প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪২
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
” আমার জন্য ওরা লামিয়া কে তুলে নিয়ে গিয়েছে লাবিব ভাই। ওরা যদি লামিয়ার কোনো ক্ষতি করে ফেলতো তখন? তখন কী হতো লাবিব ভাই। আমি নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারতাম না। “বলেই কেঁদে উঠলো ছবি।
” কিছু হবে না, তুই চিন্তা করিস না জান। শুভ্র লামিয়া কে সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসছে তো। লামিয়া সুস্থ আছে তো তাহলে এতো টেনশন কেনো করছিস?”
” তবুও নিজেকে কেমন অপরাধী লাগছে। বিশ্বাস করো লামিয়া কে কষ্ট দিয়েছি আর শুভ্র ভাইয়ের মাঝে আর লামিয়ার দূরত্ব আমি করিয়েছি ঠিক আছে আমি মানছি। কিন্তু ওর সাথে খারাপ কিছু হক আমি চাই না।”
” আচ্ছা বুঝতে পেরেছি এখন তুই শান্ত হ প্লিজ।”
ছবি চুপচাপ ফুঁপিয়ে কান্না করছে। সে ভিতরে ভিতরে বেশ পুরছে লামিয়ার জন্য। যতোই অস্বীকার করুক না কেনো, শত হলেও বোন তার খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
লাবিব ছবি কে এটা ওটা বলে শান্ত করালো। ছবির কান্না থামতেই লাবিব ছবির মুখের দিকে তাকালো। চাঁদে আবছা আলোয় দেখলো কান্নার কারণে ছবির মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। স্নিগ্ধ বাতাসে ছবির চুল গুলো উড়ছে। ছোট্ট ছোট্ট বেবি হেয়ার গুলো কপালা এসে পড়তেই লাবিব হাত বাড়িয়ে ছবির চুল গুলো কানে গুঁজে দিলো। ছবি ভেজা চোখে লাবিবের দিকে তাকিয়ে দেখলো লাবিব তাঁর দিকে কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ছবি হাত দিয়ে চোখ মুছে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে ভাঙা গলায় বললো ” এইভাবে কী দেখছেন?”
” তোকে।” বেশ হাস্কি কন্ঠে বললো লাবিব।
লাবিব এর কথা শুনে ছবি হাঁসফাঁস করে উঠলো। লাবিব সেই আগের ন্যায়ে তাকিয়ে আছে ছবির দিকে। লাবিব এর হাবভাব সুবিধার ঠেকছে না দেখে ছবি পিছিয়ে যেতে চাইলেই লাবিব ছবির কোমড় চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসলো।
ছবি হাত দিয়ে লাবিবের বুকে ধাক্কা দিলো কিন্তু লাবিব তাঁকে ছাড়ছে না।
” লাবিব ভাই ছাড়ুন আমাকে। ”
” তুই এতো সুন্দর কেন ছবি?”
” আবার শুরু করেছেন? ছাড়ুন আমাকে।”
” আমার কাছে আসলে শুধু পালাই পালাই করিস কেনো হুমমম?”
” আপনি সবসময় উল্টা পাল্টা কাজ করেন তাই।”
” উল্টো পাল্টা কাজ করার সুযোগ দিয়েছিস তুই?”
” সুযোগ না দিলেও আপনি জোর করেই করেন।” বলেই অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো ছবি।
লাবিব তা দেখে ছবির গালে হাত রেখে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। ছবি লাবিব এর চোখের দিকে তাকাতেই দেখলো লাবিব ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।
একজন আরেকজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। লাবিব আস্তে আস্তে ছবির দিকে মুখ নিয়ে এসে ঠোঁটে চুমু খেতে যাবে তাঁর আগেই পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো
” লিপ কিস কাকে বলে জানিস তোরা? একে অপরের গন্ধযুক্ত থুথু খাওয়াকে লিপ কিস বলে।” বলেই মুখ গোল করে ফেললো।
” ছ্যা ছ্যা! তাই তো এতো মানুষ অসুস্থ হচ্ছে চারদিকে।”
বেশ হতাশ কন্ঠে বললো ইভান।
” ইছছছছছ, লাবিব ভাইয়ের মুখের থেকে তো গরুর চনার গন্ধ আসে। ” নাকে হাত দিয়ে কপাল কুঁচকে বলে উঠলো তায়েবা।
” আর ছবি কি না লাবিব ভাইয়ের সেই গন্ধযুক্ত মুখের থুথু খেতে যাচ্ছিলো।” বলেই ওয়াক ওয়াক করে উঠলো মাহির।
ছবি আর লাবিব তাদের কথা শুনে চমকে পিছন ঘুরতেই দেখলো তায়েবা,তায়েব, মাহির ইভান ইমন দাঁড়িয়ে আছে।
ছবি আর লাবিব এর তাকানো দেখে তায়েব, মাহির, ইভান,তায়েবা,ইমন এক সাথে গেয়ে উঠলো
“ছিঃ ছিঃ রে ছবি ছিঃ , ছিঃ ছিঃ ছিঃ রে ছবি, ছিঃ রে ছিঃ রে ছিঃ।”
ছবি ছিটকে লাবিব এর থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকালো। তাঁর ভীষণ লজ্জা লাগছে।
ওইদিকে লাবিব বেশ বিরক্ত হয়ে তাকালো তাদের দিকে। এই দলের আশার আর সময় পেলো না। তাঁর রোমান্সের সময় এই দলের উপস্থিত হতে হলো। দলের প্রধান নেই তো কি হয়েছে এই দলের সব গুলোকে রেখে গিয়েছে তার রোমান্সে বাগরা দেওয়ার জন্য। দূর ভাল্লাগে না। ছবি আশেপাশে তাকিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলো। এখানে থাকলে লজ্জায় মারা যাবে সে।
ছবি যেতেই লাবিব আরো বিরক্ত হলো। তাই বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো ” আসার আর সময় পেলি না তোরা?”
” একদম মোক্ষম সময়ে এসেছি। যদি এখন না আসতাম তাহলে এতোক্ষণে ছবি তোমার গন্ধযুক্ত থুথু খেয়ে ভেটকি লেগে পরে থাকতো এখানে। ” বলেই হেঁসে উঠলো মাহির। তাঁর সাথে তায়েবা, তায়েব, ইভান, ইমন।
লাবিব কপাল কুঁচকে ফেললো। এদের সাথে লাগতে না যাওয়াই মঙ্গল। হয়তো সুযোগ বুঝে কোপ মেরে দিতে পারে তাকে। তাই লাবিব বেশি কথা না বলে বললো
” কী চাই তোদের?”
” লামিয়ার সাথে কথা বলিয়ে দিন লাবিব ভাই।” ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো তায়েবা।
” আমি কথা বলেছি শুভ্রর সাথে। ওরা ঠিক আছে, এখন হয়তো গাড়িতে আছে হসপিটালে যাচ্ছে ওরা।”
” হসপিটালে? মানে লামিয়া ঠিক আছে তো?” বেশ উত্তেজিত হয়ে বললো তায়েব।
” আরে শান্ত হ। লামিয়া ঠিক আছে শুভ্রর হাতে শুধু গুলি লেগেছে। তবে বেশি সিরিয়াস কিছু না। ওরা আজকে রাতে আসবে না। শুভ্রর কিছু কাজ আছে তাই কালকে সকালে বাড়িতে আসবে। তোরা এখন নিশ্চিত হয়ে ঘুমিয়ে পর। কাল সকালেই দেখবি বাড়িতে তোদের বোমা এসে পড়েছে।” বলেই তাদের পাশ কাটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো লাবিব।
তায়েবা, তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন স্বস্তির শ্বাস ফেলে নিজেদের রুমে চলে গেলো ।
।
” দুনিয়াতে এতো সুন্দর মেয়ে থাকতে ওই কাইসা মানে কায়সার আমাকেই কেনো পছন্দ করবে?”
” কারণ আপনি একজনের প্রাণ তাই।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো শুভ্রর দিকে।
” আমি কেনো অন্যজনের প্রাণ হতে যাবো?”
” এর কোনো উত্তর নেই মিস।”
” আমি কার প্রাণ মিষ্টার ডিটেকটিভ সাহেব।”
” জানি না।”
” তাহলে কী জানেন?”
” আপনি একদিন আমাকে চুমু খাবেন! এটা জানি শুধু।
” আপনি আসলেই ফালতু লোক।”
বলেই লামিয়া বিরক্ত হয়ে গাড়ির জানালার বাহিরে তাকালো। শুভ্র তা দেখে মুচকি হেসে গাড়ি চালাতে লাগলো। এতোক্ষণ পুরো রাস্তা বকবক করতে করতে এসেছে এসব নিয়ে। শুভ্র চায় না লামিয়া এসব নিয়ে চিন্তা করুক। তবুও যতটুকু সম্ভব তা বলেছে শুভ্র।
তবুও তার প্রশ্নের শেষ নেই।
শুভ্র গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ মার্কাস লামিয়ার গালে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনা মনে পড়তেই শুভ্রর চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো। আজকে মার্কাস এর হাতে রড ঢুকিয়ে ও শুভ্র শান্ত হচ্ছে না। ওই হাত শুভ্র রাখবে না।
” আচ্ছা ছবির সাথে ওই মাছের মানে মার্কাস এর কী সম্পর্ক?”
লামিয়ার কথা শুনতেই শুভ্র নিজেকে শান্ত করে পাশে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো
” কোনো সম্পর্ক নেই।”
” তাহলে ওই মাছ কেনো ছবির পিছনে লেগেছে?”
” ছবি কে তাঁর প্রয়োজন তাই।”
” আমার মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মিস্টার ডিটেকটিভ সাহেব।”
” এতো ছোট্ট মাথায় চাপ নিবেন না আমি আছি তো চাপ নেওয়ার জন্য।”
” আপনি কেনো চাপ নিবেন?”
” জানি না!”
” ভালো। আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
” আমার বাড়িতে।”
” আপনি আমাকে আবার আপনার ওই ভুতের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কেনো? আমি যাবো না ওইখানে। আর আপনার সাথে থাকতে তো একদমই চাই না।”
” না চাইলেও থাকতে হবে।”
” দেখুন আপনাকে আমার পছন্দ নয়। তাই জোড় করে রাখার কোনো মানে হয় না।”
” দুঃখিত মিস! আজকে বাড়িতে যাওয়া হবে না। আমি অনেক আগেই আপনার বাবাকে ফোনে বলে দিয়েছি।”
লামিয়া শুভ্রর কথায় আর কিছু না বলে নিজের হাতের ঘড়িতে দেখলো দশটা বাজে। পেট গুড়গুড় করছে ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে কিন্তু বলতে পারছে না। কথা বললে আরো ক্ষুধা লাগবে তাই কোনো কথা বললো না।
শুভ্র আড়চোখে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালাতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামালো একটা রেস্টুরেন্টে। শুভ্র পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো লামিয়া ঘুমিয়ে গিয়েছে। তা দেখে হালকা হেসে পিছনে জ্যাকি কে ফিসফিস করে বললো ” তোর মাম্মাকে দেখে রাখ আমি এখনি খাবার নিয়ে আসছি।”
বলেই গাড়ির দরজা লক করে চলে গেলো খাবার আনতে।
প্রায় পাঁচ মিনিট পর খাবার এনে গাড়িতে উঠে বসলো।
পাশে তাকিয়ে দেখলো সিটে মাথা রেখে ঘুমাতে লামিয়ার বেশ কষ্ট হচ্ছে। তা দেখে শুভ্র লামিয়া কে আস্তে করে টেনে নিজের কোলে তুলে নিয়ে নিজের বুকের লামিয়ার মাথা চেপে ধরলো। বুকের যন্ত্রনা একটু হলেও কমেছে তাঁর। শুভ্র লামিয়ার মাথায় গভীর চুমু দিয়ে । শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। এখন এই মেয়েকে হাজার ডাকা ডাকি করলেও ঘুম ভাঙবে না মেডামের। শুভ্র মুখে হাসি নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে গাড়ি স্টার্ট দিলো। এক হাত লামিয়ার মাথা নিজের বুকে চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে গাড়ি চালাতে লাগলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর লামিয়া হঠাৎ ঘুমের ঘোরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। লামিয়ার কান্নার শব্দে শুভ্র গাড়ি থামিয়ে অস্থির গলায় বললো ” কী হয়েছে ভ্রমর? কাঁদছিস কেনো কি হয়েছে বল আমাকে।”
লামিয়া ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অস্পষ্ট সুরে বললো ” শুভ্র ভাই যাবেন না, যাবেন না, আমাকে ছেড়ে যাবেন না শুভ্র ভাই।”
শুভ্র লামিয়ার কথা কান পেতে শুনে লামিয়া কে আরো শক্ত করে নিজের বুকে চেপে ধরে বললো ” কোথায় যাবো তোকে রেখে? কোথাও যাবো না আমি। এইতো তোর শুভ্র ভাই তোর কাছেই আছে কোথাও যায় নি তোর শুভ্র ভাই। ”
লামিয়া ঘুমের ঘোরে আরো বেশ কিছুক্ষণ বিরবর করে শান্ত হয়ে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেলো। লামিয়া কে শান্ত হতে দেখে শুভ্র স্বস্তির শ্বাস ফেলে আবার গাড়ি চালাতে লাগলো ।
।
” ঘুমা একটু ভালো লাগবে।”
” ঘুম আসছে না সাফওয়ান।”
” এতো চিন্তা করছিস কেনো?”
” জানি না তবে ভয়ে হচ্ছে খুব।”
” কীসের ভয়?”
” আজ যদি বোনটার কিছু হয়ে যেতো তখন কী হতো?” বলেই চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো হামিদার।
সাফওয়ান এগিয়ে গিয়ে হামিদার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো ” তোর বোন কী তোর মতো ভীতু যে ওর কিছু হয়ে যাবো। আমাদের লামিয়া তো অনেক স্ট্রোং গার্ল । ও নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে জানে। আর আমাদের শুভ্র তো আছেই ওর সাথে সবসময় ছায়ার মতো থাকে। আর আমাদের শুভ্র থাকতে লামিয়ার কোনো ক্ষতি হবে না।”
” তবুও!”
” চুপ একদম চুপ আর কথা নয় আর কান্না নয়। গিয়ে দেখ তোর বোন শুভ্রর পায়ে পা বেজে ঝগড়া করছে। আর চিন্তা করিস না তোর বোনের জন্য চিন্তা করার মানুষ আছে। এখন কাছে আয় দেখি আমাকে একটু দেখ আমি কতো শুকিয়ে গিয়েছি। ”
বলেই হামিদার কোমড় ধরে নিজের কাছে নিয়ে এলো।
” ছাড়ুন কী করছেন?”
” কোনো ছাড়া ছাড়ি নেই। ছাড়ার জন্য কী বিয়ে করেছি নাকি? বিয়ে করেছি ধরার জন্য, ভালোবাসার জন্য, বাচ্চা পয়দা করার জন্য।”
” উফফ , এসব লাগাম ছাড়া কথা কোথা থেকে শিখেছেন আপনি?”
” শিখতে হয় না কিন্তু বউয়ের সাথে থাকলে পেট থেকে হুর হুর করে এই লাগাম ছাড়া কথা বেরিয়ে যায়।”
বলেই হামিদার শাড়ির আঁচলের পিন খুলে দিলো।
” আরে কী করছেন?”
” চুপ একদম চুপ। আর একটা কথা যদি বলিস তাহলে অনেক খারাপ হয়ে যাবে।”
হামিদা আর কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে থাকলো। হামিদার উন্মুক্ত পেটে সাফওয়ান হাত রাখতেই হামিদা কেঁপে উঠলো। সাফওয়ান হামিদার কপালে গম্ভীর চুম্বন একে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো “আজকের রাতটা আমার তোকে চাই দিবি?”
হামিদা মাথা নিচু করে লাজুক হেঁসে মাথা নাড়াতেই সাফওয়ানের অধরে হাঁসি ফুটে উঠলো। হামিদার ফর্সা গাল দুটো লাল হয়ে গেছে তা দেখে সাফওয়ান হামিদার গালে চুমু দিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।
” যাক তোরা সুস্থ ভাবে আছিস এটা দেখেই ভালো লাগছে। এখন রাখি পরে কথা হবে।” বলেই ফোন কাটলো আবির।
লামহা এতোক্ষণ আবির কে পাগল বানিয়ে দিয়েছিলো লামিয়া কে দেখার জন্য। তাই শুভ্র কে কল করে লামিয়া কে দেখতেই লামহা শান্ত হলো।
লামহা কে শান্ত হতে দেখে আবির এগিয়ে এসে বললো
” বোন কে দেখে ভালো লাগছে?”
” হুম।”
” মন ভালো হয়েছে?”
” হুম।”
” তাহলে এখন আমার মনটা ভালো করুন।”
” দেখুন…।”
” না দেখালে দেখবো কী করে?”
” সরুন আপনি।” বলেই আবির কে সরিয়ে সামনে এগোতেই আবির লামহার হাত ধরে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
লামহা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবির লামহার ঠোঁট নিজের ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরলো। লামহা আবিরকে ধাক্কা দিলো কিন্তু আবির ছাড়লো না। বেশ কিছুক্ষণ পর আবির লামহার ঠোঁট ছেঁড়ে কোলে তুলে নিলো।
” কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন নিচে নামান।”
” খাটে।”
” কেনো?”
আবির লামহা কে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে নিজের গায়ের শার্টটা খুলে ফ্লোরে ফেলে লামহার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বললো ” পাশা খেলবো তাই।” বলেই ঝাঁপিয়ে পড়লো লামহার উপর।
গাড়ি এসে থামলো একটা পুরানো বাড়ির সামনে। শুভ্র লামিয়া কে পাঁচ কোল তুলে খাবারের প্যাকেট টা হাতে তুলে নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। তাঁর পিছন পিছন জ্যাকি।
বাড়ির দরজা খুলে বাড়িতে প্রবেশ করে চলে গেলো সিঁড়ি বেঁয়ে উপরের রুমে। খাবার টেবিলে রেখে লামিয়া কে আস্তে করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গাঁয়ে কমফোর্ট জড়িয়ে দিয়ে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে চলে গেলো গোসলে। জ্যাকি বসে বসে পাহারা দিতে লাগলো তার মাম্মা কে।
বেশ কিছুক্ষণ পর পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালো লামিয়া। আশেপাশে তাকিয়ে পুরো রুমে চোখ বোলাতেই খট করে বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। লামিয়া চোখ ঘুরিয়ে সেদিকে তাকাতেই দেখলো শুভ্র কোমড়ে টাওয়াল পেঁচিয়ে আরো একটা টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলো বাথরুম থেকে।
শুভ্র কে এই অবস্থায় দেখে নিজের অজান্তেই লামিয়ার ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেলো। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। ছেলেরাও এতো সুন্দর হয় তা লামিয়ার জানা ছিলো না। শুকনো ঠোঁট জ্বিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে শুকনো ঢোক গিললো।
শুভ্র ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আয়নায় লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেঁসে বললো ” আমি জানি আমি হ্যান্ডসাম তাই বলে আপনি আমাকে চোখ দিয়ে গিলে খাবেন মিস?”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার হুস ফিরলো। দ্রুত চোখ ঘুরিয়ে মুখ বাঁকিয়ে করে বললো ” হুহহ আপনাকে চোখ দিয়ে খিলে খাবো কেনো? দুনিয়াতে কী খাবারের অভাব পরেছে?”
” না খাবারের অভাব পরে নি তবে আমার মতো হ্যান্ডসাম ছেলের অভাব দুনিয়াতে। ”
” ওও হ্যালো বিলাতি আপনি হ্যান্ডসাম কে বলেছে?”
” আপনার হা করে তাকনোই তো বলে দিয়েছে, যে আমি হ্যান্ডসাম।”
” হুহ হ্যান্ডসাম না ছাই! আপনার চেয়ে তো আমাদের ওইখানের কালু মিয়াকেই হ্যান্ডসাম মনে হয়।”
” ওওও তাহলে আপনি ওই কালু মিয়ার দিকে ও এই চোখে তাকান?”
” কোন চোখে তাকাই?”
” এই যে একটু আগে যেই চোখে তাকিয়েছিলেন আমার দিকে।”
” আমি মোটেও আপনার দিকে তাকাই নি।”
” আমি তো দেখেছি তাকিয়েছেন। তবে তাকাতেই পারেন কারণ আমার উপর আপনার একটা হক আছে না।”
” হক? কীসের হক।”
” আপনি আমার মেয়ে মাম্মা সেই হিসেবে একটা হক আছে। ”
” দেখুন উল্টা পাল্টা কথা বলবেন না। আপনার কথা শুনলেই বিরক্ত লাগে।”
বলেই বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে উঠে রুম থেকে বের হতেই শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
” হাত ছাড়ুন ডিটেকটিভ সাহেব।”
” যদি না ছাড়ি তাহলে কী করবেন?”
” আপনার নাক ফাটিয়ে ফেলবো। ফালতু লোক ছাড়ুন হাত।”
শুভ্র হাত বাড়িয়ে লামিয়ার গালে আলতো করে স্পর্শ করতেই লামিয়া ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো।
শুভ্র এক হাত দিয়ে লামিয়ার হাত ধরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে মলম বের করে লামিয়া কে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে আলতো হাতে মলম লাগিয়ে দিতে লাগলো। লামিয়া চুপচাপ বসে রইলো । শুভ্র মলম দেওয়ার শেষে লামিয়ার দিকে তাকালো হাত বাড়িয়ে ঠোঁটে কোণে হাত রাখতেই লামিয়া চোখ বুজে ফেললো। শুভ্র কেমন ঘোর লাগা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো লামিয়ার ঠোঁটের দিকে। লামিয়া পিটপিট করে চোখ খুলতেই শুভ্রর দিকে তাকিয়ে কপালে ভাঁজ ফেললো। লামিয়া একটু পিছিয়ে যেতেই শুভ্র লামিয়ার থুতনি চেপে ধরে আস্তে আস্তে নিজের ঠোঁট লামিয়ার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে নিতেই লামিয়া শুভ্রর কপালে নিজের কপাল দিয়ে জোরে বারি মেরে দিতেই শুভ্র ব্যাথায় কপাল চেপে ধরে। লামিয়া সুযোগ বুঝে উঠে দৌড় দিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললো
” লুচু লোক। সবসময় খালি ছোঁয়ার ধান্দা করে। ধান্দাবাজ লোক।”
শুভ্র কপাল ঘষতে ঘষতে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
” চু*রি না করেও যখন চো*রের অপবাদ দিচ্ছেন তো । আজ ধান্দাবাজ কতো প্রকার ও কী কী আপনাকে দেখাবো দাঁড়ান আপনি।”। বলেই এগিয়ে গেলো লামিয়ার দিকে।
” এই খবরদার কাছে আসবেনা আমার।”
” ঠিক আছে আমি কাছে যাবো না তবে আপনি আমার কাছে আসুন।”
“না আমি যাবো না।”
” তাহলে আমি আপনার কাছে যাবো। ” বলেই লামিয়ার দিকে এগিয়ে যেতেই লামিয়া দৌড় দিতে যাবে পায়ে পা বেজে ধাপ করে ফ্লোরে পড়ে গিয়ে কুঁকড়ে উঠলো হাঁটু ধরে।
তা দেখে শুভ্র অস্থির হয়ে দৌড়ে লামিয়ার কাছে গিয়ে লামিয়ার পা ধরে অস্থির গলায় বললো ” কোথায় ব্যাথা পেয়েছিস সোনা? লাগে নি তো বেশি। জান জান বেশি ব্যাথা পেয়েছিস….?”
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪১
বলেই চুপ হয়ে গেলো শুভ্র। লামিয়া অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। শুভ্র আস্তে আস্তে মাথা তুলতেই লামিয়ার চোখে চোখ পড়লো। লামিয়া যেনো পাথর হয়ে আছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না তাঁর। যেনো কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে লামিয়া। বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্র দিকে। তা দেখে শুভ্র ভিতর ভিতর আরো অস্থির হয়ে উঠলো । আজ কি তাহলে সব শেষ হয়ে গেলো। ভেবেই শুভ্রর বুক মোচড়ে উঠলো।
