Home প্রিয় প্রণয়িনী প্রিয় প্রণয়িনী সারপ্রাইজ পর্ব ২

প্রিয় প্রণয়িনী সারপ্রাইজ পর্ব ২

প্রিয় প্রণয়িনী সারপ্রাইজ পর্ব ২
জান্নাত নুসরাত

“আপনি মিসেস নুসরাত নাছিরের কেসটা হাতে নিয়ে কি মনে করছেন?
নুসরাত গাড়ি ভিতর থেকে লাফ মেরে বের হয়ে আসলো। পরণে সাদা শার্ট আর কালো ফরমাল প্যান্ট। গলার কাছের টাইয়ের নট’টা ঢিলে করে রাখা।মাঝ পিঠ সমান চুলগুলো অগোছালো হয়ে আছে। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ, মুখ তেলতেলে ভাব। রিপোর্টারের কথার উত্তর দিতে পারলেন না, ব্যারিস্টার ইরতিজা। নুসরাত আগ বাড়িয়ে গিয়ে নিজের নাক ঢুকিয়ে দিল রিপোর্টারের কথার ভিতর।

নাক মুখের বিকৃতি ঘটিয়ে বলল,
” উনি সাউয়া মনে করবেন। সুদি’র ভাই আমার ব্র‍্যান্ডের নামে কেইস করে, আজ এর একদিন কি আমার একদিন? শালা গেল কোথায়?
নুসরাত উঁকি ঝুঁকি মেরে খোঁজতে লাগল লোকটাকে। প্রসিকিউটরের পেছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি মেরে তাকে দেখছে লোকটা। নুসরাত লোকটাকে দেখেই চোখ পাকাল। গলবিলের নিচে এসে দলা পাকাল ভয়াবহ ভয়ংকর গালি। এতো এতো ক্যামেরার তোয়াক্কা না করে চিৎকার করে গালি ছুঁড়ল লুকিয়ে থাকা লোকটার উদ্দেশ্যে,”এই সুদা*ন্নির পুত, ওই এদিকে আয়। ওই কুত্তা, আমার ব্রান্ডের নামে কেইস করেছিস। আজ তোর একদিন কি আমার যতদিন লাগে সাউয়া কোথাকার!

আরশ চোখ মুখ উল্টে দৌড়ে আসলো নুসরাতের দিকে। কোলে তার আইজান। হাতের তালু দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরে টেনে নিয়ে যেতে চাইল কোর্টের ভিতর। নুসরাত ধমকে নিজেকে আরশের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসলো। আইজানকে আরশ ইরহামের কোলে তুলে দিয়ে দৌড়ে আসলো নুসরাতকে থামানোর জন্য। দূর থেকে কানে আসলো নুসরাতের লাগাম ছাড়া গালিগুলো। মেয়েটা কারোর তোয়াক্কা না করে ভয়ংকর রকমের গালি দিচ্ছে জসিমকে। মধ্যমা আঙুল মুখের সামনে নিয়ে চোখ উল্টে বলল,”অই জসিইম্মা তোরে আমি বললাম ফা’ক…
আরশ এসে মুখ চেপে ধরল নুসরাতের। চোখ পাকিয়ে নুসরাতের দিকে এক পলক তাকিয়ে সামনে তাকাতেই ওখানে স্থির হলো। নুসরাতের এতক্ষণ ধরে দেওয়া ভয়ংকর গালিগুলো ক্যামেরায় খুব সুন্দরভাবে রেকর্ড হচ্ছে।
ব্যারিস্টার ইরতিজা মির্জা কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। হতবম্ব হয়ে চেয়ে আছেন তার মক্কেল আর মক্কেলের স্বামীর দিকে। ইরতিজা এবার বিস্ময়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন আরশের কথা শুনে। আরশ মিনমিন করে বলছে,”ওকে তুই ফা’ক ইউ বলছিস কেন? আমাকে বললেই তো পারিস, আমি না তোর হাজবেন্ড। বেগানা পুরুষকে এসব বলতে নেই।

নুসরাত হাত তুলে আরশের পিঠে থাপ্পড় মারল। বিরক্তি নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,”ওকে আমি ফা*ক ইউ বলছি না। আমি বলতে চাইছি ফা’ক হিজসেল্ফ।
ব্যারিস্টার ইরতিজা মির্জা ঢোক গিলে পানি বের করলেন নিজের মিনি ওয়াটার ব্যাগ থেকে। ধীরে শ্বাস ফেলে সামনে তাকাতেই আবার মাথায় হাত দিলেন। নুসরাত আর আরশের বলা সব কথা সামনের ক্যামেরা গুলোতে লাইভ রেকর্ড হচ্ছে।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরতিজা পানি খেয়ে নিলেন এক ঢোক। কোটের বোতাম লাগাতে লাগাতে বড় বড় পা ফেলে এগোলেন সামনের দিকে। আরশ আর নুসরাতকে অত্যন্ত ধীর স্বরে বললেন,”আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া শেষ হলে ভিতরে চলে আসবেন।
নুসরাত আর আরশ সে-সব শুনল না। তাদের একজন ব্যস্ত হলো জসীম লোকটাকে গালি দিতে, আর আরেকজন ব্যস্ত হলো নুসরাতের গালিগুলো শুধরে দিতে।