Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১ (২)

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১ (২)

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১ (২)
আরাফাত আদনান সামি

মায়া সাথে সাথেই সমস্ত শরীরের ভার ফেলে দিল বিছানার উপর।এতক্ষণ বুকের ভেতর যেন ঝড় বইছিল, বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে সে। নিবে না কেন? ধরা পড়তে পড়তে যে কোনোমতে বেঁচে গেছে সে। এতক্ষণ তার শরীরটা ভয় আর আতঙ্কে শক্ত হয়ে ছিল, এখন একটু স্বস্তি পেতে শুরু করেছে। গভীর একটা শ্বাস টেনে নিয়ে আস্তে করে বিড়বিড় করে বলল,

“উফ্… এই যাত্রায় বেঁচে গেলাম। না হলে আজ কী থেকে কী হয়ে যেত! সব ওই অসভ্য লোকটার দোষ। আরেকবার যদি খালি ছোয়ার চেষ্টা করে না হাত কেটে ফ্রিজে রেখে দেব আমি। অসভ্য লোক একটা!”
রাগে গরম হয়ে উঠেছে মায়ার চোখ-মুখ। কথাগুলো বলেই বিছানা থেকে উঠে আলমারির কাছে গিয়ে একটা তোয়ালে তুলে নিল। এরপর সোজা চলে গেল ওয়াশরুমে, শাওয়ার নেওয়ার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ পরে যখন বের হল, তখন তার ভেজা চুলে জড়ানো তোয়ালে আর পড়নে লাল গোল জামা। চুল থেকে টপ টপ করে পানি ঝরছে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ভেজা চুলগুলো শুকিয়ে নিল সে। তারপর পরিপাটি হয়ে নিজেকে ঠিক করে নিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলল,
“যাই, বাবা… এবার আম্মুকে রান্নায় সাহায্য করতে হবে।”
এই বলে মায়া নিজেই বেরিয়ে গেল রুম থেকে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

সকাল প্রায় ১০টা। রাস্তায় আজ অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা, তাই ঠিক সময় মতোই কৌশিক চৌধুরী বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। গেটের বাইরে একটু দাঁড়িয়ে চারপাশে সতর্ক চোখে তাকাল সে, যেন কিছু খুঁজছে। চারদিকটা ফাঁকা দেখে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে গেট পেরিয়ে বাড়ির সদর দরজার সামনে এসে দরজাটা একটু খুলে এক নজর দেখে নিয়ে বলল,
“যাক বাবা, কেউ নেই। না হলে এখন হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো।”
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কৌশিক গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল। একদম সোজা পা বাড়াল নিজের রুমের দিকে। পায়ের আওয়াজ একটু জোরে পড়ছে, যেন ইচ্ছে করেই দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে চাইছে।যেইমাত্র সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখল, ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে ভেসে এল এক চেনা কণ্ঠস্বর,

“এইভাবে চারিপাশে উঁকি ঝুঁকি মেরে নিজের রুমে যাওয়া হচ্ছে নাকি?”
কথাটা কানে যেতেই কৌশিক হঠাৎ পেছনে ঘুরে তাকাল। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে সে কিছুটা চমকে উঠল। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আরে রোহিত, তুই? না মানে, তুই কখন আসলি?”
রোহিত ঠোঁটে এক চওড়া মুচকি হাসি টেনে শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“গতকাল রাতে।”
“কাল রাতে বাড়িতে আসলি অথচ আমি আজকে জানলাম? আমাকে ফোন করে জানানোটা আর দরকার মনে করলি না নাকি?”
রোহিত এবার একটু হেসে মাথা নাড়ল,

“আরে ভাইয়া, ফোনটা চেক করে দেখো। কয়টা ফোন করেছি তোমাকে! বাড়িতে পা রাখার আগেই তোমাকেই সবার আগে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাকে পাইনি।”
রোহিতের কথা শুনে কৌশিক যেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি পকেট থেকে ফোন বের করে অন করতেই দেখতে পেল প্রায় পনেরো- বিশটা মিসড কল পড়ে আছে রোহিতের। নিজের অমনোযোগিতায় হেসে ফেলল সে।
“আরেহ ভাই! আমি তো মিস করে ফেলেছি সব কল। সরি ব্রো!”
রোহিত চোখ কুঁচকে ভ্রু উঁচু করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“ওরে ওরে! কেউ পানি দে! ভাবা যায়, কৌশিক ভাইয়া আমাকে ‘সরি’ বলছে! এত পরিবর্তন? কেমনে কী ভাইয়া?”
কৌশিক হেসে মাথা নাড়ল,

“তোর এই মজা করার স্বভাবটা এখনো গেল না দেখছি।”
“ওইসব কথা বাদ দে আগে এটা বলো, কালকে সারারাত কোথায় ছিলে?”
কৌশিক কিছু বলার আগেই রোহিত কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“নিশ্চয়ই আমার ভাবির সাথেই ছিলে, তাই না ভাইয়া?”
কৌশিক বিনা দ্বিধায় মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ।”
রোহিতের মুখে খুশির ঝিলিক ছড়িয়ে গেল,
“ওহ্ গ্রেট! তা নাম কী আমার ভাবির? আর কবে দেখা করাচ্ছো আমার সাথে?”
“সঠিক সময় হলে সব বলব। এখন তুই রুমে যা, আর আমিও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসি।”
কৌশিক কথাটা বলে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করল। কয়েক ধাপ ওঠার পর হঠাৎ থেমে পেছন ফিরে রোহিতের দিকে তাকিয়ে বলল,

“থ্যাংকস।”
রোহিত ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কিসের জন্য?”
কৌশিক হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“এই যে বাড়িতে এসে আমার রাতে না আসার বিষয়টা যেভাবেই হোক ধামাচাপা দিয়ে সামলে নিলি, তার জন্য।”
রোহিত আরও অবাক হয়ে বলল,
“তুমি বুঝলে কীভাবে?”
কৌশিক মুচকি হেসে শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“আরে আমি তোর বড় ভাই, তোর থেকে একটু হলেও বেশি বুঝি। আচ্ছা, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
এ কথা বলেই কৌশিক হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। রোহিতও আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা নিজের রুমের দিকে চলে গেল।

কৌশিক নিজের রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। ঢোকার সাথে সাথেই দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল। তারপর পকেট থেকে ফোনটা বের করে চার্জে লাগিয়ে রাখল। এক হাতে আলমারির উপর থেকে তোয়ালেটা নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল শাওয়ার নেওয়ার জন্য।
ঠান্ডা পানির নিচে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাথা ঠান্ডা করে বেরিয়ে এল কৌশিক। তোয়ালে মুড়িয়ে শরীরটা শুকিয়ে নিল, তারপর ওয়ারড্রব খুলে কালো রঙের প্যান্ট আর সাদা শার্ট বের করে নিল। প্যান্ট পরে শার্টটা প্যান্টের ভেতরে ইন করে ঠিকঠাক করে নিল। আঙুলের ছোঁয়ায় চুলগুলোকে সামান্য স্টাইল করে আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিল সে।
ঠিক তখনই রুম থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন মাহিমা চৌধুরী কৌশিকের মা। হঠাৎ মাকে সামনে দেখে কৌশিক অবাক হয়ে বলল,

“আম্মু, তুমি এখানে?”
মাহিমা চৌধুরী হালকা মুচকি হেসে ধীর গলায় বললেন,
“হ্যাঁ, আমি। সারারাত কোথায় ছিলে?”
“বন্ধুদের বাসায় ছিলাম, আম্মু… কেন, কী হয়েছে?”
“কোথাও যাওয়ার আগে বলে যাবে না নাকি? আমাদের বুঝি চিন্তা হয় না তোমাকে নিয়ে?”
“আসলে আম্মু, ফোনে…”
কৌশিক কথা শেষ করার আগেই মাহিমা তাকে থামিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বললেন,
“বুঝেছি। আচ্ছা শুনো, এখন থেকে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত আমাদের বলে যাবে, কেমন? এখন চলো, খাবার খেয়ে নাও।”
এই বলে মাহিমা চৌধুরী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। কৌশিক আর কিছু না বলে নিঃশব্দে মায়ের পিছু পিছু হাঁটতে লাগল। দু’জন একসাথে নিচে নেমে এল। নিচে এসে কৌশিক সরাসরি খাবার টেবিলের দিকে গিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
কৌশিক চামচটা হাতে নিয়ে প্রশ্ন করল,

“আম্মু, আব্বু কোথায়?”
মাহিমা চৌধুরী খাবার বাড়তে বাড়তে উত্তর দিলেন,
“কোথায় আর যাবে, অফিসে গেছেন উনি।”
কৌশিক মুখে খাবার তুলে নিতে নিতে ধীরে গলায় বলল,
“ওহ্…”
মাহিমা চৌধুরী খাবার পরিবেশন শেষ করে চুপচাপ চেয়ার টেনে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ কৌশিকের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“এইভাবে আর কতদিন, কৌশিক? তোমার আব্বুর সাথে কোম্পানিতে যোগ দিয়ে কাজের চাপটা একটু কমাও এবার।”
কৌশিক চামচটা নামিয়ে রেখে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“ওহ্ আম্মু, আমার এইসব ভালো লাগে না। স্কুলের মতো রুটিন মেনে প্রতিদিন অফিসে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।”

“তাহলে নিজেই কিছু একটা করো।”
“সঠিক সময় হলেই করব। আর আমাকে এই বিষয়ে এত চাপ দিও না।”
“সঠিক সময়টা হবে কবে? বয়স তো আর কম হলো না। এই তো জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ২৬-এ পা রাখবে।”
“উফ্ আম্মু! বয়সের সাথে কাজের আবার কী সম্পর্ক?”
মাহিমা চৌধুরীর মুখটা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“তোমাকে বুঝানো আমার পক্ষে আর সম্ভব না। যা ইচ্ছা তাই করো।”
কৌশিক হালকা হেসে বলল,
“সম্ভব না হলে একটা বউমা নিয়ে আসেন আম্মাজান। পরে শাশুড়ি আর বউ মিলে বসে বসে বুঝিয়ে দেবেন।”
মাহিমা চৌধুরী কড়া স্বরে বললেন,
“কোন মেয়ে তোমার মতো বেকার ছেলেকে বিয়ে করবে শুনি?”
কৌশিক আবারও হাসল,

“বেকার কোথায়? আপনারা আছেন তো।”
“আমরা এই আচি-এই চলে যাবো, পরে কী করবে?”
“উফ্ আম্মাজান! কীসব আজেবাজে কথা বলছেন আপনি?”
ঠিক তখনই হঠাৎ রোহিত এসে হাজির হল। সে কিছু বলার আগেই মাহিমা চৌধুরী বলে উঠলেন,
“রোহিতকে দেখ দেখে কিছু শিখ। তোর এক বছরের ছোট হয়েও সে কাজ করছে, আর তুই?”
রোহিত কৌশিকের পাশে দাঁড়িয়ে দুষ্টুমি ভরা হাসি নিয়ে বলল,
“ওহ্ কাকি, আপনি এত চিন্তা করেন কেন? পারলে ভাইয়ার বিয়েটা দিয়ে দিন। ওঠতে বসতে যখন ভাবির কাছ থেকে কথা শুনবে তখন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”
“বলবে তো তখন, যখন কেউ একে বিয়ে করতে রাজি হবে। রোহিত তুইই বল, এমন বেকার ছেলেকে কে বিয়ে করবে?”
খাবার খাওয়া শেষ করে কৌশিক শান্তভাবে উঠে গেল ওয়াশবেসিনের দিকে। হাত ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে বলল,

“তোমাদের কথা হইছে? হয়ে থাকলে আমি কি এখন যেতে পারি?”
মাহিমা চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে রাগমিশ্রিত কণ্ঠে বললেন,
“সব কথা মজা করে উড়িয়ে দেওয়ার মানেটা কী, কৌশিক? হায় আল্লাহ, এই ছেলেকে নিয়ে আমি কী করবো?”
কৌশিক অবলীলায় কাঁধ ঝাঁকিয়ে উত্তর দিল,
“কী আর করবেন, একটু আগে না রোহিত বলল বিয়ে করিয়ে দিতে? তাহলে ওইটাই করিয়ে দিন। যদি একটু বউয়ের পাল্লায় পরে যদি ঠিক হই।”
“নিজের মায়ের সামনে নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলছো, বিন্দুমাত্র লজ্জা কাজ করছে না তোমার ভেতরে?”
কৌশিক হেসে বলল,

“আম্মু, ছোটবেলায় কটকটি কিনে খেতাম, মনে আছে?”
“হ্যাঁ আছে, কিন্তু এখন এই কথা কেন?”
“আসলে আম্মু, হইছে টা কী জানো… একবার কটকটি খাওয়ার লোভে লজ্জা-সরম সব ভুলে বিক্রি করে ফেলেছিলাম কটকটি খাওয়া জন্য। তার পর থেকে…”
কৌশিকের কথাটা শেষ হওয়ার আগেই রোহিত খিলখিল করে হেসে উঠল। তার হাসি দেখে মাহিমা চৌধুরী কড়া স্বরে বললেন,
“এইভাবে না হেসে বোঝাও তোমার ভাইকে।”
কথাটা বলেই তিনি ছেড়ে চলে গেলেন।মাহিমা চৌধুরী চলে যেতেই রোহিত মুখে একচিলতে হাসি নিয়ে বলল,
“কৌশিক ভাই, কাকি ভুল কিছু বলেননি। এবার কিছু তো একটা করো।”
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে তাকাল,

“এখন তুই শুরু করলি?”
“না ম…”
রোহিতের কথা শেষ হওয়ার আগেই কৌশিক গলা উঁচু করে বলল,
“একদম আমাকে এইসব ফালতু জ্ঞান দিতে আসবি না। এইসব জ্ঞান তোর কাছেই রাখ, না হলে নাক বরাবর এমন একটা দিব, সারাজীবন কেঁদে কুল পাবি না।”
রোহিত এক ধাপ পেছনে সরে গিয়ে হাত তুলে বলল,
“সরি, সরি! আর বলব না। কিন্তু একবার এই বিষয়টা…”
“কী বললাম, শুনতে পাসনি?”
“আচ্ছা, আর বলব না। আচ্ছা, কোথাও যাচ্ছ নাকি?”
“না, এখন যাচ্ছি না। তবে রাতে একটু বের হবো, সাথে তুইও যাবি। তাই রেডি থাকিস।”
“আচ্ছা, ভাইয়া।”
“আচ্ছা, আমি তাহলে উপরে গেলাম।”
এই বলে কৌশিক সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল।

দুপুরের কড়া রোদ পেরিয়ে এখন বিকেলের নরম আলো ধীরে ধীরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। সারাদিনের গরমে পুড়ে যাওয়া শহরটা যেন এখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রাস্তায় মানুষের ভিড় কমে এসেছে, দোকানের সামনে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে জমে উঠেছে গল্পের আড্ডা। পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ছে লালচে রঙে, হালকা বাতাসে বইছে প্রশান্তির ছোঁয়া। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে শহরটা যেন নতুন করে জেগে উঠছে শান্ত বিকেলের কোলে।
এদিকে সকালে মায়ের সাথে রান্না শেষ করে খেয়ে রাতের ঘুম পুষিয়ে নিতে মায়া সেই কখন বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সেই ঘুম আর এখনো ভাঙেনি। কিন্তু এই গভীর ঘুমটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। হঠাৎ করে ফোনের রিংটোনে ঘুম ভেঙে গেল তার।
নিভু নিভু চোখে ফোনটা হাতে তুলে কল রিসিভ করে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১

“কে? কে বলছেন আপনি?”
ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এল এক গম্ভীর কণ্ঠস্বর,
“শালি তোর ভবিষ্যৎ সোয়াবি বলছি।”
“মানে? ফাজলামো করার আর জায়গা পান না? একে তো ঘুমের সময় ফোন করে আমার ঘুমটা নষ্ট করেছেন, তার ওপর কীসব উল্টাপাল্টা বলছেন। এই ভাই, কে আপনি? নামটা বলতে পারেন না?”
ওপাশ থেকে কৌশিক দাঁতে দাঁত পিষে ধমকের স্বরে বলল,
“শালী, তুই যারে তোর ‘ছাইয়া’র বদলে ‘কৌশিক ভাইয়া’ বলে যারে ডাকিস, সেইই আমি।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১২