নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ ahhh,,এতো cute বাঁচ্চা এতো ফাজিল কি করে হয়,,,আমি আর তোমাকে কোলে নিবো না আয়রা,, you are so bad grill,,,i don’t like you,,,
নুবা থালবাটি ধুয়ে ধুয়ে পাশে রাখছে,,আরশি আয়রাকে নিয়ে নুবার পিছন পিছন ঘুরছে,, কারণ নুবার কাজ শেষ হলে আয়রাকে তার কোলে দিয়ে আরশি কিছু important কাজ করবে,,,
নুবা আরশিকে ঘুরঘুর করতে দেখে বললো
_তুমি যতোই চেষ্টা করো না কেন আপু,,আমি আয়রাকে নিবো না,,
_ কেন কি হয়েছে,,একটু নিলে কি হয়,,সবাই কাজ করছে,না হলে তোকে নিতে বলতাম,, আমার important কাজ আছে,,একটু রাখ,,
নুবা ওরনায় হাত মুছে ফিসফিস করে বললো
_তোমার ভাই এর মতো উনার মেয়েও পাগল,,তাই নিবো না,,
নুবা রাতের কথা এড়িয়ে গেলো কারণ তার নিজেরি লজ্জা লাগছে এই সব ভাবলে,,
আরশি একটু রেগে বললো
_ দিবো ঠাস করে একটা চর,,তোকে কে বললো আমার ভাই পাগল,,, তুই পাগল,,,এখন ওকে ধর না হলে ভাইয়ার কাছে যেএ বিচার দিবো তুই তার মেয়েকে সহ তাকে পাগল বলেছিস,,,
নুবা গোলগোল চোখ করে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুমি একটুও ভালো না,, শুধু ভয় দেখায়,দেও,,,
বলেই আইরাকে কোলে নিলো,,,আরশি যেনো প্রান পনে বাচলো,,আয়রা এতো চিপকু,,, কিন্তু তার পড়েও আরশির মায়া হয়,, কারণ সে জানে বাচ্চাটা মায়ের দুধের জন্য এরকম ছটফট করে
নুবা আয়রাকে কোলে নিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ এমন করো না please,, আন্টির কেমন লাগে জানো আয়রা,,খুব বাজে লাগে,,, please আরু,, please,,
আয়রা কি বুঝলো কে জানে তবে এক খানা হাসি দিয়ে নুবার প্রান জুড়িয়ে দিলো,,,নুবা আয়রাকে শ খানিক চুমু খেলো,,,আয়রার গালে ঠোঁট ঠেকিয়ে বললো
_ আমার যখন বিয়ে হবে তখন আমি তোমার মতো একটা চিপকু ফুল চাইবো,,সে সারাদিন তার মায়ের সাথে চিপকে থাকবে একদম তোমার মতো যে কিনা আন্টির ফুপিদের সাথে চিপকে থাকে,,,
বলেই হাসলো নুবা,,,নুবার একটা সুন্দর সংসারের সখ,,তার অনেক ইচ্ছা তার নিজের একটা বড়ো পরিবার থাকবে,,একটা গুছানো সংসার হবে,,সে মা হবে,, তার husband তাকে প্রচন্ড ভালোবাসবে,,অনেক আশা তার,, আল্লাহ না করুক তার এই আশা ভেঙ্গে না যাক,,
তা অবশ্য একবার ভেঙ্গে গেছে,, যার সাথে সংসার বাঁধার স্বপ্ন দেখছিলো সে তাকে দু টাকার দাম দেয় না,,,তার সাজানো স্বপ্ন গুলো সব শেষ হয়েছে তবে সে চায় সবকিছু আবার ঠিক হোক,,, কারণ নুবারা সুখে থাতকে যায় দুঃখে না,,,
নুবা আয়রাকে নিয়ে রান্না ঘড় থেকে বেড় হতে নিলেই আরাফের কবলে পড়লো,,,
নুবা পাশ কেটে বেড় হয়ে আসতে চাইলে আরাফ অপ্রত্যাশিত একটা কান্ড করে বসলো,,, ড্রেসের উপর দিয়ে নুবার পাতলা কমড়টা চেপে ধরলো,,নুবার অন্তপ্রাণ যেনো শুকিয়ে গেলো,, ঘৃণায় লজ্জায় শরীর রিরি করে উঠলো,,নুবা আয়রাকে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরলো বিরবরি করে বললো
_ কি পান এই সব করে,,
আরাফ কামনাময় কন্ঠে বললো
_ আর মাত্র কয়দিন পর অন্য কারো হয়ে যাবো,,
নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ তো জান আমি না করেছি,,
আরাফ নুবাকে রান্না ঘড়ের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুই কি চাস না আমি অন্য কারো হয়ে যাওয়ার আগে তোর হই,,এতো দূরে থাকছিস কেন,,, তুই না আমকে ভালোবাসিস,,
নুবা ঝড়ঝড় করে কেঁদে উঠলো আর বললো
_ আমি আপনার মতো লম্পট চরিত্রহীন কে কখনোই ভালোবাসিনি আর না বাসবো,,
আরাফ আর একটু জরে খামচে ধরলো নুবরা সরু কমড়,,নুবা ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো,,,কতর কন্ঠে বললো
_ ছাড়ুন,,,
_ছাড়তে ইচ্ছে করছে না,,, আমার সব ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে,,,
_আর কত নিচে নামবেন,,,কারো থেকে এতো ঘৃনার দৃষ্টি আপনাকে কি করে ঠিক রাখে হ্যাঁ,, লজ্জা করে না
আরাফ মিষ্টি হেসে বললো
_ এই ঘৃনার তলো দেশে আমাকে পাওয়া আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে আমার তা জানা শুধু ন্যাকামো করে লুকিয়ে রেখেছিস,,
_ এখন আপনার প্রতি আমার কোনো ফিল আসে না,,কোনো ভালোলাগা কাজ করে না,, আর না আপনার প্রতি intrastd আছে,,
আরাফ ঝুকে যায় নুবার দিকে বিরবির করে বলে
_ কিন্তু আমার আছে,,আমি চাই ইশিতার আগে আমি তোকে ছুই,,তোর কি ইচ্ছে করে না আমাকে কেউ ধরা ছুয়ার আগে আমাকে ছুঁয়ে দিতে,,সবার প্রথম জিতে নিতে hmm ইচ্ছে হয় না,,ফিল আসে না,,
নুবার কি বললে বুঝে পায় না,, ঘৃনা ভরা দৃষ্টিতে আরফের দিকে তাকিয়ে থাকে সে,,,মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে সে,, মানুষ এতোটা নিচু কি করে হতে পারে ভেবে পায় না,,,
নুবা কিছু সময় চুপ করে থেকে বললো
_ আপনি কি আমাকে বাঁচতে দিবেন,,
_ মরতে বলেছি নাকি,,
_ মরতে বলেননি কিন্তু বারবরা আমার ইজ্জত চেয়ে মাররা পথ করে দিচ্ছেন,,, আপনার লজ্জা হয় না বারবরা ফিরিয়ে দেই তাও মুখ উঠিয়ে চলে আসেন,,নিজের প্রতি ঘৃনা হয় না,,একটা মেয়েকে সবসময় উতক্ত করতে থাকেন,,,এতো কিসের চাহিদা আপনার,,বউ আসছে ঘড়ে তখন না হয় মিটিয়ে নিয়েন,,না হয় বউ তো বেশ মর্ডান,,তার কাছে চলে যাচ্ছেন না কেন,,হবু জামাই হোন তার সে তো আপনাকে আর ফিরিয়ে দিবে না,,,
_ তুই আর ও আলদারে নুবা,, তুই যদি বুঝতি,,জানিস আমি চাইলে তোকে এখনি তুলে নিয়ে যেএ নিজের মনের আশা পুর্ন করতে পাবে কিন্তু আমি তোকে ভালবাসিরে নুবা,,আমি চাই তুই আমাকে সদরে গ্ৰহন কর,,, তুই কেন বুঝিস না,,
নুবা অধৈর্য হলো,, কান্না করতে করতে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ দিক্ষার জানাই আপনার ওই নোংরা ভালোবাসা উপর,,,আপনি কেন আমাকে এভাবে প্রতি কদমে কদমে মেরে ফেলতে চাইছেন,, আপনার পা দুটো ধরি আমাকে রেহায় দেন,, আমাকে নিজের মতো বাঁচতে দেন,,, please,, please,,
আরাফ কাতর কন্ঠে বললো
_চল না আমার সাথে
নুবা নিজের প্রতি ঘৃনা অনুভব করলো,,একাকে ভালোবেসে যে,,তার কথা আরাফের গায়েই লাগছে না,,সে একটা কথায় আটকে আছে,,কি বললে তাকে মুক্তি দিবে ,,কেন এমন করছে
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ আমার আর আমার মায়ের যাওয়ার জায়গা নেই,,তাই এখানে পড়ে আছি,,,দয়া করে আমাদের মাথা উপর থেকে এই ছায়া টুকু কেড়ে নিবেন না ,,একটু আমাকে বোঝার চেষ্টা করুন,,
_ আমি তোকে বুঝি কিন্তু তুই আমাকে বুঝিস না,, তোকে বলছি আমার কি দরকার তাও তুই এড়িয়ে যাচ্ছিস কেন,, আমার কথা কি তোর গায়ে লাগে না,,এবার কি আমাকে নিষ্ঠুর হতেই হবে,, হ্যাঁ,,তুলে নিবো তোকে,,
নুবার এবার বেশ চিৎকার করে বললো
_ আপনি যা চাইছেন তা আমি আপনাকে দিতে পারবো না,, আমার জীবনে এতো টুকু আছে যা শুধু আমার,,আপনি কেনো আমার স্বামীর হোক আপনাকে দিবো কেন দিবো,,
_ তালহে চল বিয়ে করে নি,,,
নুবা বুঝতে পারলো আরফ আস্ত একটা ডিট মানুষ,,একে গেয়েও লজ্জা নেই বলেও লজ্জা নেই,,,নুবা আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_ চাচি,,,,
আরফ এক ঝাটকায় নুবার থেকে সরে গেলো,,এই সুযোগে নুবা আয়রাকে নিয়ে সিরি বেয়ে উপরে চলে গেলো,,,
আরফার আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই,,কারো থাকারো কথা না কারণ আজকে বাড়ির বাইরর বড় খোলা জাগা আর গার্ডেন পরিষ্কার করা হচ্ছে,,সবাই সেখানে,,
আরাফ একটু রেগে নুবার পিছনে গেলো,,নুবা টের পেলো আরাফ আসছে,,,পিছনে তাকিয়ে দেখলো আরাফ তার পিছনে,,,
নুবা তাড়াতাড়ি হাঁটতে শুরু করলো,,,আরশি হয়তোবা রুমে,,তবে ওদিকে যাওয়া যাবে না কারণ আরাফ আসছে এদিকে,,,একটু সামনে আরহামের রুম,,
নুবার ভয়ে বুক কাঁপছে,,না পারছে চিৎকার করতে না পারছে সহ্য করতে,,, চিৎকার করলে সব জানাজানি হবে,,তার মা তাকে মেরেই ফেলবে তার এই কাজের জন্য,,বাড়িতে অশান্তি হবে,, এমন কি তাদের এই বাড়ি থেকে বেড়ও করে দিতে পারে,,এই অবস্থায় তারা কোথায় যাবে,,,
নুবা চোখের পানি মুছতে মুছতে আরহামের রুমে ডুকে গেলো,,,
আরহাম কিছু কাজ করছিলো রুমে বসে,,,এভাবে রুমে কেউ আশায় ভরকে গেলো,,, সামনে তাকাতেই নুবাকে দেখে আর একটু রেগে গেলো,,
নুবা জানতো না আরহাম রুমে,,,সে জানলে আসতো না,,আগে কোয়া পিছে খাই এমন অবস্থা,,
সে ভেবেছিলো রুমে এসে দরজা লাগিয়ে অপেক্ষা করতে আরাফের চলে যাওয়ার কিন্তু হলো উল্টা,,
নুবা আরহামের চাহনি দেখে ভালো ঠেকলো না সে পিছাতে লাগলো,,,তখনি পায়ের শব্দ পেলো আরাফ এদিকেই আসছে,,
_ নুবা,,,নুবা,,,
আরাফ ডাকছে,,,নুবা এবার সামনে এগলো,,আরহাম কটকট করে বললো
_ পারমিশন না নিয়ে রুমে ডুকেছো কেনো,,,
নুবা কি বলবে বুঝতে পারলো না,, পরপরই মনে হলো আয়রা তার কোলে,,তাই বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
_ আয়রা কান্না করছিলো,, হয়তোবা ক্ষুধা লেগেছে তাই আরকি ___
বাইরে আরাফের পা থেমে গেলো,,,বুঝতে পারলো রুমে তার ভাই আছে,,আরফ একটু রেগে হাত পা ঝাড়া মারলো পরপরই ওখান থেকে সরে গেলো
আরহাম উঠে এসে আয়রাকে কোলে নিয়ে বললো
_ milk বানিয়ে নিয়ে আছো(আসো),ওকে ফিড কারবো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো বিরবির করে বললো
_ না আমি পারি না,,আরশি আপু সবসময় বলে দেয় কিভাবে কি করতে হয়,,,আপনি আসুন বলে দিবেন,,,
আর যারা উপন্যাস ভালো বাসে,, আমার পাশে থাকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার গল্প নিয়ে পোস্ট দেয় তারা আমার কলিজা হিহিহি 😁😁
নুবা আরহামের পিছন পিছন যেতে থাকে,,নিচে যেএ দেখে আরাফ চুপচাপ বসে আছে,,,নুবা তাড়াতাড়ি আরহামের পিছন পিছন রান্না করে চলে যায়,,,
পানি গড়ম করে সবকিছু পরিমাণ মতো দিয়ে দুধ তৈরি করে নেয় নুবা, অতঃপর আরহামের হাতে ধরিয়ে দেয়,,,আরহাম বিনা বাক্যে মেয়েকে নিয়ে রান্না ঘড় থেকে বেড় হয়ে আসে,,,
আরহাম দুই সিরি পার করতেই দেখে নুবা তার পিছন পিছন আসছে,,,আরাহাম ভুরু কুঁচকে নেয়,, বিরক্তি নিয়ে বলে
_ Why are you following me?
হঠাৎ আরহামের কথায় চম্কে উঠে নুবা,,,ইনিয়ে বিনিয়ে বলে,,
_ না না,,আমি আরশি আপুর রুমে যাচ্ছিলাম,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭
_ Arshi just went out. (আরশি এই মাত্র বাইরে গেলো,,,)
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ও,,ও ,,,
বলেই দিক পাঁচ না চেয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য দিলো এক ভৌ দৌড়,,
নুবা বাইরে এসে আরশির পাশে যেএ দাঁড়ালো,,মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো আর কোনো দিনও একা থাকবে না সে,,না হলে এবার আরফ নির্ঘাত আর তার পায়ে তেলাবে না,,, উল্টা পাল্টা কিছু করে বসবে,,
