Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

ইসলাম বাড়ির হল রুমে বসে আছে আজমেরী এবং রাবেয়া বেগম। হামিদা ট্রে তে করে চা নিয়ে এসে বসলো তাদের সাথে। টুকটাক কথা বলতে বলতে হামিদা গল্প করতে লাগলো। অফিসে কিছু কাজ থাকার কারণে আজকে বাড়ির সব ছেলেরা অফিসে গিয়েছে তাদের আসতে আসতে সন্ধ্যা হবে। বাড়িতে আছে সব মেয়েরা। বাড়ির কর্তা কর্তিরা এখনো আসে নি গ্রাম থেকে। হামিদা আজমেরী আর রাবেয়া বেগমের সাথে কথা বলতে বলতে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো ছবি, লামহা, আয়না হাফসা, ফারিয়া , শারমিন সবাই নিচে নেমে আসলো। তাঁরাও তাঁদের সাথে যোগ দিলো।‌ কথা বলতে বলতে তখন ই ধুপধাপ পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো মাহির, তায়েব,তায়েবা লামিয়া আর তোয়া। পাঁচজন কে এমন দৌড়িয়ে সিঁড়ি থেকে নামতে দেখে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাদের দিকে।
আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে বললো ” তোরা অমন তাড়াহুড়ো কইরা কোই যাইতাচ্ছোস..?”
তায়েবা ব্যাস্ত গলায় জবাব দিলো

” কাজ আছে দাদী একজায়গায় যাচ্ছি। ”
পাশ থেকে আবিরা বেগম বললো
” কাজ মানে আর একটু পর সন্ধ্যা নামবো আর তোগো এইসময় কী কাজ..?”
আবিরার কথায় লামিয়া বললো
” পরেই দেখতে পারবে। এখন এতো কথা বলার সময় নেই।” বলেই হামিদার দিকে তাকিয়ে বললো
” বড় আপা দরজা বন্ধ করে বস। অচেনা মানুষ আসলে দরজা খুলবি না। আমরা এখন ই এসে পড়বো। ” বলেই বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে চারজন। তোয়া গিয়ে চুপচাপ তাঁর দাদীর সাথে বসে রইলো।
হামিদা সবার মুখের দিকে তাকিয়ে উঠে গেলো দরজা লাগাতে। তাঁর বোন কেনো বলে গেলো এই কথা বুঝতে পারছে না। তবুও লামিয়ার কথা মেনে দরজা লাগিয়ে গিয়ে বসলো সবার সাথে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

তখনই আবিরা বেগম মুখ কুঁচকে বললো ” বুবু তোমার নাতি নাতনি গুলারে এমন খোলা মেলা ঘুরতে দিতাছো এইডা কী ঠিক কও ..? দিন কাল তো ভালা না। আর না কইয়া কোথায় গেলো কিছু তো কইয়া গেলো না।”
আজমেরী বেগম আবিরা বেগম এর কথা শুনে বললো ” হুনন আমার নাতি নাতনি রা এক একটা আইটেম বোম। ওরা কারোর কথা শুনবো না। আর দিন কালের কথা কইতাচ্ছোস ওগো রে দেখলে খারাপ দিন কাল এমনেই ভালা হইয়া যাইবো। কিন্তু যহন কইছে ওগো কাজ আছে তাঁর মানে কোনো না কোনো কারণেই বাহির হইছে। ”
আবিরা বেগম আজমেরী বেগমের এর কথা কথায় মুখ বাঁকিয়ে নিলো।

” এটা কী করে সম্ভব..? আমাদের সেদিন যে বাঁচিয়েছে সে মেয়ে ছিলো..?” বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো রাশেদ।
” হ্যাঁ সে মেয়ে ছিলো…।” শুভ্র ছোট্ট করে উত্তর দিলো।
” এটা কী ভাবে সম্ভব..? তুই কী সিওর শুভ্র..?” পাশ থেকে লাবিব বলে উঠলো।
” আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট ডাকাতের সর্দার কোনো পুরুষ নয়, মেয়ে ছিলো।”
পাশ থেকে জাহিদ বললো ” তুমি এতো সিওর ভাবে কীভাবে বলছো..? যে ওইটা মেয়ে ছিলো।”
জাহিদের কথায় শুভ্র চোখ ঘুরিয়ে জাহিদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো ” ডাকাতের সর্দার আমাকে বাঁচাতে আমার বাড়িতে ও গিয়েছিলো।”

শুভ্রর কথায় রাশেদ, জাহিদ,লাবিব বেশ অবাক চোখে তাকালো শুভ্রর দিকে।
লাবিব আশ্চর্য হয়ে বললো ” মানে..?”
শুভ্র মাথা নাড়িয়ে বললো ” হুমম..! সেদিন গিয়েছিলো আমার বাড়িতে। যেদিন মার্কাস লোক পাঠিয়ে ছিলো আমার বাড়িতে আমাকে মারার জন্য সেদিন গিয়েছিলো। ওই সর্দার আরো একবার আমার প্রাণ
বাঁচিয়েছে। ”

” কিন্তু সে একজন মেয়ে কীভাবে বুঝলি..?”
শুভ্র এবার প্রথম থেকে বিস্তারিত সব কিছু খুলে বলতেই সবাই আরো আশ্চর্য হলো। শুভ্র পকেট থেকে একটা প্যাকেট বের করে সবার সামনে ধরতেই সবাই হতবাক হলো।
” এটা কী শুভ্র..?” পাশ থেকে লাবিব বলে উঠলো।
শুভ্র প্যাকেট টা নাড়াচাড়া করে বললো ” লোহার বানানো মেয়েদের চুলের কাঠি। আর এইটার মাথাটা দেখেছিস বেশ ধারালো ছু*রির মতো। আর এইটা দিয়েই লোকটার ঘাড়ে আঘাত করা হয়েছিলো। ”
” তুই এতো সিওর ভাবে কী ভাবে বলছিস..?”
” আমি সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই বলছি তোদের।”
” কিন্তু কে এই মেয়ে..?”
শুভ্র ঠোঁট কামড়ে বললো ” জানি না তবে জানতে হবে। আচ্ছা আমাদের বাড়ির কোনো মেয়ে কী কাঠি দিয়ে চুল বাঁধে..?”

রাশেদ, জাহিদ,লাবিব এক সাথে মাথা নাড়ালো। অর্থাৎ না তাদের বাড়ির কোনো মেয়েই কাঠি দিয়ে চুল বাঁধে না।
শুভ্র দু আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষতে ঘষতে বললো ” কেস তো দেখছি ভীষণ জটিল তবে কে এই সর্দার..? তাঁকে তো দেখতে হবে। তাঁকে এক নজর দেখার জন্য আমার চোখ ছটফট করছে।”
শুভ্রর কথায় লাবিব শুভ্রর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বললো ” লামিয়া যদি শুনে তোর চোখ কোন সর্দার কে দেখতে চাইছে বিশ্বাস যা তোর চোখে এসিড ঢালবে।”
লাবিব এর কথায় শুভ্র হেঁসে উঠলো। লাবিব অবশ্য ঠিক বলেছে। এই মেয়ের জ্বেলাসি একটু বেশিই।
যদি শুনে শুভ্র এই কথা বলেছে তাহলে সত্যি এসিড ঢালবে বিশ্বাস নেই এই মেয়ে কে।

বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা।
হামিদা আয়না আর লামহা রান্নাঘরে রান্না করছে। ভালোই শীত পড়ছে চারদিকে। হল রুমে বসে বসে টিভি দেখছে আজমেরী বেগম,আবিরা বেগম, শফিকুল খান, ছবি,হাফসা, ফারিয়া, শারমিন আর তোয়া। লামিয়া,মাহির, তায়েব, তায়েবা সেই য গিয়েছে এখনো তাদের আসার নাম গন্ধ নেই। বাড়ির কর্তারা কর্তিরা এখনো রওনা হয় নি, তাদের নাকি এখনো কিছু কাজ বাকি তাই।

হামিদা,লামহা,আয়না কোমড়ে উড়না গুঁজে কাজ করছে তিনজন। চারপাশে কনকনে শীত। তাই আজ খিচুড়ি রান্না করছে। শীতের রাতে খিচুড়ি খেতে লামিয়া,তায়েব, তায়েবা, মাহির ভীষণ ভালোবাসে। তাঁদের উদ্দেশ্যেই খিচুড়ি রান্না করছে। তাঁদের রান্নার মধ্যেই বেল বেজে উঠলো। ছবি এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই দেখলো বাড়ির সব ছেলেরা অফিস থেকে ফিরেছে। ছবি লাবিব কে দেখে হালকা হেঁসে সরে দাঁড়ালো দরজার সামনে থেকে। ছবি দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে ই সবাই একে একে ভিতরে প্রবেশ করলো বাড়ির।
হামিদা, লামহা,আয়না রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এসে তাদের স্বামীদের পিছন পিছন চলে গেলো রুমের দিকে। যাওয়ার আগে শারমিন কে রান্নাঘরের দিকটা দেখতে দিয়ে গেলো।
শুভ্র আশেপাশে তাকিয়ে তারপর ছবির দিকে তাকালো। গলা খাঁকারিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো

” লামিয়া কোথায়..?”
ছবি শুভ্রর কথা শুনে মিনমিন করে বললো ” জানি না। বিকেলে বলেছে তাদের চারজনের কী যেনো দরকারি কাজ আছে বলে বেড়িয়েছে এখনো আসে নি।”
ছবির কথা শুনে শুভ্র ভ্রু কুঁচকালো। পাশ থেকে রাশেদ চেঁচিয়ে উঠলো
” দরকারি কাজ আছে মানে..? কি কাজ ওদের বলে যায় নি ওরা..?”
ছবি মাথা নাড়িয়ে বললো ” না।”
শুভ্র গম্ভীর মুখে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বেল বেজে উঠলো। ছবি চট করে বলে উঠলো ” ওই তো ওরা হয়তো এসে গিয়েছে।” বলেই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির তাদের হাতে কিছু ব্যাগ নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। শুভ্র, রাশেদ,লাবিব, জাহিদ ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাদের দিকে তাকালো। ছবি দরজা লাগিয়ে এগিয়ে এসে বললো ” এই ব্যাগের ভেতর কী আছে..?”
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো

” মুন্ডু আছে লাগবে তোর..?”
” মুন্ডু মানে..?মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে..? ভাইয়া কী বলছে এসব ওও। ” ছবি বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
” এই এই বাল হর হর ন্যাকামি করবি না। শীতের কারণে শরীর জং হয়ে গিয়েছে তাঁর উপর তোর ন্যাকামি সহ্য হচ্ছে না।” বেশ বিরক্ত হয়ে বললো লামিয়া।
লামিয়ার কথা শুনে লাবিব লামিয়া কে ধমকে উঠলো ” কথা ভালো মতো করা যায় না..? ওর সাথে এভাবে কথা বলছিস কেনো তুই..?”

” তো কীভাবে বলবো…? দেখতে পাচ্ছে না ব্যাগের উপর থেকে কী আছে তারপর ও কেনো বলছে..?”
” থাপ্পড়ে তোর মুখের নকশা পাল্টিয়ে দিবো বেয়াদব কোথাকার। সুন্দর ভাবে কথা বলা যায় না।”
লাবিব চেঁচিয়ে বলে উঠলো লামিয়া কে। লামিয়া তা শুনে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বেশ শক্ত পোক্ত একটা ঘুষি এসে পড়লো লাবিব এর নাকে। লাবিব নাকে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। লামিয়া তা দেখে ফিক করে হেঁসে উঠলো।
শুভ্র লাবিব এর দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে বললো ” তোকে সাহস দিয়েছে কে ওর সাথে শক্ত গলায় কথা বলার…?”
লাবিব ও এবার রেগে গিয়ে বললো

” ওকে সাহস দিয়েছে কে ছবির সাথে এমন করে কথা বলার..?”
” বেশ করেছে বলেছে দরকার পড়লে আরো বলবে। ওর বোনকে ওও যা ইচ্ছে তাই বলবে তোর সমস্যা কী..?”
লাবিব শুভ্র কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আজমেরী বেগম খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। সবার দৃষ্টি এবার আজমেরী বেগম এর দিকে পড়লো। তায়েব আজমেরী বেগম কে বললো ” কী হয়েছে দাদী হাসছো কেনো তুমি..?”
আজমেরী বেগম হাসতে হাসতে বললো ” তো হাসুম না কী করুম..? ওগো রে দেইখা আমার আগের একটা কথা মনে পড়লো।”

তায়েবা বেশ আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো ” কোন কথা দাদী আমাদের ও বলো।”
আজমেরী বেগম হাসতে হাসতে বললো ” একবার ছবির সাথে লামিয়ার তুক্ষার ঝগড়া হইছিলো কি নিয়া জানি। পরে ছবি লামিয়া রে ধাক্কা দিয়া ফালায় দিছিলো পরে লামিয়া কি যে কান্দা। লাবিব আর শুভ্র যহন স্কুল থেইক্কা বাইত্তে আইলো তহন মাহির শুভ্রর কাছে সব কইয়া দিলো। শুভ্র দৌড়াইয়া আইয়া লামিয়ার কাছে জিজ্ঞেস করতেই লামিয়া ঠোঁট ভাইঙ্গা সব কইয়া দিছিলো পরে শুভ্র ছবিরে তো কিছু কইতে পারবো না তাই লাবিব দাদু ভাইয়ের নাকে ঠিক এমন কইরাই ঘুষি মারছিলো। তারপর সেই যে কি ঝগড়া তাগো। আমরাও ফিরাইবার পারি নাই। শেষে লামিয়া দৌড়াইয়া শুভ্র রে আর ছবি দৌড়াইয়া লাবিব রে ধরছে পরে দুইটাই থামছিলো।” বলেই আবার হেঁসে উঠলো।

” হে হে হে করার কি আছে বুঝলাম না…! আমার তো এই কথার মাঝে হাঁসি পেলো না। আজাইরা হা হা হি হি আর আজগুবি কথা। থামাও তোমার হাঁসি। ” লামিয়া বেশ বিরক্ত গলায় বলে গটগট পায়ে হেঁটে গেলো নিজের রুমের দিকে। সাথে করে নিয়ে গেলো তাঁর ব্যাগ। তাঁর পিছন পিছন তায়েব, তায়েবা, মাহির ও যেতে লাগলো।
আজমেরী বেগম লামিয়ার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাঁর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বললো
” হামিদের ছোট্ট মাইয়া ডা একবারে সয়তান হুঁ।” বলেই মুখ বাঁকিয়ে টিভির দিকে চোখ দিলো।
শুভ্র আর কিছু না বলে লামিয়ার রুমের দিকে হাঁটা ধরলো। ওই ব্যাগে মোটা রশি দেখতে পেয়েছে সে। এতো মোটা রশি দিয়ে কী করবে তা জানতে হবে তাঁকে।

” রশি, নেটের জাল, বিচুটি পাতা আর কিছু বাদ আছে..??”
” না সব কিছুই আনা হয়েছে কিছু বাদ নেই।”
” গুড। এবার সব দ্রুত প্ল্যান মতো ব্যাবস্থা করে ফেলতে হবে সবাই ঘুমিয়ে যাবার পরে। ”
” আমরা পারবো তো..?”
” আমাদের পারতে হবে।”
” কিন্তু আমরা জানবো কীভাবে..?”
” আমাদের জানানোর জন্য ইন্দুবালা তো আছেই।”
” ইন্দুবালা পারবে..?”

” অবশ্যই..!” বলেই লামিয়া বাঁকা হেঁসে শিস বাজাতেই বেলকনি থেকে উড়ে একটা ককটেল পাখি লামিয়ার কাঁধে এসে বসলো। নাম তাঁর ইন্দুবালা, নামটা লামিয়া রেখেছে। কিছুদিন আগে কোথা থেকে উড়ে এসে লামিয়ার বেলকনিতে বসেছিলো। লামিয়া প্রথমে পাত্তা না দিলেও পরে ঠিকই পাত্তা দিয়েছে। কয়েকদিনে বেশ পোষ মেনেছে পাখিটি। এমন কি টুকটাক কথা ও বলতে পারে। সারাদিন লামিয়ার বেলকনিতে বসে থাকে ইন্দুবালা। লামিয়া সেখানে মাটির একটা কলসি ও বেঁধে দিয়েছে। ইন্দুবালা লামিয়া কে বেশ চিনে। লামিয়া একটা শিস বাজালেই যেখানেই থাকুক না কেনো উড়ে গিয়ে তাঁর কাঁধে বসবে।

ইন্দুবালা লামিয়ার কাঁধে বসে হাক ছেঁড়ে ডাক ছাড়লো ” হালু লালাবু।”
লামিয়া ইন্দুবালার কথা শুনে হেঁসে বলল ” হ্যালো ইন্দুবালা।”
ইন্দুবালা কিছু না বলে লামিয়ার গলা ঘেঁষে বসে রইলো লামিয়ার কাঁধে।
পাশ থেকে তায়েব বললো ” পারবে তো..?”
লামিয়া মাথা নাড়িয়ে বললো ” দেখি যাক কাজে দেয় নাকি। আর এ যদি কাজে না দেয় তাহলে জ্যাকি তো আছেই সমস্যা নেই।”

তায়েব মাথা নাড়ালো। এরপর প্ল্যান করতে থাকলো আজকে রাতে কী কী করবে। প্ল্যান শেষ করে যেই তায়েব, তায়েবা, মাহির লামিয়ার রুম থেকে বের হতে যাবে তখনই দেখলো শুভ্র বুকে হাত ভাঁজ করে ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে দাঁড়িয়ে আছে। মাহির, তায়েব, তায়েবা পাত্তা না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলো। লামিয়া ইন্দুবালা কে বেলকনিতে দিয়ে রুমে প্রবেশ করতেই দেখলো শুভ্র তাঁর বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। লামিয়া তা দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী চাই আমার রুমে..?”
শুভ্র লামিয়ার দিকে কাত হয়ে ফিরে বললো ” তোকে দিবি..?”
লামিয়া বিরক্ত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে বললো ” ফাজলামি করবেন না। বের হন আমার রুম থেকে। ”

” যদি না হই…!”
” আমি চলে যাচ্ছি আপনি থাকুন।” বলেই দরজার দিকে পা বাড়াতেই শুভ্র শোয়া থেকে উঠে দ্রুত লামিয়ার হাত ধরে টেনে ধরলো।
লামিয়া নিজের হাত ছাড়াতে চাইলো কিন্তু পারলো না।
” উফফ সবসময় এমন করেন কেনো আপনি..?”
” কেমন করলাম..?”
” এই যে হাত ধরে টানাটানি।”
” তাহলে কি…। ” শুভ্র আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই লামিয়া শুভ্রর মুখে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো
” চুপ করুন ফালতু লোক।”
শুভ্র লামিয়ার হাতে চুমু খেয়ে বললো ” ওকে চুপ করলাম।”

” আমার হাত ছাড়ুন এখন।”
” উহু..!”
” আরে ছাড়ুন না।”
” নো।”
” আমার না সবসময় এক কথা বলতে ভালো লাগে না।”
” আমারো না।”
লামিয়া এবার শান্ত হয়ে শুভ্রর চোখের দিকে তাকালো। শুভ্র তা দেখে ভ্রু নাচিয়ে বললো ” কী..?”
লামিয়া শান্ত কন্ঠে বললো ” বুকের ব্যাথা কমেছে..?”
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে হেঁসে বলল ” উঁহু কমে নি।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া চটজলদি হাত ছাড়িয়ে শুভ্রর শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে অস্থির গলায় বললো
” আগে বলেন নি কেনো..? দেখি কতটুকু সেরেছে। বেশি ব্যাথা করছে..? ওষুধ নেন নি কেনো..?”
বলতে বলতে শুভ্রর শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো। শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো অস্থির হওয়া তাঁর প্রেয়সীকে। লামিয়া শার্টের বোতাম গুলো খুলে শুভ্রর বুকে ঝলসে যাওয়া জায়গায় তাঁর ঠান্ডা হাত রাখতেই শুভ্র কেঁপে উঠলো। তা লামিয়া ভালোমতো টের পেলো।

” আপনি ঠিক আছেন..?” বেশ অস্থির কন্ঠে বললো লামিয়া।
শুভ্র শুকনো ঢোক গিলে মাথা নাড়ালো। লামিয়া তা দেখে এবার বুকের দিকে দৃষ্টি ফেললো। কেমন ফোস্কা পড়ে গিয়েছে বুকের কাছ টা। দেখে লামিয়ার ভিতর ধক করে উঠলো। লামিয়া শুভ্রর হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ড্রয়ার থেকে মলম বের করে শুভ্রর বুকে আলতো করে লাগাতে থাকলো। শুভ্র কেমন হাঁসফাঁস করছে। এই কনকনে শীতের মধ্যেও হালকা ঘাম দিচ্ছে তাঁর শরীর। শুভ্র বারবার ঢোঁক গিলছে আর ঠোঁট ভেজাচ্ছে। লামিয়া শুভ্রকে হাঁসফাঁস করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী সমস্যা এমন করছেন কেনো..?”
শুভ্র ঢোঁক গিলে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ” কিছু না এমনেই।”
লামিয়া আর কিছু না বলে মলম লাগিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো

” এইবার নিজের রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিন। ” বলেই পিছনে ঘুরতে যাবে তাঁর আগেই উড়নায় টান পড়লো। লামিয়া ঘুরে ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী সমস্যা..?”
শুভ্র কোনো কথা না বলে উড়না ছেঁড়ে লামিয়ার হাত খপ করে ধরে এক টান দিলো। আচমকা এমন হওয়াতে লামিয়া টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় পরে গেলো। লামিয়া বিছানায় পড়ে যেতেই শুভ্র লামিয়ার উপর হাঁটু গেড়ে বসে লামিয়ার গাল আলতো করে চেপে ধরে ঠোঁটে শক্ত চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো

” ডাকাত রাণী..!”
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো ” ডাকাত রাণী হলাম কবে..?”
শুভ্র বাঁকা হেঁসে বললো ” যবে থেকে ডাকাত দলে যোগ দিয়েছিস তবে থেকে।”
” আমি আবার ডাকাত দলে যোগ দিলাম কবে..?”
” সেটা তো তুই আমাকে বলবি।”
” আপনি নেশা করেছেন..?”
” উহু তবে করতে চাই।”
” তো গিয়ে করুন। মানা করেছে কে..?”
” কোথায় গিয়ে নেশা করবো..?”
” যেখানে নেশা পাওয়া যায় সেখানে।”
” কিন্তু আমার নেশা তো তুই।”
” আমি কোনো নেশা দ্রব্য নয়। যে আমাকে দেখলে আপনার নেশা হবে।
” হয় তোর সামনে আসলে আমার কেমন মাতাল লাগে কালো ভ্রমর।” বলেই লামিয়ার গলায় মুখ গুঁজে পর পর ছোট্ট ছোট্ট চুমু এঁকে দিলো।

লামিয়া চুপচাপ চোখ বুজে থাকলো কিছু বললো না। তা দেখে শুভ্র গলা থেকে মাথা তুলে তাকালো লামিয়ার মুখের দিকে। তারপর হেঁসে লামিয়ার কপালে, চোখে গালে চুমু খেলো। লামিয়া চোখ মেলে শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো
” শেষ..?”
শুভ্র মুচকি হেঁসে বলল ” উঁহু শেষ হয়নি।” বলেই লামিয়ার অধর দুটি আঁকড়ে ধরলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর শুভ্র লামিয়া কে ছেড়ে দিয়ে উঠে বসলো। লামিয়া হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঠোঁট মুছে বললো ” আয় হায় আপনি আমাকে চুমু খেয়েছেন এটা যদি আপনার মিলি বা মিরা জানে তখন কি হবে..?”
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে।

” ওরা আমার কবে হলো??”
” যবে থেকে প্রেম করেন তবে থেকে।”
শুভ্র লামিয়ার কথার বিরক্ত হয়ে বললো ” বাজে কথা বলবি না।”
” আমি বাজে কথা বলি না। শুধু সত্যি টা বলেছি।”
শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে বললো ” আমি আগে ও বলেছি এখনো বলছি তুই ব্যাতীত অন্য কোন মেয়ে আমার মনে নেই।”
লামিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
” আমি বিশ্বাস করি না।”
” তুই না বিশ্বাস করলেও এটাই সত্যি।”

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫১

লামিয়া শুভ্রর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো ” কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা তা জানি না তবে আমি আপনাকে ছেঁড়ে চলে যাবো এটা সত্যি। ” বলেই ঠোঁট কামড়ে হেঁসে পিছন ফিরে আলমারির দিকে এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে শুভ্র লামিয়ার উড়না টেনে ধরলো। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে পিছনে ফিরতেই শুভ্র হেঁসে চোখ মেরে গেয়ে উঠলো
~ ওও আমার ছেড়ে প্রাণ সজনী
যাইবা কোনখানে..?
বান্ধিয়া রাখিবো তোমায় প্রেমের বাঁধনে।।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২ (২)