Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৩

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৩

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৩
উম্মে হাবিবা

হালকা বাতাসে বারান্দার গাছ গুলা নিজের শাখা প্রশাখা মেলে দুলছে। জানালার শুভ্র পর্দার পাকে কিছুটা আলো প্রবেশ করছে রুমে। দরজায় ঠকঠক শব্দে ঘুম ভাঙ্গে সোহার।
হঠাৎ চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে না সে কোথায়। পাশেই নজর পরতে দেখতে পায় একটা লোক ওর দিকে পিঠ করে শুয়ে আছে। সোহা লাফিয়ে নেমে পড়ে বিছানা থেকে।
আল্লাহ আমি কোথায়,, আর এই লোক কে____ এটা বলতেই তার মনে পড়ে;
আরে আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে এটা আমার শশুর বাড়ি। আর ঐ লোকটা তো আমার সোয়ামি। নাহ শব্দ টা বেশি আদি কালের হয়ে যাচ্ছে। “স্বামী” এটা ঠিক আছে।

আবার ও দরজায় খটখট শব্দ।
সোহা গিয়ে দরজা খোলে।
হাই কিউটি।
সোহার মনে হলো ওর সামনে একটা ছোট খাটো পরি দাঁড়িয়ে আছে। কি মিষ্টি দেখতে মেয়েটা।
হেই মাই ডিয়ার কিউটি ভাবি। আমাকে চিনতে পারছো না আমি তোমার এক মাত্র ননদ গো।
সোহা আনমনেই বলে পেলে___
তুমি সত্যি মানুষ?
সামনে থাকা মেয়েটা শব্দ করে হেসে পেলে।
ভাবি অনেক হয়েছে, তুমি তো ভিষন মজা করো। আমি রোদেলা মেহতাব। তুমি আমাকে রোদ বলে ডাকবে ঠিক আছে।

তুমি আসলেই তোমার নামের মতো সুন্দর রোদ।
আচ্ছা ভাইয়া কই তুমি দরজা খুলেছো যে।
সোহা একটু ইতস্ত করে বলে উনি তো ঘুমচ্ছে।
রোদ যেনো অবাক না হয়ে পারলো না।
ঘুমাচ্ছে মানে? তুমি সত্যি বলছো?
সোহা অবাক হয়ে বলে।
উনি ঘুমাচ্ছে এটাতে এতো অবাক হওয়ার কি আছে রোদ?
রোদ কে দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে সে অনেক উত্তেজিত।
কি-কিছু না ভাবি তুমি তারাতারি নিছে আসো মা ডাকছে। আমি যাই।
এক দমে কথা গুলা বলে দোড়ে চলে যায় রোদ।
আরে রোদ শুনো_কি হলো ব্যাপার টা। সব মনে হচ্ছে মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
পাপা আম্মি দাদু কই তোমরা সব।
সবাই কে ডাকতে ডাকতে নিচে নামছে রোদ।

রুদ্রের মা রুমিয়া মেহতাব মেয়ের এতো জোরে ডাক শুনে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসেন। নিচে সোফায় বসা ছিলো রেদওয়ান মেহতাব ও তার বাবা আশরাফ মেহতাব।
রেদওয়ান মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে___
কি হয়েছে আমার পরির কি নিয়ে এতো এক্সাইটেড?
হুম দিদিভাই বলো বলো আমরা ও শুনি।
এক অবিশ্বাস্য ঘটনা গঠছে জানো!
আরে সেটা তো তোমার মুখ দেখে বুঝতে পারতেছি হয়েছে কি সেটা বলো!
ভাইয়া ভাইয়া ঘুমাচ্ছে,, এখনো উঠেনি।
তিন জনেই অবাক হয়ে যায়।

আসলে রুদ্রের ইনসোমনিয়া আছে যার দরুন রাতে ঘুমাতে পারে না। প্রতিদিন সকালে তাকে নিচের স্টাডি রুমে পাওয়া যায় সারা রাত এখানেই কাটায়।
রুদ্রের মায়ের চোখে পানি চলে আসে। ঐ মেয়ে টা ঐ মেয়েটা আমার রুদ্রের জন্য লাকি চার্ম। আল্লাহ হয়তো ঐ মেয়েটার মাধ্যমে আমার রুদ্রের জীবনে সুভাগ্য পাঠাবেন।
সোহা ফ্রেস হয়ে এসে দেখে রুদ্র বেড বোডে হেলান দিয়ে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
সোহা সে সবে পাত্তা না দিয়ে আয়নার সামনে বসে নিজের চুল ঠিক করতে থাকে।
রুদ্র সে দিকে তাকায়। সোহার কোমড় ছাড়িয়ে যাওয়া ছড়ানো চুল গুলো দেখে মুগ্ধ হয়। সে উঠে এসে দাঁড়ায় তার পিছনে।
সোহা চুল বেঁধে পিছনে ফিরতেই মাথা গিয়ে ধাক্কা খায় রুদ্রের বুকে। উফ’ জাতীয় শব্দ করে কিসের সাথে ধাক্কা লেগেছে সেটা দেখার জন্য সামনে তাকায়।
এই ভাবে খাম্বার মতো এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো। উফ’ কপালটা বুঝি ফুলে এবার ডিম হয়ে যাবে।
রুদ্র এখনো তাকিয়ে আছে।
কি হলো কথা বলছেন না কেনো। এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?
রুদ্রের হুশ ফিরে __

না কিছু না। আমাকে একটা কথা বলোতো?
কি?
আমি কি কাল রাতে ঘুমিয়েছিলাম?
এআবার কেমন প্রশ্ন, রাতে তো সবাই ঘুমায়। আপনিও ঘুমিয়েছিলেন।
রুদ্র ভাবে সে কখন ঘুমিয়েছে৷ তখন তার মনে পড়ে___
রাতে সোহা তার বাবার সাথে কথা বলে এসে কান্না করতে থাকে।
রুদ্র তাকে থামতে বলে ঘুমিয়ে যেতে । রুদ্র নিজের এক হাত কপালের উপর দিয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলো। আর সোহা বসে বসে সোহার বাবার জন্য কান্না করছিলো আর তার আর তার বাবার অনেক স্মৃতির কথা বলছিলো। যদিও রুদ্র বিরক্ত হচ্ছিল এটাতে।
রুদ্রকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সোহার মাথায় সয়তানি বুদ্ধি চাপে।
এই আপনি আমার দিকে এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?
আবার আমার প্রেমে পড়ে যান নিতো।

ইডিয়েট একটা।
এটা বলেই রুদ্র ফ্রেশ হতে চলে যা।
সোহা হা করে থাকে,, আ- আমি ইডিয়েট? আপনি ইডিয়েট আপনার চৌদ্দ গুষ্ঠি না না চৌদ্দ গুষ্টির কি দোষ?
সব ইডিয়েট আপনি নিজেই। অসয্য লোক একটা।
বিরবির করতে করতে সোহা রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
সিড়ি দিয়ে এক পা এক পা নিচে নামছে আর চার দিকে তাকিয়ে দেখছে। কালকে রাতে আসার কারণে জানতো বাড়িটা কেমন। ভাবলো সাধারণ হবে হয়তো। কিন্তু এতো সাধারণের ভিতর অসাধারণ। সব কিছুতেই কেমন রাজকীয় একটা ভাব আছে। মানতেই হবে এই বাড়ির মানুষ গুলা ভিষন রুচিশীল।
নিচে নেমে দেখে সবাই বসে আছে।
মাথার কাপড়টা আরেকটু টেনে নেয়।

রুমিয়া মেহতাব সোহাকে দেখে মুচকি হেসে এগিয়ে আসো। সোহা নিজের শাশুড়ী কে সালাম দেন।
এসো মা এদিকে এসো।
সোহা কে নিয়ে যায় সোফার কাছে।
উনি তোমার দাদা শ্বশুর। কালকে তো পরিচয় করানো হয় নি।
সোহা তাদের সালাম দেয়।
তা মেয়ে এই বুড়োকে তোমার পছন্দ হয়েছেতো?
সোহা মুচকি হেসে বলে। ভিষন পছন্দ হয়েছে দাদা জান।
সবাই কিছু সময় কথা বলে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ২

রুমিয়া সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে। সোহা দাঁড়িয়ে আছে।
নাতবউ তুমি আমার পাশে এসে বসো।
হুম দাদু এখন তো আর আমি কেউ না সব আদর এখন ভাবিকেই দিবা তুমি।
আরে আমার রোদ রানি রাগ করে না। তুমি তোমার রানি আমার বেগম সাহেবা।
তাদের দাদা নাতনির হাসি মজার মাঝে হঠাৎ সিঁড়ি থেকে জুতার খট খট আওয়াজ হয়। সবাই সেই দিকে তাকায়।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৪