Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৬

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৬

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৬
উম্মে হাবিবা

~~~ রাতের স্নিগ্ধ আলো জানালা দিয়ে প্রবেশ করছে হালকা বাতাসে পর্দা গুলো দোল খাচ্ছে। সোহা নিজের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র কলে কারো সাথে কথা বলছে। সোহা ভাবছে সেদিন যদি তমাল তার সাথে প্রতারণা না করতো। তাহলে আজ তার জীবন এমন হতো না।
সে এখন এমন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে যেখানে ভালোবাসা নেই। সোহা রুদ্রের দিকে তাকায়৷
উনি কি কখনো আমাকে মেনে নিবেন? নিজের স্ত্রীর অধিকার দিবেন? আর আমি উনাকে মেনে নিবো কিনা সেটাও আমি শিওর না।
হঠাৎ কারো উপস্থিতিতে পাশে তাকায়।রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে। চোখ দুটো একদম শান্ত। তখনকার রাগ এখন আর দেখছে না৷
তোমার মন খারাপ?

না।
দেখে তো তাই মনে হচ্ছে । চাইলে আমার কাছে শেয়ার করতে পারো।
সোহা রুদ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে__
আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে।
হুম বলে ফেলো।
আপনি আমাকে স্ত্রী হিসাবে কখনো মন থেকে মেনে নিতে পারবেন?
রুদ্র কিছু সময় সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটার হঠাৎ কি হলো। কেমন শান্ত হয়ে গেছে। চোখে পানি টলমল করছে। জেনো ছুঁয়ে দিলেই গড়িয়ে পড়বে। এই মেয়েটাকে কেনো যেনো খুব কাছে টানতে ইচ্ছে করে৷ কিন্তু আমি এখনো আমার অনুভূতি সম্পর্কে শিওর না। তাই আমার প্রতি ওর এক্সপেক্টেশন বাড়ানো যাবে না।
রুদ্রকে চুপ থাকতে দেখে সোহার মন খারাপ হয়ে যায়।
দুঃখীত আ-আমি আসলে কি বলতে কি বলে পেলেছি।
সোহা রুমে এসে নিজের পড়ার টেবিলে বসে থাকে। ড্রায়ার থেকে নিজের ব্যক্তিগত ডাইরিটা বের করে। ওর সব সুখ দুঃখ এখানে লেখা আছে। তমালের সাথে প্রতিটা মূহুর্ত ও এই ডাইরিটায় লিখে রেখেছে।
রুদ্র বেলকনিতে দাঁড়িয়ে খোলা জানালা দিয়ে সোহার দিকে তাকিয়ে আছে।
রাত প্রায় ১২টা সোহা নিজের ফোনটা হাতে নেয় এখানে এসেই সাথে সাথে ফোন চার্জে দিয়েছিলো।
ঘুমাবে না তুমি?

রুদ্রের কথায় সোহা তার দিকে তাকায়।তখন কার বলা কথা গুলো নিয়ে সোহা একটু অস্বস্তিতে পড়ে।
রুমে পানি নেই, আপনি সুয়ে পড়ুন আমি পানি নিয়ে আসছি।
এটা বলে সোহা বেরিয়ে যায়।রুদ্রের নজর পড়ে টেবিলে রাখা ডাইরিটার দিকে যার উপরে বড় বড় করে লিখা _ Don’t touch my diary without my permission.
কি আছে এই ডাইরিটায়? যদিও কারো অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত জিনিস ধরা উচিত না তবুও রুদ্র নিজের কৌতুহল দমাতে পারে না।
সোহা পানি নিয়ে উপরে আসছে। তমালের রুমের পরেই তার রুম। হঠাৎ একটা হাত শক্ত করে সোহার হাত চেপে ধরে। ড্রইং রুমের হালকা আলো উপরে আশায় সোহার লোকটাকে চিনতে অসুবিধা হলো না।
এসব কোন ধরনের অসভ্যতা। হাত ছাড়ুন তমাল ভাই।
বাহ তেজ তো এখনো কমেনি দেখছি। কিছুদিন আগেও তো সারাক্ষণ আমার পিছু পড়ে থাকতি।
ভুল আমি আপনার পিছু পড়ে থাকতাম না। আপনার প্রতি আমার ভালোলাগা ছিলো যেটাকে ভালোবাসা ভেবে আমি আপনার মতো নিকৃষ্ট একজনের সঙ্গে জড়িয়েছি। ভাবতেই নিজেকেই ছোট মনে হচ্ছে ।
তমাল এবার সোহার দুহাত চেপে তাকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে।

আমি নিকৃষ্ট হুম? আমাকে তো কখনো নিজের হাত টাও ধরতে দিস নাই। আর এখন যে অন্য একজনের সাথে বেড শেয়ার করছিস তাতে লজ্জা লাগে না তোর? নাকি রুদ্র তোকে বেডে এতোই সুখ দেয় যে আমার কথা এখন মনেই পড়ে না তোর।আচ্ছা রুদ্রের মতো এমন ধনি স্মার্ট ছেলে তোর মতো এমন কালো কুৎসিত মেয়েকে আধো নিজের বেড পার্টনার বানাবে কিনা। চাইলে আমার কাছে আসতে পারিস ওর থেকে বেশি আ__
তমাল আর কিছু বলতে পারে না
নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করতে না পেরে সোহা থাপ্পড় মেরে বসে তমালের গালে।
তোর মতো জানোয়ার আমি দুইটা দেখি নি। এতো নিকৃষ্ট তুই।
তো এতো বড় সাহস তুই আমাকে থাপ্পড় দিস। তোকে তো আমি___
কি হচ্ছে এখানে?
রুদ্রের কন্ঠ শুনে তমাল সাথে সাথে সোহাকে ছেড়ে দেয়।
তমাল থতমত খেয়েযায়।
কিছু না রুদ্র ভাই। আসার পর থেকে সোহার সাথে কথা হয়নি ঠিক ভাবে। তাই হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়ায় কথা বলছিলাম।

সোহা দোঁড়ে রুমে চলে যায়।রুদ্র এখনো র’ক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে তমালের দিকে। তমাল কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে নিজ রুমে প্রবেশ করে।
রুদ্র রুমে এসে দেখে সোহা রুমে নেই। ওয়াসরুম থেকে পানির শব্দে বুঝতে পারে ও ভিতরে।
প্রায় দশ মিনিট পর সোহা বেরিয়ে আসে।
চোখ মুখ ফুলে আছে। দেখেই মনে হচ্ছে এতো সময় কান্না করেছে৷
রুদ্র নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করে সোহার হাত ধরে তাকে বিছানায় বসায়। তোয়ালে দিয়ে মুখটা মুছে দেয়। রুদ্রের চোখে চোখ পড়তেই সোহার চোখ দুটো আবারও পানিতে ভরে উঠে। বিনা বাঁধায় দুফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে।সোহার চোখে পানি দেখে রুদ্রের মনে হচ্ছে বুকের ভিতরটায় কেউযেনো খুব জোড়ে কিছু দিয়ে আঘাত করছে। চিনচিন ব্যথা হচ্ছে।

সময় নাও আমি চাই তুমি নিজে আমাকে সব কিছু বলবে।
সোহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রুদ্রের দিকে।
এসো সুয়ে পড়ো। আমি আছি তোমার পাশে সব সময়।
আচমকা সোহা জড়িয়ে ধরে রুদ্র কে। কাঁদতে কাঁদতে বলে।
ফিরে নিয়ে চলুন আমাকে। এখনি আমি ঐ বাড়ি যাবো। প্লিজ নিয়ে চলুন আমাকে।
সোহা জড়িয়ে ধরায় রুদ্র অনুভব করতে পারছে তার হার্ট টা যেনে জোরে জোরে বিট করছে। বুকচিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। নিজেকে শান্ত করে একটা নিশ্বাস নেয় রুদ্র। আলতো ভাবে জড়িয়ে রাখে সোহাকে।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ এর শব্দে হুশ ফিরে সোহার। নিজের করা কাজে নিজেই লজ্জায় তাকাতে পারছে রুদ্রের দিকে। আর রুদ্র সেটা দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।
রাত ২:৩০।
তোর জন্য একটা কাজ আছে ইফতি।
কারে উপরে পাঠাতে হবে ঐটা বলেন ভাই।
উপরে পাঠাতে হবে না। শুধু প্রথম ধাপ এপ্লাই করবি। ডিটেইলস পাঠিয়ে দিয়েছি দেখ। কাল বিকালের মধ্যে শেষ করবি।

হালকা আলোয় সোহার মুখটা স্পষ্ট। রুদ্র সে দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
তোমার প্রতি আমার অনুভূতি গুলো আমি ধমিয়ে রাখতে চাইনা শ্যামলতা।
সকাল সকাল সোহার ঘুম ভেঙ্গে রুদ্রকে নিজের এতোটা কাছে দেখে লজ্জা পায় সোহা।
ইস্ সারা রাত এইভাবে উনাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছি। উনি যদি এখন এই অবস্থায় দেখেন নিশ্চয়ই অনেক কথা শুনাবেন। আমি লজ্জায় উনার সামনেও যেতে পারবো না।
কোনো মতে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে পড়ে সোহা। রুদ্রের ভারি নিশ্বাস বলে দিচ্ছে সে কতো গভীর ঘুমে সে।
সোহা রুদ্রের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকায়। ফর্সা মুখে ছোট ছোট চাপ দাড়ি হালকা খয়েরি ঠোঁট। চিকন ব্রু ঘন চোখের পাপড়িঁ।

উনার মতো এমন সুদর্শন একজন পুরুষ কে কি আমার মতো শ্যাম বর্নের মেয়ের সাথে মানায়। ভাবিনি এমন সুদর্শন আর গম্ভীর ব্যক্তিত্বের কেউ আমার জীবনে আসবে।
ওয়াস রুমের দরজার শব্দ হতেই রুদ্র চোখ মেলে তাকায়। সোহার নড়াচড়ায় রুদ্রের ঘুম ভেঙ্গে গেছিলো। মেয়েটা লজ্জা পাবে ভেবে ঘুমের ভান ধরেছিলো। কিন্তু মেয়েটা তো তাকেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো।
সকালের নাস্তা করার পর পরেই সোহারা চলে যাবে এটা শুনে সবাই মন খারাপ করে বসে আছে। তারা ভেবেছিলো সোহা আর রুদ্র আজকে দিন থাকবে। সোহা সবাইকে বুঝিয়ে রুমে আসে তৈরি হতে।
তুমি তৈরি যাওয়ার জন্য ।
হুম চলুন।
এক মিনিট তুমি তোমার প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে নাও কাল থেকে কলেজে যাবে। বিয়ে হয়ে গেছে এর জন্য পড়া শুনা তো বন্ধ করে দিবে না তাই না।
সোহার মুখটা বেলুনের মতো চুপসে যায়। পড়া শুনায় যদিও সোহা অতো খারাপ না। তবুও ওর পড়া শুনা ভালো লাগে না।

কি হলো কি বললাম আমি শুনতে পাও নি।
বলছিলাম কি থাক না আর পড়ে কি হবে বিয়ে তো হয়েই গেছে।
রুদ্র অবাক চোখে তাকায়।
তুমি তো দেখছি পাক্কা পড়া চোর। কি আগের দাদি নানিদের মন মানসিকতা নিয়ে বসে আছো। বিয়ের পর পড়া যায় না।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৫

দশ মিনিটের মধ্যে নিচে আসো সব নিয়ে।
সোহার অগোচরে রুদ্র সোহার ডাইরিটা নিয়ে আসে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে সোহা রুদ্র গাড়িতে উঠে বসে। রুদ্র গাড়িতে বসে দেখতে পায় তমাল নিজ রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্র সে দিকে তাকিয়ে বাঁকা একটা হাসি দেয়।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৭