প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪১
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
~ Unnai thottal, En Ullathai
Norukka maattiyo,
Enni pola, pennai parthu
Mayanga maattiyo,
Kannil kannai, pootti vitaal
Sirikka maattiyo,
Ennai unnil, sooti vittaal
Ottikka maattiyo
Kaisa sharmana tujhe nach ke
Dikha doon
Mera ho jaye jo, mein parda gira doon
Aa tujhe akhiyon mein apne basaa loon
Aa tu na nakhre dikhaa…..
Wanna be my, chammak challo, oh oh oh
Wanna be my chammak challo, oh oh oh
গানের তালে তাল মিলিয়ে নাচচ্ছে কি*ডন্যা*পার লোক আর লামিয়া। তাঁরা নাচে বেশ মগ্ন হয়ে আছে। আশেপাশে যে তাদের কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে সেদিকে তাদের খেয়াল নেই কোনো। তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা বেশ মজায় আছে। লামিয়া কে দেখে মনে হচ্ছে না সে কি*ডন্যা*প হয়েছে। তাঁরা বেশ নাচানাচি, হাসাহাসি করছে।
ওদিকে মার্কাস আর তাঁর দলবল সব ছাদের এক পাশে এসে হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
কায়সার তাঁর দলবল নিয়ে ছাদে উপস্থিত হতেই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো লামিয়া কে দেখে।
মার্কাস বা কায়সার এখনো কেউ কাউকে দেখে নি।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
শুভ্র, আরজুন ছাদে পা দিতেই আরজুন এর চোখ কপালে উঠে গেছে। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চোখ খুললো। এতো গুলো লোককে নিয়ে এই মেয়ে নাচচ্ছে। দেখেই বেশ বিরক্ত হলো।
আরজুন বড় বড় চোখ করে অবাক কন্ঠে বললো
” এএএ ভাই এই মেয়ের জন্য তুই চিন্তায় চিন্তায় পাগল হয়ে গাড়ি ঘূর্ণিঝড়ের মতো চালিয়ে এসেছিস। কারণ এই মেয়ে নাকি একটা ফুল হায়েনাদের মাঝে আছে।
কিন্তু এখানে এসে তো দেখছি এই মেয়ে হায়েনাদের নিয়ে ডিজে পার্টি করছে। কী সাংঘাতিক মায়রি।”
শুভ্র রেগে আরজুনের পেটে কণু দিয়ে গুঁতা দিয়ে বললো ” চুপ একদম চুপ। ওই ওই মুখ যদি খুলে তাহলে তোর মুখ আমি সেলাই করে দিবো। ”
শুভ্রর হুমকিতে চুপ হয়ে গেলো আরজুন।
জীবনে মনে হয় কি*ডন্যা*প হওয়া কোনো মেয়েকে খুশিতে নাচতে দেখলো সবাই। অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেছে সবাই। কায়সার বেচারার মুখটা চুপসে গিয়েছে। সে ভেবেছিলো লামিয়া বেশ ভয় পেয়ে আছে কিন্তু এখানে এসে তো দেখছে তাঁর উল্টোটা।
গান শেষ হতেই লামিয়া আর কি*ডন্যা*পাররা হাতে তালি দিয়ে হৈহৈ করে উঠলো।
হঠাৎ লিডার লোক স্লোগান দিতে উঠলো ” জয় আম্মাজান এর জয়।”
বলতেই লোকগুলো বলে উঠলো ” জয়য়য়য়।”
তা দেখে আরজুন চোখ বড় বড় করে বললো ” ভাই তোর ফুলকে লোকগুলো আম্মাজান বলে সম্বোধন করছে কেনো? আর বিয়ের আগেই এতো গুলো বাচ্চা পয়দা করলো কীভাবে।”
শুভ্র আরজুনের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকাতেই আরজুন চুপসে গেলো।
লামিয়া আর লোকগুলো বেশ হাসাহাসি করছে। আশেপাশে তাদের খেয়াল নেই।
হঠাৎ মার্কাস হাতে তালি দিয়ে বললো ” চমৎকার, ভেবেছিলাম আমি সামনে এসে তোমাকে চমকে দিবো এখন দেখছি তুমি আমাকে চমকে দিলে তুষার রানী।”
মার্কাস এর কথায় লামিয়া আর লোক গুলো ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। লোকগুলো মার্কাস কে দেখেই দৌড়ে মার্কাস এর সামনে দাঁড়িয়ে লিডার বলে উঠলো ” বস আপনি এসেছেন! দেখুন না এই মেয়ে আমাদের মেরে কি অবস্থা করেছে। ”
লিডারের কথায় লামিয়া এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো তাঁর দিকে। লিডার প্রথম থেকে সব কিছু খুলে বলতে শুরু করলো মার্কাস কে। ওইদিকে আরজুন সব কিছু শুনে মনে হচ্ছে ৩০০ ভোল্টের ঝাটক্কা খেলো।
শুভ্র না চাইতেও হেঁসে উঠলো মাস্ক এর আড়ালে।
” তোর কথা শুনে ভেবেছিলাম মেয়েটা হয়তো সত্যি ফুল। এখন তো দেখছি জল্লাদ ভাই। কুত্তার মতো পিটিয়েছে লোকগুলো কে। আবার আম্মা ডাকতেও বলেছে। বাহ্ ভাই বাহ্ এমন ধানি লঙ্কার কোথায় পেলি তুই ভাই।” আরজুন বেশ অবাক হয়ে জিগ্যেস করলো শুভ্র কে।
শুভ্র মুচকি হেসে চুপচাপ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলো আরজুন এর কথার উত্তর না দিয়ে।
” ওয়াও তোমার কথা যতো শুনছি, তোমাকে যতোবার দেখছি ততবার ই মুগ্ধ হচ্ছি আমি তুষার রানী।”
বলতে বলতে লামিয়ার সামনে এগিয়ে আসলো মার্কাস।
লামিয়া মার্কাস কে এগিয়ে আসতে দেখে এক পা পিছিয়ে গিয়ে নাক মুখ খিচে বলে উঠলো ” ইয়াকক ওই মিয়া বছরে কয়বার গোসল করেন হ্যাঁ! গাঁয়ের থেকে বিশ্রী কুত্তার গন্ধ আসতাছে। ছিঃ নোংরা লোক দূরে সরে দাঁড়ান। ”
লামিয়ার এমন কথা শুনে সবাই ভরকে গেলো। আরজুন চোখ বড়বড় করে ফেললো। মনে হচ্ছে এখনই তাঁর চোখ বেরিয়ে আসবে।
মার্কাস মাথা নিচু করে নিজের কালো জ্যাকেট টা শুঁকে বেশ শান্ত গলায় বললো ” কোথায় তুষার রানী কোনো গন্ধ তো নেই শরীরে। আমি বেশ ব্র্যান্ড এর পারফিউম ব্যবহার করি। বিশ্বাস না করলে শুঁকে দেখো রানী।”
বলেই আরেক পা এগিয়ে আসতেই লামিয়া এক পা পিছিয়ে গেলো । বারবার মার্কাস তাঁর সামনে আসছে দেখে লামিয়া বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ” আপনার ব্র্যান্ড এর পারফিউম আপনার পিছনে ভ*রে রাখেন। খবরদার আমার দিকে আর এক পা বাড়ালে আপনার পা পায়ের জায়গায় রাখবো না। ”
লামিয়ার কথায় মার্কাস এর বেশ রাগ হলো তবে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো ” তুষার রানী এখন তো শুধু পা বাড়াচ্ছি আর একটু পর হাত বাড়াবো, আমার এলোমেলো হাত তোমার পু….।”
আর বলতে পারলো না। ঠাস করে একটা গুলি চলে গেলো তাঁদের মাঝ দিয়ে। লামিয়া চমকে দূরে সরে দাঁড়ালো। একটুর জন্য তাঁর গাঁয়ে লাগতো। মার্কাস পিছিয়ে গিয়ে অন্ধকারের দিকে তাকালো কিন্তু কাউকে না দেখতে পেয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই আরো একটা গুলি তাঁর পাশ দিয়ে চলে গেলো।
মার্কাস এর দলবল সব কোমড় থেকে পিস্তল বের করে সামনের দিকে তাক করলো। ওদিকে তাদের দেখে কায়সারের দলবল সব পিস্তল তাক করলো মার্কাস এর দিকে।
মার্কাস সরে গিয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো বেশ হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে কায়সার। কায়সার কে দেখে সে বেশ অবাক হলো।
লামিয়া পিছন ঘুরে কপাল কুঁচকে ফেললো কায়সার কে দেখে। এই আপদ আবার কোথা থেকে আসলো।
” খবরদার মার্কাস ওর দিকে তোর ওই নোংরা চোখ দিয়ে তাকালে তোর চোখ আমি তুলে ফেলবো।” রাগে চেঁচিয়ে বললো কায়সার।
” ওওহোও বিখ্যাত মাফিয়া কিং নাসির কায়সার যে! তা কী মনে করে আমার বাড়িতে পা দিলেন বস।” বেশ হেঁসে হেঁসে বললো মার্কাস।
” আমার ছন্নছাড়া পাখিকে তুলে নিয়ে এসেছিস। তাই বাধ্য হয়ে এখানে আসতেই হলো।”
মার্কাস কায়সারের কথা শুনে কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” তোর পাখি মানে?”
” তুই যাকে তুলে নিয়ে এসেছিস সে লামিয়া। আর তুই যাকে কুকুরের মতো খুঁজতে খুঁজতে লন্ডন থেকে এখানে এসেছিস সে ছবি তবে লামিয়ার মতো হুবহু দেখতে।”
” কি যাতা বলছিস?”
” আমি ঠিক বলছি। ওও আমার পাখি আমার হাতে তুলে দে আমি কথা দিচ্ছি তুই যাকে খুঁজছিস তাঁকে আমি তোর হাতে তুলে দিবো।”
মার্কাস কায়সারের কথা শুনে হো হো করে হেঁসে উঠলো।
” তুই আমাকে বোকা পেয়েছিস? তুই যা বলবি তা করবো তারপর আমার পাখিকে হাত ছাড়া করবো।”
” দেখ মার্কাস আমি সত্যি বলছি।”
” তোকে আমি বিশ্বাস করি না।”
” তুই বিশ্বাস না করলে আমার কিছু করার নেই তবে ওর গাঁয়ে তোর ওই নোংরা হাত পড়লে আমি তোকে ছাড়বো না।”
মার্কাস এর সাথে বেশ কথা কাটাকাটি হচ্ছে কায়সারের সাথে।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছে। তাই দুজনের মাঝখান থেকে সরে এসে চেয়ারে বসে একটা চিপসের প্যাকেট খুলে চিপস খেতে খেতে কায়সার আর মার্কাস এর কথা শুনতে লাগলো।
” দেখ ভাই ওও আমার পাখি।”
” বললেই হলো ওওও তোর।”
” হ্যাঁ! বললেই হলো ওও আমার।”
লামিয়া তাদের এমন কথা শুনতে শুনতে বেশ বিরক্ত হয়ে হাই তুলে পাশে তাকাতেই দেখলো ব্রাউন রঙের চুলের একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চুলগুলো দেখে মনে হচ্ছে ঘরের ঝাড়ু মাথায় লাগিয়ে রেখেছে। দেখে আরো বিরক্ত লাগলো তাঁর।
মনা, জোজো, মাইল্স, রিস্কি পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্রর বেশ রাগ লাগছে। ইচ্ছে করছে কায়সার আর মার্কাস এর মাথা গুলি দিয়ে উড়িয়ে দিতে।
দুজন লামিয়া কে নিয়ে কথা বলছে তা শুভ্র সহ্য করতে পারছে না।
হঠাৎ পিস্তল কায়সার আর মার্কাস এর দিকে তাক করে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বললো
” কেউ পালানোর চেষ্টা করবি না। পিস্তল নিচে ফেলে হাত উপরে উঁচু করে রাখ।”
শুভ্রর কথায় সবাই শুভ্রর দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো হুডি পড়া মানুষটার দিকে। এখনো মুখ দেখে নি পিছনে ঘুরে থাকার কারণে।
” ওয়াও ডিটেকটিভ অফিসার ফ্যালকন যে, আরে আসুন আসুন আপনার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম এতোক্ষণ।” গালভর্তি হাঁসি নিয়ে বলে উঠলো মার্কাস।
” তাহলে আমাদের সামনাসামনি দেখা হয়েই গেলো ফ্যালকন।” বলেই বাঁকা হাসলো কায়সার।
” হুমমমম! সামনে তো আসতে হতোই, আজ হলেও হতো কাল হলেও হতো। মালির কাছ থেকে ফুল ছিনিয়ে আনার সাহস যে দেখিয়ে ফেলেছেন আপনি। তাই আজ সামনে আসতে হলোই। ” বলে উঠলো শুভ্র।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে শুভ্রর দিকে তাকালো। গলার স্বর টা কেমন চেনা চেনা লাগছে তাঁর কাছে। আর ফ্যালকন মানে? এতো নামি দামী লোক এখানে কেনো আসবে। না এখানে হচ্ছে টা কি কিছুই তো বুঝতে পারছে না সে।
না আর না অনেক হয়েছে এইবার আর লামিয়া সহ্য করতে না পেরে তিনজনের মাঝে চেয়ার নিয়ে গিয়ে বসলো।
লামিয়ার ডান পাশে কায়সার, বাম পাশে মার্কাস, আর সামনে শুভ্র। তিনজন ই পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লামিয়া কে এভাবে তাদের মাঝে বসতে দেখে তিনজন তাদের কথা রেখে ভ্রু কুঁচকে লামিয়ার দিকে তাকালো।
তাঁদের এমন থেমে যেতে দেখে লামিয়া আরাম করে বসে দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলো ” কী হলো থেমে গেলেন কেনো আপনারা? শুরু করুন , আপনাদের ঝগড়া দেখতে বেশ ভালো লাগছে। অবশ্য আমি আপনাদের কাউকে তেমন চিনি না তবে আমাকে নিয়ে এই যে আপনারা ঝগড়া করছেন, আপনাদের ঝগড়া দেখে নিজেকে বলিউড এর নায়িকা মনে হচ্ছে কেনো জানি। শুরু করুন ঝগড়া, এই ঝগড়ায় যে একজন জিতবে আমি তাঁর হেনা। আর যে দুজন হারবে তাদের থেকে একজন হবে মুন্না, আর একজন হবে বাপ্পারাজ।”
” তাহলে লটারি তে জিতবো তো আমি।” বাঁকা হেঁসে বললো মার্কাস।
” ওকে তো আমি নিয়ে যাবো।” লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো কায়সার।
শুভ্র রাগ যেনো তরতর করে বাড়ছে।
” ওও কোনো বাজারের পণ্য নয় যে ওকে নিয়ে বাজি
বা লটারি ধরবো। তাই এসব কথা বার্তা বন্ধ করে চুপচাপ ওকে ছেড়ে দে।” বেশ শক্ত গলায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো শুভ্র।
লামিয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকাতেই দেখলো শুভ্র লাল টুকটুকে চোখ নিয়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে লামিয়া কেঁপে উঠলো। এই চোখ সে চিনে। সেদিন রাস্তায় এই চোখ সে দেখে ছিলো । তাঁর মানে সেদিন ফ্যালকন ছিলো। কিন্তু কে এই ফ্যালকন? কেনো এসেছে তাঁকে বাঁচাতে। অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর মাথায়।
হঠাৎ জ্যাকি ঘেউ ঘেউ করতে করতে লামিয়ার দিকে দৌড়ে আসতে লাগলো। লামিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে জ্যাকি কে দেখে বেশ অবাক হলো। হাঁটু নিচু ভেঙে বসে জ্যাকির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বেশ অবাক কন্ঠে বললো ” তুই এখানে কীভাবে জ্যাকি?”
জ্যাকি কোনো কথা না বলে লেজ নাড়াতে লাগলো।
জ্যাকি কে দেখে মার্কাস তাঁর দলবলের দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করতেই মনা ইশারা দিয়ে কিছু বলতেই মার্কাস দীর্ঘ শ্বাস ফেলে গান আবার শুভ্রর দিকে তাক করলো। কায়সার গান তাক করেছে মার্কাস এর দিকে। শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে কোমড় থেকে আরো একটি গান বের করলো। এক হাত দিয়ে কায়সার আর আরেক হাত দিয়ে মার্কাস এর দিকে তাক করলো পিস্তল। এই মেয়েকে বাঁচাতে আজ যে ভীষণ ধকল যাবে তাঁর উপর দিয়ে সেটা সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।
মার্কাস আর কায়সার তা দেখে বাঁকা হাসলো।
লামিয়া এবার ভেবে পাচ্ছে না জ্যাকি কোথা থেকে এলো। এসব চিন্তা পরে করা যাবে এখন আগে সামনে কি হয় তা দেখতে হবে ভেবেই ঘাড় ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই খিলখিল করে হেঁসে উঠলো।
পুরো নাট্যমঞ্চ হয়ে উঠেছে এখানে।
অন্ধকারে ভয়ে লুকিয়ে আছে আরজুন। পুলিশ হলেও আরজুন বেশ ভীতু একজন লোক। তবে এই মুহূর্তে নিজের বন্ধু কে এভাবে দেখে তাঁর ভীষণ খারাপ লাগছে। তাই সে ঠিক করলো আজ বন্ধুর হয়ে লড়বে।
ওই দিকে লামিয়া হাসছে। তাঁর ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে। তিনটি ছেলে নাকি তাঁর জন্য ঝগড়া করছে। হাসতে হাসতে চেয়ারের উপর উঠে দাঁড়িয়ে বললো
” যেহেতু এখানে বলিউড মুভির শুটিং চলছে তাহলে একটা গান না গাইলে মুভি তো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তাই না। তাই আমি ঠিক করেছি এখন আমি একটা গান পরিবেশন করবো, এই পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে। ”
লামিয়ার কথা শুনে সবাই লামিয়ার দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকালো। শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মনে মনে বললো ” সিরিয়াস মূহুর্তে ও এই মেয়ের মজা শুরু করেছে। আজ এখান থেকে বেঁচে ফিরি তারপর তোকে গান আর নাচ কাকে বলে পুরো শিখিয়ে দিবো।”
~ mere naam ka tattoo bana ke, purse mein
Photo chhupa ke
Aage piche ghoome jaane kitne deewane
Lag rahe hain dekho saare aashiq puraane
Kaheen pe nigaahein hain ji, kaheen pe
Nishaanein
Ek hi toh dil hai mera, gift mein kiss,kiss ko du
Majnuon ki bheed meain akeli lamiya
Hai tuuu tuuu tuuu tuu tuu.
বলতে বলতে নেচে নেচে গেয়ে উঠলো লামিয়া। সবাই ভেবে পাচ্ছে না কি রিকয়েক্ট করবে।
” আমি সিউর এই মেয়ে পাগল।” মনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো রিস্কি।
মার্কাস ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। কেমন জানি লাগছে কারণ তাঁর তুষার রানী তো এমন চঞ্চল নয়। এই কয়েকদিনে এতোটা চেঞ্জ কীভাবে হয়ে গেলো। বেশ ভাবাচ্ছে মার্কাস কে।
অন্ধকারে আরজুন দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসতেই পায়ে পা বেজে পড়ে যেতে নিলেই নিজেকে সামলে নিয়ে পিছিয়ে গেলো। আরো একটু পিছিয়ে যেতেই আরজুন এর বামে ঠুস করে কিছু ঢুকে যেতেই চেঁচিয়ে উঠলো। হাতে তাঁর গান ছিলো ভুলে ট্রিগারে চাপ লাগতেই ঠাস করে গুলি বেরিয়ে গেলো।
ওদিকে গুলির শব্দ শুনতেই মনা, জোজো, মাইল্স, রিস্কি আর মার্কাস এর দলবল আর নিহিড় কায়সারের দলবল ভেবেছে তাদের কে হামলা করার জন্য সিগন্যাল দিয়েছে। তাই তাঁরা আর দেরি না করে গুলি ছুঁড়তে লাগলো। কায়সার আর মার্কাস মাথা নিচু করে দ্রুত নিজেদের বাঁচাতে আড়ালে গিয়ে গুলি ছুঁড়তে লাগলো।
লামিয়া আশেপাশে তাকিয়ে জ্যাকি কে জড়িয়ে ধরে মাথা নিচু করে বসে আছে। শুভ্র দৌড়ে লামিয়া কে বসা থেকে তুলে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরলো।
নাকে চেনা পরিচিত পারফিউম এর ঘ্রাণ আসতেই লামিয়া বেশ অবাক হয়ে তাকালো হুডি পড়া লোকটির দিকে। দু দলের মাঝে বেশ মারামারি হচ্ছে দেখে শুভ্র লামিয়ার হাত চেপে ছাদ থেএ নামতেই দেখলো কায়সার তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। শুভ্র লামিয়ার কাঁধ ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসে কঠিন দৃষ্টিতে তাকালো কায়সারের দিকে।
” আমি থাকতে তুই ওকে কোনোদিন ও নিতে পারবি না ফ্যালকন।” বেশ শক্ত গলায় বললো কায়সার।
” নিজের জিনিস কে কীভাবে রক্ষা করতে হয় তা আমি বেশ ভালো করেই জানি। নিজের ভালো চাস তো সরে দাঁড়া সামনে থেকে।” রাগি কন্ঠে বললো শুভ্র।
” অন্যের কাছ থেকে নিজের জিনিস কীভাবে ছিনিয়ে নিতে হয় সেটা খুব ভালো করেই আমি জানি।” বলেই পকেট থেকে গান বের করলো।
শুভ্র লামিয়া কে সাইডে সরিয়ে বললো ” ছুঁয়ে দেখা পারলে।”
লামিয়া হা করে একবার কায়সারের দিকে তাকাচ্ছে আর একবার শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছে। তাঁর কাছে কালো হুডি পড়া লোকটাকে বেশ সাইকো লাগছে তবে কেনো যেনো মনে হচ্ছে এই লোকটার কাছে সে নিরাপদ থাকবে।
কায়সার পিস্তল ফেলে শুভ্রর মুখে ঘুষি মারতেই শুভ্র সরে গিয়ে কায়সারের নাকে ঘুষি মারতেই কায়সারের নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে এলো।
কায়সার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নাকের রক্ত মুছে দৌড়ে গিয়ে শুভ্র কে ঘুষি মারতে গেলেই শুভ্র তাঁর হাত ধরে ফেলে। কায়সার বাঁকা হেঁসে তাঁর মাথা দিয়ে শুভ্রর নাকে বারি মারতেই শুভ্রর নাক ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোতে লাগলো।
লামিয়া এবার বেশ সিরিয়াস হলো। এতোক্ষণ মজার মুডে থাকলেও এই পরিস্থিতিতে মজা করার মুড তার একদম ই নেই। বেশ সিরিয়াস মুড নিয়ে শুভ্র আর কায়সারের মারামারি দেখছে।
হঠাৎ পিছন থেকে মার্কাস লামিয়ার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরতেই লামিয়া ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো।
” আহ্! হারামজাদা এই বাল চুল ছাড় আমার। নয়তো তোর হাত ভেঙে হকি খেলবো।”
তবুও মার্কাস লামিয়া কে ছাড়ছে না। জ্যাকি দৌড়ে মার্কাস এর কাছে আসতেই জ্যাকির উপর নেটের জাল
ফেলে দিয়ে জ্যাকি কে আঁটকে দিলো। কারণ তাঁরা জানে এই কুকুর বেশ ডেঞ্জারাস। জ্যাকি ঘেউ ঘেউ করছে।
ওদিকে লামিয়ার চিৎকার শুনে শুভ্র কায়সার কে রেখে পিছন দিকে তাকাতেই শুভ্র আরো হিংস্র হয়ে উঠলো।
এই সুযোগে কায়সার পাশ থেকে রড তুলে শুভ্রর মুখে বারি বসিয়ে দিতেই শুভ্রর গাল কেটে রক্ত গড়িয়ে পড়লো। শুভ্র ভয়ংকর দৃষ্টিতে কায়সারের দিকে তাকিয়ে বুকে নিজের শক্তি দিয়ে লাত্থি বসিয়ে দিতেই কায়সার ছিটকে দূরে সরে পাড়লো। শুভ্র পাশ থেকে রড তুলে দৌড়ে এগোতে লাগলো মার্কাস এর দিকে।
আরজুন এই অবস্থা দেখে এতোক্ষণ ভয়ে বের হয়নি তবে লামিয়া কে মার্কাস চুল ধরেছে দেখে তাঁর ভীষণ রাগ লাগলো। নিজেকে আর না লুকিয়ে দৌড়ে মার্কাস কে আটকাতেই রিস্কি আরজুন কে ঘুষি মেরে বসলো।
একবারে ছাদের কিনারে মার্কাস লামিয়া কে এনে
এক হাত দিয়ে শক্ত করে চুলের মুঠি চেপে অন্য হাত দিয়ে লামিয়ার গাল চেপে ধরতেই লামিয়া আবার চেঁচিয়ে উঠলো ব্যাথায়। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু মার্কাস এর সাথে পারছে না। উপায় না পেয়ে লামিয়া মার্কাস এর হাঁটুতে লাথি মেরে বসলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় মার্কাস লামিয়া কে ছেঁড়ে দিয়ে চোখ মুখ বুঁজে একটু দূরে সরে দাঁড়ালো। লামিয়া ছাড়া পেতেই উল্টো দৌড় দিতে যাবে তাঁর আগেই মার্কাস লামিয়ার ঘাড় ধরে নিজের কাছে আনতেই টনক নড়ে উঠলো তার। এতোক্ষণ অন্ধকারে তেমন খেয়াল করে নি সে। তবে লাইটের আবছা আলো লামিয়ার মুখ পড়তেই মার্কাস ভ্রু কুঁচকে লামিয়ার ঠোঁটের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো। ভালোমতো লামিয়ার মুখে চোখ বোলাতেই রেগে গেলো। রেগে গিয়ে লামিয়ার গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। গালে শক্তপোক্ত হাতের থাপ্পড় পড়তেই লামিয়ার ঠোঁট কেটে রক্ত বেরিয়ে এলো। মার্কাস লামিয়ার গলা চেপে ধরে রেগে হিসহিসিয়ে বললো ” কে তুই? তুই আমার তুষার রানী না! বল কে তুই নয়তো মেরে ফেলবো। তোর ঠোঁটে তিল নেই কেনো? বল আমার তুষার রানী কোথায়?”
লামিয়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকলো কিন্তু পারলো না। হঠাৎ মার্কাস এর মাথায় শক্ত পোক্ত রডের বারি পরতেই সে লামিয়া কে ছেঁড়ে দিলো। ছাড়া পেতেই লামিয়া কেশে উঠলো। শুভ্র ইচ্ছে মতো মার্কাস এর পুরো শরীরে পাগলের মতো রড দিয়ে পেটাতে লাগলো।
লামিয়া কাঁশতে কাঁশতে চোখ মুখ শক্ত করে শুভ্রর থেকে রড টা নিজের হাতে তোলার আগেই শুভ্র মার্কাস
এর ডান হাতে রড গেঁথে দিলো। মার্কাস চিৎকার করে উঠলো। শুভ্র মার্কাস এর ডান হাত থেকে রড বের করে
আবার বাম হাতে গেঁথে দিলো। মার্কাস ব্যাথায় আরো জোড়ে চিৎকার করে উঠলো।
ওদিকে শুভ্রর এমন রূপ দেখে সবাই ভয়ে যে যার মতো দৌড়াতে লাগলো। কারণ তাঁরা জানে ফ্যালকন কতোটা ভয়ংকর। কায়সার একবার লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নেমে গেলো।
লামিয়া বেশ ভীত চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। কে এই লোক, এতোটা ভয়ংকর কেনো এই লোক।
লামিয়া কাঁপা কাঁপা পায়ে পিছিয়ে গেলো।
” এই হাত দিয়ে ধরেছিস তাই না? তোর এতো সাহস আমার ফুলের দিকে হাত বাড়িয়েছিস। তোর সাহস কী করে হয় ওর গাঁয়ে হাত তোলার? হুমমম! ওর গাঁয়ে তো কাউকে হাত তোলার অনুমতি দেই নি আমি! তাহলে তুই কেন দিলি ওর গাঁয়ে হাত হুঁ। গাঁয়ে হাত যেহেতু দিয়েছিস তাহলে সেই হাত আমি রাখবো না। ” বলেই আবারো রড দিয়ে মার্কাস এর হাতে বারি দিতেই মার্কাস ওই ক্ষত হাত দিয়েই রড ধরে ফেললো। শোয়া থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রড ধরে টানতে লাগলো।
হঠাৎ পিছন থেকে জোজো এসে শুভ্রকে পিছন থেকে লাথি বসিয়ে দিলো পিঠে।
আচমকা পিঠে লাত্থি পরতেই শুভ্র তাল সামলাতে না পেরে সামনে এগিয়ে গেলো।
জোজো, মাইল্স, রিস্কি,মনা চারজন গোল করে ঘিরে ধরলো শুভ্র কে। লামিয়া তা দেখে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কিছু আছে নাকি। হঠাৎ চোখ গেলো ফ্লোরে বসে থাকা রক্তাক্ত আরজুন এর দিকে। তাঁর মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। তাকে দেখে লামিয়ার ভ্রু কুঁচকে এলো।
এখানে কী করছে এই লোক। আরজুনের দিকে চোখ বুলাতেই চোখ পড়লো আরজুনের সামনে পরে থাকা গানের দিকে। লামিয়া আর কিছু না ভেবে দৌড়ে গিয়ে
গান তুল নিলো। আরজুন লামিয়া কে দেখে হালকা হেসে বললো ” আপনি ঠিক আছেন?”
লামিয়া এক নজর তাকিয়ে কিছু না বলে উল্টো দিকে ঘুরে কাঁপা কাঁপা হাতে জোজোর পা বরাবর সুট করতেই জোজো পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়লো।
তা দেখে মনা ঘুরে লামিয়ার দিকে গান তাক করলো।
হঠাৎ পুলিশের গাড়ির শব্দ শুনতেই জোজো, মাইল্স, রিস্কি,মনা, মার্কাস পালতে চেষ্টা করলো। তবে পালানোর আগে মনা এক অঘটন ঘটালো লামিয়ার দিকে পিস্তল তাক করে বাঁকা হেঁসে বললো ” গুড বাই” বলেই ট্রিগার চাপ দিলো। ঠাস করে গুলি লামিয়ার গাঁয়ে লাগতেই লামিয়া চোখ বন্ধ করে রাখলো। শুভ্র দৌড়ে এসে লামিয়ার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াতেই গুলি শুভ্রর হাত ভেদ করে বেরিয়ে গেলো।
” শিট! একটা কাজ ও ঠিক ঠাক মতো করতে পারো না। এখন তাড়াতাড়ি চলো।” বলেই মাইল্স মনা কে টেনে নিয়ে গেলো।
লামিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। শুভ্র হাত চেপে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো ফ্লোরে। লামিয়া ভেবে পাচ্ছে না এই লোক নিজের জানের পরোয়া না করে তাকে কেনো বাঁচাতে এসেছে। না আর কিছু ভাবতে পারছে না। কে এই লোক দেখতেই হবে ভেবেই কাঁপা কাঁপা হাতে আচমকা শুভ্রর মুখের মাস্ক খুলতেই চমকে উঠলো। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ” আ….আপনি?”
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
” হ্যাঁ আমি মিস কেনো শক্ট আপনি?”
” আপনি তাঁর মানে।”
” হ্যাঁ আমি ফ্যালকন।”
লামিয়া কেমন চুপসে গেলো। শুভ্র তা দেখে হালকা হেসে বললো ” আপনার পটর পটর শেষ হয়ে গেলো কেনো মিস? আপনাকে এমন চুপচাপ দেখতে ভালো লাগে না। একটু আগে কী সুন্দর নাচ, গান করলেন আর এখন চুপ। এটা কিন্তু দেখতে ভালো লাগছে না।”
লামিয়া শুভ্রর কথায় উত্তর না দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে শুভ্রর হুডির হাতা উঠাতে চাইলো কিন্তু পারলো না। শুভ্র চুপচাপ তাকিয়ে দেখতে লাগলো তাঁর মিস কী করে।
লামিয়া হুডির হাতা উঠাতে না পেরে মুখ ফুলিয়ে বললো ” হুডি খুলুন।”
” কেনো?”
” খুলতে বলছি খুলুন দ্রুত।”
শুভ্র ব্যাথা হাত নিয়েই ঝটপট খুলে ফেললো হুডি। শুভ্রর হুডি খুলতেই লামিয়া মুখ ছোট্ট করে বললো ” অনেক রক্ত পরছে তো আপনার হাত থেকে।”
” পড়তে থাকুক সমস্যা কোথায়?”
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো ” সমস্যা কোথায় মানে? অনেক সমস্যা হবে জানেন আপনি।”
” হলে আমার হবে আপনার তো আর হবে না।”
লামিয়া বেশ বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে শুভ্রর মুখের দিকে তাকালো। শুভ্র তার ঠোঁটের কোণে হাঁসি নিয়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
লামিয়া আশেপাশে তাকিয়ে হঠাৎ শুভ্রর গায়ের শার্ট খুলতে বললো। শুভ্র ও চুপচাপ খুলে দিলো। লামিয়া শুভ্রর শার্ট গাঁয়ে জড়িয়ে নিজের উড়না গাঁয়ে থেকে টেনে খুলে ফেললো। শুভ্র কপালে ভাঁজ ফেলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই লামিয়া মুখ বাঁকিয়ে বললো
” ধন্যবাদ দিতে হবে না, ধন্যবাদের বদলে আমাকে পাঁচ সেট কামিজ কিনে দিতে হবে বুঝলেন। ” বলতে বলতে শুভ্রর হাতে উড়না পেঁচিয়ে দিলো। আগে রক্ত থামানোর দরকার।
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে মুচকি হেঁসে হাত বাড়িয়ে লামিয়ার ঠোঁটের কোণে রক্ত মুছে দিয়ে আলতো করে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে লামিয়ার গাল স্পর্শ করতেই লামিয়া কেঁপে উঠলো। লামিয়ার গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ পড়ে নীল হয়ে গিয়েছে। তা দেখে শুভ্রর চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো।
” আপনাদের রোমান্স শেষ হয়েছে নাকি আরো বাকি আছে।” অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে উঠলো আরজুন।
” ঠ্যাং এর সিং আপনি কি বললেন?” বেল ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো লামিয়া।
” না না কিছু না আমি বলেছি যে আপনাদের বাঁধা বাঁধি শেষ হলে নিচে চলুন গাড়ি এসেছে।” জোর করে ঠোঁট টেনে হেঁসে বললো আরজুন।
শুভ্র তা শুনে হেঁসে উঠে দাঁড়িয়ে বললো ” চলুন মিস যাওয়া যাক।” বলেই হাত বাড়িয়ে দিলো লামিয়ার দিকে। লামিয়া মুখ বাঁকিয়ে হাত না ধরে নিজেই উঠে দাঁড়িয়ে বললো ” আপনি যেতে পারবেন নাকি ঘাড়ে তুলে নিয়ে যেতে হবে আপনাকে ?”
” ঘাড় যদি হয় আপনার তাহলে আমার উঠতে কোনো সমস্যা নেই মিস। নিয়ে নিন তাহলে। ”
লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” আপনি এই নিষ্পাপ শিশুর ঘাড়ে চড়লে তো আমি মরেই যাবো। আমি তো এমনেই বলেছি। ”
” আপনার ঘাড়ে চড়লে যদি আপনি মারা যান তাহলে আমি তাহলে আপনাকে আমার ঘাড়ে চড়াই কি বলেন?” বলেই চোখ মারলো শুভ্র।
” মানে?”
” মানে হলো…” বলেই আচমকাই লামিয়া কে পাঁচ কোল তুলে নিয়ে হাঁটতে লাগলো শুভ্র। লামিয়া ভয়ে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে বললো ” ছাড়ুন ফালতু লোক। কথায় কথায় ধরাধরি শুধু তাই না!”
” মিস ধরাধরি আর করতে পারলাম কোথায় তবে আপনি যদি চান ধরাধরি করে দেখাতে পারি।”
” আআআ ফালতু লোক নিচে নামান আমাকে।”
” উফফ মিস এভাবে চিৎকার করছেন কেনো। দশতলা সিঁড়ি বেয়ে উপরে তো আপনাকে তুলে আনা হয়েছে। তবে এখন নিচে নামতে গেলে আপনার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাঁর চেয়ে ভালো কোলে থাকুন। ”
” আমাকে নামিয়ে দিন! আমি হাঁটতে পারবো। শুধু শুধু আপনার কষ্ট হবে।”
” আপনাকে কোলে তুলতে আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না বরং বেশ ভালোই লাগছে মিস।”
” লুচু লোক, লুচ্চামি করার সুযোগ খুঁজেন শুধু তাই না। ছাড়ুন নামান আমাকে।”
” যদি লুচ্চামি করার সুযোগ দেন তাহলে করে দেখাতে পারি। ”
” ফালতু লোক।”
” শুধু আপনার ফালতু আর কারোর নয়।”
” আপনি আসলেই একটা ফালতু।”
” হুমম! শুধু আপনার জন্য।”
” ছাড়ুন আমাকে।”
” ছাড়বো না।”
” ছাড়ুন বলছি।”
” ছাড়ার জন্য ধরি নি মিস।”
” আপনাকে আমি ছাড়বো না। ”
” ছাড়তে বলেছে কে মিস? ধরে রাখুন, বেঁধে রাখুন, আগলে রাখুন আপনার বুকে আমি চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকবো সমস্যা নেই আমার।”
” সবসময় কথা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেন কেনো?”
” কারণ আমি মানুষ টাই উল্টো তাই।”
” আমি উল্টো মানুষ পছন্দ করি না।”
” সমস্যা নেই আমি সোজা মানুষ পছন্দ করি।”
তাঁদের এই দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া দেখে আরজুন হেঁসে উঠলো। তারপর জ্যাকির দিকে তাকিয়ে বললো ” তোর পাপা আর মাম্মার জুটি কিন্তু সেই তাই না রে?”
জ্যাকি লেজ নাড়িয়ে ঘেউ ঘেউ করে উঠতেই আরজুন হেঁসে উঠলো। তারপর সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে সামনে তাকিয়ে দেখতে লাগলো দুষ্টু শুভ্র কে।
এই মেয়ের জন্য শুভ্র কতো পাগলামি করেছে, কান্না করেছে । তাঁকে সামলাতে কতো কিছু করতো তাঁরা তবুও এমন কোনো রাত নেই যে শুভ্র লামিয়া লামিয়া বলে না কাঁদতো। প্রতিদিন রাত শুভ্র কান্না করতো লামিয়ার জন্য। আজ তাঁর বন্ধুর হাঁসি মুখ দেখে আরজুন ও বেশ খুশি হলো।
” আপনি একটা বিরক্তিকর লোক।”
” হুমম! তবুও আমি আপনার। ”
” চুপ করুন ফালতু লোক।”
” তবুও শুধু আপনার ফালতু লোক।”
” উফফ!”
” এই শব্দ করলে আমার মন কেমন জানি করে মিস।”
” চুপপপপ করুন , খারাপ লোক।”
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪০
লামিয়ার কথা শুনে উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো শুভ্র।
লামিয়া শুভ্রর হাসির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। একটা ছেলের হাঁসি এতো সুন্দর হয় কি করে।
