতো ফাঁকিবাজ নাকি।ভাবতেই নুবার বুকটা খচ করে উঠলো। এবার উল্টা পাল্টা কিছু হলে নুবা মরেই যাবে।
আমিনা বেগম,হাজেরা,আরশি সবাইকে চিন্তায় ফেলে দিলো আয়রা।নুবা ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_”কোথায় গেলো।ওর যদি কিছু হয় ত___
বাক্যে শেষ হওয়ার আগেই রান্না ঘড়ে থেকে পানির শব্দ শোনা গেলো আর ফিসফিস হাসির শব্দ দেওয়ালে বারি খেলো।নুবা পিলে চম্কে উঠে সবার দিকে তাকালো পরপর সবাই সবার মুখ চাওয়া চাওয়ি করে ছুটে গেলো রান্না ঘড়ে।
রান্না ঘড়ে যেতেই সবার চোখ কপালে উঠে গেলো,পুরো রান্না ঘড় পানি দিয়ে ভেসে গেছে, কেবিনেটের নিচের থেকে পানি নাড়ার শব্দ সাথে কারো হা,হুম,উম শব্দ ভেসে আসছে।নুবা এগিয়ে যেএ ঝুকে তাকাতেই চম্কে উঠলো।নিচে বসে পানির কল ছেড়ে দিয়ে কি সুন্দর খেলছে আরহামের বেয়াদব মেয়ে।নুবা কিছু খন সেদিকে তাকিয়ে থাকতেই আয়রা ফিরে তাকালো।পরপর দাঁত বেড় করে হেসে সবার মন জুরিয়ে দিলো।নুবা চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কমড়ে ওরনা গিট দিতে দিতে বললো

_”রান্না ঘড় কে চেক করেছিলো।”
রিহান নিষ্পাপ চেহারা করে বললো
_”আ,আমি করেছিলাম,তবে তখন থেকে তো আয়রা ওখানে ছিলো না।”
নুবা কমড়ে হাত দিয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_”নিশ্চয় কলটা আপনিই ছেঁড়ে দিয়েছেন,না হলে আয়রার খুলার সাধ্য এখনি হয়ে উঠেনি।”
রিহান চোখ বড় বড় করে বললো
_”কি,আমি না,আমি না,আমি তো ওকে দেখিই নি।”
আরশি এগিয়ে এসে বললো
_”তুই আমার নিষ্পাপ জামাই টার দোষ মোটেও দিবি না,তোর মেয়ে দুনিয়ার ইতর, আমার জামাইয়ের কি দোষ। ”
নুবা কটমট করে রিহানের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”অসল একটা জামাই তোমার, নিচু হয়ে একটু সব খুঁজে দেখতে পারেনি,যত সব অলস মানুষ।”
আরশি চোখ উল্টে নিজের পেটের দিকে ইশারা করে বললো
_”এটা হচ্ছে অলসতার ফল বুঝলি, আমার সোনাটা মোটেও অলস না,তোর মেয়ে ফাজিল, আমার নিষ্পাপ জামাই টাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে তার থেকে বড় কথা তুই কেন চেক করিসনি।”
হাজেরা কপাল চাপড়ে বললো

_”তোরা তর্ক করতে থাক,ওখান দিয়ে আয়রা কক্সবাজারের ফিল নিক।”
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_”কি অবস্থা করেছে,সব কয়টা এখান থেকে বেড় হ,এই সব মুছতে হবে। ”
নুবা তর্ক না করে যেএ ভিজে যাওয়া আয়রাকে কোলে তুলে ধমকে বললো
_”একদম তুলে একটা আছার দিবো,সকাল সকাল গোসল করতে ইচ্ছে করেছে। সবাইকে ভয় দেখিয়ে ফেলেছিলি,বেয়াদব মেয়ে।”
নুবার রাগি মুখ‌ দেখে আর ধমক শুনে আয়রা ঠোঁট ফুলাতে লাগলো।হাজেরা নুবাকে উল্টে ধমক দিয়ে বললো
_”একদিন বলছি পোলাপাইনকে্যধমক দিবি না,কথা কানে যায় না।”
নানির প্রতিবাদে খুশি হলো আয়রা দুই হাত পেতে তার কাছে যেতে চাইলো।নুবা যেতে দিলো না, হাঁটা দিলো আয়ারকে নিয়ে কারন এখন যেএ ভালো পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিতে হবে,এভাবে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
নুবা যেতেই রিহান বিরবির করে বলে উঠলো
_”তুমি পাইছো একটা ভাইয়ের মেয়ে, আল্লাহ সকাল সকাল নাকে মুখে চুবানি দিয়ে ছাড়লো।”
আরশি রিহানের বুকে চিমটি কেটে বললো
_”একদম আরুকে নিয়ে কথা বলবেন না,ও আমাদের কলিজা,আর তার থেকে বড় কথা আপনার টা আগে হোক তার পর দেখবো কি করে সামাল দেন,সমান্য বাচ্চা খুঁজতে পারেন না আর আসছে বাপ হতে।”
পিছন থেকে আমিনা বেগম তাড়া দিয়ে বললো
_”তোরা কি এখান থেকে বেড় হবি নাকি।”

আয়রা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে,নুবা তার উপর দুটো বসিয়ে দিয়েছে আয়ারকে,দিবে না কেন কতটা টেনশনে ফেলে দিয়েছিলো।আয়রাকে থামতে না দেখে নুবা আবারো ধমকে বললো
_”চুপ করবি নাকি আর একটা দিবো।”
মায়ের এরকম চোখ রাঙ্গানিতে আয়রা আরো কেঁদে উঠলো,নুবা আলতো করে আয়রার গালে চড় বসিয়ে বললো
_”চুপ।”
আয়রা আরো কেঁদে উঠলো,ছুতের বুড়ি সে ,একটু ছুলেই কেঁদে উঠে আর ধমক দেওয়া তো যায়ই না।
আয়ারর শরীর মুছে শুকনো কাপড় পড়িয়ে,নুবা আয়ারকে শাসিয়ে বললো
_ যদি দেখেছি আর পানিতে ভিজতে তবে খবর আছে
নুবার কন্ঠ নরম হতেই আয়রা দুই হাত তুলে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।নুবা আয়রার কাঁদো কাঁদো মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসলো।আয়রা নুবার গলায় মুখ গুজে শব্দ করে কাঁদলো,নুবা জানে এখন যত সময় তাকে আদর না করা হবে তত সময় এভাবে কাঁদতেই থাকবে, একদম পাকা ঢঙ্গি বুড়ি।
নুবা দুই হাত দিয়ে আয়ারকে বুকে জরিয়ে নিলো,হালকা দোল দিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”আমি কি মারতে পারি আমার মা”টাকে,একটুও ধমকে দেইনি আরুকে।কার সাহস হয়েছে আমার মা”টাকে ধমক দেয়,একদম মেরে দিবো।”

নুবার আদুরে কন্ঠ শুনে আয়রা তার মুখ পানে তাকালো পরপর নিজের আবারো বুকে মুখ গুজলো,আসলে সে দেখে নিলো তার মায়ের রাগটা কমেছে কিনা।আয়রার কান্ড দেখে নুবা মিটমিট করে হেসে তার গলায়,মাথায়,হাতে চুমু খেলো,,গালে ঠোঁট ঠেকিয়ে বললো
_”আমি আরুকে বকিনি তো,আমি পঁচা আরশিকে বকেছি, আমার আরু কত ভালো।একদমি দুষ্টামি করে না। আমার লক্ষি মেয়ে।তাকে কি আমি বকতে পারি।আমি আরশিকে বকেছি,একদম পঁচা ফুপি তোমার তাই না।আমি আরুক বকিনি।সবাই খারাপ আমার আরু কত ভালো।”
আয়রার কান্না থেমে এলো,নুবা তা দেখে আয়রার পেটে সুরসুরি দিলো,আয়রা নুবার বুক হাতরিয়ে বিরবির করে বললো
_”মা,মা।”
আয়রার মুখে মা ডাক শুনে নুবার প্রান জুড়িয়ে গেলো,আয়ারকে বুকে জরিয়ে চুমু খেএ বললো
_”কি হয়েছে আমার মা”টার‌।সবাই শুধু বকে,সবাই তো বুঝে না আমার মা খুবি পয় পরিষ্কার, সবসময় গোসল করতে চায় তাই না আম্মু। আমার মা একটুও দুষ্টু না।”
মায়ের কথায় আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো।নুবা আয়ারকে শুইয়ে বুকের দুধ দিলো।আয়রা এই সুযোগ লুফে নিলো, চকচক শব্দ তুলে খেতে লাগলো।নুবা মেয়ের হাতের হাতের তালুতে চুমু খেলো পরপর আঙ্গুল গুলো মুখে পুরে ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে বললো

_”এই হাত দুটো এতো শক্ত হয়ে গেছে সে কল ছেড়েফেলেছেন ।এতো পঁচা কেন আপনি,আপনি বুঝেন না আম্মুর কতটা চিন্তা হয়। আপনাকে ছাড়া আমি নিঃশ্ব আপনি বুঝেন না।আপনি ছাড়া আমার কে আছে।”
বলতে বলতে আয়রাকে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো নুবা,বাপের মতো হাত পার আঙ্গুল গুলো লাম্বা লাম্বা হয়েছে,চুলো হয়েছে আরহামের মতো,সাথে পিঠের বা পাশে জন্মদাগ,বুকে তিল,পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে তিল,সব বাপের মতো হয়েছে,আরহামেরো বুকে আর পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে তিল আছে।নুবা দেখছিলো অনেক আগে,তখন সে ভাবতো,সবাই সত্যিই বলে পায়ে তিল থাকলে মানুষ বিদেশে যায়।কথা টুকু ভেবেই নুবা হাসলো।
আয়রার পা উঁচিয়ে চুমু খেএ ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”আমাকে কখনো ছেড়ে যাস না, তুই ছাড়া এই সংসার জীবনে আমার অস্তিত্ব নেই।আমি কক্ষনো তোর সৎ মা হবো না।কক্ষনোই না।আমিই তোর মা,আর এটাই সত্যি ,আমি তোর মা।”
নুবা অধিকার দেখালো,যদি আয়রার জন্মদাতি মা”ও যদি আসে তাও আয়ারকে সে দিবে না,আয়রা তার মেয়ে তার সবকিছু।নুবা এই সব ভাবতে ভাবতে কেঁদে ফেললো। তার কখনোই দ্বিতীয় সন্তান আসবে না, কারণ সে দ্বিতীয় বার বিয়েই করবে না।আয়রাই তার সব,তার সন্তান,তার অধিকার দায়িত্ব।
নুবা বিরবির করে উঠে বললো

_”এমন কথা তো ছিলো না। যেখানে আমাকে সামলে নেওয়ার কথা ছিলো সেখানে আমাকে দেখার মতো কেউ নেই। হ্যাঁ সবাই আছে তবে আপনি কেনো নেই। বিয়ের পর একটা মেয়ের জন্য তার স্বামীই তো সব,তাহলে আপনাকেই কেনো এতো তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো?”
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে ভালো
_”কেনো ছেড়ে চলে গেলেন আরহাম, আমাদের একটা সংসার হওয়ার কথা ছিলো।সবি হলো তবে টিকলো না কেন? আপনিও স্বার্থপর,ঠকবাজ,ঠিক আপনার ছোটো ভাইয়ের মতো।সে যেমন আমাকে‌ ক্ষনেকের জন্য স্বপ্ন দেখিয়ে নর্দমায় ছুরে ফেলে দিয়েছিলো ঠিক আপনি তেমন করলেন।সেই নর্দমা থেকে সযত্নে উঠিয়ে আবারো গভীর অতলে তলিয়ে রেখে চলে গেলেন।এতো তাড়াতাড়ি যাওয়ার হলে আসার কি দরকার ছিলো। আমার জীবনে আশার আলো হয়ে না আসলেই পারতেন।”

নাবিলের জীবনে শান্তি চলছে তবে আফসোস নিয়ে। আরহামের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর, সন্দেহ মোতাবেক নাবিলকেও জিজ্ঞাসা বাদ করা হয়েছিলো।নাবিল তো শুনেই অবাক হয়েছিলো আরহাম মরে গেছে।সে তো সুস্থ হয়ে আরো আরহামকে টপকানোর পায়েতারা করছিলো তবে হঠাৎ করেই আরহামের মৃত্যুর খবর শুনে সেও হতাশ হয়েছিলো, কারণ সে নিজে মারতে পারলো না তবে খুশিও হয়েছে বেশ।
যা ধারনা করা হয়েছিলো তাই হয়েছে,ধুলো পড়ে গেছে আরহামের তদন্ত ফাইলে।কেউ খুলেও দেখে না। সপ্তাহে যেই কয়বার হারুন মির্জা কল করে তখনি বলা হয়,তারা চেষ্টা করছে তবে কিছুই বুঝতে পারছে না। হারুন মির্জা চুপচাপ আছেন এই ভেবে যে সে এই কেস অন্য কারো হাতে তুলে দিবেন,সেই ব্যবস্থা করছে হারুন মির্জা,অতী শিঘ্রই সব ঘটনার খোলাসা করবেন।

বাস্তবতা এতোটাই কঠিন যে পরি সব মাথা পেতে নিয়েছে,সময়ের সাথে সাথে হয়ে উঠেছে এই বাড়ির বড় বউ। কয়দিন বাচ্চা রাখবে না বলে মেডিসিন নিয়মতি নিতো তবে সে অনুভব করেছিলো এই মেডিসিন নিয়মিতি নিলে তারি সমস্যা হবে।
অতঃপর আবার ভেবেছিলো, সমস্যা হলেও কি,সেকি বাচ্চা নিবে নাকি,কক্ষনোই না।উপর দিয়ে না বললেও সেও একজন নারী,তার ভিতরেও আশা আকাঙ্ক্ষা আছে।একটা সংসার,ভালো স্বামী,২/৩ টা বাচ্চাকাচ্চা,সবি আশা ছিলো তার তবে নাবিল সব ভেঙ্গে দিয়েছে, অবশ্য সবাই পরিকে বুঝাচ্ছে যাতে সব মেনে নেয়।পরির উপায় না থাকায় নিজেই মেনে নিয়েছি।
মেডিসিন নেওয়ার বন্ধ করেছে কয় এক মাস হবে, নিশ্চয় বাচ্চা রয়ে গেছে,পরি টের পাচ্ছে কারণ মাসিক হচ্ছে না তার সাথে ভাব গতিও ভালো না,সব বুঝেও নিশ্চুপ সে।এখনো দ্বিধা দন্তে ভুগছে বাচ্চাটা রাখবে কি রাখবে না?

পরির বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,মাঝে মাঝে শাশুড়ির ফোন দিয়ে বাড়িতে কথা বলে সে,এই বিষয়ে নাবিল কিছুই জানে না।জানলে হয়তোবা পরিকে আস্ত রাখবে না কারণ তার জন্য বাইরের দুনিয়া সব তার পুরো পরিবার হারাম হয়ে গেছে।কারো সাথে কথা বলতে পারবে না সে ‌।
ভাবনা চিন্তা করেই পরি বারান্দা থেকে উঠৈ দাঁড়ালো, সন্ধা হয়ে এসেছে,এখনি নাবিল বাড়িতে ফিরবে, অবশ্য‌ তার বাড়ি ফিরার সঠিক সময় নেই যখন ইচ্ছা তখন ফিরে।কখনো আবার ফিরেও না।যেদিন না ফিরে সেদিন পরির থেকে খুশি আর কেউ হয় না।নাবিল বাড়িতে না থাকলেই পরি শান্তি পায়।
বারান্দা থেকে আসতে আস্তে নজরে পড়লো নাবিল এসেই বসেছে বিছানায়।পরি ফিরে তাকালো না চুপচাপ দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইলো,নাবিল পরির দিকে তাকিয়ে কর্কশ কন্ঠে বললো
_”ঠেডার মতো দাঁড়ায় রইছিস কেন,এক গ্লাস পানিও তো সাধতে পারিস নাকি।”
পরি এক পলখ নাবিলের দিকে তাকিয়ে মুখ সামলাতে না পেরে বললো
_”এসেছেন তো কাউকে ধর্ষন করে না হয় খুন করে ।আপনার কি মনে হয় এরকম মানুষকে পানি সাধা ছোয়াবের কাজ?”
বলতে বলতে বোতল থেকে পানি ঢেলে বিছানায় নিয়ে যেএ রাখলো।নাবিল তেতে উঠলো মগ নিয়ে পরির দিকে পানি ছুরে মেরে বললো

_”খানকির বাচ্চা, কথা তো বলিস না যখন বলিস মুখ দিয়ে বিষ ছাড়া বেড় হয় না,আর কয়বার বলবো , ঠান্ডা পানি দিবি আর হাতে আইনা দিবি।বুঝোস না না চুতমা***”
পরি চম্কে উঠলো না। বরং ঠান্ডা পানি আনতে এগিয়ে যেতে লাগলো, কারণ কথা বলে লাভ নেই,মাঝে মাঝে মুখ ফসকে বেড় হয়ে যায়,না হলে সবসময় চুপ থাকতেই চেষ্টা করে সে।পরিকে এরকম হেলামি করতে দেখে নবিল অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো । অত্যান্ত রাগে খেকিয়ে উঠে বললো,
_”তেজ দেখাইলে একদমি জমিনে পুইতা রাখমু।”
পরি উত্তর দিলো না ঠান্ডা পানি আনতে চলে গেলো। কিছু সময় পর পানি এনে নাবিলের হাতে দিলো।নাবিল আর কিছু বললো না, চুপচাপ পানি খেএ নিলো।
নাবিল উঠে দাঁড়িয়ে বললো

_”লুঙ্গিডা দে গোসল কইরা আহি, শরীর পিটপিট করে চুলকাইতাছে।”
পরি ধীরে পায়ে যেএ লুঙ্গি বেড় করতে লাগলো।নাবিল বাড়িতে থাকলেই এগুলাই পড়ে ,এতো আবশ্য পরির কোনো যায় আসে না।যা ইচ্ছা তাই করুক তার কি।
নাবিল লুঙ্গি আর তাওয়াল নিয়ে গোসল করতে ডুকে গেলো। পরি চুপচাপ যেএ বিছানার এক কোনায় বসলো।জীবনটা কোথা থেকে কোথা চলে এসেছে তার নিজেরো জানা নেই।
কিছু সময় পড়েই আনবিল লম্বা শাওয়ার নিয়ে বেড় হয়ে আসলো।পরি মন মরা হয়ে বসে রইলো, সবকিছু বিষাক্ত আর কেমন অগুছালো লাগে তার, ইচ্ছা করে পালিয়ে যেতে তবে কোথায় যাবে,তার পরিবার যে আছে। কেমন সাদা কালো হয়ে গেছে জীবনটা। সারাদিন রুমে বন্দি থাকো,মাঝে মাঝে শাশুড়ির,জা দের সাথে কথা বলো তারপর আবার রুমে। অতঃপর নাবিল আসবে,কয় একটা হুকুম করবে,রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ এসে বিছানায় শুয়ে পড়ো। তার মন ভরে গেলেই বিছানার এক কোনায় পড়ে থাকো তার পর আবার সেই ঠেলে ঠুলে জীবন চালাও।

পরি সংসার করে না বরং ঠেলা গাড়ি চালায়,যা প্রতিদিন একি গতিতে চলে আবার থেমে যায়।একটা সুন্দর সংসার চেয়েছিলো‌ তবে পেলো শূন্যতা আর অপূর্ণতা।
বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করে তার, একটু সবার মতো স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা পেতে,বাইরে যেতে,তার ছোটো বোনটাকে মনে পড়ে পরির কত ইচ্ছা ছিলো তার একটা দুলাভাই হবে তার সব ইচ্ছা পূরণ করবে,বড় ভাই নেই তার বোন জামাইকে বড় ভাই বানাবে তবে পেলো কচু,কিছুই না।
পরির ভাবনা ভাংলো নাবিলের স্পর্শে।নাবিল এগিয়ে এসে পরির উন্মুক্ত কমড়ে হাত ঢুকিয়ে কাছে টেনে নিলো।পরি টু শব্দ টুকু করলো না,আর না বাঁধা দিলো।কোনো কিছু করেই লাভ নেই উল্টা কিছু বললে মার খেতে হবে।এখন আর পরির শরীরে কুলায় না তাই চুপচাপ থাকে।এতো মার খাওয়ার ইচ্ছা নেই তার।
নাবিল পরিকে কাছে টেনে বললো
_”লুঙ্গিতে একটা আলাদা শান্তি বুঝলি।হুয়োনের সময় খুলতে হয় না আপনা-আপনি খুইলা যায়,আইজ থেইকা তুই শাড়ি পড়বি,ছায়ার নিচে কিছু পড়নের দরকার নাই, আমার সুবিধা হইবো।প্রেত্যেকদিন এতো টইনা টুইনা খুলতে ভালো লাগে না।”
পরি সহ্যই হয় না নাবিলের কথা। এরকম খেত ভাষা শুনলেই তার শরীর জ্বলে উঠে, অশ্লীলতায় ভরপুর,কথার আগে গালি আর বিচ্ছিরি কথা বার্তা। পরি লাগাম ছাড়া কথা গুলো হজম করে নিলো,নাবিল পরির সরু কমড়ে আঙ্গুল বুলিয়ে বললো

_”কি হইলো কথা কস না কেন।পড়তে না চাইলে সমস্যা নাই।প্রত্যেকদিন আমি আহোনের আগে তাইয়ার হোইয়া, হুইয়া থাকবি।জামাইয়ের কষ্ট বুঝনের চেষ্টা কর।হারাদিন কষ্ট কইরা আহি,আবার আইয়া এতো কষ্ট করতে ভালা লাগে না বুঝলি।”
পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো।কিছুই ভালো লাগছে না তার, নাবিল কি সাবান দিয়ে গোসল করেছে কে জানে শরীরের গন্ধ নাকে আসতেই পেট পাকিয়ে বমি আসছে পরির।
পরিকে অন্য দিকে মুখ করে থাকতে দেখে নাবিল পরির গলায় মুখ গুজে বললো
_”কথা কইতে মুখ ব্যথা করে, একদিন এক থাপ্পর মাইয়া কানের পর্দা ফাটাই দিমু।তখন বুঝবি ত্যারামো করার ফল।”
পরির মাথা ঘুরে উঠলো,পেট পাকিয়ে গলার কাছে চলে আসলো।নাবিল পরপর পরির থেকে একটু সরে যেএ বললো
_”হুন,আগে যাইয়া কসলাইয়া কসলাইয়া গোসল কইরা আয়,শরীর দিয়ে বদ গন্ধ কইতাছে।নাকটা জ্বইলা গেলো আমার।পুরো শরীর ডোইলা গোসল কইরা আবি যাতে কিছু বাদ না থাকে যা!”
পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”দুপুরে করেছি।”
_”যা বলছি তা কর,বেশি পেচাল না পাইরা,না হইলে হেডা ভাইংগা দিমু।”
পরি উঠতে নিলো তবে সাথে সাথে তার মাথাটা ঘুরে উঠলো,, অনেক খন ধরে এক ধ্যেনে বসে থাকায় হয়তোবা।পরি চুপচাপ যেএ নাবিলের কথা মতো গোসল সেরে আসলো,তবে চুলের কারনে যেনো তার ঠান্ডা লাগছিলো।পরি গোসল সেরে আসতেই নাবিল ডাকলো।পরির মতো পরিকে খুব নিষ্পাপ লাগছে,মুখে ফোঁটা ফোঁটা পানি আর কান্ত চোখ দুটো নাবিলকে ঘায়েল করে দিলো।এক মূহুর্তের জন্য সে পরিকে অতী কাছে পাওয়ার জন্য উতলা হয়ে পড়লো

নাবিল ব্যস্ত কন্ঠে ডাকলো পরিকে।পরি ক্লান্ত ভঙ্গিতে ধীরো পায়ে এগিয়ে আসলো।
সামনে আসতেই নাবিল পরির হাত ধরে টেনে নিজের বুকে ফেলে দিলো। হঠাৎ করেই নাবিলের শরীর থেকে সেই গন্ধ ভেক করে পরির নাকে যেতেই নিজ অজান্তেই গরগর করে বমি করে দিলো পরি,দুপুরে খাওয়া সব বেড় হয়ে আসলো পেট থেকে।নাবিল হতভম্ব হয়ে গেলো তবে রাগো হলো তার।
পরি ক্লান্ত চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে একটু ভয় পেলো।গায়ে হাত না তুলে বসে।সেই ভয়ে তাড়াতাড়ি নাবিলের কাছ থেকে সরে গেলো সে।ওরনা দিয়ে তাড়াতাড়ি করে ন বিলের উন্মুক্ত বুক মুছতে মুছতে বললো
_”আ,,আমি বুঝতে পারিনি।”
নাবিল কেমন যেনো রেগে গেলো।ঠাস করে একটা চর বসিয়ে দিলো পরির গালে। হঠাৎ থাপ্পরে ঝাকুনি খেএ পরি আবারো বমি করে ফ্লোর মেখে ফেললো।আরো পেট পাকিয়ে আসলো পরির যেনো সব বেড় হয়ে আসবে পেট থেকে। পরি কেমন কাঁপতে লাগলো, ইদানিং বমি পায় তার তবে আজ প্রথম বার বমি হলো,পরি নিজেরি কেমন ঘৃনা লাগলো।আবারো পেট পাকিয়ে আসলো।এক পলক নাবিলের দিকে তাকিয়ে কোনো মতে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
ওয়াশরুমে যেএ বমি পুরোপুরি হতেই পরির শরীর ক্লান্ত হয়ে ভেঙে আসলো।উঠে দাঁড়ানোর শক্তি টুকু পেলো না ইচ্ছে হলো এখনি এখানে শুয়ে পড়তে।পরি হাত মুখে পানি দিলো এর ভিতরে নাবিল ওয়াশ রুমে চলে আসলো।এসেই পরির ভেজা চুলের মুঠি ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”খানক*** বাচ্চা কি করলি এইডা।এই মাত্র গোসল সারছি। আমারে দেখলেই গা গুলিয়ে আহে তাই না।এতো বমি পাইয়া যায়।”

পরি কোনো রকম ঝামেলা করতে চাইলো না তাই হাতে করে পানি নিয়ে নাবিলের বুক দুই হাত দিয়ে মুছে দিতে দিতে বললো
_”আমি ইচ্ছে করে করিনি।”
পরি আর কিছু বলার আগেই নাবিল কষিয়ে থাপ্পর মারলো পরিকে।পরি ভেজা আর বমিতে মাখা ওয়াশরুমের ফ্লোরে যেএ পড়লো।নাবিল নিচু হয়ে পরির ঘাড় চেপে ধরে বললো
_”নাটক চু,,,দা,, আমার লোগে।গলা টিপপ্পা মাইয়া ফালামু একদম।”
ব্যথায় পরি কঁকিয়ে উঠে বললো
_”ছাড়ুন,লাগছে।”
_”লাগুক , অনেক দিন ধইরা মার গুতা খাস না তো তাই তেজ বাইরা গেছে।যা ইচ্ছা তাই করতাছোস।”
বলেই পরির ঘাড় ধরে দিলো এক বারি,ফ্লোরের সাথে বারি খাওয়ার সাথে সাথে পরি জ্ঞান হারালো,বমি করার পর মানুষের এমনিতেই ক্লান্ত লাগে তার উপর এরকম চর, থাপ্পর, অত্যাচার আর নিতে পারলো না।নাবিল পরিকে চুলের মুঠি ধরে টেনে উঠালো তবে খেয়াল করলো পরি জ্ঞান হারিয়েছে।একটু অবাক হলো নাবিল এক টা বারি খেয়েই অঙ্গান হয়ে গেলো নাকি সবি নাটক,তবে না সত্যি সত্যি জ্ঞান হারিয়েছে।

নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে ভাতের লুকমা ভাগ করে করতে করতে বললো
_”আর একটু খানি,এটা আয়রার পাপার,এটা মাম্মার ,এটা দাদুর,এটা ফুপির,এটা নানুর,এটা এটা দাদির,এটা চাচির,সবারটা আছে এখন ভালো বাচ্চার মতো খেএ নেও তো দেখি।”
আয়রা দাঁত বেড় করে ভাত মুখে নিলো,নুবা একটু হাসলো।ধমক দিলে কথা শুনে না বরং উল্টো কাজ করে, কান্না করে তবে আদর করে বুঝালে আবার ঠিক বুঝে।
নুবা এক হাত প্লেট অন্য হাতে আয়ারকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এ তা দেখিয়ে খাওয়াতে লাগলো।আয়রা মন ভুলা হয়ে খেতে লাগলো।
২/৩ লোকমা খেতেই আয়রা বাহানা ধরলো খাবে না।নুবা বুঝতে পেরে করিডোরের দিকে ইশারা করে বললো
_”ওই দেখো,ভাউ আসছে,না খেলে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে ।”

আয়রা ভীতু করে মায়ের দিকে তাকিয়ে তার গলা জরিয়ে ধরলো,নুবা মিটমিট করে হাসলো।পরপর আয়রার মুখে খাবার দিলো।এর ভিতরে আরাফ নেমে আসলো নিচে।আরাফকে দেখে না অনেক মাস,রাতে খাবারের টেবিলে দেখা হলেও কখনো নুবা ফিরে তাকায় না আরাফো তবে ফাঁকা জায়গায় নুবাকে একা পেয়ে খোঁচা কি নাই মারবে আরাফ?
আরাফকে দেখে নুবা মেয়েকে নিয়ে সরে যেতে চাইলো আরাফ ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো।নুবা তাকাতেও চায় না আরাফের দিকে কারণ দুই ভাইয়ের চেহারায় মিল আছে আরাফকে দেখলেই নুবার আরহামের কথা মনে পড়েই।আর এরকম একটা খারাপ মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে একজন ভালো মানুষের চেহারা মনে করাও পাপ ছ্যে,যতোই হোক নুবার কাছে তার স্বামী কোটিতে একটা।
নুবাকে সরে যেতে দেখে আরাফ বলে উঠলো
_”ইস্,বেচারি বিয়ে হতে না হতে বিধবা হয়ে গেলো।আসলে তুই একটা অশুভ মানুষ,না হলে তার কপালে যাস তাকেই খেএ ফেলিস, আমার ভাইটাকে গিলে ফেললি ছ্যে!”
নুবা সরে যেতে চাইলেও আরাফের দিকে ফিরে তাকিয়ে কঠিন কন্ঠে বললো

_”তোর মতো বেইমানকে খেতে পারিনি এর আফসোস হচ্ছে। তুই মরলে আমার থেকে খুশি কেউ হতো না।”
আরাফ শব্দ করে হেসে বললো
_”শকুনের দোয়াই কি গরু মরে,তা যাই হোক তুই যে একটা অলক্ষ্মী মেয়ে তা প্রমাণ হলো, আমার নিষ্পাপ ভাইটাকে খেএ ফেললি, তোর ভাগ্য ভালো তুই এখনো এই বাড়িতে আছিস ।এখন আবার বেশি আমদে বাচ্চাটাকে খেএ ফেলিস না।”
নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো তার তাও কেমন ভাঙ্গা শব্দে কঠনি কন্ঠে বললো

_” তুই তোর চরকায় তেল দে, আমার মেয়ের টা আমি দেখে নিবো,যতসব ফালতু অমানুষ।”
আরাফ ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_”ইস্ তার মেয়ে,তোর মেয়ে কবে থেকে হলো। যখন বড় হয়ে জানবে তুই ওর সৎ মা তখন দেখবি কি তান্ডব টাই না করে,দেখা হলো ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দিলো।”
বলেই আরাফ হাসতে হাসতে চলে গেলো,নুবাকে এতো দিন পর কথা শুনাতে পেরে আরাফের ভালোই লাগছে। এদিকে নুবার বুকটা হুহু করে উঠলো,আসলেই কী সে অলক্ষ্মী ।তার কারনে কি এই সব হলো,ভাবতেই নুবার বুক ভারি হয়ে আসলো রাগে দুঃখে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো
_”আল্লাহ তোকে ছেড়ে দিবে না, তুই আমার সাথে যা করেছিস, অন্তিমে হলেও তুই তোর কর্মের ফল পাবি।”
আরাফকে দুটো কথা শুনিয়ে নুবা শান্তি পেলো তবে কোথাও না কোথাও তার বুকটা ভেঙ্গে আসতে শুরু করলো,আসলেই যদি আরাফের কথা সত্যি হয় তবে সে কি করবে।আয়রা যদি তাকে ভুল বুঝে,যদি সে আয়রাকেও হারিয়ে ফেলে তখন কি করবে সে?

পরি চুপচাপ বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে, কেমন অস্থির লাগছে।সে আগে থেকে সব জানলেও এখন sure হওয়ায় তার বুকটা আনচান করছে।পরি নিজের তিন মাসের পেটের উপর হাত রেখে নিজেই আশ্চর্য হলো।সে মা হবে তবে তার সুখ লাগছে না কেনো।সবাই তো বলে সবার প্রথম বাচ্চা হলে সবার এতোটা খুশি লাগে তবে তার আনন্দ হচ্ছে না কেন,এতো অদ্ভুত লাগছে কেন?
সবাই একটু হলেও খুশি হয়েছে,নাজমা বেগম বুঝিয়ে রেখে গেলো পরিকে,পরি স্তব হয়ে গেছে।রুম থেকে সবাই বেড় হতেই নাবিল এগিয়ে আসলো।পরির ধ্যান নেই,সে কি আদেও খুশি নাকি অন্য কিছু বুঝতে পারছে না সে।
পরি চোখ বুঝে নিলো, চোখের পাতা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।নাবিল এসে সামনে বসতেই পরি কেমন কম্পিত কন্ঠে অনুনয় করে বললো
_”আমার এই জীবন আর ভালো লাগছে না। আমার থেকে যা পাওয়ার ছিলো তা পেয়ে গেছেন।আপনার অতিষ্ঠ লাগছে না আমাকে, সৌন্দর্য তো নুচে নুচে খেএ ফেলেছেন এবার আমার রেহাই দেন। আমাকে একটু বাঁচতে দেন। নিজেকে বন্দি খাঁচার পাখি মনে হচ্ছে।”
নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_”তাইলে কি তুই ডানা ছাইরা উড়তে চাস।”
পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে কেমন কাপতে কাঁপতে বললো
_”ডানা মেলে উড়ার সখ আমার নেই, প্রথম বার উড়তে যেয়ে কোনো এক শিকারির হাতে পড়ে গেছি,এখন ডানা গুলো ভেঙ্গে দিয়েছে আমার,আর ইচ্ছে নেই।আমি শুধু সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চাইছি।”
নাবিল ভুরু উঁচিয়ে বললো
_”তা তোরে কি হেনে এলিয়েনের মতো রাখি,ভাতের জায়গায় গু দেই নাকি তোরে মাটিতে শুয়াইতাছি।নাকি তোরে বাইধা রাখি।”
পরি নিষ্পাপ চাহনি দিলো নাবিলের দিকে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”আপনাকে দেখে ঘৃণা লাগে আমার,ভাবতেও অবাক লাগে আপনার মতো একজন খুনি আর ধর্ষক আমার স্বামী। কবুল পড়েছি আমা তার নামে। আল্লাহই জানে কত মানুষের জীবন নিয়েছে,কত মেয়ের সম্মানহানি করেছে। আমার এখানে দম বন্ধ হয়ে আসে,এর থেকে ভালো আপনি মেরে ফেলুন আমাকে। আল্লাহর দোহাই লাগে আমাকে এই দম বন্ধ পরিস্থিতি থেকে রেহাই দেন।”
বলেই পরি কাঁদতে লাগলো,সে জানে মায়া হবে না নাবিলের তাও সে কাঁদলো।নাবিল এগিয়ে এসে পরিল থুতনি চেপে ধরে বললো

_”কি ভাবতাছোস পেটে আইছে দেইখা কিছু কইতে পারমু না,জবান বেশি চলে তাই না,টাইনা ছিরা হালামু,মরার পরেও তোর হেনেই থাকতে হইবো আমগো কবরস্থানে তোরে কবর দেওয়া হইবো বুঝলি তুই ।”
পরির সব কথা বিষাক্ত লাগলো, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”সবার মতো আমারো একটা স্বপ্ন ছিলো যা আপনার মতো অমানুষ এক নিমিষেই নষ্ট করে দিয়েছে। আমার একটা স্বামীর সংসার দরকার তবে এরকম না,আসলে আমি কাকে কি বলছি যার মনে মায়া,দয়া,বিবেক,ভালোবাসা কিছু নেই। দরকার পড়লে পরিবারকেও ছাড় দিবে না,আর তাকে বুঝাচ্ছি আমি। আচ্ছা বাদ দিন,সরুন,ভালো লাগছে না। আপনার মতো মানুষ কে বুঝানো মানে পাথরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা।”
নাবিল বরাবরের মতো কষিয়ে একটা থাপ্পর মারো পরিকে,পরি হকচকিয়ে উঠলো।নাবিল তেরে এসে চুলের মুঠি ধরে বললো
_”একদম নাটক মারাবি না আমার সাথে, যেমনে রাখতাছি এমনেই তুই থাকবি,থাকতে বাধ্য,এই কথাটা যাতে দ্বিতীয় বার কইতে না হয়,মনে রাখ।না হইলে এই অবস্থায় তোরে তুইলা দুটো আছার মারতে আমার ২ সেকেন্ড ভাবতে হইবো না।”
পরি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো যাও সে চেয়েছিলো বাচ্চাটা রাখবে তাও এখন ইচ্ছে হচ্ছে না, বাচ্চাটার প্রতি ঘৃনা চলে আসলো তার,উঠে বসে রাগি কন্ঠে নাবিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো

_”আমি রাখবো না আপনার এই পাপ। আমার পেটে জায়গা পাবে না আপনার ওই চাহিদায় লালিতো হওয়া ভ্রণ ।ঘৃনা লাগছে আমার সেদিন অনুভব করেছিলাম সেদিনি মেরে ফেলা উচিত ছিলো। আপনাদের জানতে দেওয়া উচিত হয়নি।”
নাবিল কটমট করে তাকালো পরির দিকে,পরপর শব্দ করে হাসলো সে। শান্ত কন্ঠে বললো
_”তোর যা ইচ্ছা তাই কর,এমনেতেও এই বাচ্চার প্রতি আমার কোনো রকম আগ্রহ নাই।এই বাচ্চা থাকলে আরো তোর লোগে হুইয়ে আমার সমস্যা হইবো।এখন হুইতে পারমু না।শেষের দিকে যাইয়া পারমু না ৫/৬ মাস এমনেই চইলা যাইবো এর থেইকা ভালো নষ্ট কইরা ফালা। আমার এহন বাচ্চা নেওয়োনের কোনো ইচ্ছা নাই।”
পরির মুখটা কেমন মলিন হয়ে আসলো।পরপর কেমন রাগি কন্ঠে বললো
_”থাকবে কিভাবে? অমানুষ কখনো মানুষ হয়!”

পরির কথায় নাবিল মনে মনে হাসলো,মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাচ্চাটা সে রাখতে চায়,নাবিলো জানে সে বাচ্চাটার প্রতি যতটা আগ্রহ দেখাবে পরি ততোই তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বাচ্চার ক্ষতি করতে চাইবে।আর এতো নাটক নাবিল করতে পারবে না।নাবিল নিশ্চিত সে যদি আগ্রহ না দেখায় তবে পরি নষ্ট করবে না।
তবে নাবিলের কথা নাবিলের উপড়েই ভারি পড়লো।পরি তক্ষনাত উঠে যেএ ড্রয়ার থেকে ওষুধ বেড় করে নিলো, যতগুলো পাতা ছিলো ওষুধের সব গুলো খুলে নিতে লাগলো।সব খাবে সে বাচ্চার সাথে সাথে সেও মারবে। তাহলেই শান্তি পাবে।
নাবিল পরির পদক্ষেপ ধরতে পেরে কেমন হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই মেয়ে তো দেখি তার থেকেও দুই কদম এগিয়ে।পরি যেই না পানি মুখে দিয়ে ওষুধ মুখে দিতে নিবে তখনি নাবিল এসে আবারো কষিয়ে একটা থাপ্পর মেরে দিলো,,হাত থেকে পানির বোতল আর ওষুধ পড়ে গেলো।
পরি পিলে কেঁপে উঠলো।নাবিল রেগে আর একটা থাপ্পর মেরে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”নাটক চুদা** আমার লোগে। বাচ্চা না লাগবে প্রথম থেইকাই ওষুধ খাস নাই কেন,পেটের ভিতরে একটা ভইরা নিয়া বাইত্তের সবাইরে জানাইয়া এখন নাটক করোস। একদম দুই পা ধইরা ফাইরা হালামু,খা”””” বাচ্চা।”
পরি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে চেঁচিয়ে বললো

_”আপনার সমস্যা কি, আপনিই তো বললেন।এই বাচ্চা আমারো কোনো দরকার নেই। লাগবে না এই পাপের ফল।রাখবো না আমি।কিছুতেই না।”
নাবিল পরির গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_”নাটক কম মারাইস আমার লোগে, যেমন নিজে ঢুকাইছোস তেমন এখন ভোগ কর। বাচ্চার কিছু হইলে তোর বোইন আছে না ছোডো,ওইটারে ফাইরা হালামু।”
পরি তেতে উঠে বললো
_”আমি ঢুকিয়েছি নাকি আপনি। আমার একা বাচ্চা নেওয়ার সাধ্য আছে।”
_”যেমনেই হোক আইছে তো, বাচ্চার কিছু হইলে তোরে খাইয়া হালামু। চুপচাপ যাইয়া হুইয়া থাক,তোর কপাল ভালা বাচ্চার লাইগা ছাড় পাইতাছোস না হইলে যেমনেই ডুকাইছি তেমনেই গুতা দিয়া বাইর কইরা আনতাম। চুপচাপ যাইয়া ব ।”
নাবিল একটু থেমে বললো
_”এই প্রথম মাস ছাড় তোর,মা”য়ে যেমনে কইবো হেমনে চলবি, বাচ্চা যাতে ঠিক থাকে।কথা হুনলে সামনে মাসে তোরে বাইত্তে দিয়া আহুম। সপ্তাহ খানিক থইকা আইবি।”
নাবিলের কথায় পরি চমকে উঠে তার দিকে তাকালো। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো
_”সত্যি যেতে দিবেন।”
_”হো,,তার আগে আমার কথা হুনতে হইবো।যদি ঠিক মতো একটা পোলা জন্ম দিতে পারোস তাইলে তোরে অনেক ছাড় দিমু।”
পরির মুখটা কেমন চুপসে গেলো,ছেলে লাগবে কথাটা মোটেও ভালো লাগলো না তার মৃদু কন্ঠে বললো
_”যদি মেয়ে হয়।”
নাবিল পরিকে ছেড়ে দিয়ে বললো

_”তখন কারটা তখন দেখমু, কিন্তু আমার পোলাই লাগবো।”
পরি আবারো কেমন কন্ঠে বললো
_”মেয়েই হবে।যাতে মেয়ে হয়, আমার মতো অভাগী মেয়ে।তবেই আপনি বুঝবেন,মেয়েই হোক।”
নাবিল আবারো একটু তেতে উঠে বললো

_”এর লাইগা তোরে আমার দুই চক্ষে সহ্য হয় না,হেডা ভাঙ্গা কথা চু,,দা***। তোর বাপের মতো সাউ*** চিরা বাপ না আমি।মাইয়ারে দেইখা রাখোনের মুদর আছে।তাই পকপক না কইরা যাইয়া বইয়া থাক।”
পরি মনে মনে হালসো,নিজের সন্তানের বেলায় কথা টুকু সহ্য হলো না,মুরদ নিয়ে কথা উঠলো। আর অন্যের বেলায় ছ্যে।
নুবা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।আসলেই সে যা দেখলো তা কি সত্যি।নাকি শুধু বরাবরের মতো চোখের ধান্দা বা স্বপ্ন।

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here