Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪
রাত্রি মনি

থাপ্পড়…! তাও আবার এজের গালে ভাবা যায়!
পুরো ঘরজুড়ে বিরাজমান নিস্তব্ধতা। শুধুমাত্র নিঃশ্বাসের
ঘন ঘন শব্দ ভেসে আসছে। ক্রোধে ফুসছে রিম।দুচোখ দিয়ে যেন অগ্নিপিণ্ড ঝরছে।
যে ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পর্যন্ত নেই কারোর, যার ভয়ে শহর থমকে দাঁড়ায়। তার গালে থাপ্পড়..! ভাবা যায়? মেয়েটার এলেম আছে বলতে হবে!

গালে হাত বুলিয়ে ক্রুর হাসলো এজে। অবাক হয় রিম।তার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতক্ষণে নির্ঘাত দেহটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। টুকরো টুকরো হয়ে ট্রেজানের খাবার হয়ে যেত। রিম ভেবেছিল মনস্টার টা হয়তো রেগে যাবে। কিন্তু তা আর হল কই? কি সুন্দর নির্লজ্জের মত বাঁকা হাসছে দেখো।
“উফফ্ এত তেজ ! ফিদা হয়ে যাচ্ছি তো। এমনিতেই পাগল হয়ে আছি। আর কত পাগল বানাবে বলতো? তোমার ওই টমেটোর মত লাল লাল গাল দেখে কি ইচ্ছে করছে জানো?”
ঠোঁট কামরে বাঁকা হাসলো যুবক। সেই হাসির সাথে হাসছে যেন তার চোখ দুটোও।
“তোমার হাত এত সফট কেন বলতো? উফ্… আরেকটা থাপ্পর দিবে প্লিইজ…..। শরীরে কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে।”
তরুণীর হাত মুঠোয় পুরে গাল এগিয়ে নির্বিকারে বলে উঠলো এজে,
“ইউ নো হোয়াট? তোমার নেশা ড্রাগের থেকেও ভয়ংকর। পৃথিবীর সমস্ত নেশার ঊর্ধ্বে। এই নেশায় এতই ভয়ংকর যে, করার আগেই মাতাল হয়ে যাই আমি। এই যে দেখো একটু আগেই ড্রাগ নিয়েছি। বিশ্বাস করো একটুও নেশা হয়নি। কিন্তু তোমাকে দেখার পরেই মাতাল হয়ে যাচ্ছি আমি।”

“আপনি একটা বদ্ধ পাগল, উন্মাদ!!”
রাগে ঘৃণায় ফুঁসছে রমনী।
“শুধু তোমার জন্য।”
রিমের শরীরটা শিউরে উঠলো এজের নেশাক্ত কন্ঠে।
“আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে টাচ করার?”
এজে ধীরে দৃষ্টি নামাল।এক মুহূর্তের জন্য। ক্ষীণ স্বরে বলল,
“তোমার ইনারের স্ট্র্যাপ দেখা যাচ্ছে। আমি তো শুধু…….”
এতোক্ষণে টনক নড়লো রিমের।সে এতোক্ষণ যাবত ওরনা বিহীন ছিল মনস্টারটার সামনে! ভাবতেই একরাশ লজ্জা‌ আর অস্বস্তি ঘিরে ধরলো তাকে। নিজের প্রতি ভীষণ রাগ হচ্ছে এখন। তড়িৎ নিজের ওড়না খুঁজে না পেয়ে অগত্যা নিজের চুল এনে রাখল ঢেকে সামনের দুপাশ।চোখে চোখ পড়তেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।কি নির্লজ্জ বেহায়া লোক কিভাবে দেখছে দেখো!

“ছুঁবেন না আপনি আমাকে। ছুলে ভস্ম হয়ে যাবেন। জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন।”
এবার রিমের একদম কাছে এসে কানে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে বলল,
“আমি তো ভস্ম হতেই চাই সোনা। তোমাকে ছুলে যদি পুড়ে ছাই হতে হয়, তবে আমি বারবার সেই আগুনে ঝাঁপ দিতে রাজি।”
“আপনি একটা জানোয়ার! বন্দী করে রেখেছেন আমাকে। কোন অধিকারে ছুঁতে চান আপনি আমায়? আপনার কোন অধিকার নেই।”
‘অধিকার’………
শব্দটা যেন কোনো ধারালো তীরের ফলার মতো ছুটে এসে বিদ্ধ করল এজের হৃদপিণ্ডের ঠিক মাঝখানে।মুহূর্তের জন্য তার ভেতরটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে উঠল।সত্যিই কি অধিকার নেই তার? অবচেতনে এক দানবীয় জিদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। না, অধিকার আছে! এই পৃথিবীতে যদি কারও অধিকার থেকে থাকে তার ‘ফায়ারফ্লাই’-এর ওপর, তবে তা শুধু এবং শুধুমাত্র তারই। এই শরীর, ওর প্রতিটি নিশ্বাস—সবকিছুর মালিক কেবল এজে। দরকার পড়লে সে ব্যবস্থা করবে সে। খুব শীঘ্রই……….

“স্যার, ইয়াশ স্যার এসেছেন।”
হঠাৎ শব্দে সম্বিত ফিরে পেল এজে। চোখ বন্ধ করল এক সেকেন্ডের জন্য। শ্বাস টেনে নিজেকে গুছিয়ে নিল।দড়জায় দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল,
“টেল হিম টু ওয়েট।”
গার্ড মাথা নিচু করে চলে গেল।এজে ধীরে ঘুরে তাকাল রিমের দিকে।এক পলক।খুব ছোট একটা পলক। কিন্তু দৃষ্টিতে গভীর কিছু ছিল। তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সেখানে। যান্ত্রিক শব্দে বন্ধ হয়ে গেল দড়জা।
আবারো একা বন্দী হয়ে কক্ষে পড়ে রইল রিম। তার জীবন তো এমন ছিল না! মুক্ত পাখি ছিল সে, যে খোলা আকাশে ডানা ঝাপটাতে ভালোবাসে। কত স্বপ্ন ছিল তার বড় গায়িকা হবে। তার স্বপ্ন কি পূরণ হবে কখনো? মা আর ছোট বোনের কথা খুব করে মনে পড়ছে। যে করেই হোক এখান থেকে পালাতে হবে। বন্দী জীবন কাটাতে পারবেনা সে। কেউ কি নেই যে এখান থেকে তাকে উদ্ধার করতে পারবে?

বাংলাদেশ, ঢাকা
এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে গভীর স্তব্ধতায় বসে আছে রিশাব। বাইরের রানওয়েতে একের পর এক ফ্লাইটের ওঠানামা চললেও তার নজর স্থির হয়ে আছে নিজের হাতের ঘড়ির দিকে। পাশে বসে মাহিন ল্যাপটপে ব্যস্ত, কিন্তু ঋষাভের নীরবতা তাকেও এক ধরণের অস্বস্তিতে ফেলছে।
একজন মানুষ কতটা পাগল হলে সময়ের এমন নিখুঁত হিসেব রাখতে পারে, তা রিশাবকে না দেখলে বোঝা অসম্ভব। গত তিন মাস, ষোল দিন, বেয়াল্লিশ মিনিট এবং তিপান্ন সেকেন্ড ধরে সে অপেক্ষা করছে ওই একটা খবরের জন্য। হ্যাঁ, প্রতিটি সেকেন্ডের হিসেব তার নখদর্পণে। তার কাছে এই সময়টুকু কেবল কয়েকটা মাস ছিল না, ছিল কয়েক হাজার বছরের সমান দীর্ঘ এক যন্ত্রণার প্রহর।
এতদিন সে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়িয়েছে তার মায়াবিনিকে। আজ কাঙ্খিত মানুষটির খবর পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছে। তাই আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে বেরিয়ে পড়েছে। যেভাবেই হোক এবার খুঁজে বের করবেই তার মায়াবিনিকে।

“মেয়েটাকে এখনো বন্দি করে রেখেছিস? কী চাস তুই ওর কাছে? শুধু শুধু মেয়েটাকে এভাবে আটকে রাখার মানে কী?”
ইয়াশের প্রশ্নে এজের চেহারায় কোনো ভাবান্তর হলো না। সে যেন শুনতেই পায়নি। অত্যন্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে ডাইনিং টেবিলের পাশের ডিভানে আরাম করে বসল সে। ঝুড়ি থেকে তুলে নিল টকটকে লাল রঙের একটা আপেল। খুব আয়েশ করে তাতে কামড় বসাল সে, যেন কত জনমের ক্ষুধার্ত। আপেল খাওয়ার ভঙ্গিটা এমন যে মনে হচ্ছে—তৃষ্ণার্ত কোনো বাঘ শিকার না পেয়ে আজ ঘাস খেয়েই ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছে।
ইয়াশ এজের দীর্ঘদিনের বিজনেস পার্টনার। শুধু ব্যবসাই নয়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার পথেও তারা একে অপরের ছায়া। এজের সবথেকে কাছের এবং সম্ভবত একমাত্র বন্ধু। সেই অধিকার থেকেই সে আজ সোজাসুজি প্রশ্নটা করেছে।

“ও তো তোর কোন শত্রু নয়। একটা সাধারন মেয়ে। না ওকে মারছিস আর না শান্তিতে বাঁচতে দিচ্ছিস। কেন বন্দী করে রেখেছিস ওকে? কি চাস?”
“শান্তি! শান্তি চাই। আরাম চাই। ও আমার আশেপাশে থাকলে শান্তি অনুভব করি আমি। ও দূরে চলে গেলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে।মনে হয় এই বুঝি হৃৎপিণ্ডটা থেমে গেল।এক্ষুনি মারা যাব আমি। ও যখন আমার পাশে থাকে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাই আমি। ও কোনো সাধারণ মেয়ে নয়, ও আমার প্রানসঞ্জীবনী!”
এজে ডিভানে মাথা এলিয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলে উঠলো,
“তোর আমাকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে তাই না? হাহ্! নিজের স্বার্থের জন্য একটা মেয়েকে বন্দী করে রেখেছি আমি। কি করব বল? আর কোন উপায় নেই তো। ও চলে গেলে এক সেকেন্ডও বাঁচবো না আমি। দম ফেটে মারা যাবো। বাঁচতে হলে যে ওকে চাই আমার। চায়ই….চাই।”

“ভালোবাসিস ওকে?”
“উহুম। ও আমার আসক্তি।ভয়ংকর রকমের আসক্তি! যার কাছে ওই তুচ্ছ ভালোবাসা শব্দটা বড় বেশি বেমানান। ভালোবাসলে তো মানুষ সহজেই ভুলে যেতে পারে, আবার ভালোবাসার মানুষের জন্য সব বিসর্জনও দিতে পারে। কিন্তু আমি? আমি ওকে কোনো কিছুর বিনিময়ে ছাড়তে পারব না। দরকার পড়লে পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব, ধ্বংস করে দেব সবকিছু—তবুও ওকে ছাড়ব না। ও যদি কোনোদিন অন্য কারো হতে চায়, তবে নিজের হাতে আমি ওকে শেষ করে দেব। মুছে দেব পৃথিবী থেকে ওর অস্তিত্বের শেষ চিহ্নটুকু। আর তারপর… তারপর নিজেকেও শেষ করে দেব।”

ইয়াশ শিউরে উঠলো। সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে এজের চোখে এক বিধ্বংসী উন্মাদনা। সে বিড়বিড় করে বলল,
“তুই ওই মেয়েটার জন্য পাগল হয়ে গেছিস। তোর চোখে আমি ভয়ংকর ধ্বংস দেখছি। তুই যে খেলায় মেতেছিস, তাকে শুধু ধ্বংস নয়—তাকে বলে ‘ডেস্ট্রাক্টিভ লাভ’।”
“ধ্বংস হলে হব। তবে ওকে নিয়েই হব।”
কাট কাট গলায় বলে এজে।আড়ালে দাঁড়িয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ইয়াশ।তার বলার মত কিছু নেই।আর না তো এই ছেলেকে বোঝানো যাবে! সে জানে, এই উন্মাদনাকে থামানোর ক্ষমতা পৃথিবীর কারোর নেই।
“হোয়ার ইজ এলেনা?”
ইয়াশের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা।
ডিভানে গা এলিয়ে দিয়ে দুই পাশে হাত ছড়িয়ে আয়েশ করে বসল এজ। টি-টেবিলে পা দুটো তুলে দিয়ে শীতল কণ্ঠে জবাব দিল,

“ইনফার্নো রোসো… মিশন: সিলেনজিও দি সাঙ্গু (Silenzio di Sangue)।”
নামটা শুনেই ইয়াশের বুকটা ধক করে উঠল। ইতালিয়ান ভাষায় এর অর্থ— ‘রক্তে ভেজা নীরবতা’। এই মিশনের অর্থই হলো টার্গেটকে এমনভাবে শেষ করা যেন কোনো চিহ্ন পর্যন্ত না থাকে। এটি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচাইতে ভয়ঙ্কর এবং নিভৃত এক মিশন।ইয়াশ কিছুটা বিচলিত হয়ে সোজা হয়ে বসল।
“কিন্তু ও একা কিভাবে সামলাবে? জায়গাটা নরকের চেয়েও ভয়ংকর। ও কি পারবে ওখান থেকে ফিরতে?”
“তুই কি ওকে সাধারণ কোনো মেয়ে ভেবেছিস? ও আমার পালিত শিকারি। শিকার কখনো বেঁচে ফিরতে পারেনা ওর হাত থেকে।”

সিসিলি, পার্লোমো
একদিকে উত্তাল ভূমধ্যসাগরের গর্জন, আর অন্যদিকে ধূসর পাহাড়ের বুক চেরা নৈশব্দ। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক নিষিদ্ধ স্বর্গ। বিলাসবহুল প্রাসাদোপম নাইট ক্লাব— ‘ইনফার্নো রোসো’। যার অর্থ লাল নরক।সাধারণ মানুষের কাছে এর অস্তিত্ব এক বিভীষিকা মাত্র; কিন্তু অন্ধকার জগতের সম্রাটদের কাছে এটি এক স্বর্গরাজ্য।যারা এখানে আসে, তারা হয় কোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া, নয়তো আন্তর্জাতিক ড্রাগ লর্ড। এই ‘লাল নরক’-এর ভেতরে এমন কোনো অন্যায় নেই যা ঘটে না। ড্রাগস, ক্যাসিনো, চোরাই মালের ডিল, প্রস্টিটিউট, হিউম্যান ট্রাফিকিং থেকে শুরু করে নীল দুনিয়ার লেনদেন—সবকিছুই এখানে চলে প্রকাশ্য আভিজাত্যের আড়ালে।
ক্লাবটির প্রবেশপথেই রয়েছে কড়া নিরাপত্তা।কুখ্যাত এই নাইট ক্লাবে প্রবেশ কালীন দিতে হয় হ্যান্ডস্ক্যান, বলতে হয় পাসওয়ার্ড,যা বদলায় প্রতিদিন। প্রবেশপথ পার হলেই চোখে পড়ে এক প্রাচীন পাথরের সিঁড়ি, যা সুড়ঙ্গের মতো অন্ধকার চিরে নিচে নেমে গেছে। বাইরে থেকে দেখতে জীর্ণ আর ভূতুড়ে মনে হলেও, সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতেই দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়।

ভেতরে ঢুকলে মনে হবে আপনি কোনো অন্ধকার রেনেসাঁ যুগে পা রেখেছেন। বিশাল বড় হলরুম, যার ছাদ এত উঁচুতে যে মনে হয় আকাশ ছোঁয়া। পুরো হলের ভেতর জ্বলছে ডার্ক রেড লাইটের আলো। সিলিং এ ঝুলছে বিশালাকৃতির প্রাচীন ঝাড়বাতি। দেয়ালে রেনেসাঁ যুগের আঁকাবাঁকা চিত্র। খেয়াল করলে দেখা যাবে মাফিয়া প্রতীকের ছাপ।
ঠিক হলের মাঝেখানে রাখা স্টেজে দাঁড়িয়ে স্লো ভয়েজে বিষন্ন ইংলিশ গান গাইছে সুন্দরী রমনী।সেই সুরের তালে পাশেই পোল-ড্যান্স করছে একদল বার ডান্সার, যাদের পোশাকের নামমাত্র আবরণ আভিজাত্যের চেয়ে কদর্যতাকেই বেশি ফুটিয়ে তুলছে।
হলের অন্য প্রান্তে বিশাল এক বার কাউন্টার, যেখানে থরে থরে সাজানো পৃথিবীর সবচাইতে দামি ও দুর্লভ মদের বোতল। কেউ গ্লাসে চুমুক দিয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে, আবার কেউবা মদের ঘোরে ঢলে পড়ছে নাচরত রমণীদের অবিন্যস্ত শরীরে।

পরনে কালো সিল্কের অফ-শোল্ডার গাউন, তরুণীর।যার একদিকের স্লিট দিয়ে উন্মুক্ত হয়ে আছে দীর্ঘ ও সুডৌল পা।পায়ে দেওয়া কালো পেন্সিল হিল। পিঠ ছাপিয়ে নেমে এসেছে কোঁকড়ানো চুল। স্টাইলিশ কিলার লুকে দাঁড়িয়ে আছে এলেনা! হাতে রেড ওয়াইনের গ্লাস। তার সাথে ডেস্পারেটলি ক্লোজ হওয়ার চেষ্টা করছে সান্দ্রে। লোকটা নেশায় বুদ। এলেনা নিজের কাতিলানা চোখে তাকায় লোকটার পানে। আঁকড়ে ধরে সিল্কি শার্টের কলার। টেনে নিয়ে যায় পেছনের দিকে। যেখানে মার্বেল পাথরের দেয়াল স্পর্শ করলেই খুলে যায় এক গুপ্ত দরজা। কালো দুনিয়ার মূল কাজ এখানেই হয়। পুরো সিসিলির অপরাধ জগতের কন্ট্রোল হয় এখান থেকেই।
কক্ষের ভেতরে ঢুকতেই সান্দ্রেকে ধাক্কা দিয়ে মখমলে বিছানায় ফেলে দিল এলেনা। লোকটার চোখে মুখে লালসা আর কামুকতার ছাপ। অধৈর্য হয়ে উঠেছে লোকটা, এলেনাকে গভীরভাবে ছুঁতে। এলেনা আলতো হাতে লোকটার কোট খুলে শার্টের বোতামগুলো একে একে আলগা করতে শুরু করল।উন্মুক্ত হলো সান্দ্রের প্রশস্ত বুক। এলেনার আঙুলগুলো স্লাইড করতে করতে কপাল থেকে গলার দিকে নেমে এলো। নিজের ঠোঁট দুটো নিয়ে এলো সান্দ্রের ঠোঁটের খুব কাছে।

আবেশে চোখ বন্ধ করল সান্দ্রে। হয়তো কোনো স্বর্গীয় সুখের স্পর্শ পেতে যাচ্ছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই তার বিভ্রম কাটল এক তীক্ষ্ণ যন্ত্রণায়। শরীরটা কুঁকড়ে গেল মুহুর্তেই।
ঠোঁটের স্পর্শের বদলে এলেনার লম্বা ও তীক্ষ্ণ নখগুলো বাঘের থাবার মতো গেঁথে গেল সান্দ্রের গলায়। টকটকে লাল নেলপলিশ মাখা সেই নখগুলো চামড়া চিরে মাংসের ভেতরে ডেবে যাচ্ছে।
যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে চোখ মেলল সান্দ্রে। কাঁপা কাঁপা গলায় শ্বাস আটকে বললো,
“হু… হু আর ইউ?”
এলেনা তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে উত্তর দিল,
“এলেনা। …লেডি গ্যাংস্টার!”
নামটা শোনা মাত্রই রক্ত হিম হয়ে গেল সান্দ্রের। এই নাম আন্ডারওয়ার্ল্ডে যমদূত হিসেবে পরিচিত। আতঙ্কিত হয়ে সে বিড়বিড় করে উঠল,

“আ… আমি কিছু করিনি। সমস্ত ডিলের মাল রুম নাম্বার থার্টি-ফোরে আছে। ওগুলো নিয়ে নাও… হা-আমাকে ছেড়ে দাও, প্লিজ!”
লোকটার কন্ঠে ভয় আর আকুতি মিশেলে। ভুবন ভোলানো,হাসে এলেনা।
“ছেড়ে দিব তো সোওনা।”
ঘাড় হেলিয়ে নিজের চুলগুলো এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে সান্দ্রের চোয়ালে হাত রাখল সে। অত্যন্ত রসালো কণ্ঠে বলল,

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩

আগে বলো বেবি, হার্ডড্রাইভটা কোথায়?
চমকে উঠলো সান্দ্রে। চোখের মণি স্থির হয়ে গেল। শরীরের সব শক্তি যেন এক নিমেষে উবে গেছে। এই হার্ডড্রাইভের কথা তো কারও জানার কথা ছিল না! তবে কি যমদূত আজ তার দরজায় কড়া নেড়েছে?………

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৫