Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন

উঠে দাড়িয়ে পা ফেলতেই নুবা নাক মুখ উল্টে পড়তে নিলো,,তবে পড়তে পড়তে বাঁচার জন্য ঠিক পড়ার আগ মুহূর্তে বসে থাকা আরহামের শার্ট হাত লাম্বা করে ধরার চেষ্টা করলো,,আরহামো বেশ বেখেয়ালি ছিলো,,,তাই নুবার টানে দুই জন সাপের ন্যায় গড়াগড়ি খেএ ৫ সিরি নিচে যেএ সিরির বড় অংশে থামলো,,,
নুবা আর্তনাদ করে উঠলো ,, আরহাম তার নিচে,,নুবা উপরে,,তবে ব্যথাটা নুবাই বেশি পেয়েছে,, কারণ সে মাইয়া মানুষ,,এটাই স্বাভাবিক,,,
নুবা যখন ব্যথা নিবারোনে ব্যস্ত তখনি নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে নিজেই চম্কে উঠলো,,,কিছুটা চমকিত হয়ে মাথা নিচু করে আরহামের দিকে তাকালো,,যে কিনা মাথা একটু উঁচু করে তার বুকে পরে থাকা দূর্বল নুবাকে দেখতে ব্যস্ত,, ভাগ্যিস এই সিরির সাইটটা নিরব স্থান না হলে মানুষ দেখলে কি বলতো,,,
আরহামকে এভাবে তাকিয়ে থাতকে দেখে নুবরা হুস ফিরলো,,পরপর কিছুটা রেগে আরাহামের মুখে বাম হাত দিয়ে চাপড়(থাবা) মেরে বললো

_ তাকিয়ে আছেন কেন,,কখনো মেয়ে মানুষ দিখেননি নাকি,,
আরহাম বেশ রেগে গেলো কত বড় সাহস তার গায়ে হাত দেয়,,, আরহাম নুবাকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে নিচে তার উপর উঠে বসলো,,, দুই হাত দুই দিকে চেপে ধরে বললো
_ you,,,,, B***, b**
নুবা প্রথমে পরিস্থিতি বুঝতে পারেনি তবে ঘটনা অনুভব করতে পেরে সে নিজেও হতভম্ব হয়ে গেলো,,পরপর শরীর ব্যথা জাগান দিয়ে উঠলো,,
আরহাম ঝুঁকে এসে কিছু বিষাক্ত শব্দ উচ্চারণ করার আগেই নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের কপালে+ নাকে ডুয়া(ধাক্কা) দিলো,,,
আরহাম হতভম্ব হলো,,এই মেয়ে একটার পর একটা হামলা করেই যাচ্ছে,, এদিকে কপাল দিয়ে ধাক্কা দেওয়ায় নুবার কানের পিছনের আহত জায়গায় ব্যথায় চিনচিন করে উঠলো,,,নুবার মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেড় হয়ে আসলো,,,

তবে আরহাম কিছু সময়ের জন্য অন্যমনস্ক হতেই নুবা তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে তার উপর উঠে বসলো,,পরপর আরহামের গলা চেপে ধরে বললো,,,
_ দেখ কেমন লাগে,, আমার গলা চেপে ধরিস,,
এ জেনো দুই পাগলের মেলা,,,নুবার এক হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় শুধু এক হাত দিয়ে চেপে ধরে আছে,,, আরহাম এবার রাগ‌ হওয়ার বদলে নুবার কান্ড দেখে কুটিল হাসলো,,,পরপর তার হাসি বাড়লো,,,বিরবির করে বললো
_ আরো জোরে ধরেন, কিছুই তো হলো না,,
প্রথম বারের মতো আরহামের খিলখিল হাসি দেখে নুবা স্তব হয়ে গেলো,,,আরহামের সামনের দুটো দাঁত একটু বড়,,পাশের দুটো সরু দাঁত কিছুটা বেশিই সরু,,, অদ্ভুত সৌন্দর্য যা কখনো আরাফের হাসির ভিতরে পায়নি,,, হাসি দিতেই আরহামের নাক মুখ কুঁচকে গেলো কিছুটা আয়রার মতো,,আয়রা হাসলে যেমন চোখ গুলো কুঁচকে যায়,,,
এদিকে আরামের ভুরু আর গালের হালকা কাটা দাগ গুলোর কারনে মনে হয় আরো সুন্দর দেখালো,,পুরাই ভিলেন মার্কা,,, দাঁত গুলো সাদা চকচক করছে,,,সাথে ডান পাশের একটা দাত একটু বেশি,,মনে হচ্ছে তাতে বিষয়ে কিছু লাগানো,,
নুবা আরহমামের দাঁতের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো

_ চকচক করছে যে,,,,
আরহাম নুবার কথায় হাসি অফ করে সরু চোখে তার দিকে তাকালো,,, এদিকে হঠাৎ দাঁত গুলো গায়েব হয়ে যাওয়ায় নুবা নিরাশ হলো,,, বাচ্চাদের মতো দুই আঙ্গুল এগিয়ে নিয়ে যেএ আরহামের ঠোঁট টেনে দাঁত দেখার চেষ্টা করে বললো,,
_ দেখি তো,,,এতো ঝিলিক মারছে কেন,,,(পরপর বিরবির করে বললো)
_ আমাদের দাঁত তো মারে না,,,কি সুন্দর,,,
এর ভিতরে আরশি আর হাজেরা এসে উপস্থিত হলো,,, এদিকে ঠোঁটে হাত দেওয়ায় আরহাম থাবা মেরে নুবার হাত সরিয়ে দিয়ে বললো

_ you,,মুখে হা___
কিন্তু আর কিছু বলার আগেই তখন থাবা মারার কারনে নুবা ব্যালেন্স হারিয়ে ঠিক আরহামের মুখের সাথে যেএ ডুয়া খেলো,, আরহাম এরকম লেতুরকে দেখে বেশ ক্ষিপ্ত হলো,,তখন থেকে আরহামের নাক মুখের ১২ টা বাজিয়ে দিচ্ছে,,
এদিকে নুবা আরহামের উপর পড়তেই পাশ থেকে হাজেরা আর আরশির চম্কে যাওয়ার শব্দ ভেসে আসলো,,,
নুবা সাথে সাথে সামনে তাকিয়ে নিজের অবস্থা বুঝে বিব্রত হলো,, তাড়াতাড়ি আরহামের বুকের উপর ভর দিয়ে উঠতে যেএ,,আরহামের শার্ট পিছিল জাতিও থাকায় দুই হাত ফসকে আবারো কপাল দিয়ে আরহামের নাকে বারি খেলো,,, যেহেতু নুবার এক হাতে ব্যান্ডেজ অন্য হাতে যখম তাই সে আসলেই দুই হাতে ভর দিয়ে উঠতে ব্যর্থ,,,,
এদিকে সিরির উপর থেকে আমিনা বেগমের হঠাৎ আত্মিকত হওয়ার শব্দ ভেসে আসলো,,আরশি রা হাজেরা উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলো আয়ারাকে কোলে নিয়ে মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমিনা,,
এদিকে ঘটনা পর্যায়ক্রমে এতো তাড়াতাড়ি ঘটেছে যে কে কি করবে,,বা কি বলবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না,,,

অন্যদিকে লেতুর নুবার ছোট্ট নাকটা আরহামের গালের উপর,,,দুই জনের ঠোঁটের কোনা ছুঁয়ে যাচ্ছে,,,নুবার তো হুসি নেই,,,দুই বার কপালে ডুয়া লেগে তার কানের পিছনে চিনচিন শুরু হয়েছে,,,সে শুধু চোখ মুখ খিচে ব্যথা নিবারণের চেষ্টা করছে,,
এদিকে আরহামের অবস্থাও নাজেহাল,,নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে,,এতো জোরে বারি দিলে কি আর হবে,, আরহাম যে নিজের উপর থেকে নুবাকে সরাবে কিন্তু কোথায় ধরে সরাবে,,,সব জায়গা নিষিদ্ধ স্থান,,,বুকের কাছে ছিছি,,,কোমড়ে,,না এটা জঘন্য হবে,,বাহুতে ধরে কিন্তু এই মেয়ে যেভাবে পড়েছে বাহু ধরে উঠানো সম্ভব না,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে আসলো,,নিচের দিকে থেকে আরশি আর হাজেরা,,ততখনে আরহাম নুবার তুলতুলে কমড়টা ধরে তার শরীরটাকে ফ্লোরে রেখেছে,,, আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে টিস্যু বেড় করে নাকে ধরলো,,নাক দিয়ে রক্ত বেড় হচ্ছে,,,,
এদিকে নুবার হুস নেই,, কারণ তার কানের পিছনের যখম থেকে রক্ত বেড় হচ্ছে,,,সিরি থেকে পড়া,,২/৩ বার হঠাৎ করে মাথায় জোরে আঘাত,,সব মিলিয়ে সে ব্যথায় অর্ধ অজ্ঞান প্রায়,,,
হাজেরা আর আরশি এসে তাড়াতাড়ি নুবাকে টেনে তুললো,,পরপর আরশি অবাক হয়ে বললো

_ তোর তো ব্যান্ডেজে স্থান দিয়ে রক্ত বেড় হচ্ছে,,,
নুবার শরীর ঝাড়া মেরে উঠলো,,হাজেরাকে জরিয়ে ধরে তার উপর শরীর ছেড়ে দিলো,,,
আমিনা বেগম এসেই পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব,,সে এসেছিলো আয়ারকে দিতে,,লিফ্ট বন্ধ থাকায় সিরি দিয়ে আসছিলো তবে এমন কিছু দেখবে তার কল্পনায় ছিলো না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কি হচ্ছে রে এখানে,,,
আরশি মায়ের দিকে তাকিয়ে নিষ্পাপ কন্ঠে বললো
_ কে জানে মা,,আমরাও এই মাত্র আসলাম,,এসে দেখি দুই জন মিলে পারাপারি (কুস্তাকুস্তি)করছে,,,
এদিকে আরহাম বিরক্ত,,,নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে,,মেয়েটা একটা আস্ত বেয়াদব,,,আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ নুবাকে কেবিনে নিয়ে যা,,,আর নার্স কে ডেকে দেখ কি হয়েছে,,আর তুই এখানে কি করছিস (বলেই আরহামের দিকে তাকালো)
আরহাম টিস্যু নাকে চেপে ধরে বললো
_ এর আগে এরকম Embarrassing situation এ আমি কখনোই পরিনি,,Just annoying. ,,,(বলেই আরহাম সিরি বেয়ে উপরে দিকে যেতে লাগলো)

নুবা শুয়ে আছে,,মাথাটা এখনো ধরে আছে তার,,এসেই পড়ে যাওয়ার কথা খুলে বলেছে নুবা,,সবাই বিশ্বাস করেছে কারণ নুবার আগে থেকেই পা মচকে গিয়েছিলো,,,আমিনা বেগম কিছু সময় বসে রইলেন আয়রাকে নিয়ে,,, অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন
_ অনেক রাত হয়েছে,,তাহলে তোমরা শুয়ে পড়ো,আরশি নুবার খেলায় রাখিস,,
আমিনা বেগম যেতে চায়,, আবার দাঁড়িয়ে যায়,, কারণ নাতনি তার ক্ষুধায় আমিনা বেগমের ওরনা মুখে নিয়ে চুষতে,,,তবে কোন মুখে নুবাকে বলবে সে অবস্থা নেই তার,,,
আমিনা এক বার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর কেবিন থেকে বেড় হয়ে যাওয়ার আগ মূহুর্তে হাজেরা শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_ আপা,,বাচ্চার তো ক্ষুধা লেগেছে,,ওকে না খাওইয়েই নিয়ে চলে যাচ্ছেন যে,,
আমিনা থমকালো তবে উত্তর দিতে পারলো না,,,হাজেরা মেয়ের জন্য ওষুধ বেড় করতে করতে বললো
_ আয়রাকে খাইয়ে(ফিড)নিয়ে যান,,,না হয় বাচ্চাটা আবারো অসুস্থ হয়ে পড়বে,,,
আমিনা কিছু সময় দাঁড়িয়ে রইলেন,,,এতো কিছুর পরেও নুবা আর হাজেরা যে আয়ারর উপর সদয় বুঝতে পারেন তিনি,,,

নুবা আয়ারার এক হাত তুলে খত স্থানে চুমু খায়,, অতঃপর বিরবির করে বলে,,
_সব ঠিক হয়ে যাবে,,,একটু একটু কষ্ট হয় তাই না,,,
আয়রা ফিড করতে করতে নুবার দিকে চোখ উল্টে তাকায়,,,নুবা ঝুঁকে এসে আয়ারার কপালে চুমু খেএ আদুরে কন্ঠে সুধায়
_ শুধু দুষ্টামি,,এতো দুষ্টামি করেন দেখেই নজর লেগে যায়,,জ্বর চলে আসে,,এতো বাদুর হতে কে বলেছিলো হুম,,,এতো সুন্দর দুষ্ট কে কেউ ignore করতে পারে,,একটা পচু বাবু,,,
আরয়া খেতে খেতে ঠোঁট হেলিয়ে হাসে,,,নুবা আয়ারার অন্য হাতের ক্ষততে চুমু খেএ বলে
_ সব ঠিক হয়ে যাবে,,
হাজেরা মেয়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,,,
_ খত স্থানে এতো চুমু খাওয়ার দরকার নেই নুবা,, ইনফেকশন হতে পারে,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,

_ ধূর মা,, তুমি জানো না খত স্থানে আদর করলে তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়,,তাই না আরু বাবু,,,
নুবার কথা শুনে আয়রা অদ্ভুত শব্দ করে,,,পরপর আবার নিজের কাজে মনযোগ দেয়,,,
নুবার কথা শুনে কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আরহামো এক ঝিলিক হাসি উপহার দেয়,,, অনেকটা সময় ধরেই এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছে,,, মেয়েটা তার এখানে,,তার কি অন্য জায়গায় মন টিকবে,,,
অনেকটা সময় পর আয়রা ঘুমিয়ে গেলে আমিনা বেগম তাদের থেকে বিদায় নিয়ে কেবিন থেকে বেড় হয়,,তবে বাইরে আরহামকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভুরু কুঁচকে বলে উঠে
_ তুই এখানে কি করছিস
আরহাম এক পলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে সুধায়
_ আমার সন্তান যেখানে সেখানে কি আমার থাকার কথা নয়,,
_ কখন এসেছিস
_ যখন তুমি ওকে নিয়ে এসেছো,,,

অনেক দিন পর বাড়ির মানুষ বাড়িতে ফিরে এসেছে,, এদিকে আরাফ আর ইশিতাকেও নিয়ে আসা হয়েছে,,তবে আপাতত তাদের হানিমুনের প্লান করা হচ্ছে,,,
তখন প্রায় সকাল ১১ টা,,,কাল সন্ধার দিকে আয়রা আর নুবাকে ডিসচার্জ দেওয়া হয়েছে,,
আপাতত নুবা বিছানা বসে নিজ মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে,,যে কিনা বোরকা পড়ে তৈরি হচ্ছে,,নিজের কিছু জমানো টাকা নিয়ে কোথাও যাচ্ছে,,
হাজেরা রেডি হয়ে নুবার দিকে ফিরে তাকালো,,পরপর মেয়ের কপালে চুমু খেএ মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ ভালো একটা ঘড় দেখতে যাচ্ছি,,বললেই তো আর সেয়ানা মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় নামা যায় না,,দেখে আসি কোনো ভালো ঘড় আর কাজ পাই কিনা,,,
নুবা এক পলক মায়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,তারো এখানে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই,,না তার মায়ের,,,
হাজেরা বেগম মেয়েকে নিরাশ হতে দেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ একটা ভালো ঘড় আর কাজ পেলেই এখান থেকে বেড় হয়ে যাবো,,, তুই নিশ্চিন্তে থাক,,, অনেক খেলাম তাদের টাকায় এবার নিজের টাকাই খাই তাই না,,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ ভালো মতো যাও,,,

নুবা বই গুলো হাতিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,আর মাত ২০/২৫ দিন পর HSC,, কিন্তু তার কোনো খবর নেই,,না কলেজে যাচ্ছে ,,না অন্য কিছু,,,পড়া লেখার আগ্রহ মনে হয় সব শেষ হয়ে গেছে,,,
নুবা আলতো পায়ে রুম থেকে বেড় হয়ে দেখলো ইশিতা আমিনা বেগমের সাথে গল্প করছে,,আরশি পাশেই বসা,,,আরফ হয়তোবা কোথাও গেছে,,,আর আরহাম মেয়েকে নিয়ে রুমে আর কোথায় যাবে,,
নুবা কে দেখে আমিনা বেগম এগিয়ে আসলো,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ কোনো সমস্যা হয়েছেরে মা
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না এমনি,,ভালো লাগছিলো না তাই আরকি,,
_ সকালের নাস্তা করেছিস
_ হুম,,,আর ওষুধ ও খেয়েছি
বলেই হাসলো নুবা,,আমিনা বেগম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সকাল থেকে তোর মাকে দেখছি না যে,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ মা বললো কোনো কাজে বাইরে কোথাও যাচ্ছে,,
আমিনা একটু অবাক হলো এই এতো বছরে হাজেরা কখনোই কোথাও যায়নি,,, প্রয়জন ব্যতিত,,আর কোথাও গেলেও নুবার কলেজে পর্যন্ত,,,তবে আমিনা বেগম বেশি ঘাটলো না,,,
নুবা পা বাড়িয়ে ছাদের দিকে এগিয়ে গেলো,,আমিনা বেগম পিছন থেকে সরল চোখে তাকিয়ে রইলেন,,
পরপর ইশিতা বলে উঠলো

_ আম্মু এদিকে আসো,,একটা কথা তো বললেই ভুলে গেছি,,,
নুবা যেতে যেতে অনুভব করলো আরাফ তার ছিলো এক সময়,,এখন অপরিচিত ব্যতিত কেউ না
(যারা বলছো একজন মেয়ে হয়ে ইজ্জতে হাত দিতে চাইলে কখনোই ওই মানুষ টাকে আবার ভালোবাসতে পারতো না,,মানে ওই গায়ে হলুদের রাতের কাহিনি,, তাদের বলি সবার ব্যক্তিত্ব এক নয়,,সবার মন এক নয়,,১০০০% ভিতরে ৭০% মেয়েরাই এই সব বিষয় নিয়ে খুবি sensitive হয়,,একটুতেই তারা গলে যায়,,আর যারা বুঝার বুঝে গেছে,, কিছু শক্ত মনের মেয়েদের বোঝানো দাই,, গল্প কে গল্পের মতো নিনি)
**হাজেরা কিছুটা অদ্ভুত ভাবে আশে পাশে তাকিয়ে আছে,,,এই স্থান আগে এমন ছিলো না,,এখন সব জায়গায় বাড়ি গাড়ি,, বিল্ডিং উঠে একাকার,,কত বছর পর এখানে আসা,,,আশে পাশে চিনাই যাচ্ছে না,,
হাজেরা তাও অনেক কষ্ট করে চিনা জানা বাড়ি খুঁজে বেড় করলো,, যেগুলো এখন টিন সেট থেকে বিল্ডিং এ পরিনত হয়েছে,,
হাজেরা যেএ এক বাড়ির কলিং বেল চাপলো,,পরপর এক যুবোক বিল্ডিং থেকে বেড় হয়ে আসলো,,,হাজেরা কে দেখে সালাম দিয়ে বললো

_ জী আন্টি কাউকে খুঁজছেন
হাজেরা কিছুটা বিব্রত নিয়ে বললো
_ এখানে সাইফারা থাকতো না,,,
যুবগ মুচকি হেসে বললো
_ হ্যাঁ,, আন্টি,,,আমি ওর husband ,,
হাজেরা মলিন কন্ঠে বললো
_ সাইফার আম্মু আছে,,থাকবে একটু ডাক দিয়ে দেও বাবা,,,
যুবোক নিরাশ হয়ে বললো
_ দুঃখিত আন্টি,,,ওর আম্মু গত বছরি গত (মৃত্যু) হয়েছেন,,, আপনি কি হোন উনার, ভিতরে আসুন,,
_না না বাবা থাক,,
_,সাইফাকে ডাক দিবো,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ দরকার নেই,,ওকে বলিও হাজেরা আন্টি আসছিলো,,নুবার মা,,যদি চিনে,,, আচ্ছা আজ আসি বাবা ভালো থাকো,,,
হাজেরা ওখান থেকে বেড় হয়ে গেলো,,সাইফা হাজেরাকে চিনবে কিনা সঠিক নয় কারণ কত বছর আগে প্রতিবেশী ছিলো,,এখন কি চিনবে,,,

নুবা রেলিংএ হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে,, সবকিছু কেমন ছন্নছাড়া লাগছে,,মনে হচ্ছে কিছুই ঠিক নেই,, সবকিছুই ঠিক ছিলো তবে এই বাড়ির দুই ছেলের জন্য সব পরিবর্তন হয়ে গেলো,,
নুবার ভাবনার ভিতরে আরহাম তার পিছনে এসে দাঁড়ালো,,, অনেকটা সময় ধরেই সে এখানে এসছে তবে নুবাকে এভাবে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেও কিছুটা অবাক,,,
আরহাম নুবার অতী নিকটে যেএ অবস্থান করলো,,পরপর নুবার ঝুঁকে নুবার দুই পাশে হাত রেলিংএ রাখলো,,,তবে নুবা কিছুই আন্দাজ করতে পারলো না,, আরহামের পদক্ষেপ এতোটাই তীক্ষ্ণ যে নুবা আঁচ পরিমাণ অনুভব করতে পারলো না,,,
নুবা চুল গুলো এক পাশে খোঁপা করে রেখেছে,,,ডান কানের পিছনে খত কিছুটা শুকিয়ে গেলেও জ্বলজ্বল করছে,, আরহাম এতো সময় নিজের নিঃশ্বাস বন্ধ করে ছিলো যার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যতিত অর্থাৎ নুবা কোনো কিছুই অনুভব করতে পারলো না,,,
কিন্তু পরপর এক কান্ড ঘটিয়ে বসলো আরহাম,,নুবার কানের পিছনের খত অনংশে ঝুঁকে ঠোঁট ছুয়ালো,,,তার গড়ম নিঃশ্বাস নুবার কাঁধে যেএ পড়লো,,,
চোখ বন্ধ করে থাকা নুবরা ভুরু কুঁচকে আসলো,,কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো,,এখন প্রায় দুপুর,,মার থেকে শুনেছে এই সময় ছাদে নাকি জিন পরি আনাগোনা থাকে,,,ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক,,,
নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো,, কম্পিত কন্ঠে বিরবির করে বললো

_ক,,কে,,,
আরহাম উত্তর দেওয়ার বদলে নুবার খত স্থানে আলতো করে ঠোঁট ছুয়ালো,,,
নুবা মাথা নিচু করে তাকাতেই দেখলো তার হাতের দুই পাশে আরো দুটো হতা,,এবার সে বুঝতে পারলো ভূত জিন না,,,এটা কোনো অসভ্য মানুষ,,,
নুবা এক ঝাটকায় পিছনে ঘুরলো,,তবে আরহামকে নিজের এতো নিকট দেখে চম্কে উঠলো,,,পিছনে সরতে নিলেই ছাদের রেলিংএ বেধে পড়ে যেতে উদ্যত হলো,,তবে আরহাম নুবার এক হাত চেপে ধরে তাকে সোজা হয়ে দাড় হতে সাহায্য করলো,,
নুবা কোনো মতে নিজের ব্যালেন্স ধরে রেগে আরহামকে স্বজরে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে দূরে সরে গেলো,,আরহামের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে এক আঙ্গুল তুলে তাকে শাসিয়ে বললো
_ আ,,আপনি কি করছিলেন,,,
আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত এবং স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_ তুমিই তো বলেছিলে,আঘাত প্রাপ্ত স্থানে আদর করলে যখম তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়,,,সেটাই চেষ্টা করছি,, otherwise আমি তোমার husband না,,না হলে সব জায়গায় মলম স্বরুপ আদর ছুঁইয়ে দিতাম,,,তবে দৃশ্যমান জায়গা গুলোতে দিতে ক্ষতি কি,,, তোমার খতো গুলাও তোমার মতো তুলতুলে,,, i like it,,,

আরহামের কথা শুনে নুবার মাথা ঘুরে আসলো,,মনে হলো কোনো ৪/৫ বছরের বাচ্চা কথা গুলো বললো,,যার ভিতরে কোনো জ্ঞান বুদ্ধি নেই,,না আছে বিবেক,,না আছে লাজ লজ্জা,,, ভাগ্যিস এতটুকু বুঝে husband ব্যতিত এভাবে কাউকে স্পর্শ করতে পারবে না,, না হলে দেখা যেতো উল্টা পাল্টা কিছু করে বসছে,,,
নুবা পরিস্থিতি টুকু কিভাবে নিবে সে নিজেও অনুমান করতে পারলো না ,,রেগে যাবে নাকি সরে যাবে,,,নাকি আমিনা বেগম কে ডেকে বিচার দিবে
নুবার ভাবনা চিন্তার ভিতরেই আরহাম আবারো রেলিংএ দুই হাত রেখে নুবার দিকে নিষ্পাপ দৃষ্টিতে তাকালো,,,নুবার প্রচন্ড ভয় হলো,, যেভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে এখনি ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবে,,তার উপর সেদিন নাক ফাটিয়েছে আজ যদি সেই প্রতিশোধ নিতে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়,,,
তবে আরহামের এরকম কোনো উদ্যোগ দেখা গেলো না,,,নুবা তার দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে আছে কারণ আরাহাম তার থেকে বেশ খানিকটা লম্বা,,, এদিকে আরহাম নুবার গলার কালচে দাগের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে এগিয়ে গেলো,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে চোখ মুখ খিচে নিলো,,পরপর আরহামের শার্ট এক হাত দিয়ে চেপে ধরে বিচলিত কন্ঠে ব্যস্ত ভাবে বললো

_ ধা,,, ধাক্কা দিবেন না,,দিবেন না,, please please,,,আমি পড়লে আপনাকে কিন্তু সাথে নিয়ে পড়বো,,,,
কিন্তু আরহামের এরকম কোনো উদ্দেশ্যই ছিলো না,,সে বরং নুবার আঘাত প্রাপ্ত স্থানে নিচের গাল ছুঁইয়ে ঠোঁট ছুয়ালো,,,আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ি নুবার গলায় লাগতেই নুবা হকচকিয়ে উঠলো,,পরপর এরকম একটা পরিস্থিতি দেখে নুবা নিজেও বেশ অবাক সাথে হতভম্ব হয়ে গেলো
সেকেন্ড খানিক পেড়োতেই নুবার শরীরে কাটা দিলো,,রাগে ঘৃণায় গা গুলিয়ে আসলো,,আর কিছু ভাবার প্রয়োজন বোধ করলো না সে,,আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ের থেকে কিছুটা দূরে ঠেলে দিলোই,,, অতঃপর ডান হাত দিয়ে আরহামের বাম গালে ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো,,
নুবার ভীতু চোখ দুটো রাগে রুপান্তরিত হলো,,,নুবা প্রায় উত্তেজিত হয়ে চেঁচিয়ে বললো
_ অসভ্য,, নির্লজ্জ,, চরিত্রহীন লোক কোথাকার,,,ভাব এমন যেনো কিছু বোঝে না,,অথচ ত্রিশ /৩২ বছরের বুড়া লোক,,,বেয়াদব,,কোনো common sense নেই,,,
বলেই রাগে ফুঁসতে লাগলো নুবা,,,তার মনে হলো এদের রক্তই ভালো না,,সব কয়টা চরিত্রহীন,,মাঝে মাঝে নুবার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই দুটো আহাম্মক,, বেয়াদব হারুন মির্জার সুপুত্র ,,,
থাপ্পর টা ততটাও লাগেনি আরহামের তবে হঠাৎ এমন হওয়ায় সে ডান দিকে ঝুঁকে গেলো,,,নুবার চেচানি শুনে চোখ উল্টে রাগি চোখে তার দিকে তাকালো,,,
নুবা রাগে হিসফিস করতে করতে বললো

_ আমার ধারের কাছেও আসবেন না আপনি,,আর কতোবার বলবো,,,
আরহাম বড় একটা শাঁস টেনে নুবার দিকে তাকালো,,নুবা রাগি চোখে একবার আরহামের দিকে তাকিয়ে চলে যেতে লাগলো,,আর মনে মনে ভাবলো
_ এই বাড়ি একবার ছেড়ে যেতে পারলে বাঁচি,, অসহ্য,,,
আশ্চর্যজনক ভাবে নুবা ছাদ পার করার আগেই আরহাম নুবার বাম হাতের কব্জি ধরে টেনে নিজের সম্মুখে নিয়ে আসলো,,,
নুবা আরো তেতে উঠলো,,একটু একটু ভয়ও হলো,, থাপ্পর মেরে দিয়েছে আল্লাহ জানে এবার কাঁধে তুলে নিচে না ছুরে মারে,,,
আরহাম নুবার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বললো
_ আমাকে আপনি বয়স নিয়ে খোঁটা দিলেন,,তা কোন দিক দিয়ে আমাকে বুড়ো মনে হয়,,,
নুবার মুখ বিকৃত হলো,,, ভাঙ্গা শব্দে বললো

_ সস,,সব দিক থেকে,,,আপনি বয়স চুরা বুঝলেন,,,বুঝা যায় না তাই কি আমি তো জানি বুড়ো লোক,,,
_ তাই নাকি,,,
_ হাত ছাড়ুন,,না হলে চাচিকে ডাক দিবো,,,
_ আপনার চাচি আমার কি করবে,,,
নুবা হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললো
_ লজ্জা করে না আপনার আমার সমানে দাঁড়াতে,, নির্লজ্জ লোক,,,
_ ইদানিং অনেক কথা বলছেন,,তবে ভাববেন না আমি ছেড়ে দিবো,,, একদিনে সব কিছুর উসুল উঠিয়ে নিবো,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আ,,আমি থাকলে তো,,,আমরা অনেক তাড়াতাড়ি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো,, বুঝলেন,,,তাই অন্ততপক্ষে এই কয়দিন আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন,, নির্ঘাত আপনি আয়রার পাপা,, নাহলে আমি আপনার নামে কেস করতাম,,, আপনার ভাগ্য ভালো,,,
আরহাম নুবার কথায় ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,নুবা ভুরু কুঁচকে ফেললো,,সে কি হাসির কথা বললো
আরহাম নুবার হাত ছেঁড়ে দিলো,,,নুবা আর এক মূহুর্ত দেরি না করে ছাদ থেকে দুটো লাফ দিয়ে পালিয়ে গেলো
নুবা ছাদ থেকে যেতেই আরহাম থাপ্পর মারা স্থানে দুই আঙ্গুল ছুঁইয়ে বাঁকা হাসলো,,,এতো সহজে চলে যাবে,,এটা কি আদেও সম্ভব,,

আরহামের মুখের ভাব পরিবর্তন হলো,,, শার্টের সামনের দুটো বোতাম খুলে শার্ট এর হাতা গুটিয়ে নিলো,,পরপর মাথার চুল গুলো এক হাত দিয়ে পিছন দিকে ঠেলে বিরবির করে বললো
_ বিচ্ছু,,তবে ভালো,,, কিন্তু আফসোস খারাপ মানুষের হাতে পরে গেলো,,,এতো তেজ,,এতো সহজে ছেড়ে দিবো,, ইস্,,, but but but,,,একটু ছাড় পাওয়া ওর অধিকার,,,ওকে আঘাত করা বারন,,ও‌ আমার মেয়ের ক্ষুধা নিবারণের কারন,,
পরপর আরহাম নিজের ঠোঁট এক আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে নিজের দুই হাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো,,,যেনো সেদিন হসপিটালে নুবার কোমড় ধরে এতোটুকু বুঝতে পেরেছিলো,, বলিষ্ঠ হাতের নিচে ছোট্ট শরীর টা পিষে ফেলতে মিনিট খানিক সময় লাগবে না,,,তবে সে এমন কিছু কি করবে,,,??

হাজেরা শরবতের গ্লাস টেবিলে রেখে হাসলো,,সামনে বসা মহিলা মৃদু কন্ঠে বললো
_ এতো বছর পর,,আমি তো ভেবেছিলাম আর কখনোই তোমার সাথে দেখা হবে না,,তা হঠাৎ করে এই প্রতিবেশীর কথা মনে পড়ার কারন,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আসলে মানুষ স্বার্থপর তাসনিন ভাবি বুঝলেন তো,,এই যে আজ আমার দরকারে আমি আপনার দোয়ারে,,
তাসনিন হেসে বললো
_ তা নুবা কোথায়,,ওকে আনোনি,,কত বড় হয়েছে ও,,,
_ আলহামদুলিল্লাহ বিয়ের বয়সি,,এবার HSC দিবে,,
তাসনিন হালকা নাস্তার প্লেট হাজেরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আমার তানিয়ার HSC পাশ করার পড়েই বিয়ে দিয়ে দিয়েছি,,৮ মাসের একটা ছেলে আছে,,ভিষন সুখে আছে,,,
হাজেরা হেসে বললো

_ তা তো ভালো,,, অনেক বছর পর এদিকে আসলাম,,,এসে তো আমি অবাক সব বিল্ডিং উঠে গেছে,,,চিনতেই পারিনি,,,
_ হ্যাঁ,, আল্লাহর রহমে দুই ছেলের কষ্টে আর তোমার ভাই এর সাধনার ফল,,এখন ২ তলা কয়দিন পড়েই ৩ বলা ফাউন্ডেশনের ধরে ফেলবো,,,
_ যাক ভালোই,,তা সাইফার আম্মা নাকি মারা গেছে
তাসনিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে দুঃখী কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ,,আর বলো না,,খুব ভালো মানুষ ছিলো,,এতো তাড়াতাড়ি কেন যে এমন হলো,,,মেয়েটার যেই অবস্থা হয়েছিলো তাই সাইফাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিয়েছে,, বেশিরভাগ সময় এখানেই থাকে,,,
_ ও,,,
তাসনিন কিছু সময় চুপ থেকে বললো

_ তা বললে না যে এতো দিন পর হঠাৎ এখানে,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ভালো একটা ঘড় খুঁজতে এসেছিলাম,,,তবে এসে দেখি সব পরিবর্তন,,,
_ হঠাৎ ঘড় খুঁজছো যে,,,ভাইজানের মৃত্যুর পর তো উনার মালিক তোমাদের দায়িত্ব নিয়েছিলো,,,ওই যে নাম জানি কি,,,,,, হ্যাঁ,, হারুন মির্জা,,,,খুব ভালো মনের মানুষ,,, আমার বড় ছেলেকে বিদেশে চাকরি দিতে সাহায্য করেছিলো জানোই তো,,
হাজেরা কি বলবে বুঝতে পারলো না চুপ রইলো,,এই এরিয়া পুরটার ভিতরেই হারুন মির্জা নাম মানুষ টাকে সবাই চিনে,,কেউ না কেউ কোনো ভাবে তার দাঁড়া উপকৃত হয়েছে,,মাঝে মাঝে লোকে বলে,, রাজনীতি করতে,,সবাই তাকেই ভোট দিবে,, কিন্তু হারুন মির্জার এই সবে কোনো আগ্রহ নেই,,,
হাজেরাকে চুপ থাকতে দেখে তাসনিন বলে উঠলো

_ কি হলো হাজেরা,,
হাজেরা নিজের হুসে ফিরে বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আসলে অনেক বছর হলো তাদের ঘাড়ের উপর চেপে আছি তাই এবার ভাবলাম মেয়ে যখন বড় হয়েছে নিজে কিছু একটা করি,, কয়দিন পর মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিবো আর ওর জন্যই তো ওই বাড়িতে উঠা তাই আরকি,,,
_ও,,,,,আমিও তো বলি উনার মতো মানুষ তোমাদের বাড়ি থেকে বেড় করে দিবে নাকি,,
(কথাটা কিছুটা খোঁচা মারা ছিলো,,হাজেরা বুঝেও না বুঝার ভ্যান করে বললো)
_ এদিকে কোনো ভালো ঘড় আছে নাকি,,সেটাই জিগ্গেস করতে আসছিলাম,,
_ এদিকে এরপর ঘড় পাবে না,,,সব বিল্ডিং হয়ে গেছে,,,আশে পাশে পেলেও তত সুবিধার না,,, আমাদের একটা ফ্লাট খালি ছিলো তবে ভারা একটু বেশি,,,এই মনে করো ১০ হাজারের মতো,, তোমার জন্য ১/২ হাজার কমিয়ে নেওয়া যায়,,

হাজেরা তাসনিনের দিকে তাকিয়ে কাতর চোখে হেসে বললো
_ থাক কষ্ট করে যে বললে এটাই অনেক,,এতো টাকা দিয়ে থাকার সামর্থ আমার নেই,,জানোই তো সব,,, তুমি বরং কোনো কাজের কথা বলো,,একটা কাজ পেলে ভালো হতো,,, যেমন বাসা বাড়ির এরকম,,,
তাসনিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৭

_ কিযে বলো হাজেরা,,,আজকাল কেউ বাসা বাড়িতে কাজ করে,,না মানে দেখো কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশিংমেশিং ,,ঘড় মোঝার জন্য নতুন আধুনিক জিনি বেড় হয়েছে আজকাল কেউ বাসা বাড়ির কাজ দেয় না,,আর দিলেও থেকে করতে হয় পারমানেন্ট ,,,
হাজেরা মাথা নিচু করে বললো__

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here