নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ আমার মেয়েটার দোষ কি ছিলো আপা,,,আর বাড়ি ছেড়ে গেলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে,,,সব না হয় ঠিকি হলো তবে আয়রা,,, পারবেন ওকে ছাড়া থাকতে,,, আফসোস হয় আমার কেন যে মেয়েটা সেদিন আমার কথা শুনলো না,,,
আমিনা বেগম আর পারলো না,,,একটা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করে বসলো,,,যা হাজেরা ধারনা করতে পারলো না,,,
আমিনা বেগম যেএ হাজেরার পায়ের কাছে বসে পড়লো,,হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ জানি আমাদের উপর খুব রেগে আছো,,কি করলে এই ক্ষোপ মিটবে হাজেরা,,, যদি পারতাম নুবাকে সুস্থ করে দিতাম তবে সেটা তো আল্লাহর হাতে,,,আমি তোমার পায়ে পড়ছি আমাদের উপর রাগ করে___
বাকি কথা বলার আগেই হাজেরা চমকিত কন্ঠে বললো
_ ছি ছি কি করছেন আপা,,পায়ে পড়েছেন কেন,,
বলেই হাজেরা,,আমিনা বেগম কে বাহু ধরে টেনে তুললো,,আমিনা চোখে পানি মুছে বললো
_ আমার ছেলেকে আমি কঠোর থেকে কঠোর তমো শাস্তি দিবো,,তাও এভাবে ঘৃনা ভরা চোখে দেখো না,,, তোমার ভাই এই দৃষ্টি সহ্য করতে পারবে না,,বারবার নিজেকে দোষারোপ করবে,,যেখানে পুরো দোষটা আমার ছিলো,,,না আমি নুবাকে আয়রার ব্যপারে জোর করতাম না আজ এই দিন দেখতে হতো না,,
হাজেরা আমিনা বেগম কে থামিয়ে বললেন
_ এটা একটা কাজ করলেন আপা,,কই আপনি কই আমি,, আমার মতো মানুষের পায়ে পড়ছেন,,, লজ্জা তো এখন আমার নিজের প্রতি হচ্ছে,,,আপনি আমার বড় বোনের মতো সেখানে এই কাজটা করে আমাকে ছোটো করলেন,,,কাজটা ঠিক করলেন,,
আমিনা বেশ কাতর কন্ঠে বললো
_ তা কি করবো বলো,,,ছেলেটা আমার কোথাও মুখ রাখলো না,,এখন বাপু রাগ কমলে কথা না বলে কটা খেএ নেও তো,,, তুমি সুস্থ থাকলেই নুবা সুস্থ হতে পারবে,,,
এদিকে রিহনা চুপচাপ বসে কাহিনি দেখছে,,মারলো ছেলে,,, দুঃখে কষ্টে পায়ে পড়ে মাফ চাইছে মা,,,
আরহামের বুকের ভিতর কেমন চিনচিন করছে,,, দুপুর থেকে মেয়েটা কিছু মুখে নেয়নি,,,জ্বর এসেছে,,ক্ষুত ক্ষুত করছে আর বুকের দুধ খুঁজছে,,,আরাহামের বুকের ভিতরে জ্বালা পোড়া করছে,,এখন কি করবে সে,,, একবার তো মনের ভুল নুবাদের রুমে চলে গিয়েছিলো অতঃপর মনে পড়লো নুবা তো হসপিটালে,,, কিন্তু একটুও অনুতপ্ত হলো না সে,, বরং নুবার উপর আরো রাগ জমলো তার,,নুবার জন্যই আজ তার মেয়ের এই অবস্থা,,
উত্তপ্ত দুপুর। প্রখর রোদের তাপে যেন পুরো শহর জ্বলছে। হাসপাতালের কেবিনের জানালার কাঁচ ভেদ করে সূর্যের আলো মেঝেতে এসে পড়েছে। বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে আছে নুবা, হাতে ক্যানোলা আর শরীরজুড়ে ব্যথার ছাপ। স্যালাইনের ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে তার শরীরে প্রবেশ করছে। কেবিনজুড়ে ওষুধের গন্ধ আর নীরবতা মিলেমিশে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছে। মাঝে মাঝে নুবা চোখ মেলে চারপাশে তাকায়, আবার ক্লান্তিতে চোখ বুজে ফেলে। তার ফ্যাকাশে মুখটা দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে, সে শুধু শরীরের নয়, মনেরও গভীর ক্ষত হয়েছে।
হাজেরা বেগম মেয়ের মাথার কাছে বসে বিরবির করে বললো
_কিছু খাবি মা,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বললো
হাজের বুক চিনচিন করে উঠলো,,,রিহান সকালে বাড়িতে গেছে,,,আমিনা বেগোমে একটু আগে গেলো,,বললো খাবার নিয়ে আসবে,,নুবার জন্য কিছু বানিয়ে আনবে নিজে হাতে,,,তবে আরশি এসেছে,,একজন না একজন তো সাথে থাকতেই হবে,,
আরহাম মেয়ের মুখে ফিডার ঠেলে দিলো বিরবির করে বললো
_ ভ্রদ মেয়ের মতো খেএ নেও আম্মু,,না হলে অসুস্থ হয়ে পড়বে,,,
আয়রা ফিডার জিভ দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলো,,,
আরাহাম আবারো ফিডার দিলো,,,আয়রা ফুঁপিয়ে উঠলো,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েকে কোলে নিয়ে বুকের সাথে আগলে নিয়ে বললো
_ এখন তোর জন্য দুধ দেওয়া মেয়ে মানুষ কোথায় পাবো হুম,,,একটু ফিডার খেলে কি হয়,,পাপাকে সময়তো দে,,,যাতে সে কোনো উপায় বেড় করতে পারে,,,
আরয়া গুঙ্গিয়ে উঠলো,,,হালকা হালকা জ্বর এসেছে ওষুধ খাওইয়েছে তবে হয়তোবা কমেনি,,
নুবা বেডের সাথে হেলান দিয়ে কোনো মতে বসেছে,,পুরো শরীর ব্যথায় টনটন করছে,,,
হাজেরা মেয়ের মুখে একটু স্যুপ দিয়ে বললো
_ একটু খা,, না হলে সুস্থ হবি কিভাবে,,
নুবার চোখের কোনা দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,মুখের স্যুপ টুকু কোনো মতে গিলে হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ কি,, কিছু মুখে দিও না মা,,,,গিলতে পা,,পারছি না,,মনে হচ্ছে গলার হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে,, কিছু খাবো না,,,
নুবার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে,,,তবু বাধ্য হয়ে বললো সে,,হাজেরা ওরনা দিয়ে চোখের পানি মুছে বললো
_ এবার সুস্থ হয়ে নে,,আমারা ওই বাড়িতে আর যাবো না,,, একটু খা,,,
আমিনা বেগম চুপচাপ বসে আছে,, কিছু বলার নেই,,নুবার গলায় লাল কালচে দাগ হয়ে আছে,, আরহাম নির্ঘাত প্রচন্ড জোরে গলায় চাপ প্রয়োগ করেছে,,,
নুবার চোখের পাতা ভিজে উঠলো,,,ভালো হাতটা আমিনা বেগমের হাতের উপর রেখে বলে উঠলো
_আ,,আমি কিছু করিনি চাচি বি,,বিশ্বাস করো,,
নুবার কাপা আর ভেপসা কন্ঠ,,,নুবার কন্ঠ শুনেই বোঝা যাচ্ছে সে কতটা কষ্ট করে কথা বলছে,,আমিনা নুবার এক ফাত দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বললো
_ আমি জানি তুই কিছু করিসনি,,,
নুবার মুখে একটু আশা ফুটে উঠলো,,আমিনার হাত শক্ত করে ধরে মৃদু কন্ঠে সুধালো,,,
_ কা,,কালক গোসল করে____
নুবার গোসল প্রায় শেষ পর্যায়ে,,ড্রেস চেঞ্জ করছে,,তবে এমন সময় শুনতে পেলো আয়রা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই মাত্র তো ঘুম পাড়িয়ে রেখে আসলো আবার কি হলো,,,
নুবা তাড়াতাড়ি কোনো মতে ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে বেড় হলো,,নুবার পি*রিয়ড চলছে তবে আয়রার কান্না শুনে ন্যাপকিন use না করেই বেড় হয়ে আসলো,,,তার মনে হলো এটাতে সময় নষ্ট হবে আগে আয়ারাকে থামাতে হবে,,,
কোনো মতে ড্রেস পড়তে পড়তে যেনো সে বেড় হয়ে আসলো,,,আয়রার দিকে যেতে যেতে থ্রিপিস টেনে ঠিক করলো,,ভেজা চুল গুলো খোঁপা করে নিলো,,,
নুবা আয়রার কাছে যেএ হতভম্ব হয়ে গেলো,,,গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে সে,,নুবা উত্তেজিত হয়ে তাড়াতাড়ি আয়ারকে কোলে নিয়ে থামানোর চেষ্টা করলো তবু সে থামলো না,,
_ কি,,,হয়েছে আরু বাবু,, খারাপ স্বপ্ন দেখেছো আম্মু,,,কি হয়েছে আন্টিকে বলো,,,কি হয়েছে মা,,
আয়রার কান্না বাড়লো,,নুবা বিছানায় বসলো তাকে ফিড করানোর জন্য কিন্তু তখনি তার ডান হাত নুবার জামায় ঘেষা খেলো,,আয়রা আর্তনাদ করে উঠলো,,, কান্না করতে করতে তার মুখ লাল হয়ে উঠলো,,
নুবার ভুরু কুঁচকে উঠলো,,আয়রার তো বাম হাতে ব্যথা ছিলো,,নুবা কিছু একটা ভেবে তাড়াতাড়ি আয়রার ডান হাতের আঙ্গুল গুলো ধরে হাতে চোখ বুলাতেই তার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো
ডান হাত বাম হাতের মতো লাল হয়ে আছে,,মনে হচ্ছে এখনি কেউ এই কাজ করেছে,,,
নুবা ভিষন ভয় পেয়ে গেলো,, কম্পিত কন্ঠে তার মাকে ডাকলো,,,
_ মা,,,মা,,,
কিন্তু তার মা নিশ্চয়ই বাইরে কাজ করছে নুবা কি করবে ভেবে পেলো না তখনি চোখে পড়লো বালিশের উপর গ্যাসলাইট রাখা,,,
নুবার ভুরু কুঁচকে আসলো বুকটা কাঁপছে তার বাচ্চাটার এই অবস্থা দেখে,,,
নুবা ডান হাতে গ্যাস লাইট উঠিয়ে নিলো,,বাম হাতে কান্নারত আয়রার ছোট্ট ক্ষত হাত ডান হাতে গ্যাসলাইক,,নুবার ছোট্ট মস্তিষ্ক কিছু বুঝে উঠতে পারলো না,,,তার এখন কি করা উচিত,,,
তখনি আরহাম রুমে প্রবেশ করলো,,,আরাহামের চোখে ভেসে উঠলো নুবা এক হাত দিয়ে তার মানিকের হাত ধরে রেখেছে অন্য হাতে গ্যাসলাইট,,যা স্পট বোঝিয়ে দেয় কালপ্রিট কে,,,
_নুবাআআআআ,
নুবা এতটুকু বলে থামলো,,, কান্না ভেঙ্গে পড়ে বলে উঠলো,,
_ আমি কি,, কিছু করিনি,,আমি আমি এ,তো নিনির্দয় না চাচি,,,
আমিনা বেগম নুবার এক হাত তার দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে কপালে ঠেকালো তার পর হাতে চুমু খেএ বললো
_ আমি জানিরে মা,,, আমাকে আর বলতে হবে না,,, তুই শুধু সুস্থ হ,, আরহাম এই পাপের কঠিন তম শাস্তি পাবে,, তুই শুধু তাড়াতাড়ি সুস্থ হ,,
তার চাচি তাকে বিশ্বাস করেছে দেখে নুবা শান্তি পেলো,,, আমিনা বেগম নুবাকে শান্ত করে রেখে চলে গেলেন,,কাল অনুষ্ঠান বাড়িতে না গেলে হবে না,,যতোই মা বোন সব সামলাক,,
আরহামের হাত পা কাঁপছে,,,ইতি মধ্যেই আয়ার জ্বর বেড়েছে,,,কাল থেকে কিছু মুখে নেওয়াতে পারছে না,,, আরহাম বুঝতে পারছে না কি করবে সে,,,
আরহামের চিন্তার ভিতরে আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলেন,,মাকে দেখে কেন জানি আরহাম অনেকটা শান্তি পেলো,, আরহাম তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বললো
_ ,,কা,,কাল থেকে কিছু খাচ্ছে না মা,,জ্বর এসেছে বোধহয়,,একটু দেখো না কি হয়েছে,,আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না,,
আমিনা বেগম এক পলক ঘুমন্ত আয়রার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
_ নুবা যে তোর মেয়ের ক্ষতি করেছে এটা তুই নিজে চোখে দেখেছিলি,,,
_ উফ্ জানি না আমি,,আগে তুমি আয়ারকে দেখো,,একটু কপাল ছুঁয়ে দেখো জ্বর এসেছে কিনা,,, আমার তো মনে হচ্ছে আমার শরীরি গড়ম,,
আমিনা বেগম আয়ার দিকে এগিয়ে যেএ তার গলা কপাল ছুঁয়ে বললো
_ তোর শরীরি গড়ম,,,তাও ওকে জ্বরের সিরাপ দিয়ে দিস,,,
আরহাম যেনো মায়ের কথায় শান্তি পেলো,,,
আমিনা বেগম ছেলের স্থির আর শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আবারো প্রশ্ন করলেন
_ এবার আমার প্রশ্নের উত্তর দে,,, তুই কি নিজে চোখে দেখেছিলি
আরহাম এগিয়ে যেএ মেয়ের শরীরে পাতলা খেতা টেনে দিতে দিতে বললো
_ হ্যাঁ,,
_ তা কি দেখেছিলি
_ কি দেখবো মা,, তুমি তো সব জানো
আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বললেন
_ যা বলছি তার উত্তর দে
_ হ্যাঁ দেখেছিলাম,,
_ কি দেখেছিলি তুই,,,হাত পুড়াচ্ছিলো,, সত্যি সত্যি বলবি,,,
আরহাম এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ না,,,তখন পুড়াচ্ছিলো না,,,তখন পুড়ানো শেষ,, আমার মেয়েটা গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করছিলো সেই সময়,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে এগিয়ে যেএ বললেন
_ ও,,তার মানে তুই দেখিসনি,,,
_ দেখিনি মানে কি দেখেছি কিন্তু তখন ওই অমানুষ টা পুড়িয়ে ফেলেছে আমার যেতে দেরি হয়ে গেছে
আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ কি ভাবে বুঝলি রুমে এই সব হচ্ছে,, তুই তো লিভিং রুমে ছিলি,,আয়রার কান্না শুনে ছুটেছিলি নাকি কেউ বলেছিলো,,
_ আজব প্রশ্ন করছো কেন,,যাও তো,,আমি জানি তুমি ওই মেয়ের পক্ষ নিবে,, এমন ভাবে বস করে রেখেছে তোমাকে,,,যাও তুমি,,,
আমিনা বেগম রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ আরহাম,,আমি উত্তর দিতে বলেছি
আরহাম নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ তোমার দেবরের মেয়ে এসে বলেছিলো,,আর কিছু,,
_ মেহেরিম,,,
_ হ্যাঁ,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, যাই ভেবেছিলো তাই,,এই ছেলেটার রাগে বুদ্ধি লোপ পেয়েছে তাই না জেনে শুনে এই কাজটা করে ফেলেছে সে,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এবার থেকে কারো গায়ে হাত তুলার আগে ভেবে চিন্তে নিবি আরহাম,,, সত্যি বলতে আজ বলতে লজ্জা হচ্ছে,,বড় হয়েছিস কিন্তু মাথায় জ্ঞান হয়নি,,,একটু ভেবে দেখলে আর এই পরিস্থিতি হতো না,,, তোর জন্য ঘৃণার পাত্র হতে হয়েছে আমাদের,,তোর বাপ নুবার সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছে না,,ভরসা দিতে পারছে না,,, কারণ বিপদের সময় সেও রক্ষে করবে পারেনি,,একটিবার মস্তিষ্ক খাটালে আজ তোর মেয়ে এভাবে না খেএ জ্বরে ভুগতো না,,,
বলেই আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেন,,,
আমিনা বেগম মেহেরিমাকে টেনে ছাদের এক কোনায় নিয়ে যেএ দাঁড় করালেন,,মেহেরিমা অবাক হয়ে বললো
_ কি,,কি হয়েছে চাচি,,
আমিনা বেগম রাগে ফিসফিস করে সুধালো
_ কি হয়েছে তুই জানিস না,,এমনটা কেন করলি,,তোর জন্য আজ বাড়িতে এতো অশান্তি,,,
মেহেরিমা অবাক হয়ে বললো
_ আমি কি করেছি,,
_ আমি কিন্তু সব জানি মেহেরিমা,, তুই এই সব করেছিস,,তোর জন্য আজ নুবার আর আমার নাতনির এই অবস্থা,,
মেহেরিমা জেদি গলায় তেতে উঠে বললো
_ না জেনে শুনে কথা বলবে না চাচি,,আমি কিছু করিনি
আমিনা বেগম মেহেরিমাকে ধমকে উঠে বললেন
_চুপ,, একদম চুপ,,,গলা উঁচু করবি না,,, আমার কাছে প্রমান আছে,,প্রমান ছাড়া আমি কিছুই করি না,,এখন ভালোই ভালোই সত্যিটা বল না হলে আমি আরহামকে ডাকবো,,,দেখেছিসতো নুবার কি অবস্থা করেছে,, তোকে করতেও কিন্তু ২ মিনিট ভাববে না,, একবার মার খেয়ে বুঝেছিস তো আমার ছেলের হাতে কি জোর,,,
মেহেরিমা ইনিয়ে বিনিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আমি কিছু করিনি,,যা করার ওই নুবা করেছে
_ মেহেরিমা,, মিথ্যা বলে আর একটা ভুল করছিস,, স্বীকার কর তাহলে আরহামের হাত থেকে বেঁচে যাবি,,,না হলে ও যদি জানতে পারে কেউ ওকে ঠেকাতে পারবে না,,ভাবিস না নুবাকে মেরে ওর রাগ ঠান্ডা হয়েছে,,যদি জানতে পারে পুরটাই তোর কথা ষড়যন্ত্র তবে আরহাম তোকে টুকরো টুকরো করবে,,,
মেহেরিমা ঝাড়া মেরে বললো
_ আমি কিছু করিনি,, তুমি শুধু শুধু আমাকে দোষারোপ করছো
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,তবে তোর হয়তোবা জানা নেই সেদিন আরহামের রুম থেকে বেড় হওয়ার সময় রিনু তোকে দেখেছিলো,,আর নুবা যখন গোসলে গেছিলো তখন তোকে তানিয়া রুমে ডুকতে দেখেছিলো,,,কাল ঝামেলা আর আরহামের রাগ দেখে কেউ না বললেও আজ কিন্তু আমি সব যাচাই করেছি,,দুটো জলন্ত প্রমাণ আছে আমার কাছে,,
মেহেরিমা তাও স্বীকার করলো না বিরবির করে বললো
_ আমি রুমে যেতেই পারি,,আ আর রুমে গেছি দেখে কি আমি করেছি নাকি,,,
মেহেরিমা কন্ঠে আত্মবিশ্বাস,,
আমিনা বেগম মৃদু হেসে বললো
_ পিঠে দুটো নুবার মতো বেল্টের বারি পড়লেই সত্য বেড় করবি তাই না,,,দুই মিনিট দাঁড়া আরহামকে ডাকছি,,
বলেই আমিনা পিছনে ঘুরলো,,মেহেরিমা শুকনো ঢোক গিললো,,বুঝতে পারলো সে শেষ,,,নুবার মতো মার সে খেতে চায় না তাই ভয় পেয়ে দৌড়ে যেএ আমিনা বেগমের পা চেপে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো,,,
_ sorry চাচি আমি এমন কিছু করতে চাইনি,,, আমাকে মাফ করে দেও,,আমি ভাবতে পারিনি ভাইয়া এভাবে নুবাকে মারবে,,আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি
আমিনা বেগম পিছন ফিরে মেহেরিমাকে দাঁড় করিয়ে বললো
_ সেদিনের মারের প্রতিশোধ নিয়েছিস তাই না,,, আরহামের জেদ নুবাকে দিয়ে মিটালি,, কিন্তু কেন ও তো তোর ছোটো বোনের মতো,,মেয়েটা তো কিছুই করেনি তবে কি আরহামকে মারতে পারবি না দেখে রাগ,,জেদটা নুবাকে আর আয়ারকে দেখালি হুম,,,
মেহেরিমা নাক টেনে বললো
_ আমি বুঝতে পারিনি এতো বড় ঝামেলা হবে
আমিনা বেগম ঠাস করে মেহেরিমার গালে থাপ্পড় বসিয়ে রাগে তেতে উঠে বললো
_ অমানুষ তুই,,মায়া হলো না,, বাচ্চাটাকে এভাবে কষ্ট দিলি,,, নির্দোষ মেয়েটাকে হসপিটাল পর্যন্ত পাঠালি,,,সব তোর জন্য হয়েছে,, তুই জানতি না আরহাম কেমন,,সে কতটা রিয়েক্ট করবে হ্যাঁ,,মায়া হলো না,,আয়রা তো তোর মেয়ের মতো,আজ বিয়ে দিলে কাল বাচ্চার মা হবি,,একটুও মায়া হলো না,,নাকি আল্লাহ তোকে সৌন্দর্যই দিয়েছে মন দেয়নি,,আয়রা তো তোরি রক্তের,,,তোর ভাইরের রক্তের ,, লজ্জা হলো না রে,, হ্যাঁ কথা বল
বলেই মেহেরিমারকে বাহু ধরে ঝাঁকি দিলো, মেহেরিমা কেঁদে উঠলো,,
_ চুপ করে আছিস কেন কথা বল,,,এতোটাই জেদ পুষে রেখেছিলি মনের ভিতরে যে ২ মাসের বাচ্চার হাত পুড়াতে গায়ে বাঁধলো না,,,তাও দু দু বার,, এতোটাই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে পড়েছিলি,,,
_ আমি বুঝতে পারিনি
_ সেদিন ঝাড়ুর বারি খেয়েও বুঝতে পারিসনি,,যে আরহামের জান তার সন্তান,,,এখন যদি ও এই সব জানতে পারে তোকে আস্ত রাখবে,,,বল,,একটুও ভয় ডোর মনে ছিলো না,,,এখন কান্না করছিস কেন,,মার খাওয়ার ভয়ে নাকি অনুতপ্ত হয়েছে,, যতটুকু তোকে চিনি তুই অনুতপ্ত হওয়ার মতো মেয়ে নস,,তবে কি ভয় লাগছে আরহামকে না বলেই দেই
মেহেরিমা আমিনা বেগমের হাত চেপে ধরে বললো
_ আমি আর কখনো এমন করবো না চাচি,, আমাকে মাফ করে দেও,,, আমার জেদ এতোটাই বেশি পখর ছিলো আমি আয়ারর দিকটাও ভাবিনি,,একটুও মায়া হয়নি,,, কিন্তু আমি পরে বুঝতে পেরেছি আমি অনেক বড় ভুল করেছি,, কিন্তু তখন বলার মুখ ছিলো না,,,না হলে ভাইয়া আমাকে মেরে ফেলতো,,,
আমিনা কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,,একে তো ঝামেলা চলছে এখন মেহেরিমার কথা তুললে আরো ঝামেলা হবে,,যার ভাগ্যে যা থাকে,,,তা যেভাবেই হোক চলেই আসবে,, যেমন কোনো এক বিশেষ কারনে মাকে খুঁজতে খুঁজতে ছাদে এসেছিলো আরহাম আর তাদের এই সব কথাপোকথন শুনে তার কপালের রগ ফুলে উঠলো,,,হাত মুঠো বদ্ধ হয়ে আসলো,,,মনে হলো শরীরে কেউ আগুন ডেলে দিয়েছে,,তার মানে এই সবের পিছনে মেহেরিমা,,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে কান্ত কন্ঠে বললেন
_ এবার শান্তি হয়েছে তো,,দু দুটো মেয়েকে মেরে হসপিটালে পাঠালি,,,কবে একটু শান্তি দিবি বলতে পারবি,,,তোর চাচা কি বলে গেলো শুনেছিলি,,,
আরহাম মেয়েকে কোলে তুলে নিলো,,মেয়ের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ বাল ছিরবে আমার,,যাও তো তুমি,,,
_ লজ্জা হয় না,,মেয়ে মানুষের গায়ে হাত তুলিস
_ ওর মায়া হলো না আমার মেয়ের গায়ে হাত দিতে,,তাই আমরো লজ্জা হয়নি,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ নিশ্চয়ই তোর চাচা তোর বাবার সাথে ঝামেলা করবে আমি চিন্তায় বাচচ্ছি না আর তুই,,,সব বাদ দিলাম,,তবে নুবা মেয়েটা মাঝখানে পড়ে শুধু শুধু ___
_ উফ্ মা,,,যাও তো,,
হারুন মির্জা ভাই এর দিকে তাকিয়ে বললো
_ সব ঠিক হয়ে যাবে,,,
ভাই এর কথা শুনে মেহেরিমা বাবা রাগে তেতে উঠে বললেন
_ কি ঠিক হবে ভাইজান,, কি ঠিক হবে,, আপনার ছেলে একটার পর একটা মানুষের ক্ষতি করছে,,,আর আপনি চুপচাপ দেখছেন হ্যাঁ,,,
হারুন মির্জা থেমে গেলেন না তিনো কঠোর কন্ঠে বললেন
_ তোর মেয়ে আমার ২ মাসের নাতিন হাত পুড়িয়েছে তাও ১ বার না দু দু বার,,তোর মেয়ে যে এখনো বেঁচে আছে এটা তোর ভাগ্য,,,
_ আপনি ছেলের পক্ষ নিচ্ছেন,
_ ছেলের পক্ষ নিচ্ছি না শুধু তোকে মনে করিয়ে দিচ্ছি এক সময় তুইও আমার ছোট্ট ছেলেটার পিছনে লাগতে কম লাগিসনি,,আমি কিন্তু কিছু ভুলিনি,, শুধু সময়ের পরিবর্তন হয়েছে তবে কারো কথাই ভুলিনি,,তবু দোয়া করি তোর মেয়ে যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়,,
বলেই হারুন মির্জা হসপিটাল থেকে বেড় হয়ে গেলেন,,
মেহেরিমার বাবা রাগে গজগজ করতে লাগলো,,,মারিয়া বেগম পাশ থেকে বলে উঠলো
_ ওই ছেলে আপনার মেয়ের মাথা ফাটিয়েছে আর আপনি এখনো চুপচাপ বসে আছেন
উনি থমকে মারিয়া বেগম কে থামিয়ে দিয়ে বললেন
_ চুপ করো,,যা না বুঝবে তা নিয়ে কথা বলবে না,,আমি এখনি চাইলে পুলিশ স্টেশনে যেতে পারি,,ওর উপর কেস করতে পারি,, কিন্তু হারুন মির্জা হাত বেশ লাম্বা,,সাথে আরহামের কম না,,এই নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আরহাম আমার ১৪ গুষ্টি নিয়ে টান দিবে,,অতীতে গু ঘেটে সব বেড় হয়ে আসলে যেই আলিশান জীবন যাপন করছো সব হারাবে এর থেকে ভালো মেয়ের সুস্থতা কামনা করো,,
মারিয়া বেগম তেতে উঠে বললেন
_ তাই বলে আপনি কিছুই করবেন না,,
_ বলেছি না চুপ থাকতে,,সময় হলে সবাইকে দেখে নিবো আর তোমার মেয়েও আছে,, আরহামের মেয়ের পিছনে লাগার কি দরকার ছিলো,,,এই মূহুর্তে আমার দাঁড়া কিছুই সম্ভব না,,, আরহাম ভালোর চু**** না,,,ওকে সায়েস্তা করতে গেলে আমাদেরি ক্ষতি,,,গ্ৰাম থেকে কোনো রকম সম্পত্তির ভাগ পাবো না,,, শুধু একবার সম্পতি গুলো হাতিয়ে নি তার পর দেখাবো কত ধানে কত চাল,,
আমিনা বেগম স্বামীর হাতের এক থাপ্পর খেএ কান্নায় ভেঙে পড়লো,, হারুন মির্জা আমিনা বেগমের গাল চেপে ধরে বললেন
_ ছেলেকে লাই দিচ্ছিস দে,, কিন্তু মনে রাখ ওর এমন অবস্থা করবো,,, জানোয়ার টাকে এবার সোজা করে ছাড়বো,,,
আমিনা বেগম কোনো মতে বিরবির করে বললেন
_ আমি জানি আরহাম আপনার কলিজার টুকরা তাহলে এখনো কেনো ছেলের সামনে খারাপ হতে যান,,
হারুন মির্জা স্ত্রী কে ছেড়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ ছিলো,,এক সময় ছিলো কলিজা,,এখন না,,,যবে থেকে অন্যায় করা শুরু করেছে তবে থেকে ও আমার রুহ থেকে উঠে গেছে,,,
আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললেন
_ আপনি কেন ভুলে যাচ্ছেন এই সবের জন্য আপনি দাই,,,কেনো ছেলেকে এতো ____
আমিনা বেগমের কথা শেষ হওয়ার আগেই হারুন মির্জা হুংকার ছেড়ে বললো
_ তাহলে কি করতাম,,মরতে দিতাম,,,পারতি নিজের ছেলেকে মরতে দেখতে হ্যাঁ,,পারতি,,,বলে না যার জন্য করলাম চুরি সেই বলে চোর,,,যাকে সব থেকে বেশি আগলে রাখার চেষ্টা করেছি সেই এখন আমাকে দেখলে ঘৃনা ভরা দৃষ্টিতে তাকায়,,বাপ হই আমি সহ্য হয় আমার,,তোকে এভাবে দেখলে তুই সহ্য করতে পারতি,,,যদি তোরি সন্তান তোকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিতো,,পারতি সহ্য করতে,,,
বলতে বলতে হারুন মির্জার চোখ ছলছল করে উঠলো,,আরহাম তার ভীষণ আদরের,,তবে অতিরিক্ত ভালোবাসা যেনো এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে,,,
স্বামীর আহাজরি দেখে আমিনা বেগম তাকে পিছন থেকে দুই হাত দিয়ে জাপটে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ আরহাম আপনাকে অনেক ভালোবাসে,, শুধু প্রকাশ করে না,,
_ সেটা ওর চোখ দেখলেই বুঝি আমি,,নাতনিটাকে একটু কোলে নিলে ওর মুখের দিকে চাওয়া যায় না,,, আমার কি ইচ্ছে হয় না নাতনিটাকে একটু কোলে নি,,,
আমিনা বেগম কি বলে স্বামীকে শান্ত করবেন বুঝতে পারলেন না,,,
নুবা এক হাত পেটে চেপে উঠে বসলো,,আরশি ঘুমিয়ে গেছে তখন রাত ১০ টা,,,রিহান আর আরশি হসপিটালে থেকে গেছে,,,আমিনা বেগম আসেনি,,,আসবে কি করে এদিক দিয়ে ছেলে মেহেরিমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে,, ভাগ্যিস তখন আয়ার আরহামের কোলে ছিলো না হলে দ্বিতীয় বারি দিয়ে মেহেরিমাকে মেরেই ফেলতো,,,কোনো মতে মেয়েটা বেঁচে গেছে,,,
কিন্তু ইতি মধ্যেই বাড়ির সবাই জেনে গেছে এই জঘন্য কাজটা মেহেরিমা করেছে,,তাই সবাই বেচারি নুবাকে নিয়ে আফসোস করছে
হাজেরা মেয়ের মুখে দুটো ভাত তুলে দিলো,,তবে নুবা গিলতে পারলো না,,,বিরবির করে বললো
_ গি,,গিলতে পারছি না,,দিও না
_ না খেলে কিভাবে হবে,,,
রিহান পাশ থেকে বলে উঠলো
_ চেষ্টা করো নুবা,,একটু খেলে সুস্থ হবে,,,
বাড়িতে বউভাতের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সবাই।
আঙিনাজুড়ে অতিথিদের কোলাহল, রান্নার সুগন্ধে মুখর চারপাশ।হাসি-আনন্দে ভরে ওঠার কথা ছিল যে দিনটি, সেই দিনেই নুবা পড়ে আছে হাসপাতালের সাদা বিছানায়।তার আরহামের দেওয়া ড্রেসটা আর পড়া হলো না,,,ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হলো না তার।দূর থেকে ভেসে আসা আনন্দের খবর যেন আরও ভারী করে তুলছিল তার মন।
পরিবারের মানুষজনও আনন্দ আর দুশ্চিন্তার মাঝখানে আটকে ছিল।একদিকে বউভাতের উৎসব, অন্যদিকে নুবার অসুস্থতা—সবকিছু যেন অদ্ভুত এক বিষণ্নতায় ঢেকে গিয়েছেদিনটি স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল, অথচ তা হয়ে রইল অপূর্ণতার এক নীরব স্মৃতির মতো,,,
বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকলেও আমিনা বেগম অনুষ্ঠান রেখে হসপিটালে ছুটে আসলো,,,তবে মেহেরিমাকে দেখতে কেউ গেলো না,, কারণ সে পাপ করেছে যার শাস্তি পেয়েছে,,
আমিনা বেগম এসেছেন কারণ আরশি রিহান চলে গেছে হাজেরা একা,,,আমিনা এসে খাবার টেবিলে রেখে বললে
_ হাজেরা,, তুমি না হয় বাড়িতে যেএ একটু রেস্ট নিয়ে আসো,,আর কয়দিন আমি এখানে থাকবে
হাজেরা মিলিন কন্ঠে বললেন
_আপনি আসতে গেলেন কেন আপা,,বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছে আপনাকে তাদের প্রয়জন,,
আমিনা বেগম নুবার দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_ওখানে সবাই আছে সামলে নিবে,মন মানছিলো না তাই নুবাকে দেখতে এলাম,,,
বলেই নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ মেহেরিমা শয়তানি করে কাজটা করেছে,,,
আমিনা বেগমের কথা শুনে হাজেরা কিছুটা হতভম্ব হয়ে বললো
_কি,, কিন্তু কেন আপা,,
_ সেদিন আরহাম মেরেছিলো না তার জন্য মনে মনে জেদ ধরে এটা করেছে,,,
_ আমার মেয়ের কি দোষ ছিলো,,ওকে কেন এভাবে কষ্ট দিলো আপা,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ঠিক জানি না তবে মেহেরিমা খুবি জেদি,,তবে ভেবো না আরহাম ওকে বোন বলে ছেড়ে দিয়েছে,,মাথা ফাটিয়েছে,,সেও হসপিটালে,,,
কথাটা শুনে হাজেরা অবাক হয়ে বললো
_ আল্লাহ,,, বেঁচে আছে তো
_ হ্যাঁ,, দ্বিতীয় বার আঘাত করলে মেরেই যেতো,, আল্লাহ সহায় ছিলো ৯ টা সিলি পড়েছে,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৪
অনুষ্ঠান সুন্দরভাবেই শেষ হলো।
অতিথিদের বিদায় জানিয়ে ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এলো পুরো বাড়ি।নতুন বউ আর জামাইকে নিয়ম মেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে চারপাশে নেমে এলো এক প্রশান্ত পরিবেশ।হাসি, গল্প আর শুভকামনায় ভরে উঠেছিল নতুন জীবনের প্রথম দিনটি।সবার চোখে ছিল তাদের সুখী ভবিষ্যতের স্বপ্ন।আর এভাবেই আনন্দ আর ভালোবাসার আবহে শেষ হলো দিনের সমস্ত আয়োজন।আরফ নতুন জীবনে পা রাখলে নুবার তৃষ্ণা তার মন __
