Home নোলকের নতুন শাড়ি নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৫

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৫

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৫
ইলোরা ফারদিন

বাসায় ঝগড়াঝাটি থেমেছে। নোলক হাসান তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে বসে আছে। আচমকা বাহিরে আবারও কান্নাকাটির আওয়াজে তারা দৌড়ে বের হলো।
ফরিদা বানু রক্ত লাল চোখে নোলকের দিকে তাকালেন। কিন্তু তিনি কিছু করার আগেই মিতু নোলকের উপর ঝাপিয়ে পরলো, রুক্ষ কণ্ঠে বলল,” মা*গি আমার সুখ তোর সহ্য হচ্ছিল না। এই জন্য এতো কান্ড ঘটাইলি। এখন আমার বিয়ে ভাঙে খুব আনন্দে তুই, তাই না?”

মিতু নোলকে আবারও আঘাত করতে যাবে তার আগেই হাসান মিতুকে ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দিল, তারপর বলল,” নোলক তোর ভাবি। কোনো সাহসে ওর গায়ে হাত তুলতে গেলি তুই।”
” বাহ হাসান বাহ, বোনের বিয়ে ভেঙেছে সে দিকে তোর খেয়াল নেই। কিন্তু নিজের বউয়ের সম্মানের কথা ঠিকি খেয়াল আছে।” আহত কন্ঠে বলল ফরিদা বানু
“মিতুর বিয়ে ভাঙার কারণ কি আম্মা?”
“কেনো আবার, তোমার বউয়ের কেচ্ছা কাহিনী তাদের কানে গিয়েছে, সেজন্য!” পেছন থেকে বলে উঠল বিনু
নোলক এবার আর চুপ করে থাকত পারল না। সামনে এসে বলল,” আপনি ওর হবু শ্বশুরবাড়ি ফোন দিন। এই দুই দিনে আশা করি জেনে গিয়েছেন আপনার মা বোন কি পরিমাণ মিথ্যে কথা বলে। আমি আসল কারণ জানতে চাই।””
এ পর্যায়ে মা মেয়ের মুখ চুপসে গেল। মিনু আমতা আমতা করে বলল,” ভাইয়া দয়া করে আবার ফোন দিয়ে ঘটনাটা আরও ঘাটিও না। বিশ্বাস করো ভাবির জন্যোই বিয়েটা ভেঙেছে।”
হাসান মিনুর কথা তোয়াক্কা না করেই ও বাসায় ফোন দিয়ে বিয়ে ভাঙার কারণ জানতে চাইলো। ছেলের মা কর্কশ কন্ঠে বললো,” শোনো বাবা, আমাদের পরিবারটা হলো যৌথ পরিবার। সবার সংসার আলাদা হলেও উঠোন এক আমাদের। সবার সাথে সবার অনেক মিল। তাই আমার ছেলের জন্য আমরা এমনি মেয়ে চাই যে কিনা ভালোবাসা দিয়ে পুরো সংসার বেধে রাখবে।

কিন্তু তোমার বোন ওমন না। আজ আমাদের ছেলে পক্ষ থেকে যারা হলুদের তত্ত্ব নিয়ে গিয়েছিল, ওখানে যেয়ে তারা জানতে পারে সামান্য কেক খাওয়ার অপরাধে নাকি তোমার বোন নিজের আপন একমাত্র ভাতিজির গায়ে হাত তুলেছে।
এখন তুমিই বলো বাবা এরকম ছোট মন মানসিকতার মেয়ে কি আমাদের ঘরের বউ হওয়ার যোগ্যতা রাখে??
রাখি বাবা, ভালো থেকো।”
ফোন লাউডস্পিকার এ থাকায় সবাই সব শুনলো। মিনুকে নিয়ে সবাই ছি ছি করতে শুরু করলো। একজন তো বলেই বসল,” কি রে মিনু, বিয়ে ভাঙছে নিজের দোষে, আর দোষ চাপায় ভাবির কাধে?”
নোলকও তাচ্ছিল্য হেসে বলল,” আরে কাকি মা উনাদের তো কাজি এটা। বিয়ের শুরু থেকে এই মা মেয়ে মিলে আমাকে অত্যাচার করছে। সব মুখ বুজে সহ্য করেছি। কিন্তু এখন বুঝেছি এরা শক্তের ভক্ত, নরমের জব। আর মিনু, এবার আমি সত্যি পুলিশকে ফোন দিব। আমার গায়ে হাত তুলেছিলে কোন সাহসে।”

ফরিদা বানু এবার আতংকিত কন্ঠে বললেন,” এসব কেমন কথা বউমা। মিনুর মানসিক অবস্থাটা একবার চিন্তা করো। আবেগে না হয় একটু পাগলামি করেই ফেলছে, তাই বলে তুমি ওরে পুলিশে দিবা?”
” মা, মিনু তো জানত বিয়ে ওর কারণেই ভেঙেছে। তাহলে নোলককে আক্রমণ করার মানে টা কি?? মিনুর উচিত নোলকের কাছে মাফ চাওয়া।” বলল হাসান
“পারব না তোমার বউয়ের কাছে মাফ চাইতে। ছোটলোক একটা। ”
নোলক এবার বলল,” মাফ না চাইলে আমি এখনি পুলিশ ডাকব। আর তুমি এতোক্ষণে বুঝেই গিয়েছো আমি কি কি করতে পারি।”
পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে মিনু মাফ চেয়ে দ্রুত নিজের ঘরে চলে গেল।

প্রতিদিনের মতো সকাল হলেও, আজকের সকালটা ভিন্ন ছিল।
নোলক আজও উঠে নি। কিন্তু আজ ফরিদা বানু আর চেচামেচি করে নি। নিজের চা নিজেই করে খেয়েছেন।
কিন্তু সমস্যা ঘটলো নাস্তা বানানোর সময়। নোলক শুধুমাত্র তার স্বামী সন্তানদের জন্য নাস্তা বানিয়েছে।
বাসায় এতোগুলো মেহমান, আর নাস্তা নেই। না পেরে ফরিদা বানু বাধ্য হয়ে বলল,” হাসান তোর মামা খালারা এখনো না খেয়ে আছে। ওদের জন্য কিছু নিয়ে আয়।”
পেছন থেকে সাথে সাথেই নোলক বলল,” অবশ্যই আম্মা। কিন্তু তার আগে নাস্তার অর্ধেক টাকা রতন ভাইকে দিতে বলেন।”
নোলকের কথায় রতন বলল,” ভাবি আমি শুধু আমার আর আমার স্ত্রীর খাবার আনব। আমি আর কারো খাবার আনতে পারব না।”
” দেখলেন তো আম্মা। আপনি বরং রতন ভাইয়ের পক্ষ থেকে অর্ধেক টাকা দিয়ে দিন। নিশাতের বাপ যায়ে নাস্তা নিয়ে আসবে।” দুষ্টু হেসে বলল নোলক
ফরিদা বানু এবার রাগান্বিত দৃষ্টিতে বড় ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,” তোর বউয়ের কথার সাথে কি তুইও একমত হাসান?”

” জি আম্মা।” শক্ত কন্ঠে জবাব হাসানের
“তাহলে আজকেই আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি।’
“কিন্তু এ বাসায় তো আমারো অধিকার আছে আম্মা।”
কিসের অধিকার? ভুলে গিয়েছিস, তোর আব্বা মরার আগে এই বাড়ি আমার নামে দিয়ে গিয়েছিল। হয়তোবা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার বড় ছেলে নিমক* হারা*ম হবে।” তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলল ফরিদা বানু
“সারাজীবন তোমাদের জন্য খাটার পর এখন আমাকে বলছো নিমকহারা*ম। তবে তাই সই। আজই আমি এ বাড়ি ছাড়ব। ” আহত কন্ঠে বলল হাসান।

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৪

তারপর নোলককে বলল,” এখনি ব্যাগ গুছাও নোলক।’
স্বামীর আদেশ পেতেই ঘরে ছুটলো নোলক। সে আজ খুশি। অবশেষে এই নরক থেকে মুক্তি পাচ্ছে সে… তার টাকার লোভ নেই। তার লোভ একটাই, তার নিজের একটি সুখী সংসার যেন হয়।

নোলকের নতুন শাড়ি পর্ব ৬

1 COMMENT

  1. আপনাকে ধন্যবাদ আপু।
    গল্পটা আমার ভীষণ, ভীষণ, ভীষণ পছন্দ হয়েছে আপু।

Comments are closed.