পদ্মপ্রিয়া শেষ পর্ব
ঈশিতা রহমান সানজিদা
একজন নারী তখনই সফল যখন তার নিজের পুরুষ সাথে থাকে। তখন সেই নারীটি পৃথিবীর সব বাঁধা পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আজমাঈন সবসময় নূরের পাশে ছিল, ওর হাতটা শক্ত করে ধরেছিল বলেই আজ নূর এতদূর এগিয়েছে। নাহলে যে মেয়েটা বিজনেসের কিছুই বুঝতে পারত না, আজ সেই মেয়েটা একা হাতে নিজের বিজনেস সামলাচ্ছে। এর আগে ওর কাজ ছিলো ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রস্তুত করে দেওয়া। এখন তার বাইরে গিয়েও বিভিন্ন প্রজেক্টে সশরীরে উপস্থিত থেকে সবকিছুর সমাধান করছে নূর। নারীকে ভালোবাসা দিলে নারী আপনাকে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেবে। নারীকে সম্মান করতে কজন পুরুষ পারে?
তবে নূরের জীবনে দু’জন পুরুষের ভূমিকা অনেক। প্রথমত জন্মদাতা পিতা, আর দ্বিতীয়ত স্বামী। নাহলে একজন নারী কি সাধ্য এতো দূর এগিয়ে যাওয়ার।
তবে রাশেদ সাহেব নিজের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন কয়েকমাস হলো। একজন পিতা তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রেখেছেন তারপর তিনি সবকিছু থেকে ছুটি নিয়েছেন। আল্লাহ হয়তো চায়নি নূরের সাথে তার শেষ সাক্ষাৎ হোক। হয়তো সেই মুহূর্তটা নূর মেনে নিতে পারবে না বলেই তাকে রাখেননি। তবে আদরের মেয়েটা বোধহয় কিছু টের পেয়েছিল।
সকাল থেকেই নূর পানি পান করতে পারছিল না। বারবার গলায় আটকে যাচ্ছে। ভীষণ অস্থির অস্থির লাগছে। বিষয়টা আজমাঈনের নজরে গেল। সে কিছু বলে ওঠার আগেই নূর বলে উঠলো,’আব্বুর কাছে যাব!’
তাহমিনা ছেলের দিকে তাকিয়ে সম্মতি দিলেন,’বাবা মেয়ের সাক্ষাৎ এ বাঁধা দিতে নেই।’
এরপর আর কেউই অপেক্ষা করে না। নূর জলদি করেই বোরকা পরে নিলো। গত দু’দিন যাবত রাশেদ সাহেবের শরীর ভালো যাচ্ছিল না। কথাটি জানতে পেরে নূর একটু বেশিই চিন্তা করছিল। ভেবেছিল হয়তো তেমন গুরুতর নয়, ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। রেহানা মেয়েদের জানায়নি, শুধু শুধু চিন্তা করবে এজন্য। কিন্তু তিনি ভাবেননি যে এত অল্প সময়ে সব শেষ হয়ে যাবে।
নূর, আজমাঈন যখন বাড়ির গেইট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলো, তখন প্রাঙ্গণে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। মেয়েটা ছুটে ভেতরে গেল। কিন্তু বাবার রুমের দরজার সামনে গিয়ে আর পায়ে জোর পেলো না। মনে হচ্ছিল পেছন থেকে কেউ তাকে সর্বশক্তি দিয়ে টেনে ধরেছে। ভারি পা জোড়া টেনে নিয়ে দরজায় দাঁড়াতেই দেখতে পেল সবকিছু কেমন শান্ত। রাশেদ সাহেব বিছানায় শুয়ে আছেন, খুবই সাধারণ ভাবে। দেখে বোঝা যাচ্ছে সে ঘুমাচ্ছে। রাহা পাশেই বসে আছে। আশেপাশে তাকিয়ে আর কাউকে দেখলো না নূর। মা, ভাইয়া, ভাবি কোথায়? ভাবতে ভাবতে নেকাব তুলে এগিয়ে যায়।
ওর উপস্থিতিতেও বাবা জাগলো না। বললো না, আয় মা, আমার পাশে এসে বস। কতদিন তোকে দেখি না।
নূর গিয়ে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসলো। চাদরটা বুক পর্যন্ত টানা, চাদরের নিচ থেকে হাতটা বের করে শক্ত করে ধরলো নূর। চোখের উপর হাতটা চেপে ধরে বসে রইল। রাহার মৃদু আর্তনাদ শোনা গেল। সে মুখে আঁচল চেপে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। উঠে গিয়ে নূরের পাশে বসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। নূর সেভাবে বসেই বললো,’এভাবে কেঁদো না আপু, আব্বুর কষ্ট হবে। বেঁচে থাকতে তো কম কষ্ট পায়নি, আজ অন্তত একটু শান্তি দাও।’
রাহা থেমে গেলেও চোখের পানি থামলো না। মানুষটা সত্যিই কষ্ট পেয়েছে। ছেলের থেকে, স্ত্রীর থেকে। কিইবা চেয়েছিল, ছোট মেয়েটাকে সবাই একটু স্বীকৃতি দিক। একটু ভালোবাসুক, এই চাওয়াটাই যেন বিরাট ভুল। সেসব কথা বলতে গেলে অনেকটা সময় চলে যাবে। সাইমন এলো, রেহানা পাশের ঘরে। তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছেন। কিছুক্ষণ আগে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনুপমা তার পাশে আছে।
সাইমন এগিয়ে এসে বোনদের পাশে দাঁড়ায়। বলে, ‘সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।’
নূর চট করে মাথা তোলে। অবুঝের মতো বলে,’আর কিছুক্ষণ থাকা যায়না?’
হঠাৎই সাইমন বুঝদারের মতো কথা বললো,’মৃতদের থাকতে হয়না, তাদের রাখাও যায়না।’
কথাটি শুনে নূর আর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। চোখের পানি যে বাঁধ মানলো না। ঝরঝর করে ঝড়ে পড়লো। সাইমন হাতটা এগিয়ে নিয়ে রাশেদ সাহেবের মাথার নিচ থেকে বালিশটা সরিয়ে দিলো। চাদর টেনে মুখটা ঢেকে দিতেই নূর হাতটা চেপে ধরলো,’করছো কি ভাইয়া? আমি যে আব্বু কে আর দেখতে পাচ্ছি না। আরেকটু দেখব।’
আজমাঈন এতক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে থাকলেও এবার কাছে এগিয়ে এলো। লাশ বেশিক্ষণ রাখতে নেই। এতে রুহুর কষ্ট হয়। আজমাঈন নূরকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ওঠায়। কিন্তু মেয়েটার পাগলামি কমে না। সে কিছুতেই যাবে না। একপ্রকার টেনেই সরিয়ে নিলো। লাশ নিতে মানুষ আসবে। এখনই গোসল দেওয়া হবে। রাশেদ সাহেব প্রায়ই বলতেন যে তার মৃত্যুর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করে দিতে। কারো জন্য অপেক্ষা না করতে।
যদিও আজমাঈন তার মৃত্যুর খবর মাঝ রাস্তায় এসে জানতে পারে। সকাল থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। রেহানার সাথে ভালোমন্দ দুটো কথাও বলেন। রেহানা বারবার করে মাফ চেয়েছে। সাইমন বাবার পা ধরে বসেছিল। একটা মৃত্যু সবাইকে কেমন ঠান্ডা করে দিল, বুঝিয়ে দিলো সবকিছুর সমাধান। সাইমন ই আজমাঈন কে ফোন করে জানায়। নূর তখন আপন মনে দোয় দূরুদ পড়ছিল।
ওদের আগে একে একে সবাই এসে পৌঁছায়। সবশেষে নূর আসে। শেষ সাক্ষাৎ টুকুও হলো না।
লনে রাশেদ সাহেবের গোসল হচ্ছে। নূর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এখান থেকে বাবাকে দেখা যাচ্ছে না তবুও তাকিয়ে থাকতে ক্ষতি কি। সাহারা পাশে এসে দাঁড়াল। নূরের হাতে কোরআন দিয়ে বললো,’পড়!’ নূর ফিরে তাকায়। সাহারা বলে,’আমিও পড়ব, আয়।’
বারান্দা থেকে রুমে ফিরে দেখলো বাকিরা শুকনো মুখে বসে আছে। সব মহিলারা এক রুমে বসে দোয়া পড়ছে। মেঝের এক কোণে বসে আছেন রেহানা। নূর গিয়ে মায়ের পাশেই বসলো। কানে দোয়া ভেসে আসছে। নূর এক পলক মায়ের দিকে তাকায়। শোকে পাথর হয়ে বসে আছেন তিনি। মায়ের হাতটা ধরে বসে নূর। মৃদু স্বরে কোরআন তেলাওয়াত করে। নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখতে চেয়েও পারে না। চোখের পানিতে কোরআন ভাসে।
দাফন সম্পন্ন করে ফিরে আসে আজমাঈন। গোসল সেরে সাদা রঙের পাঞ্জাবি গাঁয়ে জড়িয়ে নেয়। নূরকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতে পাচ্ছে না সে। নিচে নেমে দেখতে পেলো দুই বোন মাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে তারই রুমে। রেহানা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন স্বামীর রেখে যাওয়া চেয়ারের দিকে। এই চেয়ারে বসেই বই পড়তেন রাশেদ সাহেব। আজকের পর থেকে ফাঁকা থাকবে চেয়ারটা। সাইমন সামনেই বসে আছে। রেহানা কন্ঠ খাদে নামিয়ে ছেলেকে কাছে ডাকেন। বলেন,’তোর বাবা থাকতে কিছু করতে হয়নি, আজ মেয়ে দুটোর কেউ রইলো না। তুই দেখিস।’
সাইমন মায়ের হাত ধরে বলে,’বেঁচে থাকতে কি করলাম? মানুষটা মৃত্যু দিয়ে আমাদের এক করে গেল। জানি আমার পাপের ক্ষমা হয়না। তবুও আমি চেষ্টা করব।’
ধনসম্পদ থাকলেই কি সুখ পাওয়া যায়, যদি না সম্পর্ক ভালো থাকে? তবে ভালো সম্পর্কের প্রয়োজন নেই নূরের। আজমাঈন যদি ওর সাথে থাকে তাহলে এই পৃথিবীতে আর কোন সম্পর্ক না থাকলেও চলবে।
রাতের গভীরে নূর যখন জড়োসড়ো হয়ে বসেছিল, আজমাঈন তখন ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে। ভালোবেসে কাছে টেনে দুহাত ধরে বলেছে,’জীবনে অনেক অনেক খারাপ সময় আসবে, যদি দেখো তোমার কাছে কেউ ক্ষমা চাইছে, যদি সম্ভব হয় ক্ষমা করে দিও।’
নূর শান্ত চোখে তাকায়,’আমার কারো উপর রাগ নেই, সেদিন বলেছিলাম যে ক্ষমা করতে পারব না কিন্তু সত্যি আজ আমার কারো উপর রাগ নেই। আমার সব প্রত্যাশা আল্লাহর কাছে ছিলো, আর আল্লাহ আপনাকে দিয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনা।’
একটু থেমে বলে,’আল্লাহ ক্ষমা করে দিলেই হবে। আমি তুচ্ছ মানুষ, এতো বড় পাপের ক্ষমা কি করে করি?’
অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থাকে নূর। বাবার সাথে কাটানো সময়গুলো স্মৃতিচারণ করে। কোলে চড়ে কত ঘুরেছে, শোনা যায় ছোটবেলায় রাশেদ সাহেব ব্যতীত আর কারো কোলে তেমন যেত না নূর। এমনকি মায়ের কোলেও না। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলবে সে। মনে পড়তেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। আজমাঈন গালে হাত রাখে। চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,’আর কেঁদো না, বেশি বেশি দোয়া করো।’
‘আমি আব্বুর কাছে যাব! আপনি নিয়ে যাবেন?’
বড়ই কঠিন প্রশ্ন, আজমাঈন চট জলদি জবাব দিতে পারে না। কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলে,’আমি পারব না নূর, তবে তুমি অপেক্ষা করতে পারো। ইহকাল ই সব নয়, পরকালের যাত্রা দীর্ঘতম। আশা করি আল্লাহ সে যাত্রা সুখময় করবেন।’
‘কতদিন অপেক্ষা করা লাগবে?’
আজমাঈন নূরকে জড়িয়ে ধরলো। নিস্তেজ হয়ে স্বামীর বুকে মাথা রাখলো নূর। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আজমাঈন বললো,’তোমার সুখ দুঃখের ভাগিদার হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তোমার বাবা। এ দায়িত্ব পালন না করে কোথাও যেতে দেব না।’
থামলো আজমাঈন। চুমু খেলো নূরের মাথায়,’আমার বুকে মাথা রেখে দেখো, এক পলকে জনম জনম পার হয়ে যাবে। আর তোমার অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
পরের দিন দুই কাটলো সবার মাঝে থেকে। তৃতীয় দিনে কুলখানির আয়োজন করা হয়েছে। এতিম শিশুদের খাওয়ানো হবে। সবকিছুর আয়োজন করছে সাইমন। ওর সাথে আজমাঈন এবং ফয়েজ রয়েছে। সন্ধ্যা বেলায় রেহানা সবাইকে ডাকলেন। সেখানে শুধু মাত্র তার ছেলেমেয়েরা থাকবে। রাহা, নূর এবং সাইমন। ওরা জানে না মা কি বলবেন। রেহানা নিরবতা ভেঙ্গে বলেন,’তোদের বাবার যা কিছু আছে সব ভাগ করে দিতে চাচ্ছি।’
নূর আগে কথা বলে ওঠে,’এসব কথা বলো না আম্মু।
‘এখনই সময় বলার, আমি আমার দায়িত্ব শেষ করতে চাই যা তোমার বাবা দিয়ে গেছে।’
রাহা বলে,’আমার কোন কিছুর প্রতি দাবি নেই আম্মু। শুধু ভাইয়ার কাছে একটু ঠাঁই পেলেই হবে।’
কিন্তু সাইমন বলে ওঠে,’দরকার আছে, তোদের ভাগ তোরা নিবি। এতে আমার সমস্যা নেই।’
রেহানা একে একে জমি এবং ফ্ল্যাটের দলিল গুলো বের করে রাখতে লাগলেন। নূর রাগ করে রুম ছেড়ে বেরিয়ে এলো। এসব দিয়ে সে কি করবে? বাবাকে ফিরে পাবে কি? নিজের অর্জনের সম্পূর্ণ দিয়ে দিলেও বাবাকে ফিরে পাওয়া যাবে না। নূর ব্যাগ গোছাচ্ছে রুমে গিয়ে। বাড়ি আজ ফাঁকা। আজমাঈন ও নূর আগামীকাল চলে যাবে। এমন তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গোছাতে দেখে আজমাঈন হাতটা ধরলো। জিজ্ঞেস করলো,’কি হয়েছে? এতো রাগ করছ যে?’
নূরের হাত থেমে গেল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো, ‘আর ভালো লাগছেনা। আম্মু সম্পত্তি ভাগ করতে বসেছেন। দেখতে পারছি না।’
‘তোমার মায়ের কাজটা স্বাভাবিক, যদি তুমি নিতে না চাও ভাইয়াকে দিয়ে যাবে।’
নূর রুষ্ট চোখে তাকায়,’এই সময়ে এটা করা ঠিক বলে আপনার মনে হচ্ছে?’
‘শান্ত হও, এটা আমাদের সমাজের নিয়ম। সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ম করেছেন সম্পত্তি নিয়ে। রাগ করো না। মাথা ঠান্ডা করো।’
রাতের বেলা একটা বড়সড় অঘটন ঘটে গেল। বাড়িতে আজমাঈন, নূর ব্যতীত আর বাইরের কেউ নেই। সাহারা, ফয়েজ ও চলে গেছে সন্ধ্যা বেলায়। অনুপমা শাশুড়িকে রাতের খাবার খেতে ডাকতে গিয়েছিল। কিন্তু রুমে কেউ নেই। আলমারি ফাঁকা, রাশেদ সাহেবের কিছু বই পত্র এবং জামাকাপড় নেই। মূহুর্তেই বাড়িতে শোরগোল পড়ে গেল। সবাই জড়ো হলো ড্রয়িং রুমে। অনুপমার হাতে একটা চিঠি। সে জোরে জোরে পড়ে শোনায় সবাইকে,
“জীবনের অনেকটা দিন এই বাড়ির চার দেয়ালের ভেতর কাটিয়ে দিয়েছি। যে মানুষটার সঙ্গীনি ছিলাম আজ তিনদিন যাবত সে নেই। এই ঘর নরক সম আমার কাছে। তাই সজ্ঞানে এই বাড়ি ত্যাগ করলাম। আমার খোঁজ কেউ করো না। আমি আমার শেষ দায়িত্ব পালন করেছি। আশা করি আমাকে আর তোমাদের প্রয়োজন পড়বে না। অন্যায় করেছি অনেক, পারলে সবাই ক্ষমা করে দিও।”
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৯
একথা সত্য যে রেহানা অনেক বেশি ভালোবাসেন স্বামীকে। ঝগড়া, মারামারি যাই হোক না কেন, ভালোবাসেন। তাই স্বামীর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি।
সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আজমাঈন দুহাতে নূরকে আগলে রাখলো। ভালোবাসার মানুষ কে এভাবেই ধরে রাখতে হয়, চিরকাল। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ভালোবেসে যেতে হয়। জানি না রেহানার টি হবে? কিন্তু আজমাঈন এভাবেই যেন নূরকে সারাজীবন আগলে রাখে।
সমাপ্ত
