Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫১
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সময়টা ভোর ছয়টা।
আজ ইসলাম বাড়ির ছেলে আর ছেলের বউ রা গ্রামে যাবে কিছু কাজের জন্য। গতকাল যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু যাওয়া হয়নি তাই আজ তাঁরা রওনা হবে।
ইসলাম বাড়ির কর্তারা সবাই রেডি হয়ে বসে আছে হল রুমে। মূলত তাদের কর্তিদের জন্যেই অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাদের এখনো আসার নাম গন্ধ নেই। এতো কি মেকআপ করছে কে জানে?? ভেবেই মুখ ফুলালো চার ভাই। একটু পরেই ঘুম ঘুম চোখে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো ইসলাম বাড়ির বিচ্ছু বাহিনীরা। তাঁরা ঘুম থেকে উঠেছে বাপ – চাচা, মা – চাচীদের বিদায় জানাতে। চোখ ডলতে ডলতে সবাই এসে বসলো হল রুমে। রাশেদ হামি তুলতে তুলতে বললো ” কী ব্যাপার তোমরা এখানে আর আমাদের মায়েরা কোথায়??”
আনিসুল সাহেব বিরক্ত হয়ে বললো ” দেখো না প্রায় এক ঘন্টা যাবত ধরে বসে আছি কিন্তু তোমাদের মায়েদের খবর নেই এখনো।”

আনিসুল সাহেব এর কথা শুনে এবার তায়েব বললো ” আহা বড় চাচা মেয়েদের তৈরি হতে একটু – আধটু সময় লাগবেই তার জন্য এতো রাগ করলে চলে, বলো তো..?”
তায়েব এর কথা শুনে লামিয়া তায়েবা বাঁকা নজরে তাকালো তায়েব এর দিকে। তা দেখে তায়েব বললো ” আরে আরে এভাবে তাকাচ্ছিস কেনো..? আমি তোদের কথা বলি নি তো।”
” তুই বলবি কেনো এই কথা? আমাদের মায়েরা কখনো কোথাও যায় নাকি? কতো দিন পর তাঁরা একটু গ্রামে যাবে তাঁর জন্য পরিপাটি করে ফিটফাট হয়ে যাচ্ছে তাই একটু দেরি হচ্ছে।” বেশ বিরক্ত হয়ে বললো তায়েবা।
” আরে রেগে যাচ্ছিস কেনো আমি তো এমনেই বললাম।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

তায়েবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আজমির সাহেব বিরক্ত গলায় ধমক দিলো ছেলে মেয়েদের। বাবার ধমক খেয়ে তায়েব তায়েবা চুপ হয়ে গেলো কোনো কথা বললো না।
লামিয়া তায়েব তায়েবার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে হামিদ সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বললো
” আসতে আসতে কী বেশি রাত হবে তোমাদের..?”
হামিদ সাহেব মাথা নাড়িয়ে বললো ” মনে হয় না বেশি দেরি হবে। কিন্তু আবার হতেও পারে ঠিক নেই।”
” আচ্ছা..! তবে যদি দেরি হয়ে যায় তাহলে এতো রাত করে রওনা দিতে হবে না বাবা। রাত টুকু গ্রামের বাড়িতে থেকে সকাল সকাল রওনা দিও।”
লামিয়ার কথায় রাশেদ মাথা নাড়িয়ে বললো ” হুমম লামিয়া ভুল বলে নি। দিন কাল ভালো না বেশি রাত হলে আসতে হবে না আজকে।”

লামিয়া আর রাশেদ এর কথা শুনে বাড়ির কর্তারা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলো। হাশিম সাহেব মুখে হাঁসি নিয়ে বললো ” বুঝলেন আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গিয়েছে। আমাদের কোনটায় ভালো হবে আর কোনটায় খারাপ হবে সেসব নিয়েও ভাবছে।”
আনিসুল সাহেব হালকা হেসে বললো ” তাই তো দেখছি কতো বড় হয়ে গেছে আমার ছেলে মেয়ে গুলো।”
তাঁদের এমন কথা শুনে তায়েব ঠোঁট উল্টে বললো ” হুঁ আমরা বড় হয়ে গিয়েছি আর তোমরা বাচ্চা হয়ে গিয়েছো।”
তায়েব এর কথা শুনে হাশিম সাহেব তায়েব এর কান টেনে ধরে বললো

” খুব বড় হয়ে গিয়েছিস তাই না ?? হুম??”
” আআ সেজ চাচা লাগছে ছাড়ো।”
” হুমম ছাড়বো কেনো? তুই যে আমাদের ঘুরিয়ে বুড়ো বলেছিস তা কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি।”
” কীভাবে..?”
” মানুষ বুড়ো হলে বাচ্চা হয়ে যায়। কিন্তু আমরা কিন্তু এখনো ইয়াং ম্যান।” বলেই তায়েব এর কান ছেঁড়ে দিলো।
তায়েব কান ডলতে ডলতে বললো

” ইয়াং ম্যান দাবি করছো নিজেদের..? যদি ইয়াং ম্যান হতে তাহলে সেদিন সামান্য বিস্কুট নিয়ে মেজ চাচা, সেজ চাচা আর বাবা কাড়াকাড়ি করতে না বাচ্চাদের মতো। ”
তায়েব এর কথা শুনে মাহির, লামিয়া, রাশেদ, আরিফ, আয়না, তায়েবা, ছবি ফিক করে হেসে উঠলো।
তখনই পিছন থেকে শোনা গেলো
” আরে এতো কী নিয়ে হাসাহাসি চলছে বাবা আর ছেলেমেয়েদের মধ্যে আমরা মায়েরা ও একটু শুনি।” রাশেদা বেগম বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলেন। তাঁর পিছন পিছন লতিফা, মনিরা, তাহমিনা বেগম।
মায়েদের গলার স্বর শুনে সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে ফিরে তাকালো। মাহির ফট করে দাঁড়িয়ে বললো ” মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ আমার মায়েদের আজকে কী সুন্দর লাগছে। ” বলেই দৌড়ে গিয়ে তাদের সামনে দাঁড়ালো।
লতিফা বেগম হেঁসে মাহিরের নাক টেনে বললো ” আজকেই শুধু সুন্দর লাগছে..? আর কোনোদিন সুন্দর লাগে নি..?”

” আহা মেজো চাচি আমার মায়েদের মতো সুন্দরী এই দুনিয়াতে কী আর কেউ আছে নাকি বলো তো..?”
পাশ থেকে তাহমিনা বেগম বললো
” হয়েছে হয়েছে আর পাম দিতে হবে না দেখো আমরা ফুলে গিয়েছি তোমার আলু পামে। ”
তাহমিনা বেগম এর কথায় তায়েব বললো ” সিরিয়াস মা তোমাদের আজ খুব সুন্দর লাগছে। এক রকম হিজাব একরকম শাড়ি দেখে মনে হচ্ছে তোমরা চার বোন।”
” আমাদের বাপ – চাচারা এতো সুন্দর সুন্দর বউ পেয়েছে এটা তো আমাদের বাপ চাচাদের সাত কপালের ভাগ্য।” খুশিতে ঝটপট বলে উঠলো আরিফ।
আরিফ এর কথা শুনে চার ভাই কেমন বাঁকা নজরে তাকালো আরিফের দিক। আরিফ চোখ ঘুরিয়ে বাপ – চাচাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হেঁসে আমতা আমতা করে বলল ” আমি ঠিকই তো বলেছি। এভাবে তাকানোর মানে কী..?”

আরিফের কথায় সবাই হেঁসে উঠলো। বাড়ির কর্তিরা এগিয়ে এসে বললো ।
” হয়েছে হয়েছে এতো প্রশংসা করতে হবে না। আমাদের প্রশংসা করছো তোমরা আরেকদিকে জ্বলছে তোমাদের বাপ চাচা রা।” বলেই মুখ বাকালো মনিরা বেগম।
হাশিম সাহেব ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালেন তাঁর স্ত্রীর দিকে।
লামিয়া বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বললো
” তোমরা আমাদের কাছে কেউ কারোর চেয়ে কম না। আমাদের মায়েরা আমাদের ঘরের চাঁদ। আর আমাদের বাবারা আমাদের পৃথিবী। তোমরা সুন্দর হলে আমার বাবারাও সুন্দর কম নয়।”
লামিয়ার কথা থামতেই রাশেদ,তায়েব, তায়েবা, মাহির, আরিফ, একসাথে বলে উঠলো
” ঠিক ঠিক একদম ঠিক। ”

বাড়ির কর্তা আর কর্তিরা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। হাশিম সাহেব এগিয়ে এসে লামিয়ার মাথায় হাত রেখে বললো ” আম্মা তোমার কথায় আমি আজ ভীষণ মুগ্ধ হয়েছি। দেখছেন বড় ভাই বলেছিলাম না আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গিয়েছে দেখেছেন সত্যি বড় হয়ে গিয়েছে।”
হাশিম সাহেব এর কথা শুনে সবাই হাসলো। তারপর টুকটাক কথা বার্তা বলতে বলতে কখন যে সাতটা বেজে গিয়েছে তা কারোর খেয়াল নেই। লামিয়া চোখ ঘুরিয়ে দেয়াল ঘড়ির দিকে দৃষ্টি ফেলে বললো
” হয়েছে তোমাদের..? এখন চলো দেখেছো কয়টা বাজে..?”

” হ্যাঁ তাই তো সবাই দ্রুত বের হও।” বলেই তাড়া দিতে লাগলো আনিসুল সাহেব।
সবাই আস্তে ধীরে বের হতেই দেখলো হামিদা, লামহা, দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর পিছনেই খান বাড়ির সবাই। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র আর রাবেয়া বেগম।
” আমাদের আসতে দেরি হয় নি তো..?” বলে হামিদা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো হামিদ সাহেব কে।
” আরে না এখন ই বের হচ্ছিলাম। খাবার খেয়েছো..?” হামিদ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো।
” হুমম বাবা খেয়েছি।”
” এই তোর হয়েছে বড় আপা..? এমনেই দেরি হয়ে গিয়েছে।

বলেই লামিয়া তাড়া দিলো। সবাই মাথা নাড়িয়ে এইবার গাড়িতে উঠে বসলো। হামিদ সাহেব গাড়িতে উঠার আগে শুভ্র কে এই বাড়িতে আজকে রাবেয়া বেগম কে নিয়ে থাকতে বলেছে। কাজ শেষ করে তাড়া দ্রুত আসার চেষ্টা করবে যদি দেরি হয়ে যায় তাহলে জানি তারা এখানে থাকে।
শুভ্র হামিদ সাহেব কে চিন্তা করতে মানা করলেন। হামিদ সাহেব মাথা নাড়িয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। হামিদ সাহেব গাড়িতে উঠতেই গাড়ি ছেড়ে দিলো।
খান আর ইসলাম বাড়ির ছেলে মেয়েরা হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো।খান বাড়ির কর্তা আর কর্তিরা ও সাথে গিয়েছে তাই খান বাড়ির ছেলেমেয়েরা ও আজ ইসলাম বাড়িতেই দিন কাটাবে।
গাড়ি চোখের আড়াল হতেই সবাই বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।

ছবি সিঁড়ি বেয়ে রুমে যেতেই লাবিব ছবির হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো। ছবি বড় বড় চোখ করে দ্রুত আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে নাকি। আশেপাশে কাউকে না দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো ” কী সমস্যা..? ছাড়ুন এটা হল রুম কেউ এসে পড়বে।”
” উহু কেউ আসবে না বাড়িতে তো কেউ নেই তাহলে কে আসবে..?”
” আরে ভাইয়ারা আছে ছাড়ুন লাবিব ভাই।”
” তোর ভাইদের আমি ভয় পাই নাকি??”
” শুভ্র ভাই কে বলবো আমি..?”
লাবিব ছবির কথায় বিরক্ত হয়ে বললো ” সবসময় শুভ্রর এর ভয় দেখাস কেনো..?”
” এমন করলে তো ভয় দেখাবোই।”
” যা ইচ্ছে কর দেখার বিষয় না। এখন কালকে রাতে চুমু টা এখন দিয়ে দে।”
” অসম্ভব।”

” সম্ভব। তুই না দিলেও আমি জোর করে নিবো।” বলেই ছবির ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো। ছবি দু হাত লাবিব এর বুকের উপর রেখে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলো কিন্তু পারলো না।
ঠিক তখনই সিঁড়ির থেকে কারোর চিৎকারের শব্দ শোনা গেলো।
” ওওও মাই গড। কে আছো বাঁচাও আমার বিগ বস কে। এই বেডা আমার বিগ বস কে জোর করে চুমু খাচ্ছে। এই বেডা ছাড় ছাড় আমার বস কে নয়তো তোর ওই মুখের নকশা পাল্টিয়ে দিবো।” বেশ চেঁচাতে চেঁচাতে তোয়া সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো।
লাবিব তোয়ার চেঁচানো শুনে ছবির থেকে ছিটকে দূরে সরে দাঁড়ালো।
এদিকে তোয়ার চেঁচানো শুনে খান আর ইসলাম বাড়ির ছেলে মেয়েরা দৌড়ে নিজেকে রুম থেকে বের হলো। শুভ্র আর রাবেয়া বেগম কিছু কথা বলতে বলতে সবেই বাড়িতে প্রবেশ করছিলো তোয়ার চেঁচানো শুনে দৌড়ে হল রুমে গেলো।

” কী হয়েছে তোয়া..? এভাবে চেঁচাচ্ছো কেনো? কী হয়েছে..?”
ততক্ষণে লামিয়া রা দৌড়ে নিচে এসে উপস্থিত হলো। লামিয়া ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবির দিকে তাকালো। লামিয়া কে নিজের দিকে তাকাতেই ছবি কেমন লজ্জা লজ্জা মুখ করে তাকাতেই লামিয়ার দিকে। তারপর ঢোঁক গিলে সামনে তাকালো। লামিয়া ছবির দিকে তাকিয়ে ছবির মুখের মতো মুখ করে তাকালো সামনের দিকে।
এদিকে কী হয়েছে তা শুনতে সবাই তোয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্র তোয়া কে হাঁপাতে দেখে কোলে তুলে নিয়ে আদুরে গলায় বলল ” কী হয়েছে তোয়া মনি.?? আমাকে বলো।”
তোয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ বানিয়ে বললো ” হ্যান্ডসাম বয় জানো ওই বেডা খাটাশ টা আমার বিগ বস কে জোর করে চুমু খাচ্ছিল।”
তোয়ার কথা শুনে সবাই বড় বড় চোখ করে তাকালো লাবিব এর দিকে। শুভ্র লাবিব এর দিকে তাকিয়ে আবার তোয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” তুমি সিউর? লাবিব তোমার বিগ বস কেই চুমু খেয়েছে..?”
তোয়া মাথা নাড়িয়ে বললো

” একদম আমি নিজের চোখে দেখেছি।”
তোয়ার কথা শুনে শুভ্র চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো। শক্ত চোখে লামিয়ার দিকে তাকাতেই দেখলো লামিয়া জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঠোঁট মুছে তাকালো শুভ্রর দিকে। এতে শুভ্র যেনো আরো ক্ষেপে গেলো। তোয়া কে কোল থেকে নামিয়ে এগিয়ে গিয়ে লাবিব এর কলার টেনে ধরলো রাগি কন্ঠে বলল
” তোকে বলেছিলাম না ওর থেকে দূরে থাকতে..? বলেছিলাম কি না তাই বল..?”
লাবিব শুভ্রর কথায় রেগে বললো ” আরে তুই ওই বাচ্চা মেয়েটার কথা বিশ্বাস করছিস..? আর ছবি থাকতে ওর টার কাছে কেনো যাবো..?”

” ওই বাচ্চা মেয়েটা কি তাহলে ভুল বলছে..?”
” হ্যাঁ বলছে। বিশ্বাস না করলে ছবি কে জিজ্ঞেস কর।”
” তুই ছবির কাছে গেলে লামিয়া কেনো ঠোঁট মুচ্ছে..?”
” ওইটা তুই তোর জনকেই জিগ্যেস কর। ছাড় আমার কলার। কথায় কথায় কলার কিন্তু আমিও ধরতে পারি শুভ্র।”
শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো লামিয়া ঠোঁট কামড়ে হাসছে। তাঁর পাশে ছবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মানে তোয়া ভুল দেখেছে। ভেবেই শুভ্র লাবিব এর কলার ছেঁড়ে দিয়ে বললো ” আমার কলার ধরে দেখা শুধু। ”

” কী করবি ধরলে..?”
” বোন কে গুম করে দিবো।”
লাবিব বড় বড় চোখ করে বললো
” হারামজাদা সবসময় বউ নিয়ে টান দিস কেনো..?”
” তোর বউ হওয়ার আগে ওও আমার বোন।” বলেই লাবিব এর দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে লামিয়ার দিকে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টি ফেললো।
লামিয়া তা দেখে ঢোঁক গিললো।
শুভ্রর মতিগতি ঠিক লাগছে না। ধরতে পারলে যে পিঠে দু ঘা বসিয়ে দিবে তা লামিয়া বেশ বুঝতে পেরেছে। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে লামিয়ার দিকে এগিয়ে যেতেই তায়েব বলে উঠলো

” এএএএ ছিঃ ছবি তুই আবারো লাবিব ভাইয়ের গন্ধ যুক্ত থুথু খেয়েছিস..?”
” ইয়াকক তাও আবার সকাল সকাল।” বলেই নাক কুঁচকে ফেললো মাহির।
” এই লাবিব ভাইয়ের মুখ থেকে না গরুর চনার গন্ধ আসে..? তার মানে এই ছবি তুই আবার গরুর চনার মধ্যে মুখ দিয়েছিস ছিঃ।” বলেই ঠোঁট চোক্কা করে বমির ভাব করলো তায়েবা।
তাঁদের এমন কথা শুনে লামিয়া হি হি করে হেঁসে উঠলো।ছবি লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্র লামিয়ার হাঁসি দেখে বললো ” তুই দাঁত কেলিয়ে হাসছিস কেনো..? তোর শাস্তি বাকি আছে দাঁড়া তুই।”
বলেই লামিয়ার দিকে এগোতেই লামিয়া ভৌ দৌড় দিলো। দৌড়াতে দৌড়াতে বললো ” বিলাতি ডিটেকটিভ আপনাকে আমি কী করেছি..?”
শুভ্র লামিয়ার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে বললো ” তুই কী করেছিস জানিস না তুই..?”

” নাআআ..।”
” দাঁড়া তুই আগে। তারপর বোঝাচ্ছি তুই কী করেছিস। ”
” হুহহ দাঁড়ালে আপনি আস্ত রাখবেন না তাই দাঁড়াবো ও না।”
” দাঁড়া বলছি কিছু বলবো না বলছি তো। যদি ধরতে পারি তাহলে থাপ্পড় সব তোর গালে পড়বে।”
লামিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে সোফার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। শুভ্র লামিয়ার সামনে। লামিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে রাশেদের দিকে তাকিয়ে বললো ” বড় ভাই কিছু বলছো না কেনো..?”
রাশেদ ঠোঁট উল্টে পকেটে হাত ঢুকিয়ে বললো ” এইটা তোদের ব্যাপার আমাকে শুধু শুধু এইসবে না টানাই ভালো।”
রাশেদের কথা শুনে লামিয়া বিরক্ত হয়ে শুভ্রর দিকে তাকালো। শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এই লোকের মতিগতি ঠিক লাগছে না দেখে লামিয়া শুকনো ঢোক গিলে চেঁচিয়ে বলল ” শুভ্র ভাই ওই দেখুন লাবিব ভাই আমাকে চোখ মারছে। ”

আচমকা এমন কথা শুনে লাবিব ভরকে গেলো। তারপর দ্রুত বলে উঠলো ” এই এই তুই মিথ্যে বলছিস কেনো ..? আমি তোকে কখন চোখ মারলাম..?”
শুভ্র লাবিব এর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকাতেই লাবিব চেঁচিয়ে উঠলো ” তুই আবার আমাকে শকু*নের দৃষ্টিতে দেখছিস কেনো আমি তোর টা কে চোখ মারি নি।”
লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে দেখলো শুভ্র পিছন ঘুরে তাকিয়ে আছে লাবিবের দিকে। সেই সুযোগে লামিয়া আবারো দৌড় দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যেতে যেতে বললো ” ফালতু লোক। এতোক্ষণ এভাবে অকারণে দৌড় করিয়েছেন এর শাস্তি আমি পরে নিবো। ” বলেই দৌড় দিলো রুমের দিকে।

শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে হেঁসে রাবেয়া বেগম কে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো লামিয়ার রুমে। একে একে সবাই চলে গেলো নিজের কক্ষে। তায়েব তোয়া কে কোলে তুলে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে দেখলো লাবিব ভোঁতা মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে তায়েব মুখ বাঁকিয়ে বললো ” এসব কিসমিস ভালো না বুঝলেন লাবিব ভাই। ভালো হয়ে যান এখনো সময় আছে। আর কিসমিস খেতে হলে ভালো মতো লবণাক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত মেজে আসবেন। আর পেষ্ট এ লবণ না থাকলে আমাকে বলবেন আমি এক বাটি লবণ দিয়ে আসবো। ” বলেই হাসতে হাসতে চলে গেলো। তাঁর পিছনে মাহির,তায়েবা।
লাবিব তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো

” বিয়ের পর একটা চুমু ভালোমতো খেতে পারি নি। যদি বিয়ের পর বউ কে চুমু ই খেতে না পারি, তাহলে এই বা*ল বিয়ে করেছি কেনো..? বউয়ের একটু কাছে গেলেই দুনিয়ার সব গুজবের কারখানা আমার উপরে এসে পরে।” বলেই রাগ দেখিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। ছবি নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো লাবিব এর যাওয়ার পাণে।
রুমের দরজা বন্ধ করে বিছানায় হাত – পা লম্বা করে শুয়ে আছে লামিয়া। শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ইচ্ছে করেই ঠোঁট মুছে ছিলো জানি শুভ্র রেগে যায়, আর এই লোকটাকে রাগতে দেখলে হেব্বি মজা লাগে তাঁর ভেবেই হাসলো। তখনই রুমের দরজায় টোকা পড়তেই লামিয়া ধরফর করে শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ালো। দরজার দিকে এক পা দু পা এগিয়ে যেতে যেতে ভাবতে লাগলো শুভ্র এসেছে এখন..?? নাকি অন্য কেউ। যদি শুভ্র হয় তাহলে দরজা খুলবে না আজ। লামিয়া দরজার সামনে এগিয়ে গিয়ে গলা খাঁকারিয়ে বললো ” কে..?”

” আমি..!”
” আমি কে..?”
” রাবেয়া চৌধুরী।”
রাবেয়া নাম শুনে লামিয়ার ভ্রু কুঁচকে এলো। এই ভদ্রমহিলা আসার পর তাঁর সাথে একবার ও কথা হয় নি তাহলে এই ভদ্রমহিলা তাঁর রুমে এসেছে কেনো? ভেবেই আস্তে করে দরজা ফাঁক করে মাথা বের করে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো শুভ্র আছে নাকি। শুভ্র কে না দেখতে পেয়ে লামিয়া স্বস্তির শ্বাস ফেলে এবার পুরো দরজা খুলে দিয়ে বললো ” আপনি..? এখানে কিছু বলবেন..?”
রাবেয়া বেগম মিষ্টি হেসে বললো

” তোমার ঘরে এসেছি দেখে কী তোমার অসুবিধে হচ্ছে..?”
রাবেয়া বেগম এর কথা শুনে লামিয়া দ্রুত জবাব দিলো ” ছিঃ ছিঃ কী বলেন অসুবিধে হবে কেনো..? আসুন রুমে বসে কথা বলি। ভিতরে আসুন।”
রাবেয়া বেগম মাথা নাড়িয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। লামিয়া রাবেয়া বেগম এর পিছন পিছন রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো।
” আন্টি এখানে বসুন। আমি কাউকে বলছি চা দিতে।” বলে কাউকে ডাকতে যাবে তার আগেই রাবেয়া বেগম লামিয়া কে থামিয়ে দিয়ে বললো ” না না এতো ব্যাস্ত হতে হবে না। আর আমি চা খাই না। আমি এসেছি তোমাকে দেখতে।”

” আমাকে দেখতে এসেছেন..? কিন্তু কেনো..?”
রাবেয়া বেগম মুখে হাঁসি নিয়েই বললো ” বাহ্ রে ছেলের বউ কে দেখতে আসবো না..?”
” আমি আপনার ছেলের বউ মানে..?” লামিয়া বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
” হুমম আমার আবরার এর বউ ।”
লামিয়া এতোক্ষণে বুঝলো শুভ্রর কথা বলেছে সে। তাই আর কিছু না বলে তাকিয়ে থাকলো রাবেয়া বেগম এর দিকে। রাবেয়া বেগম লামিয়ার পুরো রুম ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে চোখ আটকে গেলো দেয়ালে থাকা একটা ছবির উপর। রাবেয়া বেগম এগিয়ে গিয়ে ছবির উপর হাত বুলিয়ে বললো

” এটা আবরার তাই না..?”
লামিয়া ছোট্ট করে জবাব দিলো
” হুম ”
” আমি শুনেছি তুমি আমার ছেলেকে ঘৃণা করো এটা কী সত্যি..?” বলেই রাবেয়া বেগম পিছন ফিরে তাকালো লামিয়া দিকে।
লামিয়া রাবেয়া বেগম এর দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো। তবে লামিয়া চোখ না সরিয়েই বললো
” হ্যাঁ…!”
” তোমাকে কিন্তু আমার ছেলে ভীষণ ভালোবাসে।”
” জানি।”
” তাহলে ঘৃণা করে কেনো দূরে সরিয়ে রেখেছো..?”
লামিয়া এবার চোখ নামিয়ে নিলো। তারপর ধীর কন্ঠে বললো ” যেখানে ঘৃণা বেশি সেখানে ভালোবাসা ও বেশি।”
” তাহলে শিকার করছো তুমি আবরার কে ভালো বাসো..?”

লামিয়া কোনো কথা বললো না। তা দেখে রাবেয়া বেগম হাসলো। এগিয়ে এসে লামিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো ” আমার ছেলে অনেক ভালোবাসে তোমাকে। ওর জীবনের চেয়েও বেশি তোমাকে ভালোবাসে। আমি জানি তুমি শুভ্রর কথায় কষ্ট পেয়েছো কিন্তু ভেবে দেখো শুভ্র তোমার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে। আমি চাই তুমি ওকে আর কষ্ট দিও না। নিজের কাছে টেনে নাও। তুমি ওকে দূরে সরিয়ে রেখেছো এতে ওর কষ্টের পাল্লা আরো দ্বিগুন ভারী হয় বুঝলে..? তাই প্লিজ আর কষ্ট দিও না ওকে।”
লামিয়া রাবেয়া বেগম এর কথা শুনে ছোট্ট করে হেঁসে বললো ” হুম বিশ্বাস রাখুন আন্টি কষ্ট দিবো না আর।”
লামিয়ার কথা শুনে রাবেয়া বেগম রাবেয়া বেগম এর অধরে হাঁসি ফুটলো। তারপর বললো ” আন্টি নয় মণি মা বলে ডেকোরেশন কেমন..?”

” আচ্ছা।”
রাবেয়া বেগম লামিয়ার হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে হাক ছেঁড়ে ডাক দিলো ” আবরার, এইই আবরার ভিতরে আসো।”
রাবেয়া বেগম এর ডাক শুনে শুভ্র পা ফেলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। লামিয়া চোখ তুলে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্র এগিয়ে এসে রাবেয়া বেগম এর হাতে একটা ব্যাগ দিলো। লামিয়া তা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। রাবেয়া বেগম ব্যাগ থেকে একটা গয়নার বাক্স বের করতেই লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” গয়নার বাক্স এখানে এনেছেন কেনো..?”
রাবেয়া বেগম বাক্স খুলে একটা গলার চেইন বের করতে করতে বললো ” প্রথমবার ছেলের বউ দেখতে এসেছি খালি হাতে আসবো নাকি..?”

” আমি মোটেই আপনার ছেলের বউ না।” বলেই বিরক্ত চোখে শুভ্রর দিকে তাকালো।
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো তাঁর দিকে। তখনই ফোন আসতেই রাবেয়া বেগম কে বলে চলে গেলো বাহিরে । রাবেয়া বেগম হেঁসে বলল ” ওও আচ্ছা আমার এই ছেলে কে তোমার পছন্দ হয়নি বুঝি..?”
” না হয় নি। আপনার অন্য ছেলে থাকলে বলতে পারেন আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।” বেশ শান্ত কন্ঠে জবাব দিলো লামিয়া ।
” হুমম আছে তো আরো একজন পরিচয় করিয়ে দিবো একদিন সমস্যা নেই।” বলেই লামিয়ার গলায় স্বর্ণের চেইন পড়িয়ে দিলো। তারপর স্বর্ণের দুটো চুরি, কানের দুল পরিয়ে দিয়ে নাক ফুল বের করে লামিয়ার নাকে থেকে ছোট্ট কাঠি বের করে নাক ফুল পরিয়ে দিতেই রাবেয়া বেগম স্তব্ধ হয়ে গেলো। লামিয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রাবেয়া বেগম।

” মাশাআল্লাহ। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। একদম নতুন বউয়ের মতো।”
লামিয়া রাবেয়া বেগম এর কথা শুনে হালকা হেসে বললো ” মণি মা এসব আমি পরি না আর না পরতে পছন্দ করি। আমার এসব ভালো লাগে না। ”
রাবেয়া বেগম হালকা ধমকে বললো ” পড়তে ভালো না লাগলেও পড়তে হবে। আজকের জন্য পরে থাকো। পরে তোমার ভালো না লাগলে খুলে রেখে দিও কেমন। এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য গিফট বুঝলে। ”
লামিয়া মাথা নাড়ালো। রাবেয়া বেগম আর কিছুক্ষণ লামিয়ার সাথে কথা বলে চলে গেলো। রাবেয়া বেগম চলে যেতেই লামিয়া আয়নার সামনে দাড়াতেই চমকে গেলো। এটা সে কাকে দেখছে..?সত্যি তো তাঁকে বউদের মতো লাগছে। আর কিছু না ভেবে লামিয়া এগিয়ে গিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। শীতের হালকা বাতাস তাঁকে ছুঁয়ে দিতেই লামিয়া কেঁপে উঠলো।

ফোনে কথা শেষ করে রুমে কাউকে না দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো শুভ্র। পা ফেলে রুমের প্রবেশ করতেই আস্তে করে বলে উঠলো ” ভ্রমর কোথায় তুই..?”
বেলকনি থেকে লামিয়া ধীর গলায় জবাব দিলো ” এখানে আছি আসুন।”
বেলকনি থেকে লামিয়ার শব্দ শুনে শুভ্র বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। লামিয়া উল্টো হয়ে ঘুরে আছে। শুভ্র এগিয়ে গিয়ে লামিয়ার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে লামিয়ার দিকে তাকাতেই তাঁর অধর দুটি ফাঁক হয়ে গেলো। লামিয়া শুভ্র কে কিছু বলার জন্য পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো শুভ্র তাঁর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” কি সমস্যা এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো..?”

শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো ” আমার কালো ভ্রমর তোকে পুরো আমার বউয়ের মতো লাগছে।”
লামিয়া কপালে কুঁচকে বললো
” আপনার বউয়ের মতো মানে..?”
শুভ্র নিজেকে সামলে বললো ” হুমম আমার বউয়ের মতো।”
লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” কয়টা বিয়ে করেছেন আপনি..?”
শুভ্র গালে হাত রেখে ভাবুক কন্ঠে বলল ” হুমমম এই ধর দশটা।” বলেই লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া শীতল চোখ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তা দেখে হেঁসে বললো ” আরে আরে আমি ম…” শুভ্র আর কিছু বলতে পারলো না। তাঁকে চমকে দিয়ে লামিয়া এগিয়ে এসে শুভ্রর পায়ের উপর ভর দিয়ে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরলো। শুভ্র থমকে গেলো। অবিশ্বাস্য লাগছে তাঁর কাছে। লামিয়া তাঁকে জড়িয়ে ধরেছে ভাবতে পারছে না। শুভ্র হার্টবিট মনে হচ্ছে বন্ধ হয়ে গেছে। শুভ্র কাঁপা কাঁপা হাতে লামিয়া কে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। এক হাত দিয়ে লামিয়ার কোমড় জড়িয়ে ধরলো আর অন্য হাত দিয়ে লামিয়ার মাথায় হাত রেখে বললো ” কী হয়েছে ভ্রমর তোর..? কেউ কিছু বলেছে হুমম..?”

লামিয়া শুভ্রর গলায় মুখ গুঁজে ধীর কন্ঠে বললো ” ভালো লাগছে না কিছু এখানে কেনো জানি শান্তি লাগছে থাকতে দেন না কিছুক্ষণ।”
শুভ্র মুচকি হেঁসে বলল ” কিছুক্ষণ কেনো..? থাক না সারাজীবনের জন্য।”
লামিয়া শুভ্রর কথার পৃষ্ঠে আর কোনো কথা বললো না। শুভ্র চুপচাপ সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলো একটুও নড়লো না। তাঁর আজ ভীষণ শান্তি লাগছে। এই প্রথম লামিয়া নিজ থেকে জড়িয়ে ধরেছে এতো বছরের বুকের যন্ত্রণা একটু হলেও কমছে। আর কোনোদিন দূরে যেতে দিবে না তাঁর ভ্রমর কে কখনো যেতে দিবো না। নিজের সাথে সাথে রাখবে সবসময়। ভেবেই শুভ্র লামিয়া কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে।

দূর থেকে যে দুজন তাঁদেরকে সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। মিলি চোখের পানি মুছে রাগে ফুসফুস করতে করতে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো। সবেই কাজ থেকে ফিরে ছিলো। বাড়ির গেটের ভিতরে প্রবেশ করতেই লামিয়া আর শুভ্র কে দেখে কষ্ট, হিংসা তাঁকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এখানে থাকলে কষ্ট বাড়বে কমবে না তাই এখান থেকে দ্রুত চলে গেলো।
শুভ্রর বাড়ির ছাদে মিরা দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে লামিয়ার বেলকনির দিকে। বাড়িটা একটু ঘুরে দেখছিলো সে। ঘুরতে ঘুরতে ছাদে এসে পা দিতেই চোখ ইসলাম বাড়ির দোতলা বেলকনির দিকে যেতেই চোখ জ্বলে উঠেছে তাঁর। মিরা লামিয়া আর শুভ্রর দিকে তাকিয়ে দাঁত কিরমির করে কিছু বলে রেগে বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো ছাদ থেকে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫০

মিরা ছাদ থেকে যেতেই লামিয়া বাঁকা হেঁসে উঠলো। মূলত মিরা কে দেখেই লামিয়া শুভ্র কে জড়িয়ে ধরেছে। আর মিরা ও তা দেখেছে। মিরা কে জ্বালাতে পেরে লামিয়ার মনে পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে। ইচ্ছে করছে লুঙ্গি ডান্স দিতে কিন্তু এখন সম্ভব নয়। তবে এই মিরা কে তাঁর উচিত জবাব দিবে সে। ব্যক্তিগত জিনিসের উপর কারোর নজর পড়লে মেজাজ খারাপ হয়ে যায় লামিয়ার । আর ব্যক্তিগত জিনিসটা যদি শুভ্র হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই, একটা মাছির নজর ও সহ্য হবে না তাঁর। নাকে পুরুষালী গন্ধ আসতেই লামিয়ার ধ্যান ভাঙলো। একটু নড়েচড়ে উঠতেই বুঝলো শুভ্র বেশ শক্ত করে ধরে রেখেছে তাকে। তাই লামিয়া আর নড়লো না চুপ করে শুভ্রর গলায় মুখ গুঁজে ঘ্রাণ নিতে থাকলো শুভ্রর গলা থেকে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২