Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩২ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩২ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩২ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

গভীর জঙ্গলের একটা বড় পুরাতন বাড়ির মধ্যে পার্টি হচ্ছে। বড়সড় হল রুমের মাঝে দুটো মেয়ে ভীষণ অশালীন ড্রেস পরে নাচছে। তাঁর সামনের সোফায় বসে হাতে মদের বোতল নিয়ে সেই নাচ উপভোগ করছে শ্যামবর্ণের একটি যুবক, গাঁয়ে তার সাদা রঙের গেঞ্জি তাঁর উপর কালো জ্যাকেট, চুল গুলো জেল দিয়ে সজারুর গাঁয়ের কাঁটার দাঁড় করিয়ে রেখেছে, দু চোখের মনি দুটো কালো কুচকুচে । নাম তার মার্কাস। নামকরা মাফিয়া। তাঁর পাশেই বসে আছে তাঁর দলের বিশ্বস্ত চারজন রিস্কি, মনা, জোজো, মাইল্স। গানের শব্দের সাথে মাঝে মাঝে তাঁরা ও নেচে উঠছে ,বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে তাদের নাচের আসর।

দোতালা বাড়ির ছাদে কাট ফাটা রৌদ্রে বাইনোকুর্লাস চোখ নিয়ে সামনের পুরাতন বাড়ির দিকে দাঁড়িয়ে আছে ইন্সপেক্টর আরজুন সিং। পাশের দাঁড়িয়ে আছে আরো দুজন কনস্টেবল এবং একটি সিকিউরিটি ডগ।পাশ থেকে একজন কনস্টেবল বলে উঠলো ” স্যার ওইখানে কিছু দেখতে পেলেন?”
আরজুন চোখ থেকে বাইনোকুর্লাস টি নামিয়ে বাঁকা হেঁসে বললো ” দ্যাটস ইট গেট রেডি ফর অ্যাকশন”
বলেই দ্রুত হেঁটে পুরাতন বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলো।
হাঁটতে হাঁটতে পাশ থেকে একজন কনস্টেবল বলে ” স্যার আমরা তো রেডি কিন্তু স্যার ব্যাক আপ তো এখনো আসেনি।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আরজুন এক বুক সাহস নিয়ে দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে বললো ” আমরা ব্যাক আপ এর জন্য অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করতে পারবো না। নয়তো আমাদের হাত থেকে মার্কাস বেরিয়ে যাবে। ”
বলেই পুরাতন বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো। কোমড় থেকে পিস্তল হাতে নিয়ে আস্তে করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। ধীর পায়ে হেঁটে অর্ধেক এসে একটা পুরাতন কাঠের তৈরি দরজার দেখতে পেলো। সেখানে কান পাততেই ভেসে আসলো গানের শব্দ। আরজুন ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সবাইকে ইশারা করে চুপ থাকতে বলে পুরাতন দরজায় জোড়ে লাত্থি মারতেই দরজা গোল হয়ে ভেঙে সেখানে পা আটকে গেলো। পিছন থেকে কনস্টেবল রা বেশ বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো ” ইডিয়েট”

আরজুন নিজের পা বের করার জন্য বেশ ছোটাছুটি করছে।
এইদিকে দরজা ভাঙার শব্দে মার্কাস রা সবাই দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো ভাঙা দরজার অংশে কারোর অর্ধেক পা বের হয়ে আছে। তা দেখে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো সেদিকে।
অনেক কষ্টে আরজুন এর পা ছোটাতে সক্ষম হয়। তারপর এক মূহুর্ত দেরি না করে দরজার লক খুলে পিস্তল হাতে প্রবেশ করে হল রুমে। পিস্তল মার্কাস দের দিকে তাক করে বলে উঠলো ” নোবডি মুভস ! এসে গেছে আরজুন সিং। বলেই মার্কাসকে উদ্দেশ্য করে বললো ” ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল মার্কাস। বাংলাদেশে এসে তুমি অনেক বড় ভুল করেছো।কারণ এখানকার পুলিশ আমি। তাই এভরিবডি হ্যান্ডস আপ।” বলেই বেশ ভাব নিয়ে পিস্তল ঘোরাতে লাগলো।

তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে কনস্টেবল এবং সিকিউরিটি ডগ।
তখনই রিস্কি, মনা, জোজো, মাইল্স কোমড় থেকে পিস্তল বের করে আরজুনদের দিকে তাক করতেই সিকিউরিটি ডগ ভয়ে মাথা নিচু করে পালালো। তা দেখে কনস্টেবল গুলো একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ঢোক গিলে আস্তে করে রুম থেকে বের হয়ে দরজা লক করে দিলো। পিছন থেকে দরজা লক করার শব্দ শুনে কাউকে না দেখতে পেয়ে আরজুন ভয়ে ঢোক গিললো। পিস্তল মার্কাস দের দিকে তাক করে ভয়ে এক পা দু পা পিছিয়ে যেতে যেতে বললো

” ক্রিমিনাল যদি সহজেই অ্যারেস্ট হয়ে যায় তাহলে আমি ইনকাউন্টার করি না। বলেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করতে লাগলো। দরজা খুলতে না পেরে ভয়ে ভয়ে আবার বললো ” তাই ভালো এইটাই হবে তোমরা তোমাদের পিস্তল ফেলে দাও নয়তো আমি গুলি করে তোমাদের বুক ঝাঁঝরা করে দিবো।” বলেই দরজা থাপ্পড়ে কান্না জড়িত কন্ঠে চিৎকার করে বললো ” কে আছো তাড়াতাড়ি করে দরজা খুলো।”
মার্কাস আরজুনের দিকে পিস্তল তাক করে বললো ” তুই অনেক লাকি জানিস?? কারণ তোর মৃত্যু আমার হাতে হবে তাই।” বলেই একাধারে গুলু চালিয়ে দিলো আরজুনের দিকে।
রিস্কি, জোজো, মাইল্স তাঁকে ধরে বারান্দা থেকে সোজা ছুঁড়ে মারতেই আরজুন কাঁদার মধ্যে যেয়ে পড়লো।
কনস্টেবল দুটো স্যার স্যার বলে দ্রুত আরজুন কে তুলতেই আরজুন বলে উঠলো ” হারামজাদা গুলা তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যা নয়তো আমি এখন ই মারা যাবো।”
কনস্টেবল গুলো আর কিছু না বলে আরজুন কে ধরে গাড়িতে উঠিয়ে রওনা হলো হসপিটালের দিকে।

ইসলাম আর খান বাড়িতে খুশির আমেজ। আর দুদিন পর বাড়িতে বিয়ে। বাগানে বসে ছবি ল্যাপটপে কাজ করছিলো। হঠাৎ বাড়ির গেটের সামনে দুটো বাইক থামতেই ছবি আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে আবার ল্যাপটপে মনোযোগ দিলো। দারোয়ান গেট খুলে দিতেই দুটো বাইক ভিতরে প্রবেশ করলো। ছবি আবার ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে তাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তখনই বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলে দাঁড়ালো ইমন আর ইভান। ছবি তা দেখে ল্যাপটপ এর সাটার নামিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ইমন আর ইভান চোখ ঘুরিয়ে ছবির দিকে তাকাতেই দাঁত কেলিয়ে হেঁসে দৌড়ে ছবি কে জড়িয়ে ধরতেই ছবি দ্রুত সরে গেলো।

তা দেখে ইমন আর ইভান ভ্রু কুঁচকে দাঁড়ালো। বিয়ের উপলক্ষে দু দিন আগেই এসে উপস্থিত হয়েছে তাঁরা। কারণ লামিয়া তাদের দ্রুত আসতে বলেছে। কিন্তু হঠাৎ লামিয়ার এমন ব্যাবহার এ বেশ অবাক হলো। তাদের বোন তো এমন না। দেখা হলেই তো গলা জড়িয়ে ধরে সবসময় তবে আজকে কি হলো।
” হেই ইমন ইভান আমি এখানে।”
হঠাৎ চিরচেনা কন্ঠ শুনে ইমন ইভান পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো লামিয়া দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে তাঁরা ভুত দেখার মতো চমকে উঠে লাফ দিয়ে লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো।
ছবি বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
ইমন বেশ বড় বড় চোখ করে বললো ” এ…এটা কে..?”
লামিয়া বাঁকা চোখে ছবির দিকে তাকিয়ে বললো

” আমার কার্বন কপি।”
লামিয়ার কথা শুনে ছবি তেতিয়ে বললো ” তুই আমার কপি আমি না। ”
লামিয়া তা শুনে মুখ বাঁকিয়ে বললো ” কে কার কপি তা দেখাই যাচ্ছে।” বলেই ছবির জামার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।
তা দেখে ছবি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে গটগট করে চলে গেলো বাড়ির ভেতর। তা দেখে লামিয়া বিশ্ব জয়ের হাসি দিলো। ছবির এখনো কোনো জামা কেনা হয় নি তাই লতিফা বেগম লামিয়ার নতুন কিছু জামা ছবি কে দিয়েছে পড়ার জন্য। ছবি এসব কামিজ পড়ে না সে সবসময় লেডিস শার্ট, প্যান্ট পড়ে। কিন্তু এখন লামিয়ার জামা পড়াতে ছবি লামিয়া কে তেমন কিছু বলতে না পেরে রাগে গজগজ করতে করতে কেটে পড়ে সেখান থেকে।
ইভান আর ইমন লামিয়ার কাঁধ জড়িয়ে ধরে বললো ” কাহিনী কী রে?”
লামিয়া দু হাত দিয়ে ইভান আর ইমন এর কাঁধে হাত রেখে বললো ” চল বাড়ির ভেতর চল সব বলছি। ” বলেই তিনজন হাঁটা ধরলো বাড়ির দিকে।

শুভ্র কোথাও যাবার জন্য সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে হচ্ছিলো । লামিয়া, ইভান, ইমন কে এক সাথে গলায় গলা মিলিয়ে হি হি করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দেখেই শুভ্র দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো সেদিকে। তখনই কোথা থেকে মাহির, তায়েব, তায়েবা দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতেই শুভ্রর সাথে জোরে ধাক্কা লাগলো। হঠাৎ ধাক্কা সামলাতে না পেরে শুভ্র লামিয়ার উপর পড়ে যেতেই লামিয়া দু হাত শুভ্রর বুকে রেখে ধরার চেষ্টা করলো কিন্তু শুভ্রর শরীরের ভার বইতে না পেরে ঠাস করে পড়ে গেলো দুজনে।
এদিকে তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান,ইমন মুখে হাত দিয়ে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে লামিয়া আর শুভ্রর দিকে।

লামিয়ার উপর শুভ্র পড়ে আছে। তবে লামিয়ার মাথায় আর কোমড়ে হাত রেখে দিয়েছে শুভ্র জানি লামিয়ার ব্যাথা না লাগে। লামিয়া ভয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। শুভ্র তা দেখছ হাসলো। হঠাৎ শরীরে উপর কিছু ভার অনুভব করতেই চোখ মেলে তাকাতেই লামিয়ার দৃষ্টি গেলো শুভ্রর কালো কুচকুচে চোখের মনির দিকে।
তখনই তাঁর টনক নড়লো। এই চোখ সে চিনে হ্যাঁ হ্যাঁ সেদিন ওই ধোঁয়ায় এই লোকটি কেই দেখেছিলো সে। তাঁর মানে এই লোক ই সেই হুডি পড়া লোকটি..? এই..এই লোকটি সেদিন ওই ছেলেটিকে সুট করেছিলো। ভেবেই লামিয়ার শরীর কেঁপে উঠলো।
তবে নিজেকে শান্ত করলো বুঝতে দিলো না।
তবে লামিয়া যে কেপে উঠেছে শুভ্র তা বুঝতে পেরে মুচকি হাসলো। লামিয়া তা দেখে ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত হয়ে বললো

” এমন সাপের মতো পেঁচিয়ে রেখেছেন কেনো ছাড়ুন আমাকে। ”
লামিয়ার কথায় শুভ্র হালকা হেঁসে ফিসফিস করে বললো ” ছাড়তে ইচ্ছে করছে না মিস। মনে হচ্ছে সাপ এর মতো আরো শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে খেয়ে ফেলি।”
শুভ্রর এমন কথা শুনে লামিয়া চোখ বড় বড় করে শুভ্রর বুকে ধাক্কা দিয়ে আশেপাশে তাকালো। দেখলো মা চাচিরা আছে না কি কোথাও। এখন হয়তো তাঁরা রান্না ঘরে তাই এইদিকে এখন আসবে না। তারপর ও ভরসা নেই। ভেবেই লামিয়া শুভ্রর বুকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে সরিয়ে দিতে চাইলো কিন্তু শুভ্র সরলো না।
এদিকে তায়েব, তায়েবা, মাহির মুখ চেপে হাসছে। ইভান আর ইমন এখনো হা করে তাকিয়ে আছে। তাঁরা বুঝতে পারছে না হচ্ছে টা কী।
লামিয়া শুভ্রর বুকে ধাক্কা দিয়ে রেগে বললো ” উফ উঠুন অসভ্য লোক। আপনি অনেক ভার।”

শুভ্র তা শুনে হেঁসে লামিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো ” আপনাকেই এই ভার সারাজীবন বহন করতে হবে মিস।”
বলেই লামিয়ার কানের লতিতে চুমু দিয়ে উঠে চলে গেলো। কানের লতিতে চুমু দেওয়ায় লামিয়ার হালকা কেঁপে উঠলো।
শোয়া থেকে উঠে বসে পিছন ফিরে তাকালো শুভ্রর দিকে। তাঁর পর মিনমিন করে বললো ” আমি ভুল না, আর আমার ভুল হতেই পারে না। কে এই আবরার তা তো জানতেই হবে। বলেই উঠে দাঁড়িয়ে শুভ্রর পিছন পিছন ছুটলো। লামিয়া কে দৌড়ে বাড়ির থেকে বের হতে দেখে শুভ্র মনে মনে হাসলো। তারপর পিছনে তাকাতেই লামিয়া থেমে গেলো। শুভ্র লামিয়ার দিকে এগিয়ে এসে চোখে চোখ রাখলো।

লামিয়া বেশ সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। তা শুভ্র বেশ ভালো করে বুঝতে পেরেছে। তাই লামিয়ার কপালে টোকা দিয়ে বললো ” আমাকে নিয়ে বেশি মাথা খাটাবেন না মিস, বেশি মাথা খাটালে আপনার আবার মাথা ব্যথা করবে।” বলেই উল্টো দিকে হেঁটে আসতেই আবার পিছনে ঘুরে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া এখনো তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে। শুভ্র ঠোঁট কামড়ে আবার লামিয়ার দিকে এগিয়ে দাঁড়ালো। তারপর হাত দিয়ে লামিয়ার গালে আলতো করে চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো ” এইভাবে তাকাবেন না মিস নিজের সর্বনাশ নিজে ডেকে আনবেন না। আপনার এই চাহনি বদ্দ বেসামাল করে তুলে আমাকে। আমি একবার বেসামাল হয়ে পড়লে আমাকে সামলানো আপনার বেশ মুশকিল হয়ে পড়বে।
তাই এই চোখ নিচে নামিয়ে রাখবেন।”
বলেই লামিয়ার গাল ছেঁড়ে দিয়ে চলে গেলো বাইক নিয়ে। লামিয়া এখনো তাকিয়ে আছে শুভ্রর যাওয়ার দিকে। এতোক্ষণ সব কথা শুনেছে তাঁর। কিছু বলে নি তবে এইবার তার মিশনে নামতে হবে। ভেবেই বাঁকা হেঁসে উঠলো।

সময়টা সন্ধ্যা ছয়টা। আকাশে মেঘে ঢেকে আছে চারপাশ। যে কোনো সময় বৃষ্টি নামবে হয়তো।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে। এতো দিন চারজন ছিলো, আজকে আরো দুই বাঁদর যোগ হতেই তাদের দল আরো ভারি হলো। লামিয়া তাদের পাঁচজন কে বেশ ভালো করে বুঝিয়ে কিছু বলছে তাঁরা ভয়ার্ত চোখে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে সব শুনছে। লামিয়ার প্ল্যান শুনে তাদের মুখের রং পাল্টে গিয়েছে। কিন্তু তাঁরা মরে গেলেও লামিয়ার সাথেই আছে। সব প্ল্যান শেষ করে সবাই আবার হাঁটতে লাগলো। বেশ হাসা হাসি করছে, মজা করছে তাঁরা।

লামিয়া হঠাৎ হাসতে হাসতে কারোর সাথে ধাক্কা খেতেই লামিয়া হাঁসি থামিয়ে চোখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখলো হুডি পড়া একজন লোক মুখ টা মাস্ক দিয়ে ঢাকা তবে চোখ গুলো দেখা যাচ্ছে ভীষণ কালো কুচকুচে মনি । তা দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই লোকটি সরি বলে দ্রুত চলে গেলো।
লামিয়া কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই ইভান টেনে নিয়ে চলে গেলো।
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে নয়তো সবগুলো কে মেরে তক্তা বানিয়ে দিবে মা চাচি রা।
লামিয়া আর কিছু না ভেবে হাঁসি ঠাট্টা করতে করতে বাড়িতে ফিরলো।
লামিয়া রা যেতেই হুডি পড়া লোকটি পিছন ঘুরে বাঁকা হেঁসে বললো ” আমার হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না তুষার রানী।” বলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িতে উঠে বসলো।

ইসলাম বাড়ির খাবার টেবিলে বসে আছে সবাই। বাড়ির কর্তিরা খাবার দিচ্ছে সবাইকে। লামিয়া কে ডাকতেই লামিয়া নিজের রুম থেকে দৌড়ে নিচে নামতে দেখলো ছবি তাঁর জায়গা দখল করে বসে তাঁর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসছে। লামিয়া চোখ ঘুরিয়ে শুভ্রর সাথের চেয়ারে বসলো। শুভ্র শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো লামিয়ার দিকে। লামিয়া পাশ ঘুরিয়ে শুভ্রর দিকে তাকাতেই এক ভ্রু উঁচু করলো। শুভ্র নিচের ঠোঁট কামড়ে টেবিলের নিচ থেকে নিজের পা দিয়ে লামিয়ার পা পেঁচিয়ে ধরলো। লামিয়া রাগি চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে পা ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই শুভ্র লামিয়ার পা আরো শক্ত করে ধরে খাবার খাওয়ায় মন দিলো।

লামিয়া শুভ্রর দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লতিফা বেগম পিছন থেকে ধাম করে একটা কিল দিলো লামিয়ার পিঠে। লামিয়া নাক মুখ খিচে তাকালো লতিফা বেগমের দিকে তারপর হামিদ সাহেব এর দিকে তাকালো দেখলো তাঁর বাবা খাবার খাচ্ছে। লামিয়া বেশ গম্ভীর গলায় বললো ” বাবা।”
হামিদ সাহেব খেতে খেতে উত্তর দিলেন ” বলো আমি শুনছি।”
লামিয়া লতিফা বেগম এর দিকে তাকিয়ে বললো

” আমি চাচ্ছি বড় আপা, লামহার, আর আরিফ ভাইয়ের বিয়ের সাথে আরেকজনের ও বিয়ে দিতে। ”
লামিয়ার কথা শুনে সবাই ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো তাঁর দিকে।
হামিদ সাহেব খেতে খেতে বললো ” কার বিয়ে দিতে চাও?”
লামিয়া মুখে ভাতের লোকমা তুলে বললো ” তোমার বিয়ে। আমার নতুন মা চাই। এই ফারুক খন্দকার এর মেয়ে লতিফা খন্দকার কে আমি মা হিসেবে চাই না। কারণে অকারণে শুধু মারে আমাকে। ”
সবাই খাবার খাওয়া রেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো লামিয়ার দিকে। হামিদ সাহেব মেয়ের কথা শুনে কেশে হতবাক দৃষ্টিতে তাকালো মেয়ের দিকে।

লতিফা বেগম অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লতিফা বেগম রেগে লামিয়ার দিকে তেড়ে আসতেই রাশেদা, তাহমিনা,মনিরা বেগম আটকালেন তাঁকে। লতিফা বেগম রেগে ফুস ফুস করতছ করতে হামিদ সাহেব কে বললো ” তোমার মেয়ের মুখ বন্ধ করতে বলো নয়তো চিরকাল এর জন্য ওর মুখ আমি বন্ধ করে দিবো। ”
হামিদ সাহেব বেশ বিরক্ত হলেন। কথায় কথায় মেয়েদের গাঁয়ে হাত বা বকা ঝকা সে পছন্দ করেন না।
তাই বিরক্ত চোখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললো ” এতো হাইপার হচ্ছো কেনো? বাচ্চা মানুষ বলে ফেলেছে। থামো তুমি। ওও বললো আর আমি বিয়ে করে ফেলবো নাকি?”

বলেই লামিয়ার দিকে তাকিয়ে ধমকে সুরে বললো ” এখনো তুমি বাচ্চা আছো? কোথায় কী বলতে হয় জানো না? পুরুষরা চার বিয়ে করতে পারে তবে প্রথম স্ত্রী সেই বিয়েতে মত দিলে। তোমার মা আমাকে আরো একটা বিয়ে করার জন্য বললে অবশ্য আমি মানা করবো না।” বলেই স্ত্রীর দিকে বাঁকা চোখে তাকালো।
লতিফা বেগম তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে। চোখে যে তার পানি তা হামিদ সাহেব বেশ বুঝতে পারছেন।
লতিফা বেগম স্বামীর কথায় কষ্ট পেয়েছে তাই খাবার না খেয়েই উঠে চলে গেলো রুমের দিকে।
এইদিকে সবাই মুখ চেপে হাসছে। আনিসুল সাহেব ভাইয়ের কথায় ভীষণ বিরক্ত হয়েছে। হামিদ সাহেব দ্রুত খাওয়া শেষ করে প্লেটে খাবার নিয়ে চলে গেলো রুমে। তাঁর প্রাণ প্রিয় স্ত্রী রাগ ভাঙাতে হবে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩১

আস্তে আস্তে বড় রা সবাই খাবার শেষ করে উঠে চলে গেলো। বাড়ির ছোট্ট রা এখনো খাচ্ছে। শুভ্র এখনো লামিয়ার পা ছাড়ে নি। আস্তে আস্তে সবাই খাওয়া শেষ করে উঠে চলে গিয়েছে শুধু টেবিলে বসে আছে লামিয়া আর শুভ্র। শুভ্রর খাওয়া শেষ করার পর লামিয়া কে ছেঁড়ে দিলো। লামিয়া উঠে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলো। লামিয়া কে এতোক্ষণ ধরে রেখেছে কিন্তু কিছু বলে নি সে। হঠাৎ লামিয়ার নীরবতা দেখে শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চোখে তাকালো লামিয়ার যাওয়ার দিকে। লামিয়া কে কেমন সন্দেহ লাগছে দেখতে হবে বিষয়টা। ভেবেই দৌড়ে গেলো লামিয়ার পিছন পিছন।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩