পৌষপার্বণ পর্ব ২৪
Irfa Mahnaj
মেলায় আনমনে হাটছিলো হেমন্ত। তখনই কোথা থেকে শুনতে পায় পরিচিত গলা। সামনে তাকাতেই দেখে ওর ক্লাসমেট বাতাসিকে।
বাতাসি ওকে দেখেই জিজ্ঞেস করে,
— হেমন্ত যে? আমি তো ভাবতেও পারছি না তুমিও এই মেলায় থাকবে।
— কষ্ট করে ভাবতে গেলে কেনো!
বাতাসির মতো বাতাসের মতোই। ও এতো টিটকারি মূলক কথা বুঝে না। তবে হ্যা আমাদের বাতাসি কিন্তু বাতাসের মতোই।
একটু হাওয়া আসলেই বাতাসে আমাদের বাতাসি উড়ে যাবে এতে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই।
ফুঁ দিলেও এই মেয়ে উড়ে গিয়ে কই পড়বে তা কেউ খুঁজে পাবে কিনা কে জানে।এক ধাক্কায় মক্কা চলে যাবার মতোই শরীর আমাদের বাতাসির।
বাতাসি যেইনা আবেগে আপ্লুত হয়ে হেমন্তের নিকট আসবে অমনি একটা দমকা হাওয়ায় বাতাসির শীর্ন শরীরখানা উড়িয়ে গিয়ে ফেলে আরেক মাথায়।
চোখের উপর হাত দিয়ে একপাশে ফিরে হেমন্ত। কিছুপল যেতেই আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে পিটপিট করে তাকিয়ে দেখে বাতাসির অবস্থান।
হেমন্তের এতো হাসি আসছে ও কি যে করবে তাও কোনো রকমে হাসি আটকে রেখেছে। এখন যদি হেমন্তের জায়গায় বসন্ত হতো তবে আজ হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে যেতো।
মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে হাসতো। পার্বণ হলেও সেম কাজ করতো। পার্বণ তো আরো অ্যাডভান্স ও কয়দিন যে এই নিয়ে পচাতো তার কোনো হিসেব নেই।
ঠাসসসস!হেমন্তের ভাবনার মাঝেই ভেসে আসে বাতাসি বেচারির দ্বিতীয় বারের মতো পড়ার আওয়াজ।
— ইশ মেয়েটা আসলেই বাতাসি।বাতাসি নামটা স্বার্থক। যে রেখেছিলো সে বুঝে শুনেই রেখেছে।
কথাগুলো আওড়িয়ে হেমন্ত এগিয়ে যায় বাতাসির নিকট। যে দ্বিতীয় বারের মতো আছাড় খেয়ে মাটিতে পড়ে আছে।
প্রথম বার বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে উঠে যেইনা কয়েক পা এগিয়েছে অমনি দ্বিতীয় বারের মতো বাতাসের ধাক্কায় সামনের মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে।
পড়ে গিয়েছে বলে বাতাসি কাঁদছে না বরং ওর চুড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় কাঁদছে ও। মানে বসন্ত হাসবে নাকি কাঁদবে সেটাই ওর বোধে কুলাচ্ছে না।
অগত্যা হেমন্ত নিজে পছন্দ করে বাতাসিকে চুড়ি কিনে দেয়। আর কথায় আছে না, “অভাগা যেদিকে যায় নদীর পানি ও সেদিকে শুকায় “!সেই কাহিনীই ঘটে।
বনচাঁপা এই দৃশ্যই দেখে ফেলে। কিন্তু এর আগের করুন সেই ইতিহাস আর জানে না।
মধ্যরাত এখন। বারোমাসি নীড়ের প্রত্যেকে ঘুমে কাতর। সারা বাড়ির মানুষ ক্লান্তি শেষে এখন তাদের নিদ্রাযাপন করছে।
সবাই ঘুমিয়ে গেলেও ঘুম ভেঙ্গে এখন আর ঘুম আসছে না পৌষের। বিছানায় এপাশ ওপাশ করছে। পাশেই উপুড় হয়ে শুয়ে আছে পার্বণ।
পৌষের গায়ে রাতে পড়ার জন্য আরামদায়ক মিনি ফ্রক। অনেকে এটাকে নিমাও বলে থাকে। আর পার্বণ সে গরমের জন্য টিশার্ট খুলে কই যে ফিক্কা মারছে তার কোনো হদিশ নেই।
এখন ট্রাউজার লুস করে পড়ে আর খালি গায়েই ঘুমিয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত ওর শরীরের অর্ধেক রাজত্ব চালিয়েছে পৌষের গায়ের উপর।
গরম লাগায় পৌষ ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে। তবে পৌষ এটাও জানে কিছুক্ষন পরে মহাশয় ঠিকই হাতড়ে হাতড়ে পৌষকে জাপ্টে ধরবে।
এসব নিয়ে পৌষের ভাবনা না। ওর প্রচন্ড ক্রেভিং উঠছে কিছু খাওয়ার। মিষ্টি কিছু। এতো রাতে ও এখন মিষ্টি কিছু কই পাবে!
পৌষও নিরুপায়। ওর খেতেই হবে। না আর সহ্য করা যাচ্ছে না। শেষে কনুই দিয়ে গুতা মারলো পার্বণকে।
একবার, দুইবার, তিনবারের মাথায় পার্বণ ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে অল্প পিটপিট করে তাকালো। দেখলো বউ তার বসে আছে।
পেট সহ কোমর জড়িয়ে বউকে নিজের কাছে আনলো পার্বণ। বাহুডোরে আবদ্ধ করলো ওকে। গলায় মুখ গুঁজে পিঠ সহ ভালো করে নিজের সাথে মিশিয়ে ধরলো পৌষকে পার্বণ।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শুধালো,
— ঘুমাও জান।
পার্বণের ঘুম ঘুম গম্ভীর আর ডিপ পুরুষালি ভয়েজ যে কারো হৃদয় নাড়িয়ে দিতে পারে। সাথে শরীরে এক অদ্ভুদ শিহরণ। তবে পৌষ এখন সেসব অনুভূতি দূরে ঠেলে দিলো।
পার্বণের উন্মুক্ত বাহুতে কামড়ে ধরে পৌষ। যাতে এতো শক্ত পিস্টোন থেকে বাঁচতে পারে। তবে পার্বণ আরো নিজের সাথে চেপে ধরলো ওকে।
বিরক্ত হলো পৌষ। মনে মনে পার্বণকে ধুয়ে দিতেও পিছপা হটলো না। এরই মাঝে পার্বণ আবারো বলে উঠলো,
— এতো কামড়া কামড়ি করছিস কেনো? শান্তি সহ্য হচ্ছে না।
— শান্তি নয় বর্তমানে তোর এই যাতা সহ্য হচ্ছে না। ছাড় আমায় আমার ক্ষিদে পেয়েছে।
— সারাদিন আমার মাথা, কলিজা খেয়েও তোর পেট ভরেনি? এখন এই রাতের বেলা তোকে আমি কি দিবো!
প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর থেকেই পৌষের ধৈর্য্য শক্তি কমে গেছে। কেমন যেনো খিটমিট করে। এই যে এখন যেমন পার্বণের বুলি পৌষের একদম পছন্দ হচ্ছে না।
ও খেকিয়ে উঠলো। পৌষের চিল্লানি শুনেই লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে পার্বণ। চোখ দুটো তড়িঘড়ি করে ডলে জিজ্ঞেস করে,
— কোথায় কে? আমরা কোথায়?তুমি কে?
আগাম হুশীয়ারি বর্তানো ছাড়াই বিড়ালের মতো পার্বণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো পৌষ। বেচারার সদ্য ঘুম ভেঙেছে এরই মাঝে ব্যক্তিগত বিড়ালের ঝাঁপিয়ে পড়ায় অবাক হওয়ার সময়টাও পেলো না।
— ওভাবে না মেরে সরাসরি বললেই তো হতো তু্ই খাবি তোর ক্ষিদে পেয়েছে।
কেবিনেটের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে পৌষ। পার্বণই ওকে তুলে দিয়েছিলো পৌষ বসতে চাওয়ায়।
খুব সুন্দর একটা বক্সি স্মাইল উপহার দিলো পার্বণের উদ্দেশ্যে পৌষ। তেতে উঠলো পার্বণ। বলল,
— হ্যা এই হাসি দিয়ে দিয়েই আমাকে তুই তোর সব কাজ করিয়ে ফেলবি। আমার উপর এমন অত্যাচার করবি আর আমি যাতে কিছু বলতে না পারি।
— তো তোকে এই হাসির উপর ফল করতে কে বলেছিলো।
— হয়েছে এখন বল কি খাবি।
— মিষ্টি কিছু।
— মিষ্টি কিছু কি?
— জানিনা।
থমথমে মুখ নিয়ে কোমরে এক হাত দিয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো পার্বণ পৌষের দিকে। তারপর সেভাবেই বলে,
পৌষপার্বণ পর্ব ২৩
— আয় তাহলে চুমু দেই। একদম কড়া ডোজের মিষ্টি কিছু।
নাক মুখ কুঁচকে পৌষ জবাব দিলো,
— উহু একদম নয়। তোর এইসব মিষ্টি আমি খেতে চাই না। আমাকে অন্যকিছু বানিয়ে দে।
— সেমাই খাবি?
— চলে। কিন্তু তু্ই রান্না জানিস?
— জানিনা তবে ইউটিউব আছে। দেখি কি করা যায়!
