Home নোলকের নতুন শাড়ি নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৬

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৬

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৬
ইলোরা ফারদিন

হাসান যেই স্কুলের পিওন, ওখানে পাশেই দুই কামড়ার একটি বাড়ি ভাড়া নিল। টিনশেড বাড়িটি। বাড়ির মালিক তারই স্কুলের হেড মাস্টার। ওই বাসার পাশেই তিনতলা বাড়ি উঠিয়েছেন। এই বাসাটা উনার বাবার তৈরি বাসা বিধায় সেটা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন।
অনেকদিন থেকেই পরিত্যক্ত পরে আছে। এ আমলে কেই বা এমন ভাঙা বাসা ভাড়া নিবে। এসব কথা হাসান জানতো। কিন্তু আজ যখন বিপদে পরে জসিম স্যারকে কল করে জানালো, আর এটাও জানালো যে সে ওই বাসা ভাড়া নিতে চায়, জসিম স্যারও খুশি মনে মাত্র পাচশ টাকার বিনিময়ে বাসাটা ভাড়া দেয়।
জসিম মাস্টারের মূলত দরকার ছিল এমন একজন যে বাসাটার যত্ন নিবে। তাদের তো কারো সময় হয় না। তাই হাসান বাসা ভাড়া চাওয়ার সাথে সাথে সে রাজি হয় যায়।

বাসায় ঢুকেই বাচ্চাদের মন খারাপ হয়ে যায়। চারদিকে মাকরসার জ্বাল, অন্ধকার। সিলিং জায়গায় জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু নোলক মনে মনে খুশি হলো। এবার সে এ বাসাটাকে একটু একটু করে নিজের হাতে নিজের মন মতো সাজাবে।
হাসান ঝোকের বশে বাসা ভাড়া নিয়ে নিলেও, সে কল্পনাও করে নি যে বাসাটার এতো করুণ অবস্থা। এ বাসা মেরামত করতে গেলে তো অনেক টাকা লাগবে। সে টাকা সে কোথায় পাবে।

কিন্তু তার চিন্তার মাঝেই জসিম মাস্টার মিস্ত্রি নিয়ে হাজির। হালকা হেসে বলল,” বুঝলে হাসান, এ বাসাটা আমার বাবার তৈরি। অনেক স্মৃতি জড়িত। আমার বাবাও এ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু আজ যত্নের অভাবে বাসাটার এই হাল। তুমি যদি আমাকে আর একটা দিন দিতে, তাহলে আগেই কারেন্টের লাইন, পানির লাইন ঠিক করিয়ে রাখতাম। সে যাই হোক, আজ রাতটা কষ্ট করো। ওরা আজ যতটুকু পারবে, ঠিক করে দিবে। আর বাকিটা কাল ঠিক করবে।” বলেই জসিম মাস্টার আবার চলে গেলেন।
এদিকে মিস্ত্রিরা রাত ১২ টার মধ্যে মোটামুটি সব কাজ করে ফেললেন। হাসান বাহির থেকে খাবার এনে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ করলো। এরপর মিস্ত্রি রা যেতেই হাসান আর নোলক মেঝেতে নোলকের দুটি শাড়ি বিছালো। একটি হাসার আর ওর মেয়ে, অন্যটিতে নোলক আর ওর বাচ্চাটা ছেলেটা শুইলো। সারাদিনের ক্লান্তি দৌড়ঝাঁপ এ সবাই ঘুমিয়ে পরলো।

এ বাসায় আজ চুলো জ্বালানো হয় নি। রতন আর রতনের বউ হোটেলে খেয়েছে। ফরিদার ছোট ছেলেও হোটেলে খেয়ে এসেছে। তারপর সেখান থেকেই হোস্টেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে । আত্মীয়স্বজন গুলোও সকাল সকালই চলে গিয়েছে। বিণুও স্বামী সন্তান নিয়ে আগেই দৌড় দিয়েছে। বাসায় একা পরে আছ মিনু আর ফরিদা বানু।
এদিকে খিদার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে শেষে মিনু ফ্রিজ খুলে দেখে সাতদিন আগে রান্না করা গোরু ভুনা এখনো আছে ফ্রিজে। এটাও নোলকই রান্না করেছিল। নোলক গরুর মাংস রান্না করলে সব সময় চার ভাগ করে ফ্রিজে রাখতো, তারপর সাতদিন দশদিন পর একটা করে বক্স বের করে কড়া করে ভাজত। হাসানের পছন্দ ছিল তা। তাই নোলক করতো এই মাংস ভুনা।
পুরনো কথা বাদ দিয়ে মিনু গোস্তর বক্স টা বের করলো। তারপর রাইস কুকারে ভাত বসিয়ে মাংসটা কড়াইড়ে দিয়ে ভাজতে লাগলো।
মাংস ভাজার গন্ধে রতন আর রতনের বউ বেরিয়ে আসলো। মিনুকে রান্না ঘরে দেখে রতনের বউ রসিয়ে রসিয়ে বলল, “কি ব্যাপার ননদিনী রান্না করছো? ভালোই হলো। হোটেলের ওই বাসি মাছ খেয়ে আজ যা অবস্থা।”

” আমি শুধু আমার আর মায়ের জন্য ভাত বসিয়েছি ভাবি। তোমার মন চাইলে নিজে বানিয়ে খাও।” বিরক্তি নিয়ে বলল মিনু
” এটা কেমন কথা মিনু, ও তোর ভাবি হয়।” রাগ দেখিয়ে বলল রতন
” যখন নিজেরা একা যেয়ে হোটেল থেকে খেয়ে এসেছো তখন কি একবারও আমার আর মায়ের কথা ভেবেছো। এখন কিভাবে আশা করো যে আমি তোমাদের রান্না করে খাওয়াবো!” তাচ্ছিল্য শুরে বলল মিনু
” শুনো মিনু। এখন থেকে এই সংসার আমার। তাই আমি যা বলব তাই হবে। বেশি কথা বললে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিব।” রাগান্বিত স্বরে বলল রত্নের বউ
” আমি যতদূর জানি এই বাসা আমার, আর এই সংসারটাও। আমার সংসারে আমার মেয়েকেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার তুমি কে? এতো দিন কিছু বলি নি বলে মাথায় চড়ে বসেছো? ”
এরপর রতনের দিকে তাকিয়ে ফরিদা বানু আবারও বললেন,” কাল থেকে বাজার খরচ সব তুই করব। আর রান্না বান্না তোর বউ। তোর বউ না পারলে কাজের লোক রাখবি। যদি এসব না করতে পারিস, তাহলে কালকেই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে, বা আমার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আমি এই বাড়ি, জমিজমা সব বিক্রি করে চলে যাব।

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৫

আর মিনু ভাত তরকারি যা আছে তা নিয়ে আমার ঘরে আয়। খিদে পেয়েছে।”
এদিকে মায়ের কথায় আকাশ থেকে পরলো রতন। এখন সে কি করবে সে। তার চিন্তার মাঝেই রতনের বউ বলল,” আমি মোটেই এখানে ঝিগিরি করতে পারব না। কালকেই তুমি আমার সাথে আমার বাপের বাড়ি চলে যাবে।
বিছানায় রাখা বিয়ের শাড়িটির দিকে তাকিয়ে অনুশোচনা হচ্ছে। বাচ্চাটা তো তারই আপন ভাতিজি, তারই রক্ত। নাহয় সামান্য একটু কেক খেয়েছিল, তাই বলে সে বাচ্চাটার গায়ে হাত তুললো! এতোটা অমানুষ হলো কবে সে!
দু’ফোটা জল চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরল মিনুর

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৭