প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৬ (২)
ইনান হাওলাদার
ভারি এক মুছিবতে পড়েছেন চৌধুরী বাড়ির গিন্নিরা।বাড়ির তিন কর্তার এক কর্তাও বাড়িতে নেই।কল করেও কাউকে পাচ্ছেন না।শত চেষ্টা করে একজনকে পেয়েছে, কিন্তু তিনি তো নেতা মানুষ! যখন – তখন, যেখানে – সেখানে হাঁটা দিতে পারেন না। বাকি রইলো তূর্য! সেও এখনো ফেরেনি।যদিও ফেরার সময় হয়ে এসেছে, কিন্তু সে ছেলে কি যেতে রাজি হবে? এদিকে শবনম মেয়েটা প্রায় চলে এসেছে।
শবনম আসার কথা শুনে আহি যতটা খুশি হয়েছিল এখন তার ততটা চিন্তা হচ্ছে । মেয়েটাকে এখন কে আনতে যাবে? সেও তো ভালো করে চিনে না।আর চিনলেও তো বাড়ির কেউ একা যেতে দিতো না।
মা – চাচিদের সাথে সেও চিন্তায় সামিল হলো। এর মধ্যে তূর্যকে আসতে দেখে সে চঞ্চলা কন্ঠে বললো,
” বড় মা,তূর্য ভাই এসেছে ,ওনাকে বলুন ”
তূর্যকে দেখে পারভিন বেগম যেন একটু নিশ্চিন্ত হলেন। আহির কথা মতো তূর্যের উদ্দেশ্যে বললেন,
” তূর্য? কোনো কাজ আছে তোর,আব্বা? শবনম মেয়েটা আসছে।একটু এগিয়ে আনতে পারবি ? ”
তূর্য পা থামিয়ে একটু ভেবে শবনম কে ,সেটা চেনার চেষ্টা করলো।তারপর বলল,
” কখন আসছে? ”
পারভিন বেগম ভেবেছিলেন তূর্য হয়তো রাজি হবে না।কিন্তু তার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে তূর্য রাজি হলো।মাথা থেকে বিরাট এক চিন্তা নামলো সকলের। তিনি বললেন,
” এইতো এখনি!”
তারপর শবনম কোথায় দাঁড়িয়ে আছে সেই জায়গার ডিটেলস বললেন।আহির মোবাইল হতে শবনমের নম্বর নিয়ে তূর্যকে দিলো।যাতে যোগাযোগ করতে পারে।
সবকিছু নিয়ে তূর্য যেতে গিয়েও ফের উল্টো পথে ঘুরল। মূল ফটকের কাছ থেকে আবার ফিরে এসে বলল,
” কফি খাওয়ার টাইমটুকু পাওয়া যাবে?”
কফি খাওয়া তো শুধু বাহানা! আহি সাধারণত বাড়িতে এভাবে পরিপাটি হয়ে ঘোরে না। প্রেয়সীকে একটু মন ভরে দেখাই মেইন উদ্দেশ্য।
পারভিন বেগম বললেন,
” হ্যাঁ, হ্যাঁ। কফি খেয়ে যা ”
বলে আহিকে দিয়ে কফি পাঠালেন তিনি।তূর্য কফি হাতে নিয়ে ছোট করে বলল,
” আপনি কোথায় যাবেন, ম্যাম? ”
তূর্যের এমন সম্বোধনে আহির বুকের ভিতর ধ’ক করে উঠল। কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলল,
” কী বললেন?”
তূর্য কফির মগে একটা চু’মুক দিয়ে ভাবলেশহীন কন্ঠে বলল,
” বললাম,কোথায় যাবি ? ”
” না ,না! আপনি অন্যভাবে বলেছেন !”
” কি বলেছি ?” চোখ ছোট ছোট করে, ভ্রু কুঁচকে আহির পানে চেয়ে বলল তূর্য।
” আরেকবার বলুন তো !”
” বুঝেও না বোঝার ঢং করাটা কি খুব বেশি জরুরী?”
” একটা কথা বলেও সেটা আবার লুকিয়ে যাওয়াও তো জরূরী নয় ”
তূর্য আর কোনো কথা বললো না। ঠোঁটের কোণে হাসি এটে কফিটা শেষ করলো। তারপর বেরিয়ে গেল।সে যাওয়ার পর আহি তূর্য যেই জায়গা বসে ছিল ঠিক সেই জায়গা ধপ করে বসে পড়লো। সামান্য আপনি ডাকেই বুকের ভিতর এভাবে উথাল – পাথাল ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।আর তূর্য ভাই যদি তুমি করে ডাকেন তখন কি করবে সে?
শবনম চৌধুরী বাড়িতে এসেছে তিন দিন হয়ে গেছে।মেয়েটা খুব মিশুকে। এই তিন দিনেই মনে হচ্ছে সে এই বাড়িতে যুগ যুগ ধরে রয়েছে। আহির মতোই ছোট থেকেই চৌধুরী বাড়িতে বড় হয়েছে। বাড়ির প্রতিটা সদস্যের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছে। বিশেষ করে তাহি-আহি আর শান্ত প্রান্তের সাথে । একদম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। পড়া – লেখা শেষে প্রতিদিন একবার করে লং আড্ডা দিবে। পেট পাতলা আহি নিজের পেটে থাকা মোটামুটি সকল কথাই তাকে বলে ফেলেছে। তবে সেটা নিয়ে তার কোনো অ’নুশোচনা নেই।শবনম খুব ভালো মেয়ে। সব কথা বললেও একটা কথা বলেনি সেটা হলো তূর্য আর তার কথা।না বলারও একটা কারণ আছে অবশ্য।দুইদিন আগে সে অনেক গল্প করছিল শবনমের কাছে।তখন তূর্য তাকে ডেকে নিয়ে বলেছিল,
” তুই যেটার জন্য ওয়েট করছিস।আমিও করছি! বাট,7^ তোর থেকে হাজার গুণ বেশি আকুল হয়ে।
কি মিন করেছি আই থিঙ্ক বুঝেছিস তুই।যদি চাস সেই দিনটা খুব শিঘ্রই আসুক,তাহলে নিজের মধ্যে পার্সোনালিটি বলে কিছু রাখ। কথা লুকানো শেখ ”
আহি বুঝেছিল তূর্যের কথার মানে।তবে মাথায় ক্যাচ করতে একটু সময় লেগেছিল ।কিন্তু করতে পেরেছে এটাই অনেক।সেই থেকে কথাটা মনে করলেই তার মনে প্রজাপতি উড়ে।তূর্য ভাইও তাকে নিজের করে পাওয়ার জন্যে প্রহর গুনছে ভাবলেই অসম্ভব রকমের ভালো লাগা কাজ করে। তবে তিনি বলেছিলেন , তার থেকে বেশি আকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন তিনি।এটা কি সত্যিই? কতটা আকুল হয়ে আছেন তূর্য ভাই?
সেদিন তূর্য ওই কথা না বললে এতদিনে এই কথাটাও শবনমকে নিশ্চিত বলে দিত সে।কয়েকবার বলতেও নিয়েছিল।কিন্তু আবার নিজেকে আটকে নিয়েছে।
জরুরী কোনো দরকারে আহিকে ডেকেছে মেহেদী।আহি প্রথমে না যাওয়ার জন্য একটু মোচড়া মুচড়ি করলেও পরে রাজি হয়েছে।এভাবে বারবার বললে মুখের উপর কত বার ‘না ‘ করা যায়! একটু লজ্জাও তো করে। তবে কেন জানি তার মনে হলো মেহেদী তারিনের বিষয়ে কিছু বলবে।হয়তো মেহেদী ভাইয়া তারিনের প্রতি নিজের দুর্বলতা বুঝতে পেরেছেন,এই ভেবে শেষ পর্যায়ে রাজি হয়েছে আহি।
তার সুবিধা মতো তারা চৌধুরী বাড়ির কাছাকাছি একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করতে এসেছে।
এদিকে মেহেদী আহিকে কেন ডেকেছে তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না।
এসে ধরে এটা – ওটা নানান কথা বলছে। আহি যে বিষয়ে ভেবে এসেছিল মেহেদী তেমন বিষয়ে কোনো কথা বলছে না দেখে বেশ অনেক্ষণ পর সে বলল,
” কাউকে ভালোবাসেন ? ”
সেকেন্ডের ব্যবধানে উত্তর দিলো মেহেদী,
” হ্যাঁ,তোমাকে !”
সে কথাটা বলল ঠিকই,কিন্তু কেন জানি তার মনে হচ্ছে আহি বাচ্চা একটা মেয়ে তার সাথে দুষ্টুমি করতেই কথাটা বলেছে। আহি একটু হেসে বলল,
” আমাকে না,তারিনকে! ”
এত কনফিডেন্সের সাথে আহির বলা কথা শুনে মেহেদী উচ্চকন্ঠে হাসলো।পাবলিক প্লেস মাথায় আসতেই হাসির শব্দ কমালো। বলল,
” সত্যি? তোমাকে কে বলল ম্যাডাম ? ”
” আমি বুঝি ভাইয়া ! ” অভিজ্ঞদের ন্যায় বললো আহি।মেহেদী বলল,
” কিভাবে বুঝলে তুমি ?কখনো একটু ভালো করে কথা বলতে দেখছ,তোমার বান্ধবীর সাথে? ”
“দেখিনি বলেই বলছি ,ভাইয়া! ”
বলে সে একটু থেমে আবার বলল,
“আমরা যার সাথে হেসে হেসে ,আন্তরিক ভাবে কথা বলি তাকে মূলত আমার ভালোবাসি না।আমরা তাকেই ভালোবাসি ,যাকে দেখলেই ঝ’গড়া করতে মনে চাই,খোঁ’চা মে’রে কথা বলতে ইচ্ছা করে,আপনা-আপনি নিজের মধ্যে একপ্রকার দাম্ভিকতা চলে আসে।আমরা তার সামনে কেন এমনটা করি জানেন? কারণ,আমরা তার সামনে আমাদের পার্সোনালিটি স্ট্রং দেখাতে চাই।
সেই হিসাবে দেখুন,আপনি সবসময় আমার সাথে হেসে-খেলে কথা বলেন।আর,তারিনের সাথে কেমন কথা বলেন? বলুন! কেমন কথা বলেন ? সুযোগ পান বা না পান ফালতু রিজন খুঁজেও মেয়েটাকে কথা শোনান আপনি ”
কথা গুলো বলার সময় মেহেদীর কাছে আহিকে একবারের জন্যেও বাচ্চা মনে হয়নি।একদম বড়দের মতো করে কথাগুলো বলেছে সে। এত সিরিয়াস গলায় এই প্রমবারের মতো আহিকে কথা বলতে শুনলো মেহেদী। এমনভাবে বলল যেন এই বিষয়ে খুব অভিজ্ঞ। মেহেদী উল্টে প্রশ্ন করলো,
” সবার ক্ষেত্রেই এক ? অন্যদের ক্ষেত্রে তো আলাদা হতেই পারে ”
” এক না,তবে এটা আমার রিচার্চ করে বের করা ভাইয়া ।আপনার ক্ষেত্রে এটাই,তূর্য ভাইয়ের ক্ষেত্রেও এটা ”
” তূর্য ভাইয়ের ক্ষেত্রে মানে? ”
” আচ্ছা আপনাকে একটা সিক্রেট বলি।আপনার কী মনে হয়? তূর্য ভাই আমাকে ভালোবাসেন ? ”
আবারো হেসে উঠলো মেহেদী।বলল,
” পাগল তুমি? জীবনেও না !”
আহি ঠোঁট প্রসারিত করে বলল,
” বাসেন। এবং খুব ভালোবাসেন । ওনার ভালোবাসার জটলা খুলতেই আমার এত শত অভিজ্ঞতা। উনি আমাকে ভালোবাসেন এইটুকু সিউওর থাকেন।
এখন বলুন আপনি যতদিন তূর্য ভাইয়েকে দেখেছেন কখনো দেখেছেন আমার সাথে সুন্দর করে কথা বলতে ? দেখেননি! তিনি এখনো সুন্দর করে কথা বলেন না আমার সাথে। কিন্তু ভালোবাসেন! আমি এটাও জানি,তিনি কোনো দিনও আমাকে ভালোবাসিও বলবেন না। ”
” আচ্ছা,মানলাম তূর্য ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে।কিন্তু না বলে কোনো দিন ভালোবাসা হয়? এটা আবার কেমন ভালোবাসা?”
” হয়!ভালোবাসা মনের ভেতরকার ব্যাপার – স্যাপার।শুধু মুখে বলে বেড়ালেই ভালোবাসা হয়ে যায় না।আর,মুখে না বলেও ভালোবাসা যায়।
কেউ বাইরে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে লাফিয়ে বেড়ায়,কেউ ভিতরে ভিতরে যত্ন করে ভালোবাসে ,মুখে প্রকাশ করে না।হয়তো করতে পারে না ! ”
বেশ অনেক্ষণ ধরে অনেক কথা বলল আহি মেহেদীকে।তারপর যখন ভাবলো সে এসকল কথা বলে ফেলেছে প্রচণ্ড পরিমাণে অবাক হলো। সে সত্যিই এগুলো বলেছে? কিভাবে বলল? যখন কথাগুলো বলছিল নিজের মধ্যে ছিল না সে।কল্পনাতে তূর্যের সুপ্ত ভালোবাসা দেখছিল।এইযে কত সহজে বলে দিল না বলেও ভালোবাসা যায়।কিন্তু সে তো খুব করে চাই তূর্য ভাই তাকে ভালবাসি বলুক।সারাক্ষণ কানের কাছে বলুক, ” ভালোবাসি আহি ,ভালোবাসি তোকে ।অনেক ভালোবাসি ”
কথা বার্তা শেষে যখন আহি আর মেহেদী বের হলো।ঠিক তখনই আহির চোখ গেল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্ল্যাক মার্সিডিজের দিকে।তার ভেতরে বসে থাকা গাড়িটির মালিক কাঁচ নামিয়ে রক্তিম চোখ জোড়া দিয়ে তাকিয়ে আছে। দূর থেকেও তার ধারালো চোয়ালখানা স্পষ্ট,শক্ত করে রেখেছে সেটা। আহি তূর্যের এমন রূপ দেখে কিছুটা ভয় পেলো।সে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়া ধরতেই তূর্য শক্ত হাতে স্টিয়ারিং চেপে ধরে সাই সাই করে চলে গেল।
তখন আহির বলা কথাগুলো মেহেদীর মনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।শুধু এইটুকু বুঝেছে আহির চিন্তা মাথা থেকে পুরোটা ঝেড়ে ফেলতে হবে।আহির মতো বাচ্ছাসুলভ মেয়েটাও কি সুন্দর ভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা বুঝিয়ে দিলো। সত্যিকারের ভালোবাসায় না পড়লে এভাবে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে সেদিনের পর থেকে তারিন আর কোচিংয়ে আসেনি। মেহেদী খুব করে চেয়েছিল একবার স্যরি বলতে।কিন্তু সেই সুযোগটুকুও পায়নি। যতবার কল করেছে মোবাইল ফোন বন্ধ বলেছে। খুব অ’পরাধ বোধে ভুগছে সে।তার সামান্য একটা কথায় মেয়েটার কত বড় ক্ষতি হয়ে যাবে বুঝতে পারেনি।
ওর পরিবার আবার পড়ালেখাই বন্ধ করে দেননি তো? নাকি বিয়ে হয়ে গেল?
ভিতরে ভিতরে অ’নুশোচনায় ভুগছে মেহেদী। এরমধ্যেই নাজমা বেগম কল করলেন ।অনেকক্ষণ ধরে কথা হলো।মেহেদীর ভিতরের উদাসীন ভাব দেখে নাজমা বেগম বললেন,
” কি হয়েছে তোমার? ”
মায়ের সাথে সে বরাবরই মন খোলা।সবটা খুলে বলল মেহেদী। নাজমা বেগম একটু ভেবে বললেন,
” কাজটা ঠিক করোনি,তবে এতটা অনু’শোচনা করারও কিছু হয়নি ”
” কি বলছো,মা ! আমার কারণে মেয়েটার পড়ালেখাই বন্ধ না হয়ে যায় ”
” হলে হোক ! তোমার এত চিন্তা করে কি লাভ?”
” লাভ – লসের হিসাব আসছে কোথা থেকে। আচ্ছা,রাখো তুমি,কে যেন কল দিচ্ছে ”
বলে কল কাটলো মেহেদী। আননোন নম্বরটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটা সালাম আসলো।সে সালামের উত্তর দিয়ে বলল,
” কে? তারিনা? ”
” জ্বি! আপনার নগদে ব্যাচের টাকা পাঠিয়েছি একটু দেখে বলুন গিয়েছে কিনা ”
দেখলো না মেহেদী।সে বলল,
” টাকা ব্যাচে এসে দিতে।আর গত দুইদিন আসো না কেন?”
” আমি আর আসবো না।টাকা গিয়েছে কিনা বলুন ” খানিকটা রুডলি কথাটা বলল তারিন।
” এভাবে বিহেভ করছো কেন? তোমার বাবা বা মায়ের কাছে ফোনটা দেও আমি কথা বলছি ”
তারিন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
” কি বলবেন ওনাদের ? সেদিন তো বয়ফ্রেন্ড বলেছেন,আজ বিয়েও হয়ে গেছে সেটা বলবেন? ”
” তোমার মনে হচ্ছে না তুমি আমার সাথে বে’য়াদবি করছো? দুইদিন গলার সুর পাল্টে ফেলেছ!কি মনে করেছ?আমি তোমাকে পছন্দ করি তাই সেদিন ওই কথাটা বলেছি?শোনো মেয়ে…. ”
কথা সম্পূর্ণ করতে দিলো না তারিন।সে একই কন্ঠে ফের বলল,
” গলার সুর দুইদিন পাল্টেনি। পড়াতেন আমাকে, তাই আগে ভদ্রতা দেখিয়েছি।এখন আমি আপনার স্টুডেন্ট নই ।সুতরাং,আপনার দে’মাক দেখার প্রশ্নেই আসে না। আর আপনি আমাকে পছন্দ কি করবেন? যার পিছনে পড়ে আছেন …..” থেমে গেল সে।তারপর একটা তাচ্ছিল্যের সাথে মুখ বাকালো।মেহেদী বলল,
” হ্যাঁ,বলো! মাঝ পথে থামলে কেন? ”
” আপনার সাথে এত কথা বলার কোনো রুচি আমার নেই।টাকা গিয়েছে কিনা বলুন ”
” এই মেয়ে? তুমি আমাকে চার হাজার টাকার গরম দেখাও? আমার স্ট্যাটাস সম্পর্কে তোমার কোনো আইডিয়া আছে? আর কি একটা কথা বলেছি ,সেজন্যে তুমি আমার সাথে এভাবে বিহেভ করছো? তুমি বে’য়াদব সেটা আগেই বুঝেছিলাম,কিন্তু এত বড় বে’য়াদব জানতাম না। আম্মু ঠিকই বলেছিলেন একদম বিনা কারণে আমি অপরাধ বোধে ভুগছি।একদম ঠিক করেছি তোমার সাথে। তোমার….”
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৬
মেহেদীর মুখের উপর কল কাটলো তারিন।এতে সে আরো রে’গে গেল । মোবাইল ফ্লোরে আছাড় মা’রল । সাথে সাথে ডিসপ্লে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। বদ্ধ ঘরে চি’ৎকার করে উঠলো,
” কত বড় স্পর্ধা ওই মেয়ের? ওর সাহস কী করে হয় আমার সাথে এমন বিহেভ করার।তোর দেমাক যদি না ভে’ঙেছি তাহলে আমার নামও মেহেদী নয়। ”
