Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম ভিজে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে পড়নে শুরু একটা টাওজার,,যাও ভিজে একাকার,, হয়তোবা গোসল করতে গেছিলো রুম থেকে কিছু নিতে এসেছে,,তবে এভাবে পুরো ফ্লোর ভিজে যাচ্ছে,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ সেন্স থাকা উচিত কাউকে ভাত দিলে যে সাথে আরো জিনিস লাগে
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,, আরহাম হাতে থাকা গেঞ্জি টা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলো,, পরপরই গেঞ্জি টা ভেজা কাঁধে নিলো,,,সাথে একটা টাওজার,,, আন্ডারওয়্যার,,,তাও ব্যান্ড এর Calvin Klein,,নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,পানি লবন টেবিলে রেখে আরহামের দিকে না তাকিয়ে মাথা নিচু করে বললো

_ আর কিছু লাগবে
_ হ্যাঁ,,,,বাইরে যেই বড় ডেগ রান্নার জন্য বসিয়েছে তা নিয়ে আসো,,
নুবা হতভম্ব হয়ে আরহাম দিকে তাকালো বিরবির করে বললো
_ কি,,,ওটা আমি উচু করতে পারবো নাকি
_ না পড়লে দাঁড়িয়ে আছো কেন,,, দুই তিনজন মিলে নিয়ে আসো আমার পেট না গোদাম তো যে আরো কিছু লাগবে,,
নুবা বুঝতে পারলো খোঁচা মারা কথা বলছে তাই মাথা নিচু করে নিতে লাগলো,,,তখনি নির্লজ্জ চোখ দুটো অন্য জায়গায় যেএ আটকে গেলো,,নুবা সেকেন্ড খানিক সময় নিলো চোখ সরাতে পরপরই এক হাতের তিন আঙুল মুখের উপর রাখলো,, বিছানার কাছে যেএ রিনুর এক হাত টেনে বললো
_ চলো রিনু,,,
রিনু মুখ কালো করে বললো

_ একটু ওর সাথে খেলি,,দেখো কিভাবে হাসছে
নুবা কম্পিত কন্ঠে বলে উঠলো,,
_তাহলে তুমি থাকো আমি যাই,,
বলেই নুবা চলে যেতে লাগলো,,,তবে আরহাম নুবাকে ডেকে উঠলো
_ এদিকে আসো,,,একটা কাজ করে দিয়ে যাও
নুবার চোখ টিপটিপ করে উঠলো,, আরহামের দিকে না তাকিয়ে বললো
_ কি কাজ,,, তাড়াতাড়ি বলুন,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ পিঠে একটা কেমন আইচালির (আইচেলি) হয়েছে,,কেটে দিয়ে যাও,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ এ্যাঁ,,
_ এ্যাঁ না হ্যাঁ,,আসো

বলেই আরহাম ওয়াশরুমে চলে গেলো,,,নুবার কলিজা শুকিয়ে আসলো কি করবে কি না করবে,, পরপরই সে একবার টিভির দিকে তাকালো সেখানে মারামারি চলছে,,,নুবার ভাবনার ভিতরে আরহাম রেগে ডেকে উঠলো
_ আসবে নাকি,,, অসহ্য,,,
নুবা না চাইতেও এগিয়ে গেলো,,,,ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থমকে গেলো সে,,কি করবে ভেবে পেলো না,,,,
আরহাম আবার ডাকলো,,,
_ নুবাআআ,,,
নুবা এক লাফে ভিতরছ গেলো,, পরপরই নজরে পড়লো ওয়াশরুমটা প্রায় একটা রুমের সমান,,নুবা আশে পাশে চোখ বুলালো,,বাআ বাথটাবো আছে,,তাও গোসল খানার বিশাল জায়গা জুরে,,,
আরহাম সামনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নুবার দিকে একটা কেচি এগিয়ে দিলো,,,আর বললো
_ পিঠের ডান সাইডে দেখো কেটে দেও,,

নুবা কম্পিত হাতে কেচিটা নিলো তবে কিছুই বুঝলো না কি করতে হবে,,,নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,কোন দিকে তাকাবে বুঝতে পারলো না,,,এই বেগানা পুরুষ নির্লজ্জের মতো তার সামনে অর্ধ নগ্ন হয়ে দাড়িয়ে আছে তার লজ্জাও লাগছে না তবে নুবার খালি পিঠে তাকাতে বেশ লজ্জা লাগছে,,,
আরহাম এবার ভীষণ বিরক্ত হয়ে ধমক দিয়ে বললো
_ what happened,,যা বলছি তাই করো না হলেই এই কেচি কিন্তু গলায় ঢুকিয়ে এখানেই পুঁতে রাকবো,,,যত সব ফালতু,,,
নুবার হঠাৎ এমন দমকিতে চম্কে কেঁপে উঠলো,,,ভীতু কন্ঠে বললো
_ কি,,কি করবো,,,,
আরহাম এবার রেগে পিছনে ঘুরো,,নুবা সাথে সাথে দুই কমদ পিছনে ঘুরে মাথা নিচু করে নিলো,,,সামনে তাকানোরো ইচ্ছে নেই,,সে নির্লজ্জ হতে পারে তবে নুবা বেশরম না,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো

_ বয়রা নাকি,,,পিঠে একটা কালো গোটার মতো হয়েছে ওটা কেটে দিতে বলেছি শুনো না,,কয়বার বলেছি,,,
নুবা চাপা কেঁপে উঠলো,,তার দিকে না তাকিয়ে বললো
_ ঘু,,ঘুরুন দিচ্ছি,,,
আরহাম আবারো পিছনে ঘুরলো,,নুবা এবার বাধ্য হয়ে খুঁজতে লাগলো ওই কালো গোটা কোথায় তবে তার নজর স্থির করতে পারলো না,, আরামের পেশিবহুল পিঠ,,হাত কেমন মাংসের থপথপ,,বার বার নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে ফুলে উঠছে,,
নুবা চোখ বন্ধ করে বিরবির করে বললো
_পা ,,পাচ্ছি না,,
আরহাম অধৈর্য হলো,,,রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কানা নাকি তুই,,,ডান দিকে চোখে পড়ে না,,,
নুবা চোখ খুলে সেদিকে তাকালো দেখলো কমড়ের কাছে ইয়া বড় একটা কালো গুটা হয়েছে যাকে আঞ্চলিক ভাষায় আয়চেলি বলে,,
নুবা কেচিরা ওখানে ঠেকালো,,,গা গুলিয়ে আসলো তার এই সব দেখলেই গা শিরশির করে,,এই গোটা ফটা তার জনমের শত্রু,,,

আরহাম ভুরু কুঁচকে রান নিয়ন্ত্রণ করে বললো
_ এতো সময় লাগে,, ইচ্ছে করছে তোকেই কেটে ফেলি,,,
নুবা চোখ মুখ খিচে ওই গোটাটাকে কেটে ফেললো,,সাথে সাথে গলগল করে রক্ত বেড় হলো,,নুবা বেশ ভয় পেয়ে গেলো সাথে তার মাথাটাও ঘুরে উঠলো,,,
নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ ,,,র,, রক্ত বেড় হচ্ছে,,
_ হোক,,,(বলেই আরহাম সরে গেলো,,নুবার হাত কাঁপতে লাগলো,, রক্ত বেড় হচ্ছে আর এই লোকটার কোনো যায় আসেই না,,)
আরহাম ভিতরে আর একটা দরজার দিয়ে ডুকে শাওয়ারের নিচে দাড়ালো,,দরজা দিয়ে কিছু পানির ফোঁটা ছিটে নুবার গায়ে লাগলো,,নুবা ফাল দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,, দেখলো রিনু নেই তার মানে চলে গেছে,,,

নুবা চলে যেতে লাগলো তবে আয়রা তাকে কান্নার সুর দিয়ে টেনে ধরলো,,,নুবা কপাল চাপড়ে বললো
_ হায় আল্লাহ,,কোন বিপদে ফেলে দিলে,,,
নুবার মনে হলো বাচ্চাটা সকালে একটু খেয়েছে,, সারাদিন ঘুমিয়েছে,,আর একটু আগে ঘুম থেকে উঠে খেলছিলো নিশ্চয় ক্ষুধা লেগেছে,,
নুবা না পেরে এগিয়ে গেলো,,,আয়রাকে কোলে নিয়ে ওরনা দিয়ে নিজেদের কাভার করে আয়রাকে ফিড করাতে লাগলো,,,
এদিকে আয়রা চকচক শব্দ তুলে খেতে শুরু করেছে নুবার আয়রার মুখের শব্দ শুনে হাসি পেলো,,,
টিভিতে বেশ ভালোই সিন চলছে,,তবে নুবার তাদের এতো পেঁচানো ইংরেজি বুঝতে পেরেও পারছে না,,মাঝে মাঝে একটু একটু বুঝতে পারছে,,
নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাড়াতাড়ি খান নাক বুচি,, আপনার বাপ গোসল সেরে আসার আগে আমাকে রুম ছেড়ে বেড় হতে হবে,,পারলে দুনিয়া ছেড়ে হয়ে যেতাম,,,

নুবা কপালে হাত দিয়ে বসে রইলো,,,মনে মনে ভাবলো
“আল্লাহই জানে আজ সকালে কার মুখ দেখে উঠেছিলো যে সকাল থেকে ১ বার না ২ বার না ৩ তিন বার অদ্ভুত কিছু দেখে ফেললো
দুপুর দুপুর এই রুমে এসে জঘন্য মুভি,,একটু আগে এসে আরহামের ভেজা টাওজারের ভিতরে থাকা অদ্ভুত জিনিস,,যা টাওজারের উপর দিয়ে দৃশ্যমান ছিলো,,একটু আগে আরহামের পেশিবহুল পিঠ ছি,,
নুবার গা গুলিয়ে আসলো কি কি দেখতে হচ্ছে,,,নুবা না পেরে নিজের দুই চোখে থাপ্পর মারলো,এই সব জাগায় তার চোখি কেন যায়, ভয়ংকর ভয়ংকর আজব জিনিসে তার বেয়াদব চোখ না চাইতেও চলে যায়,,,নুবা তওবা তওবা করে মাফ চাইলো,,,
অনেক টা সময় পর ওয়াশরুমের দরোজা খট করে খুলার শব্দ হলো,,,নুবা তাড়াতাড়ি করে আয়রাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বিছানায় শুয়ালো,,তার কপাল দিয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম ছুটছে,,,
আরহাম তাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বেড় হলো,,নুবা পিছন থেকে ফাঁক কাটতে চাইলো তবে হলো কই,,আয়রা এ্যাঁ এ্যাঁ করছে,, হয়তোবা পেট ভরেনি,,,
তবু নুবা চলে যেতে চাইলো,,তবে আরাহাম ডেকে উঠলো,,, ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নুবাকে ডাকলো
নুবা আস্তে আস্তে পিছাতে লাগলো,,সে এখন রুম থেকে বেড় হবে,,তবে তার আগেই আরহাম খেকিয়ে উঠলো

_ এই মেয়ে,, এখানে আসো,,,
নুবা শুনলো না রুমের দরজার সামনে পৌঁছে আলতো করে দরজা চাপিয়ে দিলো,,আরহামের রাগ মাথায় চড়লো,,, ধুপধাপ পা ফেলে এসে দরজা খুলে দেখলো নুবা অলরেডি কিছুটা দূরে চলে গেছে,, আরহাম হুংকার দিয়ে নুবাকে ডাকবো,,কত বড় সাহস তার কথার অবাধ্য হয়,,
নুবা এতো জোরে ডাক শুনে বড়োবড়ো চোখ করে পিছন ফিরে তাকালো,,পরপরই পায়ের জোর বাড়িয়ে হাঁটা শুরু করলো,,,
আরহামের রাগে শরীর জ্বলে উঠলো,,এই মেয়ে তাকে উপেক্ষা করছে,,কত বড় সাহস,,,কথা না শুনে চলে গেলো,,, পরপরই আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো বিরবির করে বললো
_ ok,, fine,,আমি ব্যপারটা দেখছি,,,

নুবা রুমে না এসে বাইরে গেলো,, অনেকেই বাগানে চেয়ার পেতে বসেছে কারণ পুরো বাগানে রাজকিয় ভাবে সাজানোর ফলে রৌদ লাগছে না,,তার উপর ফ্যানও লাগানো হয়েছে,,,আসলে নুবার তার মাকে খুঁজছে,,,
আরহাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে আছে,,,এতো মানুষ তার আদেও পছন্দ না,,,, আরহাম কিছু সময় সেদিকে তাকিয়ে রইলো,,আয়রা এদিকে কান্না করছে,, আরহামের মাথা গড়ম হচ্ছে,,তবে মেয়ের প্রতি না নুবার প্রতি,,,মেয়েটাকে অর্ধ খাওইয়ে চলে গেছে,,এর উপহার সে তো নুবাকে দিবেই,,
আরহাম অনাবর তার মায়ের নাম্বারে ফোন করছে,,মেয়েটা এখানে কান্না করে খুন হয়ে যাচ্ছে,,,আর ওদিকে তার মা মোবাইল রেখে কোথায় গেছে আল্লাহ জানে,, আরহাম মেয়েকে কোলে নিয়ে দোল দিলো বিরবির করে বললো
_ কান্না করে না,, ক্ষুধা লাগেছে তো,,পাপা ব্যবস্থা করছে তো,,একটু ধৈর্য ধরো,,
তবে আয়রার এ্যাঁ এ্যাঁ কমলো না বরং বাড়লো,, একবার কান্না করলে আর থামতে চায় না,,

আরহাম নিজের মায়ের উপর চিল্লিয়ে উঠে বললো
_ কোথায় ছিলে তুমি,,কত সময় ধরে খুঁজছি,,বলেছি না মোবাইল কাছে রাখবে,,বলেছিলাম বাইরে আসবো না সেই আমার বাইরে আসতেই হলো,,,
আমিনা বেগম ঘামার্ত মুখ প্রমান ছিলো ছেলের বিয়ে দুটো কম কথা না,,তবু আমিনা বেগম ছেলেকে শান্ত কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে বলবি তো,,বাসায় মানুষ ভরা চিল্লাচিল্লি করবি না একদম,,
আরহাম লাগে হিসফিস করে বললো
_ সকাল থেকে মেয়েটা আমার কিছু খায়নি,, তোমার নুবার খবর আছে এটা,,টই টই করে কোথায় না কোথায় ঘুরছে,,,
_তাই বলে চেঁচাবি বললেই তো হয়
_ তোমার হুস আছে,,কয়টা বাজে,,না আমি এখনো খেতে পারলাম না আমার মেয়ে,,,
আমিনা বেগম আয়ারকে নিজের কোলে নিতে নিতে বললো
_ রুমে যা,,কোনো তামাশা করবি না,,,আমি দেখি নুবাকে বলছি আয়রাকে খাওইয়ে দিতে
আরহাম তেতে উঠে মেয়েকে নিজের কলো ফিরিয়ে নিয়ে বললো
_ নুবাকে আমার রুমে পাঠাও,,ওর কাছে একা আমার মেয়েকে দিবো না,,,যখনি আমার মেয়েকে নিবে আমার চোখের সামনেই থাকবে ও,,ওই মেয়ে সুবিধার না
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললেন

_ মাথা ঠিক আছে তোর,,,এমনিতেই সকাল থেকে দুবার তোর রুমে গেছে,,কে কোথা থেকে দেখে কি কেলেঙ্কারি করে দেয় বুঝিস কিছু,,,মেয়ে মানুষ ও,,,আর কাকে কি বলছি,, তুই বোঝার মানুষ নাকি
আরহাম যেতে যেতে বললো
_২ মিনিট এর ভিতরে ওকে আমার রুমে আসতে বলবে,,না হলে এই বিয়ে বাড়ি বিয়ে বাড়ি থাকবে না,,২ মিনিটে মরা বাড়ি বানিয়ে ফেলবো,,,আর দু মিনিট এর বেশি যদি আমার মেয়ে কান্না করে তবে ওই মেয়েকে আমি মর্গে পাঠাবো,,,
আমিনা বেগম পিছন থেকে ডাকতে লাগলো তবে আরহাম শুনলো না,,,

আমিনা বেগম অনেক খুঁজে নুবাকে বেড় করলো,, পরপরই নুবার হাত ধরে বললো
_ চল,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ কয়টা বাজে দুপুরে খেএ ওষুধ নিয়েছিস,,আমিই সব খেলায় রাখবো,,কেন তোর মাকি একটু দেখতে পারে না,,নাকি আমার নাতনি দেখে আমার সব জ্বালা,,তোরোতো দেখি খেয়াল নেই,,, হ্যাঁ
_ আমি এখনি যেএ খাবো,,
_ তার আগে আয়রাকে খাওইয়ে দে মা বাচ্চাটা কান্না করছে
_ সারাদিনি তোমার নতনি কাঁদতে থাকে,, আল্লাহ,,,

নুবাকে নিয়ে আমিনা বেগম ছেলের দরজায় কড়া নাড়লো,,আরহাম নিজে এসে দরজা খুলে দিলো,,,
পরপরই নুবার দিকে সরু চোখে তাকালো,,,
আমিনা বেগম ব্যস্ত কন্ঠে বললেন
_ সর,,ভিতরে যেতে তো দিবি
আরহাম পকেটে হাত গুঁজে বললো
_ তোমার না কাজ আছে তুমি যাও,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে বললেন
_ তাহলে আয়াকে দে খাওইয়ে দিয়ে যাবে
_ তখন কি বলেছিলাম শুনোনি,,
আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বললেন
_ এখনো গোসল টা করিনি,, হাতের কাজ পড়ে আছে,, তোদের নিয়ে এই করবো আমি
_ তো তোমাকে থাকতে কে বলছে যাও,,নুবা তুমি ভিতরে আসো,,
নুবা পিছিয়ে গেলো,,,আমিনা বেগমের হাত ধরে বললো
_ আয়রাকে দিতে বলো আমি ফিড করিয়ে দিয়ে যাবো,,
আরহাম নিজ মায়ের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বললো
_ বিশ্বাস নেই আমার উপর,,নাকি নুবার উপর,,
আমিনা বেগম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললেন

_ তোর উপর নেই,,
_ কাল বলেছিলাম ওর উপর আমার কোনো intrastd নেই,, just আমার মেয়েকে আমি চোখের সামনে রাখতে চাই,,,
_ আরহাম,,লোকে কি বলবে ,,তোমাদের দুইজনকে একসাথে রুমে দেখলে গাল মন্দ করবে,, বিশেষ করে নুবার বদনাম হবে,,, আর তোমার বাবা কেমন তুমি তো জানো,,,এই সব কিছু আমার কথায় হয়েছে পরে কোনো ঝামেলা হলে তোমার বাবা আমাকে আস্ত রাখবে না
_ কাউকে পাঠিয়ে দেও,,তবে আয়রাকে আমি দিচ্ছি না,,
নুবা পিছন থেকে বলে উঠলো
_ তাহলে আমিও ওকে খাওয়াচ্ছি না,,
আরহাম আর চোখে নুবার দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা,,রিনুকে পাঠাচ্ছি,,নুবা তুই যেএ আয়রাকে খাওয়া আর নিজেও খেএ ওষুধ খেএ নিস,,আমিই বসে থাকতাম হাতে কাজ আছে,,আমি রিনুকে পাঠাচ্ছি,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,নুবা বিরবির করে বললো
_ না না না চাচিইইইই,,,,
আরহাম দরজা খুলে দিলো,, ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আসেন,,,
তবে নুবা ডুকলো না,,বিরবির করে বললো
_ রিনু আসুক,,,
আরহাম এর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো,,এক টানে নুবাকে ভিতরে এনে ফেললো,,, পরপরই দরজা লাগিয়ে দিলো,,বারবার তার নির্দেশ কে অমান্য,, এবার সে বুঝাবে সে আসলে কি,,,

আরাফের হাত মুঠো বদ্ধ হয়ে আসলো,,এই মাত্র সে করিডোর পার করছিলো তখনি তার নজরে পড়লো আরহাম নুবার হাত ধরে টেনে ভিতরে নিলো কিন্তু কেন,,আরফের শরীর জ্বলজ্বল করে উঠলো,,রাগে কপালের রগ ফুলে গেলো,,
নুবা মাথা নিচু করে চোখ উল্টে আরহামের দিকে তাকিয়ে আছে ,, আরহাম দুই কদম এগিয়ে আসলো,,নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ রিনু আসবে দরজা বন্ধ করেন কেন
আরহাম রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ তখন যে তুই পিছন ফিরে দৌড় দিলি,, তোকে ডেকেছিলাম আমি,,,
নুবা মৃদু কেঁপে উঠলো,,, আরহাম আবারো বললো
_ কি হলো বল,,
নুবা ছোট্ট করে হুম বললো
আরহাম আর একটু রেগে বললো
_ তুই আমার ডাক শুনেও দৌড় দিলি কেন,,,
নুবা আর একটু পিছিয়ে যেএ বললো
_ এমন,,এমনি ভাইয়া,,,

_ আবার মিথ্যা বলোস,,I hate lies. (লাস্ট কথা টুকু হুংকার ছেড়ে বললো)
নুবা এবার কান্না করে দিবে এমন অবস্থা,,নুবা বুঝতে পারছে না এই লোকটার সমস্যা কি,,, এমন ভাবে কথা বলছে যেনো নুবা তার কথা শুনতে বাধ্য,,
আরহাম আবারো রাগি কন্ঠে বললো
_ তখন আয়রা কান্না করছিলো তুই শুনিসনি,,,তোকে ঠাপিয়ে বেড়াতে রেখেছি,,, হ্যাঁ,,,
নুবার অন্তর আত্মা আরহামের ধমক শুনে কেঁপে উঠলো কোনো মতে কম্পিত কন্ঠে বললো
_s,, sorry ভাইয়া,,আর হবে না,,,
_ তোকে কি আমি খেএ ফেলেছিলাম,, নিজেকে বিশ্ব সুন্দরী মনে করিস,,যে বউ বাচ্চা রেখে তোর মতো মেয়ের দিকে নজর দিবো হ্যাঁ,,,What do you think of me? You know how beautiful my wife is.,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বললো,,,, পরপরই কাতর কন্ঠে বললো
_ sorry,, sorry আমি তো এমন কিছু বলিনি যে আমি বিশ্বা সুন্দরী,,আপনি আমার দিকে নজর দিয়ে বসে আছেন আর____
নুবার কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম ধমকে উঠলো,,

_ আবার মুখে মুখে তর্ক করেই,, হাঁটুর বয়সী মেয়ে হয়ে বড়দের মুখে মুখে তর্ক করে কত বড় বেয়াদব,,,
নুবার এবার বেশ রাগ হলো ঝাঝি মেরে বললো
_ বল্লাম তো sorry,,আর এমন ভাবে কথা বলছেন যেনো আমি আপনার কাথ শুনতে বাধ্য,, সাহায্য করতে রাজি হয়েছি দেখে ভাববেন না মাথা বেঁচে দিয়েছি,,, অতিরিক্ত বলেন,,,আমি রাজি না হলে আপনার বাপের সাধ্য ছিলো আমাকে রাজি করানোর আমারি ভুল ছিলো ভালো মানুষিকতা দেখাতে যেএ রাজি হয়ে গেলাম,,,কেন যে হ____
তখনি দরোজায় টোকা পড়লো,,,বাইরে থেকে রিনু ডেকে উঠলো
_ নুবা আপু,,,
আরহাম গর্জে উঠে বললো
_ যাও এখান থেকে,,
রিনু চম্কে উঠলো বেশ ভয় পেলো,,,এক লাফে ওখান থেকে চলে গেলো,,,
নুবা নিজেও বেশ লাফিয়ে উঠলো,, আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো

_ কি যেনো বলছিলে হুম,,কি বলছিলে আবার বলো,,
নুবা মাথা নিচু করে বেশ রাগি কন্ঠে বললো
_ আমি এই সব আর করতে পারবো না,, আপনার মেয়ের জন্য অন্য কাউকে খুঁজে আনেন,,,
বলেই নুবা দরজা খুলার চেষ্টা করলো,,,তবে আরহাম কি তা হতে দিবে,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_তোমার যোগ্যতা আছে নিজের মতামত দেওয়ার,,, হয়তোবা মেহেরিমার মার তুমি ভালো মতো খেলায় করোনি,, আমার রুমে ঝাড়ুর থেকেই শক্ত পোক্ত জিনিস আছে জানো কি,,হকি স্টিক,,, যে সামান্য আমার মেয়ে ধমকে গাল চেপেছে তার এই অবস্থা করেছি বুঝতেই পারছো যে আমার মেয়েকে না খাওইয়ে মারার প্লান করছে তার কি অবস্থা করবো,, ঠিক কি অবস্থা হবে তার একটু ভাবো,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো, সকাল সকাল ভাবনার ভিতরে হকি স্টিক এর বারি খেয়েছে এখন কি সত্যিই খাবে নাকি,,,

নুবা চুপচাপ বসে আছে,,,আয়রা কোলের ভিতরে ফিড করছে,,,পাতলা খেতা দিয়ে আয়রাকে সহ নিজেকে আড়াল করে রেখছে নুবা,,,রুমের এসির পাওয়া বেশি যাতে আয়রার গড়ম না লাগে,,,
আরহাম পাশে বসে খাচ্ছে,,তাও হাত দিয়ে অবশ্য সে চামচ ব্যতিত খায় না তবে কাকে আবার ডাকবে নুবা আয়রাকে নিয়ে বসে আছে তাই অনেক দিন পর হাত দিয়েই খাচ্ছে,,
নুবা চুপচাপ বসে আছে,, অস্থির লাগছে তার,,একটা পর পুরুষের সামনে বসে আছে তাও এই অবস্থায় অবশ্য সব দিক দিয়ে সবকিছু ঠিক আছে তবু নুবার খারাপ লাগছে,,,
কিন্তু একটা জিনিস নুবার ভালো লাগলো আরহাম এদিকে একবারো তাকাচ্ছে না,, চুপচাপ নিজের কাজ করছে,,,
আরহামের খাওয়া শেষ হলেও আয়রার হলো না,,নুবা অস্থিরতায় ঘামতে শুরু করলো,,বিপদ যেনো তাকে ছাড়তেই চাইছে না,,
আরহাম খেয়ে দেয়ে টিভি ছেড়ে বসলো নুবার মাথা ঘুরে আসলো এখন আবার কি না কি ছেড়ে বসে,,,এটা নিয়ে ভাবছে নুবা,,,
তবে ভাগ্যক্রমে আরহাম খবড় ছেড়ে বসলো কিন্তু এই ভালো মূহুর্ত আর বেশি সময় টিকলো না,, আরহাম সুন্দর একটা মুভি দিলো,,,নুবা এতো সময় টিভির দিকে তাকিয়ে ছিলো হঠাৎ খবরের বদলে অন্য কিছু আসতে দেখে নুবার কলিজা গলায় এসে ঠেকলো তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে নিলো
বিছানাটা অনেক বড়,,,এখানে আরাম করে ৫ জন শোয়া যাবে,, আরহাম বিছানার এক কোনায় নুবা এক কোনায় ,,তবে তার পড়েও একা রুমে নুবার অস্থিরতা কমছে না,তার উপর এই কোন মুভি ছাড়লো কে জানে,,

আরহাম স্বাভাবিক ভাবেই মুভিটা ইনজয় করছে,,তার মুখে কোনো ভঙ্গিমা নেই,,তবে নুবার কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম পড়ছে,,নুবা একটা কথাই ভাবছে মানুষ এরকম মুভি কি করে স্বাভাবিক নিতে পারে,,তার উপর পাশে একজন বেগানা নারী বসে আছে,,একা থাকলে আলদা ব্যপার তবে পাশে একজন আছে,,,
মুভিটা ভূতুরে টাইপের,,ভিলেন মার্কা,,তবে প্রচুর এডাল্ট সিন আছে,,, অবশ্য নুবা মাথা নিচু করে আছে তবে মুভির বিরক্তিকর শব্দ গুলো নুবার মস্তিষ্ক পচিয়ে ফেলছে,,,
তবে আরহাম একদম স্বাভাবিক,,যেনো সে এগুলোই অভ্যস্ত,,,নুবা এক পলক আড় চোখে টিভির দিকে তাকাতেই স্থির হয়ে গেলো,, তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলো,,, কিছু যে বলবে সেই সাহস নেই,,সেই সাহস থালকে নুবা এখন চিৎকার করে বলতো

“ছি ছি আপনার লজ্জা হয় না,, হাঁটুর বয়সী একটা মেয়েকে পাশে রেখে এই সব দেখছেন,,তাও মেয়েটা আপনার কিছুই হয় না,,,বেগানা নারীর সামনে এই সব,, লজ্জা হয় না আপনার,,,”
তবে কিছুই বলতে পারলো না নুবা,,, বিরক্তিকর শব্দ শুনেই নুবার শরীর কেমন ঝাড়া দিয়ে উঠলো,,, ঝিমঝিম করতে লাগলো,,,এসির ভিতরেও কপাল বেয়ে ঘাম পড়লো,,,নুবা ঠোঁট চেপে বসে রইলো,,,
এর ভিতরেই আরহাম আর চোখে নুবার অবস্থা দেখে মনে মনে হাসলো,,, ইচ্ছে করেই ছেড়েছে,,এটা তার কথা না শুনার শাস্তি,,তখন ১০০ বার ডেকেছে ডাক শুনেও দৌড় মারার শাস্তি এগুলা,,,তার উপর একটু আগে এসে মুখে মুখে তর্ক সাথে তার মেয়েকে না খাওয়ানোর ধমকি সব মিলিয়ে এর থেকে ভালো শাস্তি হয় নাকি,,, যেখানে এই মেয়ের গায়ে হাত তুলা বারন কারণ সে তার মেয়ের বেঁচে থাকার কারন,,
আরহাম হালকা কেশে গম্ভীর কন্ঠে বললো

_ Do you like the movie? It’s a very romantic movie.i like it,,by the way What is your favorite movie?
নুবার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো বিরবির করে বললো
_ এক ভাই চরিত্রহীন,,আর একটার রুচিতে সমস্যা আছে,,না হলে এরকম মুভি কারো পছন্দের হতে পারে,, অবশ্য পাগলদের থেকে,,এর থেকে বেশি কি আশা করা যায়,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ উত্তর দিলে না যে,,,
নুবা আস্তে করে আয়রাকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো,,ঘুমিয়ে গেছে,,,নুবা মনে মনে আয়রাকে প্রচন্ড ধন্যবাদ জানালো,,
_ ঘু,, ঘুমিয়ে গেছে আমি গেলাম,,
_ঘেমে একাকার হয়ে গেছো ফিল নিচ্ছো নাকি,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,, আরহাম যে এতোটা ঠোঁট কাটা তার জানা ছিলো না,,,নুবা নাক মুখ ছিটকে বললো
_ছি,,,এই সব আমার রুচিতেও আসে না,, চোখের যিনা,,,

_ oh ho,,তো কি আসে রুচিতে,,,
_ আপনাদের মতো মানুষদের রুচিতেই এই সব আসবে যাদের বিবেক নেই,,,একটা বেগানা নারীকে পাশে নিয়ে ___ছি,,,
আর কিছু বললো না নুবা,,ঘৃনায় গা গুলিয়ে আসলো তার,,,এতো সময় কোনো মতে বসে ছিলো সে তবে যাওয়ার আগে কিছু না বলে গেলে হয় না,,,
নুবা আর কোনো কথা না বলে মাথার কাপড় ঠিক করে বাইরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিলেই আরহাম ডেকে উঠলো
_ ফ্লোর টা ভিজে গেছে পরিষ্কার করে রেখে যাও,,
নুবা যেতে নিয়েও থেমে গেলো,, কিছু করার নেই তাই চুপচাপ শুকনো কাপড় দিয়ে পানি গুলো মুছে দিতে লাগলো,,

আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,সে মোটেও ভালো না,,,এটা তার নিজেরো ভালো মতোই জানা,,
আরহাম পাশ থেকে কাপড় নিয়ে ভাঁজ করে সুন্দর মতো মেয়ের দুই কানে গুঁজে দিলো মানে পেঁচিয়ে দিলো মাথা সহ, যাতে বাইরের বারতি আওয়াজে সে উঠে না যায়,,,
পরপরই আরহাম শয়তানি হাসি দিয়ে টুক করে টিভির sound বাড়িতে দিলো,,,নুবার শরীর রিতিমতো ঝিম ঝিম করে উঠলো,,
নুবা তাড়াতাড়ি ভেজা জায়গা মুছে উঠে দাঁড়ালো,,,এখান থেকে একবার বেড় হতে পারলে আর কনো দিনও মরে গেলেও এখানে আসবে না,,
আরহাম তো এক নাম্বারের ডিট ঘ্যারত্যারা,,নুবা যেহেতু এতে বিরক্ত হচ্ছে তার মানে সে এখন এটাই বেশি করে করেব,,, কারণ এই মেয়ের গায়ে হাত তুলতে পারবে না সে,,না হলে মেহেরিমার থেকেও বেশি মার নুবা খেতো,,,
নুবা কাজ শেষ করে চলে যেতে নিলেই আরহাম আবারো ডাক দিলো,,নুবা ধৈর্য্যের বাঁধ ভাংতে লাগলো,,,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,, ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে একটা মলম নিয়ে বললো

_ পিঠে লাগিয়ে দিয়ে যাও,,
নুবা চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ টিভি অফ করেন,,,,
_ no way,,,যা বলছি তাই করো,, তাড়াতাড়ি,,ধীর গতিতে কাজ আমার একদমি পছন্দ না,,
নুবার শরীর জ্বলে উঠলো,,নুবা তাড়াতাড়ি যেএ হাত থেকে মলম নিয়ে আরহামকে না ছুঁয়ে লাগিয়ে দিলো,,,,
এবার যখন সে বেড় হতেই যাবে আরহাম আবারো ডেকে উঠলো,,নুবা এবার পিছন ঘুরে কিছুটা রাগে চিচিয়ে উঠে বললো
_ সমস্যা কি আপনার,,,আমি আপনার চাকর না যে যা বলবেন তাই করবো,,,একটা মেয়েকে হ্যারাসমেন্ট করতে খুবি ভালো লাগছে তাই না,,,মজা নিচ্ছেন ,,,
নুবার শরীর তিরতির করে জ্বলে উঠছে,,,রাগে চোখ দুটো পানিতে ভরে উঠলো,,, আরহাম এর রাগ অতি মাত্রায় উঠলো ড্রেসিং টেবিল থেকে একটা লোশনের বোতল নিয়ে নুবার দিকে ছুরে মারলো,,বোতলটা যেএ নুবার বুকে আঘাত করলো,,নুবা মৃদু ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলো ,,সাথে সাথে চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২২

আরহাম গর্জে উঠে বললো
_ তোর সাহস কি করে হয় আমার সাথে চেঁচিয়ে কথা বলার,,মা তোকে শাশিয়ে মাথায় উঠিয়ে ফেলেছে,,নিজেকে বাড়ির মেয়ে ভাবছিস নাকি,,, রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলো রাস্তা ফেলে দিতে দু মিনিটও লাগবে না,,কথা বললে সাবধানে বলবি,,, get out of my room,,,আর এগুলো নিয়ে যা,,
পানি ঢালা প্লেটের দিকে ইশারা করে বললো
নুবার কষ্টে বুক ফেটে গেলো তবে কিছু বললো না,,প্লেট লবন নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here