প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৪২
রোজ ও রুশা
বাগানে অতি সাবধানে ঢুকে অধীর। বোর্ডে বড় বড় করে লেখা —
“ফুল ও ফল চুরি করিলে, হাত-পা ভাঙিয়া দেওয়া হইবে!”
বোর্ড দেখে অধীর এক ঢোক গিলে নিজেকে নিজে বলতে থাকে–
“ জীবনে প্রেমিক পুরুষ হতে গেলে রিস্ক নিতেই হয় লাল গোলাপির অধীর!
বাগানে আম, জাম, কাঁঠাল সব গাছ আছে। তার একটু ভিতরে লুকানো অবস্থায় একটা বরই গাছ। গাছ ছোট হলেও এমনভাবে বরই ধরেছে মনে হচ্ছে গাছটা নিজেই বরইয়ের ওজন টানতে পারছে না।
অধীরের পেছনে সৃজন এমনভাবে হাঁটছে যেন তারা কোনো সিক্রেট মিশনে এসেছে। দুইজন একে অপরকে ভেংচি কাটছে মেয়েদের মতো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে দুইজন “বির যোদ্ধা” না, বরং “চোর বাহিনীর জুনিয়র সদস্য”।
এই বাগানের আবার আলাদা বিশেষত্ব আছে। একেকটা ফুল এমন বড় যে দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্লাস্টিকের বানানো। আর গোলাপ গাছে একসাথে ১২ রকমের ফুল! লাল, গোলাপি, সাদা, হলুদ— যেন ফুলের শপিং মল!
অধীরের টার্গেট লাল আর গোলাপি গোলাপ। কারণ লাল গোলাপি কে লাল আর গোলাপি গোলাপ দিলে দিলে যে খুশি হবে ভিষণ।
অধীর যেই না গোলাপ গাছের দিকে হাত বাড়িয়ে গোলাপ ছিড়েছে অমনি—ঢং,,,,,পুরা বাগান কাঁপিয়ে ঘণ্টা বেজে উঠলো।
সৃজন তো ভয় পেয়ে গাছটাই জড়িয়ে ধরেছে। হালকা একটা ঝাকুনি খেতেই আবারো ঢং ঢং করে ঘন্টা বেজে উঠে। ভয়ে ” থ “হয়ে দাড়িয়ে থাকে দুজন। কোথা থেকে যেন এক বুড়ি ঝাটা হাতে বের হয়ে আসে।
“ ওইইই চোর! ফুলচোর!
অধীর সামনে দৌড়!
সৃজন পিছনে দৌড়!
কিন্তু সমস্যা হলো সামনে যেতেই অধীর দেখে বুড়ি লাঠি হাতে তেড়ে আসছে।
“ ধর! আজকেই এদের বাঁশ দিবো!
” সারা জীবন মানুষ কে বাশা দেয়া অধীর যদি নিজে বাশ খায় ব্যাপার টা কেমন হয়ে যাবে না?
অধীর দিক পাল্টে উল্টো দিকে ছুটে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে সৃজন বরই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছে। সৃজনও আবার অধীরের দিকে দৌড় দিচ্ছিল।
দুইজন দুই দিকে মুখ করে দৌড়াতে গিয়ে এমন জোরে ধাক্কা খেলো, অধীর স্লিপ খেয়ে মাথা গিয়ে বরই গাছে ঠাস করে লাগে। ছোট গাছটা ঝাপটে ধরাতে , ঝপাঝপ করে বরই পড়তে শুরু করলো। বেচারা সৃজন গাছ এর নিচেই ছিলো সব তার মাথায়। মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে ।
এইদিকে পিছন থেকে আরেক বুড়ি কে দেখে, ঝাটা হাতে তেরে আসছে। তা দেখে সামনে তাকায় অধীর, একই ভাবে সৃজন ও তাকায় এক বার পিছনে তো এক বার সামনে । তেড়ে আসা দুই জনের একই চেহাড়া দেখে দুই ভন্ড চেচিয়ে উঠে।
“ভূত! ভূত!”
অধীরও চোখ বন্ধ করে লাফ দিয়ে সৃজনের কোলে উঠে যায়।
“ও বাপ রে বাপ ভূত! বাচাও আমায় বাচাও । বাপ রে আজ নজর টিকা দেয় নি মাদার বাংলাদেশ তাই নজর পরেছে রে সৃজনশীল। ভুত নজর করেছে।
দুই জনের চেহারা এক। একই পোশাক আবার সন্ধ্যার আজান একটু পর পরবে। ভয়ে সৃজন ঢুক গিলে। তিন সন্ধ্য বেলায় ভুত পেত্নিদের আনাগোনা বেশি থাকে। তার উপর দুইজন যুবক। তাগড়া যুবক দের রক্ত খেলে নাকি অনেক বছর বাচা যায় ভুতেদের । সৃজন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। এদিকে অধীর কখন তার কোলে উঠে চেচাচ্ছে ভয়ে তার খেয়াল নেই। আরো জাপটে ধরাতে সৃজন বলে উঠে–
“ নাম হারামজাদা! তোর ওজনে আমার কোমর ভেঙে যাচ্ছে !
কিন্তু অধীর আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
এর মাঝেই সৃজন হঠাৎ জ্ঞানী মানুষের মতো বলে উঠে–
“ আরে গাধা, ভূত না পেত্নি!
অধীর চোখ বন্ধ করেই কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“ দুইটার মধ্যে পার্থক্য কি?
“ ভূত হয় পুরুষ! পেত্নি হয় মহিলা!
অধীর এবার নতুন উদ্যমে চেচাতে থাকে—
“ পেত্নি! পেত্নি! ওমা পেত্নি!
“ভূত আমার ভাই… পেত্নি আমার ঝি…
সৃজন ভাই সাথে আছে বুড়ি পেত্নিরা করবে আমার কি…?!
আপেল বানু আর কমলা বানু—দুই জমজ বোন। এই বিশাল বাগানের মালিক। বাগানটা যেন তাদের রাজ্য, আর তারা দুইজন এই রাজ্যের দুই রানী। এক বোন আপেলের মতোই একটু শক্ত। আরেক বোন কমলার মতোই মিষ্টি কিন্তু বোকা বোকা —
বাগানের দুই মাথায় তাদের দুইটা বাড়ি। মাঝখানে বিশাল ফলের বাগান। বরই, আম, জাম,নানা বাহারের ফুল,ফল —সবই আছে এই বাগানে।
সৃজন আগে থেকেই চিনে – জানে আপেল বানুকে। কিন্তু কমলা বানু কে চিনে না কিন্তু আজকে হঠাৎ করে দুই জমজ বোনকে দেখে তার বুক ধর-ফর করে উঠল। আর অধীর তো এমনিতেই ভয়ভীতির মাস্টার—একটু কিছু দেখলেই “ইয়া আল্লাহ” টাইপ ফিল নেয়। বাশ আর ঝাটা হাতে আপেল বানু আর কমলা বানু সামনে এসে দাঁড়াল। ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো করে বলে উঠে আপেল বানু।
” এই নাম কইতাছি কোল থেকে হারামজাদা ।
– হাতে তখনো ফুল ছিলো অধীরের। ঝাপটে ধরায় দেখি নি দুই বোন আপেল ও কমলা –
” এতো জোয়ান পোলা ভদ্র দেখতে লাগতাছে। ছি ছি তোমরা চুড়ি করতে আইছো? দেখছোস বুবু এর জন্য কই শহরের বেটা ছেলেরা ভালো না।
কমনা বানু বলে তার বড় বুবুকে। বুবু সম্মোধন করায় সৃজন চোখ মেলে তাকায়। দুজন কে ভয়ে ভয়ে দেখে। তারপর পায়ের দিকে নজর দেয়। না! পা তো উলটো না ঠিকি আছে। ভুত পেন্তিদের পা তো উলটো থাকে ছোট থেকে শুনে এসেছে। যাক এরা তাহলে ভুত পেত্নি না। অধীর কে ফিস ফিস করে বলে—
” এই হারামি এরা পেত্নি না এরা জমজ দুই বোন।
” মানে!
” হ্যাঁ এখন চুরের তকমা থেকে বাচবো কেমন করে বল?
” অধীর কোল থেকে নেমে ফুল লুকিয়ে সামনে ঘুরে তার কানে ও দুই বোনের কথা যায়। বুকে থু “থু দিয়ে ঘুড়ে তাকায় সামনে। অধীর কে দেখে কমলা বানু বলে উঠে–
” ইয়া আল্লাহ কি সুন্দর পোলা এরা নাকি চোর?
অধীর কেবলাকান্ত হেসে বলে–
” কি বলছো দাদি -মা , আমরা চোর হতে যাবো কেনো?আমাদের দেখে কি তোমাদের চোর মনে হয়?আমরা নিষ্পাপ শিশু!
আপেল বানু বলে উঠে–
তা কোন দিক দিয়া তোরা শিশু? তোরা যদি চোর না হস তাইলে এইহানে কি করতাছোস ? হুনি!
অধীরঃ বিয়ে সাদি করি নি তো তাই আমরা শিশু । আ সলে আমরা আ “আসলে দাদি মা আমরা ঘুরতে এসেছি। এই যে ফোন ভিডিও করছি এতো সুন্দর বাগান তাই ভিডিও করতে এসেছি আর কি!বিশ্বাস করুন রানু মন্ডলের কসম!
হাতের ফোন দেখিয়ে বলে। আপেল বানু একটু চালাক চতুর মহিলা। আর কমলা বানু বোকা সোকা সহজ সরল। আপেল বানু বলে উঠে—
” তা ভিডিও করতাছো ভালা কথা, বরই পারতেছিস কেন? আর ফুল গাছে হাত দিছিস কেন?
” এবার সৃজন বলে উঠে–
” এ মা আয়ায়া… দাদী আমরা ছুইয়ে ও দেখি নি। দুই টা ছেলে এসেছে দেখলাম তারা ধরেছে। আর আমরা অই দুই টা কে ধরতে গিয়ে পরে যাই। এই দেখো!
সৃজন হাতে কাদা দেখিয়ে বলে। হাতে বরই বা ফুল দেখতে না পেয়ে একটু শান্ত হয় আপেল বানু ও কমলা বানু । সারাদিন পাহারা দেয়া লাগে বাগান তা না হলে ছেলে পেলেরা এমনি করে। তাই একটু বিশ্বাস করে আপেল বানু।হাতের ঝাটা ফেলে দিয়ে বলে উঠে–
” ও আইচ্ছা দেখতে কেমন হুনি পোলা গুলা। দেহি ধরতে পারি কি না।
অধীর ফুরুত করে বলে উঠে –
” এই লম্বা ও না খাটো ও না। চিকন ও না মোটা ও না। সাদা ও না কালা ও না। পোশাক গায়ে নাই আবার আছে । জুতা পায় দেয়া নাই আবার দেয়া ও আছে। বয়স বেশিও না কম ও না।
কমলা বানু গোল গোল চোখ করে তাকায়। পান মুখ থেকে ফেলে বলে উঠে–
‘এমন মানুষ ও আছে নাকি?
আপেল বানুর মাথা আওলিয়ে দেয় অধীর । কমলা বানু তো অধীররে দিকে তাকিয়ে আছে ডেব ডেব চোখে। আর মিটি মিটি হাসছে। অধীর একটু অন্য চোখে দেখলো যেনো। নতুন বউ এর মতো তাকে দেখে লজ্জা পাচ্ছে কেমন। কমলা বানু বলে উঠলো–
” বুবু ছাইড়া দে কি চাদের লাহান পোলা দুইডা। এরা চুরি করতে পারে না।
আপেল বানু বোনের দিকে তাকায়। দুই বোন কে নরম হতে দেখে, সৃজন একটু ভাবে, বরই তো নেয়া হলো না।
সৃজন নাটকীয় স্বরে বলে উঠে —
‘ টসটাসা আপেল দাদী।
আপেল বানু চমকে উঠে। সৃজনের দিকে তাকায়।
” এই হতোচ্ছড়া তুমি আমার নাম জানো কেমন কইরা ?
সৃজন ভেবাচেকা খায়। ও তো মজা করে বলেছে। আর দুই বোন এতো ফর্সা যে তাদের দেখলে এমন উদ্ভট নাম মাথায় আসবে ।
অধীর বলে উঠে কমলা বানুর দিকে তাকিয়ে —
‘এটা তাহলে কমলা দাদী।
কমলা মাথা নাড়ায়। সৃজন আর অধীর একে অপরের দিকে তাকায়। অধীর হাত বাড়িয়ে গাল টিপার ভঙ্গি করে বললো —
” তোমরা সত্যি আপেল কমলার মতো। ইস কি সুন্দর টসটাসা।
হাত কমলা বানুর গালে দেয়ার আগ মুহুর্তে সৃজন কুনুই দিয়ে গুতু মেরে থামায় অধীর কে! ফিসফিস করে বলে–
” কি করছিস ? তোর লাল গোলাপিকে বলে দিবো তুই কমলার গালে গালটুস খাচ্ছিলি।
কমলা বানু লজ্জায় নত হয়ে বললো –
” দূর হতচ্ছাড়া! কি যে বলিস।
অধীর কেশে উঠে। এই মহিলা ১৫ বছরের মেয়েদের মতো লজ্জা পাচ্ছে কেনো বুঝতে পারছে না। সৃজন বরই গুলার দিকে তাকিতে বলে–
” তা দাদী রা এই গাছ কে বানিয়েছে।
কেন আল্লাহ!
কে দুনিয়ায় পাঠাইছে?
” আল্লাহ।
” আমররা কার বান্দা!
” আল্লাহর।
” আল্লার কার?
উত্তর করে দুই বোন।
” আল্লাহ কার?
” কেন সবার।
” আল্লাহর জিনিস মানে কার জিনিস?
” সবার।
” গাছ আল্লাহর। এই দুনিয়া আল্লাহর।এই ফল আল্লাহর তাহলে কেউ কিছু নিতে চাইলে ওইটাকে পাপ বলে না।
কমলা বানু চিন্তিত হয়ে বলে —
” তাহলে কি কয়?
” কি বলে তা জানি না কিন্তু সবার হক আছে। আর তোমরা সবাইরে খাওয়াইলে সোয়াব হইবো। বুঝলা?
দুই বোন কি বুঝলো কে জানে। আপেল বানু কি যেন ভাবছে।
সৃজন আবার বলে, তাহলে আমরা কিছু বরই নি? সোয়াব হবে অনেক। যেহেতু চোরদের হাত থেকে এতো গুলা বরই বাচিয়েছি। আমাদের ও কিছু হোক আছে।
” কমলা বানু বরই ঝুকে নিয়ে সৃজন এর হাতে দেয়।
‘ এই নাও।
” সৃজন বরই হাতে নিয়ে দুই বোন কে উদ্দেশ্য করে বলে–
” আচ্ছা আসি তাহলে আমরা, আসসালামু আলাইকুম দাদীরা।
” আসসালামু আলাইকুম কমলা বানু।
অধীর কমলা বানুর দিকে তাকিয়ে বলে। কমলা বানু তো মনে হচ্ছে লজ্জায় শেষ। বাগান থেকে বের হতে সবাইকে হাসতে দেখে সৃজন নাভানের দিকে তাকায়। বেটা মিটি মিটি হাসছে। চোখ দিয়ে যেনো দুই বন্ধুর যুদ্ধ হয়েছে। কিছুক্ষন নাভান তাকিয়ে থাকে তারপর ভ্রুক্ষেপ না করে পকেটে দুই হাত গুজে চলে যায়। এদিকে অধীরের হাতে ফুল না দেখতে পেয়ে রুশার মুখ কাদো কাদো হয়ে যায়। অধীর রুশাকে আরেক দিকে টেনে নিয়ে যায় –
” এই ছাড়ুন লাইভ টেলিকাস্ট। আমার ফুল কই? একটা ইচ্ছে ও পূরণ করতে পারেন না।
অধীর চারিদিক তাকিয়ে পেন্টের চেইন খুলতে রুশার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। চেচিয়ে উঠে।
” আহহ” এ কি করছেন? ছি ছি ছি!
রুশা চোখ বন্ধ করে ফেলে দু হাত দিয়ে —
” অধীর পেন্টের ভিতর থেকে ফুল দুইটা বের করলো। শার্টের পকেট না থাকায় তখন এই বুদ্ধি প্রয়োগ করেছিলো। চুরের নাম উপাধি থেকে বেচেছে। রুশা আঙুল এর ফাক দিয়ে দেখে অধীর ফুল বের করছে। মুখ হা হয়ে যায়। অধীর আবুল মার্কা হাসি দিয়ে বলে–
” এই নাও লাল গোলাপি। আমার লাল গোলাপির জন্য লাল গোলাপি ফুল।
ফুল ফুলোর পাপড়ি একটু নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তাও তো এনেছে কতো কিছুর বিনিময়ে। ফুল দেখে মন ভালো হয়ে যায় রুশার। কিন্তু কোন জায়গায় রেখেছিলো এটা দেখে বলে উঠে, দাতে দাত চেপে–
” রাখুন আপনার ফুল,, ওই জায়গায় রাখা ফুল আমি নিবো। কিভাবে ভাবছেন?
অধীর বেচারা হা হয়ে আছে- ওই জায়গার মানে কি? তার ওই জায়গাকে এতো ছোট করে দেখছে কেনো? বরং সবচেয়ে দামি জায়গায় রাখা ছিল বলে এই ফুলের দাম আরো বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
কিন্তু এই মেয়েকে কে বুঝাবে? এই মেয়ে কেমন নাকুচ করে চলে যাচ্ছে। অধীর পিছু পিছু ছুটলো তার লাল গোলাপির। হাত ধরে বলে ওঠে —
“তুমি আমার ওই জায়গায়কে এত ছোট মনে করছো কেন? একটা পুরুষের সবচেয়ে দামি জায়গায় হচ্ছে ওই জায়গা। তুমি ওই জায়গাকে ছোট মনে করছো। এটা ঠিক না লাল গোলাপি।
ওই জায়গা, মানে কি! লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে । বারবার কেমন ওই জায়গা ওই জায়গা করছে বেটা নির্লজ্জ। রুশা বলে উঠে–
” আমার বলাই ভুল হয়েছে। আপনার কাছ থেকে ফুল চাওয়াই ভুল হয়েছে। মানুষ হাটু গেরে ফুল দেয় দেখেছি। কানে ফুল গুজে দেয় এটাও দেখেছি। পিছনে ফুল লুকিয়ে এনে সারপ্রাইজ দেয় এটাও দেখেছি। কিন্তু আপনার মত ফুল অজায়গা থেকে বের করে গার্লফ্রেন্ডকে দিতে দেখিনি। আমার উপন্যাসের নায়ক, হিরো তো এরকম ভাবে তার প্রেয়সি, তার প্রেমিকাকে ফুল দেয়নি। তাহলে আপনি কেন দিলেন? শুনুন তো, এখন আমার মেজাজ একেবারে ভালো না , আপনি যান এখন।
রুশা ঠোঁট ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা এমন করে রেখেছে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অবিচারটা তার সাথেই হয়েছে। আর অধীর অসহায়ের মতো এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। চারপাশে দু’একজন মানুষ হাঁটছে দেখে সে একটু ইতস্থতো বোধ করছে । রুশাকে টেনে একটু আড়ালে নিয়ে যায় অধীর —
রুশা রাগে গজগজ করে উঠলো–
অধীর বললো—
“শোনো… শার্টে পকেট ছিল না। হাতে নিয়ে আসলে ওই আপেল কমলা বানু দেখতো,আর বাশ খেতে হতো হাজার খানিক । তাই সবচেয়ে দামী জায়গায় রেখেছি।ভাগ্য ভালো কাটা ছিলো না বেচে গেছে। তা না হলে আল্লাহ জানে কি হতো!
“স্টপ –
” কেনো লাল গোলাপি?
অধীর আরও কাছে এসে ফিসফিস করে কিছু বললো—রুশা লজ্জায় নিচু হয়ে ছুটে যায়। চঞ্চল মেয়েটাকে এমন লজ্জা পেতে দেখে অধীর দুষ্ট হাসে। রুশা দুরে গিয়ে অধীর এর দিকে হাত উচিয়ে রাগি ভাব দেখায়। অধীর ভ্যাবাচেকা খায়। কি ভাই এই হাসে এই কাদে।এই রাগে তো এই নরম হয়ে যায়। অধীর মুখ টা মলিন করে গান ধরে–
” গালফ্রেন্ড মানেই তো যন্ত্রনা। আগে জানলে আর রিলেশন করতাম না,,
লাল গোলাপি যখন রেগে যায়। কপাল আমার পুরে যায়।
আগে যদি জানতাম লাল গোলাপির রাগ দেখে পালাতাম।
কালনাগিনীর মতো ফুসফুস করে কখন যে কামড়ায়। প্রেমিকা মানেই তো যন্ত্রনা আগে জানলে আমি প্রেম করতাম না।
অধীর কে গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখে
রুশা হো হো করে হেসে উঠলো–
“আল্লাহ! আপনি একটা আস্ত পাগল!
অধীর তার লাল গোলাপির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে গর্বের সাথে মাথা দোলালো।
“তোমার জন্য পাগল।
রুশা হাসতে হাসতেই ফুল দুইটা তার হাত থেকে নিয়ে নিল।
অধীর চোখ বড় বড় করে বললো—
“এই তো! শেষমেশ নিলেই!”
রুশা ফুল বুকের কাছে ধরে মুখ বাঁকিয়ে বললো—
“ নিয়েছি মানে এই না যে, এমন করে ফুল দেয়ার জন্য মাফ করে দিয়েছি ।
“তাহলে?
“শাস্তি পাবেন।
“কী শাস্তি?”
রুশা মুচকি হেসে বললো—
“ আগামীবার হাঁটু গেড়ে ফুল দিতে হবে। একদম উপন্যাসের হিরোদের মতো।
অধীর একটুও দেরি না করে রাস্তার মাঝেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। রুশা হতভম্ব।
“এই এই! উঠেন! মানুষ দেখছে!
অধীর দুষ্টু হেসে বললো—
“ সমস্যা নাই। মানুষ জানুক আমি আমার লাল গোলাপিকে কতোটা ভালোবাসি।
রুশা লজ্জায় অধীর কে জরিয়ে ধরলো —
“চুপ করেন! একদম চুপ!
অধীর ও রুশাকে নিজের বক্ষতলে জরিয়ে নেয়।
রোজের হাতে বরই এগিয়ে দিতেই সে দ্রুত হাত গুটিয়ে নিল। মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে ছোট্ট গলায় বলল—
“ আ… আমার লাগবে না।
সৃজন স্থির চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে। এই মেয়েটা যে অভিমান করেছে ভিষণ, তা সৃজন বুঝতে পারছে । মুখে সে যতই শক্ত দেখাক না কেনো , ভিতরটা এই মেয়ের জন্য ততটাই নরম। অনেক হয়েছে তাকে কষ্ট দেওয়া। এই এক মাসে সেও কম জ্বলেনি। ভুল বোঝাবুঝি, রাগ, অভিমান—সব মিলিয়ে দুজনের মাঝখানে একটা অদৃশ্য দেয়াল উঠে গিয়েছিল।
আজ আর সেই দেয়াল রাখতে ইচ্ছে করছে না সৃজনের,
নরম স্বরে, ভালোবাসা মিশিয়ে সৃজন বলল—
“I am sorry… ফুল জান আমার।
কথাটা শুনেই রোজের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
“ ফুল জান আমার…এই ডাকটা সে কতদিন শোনেনি!
চোখের কোণে জমে থাকা অভিমান মুহূর্তেই জল হয়ে গড়িয়ে পড়ল। ঝরঝর করে কেঁদে উঠল রোজ। জীবনে এমন একজন পাগল প্রেমিক পাবে, যে এতটা ভালোবাসবে—সেটা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
আল্লাহ সবাইকে সবকিছু দেন না।
বাবা-মায়ের ভালোবাসা হয়তো পুরোপুরি পায়নি সে। কিন্তু এই মানুষটা তাকে যেভাবে আগলে রাখে, যেভাবে ভালোবাসে—তাতে রোজের শূন্য হৃদয়টাও ধীরে ধীরে ভরে উঠেছে। তবুও নারীর মন বড় অভিমানী।
এই এক মাসে কতবার সে সৃজনকে সরি বলেছে। কতভাবে বুঝাতে চেয়েছে! কিন্তু ভাবওয়ালা লোকটা বরাবরই তাকে এড়িয়ে গেছে। আজ আবার সব ভুলে ভালোবাসা দেখাতে এসেছে।
রোজ কাঁদতে কাঁদতেই সৃজনের হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইল।
“ ছা… ছাড়ুন আমায়…”
সৃজন সাথে সাথে তার হাত আরও শক্ত করে ধরে ফেলল। গভীর স্বরে বলল—
“ ছাড়ার জন্য এই সৃজন তোমার হাত ধরে নি , ফুল জান আমার । মরার আগ পর্যন্ত আমি তোমার হাত এভাবেই ধরে রাখব।
কথাটা শুনে রোজের বুকটা কেঁপে উঠল। অথচ অভিমান কমলো না। উল্টো ঠোঁট ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। সৃজন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
“ সরি বললাম তো জান… কিন্তু আমার রাগ করাটা কি একদমই অযথা ছিল? তুমি চোখের দেখায় ভুল বুঝে আমাকে বিশ্বাস না করে দূরে সরে যাবে… এটা আমি কিভাবে মেনে নিই বলো? যে দহনে আমি জ্বলেছি, সেই দহনটা তোমাকেও একটু অনুভব করাতে চেয়েছি।
রোজ চুপ। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পানি থামলেও নাকটা লাল হয়ে আছে এখনও।
সৃজন এবার পরিবেশটা হালকা করতে ঠাট্টার সুরে বলল—
“এই বরইয়ের জন্য তুমি তোমার নতুন ভাইয়ের সাথে মিলে আমাকে কত হেনস্তা করছো! কী কী জানি বলেছ ! ও হ্যাঁ… টসটসে বরই দেখেই নাকি জিভে জল চলে আসে!
রোজ চোখ তুলে তাকাতেই সৃজন মুচকি হেসে আরও কাছে ঝুঁকে এল।
“ বিশ্বাস করো জান… তোমাকে দেখে এখন আমারো…”
বাকি কথাটা বলার আগেই রোজ লজ্জায় তড়িঘড়ি করে তার মুখ চেপে ধরল।
“একদম চুপ!
সৃজন হালকা হেসে উঠল।
তারপর আস্তে করে রোজের হাতটা নিজের ঠোঁটের কাছে এনে নরম একটা চুমু খেল।
রোজ থমকে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই বুকের ভিতরটা কেমন এলোমেলো হয়ে উঠল তার।
সৃজন ধীরে ধীরে তাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নিল। যেন অনেকদিন পরে নিজের শান্তির জায়গাটা ফিরে পেয়েছে।
এই মেয়েটাই যে তার শান্তি।
তার সমস্ত রাগ, অস্থিরতা, ক্লান্তি—সবকিছুর শেষ ঠিকানা এই ফুল ।
সৃজন দুহাতে রোজের মুখটা তুলে ধরল। মেয়েটা লজ্জায় চোখ তুলতেই পারছে না। কাঁপা কাঁপা চোখে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
সৃজন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
তারপর খুব যত্ন করে রোজের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
রোজ লজ্জায় একেবারে নতজানু হয়ে গেল। কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেছে।তা দেখে সৃজন দুষ্টু হেসে বলল—
“এই যে… বাসরঘরের বউদের মতো এত লজ্জা পাচ্ছো কেন, ফুল জান। আমি তো এখনও তেমন কিছুই করি নি।
রোজ সাথে সাথে তার বুকে ছোট্ট একটা কিল মারল।
সৃজন আরও নিচু হয়ে ফিসফিস করে বলল—
“লজ্জা পেয়ো না। আমি কিন্তু খুব একটা ভালো প্রেমিক না… ভুলভাল কাজ করে ফেলতে পারি, ফুল জান আমার…”
রোজ লজ্জায় টুকটুক লাল হয়ে সৃজনকে একটা ধাক্কা দিল। তারপর আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়ালো না। প্রায় দৌড়ে সরে গেল জায়গাটা থেকে। এই লোকটার সামনে বেশি সময় থাকাই বিপদ। কখন কী বলে বসে তার ঠিক নেই!
পিছনে দাঁড়িয়ে সৃজন মিটিমিটি হাসছে। মেয়েটার লজ্জা পাওয়া মুখটা তার ভীষণ প্রিয়। ইচ্ছে করেই এমন বেফাঁস কথা বলে সে। রোজের কান লাল হয়ে যাওয়া দেখবে বলে।
বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে নদীর জলের উপর এসে পড়েছে। সূর্যের সোনালি রোদে পুরো নদীটা চিকচিক করছে। যেন হাজার হাজার ছোট্ট হীরের টুকরো পানির উপর ভেসে আছে।
নদীর ঠিক পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক ঝাড়বাতি গাছ( সুনালু) । পুরো গাছজুড়ে থোকা থোকা হলুদ ফুল ফুটে নিচের দিকে লটকে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কেউ যেন হলুদ রঙের ঝাড়বাতি ঝুলিয়ে দিয়েছে।
গাছের নিচেও ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শুকনো ফুল আর পাতা। বাতাস এলেই সেগুলো উড়ে উড়ে চারপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। হেরা মুগ্ধ চোখে চারপাশটা দেখল।
তারপর ধীরে ধীরে পায়ের জুতোজোড়া খুলে ফেলল। খোপার বাঁধনটাও খুলে দিল এক টানে। সাথে সাথে কালো চুলগুলো পিঠ ছড়িয়ে বাতাসে উড়তে লাগলো —
আজ অনেকদিন পর পায়ে নূপুর পরেছে সে।
হালকা করে পা নাড়াতেই টুংটাং শব্দ উঠছে।
মুহূর্তেই নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে আফসোস হলো তার। আলতা দিলে আরও সুন্দর লাগতো।
কিন্তু আলতা বাসায় না থাকায় আর দেওয়া হয়নি।
হেরা স্কার্টটা একটু সামলে ধরে দৌড়ে চলে গেল ঝাড়বাতি গাছটার নিচে। উপর থেকে টুপটাপ গোল গোল হলুদ ফুল ঝরে পড়ছে। দেখতে যেন সোনার মুদ্রা ঝরছে আকাশ থেকে।
নদীর দমকা বাতাসে তার খোলা চুলগুলো উড়ছে। নূপুরের শব্দে চারপাশটা আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
কখনো দুই হাত মেলে ঘুরছে, কখনো ফুল কুড়িয়ে বাতাসে ছুঁড়ে দিচ্ছে। একটা অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য।
নাভান কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল।
তারপর অজান্তেই নিজের বুকের বাঁ পাশে হাত রাখল। মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ডটা আজ একটু বেশিই শব্দ করছে।
চোখ সরাতে পারছে না সে। মুগ্ধ গলায় আস্তে করে বলে উঠল—
“ঘূর্ণিবায় … মাশাআল্লাহ। আল্লাহর সৃষ্টি কতো সুন্দর!
তার চোখে তখন শুধু হেরাই। এই মেয়েটা যখন হাসে, মনে হয় পুরো পৃথিবীটা আলোয় ভরে যায়।
এদিকে রোজ আর রুশাও ততক্ষণে হেরার সাথে যোগ দিয়েছে। তিন বান্ধবী মিলে পুরো জায়গাটাকে যেন উৎসবে পরিণত করেছে।
রুশা ফুল কুড়িয়ে রোজের দিকে ছুঁড়ে মারছে।রোজ হাসতে হাসতে পালাচ্ছে। আর হেরা নদীর বাতাসে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।
আর দূরে দাঁড়িয়ে তিনজন প্রেমিক মুগ্ধ হয়ে নিজেদের প্রিয় মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
যেন সময়টা থেমে গেছে।
অধীর হঠাৎ কোথা থেকে একটা গিটার এনে নাভানের পাশে বসে পড়ল। গিটারটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চোখ টিপে বলল—
“ভাই… একটা গান হোক?
নাভান হালকা হেসে গিটারটা হাতে নিল।
তার আঙুল ছুঁতেই নরম একটা সুর ভেসে উঠল চারপাশে। নদীর বাতাস, ঝরে পড়া হলুদ ফুল আর গিটারের সুর—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা আরও স্বপ্নের মতো হয়ে উঠল।
নাভান ধীরে ধীরে সুর তোলে –
“শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
নাচিছে ঘূর্ণিবায়..!
জল তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল
ঢেউ তুলে সে যায়
(2x)
দীঘির বুকে শতদল দুলি
বরণায়ে বকুল-চাঁপার কলি (2x)
চঞ্চল বরণার জল ছল ছলি
চঞ্চল বরণার জল ছল ছলি
মাঠের পথে সে ধায়
জল তরঙ্গে বিলমিল বিলমিল
ঢেউ তুলে সে যায়
(2x)
সুরটা ঠিক কোথা থেকে ভেসে আসছে, তা যেন এই মুহূর্তে তিন রমনির কারো মনেই প্রশ্ন হয়ে ধরা দিল না। কে বাজাচ্ছে, কেন বাজাচ্ছে—এসব ভাবনার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল সেই মায়াবী সুরের আবেশ। সন্ধ্যার শেষ রোদ তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশের বুকে ঢলে পড়ছে। চারদিক জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক নরম সোনালি আভা। সেই আলো এসে আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছিল তিনজনের মুখ, চুল, আর উড়তে থাকা ওড়নার কোণ।
হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো মৃদু দুলছিল। যেন তারাও সেই অচেনা সুরের তালে তাল মিলিয়ে নাচছে। দূরে কোথাও পাখিরা শেষবারের মতো ডেকে উঠছে আপন নীড়ে ফেরার আগে। অথচ এই পৃথিবীর কোনো কিছুর দিকেই খেয়াল নেই তিন রমনির। তারা যেন হারিয়ে গেছে এক অন্য জগতে—যেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কোনো দুঃখ, নেই কোনো হিসাব।
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৪১
গানের সুরের সাথে সাথে ধীরে ধীরে নড়ে উঠল তাদের পদক্ষেপ। প্রথমে লাজুক ভঙ্গিতে, তারপর একটু একটু করে উন্মুক্ত আনন্দে। কারো ঠোঁটে ফুটে উঠল মুক্ত হাসি, কেউ চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ তুলল। আবার কেউ দুহাত মেলে বাতাসকে জড়িয়ে নিতে চাইল। সন্ধ্যার শেষ রোদের নিচে তাদের ঘুরে ঘুরে নাচতে থাকা শরীরগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তিনটি রঙিন প্রজাপতি হঠাৎ করেই মাটিতে নেমে এসেছে।
তাদের হাসির শব্দ আর নূপুরের ক্ষীণ ঝংকার মিশে যাচ্ছিল সেই সুরের সাথে। সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল ঠিক সেই ক্ষণটায়। পৃথিবী তখন শুধু সুর, নাচ আর সন্ধ্যার গোধূলি রঙে আঁকা এক স্বপ্নময় মুহূর্ত হয়ে উঠেছিলো!
