নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬২
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ হয়নি তোর,,,আর কত খন,,,,
নুবা মায়ের কন্ঠ শুনে ভয়ে রিতিমত নির্বাক রইলো,,, মস্তিষ্ক যেনো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে কি করবে,,
আরহাম বিরক্ত হয়ে এগিয়ে গেলো দরজা খোলার
জান্য,,,তার আর ধৈর্য্যে কুলাচ্ছে না,,, আরহামকে দরজা খুলতে দেখে নুবার প্রান ভোমরা উড়ে গেলো,,,নুবা চোখ মুখ খিচে কাতর কন্ঠে সুধালো,,,
_ আল্লাহ,,,,, please,,,,
আরহামের খট করে দরজা খোলার আগেই বাইরে থেকে তানিয়া হাজেরাকে ডেকে উঠলো,,
_ আফা দেইখা যান,,আমি তরকারিতে লবন বেশি দিয়া হালাইছি,,
হাজেরা কাপাল চাপড়িয়ে বললো
_ হায় আল্লাহ,,,
হাজেরা ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাড়াতাড়ি বেড় হ,,,
বলেই হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,নুবা চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম ওয়াশরুমের দরজা খুলে বাইরে উঁকি মেরে দেখলো কেউ নেই,,,নুবা রাগে গজগজ করতে লাগলো,,, নির্ঘাত আরহাম তার থেকে বয়সে বড় না হলে এখনি পাছায় এক লাত্থি দিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বেড় করতো,,,
আরহাম বাইরে কাউকে না দেখে ফিরে তাকালো নুবার দিকে,,,নুবা চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_ বেড় হচ্ছেন না কেনো,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ তোমার,,, তোমার পিঠের তিলটা,,,,
নুবা রাগে নিচের থেকে মগ তুলে ঠিক আরহামের মুখ বরাবর ছুরে মারলো,,, কিন্তু ভাগ্যক্রমে আরহাম মগটা মুখে লাগার আগেই ধরে ফেললো,,নুবা রাগে গজগজ করে বললো
_ বের হ,,, শয়তানের বাচ্চা,,,আর কখনো এই রুমে আসলে তোর খোমা(মুখ)টা ভেচকে দিবো,,, লুচ্চা চোখ দুটো উপড়ে ফেলবো,,, অসভ্য লোক,,ahhh,,
নুবাকে হাঁসফাঁস করতে দেখে আরহাম চুপচাপ বেড় হয়ে আহলো আর কিছু সময় থালকে এখানেই তার খুন হয়ে যেতে পারে,,,
মাথার উপর বরফ দিয়ে আরহাম বসে আছে,,,সামনে আমিনা বেগম,,,মুখটা কালো হয়ে আছে তার,,মাথা থেকে বরফের পানি গড়িয়ে মুখে এসে পড়লো আরহামের,,আমিনা বেগম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আবার কি হলো,,,,
আরহাম মাথা থেকে বরফের ছিল্লি মাথা থেকে নামিয়ে বললো,,,
_ mom,,You can’t imagine what I’ve seen.,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো,,,
_ কি দেখেছিস,,,
আরহাম হতাশ কন্ঠে বললো
_ actually কিছু সময় আগে আমি নুবার সাথে সাক্ষাত করার জন্য ওর রুমে গিয়েছিলাম,,,Then I saw that Nuba had just taken a bath and was ready. ,,,ahh,,,My heart ,,,,(তার পর কিছু অংশ আরহাম তার মাকে খুলে বললো)
আমিনা বেগম নিরাশ হয়ে শুধালেন
_ জুতা দিয়ে দেয়নি তোকে,,,
আরহাম মুখ কালো করে বললো,,
_ ওয়াশরুম থেকে মগ ছুরে মেরেছে,,,
আমিনা বেগম মরকশা করে বললেন
_ হাজেরার কাছে ধরা পড়লে আমি খুশি হতাম,,কি আনন্দ দায়ক একটা বিষয় তাই না,,নুবার অন্য কোনো ভালো জায়গায় বিয়ে হতে যেতো
মায়ের কথা শুনে আরহামের মুখ কালো হয়ে গেলো আরহাম রাগি কন্ঠে বললো
_ তুমি আমার মা নাকি শত্রু,,
আমিনা বেগম বিছানা দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ এভাবে চলতে থাকলে বাবা তুমি অন্ততপক্ষে নুবার আশা ছেড়ে দেও, তোমার দাঁড়া হবে না,,,এই যে আমি উঠলাম আর বলে রাখলাম পরির সাথেই তোমার নিকা হবে,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ ও মানুক আর না মানুক নুবা আমার ছিলো,, আমার আছে,,আর আমার থাকবে,,,I need her,,
আমিনা বেগম দুই হাত জোর করে বললো
_ তোমার যা ইচ্ছা তাই করো,,আমি এই সবের ভিতরে নেই,,,
দুপুর ২ টা প্রায়,, আরহাম আয়ারকে দিয়ে কোথাও গিয়েছে তবে কোথায় জানা নেই,,,
আরহাম নির্দিষ্ট স্থানে পায়ের উপর পা তুলে বসলো,,সামনে বসা লোক আরহামের চান্দ মুখ খানা দেখে বলে উঠলো
_ এতো সাহস,,একাই চলে এসেছিস,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_নিজের রক্ষা আমি নিজে করতে পারি,,তোর মতো আশে পাশে ৩/৪ টা ছাগল রাখতে হয় না রে মামা,,,
লোকটা হেসে বললো,,
_ তো হঠাৎ এখানে,,, হাট্টা গাট্টা হয়ে গেছিস,,সেই দেখেছিলাম ছোট্ট বেলায়,,এখন তো দুই একটাকে টপকে ফেলতে পারবি,,
আরহাম চেয়ারে শরীর হেলিয়ে দিয়ে বললো
_ দেখ হালিম,,,,তোর সাথে আমি তর্ক বিতর্ক অথবা ঝামেলা করতে আসিনি,,,আমি কিন্তু ভালো মতোই জানি কোন কোন মাদা**** গুলা আমার বাপের পিছনে লাগেছে,,আমি শুধু warn করতে এসেছি তার ভিতরে তুইও একজন,,,বুঝলি,,, দেশে না থাকা কালিন কোনো বাল ছিরতে পারিসনি,,আর এখন তো আমি দেশে,,,I think ,,, তুই চাইবি না রাস্তায় আসতে যা আছিস তাই নিয়ে সুখে থাক,,না হলে ___
বলেই আরহাম জিভ দিয়ে গাল ঠেলে একটু হাসলো,,
হালিম smirk করে বললো
_ ঠেট দিতে আসছিস,,,তা কবে থেকে এই ধান্দায় ডুকলি,,না মানে নিজেকে হিরো মনে করিস নাকি,,নাকি গুন্ডাগিরি দেখাচ্ছিস,,,ভিলন গিরি 😮💨
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি না হিরো না ভিলেন,,”Silent Ruler” ,,,যেই নীরবতার গভীরতা আজ পর্যন্ত কেউ মাপতেও পারেনি,,, কারো ধারনাও নেই আমি কি চিজ,,, একজন নীরব শাসক যার আধিপত্য কতখানি বিস্তার হয়েছে তা তোর ধারনাও নেই,,,,যা তুই কল্পনা করতে পারিস না তার থেকেও ধারালো অস্ত্র আমি,,, ছোঁয়ার আগেই রক্তাক্ত হবি,,,,
হালিম ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ ওরে বাবা,,আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম,,,
নুবার মুখে এক রাশ বিরক্তি নেমে এসেছে,,,, কারণ টা কি??আয়রা,,আয়রা শুধুই আয়রা,,,,নুবা মুখ কালো করে বসে আছে,,, এদিকে পরি আয়ারকে নিয়ে বসেছে,,নুবার শরীর কেমন জ্বলছে,,, অসহ্য লাগছে,,,
রাতের খাবারের জন্য সবাই বসেছে,, টুকটাক কথা হচ্ছে,,,পরিকে হারুন মির্জা ভালো মন্দ জিগ্গেস করছে,,নুবা খাবার সার্ভ করছে,,জানা নেই কেন সে সার্ভ করছে,,, কারণ বাড়ির বউরাতো খেতে বসে গেছে,,তাও অভ্যাস মোতাবেক নুবা মায়ের সাথে খাবার সার্ভ করছে,,,
কথায় কথায় হারুন মির্জা বলে উঠলেন ,,
_ তো আমার মনে হচ্ছে আয়রার পুরো বিষয়টা পরি দেখলেই ভালো হবে তাই না,,,
হারুন মির্জার কথায় সবাই তার দিকে তাকালো,,,কেউ না বুঝলেও কেনো জানি নুবা কথাটার গভীরতা বুঝে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_আমিও আয়ারকে আর ফিড করাতে চাচ্ছি না,,, বরং পরি মেমকেই এই বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করলে ভালো হয়,,
বলেই নুবা একটা চেয়ারে বসলো,,, আরহাম খাবারে চামচ নেড়ে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা কারো দিকেই তাকালো না,,, আরহাম চেয়ে আছে দেখে হাজেরা নুবার দিকে একটু সরে ঝুঁকে বসলো যাতে তার মায়েকে দেখা না যায়,,
আরহামের মাথা এমনিতেই গড়ম ছিলো আরো গড়ম হয়ে গেলো,,,,আমিনা বেগম বিষয়টা বুঝতে পেরে বললেন
_ আর কয়দিনি বা আয়ারা বুকের দুধ খাবে,,৪/৫ মাস তো হয়ে এলো,,,এর পর না হয় কষ্ট করে ফিডার ধরিয়ে ফেলা হবে,,, আবার পরিকে,,
কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম বলে উঠলো,,
_ নুবাই ফিড করাবে আয়রাকে,,,এর থেকে একটা বেশি কথাও যাতে না হয়,, নতুন করে ঝামেলা চাইছি না আমি,,,
তুমি খেতে খেতে শান্ত কন্ঠে বললো
_ ওর মা চলে আসছে,,,আমি কেন এই সব ফেইস করবো,,,
আরহাম ভাতের প্লেটে শব্দ করে নিচে আছার মেরে উঠে দাঁড়ালো,,,দূর বাল সবকিছু অসহ্য লাগছে তার,,
পরপর রাগে হিসফিস করে বললো
_ Whatever I say will happen, it won’t be good if you disobey my words. ,,,
বলেই আরহাম গটগট শব্দ তুলে চলে গেলো,,আমিনা বেগম অবাক হয়ে গেলো হঠাৎ তার ছেলেটা এরকম রেগে আছে কেন,,আবার কি হলো,,,
আরহামের নিঃশ্বাস ভারি হয়ে উঠছে,,,রাগ সংযত করার skip নেই,,, শুধু ধৈই ধৈই করে বাড়ছে,,,তখন রাত প্রায় ১১ টা নাগাত,,,সবাই রুমে থাকলেও কেউ এখনো তেমন ভাবে ঘুমায়নি,,, আরহামের নিচে নুবার নিথর আর অবাশ দেহটা উল্টো হয়ে পড়ে আছে,,,
আরহাম নুবার পৃষ্ঠদেশে মুখাবয়ব গুঁজে ভারি নিঃশ্বাস ফেলছে,,, অসহ্য লাগছে তার,,মনে হচ্ছে সবকিছু ছেড়ে দূরে কোথায় চলে যেতো,,এতোটা টেন্স সে কখনো হয়নি,,কখনোই না,,যতটা বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে সে চিন্তিত,,,
না পারছে আগে যেতে,,না পিছনে,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আনন(মুখ) খানা নুবার অনাবৃত পৃষ্ঠদেশে একটু মেখে বিরবির করে বললো
_ এই মেয়ে,বিচ্ছু,,মিনি হাতি,তোর ভিতরে এমন কি আছে,,এভাবে অস্থির করছিস কেন আমাকে,, বিশ্বাস কর এর আগে কখনোই আমার এমন হয়নি,,কখনোই না,,, আমার,,,
আরহাম থেমে দীর্ঘ সময় ফেলে নুবার পৃষ্ঠদেশে চিপকে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খুলে দিলো,,পরপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এতো আঁটসাঁট (টাইট) করে কেনো পরিধান করেছেন এই সব,, দেখেন তো কিভাবে দাগ বনে গেছে,,, কষ্ট হয় না,,,
আরহাম প্রশ্ন টা করে নিজেই নিরাশ হলো,,পরপর পিষ্টদেশে থাকা সেই কালো বিন্দুতে হাতের দু তিনটা আঙ্গুল ছুঁইয়ে দিলো,,, কিছু সময় নিরবতা কাটলো অতঃপর আরহাম পরিধান কৃত অঙ্গবস্ত্রের চেইন টেনে লাগিয়ে নুবাকে সোজা করলো,,,
নিজের কাজ টুকু শেষ করে অন্ধকারে নুবাকে বুকে টেনে নিলো,,,,নুবার খোলা চুলে হাত বুলিয়ে মাথায় চুম্মুন করে সুধালো
_ কবে আপনি আমাকে এভাবে একটু বক্ষ স্থলে নিয়ে শান্তি প্রধান করবেন,, মাথায় হাত বুলিয়ে দিবেন,,,নিজে এসে আমাকে শক্ত করে আস্টে পিস্টে আঁকড়ে ধরবেন,,,I don’t know what I can do to get you interested in me.,,কি করবো আমি নুবু,,,এই মিনি হাতি কথা বল,,,
নিজে কথা বলে নিজেই হাসলো আরহাম,,’
‘মিনি হাতি” নামটা বেশ সুন্দর,,, নাদুসনুদুস মিনি হাতি,,,
আরহাম পাশে শুয়ে থাকা আয়রার দিকে তাকিয়ে বিরবিল করে বললো
_ আপনি মাম্মা এতো জেলাস ফিল করছে যে আপনাকে ফিড করানো ছেড়ে দিতে চাইছে,,Should I punish her?? আয়রা,,, তোমাকে ক্ষুধার্ত রাখতে চাইছে আমি কি আপনার মাম্মাকে শাস্তি দিবো হুম,,
মিটিমিটি আলোয় চেয়ে আছে আয়ার,,,এতো বড় ব্রিটিশ এখনো ঘুমায়নি,,,এমনি সময় লাইট অফ করলে কাঁদে,,তবে আজ হালকা অন্ধকারে হাত পা নেড়ে তার পাপার কর্ম কান্ড দেখছে,,,
আজকে বাড়ির সবকয়টাকে খাবারের সাথে ওষুধ দিয়েছে আরহাম,,আসলে সে একদম চায় না অন্ততপক্ষে আজকের রাতটা তাকে কেউ ডিস্টার্ব করূক,,তবে তার ভাগ্যের সুখ মনে হয় নেই তাই তো ভাবনার ভিতরে দরজায় কেউ কড়া নাড়লো,,,
প্রথম না শুনতে পেলেও পরে ঠিকি শুনতে পেলো আরহাম,,ভুরু কুঁচকে আসলো তার,,এই সময়ে কে আসলো,,,কারো তো জেগে থাকার কথা না,,
আরহাম বিরক্ত হলো,,এই বালের জালা যন্ত্রণা তার আর সহ্যে কুলাচ্ছে না,, আজকে যা হয়ে যাক এই নাটক আর করবে না সে দরকার পড়লে নুবাকে ধরে বেন্দে নিজের সাথে নিয়ে যাবে তাও এই অশৈল্ল আর সহ্য করবে না,,,, সবকিছুর একটা সিমা থাকা দরকার,,,
আরহাম নুবাকে রেখে রাগে গজগজ করতে করতে যেএ দরকার খুলে রেগে বললো
_ কোন মাদারআআআআআ,,, তুমি,, তুমি এখানে কি করছো,,,
গালি টা শেষ করার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুখটা দেখে আরহামেল ভুরু কুঁচকে গেলো,, আমিনা বেগম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ নুবা কোথায়,,
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো।।
_ আগে বলো তুমি জেগে কি করে আছো,,,
আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বললো
_ পেশার বেড়েছিলো ২ গ্লাস তেঁতুল গুলিয়ে খেয়েছি তাই তোর ওষুধে কাজ করেনি,,,তবে আক্কেল জ্ঞান থাকা দরকার তোর,,এতো না করার পড়েও তুই এরকম একটা কাজ করলি তাও বাসার সবাইকে,,না মানে সবকিছুর একটা লিমিট থাকা দরকার,,,এই ওষুধ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতি কর তুই জানিস,,,পরে পরে তোর বাপকে মরার মতো ঘুমাতে দেখেই বুঝতে পেরেছি তুই কোনো ঝোল করেছিস,,আর নুবা তোর কাছেই আছে,,,
আরহাম দরজার প্রায় লাগিয়ে একটু খানি খুলে মাথা বেড় করে বললো
_ mom please আজকের রাতটা trust me কিছু করবো না আমি,,,সকাল হওয়ায় আগেই ওকে রুমে রেখে আসবো,,,এখধ তুমি যেএ ঘুমাও দয়া করে,,,
আমিনা বেগম রেগে গেলেন,,,রাগে গজগজ করতে বললেন
_ অতিরিক্ত হচ্ছে আরহাম,,ওকে রুমে রেখে আয়,,,আর __
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম দরজা লাগিয়ে দিয়ে কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ বেশি ঝামেলা করলে ওকে নিয়ে কখন চলে যাবো টেরো পাবে না,, শান্তি দেও আমাকে,,,
আমিনা বেগম কি করবেন বুঝতে পারলেন না,, শুধু বুক ফেটে তার দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,, কিছুই করার নেই,,এখন চিল্লাচিল্লিও করা যাবে না,,
সকালের আলো চারিপাশে ছড়িয়ে পড়েছে, যেন রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে নরম সোনালি রঙে,,পাখিরা ডানা মেলে নতুন দিনের গান গাইছে, প্রকৃতি জেগে উঠেছে এক অদ্ভুত শান্ত সুরে,,হালকা ঠান্ডা হাওয়ায় গাছের পাতাগুলো দুলছে মৃদু ছন্দে, যেন ভোরের আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছে,,
দূরের আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে, যা চোখে এনে দিচ্ছে এক মায়াবী অনুভূতি,,
সবকিছু মিলিয়ে সকালের এই দৃশ্যটা যেন নতুন শুরু আর আশার গল্প বলে যাচ্ছে,,,
মৃদু আলোয় আরহামের ঘুম ছুটে গেলো,,,প্রথবারের মতো রাতের ঘুম প্রচন্ড ভালো হয়েছে তার,,,চোখ খুলে টের পেলো প্রায় নরম মাংশ পিন্ডের উপর অবস্থান করছে সে,,, আরহাম মাথা উঁচিয়ে ঘুমঘুম চোখে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো নুবা আঁকাবাঁকা তেরা হয়ে শুয়ে আছে,,এই মাত্র হয়তোবা ভোরের আলো ফুটলো,,,আয়রা হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে,,,
আরহাম হাম তুলে নুবার দিকে তাকালো,,তবে সাথে সাথে কলিজা কেমন ছ্যাত করে উঠলো তার,,নুবার চোখের পাতা নড়ছে,,,যেনো ঘুম এখনি উড়ে যাবে,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে উঠে বসলো,,,পরপর ভাবলো কি করবে সে,,,ইতি মধ্যেই নুবা দুই মচর মেরেছে,,,এখনি এই মূহুর্তে সজাগ হবে না,, নিশ্চয় নিজেকে এখানে পেয়ে আরহামকে ভালো গোয়ালের গরু ভাববে না সে,,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে আস্তে করে বিছানা থেকে নেমে গেলো,,,পরপর ধীরো পায়ে আয়ারকে নিয়ে নুবার কোলের ভিতরে রেখে মোটা কম্বল টা টেনে দিলো,,,
পরপর আস্তে আস্তে পিছনে যেএ সোফায় শুয়ে পড়লো যেনো,,সে কিছুই জানে না,,,
কিছু সময় পরেই এই ভোর বেলায় নুবার ঘুম ছুটে গেলো,,নুবা টিপটিপ করে চোখ খুলে আশে পাশে তাকালো,,,তবে আশে পাশে সব কিছু চোখে পড়তেই অবাক হলো সে ফাল দিয়ে উঠতে নিলে,, শরীর কেমন হালকা ব্যথা ভেঙ্গে আসলো যেনো শরীরের উপর কোনো কিছু ভর করেছে পরপর হাতের উপর ওজন অনুভব করলো নুবা,,,ভুরু কুঁচকে পাশ ফিরে দেখলো আয়ারা গুটিসুটি মেরে নুবার হাতের উপর শুয়ে আছে,,,
নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে আবার আশে পাশে তাকালো,,পরপর ঘুমঘুম কন্ঠে বললো
_ এখানে কি করছি আমি,,,
ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করতেই নুবা চম্কে উঠলো,, আরামের রুমে কি করছে সে,,,নুবা একটু নড়েচড়ে উঠতেই পিঠে কিছু বাঁধলো তার,,,বাম হাত উল্টো করে পাঠে হাত দিতেই চম্কে উঠলো সে,, অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খোলা কিন্তু কিভাবে,,,কখনোই এমন হয়নি তার সাথে,,,,পরপর নুবা ভাবলো হয়তোবা ছিরে গেছে,,,নুবা সন্দেহের সৃষ্টি পাশ ফিরে দেখলো আরহাম শুয়ে আছে সোফায়,,,নুবা চো বড়বড় করে সুধালো,,,
_ আমি এখানে কি করছি,,,
আরহাম আরমোড়া ভেঙ্গে বিরবির করে বললো
_ তোমার চাচিকে জিগ্গেস করো,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো না,, আমিনা বেগম তো নেই,,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ কেউ নেই তো
আরহাম অন্য পাশ ঘুরে বললো
_ তাহলে হয়তোবা এই মাত্র গেলো,, actually আয়রা রাতে কান্না করছিলো তাই আর কি,,,
নুবা আস্তে করে আয়ারকে বিছানায় শুইয়ে দিলো,,,আয়রা নড়েচড়ে উঠলো নুবা ডান হাত দিয়ে আলতো করে আয়রার বুকে হাত বুলিয়ে দিলো,,আয়রা ঘুমের ভিতরে ঠোঁট নেড়ে আবারো স্তব হয়ে গেলো,,,
নুবা আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো বিছানার এক কোনায় ওরনা পড়ে আছে,,নুবা হাত লাম্বা করে ওরনা নিয়ে ডিরেক্ট রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,, আরহাম যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো,,নুবা যেতেই আরহাম চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেললো,,,
নুবা রুমে যেএ দেখলো মাত্র ৬ টা বাজে,,,তার মাও এখনো ঘুমাচ্ছে,,,নুবা যেয়েই ওয়াশ রুমে ডুকে গেলো,,পরপর ড্রেসে খুলে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা চেক দিলো যে ছিরে গেছে কিনা,,তবে না সবি ঠিকঠাক আছে,,তবে খুললো কি করে,,আজব,,,নুবা বেশা চিন্তায় পড়ে গেলো,,এতো বছর ধরে ব্যবহার করছে তবু এরকম হয়নি তবে আজ এমন হলো আশ্চর্য,,,,নুবার বেশি অবাক লাগছে কারন তার শরীর দিয়ে পারফিউম এর ঘ্রান আসছে,,
নুবা কিছু সময় নির্বাক রইলো,,,আসলে হচ্ছে টা কি,,,কখন রুমে নিয়ে গেলো,,টেরো পেলো না,,,নুবার কিছুটা ভয়ে মস্তিষ্ক শূন্য পড়ে গেলো,,শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে বললো
_ আমার সাথে হচ্ছে টা কি,,,
সকালের নাস্তা তৈরি হচ্ছে,,নুবা সেই সকাল থেকে আমিনা বেগম কে খুঁজছে,,,তবে দেখা মিলছে না,, আজকে বাড়িতে সবাই ঘুম নিয়ে একটু বেশিই গুনোগান করছে যে ঘুম ভালো হয়েছে,,,
নুবা আশে পাশে চোখ বুলিয়ে আমিনা বেগম কে পেলো তখন হাজেরা রুটি বেলছে,,তাই নুবা বাইরে বেড় হতে পেরেছে,,,
নুবা আমিনা বেগম কে ডেকে বললো
_ চাচি একটু আমার সাথে এদিকে আসো তো কথা আছে,,
আমিনা বেগম নুবার শুকনো মুখ দেখে কিছু একটা বুঝতে পারলো
নুবা আশে পাশে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ কালকে রাতে কি তুমি আমাকে রুমে নিয়ে গেছিলে চাচি,,
আমিনা বেগম পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ ওই আরটি আয়রা কাঁদছিলো তো মা তাই,,,
নুবা ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_ তুমি,, তুমি কি আমার ইনার খুলেছিলে,,আসলে কখনো এমন হয়নি,,ঘুমানোর আগে সব ঠিক ছিলো সকালে উঠে,,,আসলে কখনো এমন হয়নি তো,,তাই কেমন অদ্ভুত লাগছে তার উপর ইদানিং কেমন ঘুম হচ্ছে কে জানে টেরো পাই না,,
আমিনা বেগম বুঝতে পারলো সবি আরহামের কান্ড,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ হ্যাঁ,,আয়ারাকে ফিড করানোর সময়,,,আর তোর ঘুম থেকে উঠার আগেই আমি বাইরে এসেছি,,সারা রাত তোর সাথেই ছিলাম,,
বলেই হাসলো আমিনা বেগম,,নুবা চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ না আসলে আমার শরীর থেকে পারফিউম এর ঘ্রান বেড় হচ্ছে,,, তুমি তো জানো আমি পারফিউম ব্যবহার করি না,,
আমিনা বেগম ফট করে বললো,,
_ ওho,,ওই যে আরহাম রাতে তোকে কোলে করে এনেছে না তাই হয়তোবা,, চিন্তা করিস না,,, সাধারণ ব্যপার তো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো,,,
_ হুম,,(তবু নুবার মনটা খচখচ করতে লাগলো কেনো সে জানে না)
আমিনা বেগম ঘুমন্ত আরহামের সামনে দাঁড়িয়ে বললো
_ আজ কোনো মতে নুবাকে সামলেন নিয়েছি,,,মেয়েটাকে দেখেই চিন্তিত মনে হচ্ছিলো,,তবে next time এরকম করলে আর আমি কিছু করতে পারবো না,,,
আরহামের মুখের উপর থেকে কম্বল সরিয়ে বললো
_ কিছুই করিনি আমি,,,ও তো ভাবুক Ulta pro max,,তাই উল্টা পাল্টা ভাবছে,,,
আমিনা বেগম চোখ ছোটো ছোটো করে বললো
_ মিথ্যা বলবি না আরহাম,,,ওর ইনার__
একটু থেমে গেলো আমিনা বেগম রাগে গজগজ করে বললো
_ তাহলে কি করছিলি তুই,,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ Trust me mom,,আমি just ওর help করছিলাম,,এতো টাইট করে পড়ে ছিলো আমার দেখে কষ্ট হচ্ছিলো Then,,
এতটুকু বলেই হাসলো আরহাম,,,আমিনা বেগম কপাল চাপড়ে বললেন
_ নির্লজ্জ,,,বেহাইয়া,,,দেখবো তো কাকে বিয়ে করিস তুই,,,নুবাকে না করলে যা উল্টা পাল্টা কাজ করেছিস ফিরিয়ে দিবি ওকে,,, অসভ্য কোথাকার,,, আমাকে আর এই ঝামেলায় ফেলবি না,,আমি কিছু জানি না মানে জানিই না,,, আল্লাহ হাফেজ
বলেই আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,, আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে উপুড় হয়ে শুয়ে রইলো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬১
হারুন মির্জা আর আরফ অফিসে,,এই আরহাম কয়দিন অফিসে গিয়েছিলো এখন আবার বাসায় বসে আছে,,তবে কেউ তেমন কিছু বলে না,,আরহামের মন মর্জি,,,
