Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরামের কাছে এই বিয়ে কোনো মেটারি করে না তবে নুবার ক্ষেত্রে করে,,, অনেক নরম মেয়েটা,,,ভিতর থেকে শেষ হয়ে যাবে,,সে চাইলে এখনি তার অধিকার টুকু নিয়ে নিতে পারে তবে সে এরকম অনৈতিক কাজ করবে না,,,এই বিষয়ে নুবার পুরোপুরি মতামত নিবে সে,, অবশ্য ইলোরার ক্ষেত্রে সেটা আলাদা,,,তবে নুবা আরহামের কাছে অন্য রকম একটা অনুভূতি সে তা অমান্য করতে পারবে না,,
তবে সে চাইলে নুবার অমতে নিজের সব অনাকাঙ্ক্ষিত আশা পূর্ণ করতে পারতো তবে হয়তোবা নুবার চোখে ঘৃনা,, ধিক্কার দেখতে সে ভয় পায় তাই আর নিজেকে নিজে অবাক করে দিয়ে এই কাজটা করলো,,আসলেই কি আরহাম নুবার চোখে ঘৃনা দেখতে ভয় পায়??
আরহাম ওরনা দিয়ে নুবা আর আয়ারাকে আগের মতো ডেকে দিলো,,পরপর নুবার গালে ওধর ঠেকিয়ে বললো

_ আমি আপনার কাছ থেকে ক্ষমাপ্রার্থী,,ওই দিন এভাবে আপনাকে আঘাত করা ঠিক হয়নি,, আমার বোঝা উচিৎ ছিলো আপনি আমার মেয়ের ক্ষতি করবেন না তবু আমি জেনে শুনে অন্যের কথায় আপনাকে জার্জ করেছি,,নিজে যাচাই করিনি,,,sorry,,i am so sorry,,,
বলেই নুবার ওধরে ওধর ছুয়ালো,,যা তাকে শান্তি দিলো,, অতঃপর সরে গেলো সে,,বাইরে থেকে গেট লাগিয়ে দিলো,,

আরহাম আস্তে আস্তে ড্রাইভ করছে,, যাতে বাড়ি পৌঁছানোর আগে নুবার জ্ঞান ফিরে যায়,, আরহামের এরকম করার কোনো নিয়ত ছিলো না তবে হঠাৎ করেই শয়তান মাথা চাড়া দিয়ে বসেছিলো,,,
আরহামের পকেটে সবসময় কয় একটা জিনিস থাকে,, যেমন টিস্যু,,,মাথা ব্যথার ওষুধ,,আর (ড্রাগস টাইপের জ্ঞান শূন্য করার অর্থাৎ মরার মতো ঘুমানোর ওষুধ)
ওখান থেকে চার ভাগের এক ভাগ নুবার ভেলপুরির টক পানিতে মিশিয়ে দিয়েছিলো তাই এই অবস্থা,,,
প্রায় ১০ মিনিট খানিকের ভিতরে নুবা টিপটিপ করে তাকালো,,,মাথাটা এখনো ঝিমঝিম করছে তার,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে সোজা হয়ে বসলো পরপর গাড়িতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ কয়,,কয়টা বাজে,,,

নুবার কথা বলতেই যেনো ঠোঁট দুটো চিনচিন করে উঠলো যেনো এখনি ফেটে রক্ত বেড় হবে,,
নুবা এক হাত কপালে দিয়ে ভালো মতো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে লাফিয়ে উঠলো,,চোখ বড়বড় করে বললো
_ সারে ৯ টা,,আমরা এখনো বাসায় পৌঁছায়নি,,,
লাফিয়ে উঠায় আয়রা ভয়ে কেঁদে উঠলো,,নুবার খেলায় কলো আয়ারা তার কোলে তাই তাড়াতাড়ি আয়রার বুকে হাত বুলিয়ে শান্ত করলো
_ কিচ্ছু হয়নি,,ভয় পেয়েছো আম্মু,, আন্টি ভুলেই গেছিলো আপনি যে কোলে,, কাঁদে না মা,,, hsss
দোল দেওয়ায় আয়ার শান্ত হলো,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের দিকে তাকালো,,আরহামের কোনো হেলদোল নেই সে গাড়ি চালাতে মনোযোগী,,,
নুবা আশ্চর্য নিয়ে বললো
_ ঘড়ির টাইম নষ্ট হয়ে গেছে নাকি,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো

_ no,,, রাস্তায় জ্যাম ছিলো তাই দেরি হচ্ছে,,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ তাই বলে ১০ মিনিটের রাস্তা ২/৩ ঘন্টা,,how possible,,
আরহাম শয়তানি হাসি দিয়ে বললো
_ সবি সম্ভব,,,ঘুমিয়ে ছিলেন টের পাননি,,
নুবা কপাল চেপে ধরে বললো
_ মরার ঘুম ঘুমিয়েছিলাম নাকি যে কিছু টের পাইনি,,,
_ হয়তোবা,,,(এবার আরহাম গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলো)
নুবা মাথার চুল ঠিক করে ওরনা মাথায় টেনে সোজা হয়ে বসলো তবে কমড় ব্যথা করছে যেনো মনে হচ্ছে অনেক টা সময় নুবা বাঁকিয়ে বসে ছিলো,,তাই কমড় সোঁজা করতে পাড়ছে না তবে এমন তো কিছু না,,
পরপর নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে অনুভব করলো কেমন অন্যরকম স্বাদ,,,যেনো ঠোঁটের উপর আলাদা একটা আবরন তৈরি হয়েছে,,নুনতা কেমন,,,

নুবা তাড়াতাড়ি জানালা খুলে বাইরে থুথু ফেলে ঠোঁটে দুই হাত রেখে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ কিছু একটা উল্টা পাল্টা মনে হচ্ছে আমার,,,
নুবা মনে করার চেষ্টা করলো,,,কি হচ্ছে তার সাথে এতোটা গভীর ঘুম সে কখনোই দেয়নি যে হুস থাকবে না,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই আপনি কি ঘুমের ভিতরে উল্টা পাল্টা কিছু করেছেন নাকি,,,
আরহাম বেশ আশ্চর্য হওয়ায় ভান ধরে বললো
_ what,, আমি তো আগেই বলেছি তোমার উপর আমার কোনো intrastd নেই,,
নুবা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ তাহলে সেদিন বদমাইশের মতো কাজ করলেন কেন,,
আরহাম গাড়ি চালাতে চালাতে বললো
_ কারণ তখন আমি তোমাকে তুমি ভাবিনি অন্য কেউ ভেবছি,, তুমি যদি তুমি না হও তবে তোমার প্রতি intrastd আসাটাই স্বাভাবিক,, সেদিন তুমি তো তুমি ছিলে না,, তুমি তুমিই ছিলে,,,
কথা টুকু বলে আরহাম মুচকি হাসলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো

_ মানে কি,,,
_ না বুঝলে বুঝিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার নেই,, কিছু কথা না বুঝাই ভালো,,
নুবা জানালার দিকে মুখ করে বিরবির করে বললো
_ সেটাই তো পরির মতো হবু বউ থাকতে আমার দিকে কেন আসবে,,, এরকম হলে নিশ্চয় তার রুচিতে সমস্যা আছে,,,
নুবার বিরবির কথা গুলো আরহাম শুনে শান্ত কন্ঠে বললো
_ সবসময় রুচি নয়,,মনের কথাও শুনতে হয় আর আপনার মন যেভাবে যাকে দেখবে তাকে তেমনি লাগবে,,,গায়ের রং ফর্সা,,চুল বড় আর চোখ দুটো টানা টানা হলেই যে কেউ প্রেমে পরে যায় এরকম নয়,,সবার চাওয়া পাওয়া এক না,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো তবে উত্তর দিলো না,, শুধু ভাবলো এই লোক আবার কবে থেকে প্রেম পিরিতি নিয়ে কথা বলতে লাগলো,,, নিশ্চয় পরি মেমের প্রভাব পড়েছে,,,

বাড়িতে ফিরতেই আমিনা বেগম হাজেরা প্রায় ঝাপিয়ে পড়লো তাদের উপড়,,এতো দেরি কেন হলো?
এই প্রশ্নটা ১০০ বার করলো আমিনা,,, অতঃপর আর একটা প্রশ্ন,,
_ কল দিয়েছি কতবার আরহাম কল কেন ধরিসনি,,পরির কাছে কল দিয়ে জানতে পেরেছি অনেক আগেই ওকে বাড়িতে দিয়ে আসছিস তাহলে এতো সময় কোথায় ছিলি,,,
আরহাম মায়ের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_ আমার সুখ তোমার সহ্য হয় না তাই না মা,,,১০০ বার বলছি রাস্তায় জ্যাম ছিলো,, জ্যাম ছিলো,,,
ছেলের মুখে চোখে মিথ্যার রেশ দেখতে পেলেন আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ তুই তো মিথ্যা বলিস না আরহাম,,কি হয়েছে,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ অনেক জরুরী একটা কাজে ব্যস্ত ছিলাম,, ভাবলাম বাইরে গিয়েছি তাই কাজটা করেই আসি সেই জন্য এতো দেরি হয়েছে,,এখন কাজটা কি এটা জিগ্যেস করিও না,,, আমার কান্ত লাগছে রেস্ট নিতে দেও,,,
বলেই আরহাম আয়ারকে নিয়ে চলে গেলো ফেসে গেলো নুবা,,আমিনা বেগম কিছু না বললেও হাজেরা মেয়েকে টেনে রূমে নিয়ে গেলেন,,,
নুবা বিরবির করে বলে উঠলো

_ ছাড়ো মা,,,লাগছে
হাজেরা নুবাকে এনে রুমে ফেললেন আর রাগি কন্ঠে বললেন
_ পরিকে আরো৩ থেকে ৪ ঘন্টা আগে বাড়িতে ছেড়েছিস তোরা কোথায় ছিলি,,
নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ তুমি আমাকে সন্দেহ করছো মা,
হাজেরা উত্তেজিত কন্ঠে বললেন
_ সন্দেহ করছি না নুবাইরা,,ভয় হয়,,ওই ছেলেটা একটুও ভালো না,,তোকে আজ পাঠিয়েছি কলিজা হাতে নিয়ে,,তোর চাচি না বললে পাঠাতামো না,,ওই ছেলেকে আমার সুবিধার মনে হয় না,,এবার থেকে কোথাও একা ওর সাথে যেতে বললে সরাসরি না করবি বুঝলি,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না করলে শুনে মা,, আমার কথার কোনো গুরুত্ব আছে,, আমার মতামত চলে,,,উনার কথায় সবাইকে চলতে হবে এমন,,আজ তো তোমাকে টেবিলে বসে খেতে বললো তখন না করতে পারলে না,,কেন না করলে না হুম,,
হাজেরা চুপ হয়ে গেলো,,আসলেই তো,,নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ তুমি তার একটা কথা ফেলতে পারো না আমি কি করে ফেলবো,,আমি না করেছিলাম তাও ওই লোকটা,,, অসহ্য,,,,মা একটা কাজ করো আমাকে বিয়ে দিয়ে দেও,,আর ভালো লাগে না,,, অন্ততপক্ষে শশুর বাড়িতে অত্যাচার করলেও মানা যাবে,,এই সব এখানে মানা যায় না,,,
হাজেরা মেয়ের মাথায় মেরে বললেন
_ ছি ছি কি দিনকাল আসলো,,আমরা বাবা মায়ের সামনে বিয়ের কথা মুখে নিতেও লজ্জায় লালা হয়ে যেতাম আর তুই,,একটা নির্লজ্জ হয়েছিস,,
নুবা একটু হেসে বললো
_ তাই তো তুমি নানা নানির আগচোরে পালিয়ে এসেছিলে তাই না আম্মা,,এই তোমার লজ্জা আম্মাজান,,আমি তো বল্লাম আপনি তো কাম সেরে ফেলছেন,, একদম আমাকে download করছেন,,
হাজেরা কপাল চাপড়ে বললো
_ এই কথা তোর কাছে বলাই ভুল হয়েছে,, বেয়াদব মেয়ে,,
বলেই হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,কি একটা জ্বালা,, আজকাল পোলাপাইনকে কিছু বলে শান্তি নেই,,

তখন গভীর রাত,,ঘুমে বেভুর সবাই,,তবে দুই জনের চোখে ঘুম নেই,,এক নুবা,,দুই আরহাম,,নুবা এখনো জেগে জেগে পড়ছে আর আরহাম সেই গাড়ির কাহিনি ভেবে ঘুমাতে পারছে না,,তার মনে হচ্ছে নুবাকে এখন অনেক গভীর ভাবে কাছে পেলে মনটা শান্ত হতো,,তবে এটা সম্ভব না,,
আরহাম বুক টানটান হয়ে শুয়ে বললো
_ অনেক বড় ভুল করেছেন আপনি মিসেস নুবাইরা মির্জা,,তবে এই ভুলের মাশুল খুবি কঠিন হবে,,যা মেনে নেওয়া আপনার জন্য প্রচন্ড পিরা দায়ক হতে চলেছে,,যত তাড়াতাড়ি মেনে নিবেন তত ভালো,,,
পরপর আরহাম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ একটু কান্না করেন আম্মু,, আপনার আম্মুর কাছে থেকে একটু ঘুরে আসি,,,এভাবে ঘুমালে হবে,,পাপার সেটিং করতে আপনারি তো কষ্ট করতে হবে,, Ayra, please cry,,,
আরহাম এতো ইতর যে মেয়েকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য খোঁচাখুঁচি শুরু করলো,,,তবে আয়রা উঠলো না,,
আরহাম আয়রাকে জেতে চুমু খেলো তা আয়রার পছন্দ না কারণ আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ি তাকে বিরক্ত করে,,এই কাজটা করার আয়রা ঘুমের ভিতরে কেঁদে উঠলো,,, আরহাম আর একটু তেলিয়ে দিয়ে মেয়েকে কান্না করালো,,,বিরবির করে বললো
_ sorry honey,,,Your papa is very bad. ,,ও আমার সোনা মিনটা,,
বলতে আরহাম আয়ারকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,তখন রাত ৩ টা প্রায়,,,

নুবার চোখ লেগে আসছে এতোটা ঘুম পাচ্ছে তবে সে এই টপিকটা শেষ করেই ঘুমাবে,,
নুবা রুমের ভিতরে হাঁটছে আর পড়ছে,,নুবাদের রুমের দরজা বেশির ভাগ সময় খোলাই থাকে,,এটা স্বাভাবিক,,
নুবা পড়তে পড়তে হঠাৎ দরজার ফাঁকা দিয়ে বাইরে দিকে তাকালো,,,দেখলো কোনো ছায়া মুর্তি সরে গেলো,,নুবা ভয়ে লাফিয়ে উঠলো,,বাইরে কে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে এক বুক সাহস নিয়ে বই বন্ধ করে এগিয়ে গেলো,,, আস্তে করে দরজা খুলে আশে পাশে তাকালো তখনি আরহাম এসে সামনে প্রকট হলো,,
নুবা ভয়ে লাফিয়ে উঠে বই দিয়ে বারি লাগিয়ে দিলো,আসলে সে বুজতে পারেনি কে,তবে ভুল বশত বারিটা আয়রার গায়ে যেএ লাগলো,,
আয়রা কান্না করে উঠলো,,আয়রার কান্নায় নুবা চম্কে সামনে তাকাতেই আরহামকে দেখে অবাক হয়ে তুতলানো কন্ঠে বললো

_ আ,,আপনি এখানে কি করছেন,,,
আরহাম উত্তর না দিয়ে বললো
_ আয়রার গায়ে বারি লেগেছে,,দেখে বারিটা দিয়েছিলে নাকি না দেখে
নুবা বিচলিত হয়ে কান্নারত আয়রার দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো,,, ইচ্ছা করে দেয়নি তবে আরহাম যদি মেরে বসে,,আসলে আয়রা আরহামের কাঁধের সাথে লেগে আছে আয়রার পিঠে যেএ বারিটা লেগেছে,,,
নুবা অনেক ভয় পেয়ে উত্তেজিত হয়ে বললো
_ আসলে খেয়াল করিনি,,,,ওকে ওকে দেন,,দেকি কোথায় লেগেছে,,
বলতে বলতে আয়ারকে কোলে নিলো,,,জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আয়রাকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে দোল দিয়ে বললো
_ sorry আম্মু,, আন্টি খেয়াল করেনি মা,,,হইছে,,
পরপর নুবা আয়ারকে দুলাতে দুলাতে আল্লাহু আল্লাহু উচ্চারণ করতে লাগলো,,,
আয়রা কান্না কমলেও শান্ত হলো না সে নুবা বিছানা যেএ বসে আগে পিছে কে আছে না দেখে চিন্তিত হয়ে আয়ারকে বুকের দুধ দিলো,,, কম্পিত কন্ঠে বললো

_ খেয়াল করিনি মা,, sorry,,, অনেক ব্যথা লেগেছে তাই না,, আন্টি পঁচা,, ব্যথা দেয়,,আর হবে না,, কান্না করে না,,
বুকের দুধ পেয়ে আয়রা শান্ত হলো,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,এতোটাও জোরে বারি লাগেনি কারণ আয়রার পিঠের উপর আরহামের দুই হাত ছিলো তবে হঠাৎ শব্দ হওয়ায় আয়রা ভয় পেয়ে কাঁদছে,,,
এদিকে কান্না কাটির শব্দ শুনে হাজেরা ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে রে,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কিছু না তুমি ঘুমাও,,,আরু আসছে,,,
_ও
হাজেরা অন্য দিক ফিরে শুয়ে পড়লো,,,
নুবা আয়রার গালে চুমু খেএ বললো
_ আরু বাবুকি আন্টির উপর রাগ করেছে হ্যাঁ,,আরু,, sorry হ্যাঁ আমি বুঝতে পারিনি মা,,,
বাচ্চাদের সাথে সবসময় আদুরে কন্ঠে একটু ন্যাকামো করে কথা বলতে হয় এটা বই এর পাতায়ও লেখা আছে,,,এটা নুবা মানে কারণ বাচ্চাদের আদর দিলে বা মিষ্টি কন্ঠে কথা বললে তারা খুশি হয়,,
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরহাম নুবার পিঠের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো

_ আরু বাবু,, আরু+নুবু,,আরুনুবু wow what a nice name,,,i like it,,,মা মেয়ের নামেরো কত মিল,,
ভেবেই আরহাম একাই হাসলো,,সেই দিনটা কবে আসবে যেদিন সবাই সবকিছু জানবে তবে এর আগে নুবার দিক থেকে তার খারাপ ইমেইজ টা সরাতে হবে যে সে এতোটা খারাপ না যতটা নুবা ভাবে,, কিন্তু সত্যি বলতে এই বাড়িতে তার থেকে খারাপ কেউ নেই শুধু নিজের বিবির জন্য ভালো সে,,, শুধুই নুবা নোট বিবি,,,ইলোরার প্রতি ফিজিক্যাল নিড বাদে কখনোই আরহাম এতোটা মনযোগী ছিলো না,,,

নুবার চোখ দিয়ে ঝড়ঝড় করে পানি পরছে এই মাত্র পিরিক্ষার হল থেকে বেড় হলো সে তাও প্রায় ঘন্টা খানিক আগে,,কোনো মতে খাতায় পাশ নাম্বার তুলে এসেছে নুবা,,আর ওখানে বসে থাকার সাহস তার হয়নি,,,
নুবা ফাইল নিয়ে ছুটে কলেজের বাইরে চলে আসলো,,,বুকটা কাঁপছে তার,,,তার সাথেই কেন এরকম জঘন্য কাজ গুলো ঘটে,, এমন কপাল নিয়ে জন্মেছে সে যে,,তার কপালেই যত খারাপ জিনিস আছে সব তার সাথেই ঘটে,,
নুবা ছুটে এসে দেখলো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে,,নুবা গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ডুকার আগেই আরহাম নুবার হাত ধরে ফেললো,,আজ নুবাকে দিতে এসেছিলো সে,,তাই পরিক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলো তবে হঠাৎ নুবাকে এভাবে কান্না করে ছুটে আসতে দেখে চমকে উঠলো সে,, অতঃপর আয়রাকে কোলে নিয়ে এগিয়ে আসলো,,,
হঠাৎ কেউ হাত ধরায় নুবা ফিরে তাকালো,, আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো

_ what happened কান্না করছো কেন,,
নুবা আরহামের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো,,
_ ছাড়ুন,,,
আরহাম আরো চেপে ধরে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি বের হয়ে এলে যে পরিক্ষা খারাপ হয়েছে নাকি,,
নুবা ঝাড়া মেরে আরহামের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে কান্না রত কন্ঠে বললো
_ আপনার এমন কেনো বলুন তো,,সব পুরুষ মানুষ কি এরকম হয়,,সেটা হোক teacher এর রুমে বা অন্য রুপে,,নাকি আমারি ভাগ্যে খারাপ যে আমার কপালেই সব চরিত্রহীন না চাইতেও উড়ে এসে জুড়ে বসে হুম,,,
আরহামের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো হিসফিস করে বললো

_ কি হয়েছে,,
নুবা কিছুটা চেঁচিয়ে বললো
_ কি আর হবে,, আপনার মতো কেউ সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে,, সেদিন আপনি ছিলেন আজ teacher রুপি জানোয়ার,,,
বলেই নুবা কাঁদতে লাগলো,,
আরহাম নুবার এক বাহু ঝাঁকিয়ে বললো
_ কে কি করেছে,,,
নুবা রাগী চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি করবেন আপনি,, আপনি তো নিজেই চরিত্রহীন,,এখন নিশ্চয় বলবেন না এক চরিত্রহীন আর এক চরিত্রহীনকে শায়েস্তা করবে,,
নুবা একটু থেমে হুহু করে কেঁদে উঠে বললো
_ সেদিন কেন মারলেন উনাকে,,আজ আপনার জন্য,, শুধু আপনার জন্য কেউ আমাকে এতো খারাপ ভাবে হেরেজমেন্ট করলো,,এর থেকে ভালো আমি একটা পরিক্ষা নাই দিতাম,,,
নুবা যেনো একজনের রাগ আর এক জনের উপর ঝাড়ছে,,,

আরহাম এবার বেশ রেখে যেএ নুবার বাহু শক্ত করে ধরে গর্জে উঠে বললো
_ তোকে বলেছি না কি হয়েছে বলতে,,,কে কি করেছে,,ওই,,ওই সেই teacher ,,, আমাকে বল,,,
আরহামো বেশ বিচলিত হয়ে গেলো,,,
নুবা বাচ্চাদের মতো কান্না করে নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বললো
_ এখানে,,এখানে ,,ওই লোকটা আমার এখানে Touch করেছে,,,এখানে (পিঠের দিকে) এখানেও,,(কামড়ে),,,এখানে,,,,ওই লোকটা অনেক পুরো class এর সামনে আমাকে মিন করে অনেক বাজে মন্তব্য করেছে,,,
বলতে বলতে নুবা দাঁতে দাঁত চেপে কেঁদে উঠলো,,,বিরবির করে বললো
_ আপনি কেনো কেনো সেদিন ওই লোকটাকে মারতে গেলেন,,কেনো,,,
আরহাম নুবার এক হাত টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,,নুবা জরিয়ে ধরলো না আরহামকে তবে তার বুকের সাথে কপাল ঠেকিয়ে হুহু করে কেঁদে উঠলো,,,
আরহাম কিছু সময় নুবাকে শান্ত করে তার এক হাত ধরে বললো
_ চল,,আজ ওকে ____
আর কিছু বললো না আরহাম,,নুবা বেশ ভয় পেয়ে বললো
_ আমি কোনো ঝামেলা চাই না,, উল্টা পাল্টা কিছু করবেন না,,

আজকে ওই teacher এর গার্ড পড়েছিলো নুবাদের রুমে,, দুই জন teacher ছিলো তবে একজন ছিলো ফাঁকিবাজ একটু পরপর রুম থেকে বেড় হয়ে অন্য রুমে যেএ গল্প করেছিলো,,তার উপর আজকের পরিক্ষা এতো কঠোর না হওয়ায় তেমন গার্ড দেয়নি,,,
সেদিন থাপ্পর মারা teacher এর নাম ছিলো হানিফ,,,,
হানিফএতো দিন ওত পেতে ছিলো কবে নুবার রুমে তার গার্ড পড়বে কারণ নুবার জন্য সে অপমানিত হয়েছে,,,মার খেয়েছে,,,,
হানিফ যখনি দেখলো নুবা এই রুমে তখনি তার অত্যাচার শুরু হলো,,,
এক্সট্রা পেপার দেওয়ার নামে অনেক এগিয়ে এসে নুবার বুক ছুঁয়ে দিলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,,হানিফ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,,
নুবা কিছু বললো না,, চুপচাপ বসে গেলো ভাবলো হয়তোবা ভুলে করে হয়েছে,, তার উপর চশমা পরা হয়তোবা চোখে সমস্যা,,বয়স হয়েছে,,
নুবা যখন লিখছিলো তখন নুবার কাঁধে হাত দিয়ে বললো

_ বা লিখছো,,,সব পারো তো,,,
নুবা ইতস্তত করলো কাঁধে হাত রাখায়,,,পরপর হানিফ নুবার ঠিক সামনে এসে কিছু কাগজ ফেলে দিলো উঠানোয নাম করে নুবার কমড় ছুঁয়ে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,পাশ ফিরে হানিফের দিকে তাকাতেই হানিফ চশমা ঠিক করে বললো
_ ও কিছু মনে করো না ভুল করে লেগে গেছে,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা ঝুকালো কিছু বললো না,,তবে তার পর থেকে শুরু হলো কথার আঘাত,,,
হানিফ নুবাকে মিন করে বিচ্ছিরি কথা বলতে লাগলো যা কেউ না বুঝলেও নুবা বুঝলো যেমন
_আজকাল কিছু বংশহীন পোলাপাইন জন্মে বুঝলা বাচ্চারা,,এদের থেকে দূরে থাকবা,,এদের বাপের ঠিক নেই,,
সবাই লেখায় মনোযোগী থাকায় কেউ কিছু বললো না,,নুবা প্রথমে না বুঝতে পারলেও পরের কথায় বুঝতে পারলো কাকে বলা হচ্ছে এই সব,,

_ কিছু অধীক বাপের জন্মের মেয়ে মানুষ আছে,,আশিক নিয়ে এসে teacher এর গায়ে হাত তুলায়,,, গুন্ডা গিরি দেখায়,,এদের দেখলে ইচ্ছা করে জুতোর তলে পিষে ফেলতে,,
সবাই চুপ ছিলো কেউ কিছু বললো না,, কারণ কেউ বুঝতেই পারলো না,,কে শুনে কার কথা,,তবে নুবার লেখার কলম থেমে গেলো,সে বুঝতে পারলো তাকেই বলা হচ্ছে,,,
পরপর হানিফ আবার বললো
_ এই তোমরা কি জানো এক এক কলেজের কিছু নোংরা মেয়ে মানুষ আছে,,,দিন রাত কি করে আল্লাহই জানে,, পরিক্ষা দেওয়ার কথা মনে থাকে না,,, ইদানিং HIV বেড়ে যাচ্ছে জানো তো এই সব মেয়ে মানুষের কারনে,,আসলে কয়দিন পর বিজ্ঞান বিভাগে এই টপিক নিয়েও তো exam হবে তাই বলে রাখা ভালো,,তবে এদের দেখলে জুতো খুলে পিটাতে ইচ্ছা করে ,,
কেউ কিছুই বললো না,,কারন এখানে এক একজন এক এক কলেজ থেকে এসেছে,,কেউ উনাকে চিনে না,,এখন যদি কোনো ঝামেলা হয় এই ক্ষেত্রে খাতায় বা পরিক্ষার ফলাফলে সমস্যা হবে তাই কেউ বিরক্ত হলেও কিছু বলছে না,,
এভাবেই হানিফ একটার পর একটা বিচ্ছিরি কথা বলতে লাগলো,,কখনো নুবার সামনে এসে কখনো সবাইকে উদ্দেশ্য করে,,,

নুবা একবার চাইলো সাহসী মেয়ের মতো রুখে দাঁড়াতে তবে পারলো না,,বুক কেঁপে উঠলো তার,,,না পেরে তাড়াতাড়ি কোনো মতে লিখে সে হল থেকে কান্না করতে করতে বেড় হয়ে আসলো,,
( আমি জানি না আপনাদের সাথে এরকম কোনো বিষয় হলে আপনারা কি করবেন তবে একবার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কেউ একজন ইচ্ছা করে শরীর ছুঁয়ে গেছিলো এক স্কুল পড়ুয়া মেয়ের,,মেয়েটি প্রতিবাদ করতে চাইছিলো তবে পারেনি কারণ সে রাস্তায় চলেফেরা করে,, প্রতিবাদ করলে যদি রাগে কেউ তার বড় ক্ষতি করে দেয়,,মেরে ফেলে,, কারণ সমাজ প্রতিবাদের ,,বা রুখে দাঁড়ানো শব্দকে চেপে ধরতে আগ্রহ বোধ করে,,,মা বাবা বাড়ি থেকে বেড় হওয়ায় আগে বলে দেয় রাস্তায় ঝামেলা করবে না মা,,,কোনো কিছু হলে তোমার বাবাকে এসে বলবে,,কেউ ভালো না তুমি মেয়ে মানুষ,,আমরা তোমাকে হারাতে চাই না,,এভাবেই প্রতিবাদের গলা চেপে ধরা হয়🫠🙃💔কারন সবার তো আর অশীম ক্ষমতা আর টাকা থাকে না যে জীবন যুদ্ধে লড়বে,)

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫২

আরহাম নুবাকে নিয়ে সেই class রুমে যেএ হানিফেক টেনে হিচরে মাঠে এনে ফেললো,,,
নুবা বারবার না করলো,,,তার এক হাতে আয়রা সে কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here