Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৬

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৬

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৬
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

মায়ের মুখের এই দুটো শব্দ যেন রিত্তিকার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো শোনাল। তার হাসিমুখটা পলকে জমে বরফ হয়ে গেল।
​সে চোখ দুটো কপালে তুলে চিৎকার করে বলল, “কিহ…!”

​”কিহ… না হ্যাঁ! তোর বিয়ে,” রিত্তিকার মা সোফায় হেলান দিয়ে বেশ আয়েশ করে বললেন।
​রিত্তিকার মনে হলো পায়ের তলার মাটিটা বুঝি এক ইঞ্চি সরে গেল। সে দুই হাত কোমরে দিয়ে বলল, “মা! কীসব অদ্ভুত কথা বলছ বলতো? আমি কিন্তু একদম ইয়ার্কির মুডে নেই। সারাদিন এমনিতেই মাথাটা জ্যাম হয়ে আছে।”
​তার মা এবার হেসেই ফেললেন, “বিশ্বাস না হলে অন্য কাউকে জিজ্ঞেস কর, দেখ সে-ও একই কথা বলবে।”
​রিত্তিকা এবার মরিয়া হয়ে বসার ঘরের অন্য কোণে বসা তার দাদু সাদমান ইসলামের কাছে ছুটে গেল। দাদুর হাত দুটো ধরে করুণ গলায় জিজ্ঞেস করল, “দাদু… দাদু! এখানে কি সত্যিই আমার বিয়ের কথা হচ্ছে? তোমরা সবাই মিলে আমার সাথে প্র্যাঙ্ক করছ না তো?”
​সাদমান সাহেব রিত্তিকার মাথায় হাত বুলিয়ে পরম স্নেহে বললেন, “হ্যাঁ দিদিভাই, তোর বিয়ের কথাই হচ্ছে। আর পাত্র তো আমাদের চেনা।”

​”আর কনে অথচ আমি নিজেই এসবের কিছু জানি না! বাহ, চমৎকার!” রিত্তিকা অভিমানে ঠোঁট ফোলাল।
​”আরে, আমরাও তো মাত্রই সব পাকা কথা ঠিক করলাম,” দাদু হেসে উত্তর দিলেন।
​”তা কার সাথে বিয়ে দিচ্ছ তোমরা আমাকে? পাত্রটি কে?” রিত্তিকা চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করল।
​”আমার পরম বন্ধু সুফিয়ান কায়সারের বড় নাতির সাথে…!” দাদুর মুখে এই নামটা শুনে রিত্তিকার পুরো দুনিয়া যেন এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। সুফিয়ান কায়সারের বড় নাতি! জিয়ান কায়সার!
​রিত্তিকা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না। ওনার সাথে? তার গম্ভীর, খিটখিটে খড়খড়ে স্বভাবের প্রফেসরের সাথে? তবুও মনের সন্দেহ দূর করতে ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল, “কোন সুফিয়ান কায়সার দাদু? ভালো করে বলো…”
​”আরে, যার বাড়ি সেদিন জন্মিদের অনুষ্ঠানে গেলি, আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড। তার বড় নাতি জিয়ান কায়সার। তোদের ভার্সিটির প্রফেসর।”
​এটা শোনার পর রিত্তিকার মাথায় যেন সত্যিকারের একটা আকাশ ভেঙে পড়ল! যার কপালে কাল রাতে সে একটা চোরের মতো চুম্বন এঁকে দিয়ে পালিয়ে এসেছে, যার চিন্তায় আজ সারাদিন সে ছটফট করেছে, তার সাথেই তার বিয়ে ঠিক হয়েছে? রিত্তিকা বোবার মতো দাঁড়িয়ে রইল।
​তার মা পাশ থেকে যোগ করলেন, “তোর বিয়ে ঠিক দুইদিন পরেই। তারা তোকে খুব তাড়াতাড়ি নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তাই কোনো দেরি নয়, কাল থেকেই সব আয়োজন শুরু।”

​অন্যদিকে, কায়সার ম্যানশনে তখন একেবারে তুলকালাম কাণ্ড বেধে গেছে। জিয়ান ড্রয়িংরুমে এসে রীতিমতো রেগে আগুন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে গ্রীষ্মের এই গরমে রিত্তিকার মতো এক চঞ্চল, বেয়াদব বাচাল মেয়েকে বিয়ে করবে—এটা সে ভাবতেই পারছে না। কিন্তু বাড়ির বড়দের সে কিছুতেই নিজের কথা বোঝাতে পারছে না।
​তার দাদু সুফিয়ান কায়সার সোফায় বসে গম্ভীর গলায় বললেন, “দেখো জিয়ান, আমি যখন এই বিয়ে ঠিক করেছি এবং আমার বন্ধুকে কথা দিয়েছি, তখন তোমাকে রিত্তিকার সাথেই বিয়ে করতে হবে। ব্যস, এটাই আমার শেষ কথা।”

​”আমি এই বিয়ে করতে পারব না দাদু! কিছুতেই না,” জিয়ান প্রায় চিৎকার করে উঠল।
​”কেন? কী সমস্যা মেয়েটার মধ্যে?” সুফিয়ান সাহেব চোখ রাঙালেন।
​”কেন আবার? ও আমার স্টুডেন্ট হয়! তাছাড়া ওর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র কোনো রকম ফিলিংস নেই যে আমি ওকে বিয়ে করব। আমি ওকে সবসময় কেবল একজন স্টুডেন্ট হিসেবেই দেখে এসেছি!” জিয়ান নিজের যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করল।
​সুফিয়ান কায়সার ঠান্ডা কিন্তু দৃঢ় গলায় বললেন, “সে তুমি ওকে যা হিসেবেই দেখ না কেন, রিত্তিকায় তোমার বউ হয়ে এই বাড়িতে আসবে। এটাই ফাইনাল।”
​”পারব না আমি!” জিয়ান মুখ ফিরিয়ে নিল।

​এবার সুফিয়ান সাহেব নিজের শেষ অস্ত্রটা চাললেন। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তুমি যদি আমাকে একটুও ভালোবেসে থাকো, আমার সম্মানের কথা ভাবো, তাহলে তুমি এই বিয়েতে এখনই মত দেবে। অন্যথায় ভেবে নেব আমার নাতির কাছে আমার কোনো মূল্য নেই।”
​দাদুর এই আবেগের মারের কাছে জিয়ান আর কিছুই বলতে পারল না। সে ভেতরে ভেতরে চরম বিরক্ত হলেও দাদুর মুখের ওপর না বলার ক্ষমতা তার ছিল না। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছোট্ট করে তপ্ত গলায় বলে গেল, “ঠিক আছে, আমি রাজি।”

​জিয়ানের মুখ থেকে ‘রাজি’ শব্দটা শুনতেই পুরো বাড়িতে যেন খুশির জোয়ার বয়ে গেল। হইহুল্লোড় শুরু হয়ে গেল চারদিকে। কারণ বিয়ে তো আর চার-পাঁচ মাস পর নয়, ঠিক দুইদিন পরেই!
​সকাল হতেই কায়সার বাড়ির সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কারণ পরের দিনই গায়ে হলুদ। জিয়ানের পরিবারের সকলে মিলে বিয়ের বাজার করতে বের হলো। জিয়ানকে তো জিহাদ আর নওশাদ সাহেব রীতিমতো জোর করে ধরে গাড়িতে তুলে শপিং মলে নিয়ে গেলেন।
​শপিং মলে গিয়ে জিয়ানের মা রিহানা কায়সার নিজের পছন্দে একটা লাল টুকটুকে লেহেঙ্গা কিনলেন রিত্তিকার জন্য। লেহেঙ্গাটা পছন্দ করার সময় তিনি জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখ তো জিয়ান, রিত্তি মাকে এই লাল লেহেঙ্গায় কেমন মানাবে?” জিয়ান তখন ফোনের দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে ছিল, সে লেহেঙ্গার দিকে চোখ তুলে তাকালই না। মনে মনে বলল, ‘লাল লেহেঙ্গা পরলে ও তো আস্ত একটা লাল বাঁদর লাগবে পিকু পাই কে !’

​দেখতে দেখতে এসে গেল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ রিত্তিকা আর জিয়ানের গায়ে হলুদ। কায়সার ম্যানশন এবং রিত্তিকাদের বাড়ি—উভয় বাড়িই আলো দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
​কায়সার ম্যানশনে সুফিয়ান কায়সার জিয়ানকে ডেকে বললেন, “জিয়ান, তোমার গায়ের ছোঁয়া হলুদ নিয়ে বাকি সবার সাথে তুমিও রিত্তিকাদের বাসায় যাবে। এটা আমাদের নিয়ম।”
​জিয়ান পাঞ্জাবির হাতা গুটোতে গুটোতে করা গলায় বলল, “আমি নিয়ে যেতে পারব না দাদু। জিহাদ আর বাকিরা যাচ্ছে যাক, আমি যাব না। বর নিজেই যদি হলুদের তত্ত্ব নিয়ে যায়, কেমন দেখায়!”
​”আমি যখন বলেছি তখন তোমাকে যেতেই হবে। আর একটিবারও কোনো ওজর-আপত্তি শুনতে চাই না,” দাদুর অকাট্য আদেশে অগত্যা জিয়ান আর কিছু বলতে পারল না। দাদুর কথার ওপর কথা বলার সাধ্য কার! তাকে মুখ কালো করে গাড়িতে উঠতেই হলো।

​অন্যদিকে, রিত্তিকাকে আজ খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। হলুদ রঙের সুতি শাড়িতে তাকে যেন একটা তাজা সর্ষে ফুলের মতো লাগছিল। খুব একটা ভারী মেকআপ সে করেনি, হালকা ছোঁয়াতেই তার মিষ্টি চেহারাটা ফুটে উঠেছে। তবে তার মনে এক অদ্ভুত জড়তা, ক্ষণে ক্ষণে কাল রাতের সেই চুম্বনের কথা মনে পড়ে তার ফর্সা গাল দুটো লাল হয়ে উঠছিল।
​কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়ানরা সপরিবারে রিত্তিকাদের বাড়িতে এসে পৌঁছাল। জিয়ানের সাথে জিহাদ, জিয়া, জেসমিনসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন এসেছে। বাড়ি ঢুকেই জিয়া আর জেসমিন সোজা রিত্তিকার ঘরের দিকে ছুটে গেল।
​রুমে ঢুকেই জিয়া দুই হাত গালে দিয়ে বলল, “মাশাল্লাহ! রিত্তি, তোকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে রে!”
জেসমিনও পাশ থেকে সায় দিয়ে বলল, “হ্যাঁ আপু, অনেক কিউট লাগছে তোমাকে!”
​রিত্তিকা হালকা হাসল। জিয়া কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলল, “আর তোকে যে কতবার কল দিয়েছি, তুই একবারও ধরিসনি কেন রে?”

​”আসলে… ভালো লাগছিল না তাই,” রিত্তিকা মাথা নিচু করে বলল।
​”আরে দূর পাগলী! ভাইয়ার সাথে তোর বিয়ে হচ্ছে! আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড থেকে এখন ভাবি-ননদ হয়ে যাব, ভেবেই আমার কী যে ভালো লাগছে! আর তুই মুখ চুন করে বসে আছিস?” জিয়া রিত্তিকার গাল টেনে দিল।
​রিত্তিকা মনে মনে জিয়ানকে পছন্দ করত ঠিকই, কিন্তু সেই গম্ভীর স্যারই যে হুট করে তার স্বামী হয়ে যাবে—এটা ভেবেই সে এতক্ষণ চুপ ছিল। তবে জিয়ার এই চঞ্চলতা আর ভালোবাসা দেখে তার মনের মেঘটা কেটে গেল, মনটা নিমেষেই ভালো হয়ে গেল।
​তারা যখন ঘরে কথা বলছিল, ঠিক তখনই বাইরে অন্য এক কাণ্ড ঘটল। রিত্তিকার কাজিন রিদিতা ওপর থেকে নিচে নাচতে নাচতে নামছিল। গায়ে হলুদের আনন্দে সে এতটাই বিভোর ছিল যে, সিঁড়ির মোড়ে আসতেই হুট করে কারোর সাথে তার জোর ধাক্কা লাগল।
​ধাক্কা খেয়ে রিদিতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে নিলেই অবধারিতভাবে তার মুখ দিয়ে ‘চ’ বর্গীয় এক জুতসই গালি বেরিয়ে এলো—”চটিজুতো কোথাকার! দেখে চলতে পারেন না?”
​কিন্তু সে মেঝেতে পড়ল না। চোখ খুলে দেখল, শক্ত দুটো হাত তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। তাকিয়ে দেখে, সামনে দাঁড়িয়ে এক সুদর্শন যুবক, ঠোঁটে তার বাঁকা হাসি। যুবকটি আর কেউ নয়, জিহাদ।
​জিহাদ হেসে বলল, “আরে বেয়াইন সাহেব! শুরুতেই এত রাগ করছেন কেন?”
​রিদিতা নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলল, “এই! কে আপনার বেয়াইন, হ্যাঁ?”

​”কেন? আপনি! আমাদের রিত্তি ভাবির বোন তো আপনিই, নাকি?” জিহাদ চোখ টিপল।
​”তাতে আপনার কী? আপনি কে যে আমি আপনার বেয়াইন হব?” রিদিতা গা ঝাড়া দিয়ে বলল।
​”আমি জিহাদ। আপনার হবু দুলাভাইয়ের ছোট ভাই, অর্থাৎ আপনার বোনের দেবর!”
​রিদিতা রেগে গিয়ে বলল, “দেবর না ছাই! বা’ল ছাড়ুন আমাকে!”
​জিহাদ দুষ্টুমি করে বলল, “সত্যি ছেড়ে দেব?”
​”হ্যাঁ, ছাড়ুন বলছি!”
​জিহাদ আর দেরি করল না, সত্যি সত্যি হাত দুটো ছেড়ে দিল। আর সাথে সাথে ‘ধপাস’ করে রিদিতা মেঝেতে পড়ে গেল। কোমরটায় বেশ জোর চোট পেয়ে রিদিতা ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল।
​সে চোখ মুখ কুঁচকে চেঁচিয়ে বলল, “অসভ্য লোক একটা! আমাকে এভাবে ফেলে দিলেন কেন?”
​জিহাদ হাত উল্টে নিষ্পাপ মুখে বলল, “আপনিই তো বললেন ছাড়তে বেয়াইন সাহেব! আমি তো শুধু আপনার আদেশ পালন করলাম।”

​রিদিতা কান্না আর রাগের মাঝামাঝি এক গলায় কোমর ধরে বলল, “বা’ল! যান তো এখান থেকে, আমার কোমরটাই ভেঙে দিল ! যাবেন নাকি চেঁচাব?”
​”আচ্ছা যাচ্ছি যাচ্ছি! রাগ করবেন না,” জিহাদ দুই হাত তুলে হাসতে হাসতে ড্রয়িংরুমের দিকে চলে গেল।
​এদিকে বাড়ির অন্য এক কোণে হুট করে জিয়া আর ইফাতের দেখা হয়ে গেল। জিয়াকে হলুদ লেহেঙ্গায় হালকা সাজে দেখে ইফাত এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চোখ যেন জিয়ার ওপর থেকে সরছিলই না।
​ইফাত একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “কেমন আছো, জিয়া?”
​জিয়া একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “ভালো। আপনি?”
​”এই তো… চলছে।” ইফাতের চোখ জোড়া তখন জিয়ার মিষ্টি মুখের ওপর স্থির।
​জিয়া ইফাতের এই চাউনি দেখে আরও অস্বস্তিতে পড়ে গেল। সে দ্রুত বলল, “আচ্ছা, আমি আসছি…”
বলেই সে চলে গেল, আর ইফাত মুগ্ধ নয়নে তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল।

​অবশেষে রিত্তিকাকে হলুদের জন্য নিচে নামিয়ে আনা হলো। আলো ঝলমলে মঞ্চে তাকে বসানো হলো। তার ঠিক পাশেই এসে বসল জিয়ান। জিয়ান আজ হলুদ রঙের একটি পাঞ্জাবি পড়েছে, যাতে তাকে অসাধারণ সুদর্শন লাগছে। তবে জিয়ানের পুরো মনোযোগ তখন তার ফোনের স্ক্রিনে, সে কারোর সাথে জরুরি কথা বলছিল।
​রিত্তিকা পাশে বসে আড়চোখে জিয়ানের দিকে তাকাল। পাঞ্জাবিতে ওনাকে এত সুন্দর লাগবে সে ভাবেনি। সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো জিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল, চোখ ফেরাতেই পারছিল না।
​জিয়ান ফোনটা কান থেকে নামিয়ে পকেটে রাখতে রাখতে হঠাৎ রিত্তিকার দিকে তাকাল এবং ওনাকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিচু স্বরে বলল, ” এভাবে হেবলার মতো হাঁ করে তাকিয়ে রয়েছ কেন আমার দিকে?”

​রিত্তিকা চট করে চোখ সরিয়ে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল, “কই… না তো! আমি কেন তাকাতে যাব?”
​”তাহলে আমি কি ভুল দেখলাম? তোমার চোখ তো আমার মুখের ওপরই লেপ্টে ছিল,” জিয়ান বাঁকা হাসল।
​রিত্তিকা নিজের লাজুক ভাবটা ঢাকতে চট করে চটাং করে বলে উঠল, “দেখুন স্যার! আপনার দিকে তাকানোর কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না, বুঝেছেন? আপনি আমার পাশে এসে বসেছেন, তাই পাশে কে বসেছে—সেই কৌতুহলে জাস্ট দেখার জন্য তাকিয়েছি। এছাড়া আর কিছুই না! অত বাড়িয়ে ভাববেন না।”
​জিয়ান এবার রিত্তিকার দিকে পুরো ঘুরে বসে ফিসফিসিয়ে বলল, “বাপরে! এত চটাং চটাং কথা কেন বলছ তুমি? এই মুখ দুটো কি কোনো সময় চুপ থাকে না?”

​রিত্তিকাও কম যায় না, সে-ও ঘাড় ত্যাড়া করে বলল, “না, থাকে না! তাতে আপনার কী?”
​জিয়ান রাগ করতে যাবে, ঠিক তখনই রিত্তিকা সুযোগ বুঝে তার আঙুলের ডগায় সামান্য একটু হলুদ নিয়ে জিয়ানের গালে আলতো করে ছুঁইয়ে দিল। জিয়ানের ফর্সা গালে হলুদের সেই ছোঁয়া যেন এক অদ্ভুত শিহরণ তৈরি করল।

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৫

​জিয়ান একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। সে কথা বলা ভুলে গিয়ে অবাক চোখে রিত্তিকার দিকে তাকিয়ে রইল। আর রিত্তিকা তখন জিয়ানের দিকে তাকিয়ে এক মিষ্টি ও দুষ্টুমিভরা হাসি উপহার দিল, যেন সে জানিয়ে দিল—”এখন থেকে আমি শুধু আপনার স্টুডেন্ট নই স্যার, আপনার হবু বউও!”

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here