প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৪
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
হল রুমে বসে আছে সবাই। বাড়ির কর্তিরা টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে।
তখনই রাশেদ বাইরে থেকে এসে হল রুমে প্রবেশ করতেই সবাই চমকে গেলো। রাশেদ একা নয়, সাথে এক ছেলেকে নিয়ে এসেছে।
তা দেখে সবাই এগিয়ে রাশেদের সামনে আসলো। আনিসুল সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললো — কে এই ছেলে?
রাশেদ বললো — বাবা, ওর নাম আবরার, আমার বন্ধু। বাইরে থেকে এসেছে কিছু কাজে। হোটেলে থাকতে চেয়েছিলো, অনেক জোড়াজুড়ি করে আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছি—কয়েকদিন থাকবে এখানে।
আনিসুল সাহেব জানেন তাঁর ছেলে বেশ দায়িত্বশীল। যাকে তাকে ধরে বাড়িতে ঢুকানোর ছেলে সে নয়। তাই তাঁকে বিশ্বাস করা যায়। আর আবরার কেও বেশ ভালো আর ভদ্র ঘরের সন্তান মনে হচ্ছে। তাই আনিসুল সাহেব আর কিছু না বলে মাথা নেড়ে হেসে বললেন — ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই, থাকতে পারে।
আবরার সবাইকে সালাম জানিয়ে টুকটাক কথা বললো।
তারপর লতিফা বেগমের দিকে এগিয়ে এসে বললো
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
— আপনাকে একটা রিকোয়েস্ট করবো আন্টি?
লতিফা বেগম হালকা হেসে বললো — হ্যাঁ অবশ্যই, বলে ফেলো।
আবরার মাথা নিচু করে বললো — আমি রাশেদের কাছে শুনেছি আপনি নাকি কুকুর বিড়াল পছন্দ করেন না। কিন্তু আমার একটা বিড়াল আছে, আমি ছাড়া ওর কেউ নেই। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে ওকে কী আমার সাথে রাখতে পারি?
লতিফা বেগম হালকা হেসে বললো — অবশ্যই রাখতে পারো, কোনো সমস্যা নেই। আর আন্টি না, আমাকে মেজো মা বলবে ঠিক আছে। এখন যাও ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে এসো সবার সাথে।
আবরার মাথা নাড়লো ।
রাশেদ আবরারকে উপরে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।
লতিফা বেগম আবরারের যাওয়ার দিকে দেখে হামিদ সাহেবকে বললেন — ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক পরিচিত।
হামিদ সাহেব বললেন — তাহলে মনে করো চেনা কেউ। বলেই চলে গেলো।
আবরার রাশেদের রুমে গিয়ে ঝুড়ি থেকে পার্সিয়ান কালো কুঁচকুঁচে একটি বিড়াল বের করে তাকে খাবার দিলো।
তারপর ফ্রেশ হয়ে রাশেদকে বললো — বাড়ির সবাইকে দেখলাম, কিন্তু বাঘিনী কে দেখলাম না তো?
রাশেদ হেসে বললো — কালকে পরীক্ষা তার, তাই সে বইয়ের পাতায় ডুবে আছে। চল খাবারে টেবিলে দেখা পাবি।
আবরার হালকা হেসে সাদা চশমা এঁটে বেরিয়ে গেলো রাশেদের সাথে।
নিচে খাবারের জন্য ডাকতেই লামিয়া পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়ে এলো রুম থেকে।
বেশ ক্ষুধা লেগেছে আজকে। তাই তাড়াতাড়ি করে নেমে আশেপাশে না তাকিয়ে বললো
— বড় মা, প্লিজ আমার খাবার আগে দাও, আমার ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে আজকে।
খাবার টেবিলে সবসময় তার পাশে মাহির বসে। তাই সে আজও ভেবে নিলো মাহিরই আছে; পাশে না তাকিয়ে তার প্লেট থেকে ডিম মুখে পুরে খেতে শুরু করলো।
খেতে খেতে সামনে তাকিয়ে দেখলো — মাহির তার সামনে বসে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে পাশে তাকাতেই বিষম খেলো , খেকখেক করে কেশে উঠলো। তায়েব, তায়েবা, মাহির মিটমিট করে হেসে উঠলো।
আবরার তাড়াতাড়ি করে পানি এগিয়ে দিতেই লামিয়া ঢগঢগ করে পানি খেয়ে আবার আবরারের দিকে তাকালো।
এ … এই ছেলে এইখানে কীভাবে?
এই ছেলেটার সাথে কালকে দেখা হয়েছিলো—আর জোর করে ছাতা হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো। এই ছেলে আমাদের বাড়িতে কীভাবে এলো?
ভাবতে ভাবতে লামিয়ার পিঠে ধাম করে কিল পড়লো। পিছন ফিরতেই লতিফা বেগম রেগে তাকিয়ে আছে।
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো — আহ্ মা, অচেনা ছেলের সামনে তুমি আমাকে মারছো কেন? আমারও তো প্রেস্টিজ আছে একটা নাকি?
লতিফা বেগম রেগে কড়মড় করে বললো — তুই ছেলেটার পাতে থেকে ডিম নিয়ে খেলি কেনো?
আবরার হালকা হেসে বললো – সমস্যা নেই আন্টি ছোট্ট মানুষ।
লামিয়া আড়চোখে আবরারের দিকে তাকালো তারপর নিচু স্বরে বললো — আমি কী জানতাম, আমার পাশে অন্য কেউ বসে আছে; আমি তো ভেবেছি মাহির তাই নিয়েছি।
লতিফা বেগম কিছু বলে উঠতেই, আনিসুল সাহেব থামিয়ে দিলেন।
হামিদ সাহেব লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন — ওর নাম আবরার, রাশেদের বন্ধু। বাইরে থেকে বাংলাদেশে কিছু কাজে এসেছে। কয়েকদিন আমাদের বাড়িতে থাকবে, কাজ শেষ হলে চলে যাবে।
লামিয়া ওওও বলে আবরারের দিকে তাকালো। এই ছেলেটাকে কেনো এতো পরিচিত মনে হচ্ছে ,
আর তার চোখও। লামিয়া আবরারের চোখের দিকে তাকাতেই দেখলো আবরার লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে লামিয়া দ্রুত চোখ সরিয়ে নিয়ে খাবারে মন দিলো।
আজমেরী বেগম খেতে খেতে বলল — আরবার তোমার মা-বাবা কোথায়?
পাশ থেকে তায়েবা বিরক্ত হয়ে বলল — আহ, দাদি! আরবার না — আবরার হবে!
আজমেরী বেগম তায়েবা কে ধমক দিয়ে বলল — চুপ ছেড়ি, আমি যেইডা বলুম ওইডাই রাইট।
তায়েবা মুখ লটকে খেতে লাগলো।
পাশ থেকে আবরার বলল — আমার মা-বাবা কেউ নেই, দাদী। একটা দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন।
বলেই লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া আবরারের কথা শুনে তাকালো তার দিকে। আবারো চোখে চোখ পড়তেই লামিয়া নামিয়ে নিলো চোখ।
লতিফা বেগম, রাশেদা বেগম, তাহমিনা বেগম, মনিরা বেগম সবাই অবাক হলেন। রাশাদা বেগম আবরারের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো — কে বলেছে কেউ নেই? আমরা আছি। এখানে যাদের দেখছো তারা আমাদের কাছে যেমন তুমি ও আজকে থেকে আমাদের কাছে তেমন। তাই যতদিন মনে চায় ততোদিন থাকবে এখানে।
আবরার মাথা নেড়ে কৃতজ্ঞভাবে কেবল হাসলো।
হামিদ সাহেব বললো — সবাই এখন খাবার খাও, খাবারের সময়ে বেশি কথা বলার দরকার নেই।
কেউ আর কথা না বলেই খেতে শুরু করলো। টেবিলে আর একটু ‘টু’ শব্দও শোনা গেলো না।
“বাবা, আমি হামিদাকে বিয়ে করতে চাই।”
সাফওয়ানের ওই কথায় খান বাড়ির টেবিলে যেন এক বিষ্ফোরণ ঘটলো। বড়রা সবাই চমকে তাকালো আর বাড়ির ছোটরা মিটমিটিয়ে হাসলো।
শফিউর সাহেব শান্ত চোখে ছেলের দিকে চেয়ে ছিলেন, তারপর হো-হো করে হেসে বললেন—
— তুই কি মজা করছো আমার সাথে?
সাফওয়ান বিরক্ত কণ্ঠে বলল—
— বাবা, মজা করবো কেন? সত্যি বলছি। আমি হামিদাকে বিয়ে করতে চাই।
কয়েক সেকেন্ড থামলো সে, তারপর ছলছল দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় আবার বলল—
— I love Hamida and I want to be with Hamida forever, baba. I won’t live without him. I can’t see anyone with him, baba, please try to understand.আমি কোনোদিন আপনার কাছে কিছু চাইনি, কিন্তু আজ আমি কিছু চাইছি আপনার কাছে, বাবা। হামিদাকে আমি অনেক ভালবাসি। ওকে না পেলে আমি থাকতে পারবো না।
বলেই উঠে উঠে খাবার টেবিল ছেড়ে চলে গেলো।
টেবিলে সবাই স্তব্ধ হয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল । কিছুক্ষণ নীরবতা কেটে গেলো; শফিউর সাহেব হালকা করে হাসলেন।
আস্তে আস্তে সকাল, দুপুর পেরিয়ে কখন যে বিকেল হয়ে গেলো—কেউ টেরই পেলো না।
সময়টা বিকেল চারটা বেজে দশ মিনিট।
শফিউর খান সহ পরিবার নিয়ে ইসলাম বাড়িতে হাজির হলো। ইসলাম বাড়ির কর্তিরা সবাই মিলে টেবিলে খাবার সাজাতে ব্যস্ত, আর বসে বসে গল্পে মেতে উঠলো। গল্পের আসর যেন একেবারে জমে উঠেছে।
ধীরে ধীরে ইসলাম বাড়ির ছেলে-মেয়েরাও এক এক করে এসে হল রুমে বসতে লাগলো। সবাই আসলেও লামিয়ার দেখা নেই। ব্যাপারটা লাবিবের চোখ এড়ালো না। তাই সে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বললো—
— ডাকাতের দল তো সব এখানে, কিন্তু ডাকাতের সর্দারনী কোথায়?
মাহির টেবিল থেকে আপেলের টুকরো মুখে দিয়ে হেসে বললো—
— ওর কাল থেকে পরীক্ষা শুরু, তাই পড়ছে।
লাবিব ভ্রু কুঁচকে চুপ করে রইলো।
এদিকে শফিউর সাহেব চোখ ঘুরাতেই দেখতে পেলেন আবরারকে—রাশেদের পাশে বসে হাসিমুখে সবার সাথে গল্প করছে।
তিনি আনিসুল সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন—
— ও কে?
আনিসুল সাহেব হেসে বললেন—
— ওর নাম আবরার। রাশেদের বন্ধু। লন্ডন থেকে এসেছে কিছু কাজে। কয়েকদিন থাকবে আমাদের সাথে।
শফিউর সাহেব মুচকি হেসে আবরারের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। ছেলেটা ভদ্র, মিশুক প্রকৃতির এটা সবার কাছে ভালো লাগলো।
সাফওয়ান সবার মাঝে বসে থাকলেও চুপচাপ, মাথা নিচু। হামিদা সেটা খেয়াল করলো। চারপাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই নিজেদের কথায় ব্যস্ত, তখন সুযোগ বুঝে হামিদা সাফওয়ানের হাতে হালকা চিমটি কেটে দিলো। অপ্রস্তুত সাফওয়ান ব্যথায় হঠাৎ “আউ” করে চিৎকার করে উঠলো।
সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে।
শফিউর সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললেন—
— কী হলো? এভাবে চিৎকার করছো কেনো?
সাফওয়ান বিব্রত হাঁসি দিয়ে কিছু বলার আগেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো লামিয়া। নামতে নামতে বললো—
— আংকেল, সাফওয়ান ভাইকে মনে হয় কোনো তেলাপোকা খামচি মেরেছে। তাই এমন চেঁচিয়ে উঠেছে।
তার কথা শুনে ছোটরা মুখ চেপে হাসলো। হামিদা লজ্জায় মাথা নিচু করলো। সাফওয়ান চিৎকার দিয়ে নিজের বিপদ আরও বাড়িয়ে ফেললো যেন।
লাবিব কপাল কুঁচকে বললো—
— তেলাপোকা খামচি দিতে পারে?
চুল বেণী করতে করতে লামিয়া এসে লাবিবের পাশে একটু দূরত্ব বজায় রেখে বসলো। তারপর হেসে বললো
— পারবে না কেনো? অবশ্যই পারবে। আপনিও তো পারেন খামচি দিতে, তাই না?
লাবিব মাথা নাড়লো উপরে-নিচে। লামিয়া ঠোঁটে বাঁকা হাঁসি এনে বললো
— তাইলে তেলাপোকাও খামচি দিতে পারে। কারণ আপনি আর তেলাপোকা একে অপরের ভাই ভাই।
লাবিব চোখ বড় বড় করে বললো—
— এক মিনিট, তুই কি আমাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তেলাপোকা বললি?
কানের পিছনে চুল গুঁজতে গুঁজতে লামিয়া শান্ত স্বরে উত্তর দিলো
— জী না! ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলা আমার পছন্দ না। আমি আপনাকে সরাসরি তেলাপোকা বলেই সম্বোধন করেছি।
লাবিব দাঁতে দাঁত চেপে বললো—
— এখানে বড়রা আছে বলে তুই বেঁচে গেলি। নয়তো তেলাপোকা বলার শাস্তি পেতিস।
লামিয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে অন্যদিকে তাকালো।
এদিকে শফিউর সাহেব আশেপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হলেন যে সবাই উপস্থিত। তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে আনিসুল সাহেবকে বললেন
— যেহেতু সবাই আছে, একটা কথা বলতে চাই।
আনিসুল সাহেব মুচকি হেসে বললেন
— তোর যা ইচ্ছা, বলে ফেল।
শফিউর সাহেব হামিদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন
— হামিদ, তোমার কাছে যদি আমি কিছু চাই, দিবা?
হামিদ সাহেব দ্রুত চায়ের কাপ টেবিলে রেখে বললেন
— ছিঃ ছিঃ ভাই, এমন কথা বলেন কেনো? আমার সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই দিবো।
শফিউর সাহেব তাঁর হাত ধরে বললেন
— আমি যদি সাফওয়ানের জন্য তোমার বড় মেয়ে হামিদাকে চাই, তাহলে?
পুরো ইসলাম বাড়ি যেন স্তব্ধ হয়ে গেলো।
হামিদ সাহেব মেয়ের দিকে তাকালেন। হামিদা মাথা নিচু করে বসে আছে।
তারপর ভাইদের দিকে তাকালেন, তারাও দৃষ্টি বিনিময়ে সম্মতি দিলো।
শেষে আজমেরী বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো – আম্মা আপনি কি বলেন?
আজমেরী বেগম বললেন—
— সাফওয়ান তো আমাদের চোখের সামনেই বড় হয়েছে। খাঁটি পোলা। শান্ত-শিষ্ট, ভদ্র। আমার হামিদা ওর কাছে ভালোই থাকবে। আমার কোনো আপত্তি নাই। তবে আগে হামিদাকে জিজ্ঞেস কইরা নাও।
হামিদ সাহেব এবার মেয়েকে বললেন—
— হামিদা, তুমি কী বলো?
সাফওয়ান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। হামিদা মাথা নিচু রেখেই বললো—
— তোমাদের যেখানে ভালো মনে হবে, আমার কোনো আপত্তি নেই।
মুহূর্তেই সাফওয়ানের ঠোঁটে হাসি ফুটলো।
হামিদ সাহেব শফিউর সাহেবের হাত ধরে বললেন—
— ভাই, আমার কোনো আপত্তি নেই। আমরা রাজি।
সাথে সাথে হল রুমে সবাই একসাথে বলে উঠলো—
— আলহামদুলিল্লাহ!
লামিয়া সিটি বাজিয়ে দিলো, ছোটরা হৈচৈ করে উঠলো। কর্তিরা খুশিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো।
বাড়ির কর্তারা টুকটাক কথা বলতে বলতে বাইরে চলে গেলেন। হল রুমে রইলো ইসলাম আর খান বাড়ির ছেলে-মেয়েরা, আজমেরী বেগম আর শফিকুল খান।
আবির খিলখিল করে হেসে বললো—
— এই খুশিতে আজ সাফওয়ান আমাদের বারবিকিউ পার্টি দেবে রাতে!
সবাই সায় দিলো। সাফওয়ান খুশি মনে রাজিও হয়ে গেলো।
আজমেরী বেগম খুশি মনে বললেন—
— যাক, পঁচিশ বছর বয়সে তোর বিয়া হইতাছে ছেরি। আমি তো পনেরো বছর বয়সে আনিসুলরে জন্ম দিছি।
লামিয়া মুখ টিপে হেসে বললো—
— তাহলে তো দাদা বাল্যবিবাহ করেছিলো। তার উপর পনেরো বছর বয়সে বাচ্চা! ছিঃ দাদী, তোমার কালা জামাই তোমার উপর শিশু নির্যাতন করেছে।
স্বামীর ব্যাপারে যেকোনো কথা আজমেরী বেগম সহ্য করতে পারে না। লামিয়ার কথা শুনে তিনি রেগে উঠলেন—
— চুপ ছেরি! একদম কালা কবি না। আমার কালা আমার গলার মালা। হামিদার আগে তোরে বিদায় করার দরকার আছিলো। আজই ঘটকের সাথে কথা কমু। বুইড়া বুইড়া ধামরী—এক একটার বিশ-বাইশ বছর হইছে, বিয়ার নাম নাই, বাপের ঘাড়ে উইঠা খাইতাছে!
আজমেরী বেগমের কথায় লামিয়া, তায়েব, তায়েবা তিনজনই চোখ কুঁচকে তাকালো। তারা ভালোই বুঝলো যে এই খোঁচা তাদের দিকেই গিয়েছে।
আজমেরী বেগম রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেলেন নিজের রুমে। লামিয়া হিহি করে হেসে উঠলো।
রাশেদ হেঁসে বললো – কেনো তুই সবসময় দাদীকে রাগিয়ে দিস বল তো?
লামিয়া ভেংচি কেটে চুপ করে বসে রইলো।
আবরার এতোক্ষণ ধরে সবার কান্ডকারখানা চুপচাপ বসে দেখছিলো। লামিয়ার ভেংচি দেখে হালকা হেসে তাকালো তার দিকে।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৩
লামিয়া টেবিল থেকে একটা আপেল তুলে নিয়ে মুখে দিতে গিয়েই হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখলো—আবরার সরাসরি তাকিয়ে আছে তার চোখের দিকে। চোখে চোখ পড়তেই লামিয়ার বুক ধক করে উঠলো। সে দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলো। কী আছে এই চোখে, তা লামিয়া জানে না, কিন্তু এতটুকু জানে—এই মুহূর্তে সে এখানে আর থাকতে পারবে না। তাড়াতাড়ি উঠে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে গেলো।
