নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ গত ২ মাস ধরে পিরিয়ড হয় না,,,আমি প্রথমে খেয়াল করেনি তার পর আজকে আবার মাসিকের ডেট চলে গেছে কিন্তু হয় না তাই চেক করেছিলাম পজেটিভ আসছে,,,
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ আচ্ছা,,,বুঝতে পেরেছি,,, তুমি একটু সপ্তাহ খানিক ধৈর্য ধরো অতী শিঘ্রই আমি তোমাকে নিয়ে আসবো,,,
আরশি ভেবেছিলো এখনি আসবে তবে অপেক্ষা করতে বলছে,,আরশির সহ্য হলো না রেগে বললো
_ আমার পেটের বাচ্চা মরলে আসিস তুই,,, জানোয়ার,,আমি অপেক্ষা করতে পারবো না,,এখনি আসবি,,,এখনি,,আমি একটুও রিস্ক নিবো না,,,
রিহান বকা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,আরশি আবার কিছু বলতেই যাবে তখনি দরজা ঠেলে কেউ প্রবেশ করলো,,,আরশি বড়বড় চোখ করে সেদিকে তাকালো,,পরপর মুখ দিয়ে ভেস আসলো,,
_আ,, আম্মু,,,
আমিনা বেগম শুনেনি এমন কিছুই সবি শুনেছে,, নিচে হালকা খাবার তৈরি করা হয়েছে তাই মেয়েকে ডাকতে এসেছিলো তবে এমন খবর শুনবে সে ভাবতে পারেনি,,
আরশির হাত থেকে মোবাইল টা পড়ে গেলো,,ঠাস করে একটা শব্দ হলো,সে যেনো একনি সেন্স হারাবে,,,আরশি শুকনো ঢোক গিলে দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,,আমিনা বেগম শক্ত পায়ে এগিয়ে এসে ফ্লোর থেকে মোবাইল তুলে নিলো,, মোবাইলের কিচ্ছু হয়নি কাভার থাকায়,,,
আমিনা বেগম মোবাইল উঠিয়ে নিয়ে আরশির দিকে তাকালো,,,আরশি ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ আম্মু,,,আমি,,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফোনটা কানের সামনে নিয়ে বললো
_ hello কে,,,
রিহান চোখ বুঝে নিলো বুঝতে বাকি রইলো না এটা তার খালা,,রিহান চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি খালা মনি,,,
আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললো
_ বাসায় আয়,,
_ আচ্ছা,,,
পরপর রিহান বিচলিত কন্ঠে বললো
_ খালা মনি ওকে কিচ্ছু বলো না,,,যা করার আমি করেছি please,,খালামনি,,,
_ যা বলেছি তাই কর,,আমি তোর খালুকে বলছি,, তাড়াতাড়ি,,
বলেই কল কেটে দিলো আমিনা বেগম,,,আরশির ঠোঁট দুটো তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,,
আমিনা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে একবার পেটের দিকে তাকালো পরপর বলে উঠলো
_ কয়মাস,,
আরশি ভয় পেয়ে বললো
_ আম্মু,,আমি,,আমি সব বলছি
_ আমি জিগ্গেস করেছি কয় মাস,,,
আরশি চোখ বন্ধ করে নিলো,, চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,বিরবির করে বললো
_ ৩ মাস,,,
আমিনা বেগম শান্ত তবে ভয়ংকর কন্ঠে বললো
_ তুই জানতি না তোর বাবা যে আত্মীয় স্বজনদের ভিতরে নতুন আত্মীয়তা পছন্দ করেন না,,,
আরশি মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,আমিনা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ এতো দিন এটা বলে নিজেকে শান্তনা দিতাম যে অন্ততপক্ষে আমি আরফ আর আরশিকে মানুষের মতো মানুষ করেছি,, হয়তোবা আরহাম কাছে ছিলো না তাই বিগরে গেছে,,অন্য culture এ বড় হয়েছে তাই স্বাভাবিক নেওয়ার চেষ্টা করেছি,, কিন্তু তুই এটা কি করলি আরশি,,,তাহলে কি আমারি শিক্ষা দেওয়াতে কোনো ভুল ছিলো,,নিজের খালাতো ভাই এর সাথে,,,,,,একবারো ভাবলি না এর পর কি হবে,,,আর এই বাচ্চাটা যদি রিহান এখন মুখের উপর অস্বীকার করে দিতো,,কি করতি এই অবৈধ বাচ্চার,,,
আরশি ফট করে চাইলো তার মায়ের দিকে,,দুই হাত দিয়ে না বুঝিয়ে বললো
_ এই সব কি বলছো আম্মু,, আমার সন্তান অবৈধ না,,আমি আর রিহান ভাই বিয়ে করেছি,,,আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি আম্মু,,,
আমিনা বেগম ঠাস করে আরশির গালে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন
_ আমাকে একটা বার বলতে পারলি না তুই,, অন্ততপক্ষে একবার বলতি,,না বলে,,,
_ আমি সাহস পাইনি আম্মু,,,
_ বিয়ে কবে করেছিস,,
_ ২ বছর হয়ে যাচ্ছে,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,, এতো কিছু হয়ে গেলো আর সে ধরতেই পারলো না,,,আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললো
_ তুই আর আমাকে মা বলে ডাকবি না,, যেহেতু পর হয়ে গেছি পড়ি থাকি,,,
বলেই আমিনা বেগম চলে আসতে চাইলেন,,আরশি আমিনা বেগমের এক হাত চেপে ধরে বললো
_ আম্মু please ,,এভাবে বলো না আমি ভুল করেছি তাই বলে,,মা,,ও মা কথা বলো
আমিনা বেগম হুহু করে কেঁদে উঠলেন আর বললেন
_ এতো বড় কথা আমার থেকে কেনো লুকালি তুই,,
_ আমাকে মাফ করে দেও,,আমি,,আমি বলতে পারিনি,,, আব্বু কে কিছু বলো না মা,,আমাকে মেরেই ফেলবে,,,
আরশির কথা তুতলে আসলো,,, হঠাৎ মাকে দেখে প্রচন্ড পেয়েছে সে,,এই অবস্থায় এতো লোড নিতে পারলো না আরশি,,কথা বলতে বলতে ঠাস করে ফ্লোরে পড়ে গেলো,,,
আমিনা বেগম হঠাৎ মেয়েকে পরে যেতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,,, তাড়াতাড়ি মেয়েকে ধরে অস্থির কন্ঠে বললো
_ আরশি,,আরশি,,এই আরশি,,,
আরশির চোখ খুললো না,,আমিনা বেগম প্রচন্ড ঘাবড়ে গেলেন ,,
আরশি মাথা নিচু করে কাঁদছে,,,পাশে ইশিতা বসে আছে,,রুম জুড়ে শুধু আরশির গুনগুন শব্দ,,,
রুমে কয় একজন উপস্থিত আর বাকি সবাই বাইরে,,
আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললেন
_ এটা কি আমার দোষ,,আপনি আমার উপর কেন চেঁচাচ্ছেন,,
হারুন মির্জা রাগি কন্ঠে বললেন
_ তাহলে কার দোষ এটা,,মেয়েকে শিক্ষা দিতে পারোনি,,, তোমার চোখের সামনে থেকেই তোমার বোনের ছেলের বাচ্চা পেটে বাধিয়েছে,,আর তুমি সারাদিন বাড়ি থেকেও টের পাওনি,,,
আমিনা বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,কোনো কিছু হলে মাদেরি কেনো দোষ পড়ে,,,আমিনা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললেন
_ ওরা ভালোবাসে দুইজন দুইজনকে,,,বিয়ে করেছে,,থাক না সুখে থাক,,,
হারুন মির্জা চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_ কি সুখে থাকবে,,, হ্যাঁ,,কিভাবে সুখে থাকবে,,,জয়েন ফেমেলি ওদের,, তোমার মেয়ে থাকতে পারবে ওখানে যেএ,,,রিহানের ভালো একটা কাম কাজ নেই কি খাওয়াবে ওকে,,,তার ভিতরে আবার বাচ্চা বাঁধিয়ে নিয়েছে হুম,,,বুঝো না তুমি,,,ওর জন্য কত ভালো ভালো ছেলে দেখে রেখেছি আমি,,পড়া লেখা শেষ হলে ভালো একটা জায়গায় দিয়ে দিবো আর কি করলো তোমার মেয়ে,,
আমিনা বেগম স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললো
_ শুধু কি আমার মেয়ে,, আপনার না,,আর ভুলটা কি,,ওরা দুজন দুজনকে নিয়ে যদি সুখে থাকে থাক না,,,
_ যা বুঝবে না তা নিয়ে কথা বলবে না আমিনা,,,আমি জানি আরশি কিভাবে ভালো থাকবে,,, তোমার নাকে কান্দা মেয়ে কখনোই ওই পরিবারে টিকে থাকতে পারবে না,,,এক একটা আস্ত শয়তান ওই বাড়ির আমার মেয়েটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে,,,
_ রিহান তো ওকে ভালোবাসে,,, পরিবার দিয়ে কি করবে,, দরকার পড়লে আলাদা হয়ে যাবে
_ সেই মুরদ আছে তোমার বোনের ছেলের,,, হ্যাঁ আছে,,,জীবনে একা চলেছে,,,ওর জীবন আর আরশির জীবনে আকাশ পাতাল তফাৎ আছে,,,কেউ মানিয়ে নিতে পারবে না
হারুন মির্জার রাগে শরীর ফাটছে,,আরশিকে দেখলে তার ইচ্ছা হচ্ছে গলায় ফাঁস দিতে,,মেয়েটা সেই মাথায় চড়ে বসতো তার আর আজ নিজেই বাচ্চার মা হতে যাচ্ছে,,,তাও কাউকে কিছু জানায় পর্যন্ত,,
আরশি সামনে বসে থাকা হারুন মির্জার চোখের দিকে তাকাতে পারছে না তাই মাথা নিচু করে বসে আছে,,,
আরফ প্রচন্ড রেগে আছে ছি বিষয় নিয়ে,,আরশি তার কলিজা,,,তার ছোটো বোন,,আর তার মতো একটা রাজকুমারীকে সবজি ব্যবসায়ী রিহানের হাতে তুলে দিবে,,, কাঁচা মালের ব্যবস্থা করে রিহানরা,,,এই কথা ভাবতেই আরাফের রাগ হলো,,,একের পর এক ভালো সমন্ধ এসেছে আরশির জন্য আর শেষ পর্যন্ত এরকম একটা জয়েন family তাও সবজি ব্যবসায়ী মানুষের হাতে বোনকে তুলে দিবে,,তাও তার বাপ কিছু বলছে না দেখে আরাফ চুপ আছে,,,
হারুন মির্জা স্তব,, শুধু ভাবছেন আজ যদি আরশি অন্তঃসত্ত্বা না হতো তবে একটা মারো মাটিতে পড়তো না,,এই দুঃসাহসী কাজের জন্য তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো,,,তার পর যা হওয়ার হতো,,,
নুবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বাস হচ্ছে না আরশির পেটে বাবু আছে,,,তবে কেন জানি নুবার আনন্দ লাগছে,,,
আরহাম মেয়েকে নিয়ে সোফায় বসে আছে,,কোনো হেলদোল নেই,,তবে রিহানের সাথে আরশির সম্পর্কটা তার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে,,সে আরহামকে ধোঁকা দিয়েছে তার বোনকে দিতে কত সময়,,,এটা নিশ্চিত যে আরহামের হাতে একটা কেলানি খাবে রিহান,,,
অনেকটা সময় পর হারুন মির্জা বলে উঠলো,,
_ এই সাহস কোথা থেকে পেলে,,কোন সাহসে তুমি রিহনকে বিয়ে করেছো,,তার উপর তার সন্তানকে গর্ভে ধারন করেছো,, তোমার লজ্জা করলো না,,, একবার ভাবতে ইচ্ছা করলো না তোমার বাপ ভাই আছে,,,
আরশি দুই নিজের হাত নিজেই খামচে ধরলো কম্বল এর তলে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠলো,,এর উত্তর কি দিবে সে,,,আরশি থেকে উত্তর না পেয়ে হারুন মির্জা ধমকে উঠে বললেন
_ কি হলো বলছো না কেন,, সত্যি কি বিয়ে করেছো নাকি ভয়ে মিথ্যা বলছো,,,এই বাচ্চা কি বৈধ আরশি,,
আরশি নাক টেনে হুহু করে কেঁদে উঠে বললো মিনমিন করে বললো
_ আ,,আমি রিহানাকে ভালোবাসি আব্বু,,আর,,আর উনিই আমার স্বামী এটাই সত্য,,,আমরা বিয়ে করেছি,,, বিশ্বাস না করলে প্রমান দেখাবো তাও আমার সন্তান কে অবৈধ বলো না বাবা,,,
হারুন মির্জা তেতে উঠলেন আর চেঁচিয়ে বললেন
_ লজ্জা করছে না এই মুখ দিয়ে কথা বলতে,,,জানো আমার কি মনে হচ্ছে তোমার মতো মেয়ে জন্ম দিয়ে আমি পাপ করেছি,,যে কিনা মা বাবাকে সম্মান পর্যন্ত করতে জানে না,,, তুমি আর তোমার বড় ভাই আজ থেকে আমার কাছে সমান হয়ে গেলে,,দুইজনি অসভ্য,, অভদ্র,,,ভালো শিক্ষা দিতে পারিনি তোমাদের এটা আমার ব্যর্থতা,,,
হঠাৎ কথায মাঝখানে নিজের নাম শুনে আরহামের তেতে উঠলো,, শান্ত কন্ঠে বললো,,
_ যে নিজের সন্তানকে আগলে রাখতে পারে না,, ভালোবাসা দিতে পারে না,,সে আবার সম্মান চায় হাস্যকর,,,,
হারুন মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তুমি নিজে এক অভদ্র হয়েছো সাথে তোমার চিন্তা ভাবনাও নিচু,,,এখানে তোমাকে কথা বলতে বা মতামত দিতে বলা হয়নি,,,
আরহাম ঘ্যাড়ত্যারামো করে বললো
_আমি ১০০ বার বলবো যে আমার মতে আরশি একদম ঠিক করেছে,,তবে রিহান ভুল মানুষ এই কারনে ওর একটু কেলিনি খাওয়া যথার্থ,,সাথে ওর husband কেও দুটো বসালে ভালো হয়,,
প্রথম লাইন শুনে আরশি ভেবেছিলো তার বড় ভাই তার পাশে তবে শেষ টুকু শুনে আরশি আরহামকে আস্তে করে একটা গালি দিলো,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন ,,এর সাথে কথা বলে লাভ নেই,,,আরাফ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কি করবে বাবা,,, তুমি বললে ওদের ডিভোর্সের ব্যস্ততা করা যায়,,
আরশি হতভম্ব হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকালো,,চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো তার,আরশি মিনমিন করে বললো
_ কক্ষনো না,,আমি উনাকে ডিভোর্স দিবো না,,,
হারুন মির্জা চুপচাপ রইলেন পরপর বললেন
_ তোমার কাছে দুটো অপশন আছে আরশি,, বাচ্চা নষ্ট করে রিহানকে ডিভোর্স দিয়ে দেও কারণ তুমি ওই বাড়িতে ২ দিনো টিকতে পারবে না,,আমি আমার মেয়েকে জেনে শুনে নর্দমায় ফেলে দিতে পারি না,,আর দ্বিতীয় অপশন হচ্ছে তুমি রিহানের সাথে যাবে, অতঃপর এই বাড়ির দরজা তোমার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে চিরোকাল,,,
বাবার মুখে এরকম কঠিন বানি শুনে আরশি কম্পিত হলো,আমিনা বেগম মুখে আঁচল গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠলেন,,আরশি রাগি কন্ঠে বললো
_ আমি কেনো আমার সন্তানকে নষ্ট করবো,, দরকার পড়লে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো,,তাও আমি আমার বাচ্চাকে মারবো না,,আর রিহানকে নিয়ে সমস্যা কি,,আমি যদি থাকতে পারি কেনো তোমরা মেনে নিতে পারছো না,,আমি সুখে থাকবো ওর সাথে,,,
বলেই আরশি কেঁদে উঠলো,,,, হারুন মির্জা গম্ভীর কন্ঠে বললো,,
_ তাহলে এখনি বেড় হয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে,,,
আরশি চোখ তুলে বাবার চোখের দিকে তাকালো,, কেমন অভিমান প্রকাশ পাচ্ছে,,,আরশি আবারো মাথা নিচু করে বললো
_ তুমি যদি ভেবে থাকো আমি চলে যাবো,,তবে ভুল কারণ এই আরশি তোমার সন্তান আর আরশি কিছু ছেড়ে দিতে শিখেনি,,,আমি কোথাও যাচ্ছি না,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চাপলো,, ঘ্যারত্যারা মেয়ে,, কি সুন্দর করে বললো অন্য কেউ হলে রাগ দেখিয়ে চলে যেতো,,
আসলে এই রাত করে পেটের সন্তানকে নিয়ে বাইরে বেড় হলে যদি সমস্যা হয় তাই আরশি যাবে,,দিন হলে এখনি রিহানের কাছে চলে যেতো সে,,,
আরশির কথা শেষ হতেই পরি বসে উঠলো
_ খারাপ না ভাবলে একটা ছোট্ট করে কথা বলি আঙ্কেল,,,
সবাই পরির দিকে তাকালো,,,পরি মাথা নিচু করে বললো
_ যেহেতু তারা বিয়েটা করেই ফেলেছে,,তবে এভাবে এই অবস্থায় মেয়েকে না কাঁদিয়ে সব মেনে নেওয়ায় উত্তর,,, বাচ্চাটার কথা ভাবা উচিত তাই না,,এই প্রানটার তো কোনো দোষ নেই,,,
পরির কথা শুনে হারুন মির্জা বললেন
_ আমিনা,, তোমার বোন আর বোন জামাইকে কল দিয়ে আসতে বলো,,এই মারা এখানেই মাটি দিবো আমি,,
নুবা বিরবির করে স্বাভাবিক আর শান্ত কন্ঠে বললো
_ আগে টিভিতে দেখতাম চৌধুরী বাড়ির মেয়েকে গড়িবের নায়ক ভাবলবাসলে সবসময় চৌধুরী সাহেব ভিলেন হয়ে যায়,,আজ তা স্বচক্ষে দেখেও নিলাম,,তাহলে কি রিহান ভাই আসার পর মির্জা সাহেবো ৩/৪ কোটি টাকা দিয়ে বলবে “এই নেও টাকা,,,আমার মেয়ের জীবন থেকে সরে যাও”
হঠাৎ এমন একটা পরিস্থিতিতে নুবার এরকম কথা শুনে আরশি ফিক করে হেসে দিলো,,, হারুন মির্জা গাড়ো চোখে নুবার দিকে তাকালো,,,
হাজেরা পাশ থেকে এসে নুবার মাথায় থাপ্পর মেরে বললো
_ মুখ বন্ধ রাখা যায় না,,,
নুবা মুখ কালো করে বিরবির করে বললো
_ আমি তো বাংলা সিনেমার দেখতাম তাই তো বললাম,,,মারলে কেন,,
পরপর নুবার সবার দিকে তাকিয়ে দেখলো সবাই কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা নিচু করে নিলো আর বললো
_ sorry everyone,,ভুল কথা বল্লাম মনে হয়,,
আরহাম নুবার বলদ মার্কা কথা শুনে হাসলো,,বেচারি তো শুধু সিনেমার সাথে এই কাহিনীটাকে মিলাচ্ছিলো,,সবাই এভাবে কেন তাকালো,,
কিছু সময়ের মধ্যেই রিহান পৌঁছালো,,তানিয়া দরজা খুলে দিয়েছে,,রিহান বাড়িতে ঢুকেই বুঝতে পারলো সবাই আরশির রুমে,,তাই সে ছুটে গেলো ,,
রুমে এসে দেখলো বাড়ির সবাই উপস্থিত,,, কাউকে পরোয়া না করে রিহান আরশির দিকে ছুটে যেএ বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আরশি তুমি ঠিক আছো,,কেউ কিছু বলেনি তো,,এখনো কান্না করছো কেন,,
রিহানকে পেয়ে আরশি কোনো দিকে না তাকিয়ে রিহানাকে জরিয়ে ধরে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠে সুধালো
_ আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলেন রিহান,,ওরা আপনার সন্তান কে মেরে ফেলতে চাইছে,,,
হারুন মির্জা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ নিয়ে যাও তোমার স্ত্রীকে,,তার ভালো তো আমরা কখনোই চাই না,,,
রিহান আরশিকে শান্ত করলো,,পরপর সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে হারুন মির্জার পানে তাকালো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ আপনারা কি আমার উপর রেগে আছেন,,আমি সবটা আগেই বলতাম তবে ভেবেছিলাম আরশির পড়া লেখা শেষ হলে,,,,
হারুন মির্জা একটু হেসে বললো
_ হ্যাঁ অবশ্যই যাতে তোমার উপর পড়া লেখার খরচ না পড়ে তাই তো,,
রিহান শুকনো মুখ নিচু করে নিলো,,আরশি রিহানকে পাশে পেয়ে সাহস পেলো তাই মৃদু কন্ঠে বললো
_ দরকার পড়লে আমি আমার পড়া ছেড়ে দিতাম, আমার স্বামী যা পারবে না তা আমি কেন করবো,,
আরাফ আরশিকে ধমক দিয়ে বললো
_ মুখে বুলি ফুটেছে জামাইকে দেখে,,বাবার মুখে মুখে তর্ক করছিস,,
আরশি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রিহানের এক হাত আঁকড়ে ধরলো,,ইশিতা আরাফের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই অবস্থায় মেয়েটার সাথে চেচাচ্ছো কেন এভাবে,,ঠিকি তো বলেছে,,,
আরাফ ইশিতার দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ একদম মেজাজ দেখাবে না ইশিতা,,যাও এখান থেকে যাও,
_ আমি কেন যাবো,,এখানে কি আমার থাকার অধিকার নেই নাকি,,
আরাফ তেরে এসে বললো
_ কয়দিন ধরে অতিরিক্ত করছো তুমি,,,
ইশিতা চমকে উঠে বললো
_ মারবে তুমি আমাকে,,, হ্যাঁ মারবে,,,আসো মারো দেখি কত সাহস,,,
আরাফ তেরে গেলো,, হারুন মির্জা ছেলেকে ধমকে বললো
_ আরাফ,,ভুলে যাচ্ছো আমার এখানে উপস্থিত,,আর অন্যের ঝগড়া নিজের ঘাড়ে কেন টেনো নিচ্ছো,,দুই জিনি বেড় হও,,বাকি কথা রিহানের parent আসলে হবে,,,এখন রুম থেকে সবাই বেড় হও ওদের এক সাথে থাকতে দেও,,
হারুন মির্জা বলেই উঠে দাঁড়ালেন,,এক পলক আরশির দিকে তাকিয়ে বললেন
_ আমি শুধু এই কারনে ছেড়ে দিলাম যে তুমি যা বুনেছো তারি ফল অতী শিঘ্রই পাবে,,আজ আমার সন্তান হয়ে তুমি আমাকে যেই ব্যবহার দিলে তা ভবিষ্যতে তোমার সন্তান দিবে না কি ভরসা,,,এটা বাস্তব যে তুমি যা করবে ফল কিন্তু তাই পাবে,,নিজের সন্তানকে সামলে রেখো আমার মতো ব্যর্থ পিতা বা মাতা হইয়ো না,,
অতঃপর হারুন মির্জা কথা গুলো বলে চোখে পানি নিয়ে নিজে সবার আগে চলে গেলেন,,সবাই অবাক হলো তার ব্যবহার দেখে,,প্রথমে হয়তোবা রেগে ছিলো তাই বেকেছে তবে নিশ্চয় হারুন মির্জা ভালো মনের মানুষ,,,
নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে নিচে যেতে লাগলো তখনি আরহাম এসে নুবার হাত ধরে বললো
_ রুমে চলো,,,
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ উফ্ এখন যাওয়া যাবে না,,,নিচে আসুন,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর সবাই নিচে চলে আসলো,, হাজেরা আর তানিয়া আমিনা বেগম কে শান্তনা দিতে লাগলো,,আর ইশিতা রুমে যেএ হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে লাগলো,,আরফ তার গায়ে সামান্য কারনে হাত তুলতে চেয়েছে,,আরাফ কপাল চাপড়ে নিজের কপালের দোষ আর পাপ ভেবে বউ কে সামলাতে ব্যস্ত হলো,,,
আরশি চুপ করে বসে আছে,,রিহান দরজা চাপিয়ে দিয়ে আসলো,,রিহান বিছানায় বসতেই আরশি শক্ত করে তাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,,,
রিহান আরশির গালে চুমু খেএ বললো,,
_ কান্না করে না,,,আমি এসেছি তো,,
আরশির তাও কান্না থামলো না,,আরশি বিরবির করে বললো
_ আব্বু আম্মু অনেক কষ্ট পেয়েছে,,আমি আমি কেনো যে তাদের না জানিয়ে এমন করলাম,,
_ সব ঠিক হয়ে যাবে ধৈর্য ধরলো,,
বলতে বলতে রিহান আরশির হাঁটু অব্দি কুর্তি সরিয়ে উদরে হাত বুলিয়ে মিনমিন করে বললো
_ কোনো ফিল পাও আরশি,,,বেবি আছে তো,,,
আরশি নিজের হাত রিহানের হাতের উপর রেখে পেটের ডান পানে রেখে বললো,,
_ এখানে কেমন কেমন জেনো লাগে,, এখানেই আছে,,
রিহান হাসলো,,চোখে পানি তার,,এতোটা খুশি লাগছে,,রিহান নিচু হয়ে আরশির পেটে চুমু খেএ বললো
_ আমার বেবি,, আমার বাচ্চা আরশি,,,
আরশি অভিমান করে বললো
_ শুধু আপনার,, আমার না,,
রিহান এক গাল হেসে বললো
_ হ্যাঁ আমাদের,, আমাদের বেবি,,
পরপর রিহান উদরে অনেক গুলো আদর দিয়ে ভরিয়ে দিলো,,,
অতঃপর আর কি,,রিহানের পরিবার আসলো রিহানের বাবা মা প্রথমে বকাবকি করলেও রিহানের বাবা শেষ একটা কথা বলে সব ঝামেলা শেষ করলো
_ যেহেতু বাচ্চারা ভুল করেই ফেলেছে,এখন মারলে কাটলে বা ছাড়াছাড়ি করিয়ে দিলে কিছুই হবে না, বরং নির্দোষ ছোট্ট প্রানটা কষ্ট পাবে তাই মেনে নিলেই সবাই সুখে থাকবে,,
এর পর আর কিছু বলার আছে,,, সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো শুক্রবার তাদের বিয়ে দেওয়া হবে আবারো তবে ছোট্ট অনুষ্ঠান করে শুধু নিজেদের পরিবার আর কয় একজন আত্মীয় থাকবে,,,প্রায় ঘড়োয়া ভাবে,,এতে আরশি বা রিহান আপত্তি করলো না,, এমনিতেই কখনোই তার ইচ্ছা ছিলো না এতো বড় করে অনুষ্ঠান করার কারণ জীবনে সে এতো মানুষের বিয়ে খেয়েছে সেই বিয়েতেই তার বউ সাজা হয়ে গেছে আর কি সাজবে ভাই,,,তার উপর এখন পেটে একটা আছে এই গরমে এতো অনুষ্ঠান করার দরকার নেই,,
আজ সোমবার,, বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ,, শুক্রবার বিয়ে,,সবাই কথা শেষ করে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে গেলো তবে শেষ পর্যায়ে এসে আরশি আর রিহান হারুন মির্জা,,আমিনা বেগম এবার রিহানের বাবা মার কাছেও মাফ চাইলো,,,
হারুন মির্জা মেয়েকে মাফ করলেন কারন মেয়ের সুখ মানেই তার সুখ,, সত্যি বলতে মনে মনে নাত নাতনি আগমে সেও বেশ খুশি,,তবে একটু রাগ না দেখালে হয়,,প্রথম প্রথম শুনে প্রচন্ড রাগ হয়েছিলো তবে মেয়ের কান্না আর রিহানের আরশির প্রতি এতো আগ্রহ,,মানে কাউকে পরোয়া না করে আগে এসে নিজের স্ত্রী কে বুকে টেনে নেওয়ার দৃশ্য তার মন জুরিয়ে নিলো,,ভরসা পেলো তার মেয়ে সুখে থাকবে তাই আর কোনো ঝামেলা চাইলেন তিনি,
বাড়ি নিস্তেজ হয়ে গেছে,,রিহানরা চলে গেছে,,সবাই রাতের খাবার খেতে বসেছে তবে আমিনা বেগম আরশির প্রতি একটু বেশিই খেয়াল রাখছেন,,কালকে হসপিটালেও যাবে তারা,,,
নুবা ভাত মেখে মুখে তুললো,,, আরহাম আজ নুবার পাশে জাগা পায়নি সামনে পেয়েছে তবে আজ নুবা কিসের ভিতরে পড়ে আছে কে আছে,,আরহামের দিকে তাকাচ্ছে না খেয়েই চলেছে,,
আরহাম তা দেখে খুব সতর্কের সাথে নিজের লাম্বা পা টা বাড়িয়ে দিলো,, ঠিক নিজের প্রিয়শীর পা চিনে তার পায়ে ঘর্ষণ চালালো,,নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকালো,,সে বুঝতে পারলো এই কাজ আরহামের ছাড়া কারো না,, কারণ এতো লম্বা ঠেং কারো নেই যে ওপাশ থেকে এপাশে চলে আসবে,,
আরহাম চোখের ইশারায় নুবাকে আস্তে আস্তে খেতে বললো,, ইদানিং চোখের ইশারা বেশ বুঝে তারা,,তবে তারা হয়তোবা ভুলে যাচ্ছে সামনে হারুন মির্জা বসে আছে,, আজকে আরশির মতো তারা না কট খে যায়,,,
সবার খাওয়া শেষ হলেও নুবা আর আরহামের হলো না,,যে যার মতো উঠে গেলো,,পরি দুই জনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো,, কারণ সে অতী শিঘ্রই এখান থেকে চলে যাবে,,,এদের ভিতরে বাঁধা হবে না,, সেদিন রাগ করে বললেও সে এমন মেয়ে না,,
যে যার মতো চলে যেতেই আরহাম এসে নুবার সামনে ডাইনিং টেবিলে বসে আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে শব্দ করলো,,,নুবা মাথা উঁচু করে পাশে টেবিলের উপরে বসা আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি,,,??
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ তোমার খাবার গুলো তো খুবি লোভনীয় লাগছে একটু মুখে তুলে দেও দেখি কেমন,,
নুবা একটু হেসে বললো
_ থুথু দিয়ে মাখিয়েছি তো তাই সুন্দর লাগছে,,
_ তাই নাকি,,তাহলে তো খেতেই হয়,, তাড়াতাড়ি দেও তর সইছে না,,
নুবা প্লেটে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো এক গাল ছোট্ট লুকমা আরহামের মুখে পুরে দিলো,, আরহাম পারলেআনুবার হাতো সাথে চেটে চেটে খেএ নিতো ,,হাতে নরম কিছুর ছোঁয়া পেয়ে নুবা চোখ বড় বড় করে বললো
_ জিহ্বা টেনে ছিরবো,,, সবসময় এতো চলে কেনো হুঁ,,,
আরহাম ভাত চিবাতে চিবাতে বললো
_ তাই নাকি এতো সাহস,,,সামনে দাড়ানো টাও আমার জিনিস মুখের ভিতরের টাও,,,এখন এতে তোমার সমস্যা কি,,
নুবা আর এক লোকটা আরহামের মুখে পুরে বললো
_ আয়রা কোথায়,,
_ তোমার আম্মুর কাছে,,
_ খুঁজে খুঁজে আর লোক পান না,,তার পর আয়রা কান্না করলে আমাকে খুঁজতে খুঁজতে আমার কাছে চলে আসবে আর আপনাকে আমার কাছে দেখলে আমাকে ধরে কেলানি দিবে,,,
নুবা কথা বলতে বলতে আর এক লোকমা খাবার আরহামের মুখে তুলে দিলো আরহাম মুখে খাবার নিয়ে বললো
_ তোমার মার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আমার পিছনে পড়ে থাকে,,, আমাকে দেখলেই তোমার এমন জ্বলে কেন,,
নুবা ভাত মাখতে মাখতে বললো
_ ফালতু কথা কম বলেন,, আম্মু আম্মুর জায়গায় ঠিকি আছে,, আমার মেয়ের সাথে কেউ এরকম করলে আমিও এমনি করতাম তবে আমার মা জানে না আমি যে বেহাইয়া তাই আপনাকে দেখতে পারে না,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ কতটুকু করে ভাত দেও মুখি ভরে না বেশি করে দেও,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বেশি করে ভাত নিলো,,, আরহাম শুধু বসে বসে নিজের প্রিয়শীকে দেখতে লাগলো,,এর ভিতরে আমিনা বেগম এসে বাকি সব জিনিস নিতে নিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনার শাশুড়ি আসছে আব্বা,,দয়া করে এখান থেকে দূরে সরে যান,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ please মা উনাকে যেএ সামাল দেও,,একটু খেতে দেও আমাকে,,যাও না,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ ৫ মিনিট আটকাতে পারবো,, বেশি না কিন্তু,, তাড়াতাড়ি গিল,,আর নুবা বড় বড় লোকমা দে,,না গিললে গলা দিয়ে বাঁশ ঢুকিয়ে ঠেলা দিবি,,
নুবা এই কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো,, আরহাম নুবার মাথার ওরনা সরিয়ে চুল এলোমেলো করে বললো
_ দাঁত গুলো ভেঙ্গে দিবো,,
নুবা আরো হেসে বললো
_ তাহলে তো আপনি দাঁত বোকরা বউ পাবেন,,তখন কেমন দেখা যাবে আমাকে,,বুড়িদের মতো দাত নেই কিছু খেতেও পারবো না,, আপনাকে চিবিয়ে দিতে হবে,,,
নুবার কথা শুনে আরহাম টেবিল থেকে নেমে এসে এটো ঠোঁট দুটো দিয়ে নুবার ফুলো গালে চুমু খেলো,,নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ ছি ঝোল লেগে গেলো,,, অন্ততপক্ষে মুখটা পরিষ্কার তো করে নিবেন,,
আরহাম ঘ্যাড়ত্যারামো করে আর একটা চুমু খেলো,,,নুবা কপালে চাপড়ালো,এই লোকটা তাকে জ্বলিয়ে মারবে,,
রাতটা কোনো মতে কাটলো,,সকাল সকাল আরশিকে নিয়ে হসপিটালে গেছে আমিনা বেগম,,সাথে হাজেরা আর ইশিতা আছে,,,
আমিনা বেগম ইচ্ছা করছি হাজেরাকে নিয়ে গেছে,,,আর যাওয়ার সময় বলে গেছে তাদের হাতে ২ ঘন্টা আছে হাজেরা কে নিয়ে যাচ্ছে তারা যাতে একটু প্যারামুক্ত সময় কাটাতে পারে,,,
আরহাম নুবার রুমের বিছানায় ঘাপরি মেরে মেয়েকে নিয়ে বসে আছে,,,সকাল সকাল আয়রা নুবাকে হাগু মুতু করে ভিজিয়েছে তাই বেচারিকে এই সময় গোসল করতে হচ্ছে,,,
নুবা গোসল করে বেড় হলো,,,নজরে পড়লো আরহাম মেয়েকে নিয়ে বসে আছে,,নুবা ভেজা চুল মুছে তাওয়াল বারান্দায় শুকাতে দিয়ে আসলো,,পরপর ওরনা মায়া দিয়ে আরহামের সামনে এসে বসলো,,,আয়রাকে কোলে তুলে নিলো দুটো চুমু খেএ বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৩
_ এখন একদম পঁচা কাজ করবে না,,এই মাত্র গোসল করে আসলাম আরু,,একদমি না,,, পঁচা মেয়ে,,,
আরহাম মুচকি হাসে বললো
_ অনেক দিন হলো,,সেদিনের পর আর একটাও মিষ্টি পাইনি নুবু,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি যা তা বলছেন,,
আরহাম এক হাত উ,,
