Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন শেষ পর্ব

প্রেমের পাঁচফোড়ন শেষ পর্ব

প্রেমের পাঁচফোড়ন শেষ পর্ব
Afnan Lara

আহানা হালকা হেসে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে রইলো
আচ্ছা যদি ভয়টা সত্যি হয়ে যায়?
আমার শান্ত কি করে থাকবে,সে কি বিয়ে করবে আবার?ওর বাবার মত,তখন আমার সন্তানকেও কি তার বাবার মত অবহেলা অনাচার সহ্য করতে হবে তার সৎ মা থেকে?
আমার সন্তানকে আমি অনাথ করে দিবো?
আমার কাছে তো কোনো উপায় নেই,আমি এবোরশান করলেও তার সাথে অন্যায় করা হবে আর না করলে ভবিষ্যতেও তার সাথে অন্যায় হবে!
শান্ত ল্যাপটপের বাটনে টিপাটিপি করতে করতে আহানার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে চুপ করে ফ্লোরের দিকে চেয়ে আছে

তার গাল বেয়ে একের পর এক অশ্রু বেয়ে বেয়ে নিচে গড়িয়ে চলে যাচ্ছে
শান্ত হাত থেকে ল্যাপটপটা রেখে আহানাকে বুকে টেনে নিলো
সে জানে আহানা কেন কাঁদছে,তার হাতেও যে কিছু নেই
আহানা এবোরশান করাবে না আর না করালে তার লাইফ রিস্ক!
এখন তো ৬মাস শেষ হয়ে ৭মাসে পা রাখলো আহানা,এখন চাইলেও এবোরশান করানো যাবে না
আহানা তুমি ভেবো না,তোমার কিছু হলে তোমার মিঃ অশান্ত ও তোমার সাথে চলে যাবে,তার এই পৃথিবীতে থাকার কোনো অধিকার নেই
বাচ্চা তার দাদার কাছে থাকবে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

পরেরদিন ভোরবেলায় শান্ত আহানাকে নিয়ে আশ্রমের দিকে চললো
বৃষ্টি এখন আর তেমন হয় না,রাস্তাঘাট পরিষ্কার,আহানা আর শান্ত এখানকার কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে আছে
শান্ত কৃষ্ণচূড়া ফুলের কলি থেকে খোসা নিয়ে আহানার হাতে নখ বানাচ্ছে আর আহানা আশেপাশে তাকিয়ে দৃশ্য দেখে যাচ্ছে
খালি ক্ষেত,ধান নিয়ে যাওয়ার পর যে গোড়া থেকে যায় সেটাই আছে এখন
দূরের বড় রোডটায় রিকসা,বাইক,অটো এসব চলছে দেখা যায় সেসব
দেখো কি সুন্দর নখ বানাই দিলাম তোমার
ওয়াও! এজ লাইক রাক্ষসী
হুহ,আমার বউয়ের হাতে বড় নখ সুন্দরই লাগছে
আহানা শান্তর মাথা থেকে একটা শুকনো পাতা সরিয়ে ওর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললো”আমাদের ভবিষ্যত কি শান্ত?”

শান্ত আরেকদিকে ফিরে বসে কয়েকটা কঙ্কর নিয়ে মাটির রাস্তায় ফেলতে ফেলতে বললো”সেটা তো তুমি জানো আহানা!আমাকে কেন বলতেসো,তবে একটা কথা মাথায় রেখো তোমার কিছু হলে আমি থাকবো না এরপরে
তোমার কাছে দুটো অপশন ছিল,একটি সুন্দর জীবন আর একটি আপনজনকে হারানোর জীবন
তুমি ২য়টা বেছে নিয়েছো এর আবার কিসের ভবিষ্যত থাকবে?
আহানা আকাশের দিকে তাকিয়ে বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বললো”যদি ২য় অপশনেই আমি তোমাকে সুখের জীবন এনে দিতে পারি?”
আমার মা আমার হাত ধরে বলেছিল সে এই রোগ থেকে সেরে উঠবে!
আমার হাতে কিছু নেই শান্ত!যা হবে তা দেখা যাবে,আপনার জন্য যদি আমি থেকে থাকি তাহলে এই বড় ঝড় -বৃষ্টি শেষ হয়ে একটা রঙধনু ফুটে উঠবে,মিলিয়ে নিয়েন!

সবসময় পজিটিভ হয় না আহানা,আমার সাথে আজ পর্যন্ত কোনো পজিটিভ হয়নি,সব নেগেটিভ,সবচেয়ে আপনজনকে হারিয়ে এখন আবার আরেক আপনজনকে হারাতে চলেছি আমি
ছেলে হয়েছি বলে কি এত এত কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রাখি?
আমার মনের ভেতরটা ঠিক তোমাদের মতন,আমার ও আঘাত লাগে
বাট তুমি বুঝবা না,তোমার কাছে… থাক যাই হোক এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না,সব তোমার কারণে হচ্ছে,তুমি খুশি থাকো
কথা গুলো বলে শান্ত উঠে চলে গেলো আশ্রমের দিকে

আহানা উঠে দাঁড়িয়ে চোখ মুছে বললো”আমি তো কদিন পরে চলেই যাবো! তাহলে এ কদিন ভালোবাসবে না?”
কথাটা শুনে শান্ত থেমে গেলো,আহানার দিকে পিছন ফিরে তাকানোর শক্তি তার নেই
হাঁটু গেড়ে সেই জায়গাতেই বসে গেলো সে,দুহাত দিয়ে মাথা ধরে এক চিৎকার দিলো
আহানা তার জায়গায় দাঁড়িয়ে কাঁদতেসে
শান্ত ও কাঁদতেসে,কাঁদতে কাঁদতে বললো”আহানা আমি তোমাকে কোথাও যেতে দিব না,তুমি আমার আহান্ত হয়ে আমার কাছেই থাকবে”
আহানা আস্তে আস্তে শান্তর পাশে এসে দাঁড়ালো,শান্তর হাত ধরে ওকে উঠতে বললো
দুজনে এবার আশ্রমে এসেছে,শান্ত তার মায়ের কবর দেখতেছে আর আহানা ডোবাটার কাছে এসে পেটে হাত দিয়ে বললো”বাবু জানো,তোমার মা কে এই ডোবাটায় তোমার নানা নানু রেখে গিয়েছিল কিন্তু আমি এমন করবো না তোমার সাথে,আমি তোমাকে বাঁচানোর জন্য সবটা করবো,করতেসিও,ভয় পাবা না একদম,তুমি একজন স্ট্রং মায়ের স্ট্রং সন্তান হবে,স্বাধীন হবে,নিজের খরচ নিজে চালাবে বড় হয়ে
ততদিন তোমার বাবা তোমার খেয়াল রাখবে
যদি মাও থাকে তাহলে মাও খুব খেয়াল রাখবে তোমার টেনসন নিবা না কেমন?

আহানা?
হুম
চলো যাই,সকাল ৯টা বেজে গেসে,সবাই নাস্তা নিয়ে বসে আছে হয়ত,ওয়েট করতেসে মনে হয়
আরে হ্যাঁ তোমাকে একটা কথাই তো বলতে ভুলে গেসিলাম
কি?
নওশাদ ফোন করেছিল রুপা নাকি সেন্সলেস হয়ে গেসিলো
সে ওকে নিয়ে হসপিটালে এখন
সেকি!!কি হইসে ওর,ঠিক আছে তো?
হুম ঠিক আছে,খুশির খবর আছে
কি?
রুপা প্রেগন্যান্ট!
আলহামদুলিল্লাহ, এটা তো খুশির খবর!!!আমার বেস্টুও মা হতে চলেছে,আমি অনেক খুশি
শান্ত আহানার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বললো সব ঠিকঠাক থাকলে আমাদের বাবুর সাথে নওশাদ রুপার বাবুর বিয়ে দিব দেখো,তারপর আমি আর নওশাদ হবো বেয়াইন
হাহা!আচ্ছা দিয়েন

বাসায় ফিরে আহানা সবার সাথে নাস্তা করতে বসলো,ফুফু কোথা থেকে এসে আহানার হাতে তাবিজ লাগিয়ে দিলেন
মূলত শান্তর কথায় তিনি এই তাবিজটার ব্যবস্থা করেছেন
শান্ত কিছুুই বাদ রাখছে না যেটা দিয়ে সে আহানাকে সেভ করতে পারবে,প্রতিদিন প্রতিটা মূহুর্তে আহানাকে হারিয়ে ফেলার ভয় তাকে শান্তিতে দাঁড়াতে বসতে দেয় না
সকালের নাস্তা সেরে আহানা শান্তর রুমে এসে জানালার ধারে বসে আছে,মাথা ধরে আছে সেই কখন থেকে
শান্তকে কিছু বললেই ভেবে নিবে সব শেষ হতে যাচ্ছে
এমনিতেও প্রচুর টেনসনে থাকে আজকাল

মোহনগঞ্জে ১০/১২দিনের মত থেকে শান্ত আর আহানা ঢাকায় ফিরে আসলো,সকাল থেকে দাদি পায়ে ব্যাথা উপেক্ষা করে কয়েকবার আহানাকে দেখে গেছেন
শান্ত অফিসে গেছে,রুপা তাই আহানার কাছে এসে থাকতেসে,ও প্রেগন্যান্ট হলো কয়েকদিন আগে আর ওর বাবা মা যখন শুনলো তারা বিয়ে করার জন্য মিথ্যে বলসিলো যে রুপা প্রেগন্যান্ট এটার জন্য তেমন বকা দেয়নি তারা
আহানা শুনে বেশ খুশি হলো ও তো ভাবসে যেদিন তারা সত্যিটা জানবে সেদিন বিরাট বড় একটা ঝড় হবে
রুপা রান্না করবে আজ,কিছু কিছু শিখেছে,যেমন আলুর ভর্তা,ডাল,ডিম ভাজি এসব,কিন্তু অলি এসে বললো দাদি বলেছেন আজ তিনি খাবার পাঠাবেন,রুপা যেন রান্না না করে,রুপাও প্রেগন্যান্ট এটা তিনি জানতে পেরে আজ ওদের জন্য রান্না করতেসেন উনি

নওশাদ একটা প্রাইভেট ব্যাংকে জব পেয়েছে ব্যাংকারের
তাই রুপার বাবা রুপাকে নওশাদদের বাসায় থাকার অনুমতি দিয়েছেন এখন
শান্ত ২বার ফোন করে আহানার খোঁজখবর নিয়েছে
দাদি অলিকে দিয়ে খাবারের বক্স উপরে পাঠিয়ে দিয়েছেন
আহানা আর রুপা খেয়ে দেয়ে এখন দুজন মিলে ঘুমাচ্ছে
শান্ত সন্ধায় বাসায় ফিরেছে নওশাদের সাথে,নওশাদ যাওয়ার সময় রুপাকে নিয়ে যাবে,দুজনে এসে দেখে তাদের বউরা ঘুমাচ্ছে
দুজনেই স্বস্তি পেলো তাদের সুস্থ সবল দেখে

দেখতে দেখতে সেই যন্ত্রনার সময়টা এসেই পড়লো
এবোরশান/মৃত্যু/কোইনসিডেন্স এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ৯টা মাস কেটে গেছে কখন বুঝাই যায়নি
শান্ত এক পলকের জন্যও আহানাকে চোখের বাইরে করতেসে না,তার চোখে পানি এসে এসে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে বারবার
আহানাকে বুঝতে দিচ্ছে না সে কতটা কষ্টে আছে আজ সকাল থেকে
অবশ্য আহানার নিজেরই ভয় করছে,তবে তার নিজেকে নিয়ে না তার বাচ্চাকে নিয়ে
শান্ত ৩/৪জন লোক রেডি করেছে তারা ইমারজেন্সিতে আহানাকে রক্ত দিবে
ডাঃ বলেছেন বিকালের দিকে হসপিটালে যেতে

কিন্তু আহানার সকাল ১০টা দেখে শরীর খারাপ শুরু হয়ে গেছে,পেটের অসহ্যকর যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে সে
শান্তর হাত মুঠো করে ধরে এপাশ ওপাশ করছে শুধু আর বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে
শান্ত দেরি না করে ওকে নিয়ে সেই মূহুর্তেই হসপিটালে চলে আসলো
বেডে ওকে শুইয়ে দিয়ে ডাঃ রোস্তমকে আসতে বললো সে
সমস্যাটা অবশেষে দাঁড়িয়েই পড়লো আর তা হলো বাচ্চা বের করার এখনও কিছু করেনি কেউ অথচ এখন থেকে ব্লিডিং শুরু
শান্ত ঘেমে একাকার,শুধু চিৎকার করে বলতেসে আমার কিচ্ছু লাগবে না,আমার আহানাকে লাগবে,আপনি ওসব বাদ দিয়ে আহানাকে বাঁচান
আহানা কাঁপতে কাঁপতে বললো”শান্ত!!এসব আপনি কি বলতেসেন,একদম এসব বলবেন না,আমার বাচ্চার কিছু হবে না”!
কথা বলতে বলতে আহানা জ্ঞান হারিয়ে ফেললো
ডাঃ রোস্তম আরও ১একজন ডাক্তার ডেকে আনলেন,নার্স প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আনলেন

উনার সেন্স আনাতে হবে,এই অবস্থায় সিজার করানো যাবে না কোনোমতেই,এমনিতেও এত ব্লিডিং হচ্ছে সিজার করলে ক্ষতি হয়ে যাবে
শান্ত বাইরে দাঁড়িয়ে ছটফট করতেসে,তাকে ঢুকতে দিচ্ছে না কেউ
নওশাদ রুপাও এসে গেসে,বাবা আর বাকিরা মোহনগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে
আহানার জ্ঞান ফিরানোর ট্রাই করতেসে নার্সরা মিলে
আহানা চোখ খুললো প্রায়ই ১৫/১৬মিনিট পর,চোখ খুলেই হাত বাড়িয়ে দরজার দিকে দেখিয়ে বললো”শান্তকে আসতে দিন”
রোস্তম নার্সকে ইশারা করলো, নার্স গিয়ে দরজা খুলে শান্তকে বললো আহানা ডাকতেসে আপনাকে,ভিতরে আসুন
শান্ত সাথে সাথে রুমে ঢুকে গেলো,পাশে এসে আহানার হাত ধরে নিচে বসে ওর কাছে মুখ নিয়ে ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো “কিছু হবে না তোমার আহানা,আমি তোমাকে বাঁচাবো,সাহস রাখো
শান্ত আমি বাঁচবো না,আপনি বাচ্চাকে বাঁচান
শান্ত কথা বলতে পারছে না,মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তার
সবাই এখন এমন একটা সিচুয়েশনে আছে না পারছে রক্ত দিতে না পারছে ডেলিবারি শুরু করতে

আমি আগেই বলছিলাম এমন রিস্ক নিবেন না,এখন আমি ঠিক করে বলতেও পারবো না আদৌ আমি কাকে বাঁচাতে পারবো
আহানা শান্তর হাত খাঁমছে ধরে আরেক হাত দিয়ে শান্তর মাথা ধরলো
শশশশানননন্ত!আআআমমমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি,আপনার মতই!তেমনই বাচ্চাটাকেও বাসি,সে তো আপনারই অংশ,আমি তাকে মরতে দিতে পারি না,তার খেয়াল রাখবেন,একটা ভালো মা আনবেন তার জন্য,সবসময় তার চোখের দিকে তাকাবেন,সে ভালো আছে নাকি খারাপ ঠিক বুঝতে পারবেন,তাকে একা থাকতে দিবেন না শান্ত!
আহানা প্লিস এসব বলা বন্ধ করো,ডাক্তার আপনারা কিছু করছেন না কেন,আমার আহানাকে বাঁচান ব্যস,আর কোনোদিকে কন্সান্ট্রেট করবেন না
আপনি রক্তের ব্যবস্থা করুন,আমরা আমাদের মত কাজ চালু করছি
শান্ত চোখ মুছে আহানার দিকে তাকিয়ে ওর কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেলো
আহানা শান্তকে ঝাপসা দেখছে,কালো জ্যাকেট পরা ছেলেটি দৌড়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে রুম থেকে,আর কখনও কি একে আবারও দেখার সুযোগটা হবে?
আহানা চোখ মুছে বড় একটা শ্বাস নিলো,তারপর রোস্তমের দিকে চেয়ে বললো আমি কি বলবো শুনুন

আপনারা বাচ্চাকে বাঁচান,আমাকে আজ বাঁচালে আমি কাল নাহয় পরশু এমনিতেও মরে যাবো এটা খুব ভালো করে জানেন আপনি ডাঃরোস্তম!!
যে মরে যাবে তার জন্য একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে মেরে কি উপকার হবে?
সে আমার বাচ্চা,এইটা আমার জীবন,আমার অধিকার সবচাইতে বেশি এসব ব্যাপারে ডিসিশন নেওয়ার,আপনি আমার কথা ভাবা বাদ দিয়ে আমার বাচ্চাকে বাঁচান,আমার শরীর থেকে সব রক্ত চলে যাচ্ছে ৮/৯ঘন্টা ধরে ১ব্যাগ দিলে আপনার কি মনে হয় আমি বাঁচবো??
বাঁচবো না, তাহলে এই অনিশ্চিত জীবনের উপর নির্ভর করে আপনি আমার সন্তানকে মারতে পারেন না,আপনি আমার সন্তানকে বাঁচান,এখন!!!
সিজার করতে হলে করেন,তাকে ঠিকমত এই দুনিয়ায় নিয়ে আসেন,আমারটা ভাবতে হবে না আপানকে
শান্তর কথা শুনবেন না,সে জানে না আমাকে বাঁচালেও আমি দুএকদিনে ঠিকই মরে যাবো তাহলে কেন আমি সাথে করে আমার বাচ্চাকেও মেরে দিয়ে যাব,তা হয়
না
আগে বাচ্চাকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন

ঠিক আছে,রুদ্র!সিজার করার ব্যবস্থা করো জলদি!!
আহানা হাতের দিকে তাকালো,শান্তর দেওয়া সেই চুড়ি,যেটা শান্ত ওকে ওর জন্মদিনে দিয়েছিলো,হাতটাকে বুকে ধরে সে আরেকদিকে ফিরে গেলো
শান্ত রক্তর ব্যাগ নিয়ে ছুটে এসেছে,ডাঃ বললেন সিজার করতেসেনন,১০মিনিট আগেই সিজারের কাজ আরম্ভ হয়ে গেসে
শান্ত চিৎকার করে রুমে ঢুকতে যেতেই নওশাদ আর বাকিরা মিলে ওকে আটকালো
আহানা এটা তুমি কি করলে!!!তুমি আমার কথা রাখলে না আহানা!!আমি বাঁচবো না আহানা!
নওশাদ রুপাও কাঁদতেসে,শান্তকে সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে,শান্ত চিৎকার করে শুধু একটা নামই নিচ্ছে সেটা হলো আহানা
আহানার কানে আওয়াজ যাবে না,কারণ তাকে অবশ হওয়ার ইনজেকশান দিয়ে দেওয়া হয়ে গেসে

আমি শাহরিয়ার শান্ত আজ আগস্ট ৬তারিখ,২০২০সালে #########কে বিয়ে করতেসি,এরপর থেকে আমি ওর লাইফে দখল দিব না,স্বামীর অধিকার ফলাবো না,ওকে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে দিব,এই বিয়ে শুধু নামেই বিয়ে হবে
আমি শাহরিয়ার শান্ত #####কে রেখে কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করবো না
সাইন
শাহরিয়ার শান্ত

সো কিউট তো!!!আরিয়ান!!দেখে যাও আমি কি পেয়েছি
আরিয়ান বাথরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে এগিয়ে এসে হিয়ার হাত থেকে ফটো ফ্রেমটা নিয়ে চেয়ে রইলো
তারপর হেসে দিয়ে বললো “দারুন শর্ত তো,তাও আবার ফটো ফ্রেমে বাঁধায় করা,কোথায় পেলে তুমি??”
আরে আমি খাটের তলায় পরিষ্কার করতে গিয়ে পেলাম
শর্তটা দেখে এত হাসি পেলো সাথে ইন্টারেস্টিং লাগলো,আচ্ছা আরিয়ান এটা নিয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করলে কেমন হয়??আজকে আমাদের চ্যানেলে যে শো আছে সেটাতে এটা পেশ করা যায় না?
বেস্ট হবে,তবে এটা কারা লিখসে বা কার সেটা তো আমরা জানি না!তুমি শো তে কি বলবে?সব তো উল্লেখ করতে হবে!স্পেশালি যে লিখসে তার নাম আর যে সই করছে তার নাম
এখানে শর্ততে যে সাইন করছে সে নিশ্চয় মেয়েটার হাসবেন্ড??তার নাম শাহরিয়ার শান্ত!
যে লিখসে তার নাম কি?

হু,তার নাম তো জানা দরকার,কারণ শাহরিয়ার শান্ত যাকে বিয়ে করবে বলেছে সেই নাম টাতে আর পুরা ফ্রেমে রঙ জাতীয় কিছু একটা পড়ে আছে,তাই নামটা একটুও বুঝা যাচ্ছে না,,আমি অনেক কষ্টে ফ্রেমটার লেখাগুলো বুঝলাম, রঙ পড়লো তো পড়লো একেবারে মেয়েটার নাম দুবার লেখা ছিল সে নামের উপরই পড়তে গেলো
প্রতিবেদন তো একজনের নামে হবে না তার উপর আমরা তো জানিও না তারা শর্তটা কেন লিখেছে,তারা এখন কেমন আছে,শর্ত ভেঙ্গেছে কিনা বা শর্তটা ফ্রেমে বাঁধায় করলো যখন তার মানে তাদের মাঝে এখন ভালোবাসাটা ঢুকে গেসে,ইস কি জোসসসস,আমরা মন চাচ্ছে সব তথ্য বের করতে

এই যে হিয়া ম্যাডাম,রিপোর্টার থেকে এবার ডিটেক্টর হবেন নাকি??
রাখো তুমি,নিশ্চয় আমাদের আগে এরা এই বাসায় থাকতো,যাওয়ার সময় রেখে গেসে হয়ত,আমি খবর নিয়ে আসতেসি
আরে হিয়া দাঁড়াও,কফি বানিয়ে দিয়ে যাও,হিয়া?
হিয়া বের হতে হতে বললো “জান! তুমি কফি বানালে আমার জন্যও বানাইও,উম্মাহহহহ”
আরিয়ান মুখ বাঁকা করে কফি বানাতে গেলো
হিয়া মালিকের বাসায় গিয়ে দেখলো উনারা বাসায় নেই,তালা ঝুলছে
মন খারাপ করে বাসায় ঢুকতে যেতেই হিয়ার মনে পড়লো সামনের ইউনিটের ওরা তো কিছু হলেও জানতে পারে
জলদি গিয়ে কলিংবেল বাজালো সে
একজন গোলগাল চেহারার লোক দরজা খুললেন,তার পেট ১কিলোমিটার জুড়ে
হিয়া দাঁত কেলিয়ে উনার ভুড়ি থেকে চোখ উঠিয়ে বললো

ভাইয়া!আপনি কি বলতে পারেন আমাদের আগে এই ফ্ল্যাটে কে ছিল??
লোকটা হাতে থাকা চিকেন ফ্রাই খেতে খেতে বললো “হুম!! ৪জন টিচার থাকতো,পাশেই একটা স্কুল আছে সেখানের টিচার ছিল তারা,এখানে ম্যাচের মত থাকতো,বেশি থাকেনি,২মাসের মত ছিল”
হিয়া মন খারাপ করে চলে যেতে নিতেই আবার ফেরত আসলো
আচ্ছা ভাইয়া তাদের আগে কে ছিল জানেন??
না সেটা তো বলতে পারবো না,কারণ আমি যখন এসেছি তখন এই ফ্ল্যাট খালি ছিল তার কয়েক মাস বাদেই টিচারগুলো থাকতে এসেছিলো
ওহ,আচ্ছা আমাকে ঐ টিচারের গুলোর মধ্যে কারোর নাম্বার দিতে পারবেন??

হুম,একজনের নাম্বার দিতে পারবো,সে আমার ছেলেকে টিউশনি করাতো,নাম হলো রাকিব,ওয়েট নাম্বার দিচ্ছি
লোকটা হাতে থাকা চিকেন ফ্রাই শেষ করে ডাইনিং থেকে আরেকটা চিকেন ফ্রাই নিয়ে রুমের ভেতর চলে গেলেন,ফোন এনে ঘেঁটে ঘেঁটে নাম্বার বের করে দিলেন হিয়াকে
হিয়া সাথে সাথে সেই নাম্বারে কল করলো,রিসিভ করলো না কেউ
গাল ফুলিয়ে বাসায় এসে সোফায় বসলো সে
আরিয়ান ওকে কফি দিয়ে ওর পাশে বসে টিভি নিয়ে বসলো
কিছুক্ষন বাদেই সেই নাম্বার থেকে কল আসলো
হিয়া খুশিতে এক চিৎকার দিয়ে রিসিভ করলো সাথে সাথে
এমন জোরে চিৎকার করলো যে আরিয়ান মুখ থেকে পুরুত করে কফিই ফেলে দিলো

হ্যালো হ্যালো
হাই,আপনি কিছুক্ষন আগে আমাকে কল করেছিলেন?
হ্যাঁ,আপনি কি রাকিব?
জি,কি হইসে?
আপনি কি শাহরিয়ার শান্তকে চেনেন??
আমি তো অনেক শান্তকেই চিনি,তবে শাহরিয়ার শান্তকে চিনি না,কেন বলুনতো?
ওহহ,আপনি যে গুলশানে কিচিরমিচির নিবাসের ৪র্থ তলায় থাকতেন তার আগে এখানে কারা ছিল সে ব্যাপারে কিছু জানেন?
না তো,আমি ওখানে যাওয়ার আগে ফ্ল্যাটটা খালি ছিল
ওহ,আচ্ছা আপনি কি কোনো ফটো ফ্রেম পেয়েছিলেন এই ফ্ল্যাটে?
আসলে আমরা ৪টা খাট এনে রেখেছি,ব্যস প্রতিদিন কাজ শেষ করে সেই খাটে শুয়ে পড়তাম,রুমে আর কিছু আছে নাকি নাই সে ব্যাপারে জানতাম না

ওহ,ফাইন,থ্যাংক ইউ
হিয়া মন খারাপ করিও না তো,এক কাজ করো তুমি এই ফ্রেমটা নিয়ে শো তে লাইভ হইও,শাহরিয়ার শান্ত যেখানেই থাকুক দেখতে পেলে কল করবে নিশ্চয় ?
হুম বাট যদি শো এর টাইমে সে টিভি না দেখে?
ভাগ্যে থাকলে তার সাথে আমাদের মিট হবে না থাকলে হবে না
আমার শুধু জানতে ইচ্ছে করে এত কিউট একটা শর্ত লেখা মেয়েটির নাম কি!
তবে এটা বলতে পারি ছেলেটা মেয়েটাকে খুব ভালোবাসে,তা না হলে তাকে না ছোঁয়ার শর্তে সাইন তো করলো আবার এটাও মানলো যে সে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না
মেয়েটাও ওকে ভালোবাসে তা না হলে লাস্টের শর্তটা দিতো না
হুম সেটাই
আচ্ছা রেডি হয়ে নাও,অফিস যেতে হবে আমাদের,তুমি কি শো টা ঠিকভাবে করতে পারবে?
পারবো,অবশ্যই,আমি এই দুজনকে খুঁজে বের করবোই
পাগলি বউ আমার

দুজনে রেডি হয়ে অফিসে আসলো,,হিয়া ছটফট করতেসে কখন সে শো টা শুরু করবে
অবশেষে অনেক প্রতিক্ষার পর শো এর টাইম হলো
হিয়া একটা টপস পরেছে সাথে জিন্স,টপসের উপর ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সে রুমে ঢুকেছে হাতে তার ফ্রেমটি
অফিসের বসের অনুমতি নিয়ে সে আজ এই শো টা করবে
সিটে বসে মুখে হাসি ফুটালো
হ্যালো everyone!!! কেমন আছো তোমরা??নিশ্চয় ভালো??
আজ আমি একটা কাপলের প্রেমকাহিনী নিয়ে আলোচনা করবো!!পুরো শো টায় থাকবে একটা ইন্টারেস্টিং থিম
তার মধ্যে নায়কের নাম হলো শাহরিয়ার শান্ত

একটা ৬বছরের বাচ্চা ছেলে সোফায় বসে বসে শো টা দেখতেসে,তার ডান হাতে কোকাকোলা আর বাম হাতে পটেটো ক্রেকার্স
শাহরিয়ার শান্ত নামটা শুনে সাউন্ড বাড়ি নড়েচড়ে বসে ইয়া বড় এক চিৎকার দিলো
আব্বুউউউউউউউউউউউ
কি হইসে!!!কি হইসে!!ব্যাথা পাইসো?আহান্ত? পড়ে গেছো??কোথায় লেগেছে?ঝাল লাগছে?পানি খাবা?
আরে না আব্বু!!বলতে তো দিবা,টিভিতে দেখো তোমার নাম বললো
উফ!তাই বলে এত জোরে চিৎকার করবা?শয়তান ছেলে কোথাকার!!
কই কি বলসে?
বলসে শাহরিয়ার শান্তর প্রেমকাহিনী বলবে
কিহহ!শুনো বাংলাদেশে বহুত শাহরিয়ার শান্ত আছে শুধু আমি না
কথাটা বলে শান্ত চলে যেতে নিতেই থেমে গেলো,একটা লাইন শুনে
চমকে টিভির দিকে তাকালো সে
হিয়ার হাতে সেই ফটো ফ্রেমটা,এক দেখাতেই চিনে ফেলেছে সে
হিয়া শর্তটা পড়ে বলতেসে
শান্তর চোখে পানি এসে গেলো,,আহান্তর পাশে সোফায় বসে রিমোট নিয়ে সাউন্ড বাড়িয়ে দিলো সে

একটাই আফসোস কাহিনীতে নায়িকার নামটা স্পষ্ট নয় বলে আমি আপনাদের নায়িকার নামটা বলতে পারতেসি না,তবে শাহরিয়ার শান্ত?আপনি যদি এই শো টা এখন এই মুহূর্তে দেখতেসেন তাহলে প্লিস কল করুন,১৬৭৮৯০নাম্বারে
আমরা আপনাকে আর আপনার ওয়াইফের সাথে পরিচিত হতে চাই,আপনার ওয়াইফের নাম জানতে চাই
শান্ত হেসে পাশে তাকিয়ে দেখলো আহান্ত ফোন নিয়ে দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে
শান্ত ফোন হাতে নিলো কল করার জন্য তার আগেই হিয়ার শো তে অন্য একজনের কল আসলো
শান্ত ফোন হাতে নিয়ে চেয়ে রইলো টিভির দিকে
হ্যালো??শাহরিয়ার শান্ত??আপনি কি শান্ত বলতেসেন?
না,আমি তার স্ত্রী আহানা ইয়াসমিন বলতেসি
ওয়াওওওওও,আপনি এখন কোথায়?আপনি কি আমাদের শো দেখতেসিলেন??আপনি কি এখন আমাদের শো তে আসতে পারবেন?
আব্বু দেখসো?আম্মু টাইম পায় না বলে আমাকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে যায় না আর এখন এই শো দেখতেসিলো আবার এখন কথাও বলতেসে
শান্ত মুখে হাত দিয়ে হাসতেসে,হাসি থামিয়ে আহান্তকে নিয়ে বাসা লক করে বেরিয়ে গেলো সে

আচ্ছা আমি আপনাদের শো তে আসতেসি
শান্ত আহান্তকে নিয়ে সেই শো তে আসলো,হিয়া তো লাফাচ্ছে শান্তকে দেখে
এ বুঝি আপনার আর আহানার ছেলে?
হ্যাঁ
আচ্ছা আহানা কই তাহলে,আপনাদের সাথে আসলো না?
আহানা ওর চাকরিতে,সে একজন প্রাইমারি স্কুলের টিচার,এখন সে স্কুলে তাই সেখান থেকে আসতে দেরি হচ্ছে,আপনাদের শো টা মেবি টিচার্স রুমে থেকে টিভিতে দেখতেসিলো
আর আপনি কি জব করেন?
হাহা,আমি তো সেই স্কুলের হেডমাস্টার,আসলে আমরা যতই দূরে থাকার চিন্তাও করি না কেন
শুরু থেকেই আল্লাহ আমাদের এক সাথে রেখেছে আর এখন ও আমরা একসাথে
আমার ছেলে আজ বাসায় একা বলে আমি আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসেছিলাম
এক্সিউজ মি!আমি কি আসতে পারি??

আহানা?
জি
হিয়া দৌড়ে এসে আহানাকে জড়িয়ে ধরলো
আই এম সো হ্যাপি,আমি তোমাকে আর তোমার পুরো পরিবারকে দেখতে পেলাম,আমি এটা চিন্তাও করতে পারিনি তোমাদের আমি খুঁজে পাবো!!!
আপনি এই ফ্রেমটা কই পেলেন?
সেটা বড় কাহিনী
আগে এটা বলো তোমরা কি গুলশানের কিচিরমিচির নিবাসে থাকতা আগে?
হ্যাঁ,,কয়েক মাস আগেই আমরা নতুন বাসা নিয়েছি তাই ঐ ফ্ল্যাটটা বিক্রি করে চলে এসেছিলাম
এই ফ্রেমটা সেখানে রয়ে গেসিলো,আমি আজ পেলাম
এটার মধ্যে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে,অনেক খুঁজেছি এটা!
কথাটা বলে আহানা ফ্রেমটা হাত দিয়ে মুছলো
হিয়া বললো”এত রঙ পড়লো কেন এটায়??আমি তোমার নামটা জানার জন্য জাস্ট পাগল হয়ে গেসিলাম”

এই যে এই পুচকু আছে না?সে ছোট থেকেই রঙ দিয়ে আকিবুকি করে,বড় হয়ে আর্টিস্ট হবেন,একদিন আঁকাআঁকি করতে গিয়ে আমাদের এতদিনের স্মৃতির উপর রঙ ঢেলে দিয়েছিলেন!
কি পুচকু??এত দুষ্টু কেন তুমি?
আরে ওর জন্যই আজ আমরা আমাদের এই স্মৃতি আবার ব্যাক পেয়েছি
শো টা ও নিজেই দেখতেসিলো
তাহলে তো তোমাকে গিফট স্বরুপ কিছু দিতে হয়,কি নিবা বলো আহান্ত
আমি বেশি গিফট চাই না,জাস্ট চিপস,চকলেট,কোক(কোকাকোলা,আইসক্রিম,)এগুলা দিলেই আই এম ডান!
শান্ত হেসে ওর গাল টেনে দিলো

হিয়া আর আরিয়ানর সাথে ভালো কিছু সময় কাটিয়ে ৩জনে বাসায় ফিরে আসলো
আহানা জানালার পাশে চেয়ারে বসে টেবিলে রাখা পরীক্ষার খাতা চেক করে যাচ্ছে,ক্লাস ওয়ানের খাতা
শান্ত ফ্রেমটা নিয়ে বসে আছে আর মাঝে মাঝে টিভির দিকে তাকাচ্ছে আর আহান্ত বই খাতা নিয়ে বড় বড় চোখ করে লেখাগুলো রেখে দৃশ্য গুলো দেখে যাচ্ছে
ল্যান্ডলাইনের ফোন বাজতেসে
আহান্তর কানে আওয়াজ আসতেই ১সেকেন্ড ও দেরি না করে গিয়ে ফোন ধরলো
হ্যালো আসসালামু আলাইকুম,কে???কে কল করেছে,??নাম বলো,আমি শাহরিয়ার আহান্ত বলছি!
তোমার পুরো নাম বলতে হবে না হান্ত!
মাইশা তোমাকে না বললাম আমাকে হান্ত বলবা না,আমার নাম আহান্ত!
আঙ্কেলের নাম শান্ত,তোমার নামে আরেকটা অক্ষর বাড়িয়েছে কেন সেটাই বুঝি না,এত বলার মুড নাই আমার,আমি হান্তই বলবো,তো শুনো হান্ত!!শান্ত পাপা টু আর আহানা মাম্মাম টু কে ফোন দাও আমার মাম্মাম কথা বলবে

আচ্ছা দিচ্ছি,আম্মুউউউউ!রুপা মামনির ফোন!
আসতেসি
হ্যালো রুপা বল!
আমরা কাল যে পিকনিকে যাবো সব রেডি করছিস তো??কাল শুক্রবারে তোকে আর শান্ত ভাইয়াকে ফ্রি পাবো আবার কবে পাবো কে জানে
হ্যাঁ রেডি আমরা,কাল সকাল সকালই এসে পড়িস তোরা
ওকে!
আহানা ফোন রেখে আহান্তের তাকিয়ে চোখ রাঙাতেই সে চলে গেলো পড়তে
আহানা রুমে এসে আবারও কাজ করতে বসলো তবে এখন মন বসতেসে না আর
শান্ত ফ্রেমটা ল্যাম্পশ্যাডের টেবিলে সাজিয়ে রেখে আহানার কাছে এসে ওর গলা জড়িয়ে ধরলো
কোথাই ভাবলাম কাল একটু ঘুমাবো সারাদিন তা আর হলো কই,নওশাদের জ্বালায় আর থাকা যায় না,এখন রেডি হয়ে নাও,কাল তো সময় পাবো না তোমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার
হুম!আমি তো ভুলেই গেসিলাম

দুজন মিলে রেডি হয়ে আহান্তকে নিয়ে হসপিটালে আসলো,আহানার রক্তের পয়েন্ট চেক করে ডাঃরোস্তম হাসলেন,মুখ তুলে বললেন”এখন সব ঠিক আছে,আমি বলেছিলাম কোর্সটা শেষ হলে আপনার শরীরে নিজ থেকেই রক্ত উৎপন্ন হবে,আর বারতি রক্ত দিতে হবে না
আমি খুব খুশি আমি একজনকে সুস্থ করতে পেরেছি,আজও আমার সেদিনের কথা মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে,৬টা বছর হয়ে গেছে
সেদিন আহান্তকে দুনিয়ায় আনার পর আমরা সবাই ভেবে বসেছিলাম আহানা মারা গেছে,পরেই ওর নাড়ি চেক করে আমার বুক কেঁপে উঠলো,সচল দেখে আমরা সবাই মিলে আহানাকে সেদিন আল্লাহর রহমতে বাঁচিয়ে নিয়েছিলাম
শরীরে রক্ত এত কম ছিলো আহানার আমরা মাথায় বিশাল ভারী টেনসন নিয়ে আহানার চিকিৎসা করেছিলাম
আমাদের ভয় হয়েছিল শুধু এই ভেবে যে শেষ মুহূর্তে কিছু হয়ে না যায়
আর শান্ত!আহান্তকে আপনার হাতে দিতেই আপনি ওর মুখের দিকেও তাকাননি,আহান্তকে নওশাদের হাতে দিয়ে আপনি আহানা আহানা বলে শুধু চিৎকার করে যাচ্ছিলেন
আহানা চোখ খুলেছে ঠিক পরেরদিন সকালে
তার বাচ্চাকে মায়ের থেকে আলাদা রাখতে হয়েছিলো বলে আহান্তকেও ট্রিটমেন্ট দিয়ে রেখেছিলাম সেদিন
শান্ত আহান্তকে কোলে নিয়েছে ঠিক তখন যখন আমরা ওকে জানিয়েছি আহানা এখনও বেঁচে আছে
এরকম miracle খুব কম হয়,অনেক অনেক দোয়ার ফলেই হয়ত এটা সম্ভব হয়েছে সেদিন
আহানা চোখ খুলে সেদিন সবার আগে তার আহান্তকে খুঁজেছে,তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলেছে”শান্ত আমি পেরেছি!!”

সত্যি রেকর্ড করে রাখা উচিত ছিল আমাদের!!এখন তো কোর্স করানো হয়ে গেছে, অনেক বছর ও কেটে গেছে,আহান্তর বয়স এখন ৬বছর চলে
এখন আপনারা ১০০%সিউরিটি নিয়ে আবারও বাবা মা হোন,কোনো সমস্যা হবে না
আহানা শান্তর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো

পরেরদিন সবাই মিলে একটা পিকনিক রিসোর্টে আসলো
আহানা আর শান্ত একটা গাছের সাথে লাগানো সিটে পা দুলিয়ে বসে কথা বলছে
রুপা আর নওশাদ হাঁটতেসে দূরের একটা চিকন রাস্তায়
আর আহান্ত আর মাইশা গোল হয়ে বসে আছে একটা কার্পেটের উপর,কার্পেটটা ঘাসের উপর
মাইশা একটা বার্গার খেতে খেতে হঠাৎ ঠাস করে আহান্তের গালে চড় বসিয়ে দিলো
আহান্ত গালে হাত দিয়ে চেয়ে আছে বোকার মত
তারপর গাল ফুলিয়ে ব্রু কুঁচকিয়ে মাইশার চুল টেনে দিয়ে বললো”মারলা কেন?”

তুমি একা একা গোটা একটা ক্যাটবেরি বাবলি শেষ দিচ্ছো!!আমাকে একটুখানিও দিচ্ছো না!
তাই বলে চড় মারবা??তোমার পুতুলের বিয়ে কি করে হয় আমিও দেখে নিব,চুল ছিঁড়ে দিব তোমার পুতুলের,তখন তোমার পুতুল বেলু বেলু চেহারা নিয়ে বিয়ে করবে
শান্ত আহান্ত আর মাইশার কান্ড দেখে হাসতেসে
মাইশা আহান্তর থেকে কয়েক মাসের ছোট
শান্ত আহানার দিকে তাকিয়ে এক হাত দিয়ে ওর কোমড় ধরে টান দিয়ে কাছে নিয়ে আসলো
এই যে মেয়ে শুনো!!তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই
ইন্টারেস্ট নেই?
না তো!!একটুও না
দুটো আছে
দুটো?

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৬৯+৭০

একটা ঘাসের উপর বসে মাইশার সাথে ঝগড়া করতেসে আরেকটা…..
আহানা শান্তর হাত নিয়ে নিজের পেটের উপর রাখলো
“আরেকটা এখানে”
শান্ত হা করে সিট থেকে নেমে গেলো
কি বললে!!!!!
কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছিলো আমি প্রেগন্যান্ট
আজ সিউর হয়ে জানালাম
শান্ত মুচকি হেসে আহানাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
“এই যে মেয়ে শুনো! এখনও তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই”

সমাপ্ত