প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৮
রোজ ও রুশা
–নাভান এর রুমে দুই বাদর হুরমুড়িয়ে ডুকে!!দুই ভন্ড কে একত্রে দেখে নাভান ভ্রু কুচকায়।দুইটায় হাপাতে থাকে মূলত তারা তাদের কাহিনি সব বলতে এসেছে তাদের গরুর কাছে থুক্কু গুরুর কাছে!!নাভান ল্যাপটপে কাজ করছিলো! দুই টাকে হাপাতে দেখে তাকিয়ে বলে।
“ব্যাপার কি! তোদের না বলেছি, রুমে ডুকার আগে নক করে ডুকবি?
—অপমান! এতো অপমান ” জাস্ট রুমে ডুকেছে বলে।না এটা তো মানবে না।গুরু জনদের বাণি কেউ তোমায় অপমান করলে ,হাশি মুখে তাকে তার মুখ্য জবাব দাও।তাহলে না তুমি আত্নসম্মান ওয়ালা ব্যক্তি হবে যদিও এই বাণী কে বলেছে তা জানে না তারা ,নাকি নিজেদের মন গড়া বাণী কে জানে, অধীর বলে উঠে নাভান কে উদেশ্য করে ।
“কে ভাই” তুই কি বিবাহিত”? তোর ঘরে কি বউ আছে?যখন তখন চুম্মা চাটি করবি, যে রুমে আসলে দেখে ফেলবো আমরা ?
এবার সৃজন বলে উঠে।
“আরে ভাই খালি গায়ে আছিস ঠিক আছে! আমরা দেখলে সমস্যা কি!তর কি তুতু আছে নাকি যে দেখলে সমস্যা হবে!!আমরা আমরাই তো!!
দুই ভন্ডর কথা শুনে দাতে দাত পিশে নাভান বলে।
“What kind of talk is this‘tutu, cummacati? What language is that? A bunch of idiots.
(কি কথা বার্তা,তুতু,চুম্মা চাটি কি ভাষা এগুলো ইডিয়েট এর দল,)
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আর একটা বাজে কথা বললে এমন জায়গায় কিক দিমু,বউ কে জিবনে সন্তুষ্ট করতে পারবি না)
“একদিন আমাগো ও দিন আইবো দেখিস হারামি!.
– অধীর মনে মনে বলে কথাটা- নাভান ল্যাপটপ অন করে সিরিয়াস মুখ করে বলে।
-কাহিনি কি বল?
-একে একে দুইজন সব বলে,নাভান বলে।
” পরবি ভালো কথা,দেয়াল আছে বেঞ্চ আছে, সাইডে কি জায়গার অভাব পরছে নাকি যে ঘুরে ফিরে পিচ্ছি মেয়েটার উপর পরতে হবে। আর কিস এর স্বাদ নিচ্ছিলি? তোরে যে একটা থাপ্পড় দিছে ভাগ্য ভালো,আমি হলে ১০০ টার উপর দিতাম!
এবার থেমে অধীর এর দিকে তাকায়, বলে।
“আর মেয়েটার গালে টান দিয়ে গালটুস খাওয়া? কি নিন্মবিত্ত চিন্তাভাবনা, সামনে হকিস্টিকের বাড়ি খেতে রেডি হ, আহাম্মকের দল। একজন কিস করে বার বার!! আরেকজন গাল টানাড়ানি করে।ক্যারেক্টারলেসদের মতো আচরণ।
নিন্মবিত্ত মানে কি বোঝাতে চেয়েছে নাভান অধীর প্রশ্ন করে বলে।
– কেন ভাই নিন্মবিত্ত চিন্তা ভাবনা হতে যাবে কেনো? আমার কি উচ্চবিত্ত মানে ঠোটে চুম্মা দেয়ার উচিত ছিলো,যেমন সৃজন করেছে?
নাভান ভ্রু কুচকে তাকায়,শালা বোঝালো কি আর বোঝলো কি,মাথায় গোবর ও নেই যা আছে তাও উলুমাটি।নাভান বলেই ফেললো।
” মাথায় গোবর থাকলেও ভাবতাম, একদিন সার হলে জ্ঞান হবে কিন্তু না, যা ঘিলু আছে সব উলুর মাটির মতো ঝুরঝুরা।
অধীর মুখ টা ফ্যাকাশে করে বলে।
“বল না কি করবো ভাই।
-নাভান নিরলিপ্ত ভাবে বলে ফেলে।
” মেয়েদুটাকে কেমন লাগে তোদের?
সৃজন ও অধীর দুজন বলে।
“লাল গোলাপি তো সেই।(অধীর)
” আরে অই দের বেটারিও সেই ভাই জোস জোস।(সৃজন)
“তাহলে আর কি” লাইন লাগা আমি খোজ নিয়েছি মেয়ে দুটু এখনো সিংগেল,আর খুব ভালো, অই অহংকারী মেয়ের মতো না।
অধীর আর সৃজন এর বোঝতে বাকি নেই নাভান কার কথা বলেছে।এমনিতে রোজ আর রুশাকে অধীর আর সৃজন প্রথম দেখায় পছন্দ করেছে। এখন বন্ধু সহমত দেয়ায় তো তারা উড়ছে,শেষ মেশ সিংগেল লাইফ এর সমাপ্তি হতে চলেছে।সৃজন বলে উঠে।
“ভাই অই মেয়ে যে আমায় থাপ্পড় মেরে অসভ্য উপাধি দিয়ে গেলো প্রেমের প্রস্তাব দিলে যদি না মানে।(সৃজন)
” ভাই আমার ও সেটাই কথা যদি না মানে।( অধীর)
“তোরা কি আমার বন্ধু নাকি সন্দেহ হচ্ছে। যেখানে সয়ং শেহতাজ খান নাভান, খেলার আগেই জিতে ফেলে আর সেখানে সামান্য একটা মেয়েকে রাজি করাতে পারবি না, নিন্মবিত্ত কথা বার্তা,না হলে যেভাবে করাতে হয় করাবি দরকার পরলে জোর করবি!তাও তো ইজ্জত বাঁচবে ।(নাভান)
এদিকে রোজ নিজের ঠোঁট ঘসতে ঘসতে লাল করে ফেলেছে,সাবান শ্যাম্পু ,হুইল পাওডার দিয়ে ও বেচারি ঠোঁট ওয়াশ করেছে।অই বেটা আসলেই চুমুর সাপ্লাইম্যান দেখা হলেই চুমু,রোজ তো আর জানে না বেচারা পরার তখন কারন ছিলো,কলার খোসাতে স্লিপ খেয়েছিলো তাইতো অমন ভাবে পরেছে। আজ রুশা চুপচাপ কারন টা ভিন্ন,সে উপন্যাস পরে কিছুক্ষন আগে কান্না করেছে।যেখানে নায়ক মারা গিয়েছে,তাই আপাতপত তার মুড অফ,হেরা খুব ভালো করেই যানে এই মেয়ের ক্যারেক্টার ।উপন্যাস পরে সেড কিছু হলে কাদবে,আবার রুমান্টিক কিছু পড়লে মিটি মিটি হাসবে আবার হাসির কিছু হলে অট্টহাসিতে ফেটে পরবে।রোজ কেও বই কতো গুলা দিয়েছে দুই টাই এখন এক ক্যারেক্টার হয়ে গেছে।রোজ রুশাকে বলে উঠে।
” রসুন রানী, আমার আর উপন্যাস পরতে ভালো লাগে না, ভিডিও থাকলে দে দেখমু।আজ যে বই টা দিলি সেটার।
রুশার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। মন খারাপ ভুলে সে ভাবে আজ যে বই টা দিয়েছে সেটা অতিমাত্রায় রুমান্টিক, আর ভিডিও ছি, এই গোলাপ ফুল ভিডিও দেখবে , রোজ এর উদ্দেশ্য বলে ফেলে।
” শালি তোর লজ্জা করে না, পড়ছিস ঠিক আছে!! তাই বলে দেখতে চাবি!!তুই আসলে লুচ্চা হয়ে গেছিস রে।(রুশা)
–রুশার কথা শুনে রোজ বলে উঠে।
আরে লুচ্চা না দোস্ত, লুচ্চা না,বলবি রুমান্টিক হয়ে যাচ্ছি।( রোজ) যাকে বলে অতি মাত্রায়!!
হেরা মাঝখানে বলে উঠে।
” ও রুমান্টিক হতে গেলে অইগুলা পড়তে হয়,নিজেদের কি প্রতিবন্দি লাগে তোদের যে এগুলাও শিখতে হবে,তোদের মনে কিছু নাই?(হেরা)
রোজ এবার মুখ বাকিয়ে বলে।
“তুই অসব বোঝবি না,তোর তো খালি অই নাভান এর সাথে ঝামেলা করতে মন চায়,তোর মধ্যে রুমান্টিক এর র টাও নেই,মনে হয় কিছুদিন পর কলিকাতা হারবাল আনতে হবে তোর জন্য। (রোজ)
–রুমান্টিক নাকি আনরুমান্টিক তা অবশ্য আমি তোদের উপর এপ্লাই করবো না।(হেরা)
রোজ হেরাকে পাত্তা না দিয়ে রুশাকে উদেশ্য করে বলে।
” থাক মন খারাপ করিস না,তোর জন্য উপন্যাস এর মতো নায়ক আল্লাহর কাছে চাইমু।
“তোর জন্য ও দোয়া করি আমি রোজ,কিন্তু হেরার জন্য করতাম না শালি খালি অপনান করে আমাগো।
” ক্যাম্পাসে নরমাল আউটফিটে গেছে শেহতাজ খান নাভান আজো, সাদা আর কালোর কম্বিনেশনে শার্ট,কালো পেন্ট আর সাদা শু,পিছনে গিটার, শিল্পকলার এড়িয়ার সকল দায়িত্ব নাভান এর উপর,কোনো স্যার মেডাম রাখা হয় নি,কারন তাদের থেকে নাভান খুব ভালো পারে,যেহেতু সে শেষ বর্ষের ছাত্র তাই, তাকে শিল্পকলার দায়িত্বে রাখতে চাচ্ছে।স্যার কিছুক্ষন আগে অডিটর রুমে সবার উদেশ্য বলে যায়।
“প্রান প্রিয় শিক্ষার্থীরা,সবাইকে স্বাগতম, তোমরা জানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব কিছুর জন্য বিখ্যাত, আর এই বার তোমাদের জন্য বিষেশ খবর রয়েছে।বাহির থেকে সামনের নবিন বরণ অনুষ্টানে অনেক সম্মানিত ব্যক্ক্তি বর্গ আসবে। তারা শুধু আমাদের পরিবেশনা দেখবেন না, দেখবেন ঢাকার ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলা, ঐক্য আর সাংস্কৃতিক চেতনা। তাই তোমাদের প্রতিটি গান, প্রতিটি নাচ, প্রতিটি রঙে যেন থাকে আত্মবিশ্বাস আর সৌন্দর্য।
তোমরা তোমাদের মতো প্রস্তুতি নাও।আর এই দায়িত্ব হেরা ও নাভান কে দিচ্ছি আশা করি তোমরা নিষ্ঠার সাথে পালন করবে।
“সাংস্কৃতিক কক্ষ”
হেরা একটু জোরেই পরে, নাম টা,বাংলায় রুমের প্রবেশপথে বড় অক্ষরে লেখা,হেরা যেই রুমে যাবে তখনি তিতির সামনে আসে।সাথে ঝিনুক অধীর,সৃজন,নেন্সি আরো অনেকে,রোজ ও রুশা ওয়াশরুমে গেছে তাই হেরা হাটতে হাটতে চলে আসে এই রুমে। তিতির পথ আটকে বলে।
“এই মেয়ে জানো না, এই কক্ষে ডুকতে হলে নাভান এর পারমিশন নিতে হয়,তাছাড়া এই রুমে ঢুকা নিষেধ।
হেরা কটাক্ষ করে বলে।
” তা রুম টা কি নাভান এর নামে দলিল করা নাকি?
“তুমি বেশি বোঝো মেয়ে,এই হলের সব দায়িত্ব নাভান এর উপর তাছাড়া অইখানে নাভান এর সকল জিনিস রয়েছে দামি তাই তার পারমিশন লাগে।(তিতির)
” আমার লাগে না “মিস তিতির আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমি সামনের বছর এসবের দায়িত্বে থাকবো,আর আপনারা বিদেয় হবেন,তাই আমার কাজ আমায় বোঝে নিতে দিন।(হেরা)
” তুমি অনেক বেয়াদব মেয়ে!
“আপনার ব্যাবহারে বিষ থাকলে আমার ব্যাবহারে চিনি থাকবে এটা আশা করলেন কি ভাবে।
হেরা অইদিন এর কথা ভুলে নি, যেদিন তিতির তাকে থাপ্পড় দিতে হাত উঠিয়েছিলো ভাগ্য ভালো নিলয় এসেছিলো তাই আর দিতে পারে নি তাই তো আজ কড়া কয়েকটা কথা শুনানোর জন্য মন আকুপাকু করছে,এমনিতে হেরা খুব চঞ্চল কিন্তু এখানে তা দেখাতে চাচ্ছে না,নিজেকে খুব দমিয়ে রেখেছে,কিন্তু তাও মাঝে মাঝে নিজের আসল রুপ টা চলে আসে আশেপাশে মানুষ জন দের জন্য। ঝিনুক তিতির কে উদেশ্য করে বলে উঠে।
“”তিতির তুমি বেশি কথা বলছো! কই আরো অনেকেই তো যাচ্ছে তাদের আটকাও নি কেনো?ঘুরে ফিরে হেরাকে আটকাতে হবে?
” উফফ ঝিনুক আপু এসব মেয়ে অইসব বাদ্যযন্ত্রর কিছু বোঝে নাকি যদি নষ্ট করে ফেলে তাই তো!
তিতির কে চুপ করিয়ে বলে উঠে ঝিনুক!
“সেটা নাভান দেখবে , তোমার কথা বলতে হবে না!!এটা কেমন আচড়ন তিতির?
ঝিনুক এর কথায় তেমন পাত্তা দেয় নি,আর এই মেয়ে যে এমন উদাসিন তা ভালো করে জানে ঝিনুক,নাভান বলতে পাগল,নাভান কি সত্যি তিতির কে পছন্দ করে নাকি করে না তাও বোঝে না ঝিনুক, মাঝে মাঝে ব্যাবহারে মনে হয় খুব পছন্দ করে আবার মনে হয় খুব বিরক্ত মেয়েটার উপর, কিছু জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যায় নাভান,তাই তো তেমন কিছু বলতেও পারে না ঝিনুক।
” মেয়েটা অসভ্য,অইদিন কি করেছে দেখো নি? শোনো থার্ড ক্লাস মেয়ে!!তুমি নাভান এর থেকে দূরে থাকবে বোঝলে?
হেরাও কথার পিষ্টে জবাব দেয়।
“মানুষ এর সাথে ভদ্রভাবে কথা বলা এটা আমার বাবার শিক্ষা আর কেউ উল্টা পাল্টা কথা বললে, খারাপ ব্যাবহার করা আমার ব্যক্তিগত শিক্ষা। সো সাবধান!
” শুনো মেয়ে তোমার কথার জবাব আমি একেক করে দিবো।
“কথাটা বলে তিতির ।পাশ থেকে নেন্সি বলে উঠে।
“ফালতু মেয়েদের সাথে কি কথা বলিস তিতির,এরা এমনি একটা ছেড়ে আরেকটা ধরবে,এদের স্বভাব এমনি।
_নেন্সি যে কথাটা বলেছে হেরাকে তা হেরা ভালো করে বোঝতে পারছে,আজ ক্যাম্পাসে একটা ছেলের সাথে কথা বলছিলো তখনি নেন্সিকে দেখে হেরা, নেন্সি তার দিকে তখন তাকিয়ে ছিলো তার জন্য হয়তো এসব কথা বলছে।হেরা মুচিকি হাসে,
“টাকা ছাড়া অনেক গুলা দাসি রেখেছি আমি, সারাক্ষন আমার পিছনে পরে থাকে।
নেন্সি তেলে বেগুলে জ্বলে উঠে।
” তুমি আমায় দাসি বলছো মেয়ে তোমার সাহস তো কম না।
রাগে খোপে নেন্সি তেড়ে যায় কিন্তু সামনে পিন্সিপাল স্যার দের যেতে দেখে চুপ হয়ে যায়,হেরা হাসে স্যাররা যাতে না শুনে তেমন করে বলে।
“আমি কাওকে মিন করে কথা বলি না তাও যদি কারো জায়গা মতো লাগে তার মানে কথাটা তার জন্য ছিলো।
“নেন্সি এই অসভ্য মেয়ের সাথে কথা বলিস না এই মেয়ে মেনার্স জানে না, কিভাবে সিনিয়র দের সাথে কথা বলতে হয় তা জানে না এই মেয়ে।পরে এই মেয়েকে দেখে নিবো এখন চল।
তিতির নেন্সিকে টেনে নিয়ে যায়।
মুখ্য জবাব দিতে পেরে হেরার খুশি লাগছে,এই দুই মেয়ে হুদাই পরে আছে তার পিছনে,তাইতো জায়গা মতো বিষ দিয়েছে, ঝিনুক হাসে মেয়েটা কিভাবে জবাব দিলো।এই উগ্র টাইপ মেয়েদের তারো পছন্দ না।ঝিনুক হেরাকে বলে।
“শোনো হেরা কারো সাথে লাগতে যেও না, এসব রাজনৈতিক বিষয় খুব খারাপ, এখানে সবার সাথে ভালো ব্যাবহার করা লাগে তা না হলে এখানে টিকা মুশকিল হয়ে যাবে তোমার জন্য।
” আচ্ছা আপু তোমার কি মনে হয়,এরা আমার সাথে রাজনৈতিক বিষয় এর জন্য এমন করছে।(হেরা)
“কি জানি, তোমায় সাবধান করে দিলাম, তিতির একটু অন্য টাইপ এর মেয়ে আর অই নেন্সি ও।(ঝিনুক)
” আপু তুমি এতো ভালো, কিভাবে অই বাজে লোকটা তোমার ফ্রেন্ড হলো বলোতো?(হেরা)
“তুমি ভুল ভাবছো হেরা নাভান খুব ভালো ছেলে,হয়তো পরিস্থিতি তোমাদের দুজন কে খারাও প্রমান করেছে।( ঝিনুক)
” না আপু অই লোক টা আমার কাছে বাজে, বাজে, খুব বাজে।(হেরা)
“হয়েছে থাক এখন রুমে চলো,
ততক্ষনে সবাই গোল হয়ে বসে আছে নাভান কে ঘিরে,নিজের শখের গিটার হাতে নিয়ে টুং টাং টিউন তুলছে নাভান,তিতির মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে, হেরা রুমে ঢুকতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে, স্বপ্নের মতো লাগছে এই রুমটা তার কাছে,চারিদিকে লাইটিং,বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, রুমটা অন্য রকম সুন্দর, নাভান এর দিকে তাকাতেই হেরার চোখ ছোট হয়ে যায় এই প্রথম হেরা নাভান কে গিটার বাজাতে দেখছে, বলতে হবে অত্যাধিক সৌন্দর্যের অধীকারী পুরুষ শেহতাজ খান নাভান।হেরা মনে মনে বলে।
” গিটার ওয়ালা”
পকেট থেকে একটা মলম বের করে তিতির এর হাতে দেয় নাভান।
“এই নে তিতির এটা লাগিয়ে নিস, ব্যাথা কমে যাবে।
মলম হাতে পেয়ে তিতিত যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে,নাভান তার কেয়ার করছে,বাবার কথা মনে পরে।মুখে বললেই হয় না,ব্যাবহারে প্রকাশ পায় আসল ভালোবাসা।আসলে হায়দার চৌধুরি নিজে ফোন দিয়ে নাভান কে বলেছে মলম টা তিতির কে দেয়ার জন্য। তাইতো এখন দিলো নাভান।তিতির হাসি মুখ নিয়ে বলে।
” উফফ জানু তুমি আমার জন্য মলম নিয়ে এসেছো, সত্যি ও মাই গড, অনেক ধন্যবাদ তোমায়!!
বলে গদগদ হয়ে হাতে মলম লাগায় তিতির।হেরা কাছেই ছিলো একবার তাদের দিকে তাকিতে মুখ বাকিয়ে ফেলে।
আদিখ্যেতা ”
_কথাটা মনে মনে বলে,কই তার হাতে ও ব্যাথা যা সয়ং নাভান দিয়েছে,কতো রক্ত বের হয়েছে তা কি অই নাভান জানে।না জানবে কি করে বেটা যে অসভ্য নির্দয়,আর এখন গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে আদিখ্যেতা করছে।তার যদি আজ একটা বয়ফ্রেন্ড থাকতো তাহলে অই নাভান কে সেও দেখিয়ে দিতো,আচমকা হেরার ভাবনার মাঝে,কেউ তাকে টেনে নিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়,আর সে তার বরাবর আরেক টা চেয়ার টেনে বসে হাতের বেন্ডেজ খুলতে থাকে।
“নিলয় আপনি?
হেরা অবাক হয়ে বলে।
“তা এখানে কেনো?
” কেনো! আসতে কি বারন নাকি,যে গান এ নাম দি নি বলে এই রুমে আসা যাবে না,
“না তেমন টা না” হটাৎ আসলেন তো তাই।।
“আমি জানতাম তুমি ব্যান্ডেজ চেঞ্জ করবে না, যা অলস মেয়ে তুমি,সিউর হতে রোজ কে ফোন দিয়েছি,দু জন বললো তুমি নাকি তাদের কথাও শোনো নি তাই আসলাম ব্যান্ডেজ চেঞ্জ করতে।
কই এবার কথা না শুনে জান দেখি।
” হেরা হাসে,কিছু বলে না,
“আপনার মতো ফ্রেন্ড পেয়ে আমি সত্যি লাকি নিলয়।
” আবার”(নিলয়)
_বলে হেসে দেয় দুজনে।এসব কাহিনি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে দুজন ব্যক্তি
“তা তুমি থাকো ,কোনো সমস্যা হলে আমায় ডেকো,আশে পাশে আবার নাগ নাগিনের অভাব নেই।
বলে মুচকি হাসি দিয়ে কারো দিকে না তাকিয়ে চলে যায়।হেরা দামি যন্ত্রগুলো হাত দিয়ে ছুয়ে দিচ্ছে তা দেখে নাভান ও নেন্সি কাছে আসে,নেন্সি বলে।
” সবার যোগ্যতা নেই এসব দামি জিনিস ধরার।
নাভান ও সায় মিলিয়ে বলে।
“থাক নেন্সি, কখনো দেখে নি একটু মন ভরে দেখুক,
” কথা টা যেনো হেরার গায়ে লাগে,পাশ থেকে রুশা বলে উঠে।
“যোগ্যতা লেভেলে দেখাতে হয়,লেভেল ছাড়া না, যেখানে সেখানে যোগ্যতা দেখানো উচিত না,তা না হলে নিজের সময় লস। (রুশা)
” ও তাই বোঝি তাহলে নাভান ?একটা বাজি হয়ে যাক, বেশি না একটা হিন্দি গান গাইতে বলো!! অই যে অইখানে বসে।
-গান করার স্থান দেখিয়ে দেয় নেন্সি!
” রুশা হাসে,বলদ মাইয়া না জেনে কার সাথে টক্কর নিতে এসেছে।
রোজ বলে উঠে।
“বইন আগে দু চার টাকে বিরিক্ত লাগতো এখন চারিদিকের মানুষ জন কে বিষ লাগে বিষ!
কথাটা নাভান কে উদেশ্য করেই বলে রোজ,বান্ধবীকে অপমান করলে তারা কি ছেড়ে দিবে নাকি এটা ২০২৬ সাল, আপডেট পোলাপান তারা,
_রুশা হেরাকে টেনে নিয়ে যায় নেন্সির দেখানো স্থানটিতে বসিয়ে দিয়ে দূরে দাঁড়ায় ততক্ষনে সবার নজরে পরে হেরা,রুশার দিকে তাকাতে চোখের ইশারাতে গান গাইতে বলে।আর রোজ তো সিস বাজায় মুখ দিয়ে।রুশার কাছে শুনেছে হেরা খুব ভালো ইংলিশ গান গাইতে পারে,আর সে বিশ্বাস করে হেরা পারবে মেয়েটার অনেক দক্ষতা আছে।
বিজয় এর নিশান হাত দিয়ে বোঝাতে মুখে হাশি রেখে গাইতে শুরু করে হেরা।
Walking in the Sun in around and around
I can believe love is in around
Walking in the Sun in around and around and around
Walking in the Sun in around Sun in around and around
গান টা গেয়ে উঠতেই চারিদিকে হাততালির শব্দ আসে। নেন্সি তিতির সহ অনেকেই হা করে আছে একেবারে প্রফেশনাল গাইকাদের মতো গেয়েছে হেরা,রোজ সিস বাজায়, সৃজন চোখ বড় করে চায় এই মেয়ে ছেলেদের মতো সিস বাজায়,দুই বান্ধবী জরিয়ে ধরে রহেরা কে।হেরা হাসে শুধু,নাভান এর দিকে চেয়ে।সবাই যার যার মতো চলে যায় নেন্সিকে জায়গা মতো বাশ দিয়ে হেপি হেরা,নাভান হেরাকে উদেশ্য করে বলে উঠে।
“আমার নিরিবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না গিটার ওয়ালা,আমি কিন্তু মনে মনে গালি দেই।
” তুমি আর নিরব,তুমি তো এমনি বেয়াদব মেয়ে।গান গাইতে পারলেই যে তুমি সবার সেরা হয়ে গেলো ব্যাপার টা কিন্তু তেমন না,এই নাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর জন্য পারমিশন নিতে এই এলাকার MLA এর সাইন লাগবে এই নাও নাম্বার আর ঠিকানা,সময় সন্ধ্য ৭ টা, আর এটা আমার নাম্বার, পারমিশন নিয়ে আমাকে জানাবেন।
বলে গট গট পায়ে চলে যায়,
“এবার চরকির মতো ঘুরতে থাকো মিস হেরা,(নাভান)
বলে ম্লান হাসে।
ক্যাম্পাসে রোজ ও রুশাকে রেখে ঠিকানা অনুযায়ী যায় হেরা,কিন্তু ৪ ঘন্টা শেষ এখনো অই বেক্তির দেখা পায় নি,একটা লোক এসে বলে যায়।
” শোনো মা,এই ঠিকানায় যাও তাহলে পাবা।
-ঠিকানা দিয়ে লোকটি দ্রুত পায়ে চলে যায়, হেরা কিছু না বলে ঠিকানা অনুযায়ি যায় অই জায়গায়,সেখানেও একই অবস্থা,প্রতিবার একটা লোক এসে নতুন নতুন ঠিকানা দেয় হেরার হাতে।এমন করে ১০ জায়গায় পাঠিয়েছে। বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে বলে উঠে।
“উফফ এখন ৭ টা বাজতে ২০ মিনিট বাকি,শেষ অই জায়গায় যাই, লোকটা তো বল্লো অইখানেই থাকবে, উফফ কি জোর খিদে পেয়েছে। না আগে খেয়ে নি তার পর যাবো।
বলে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে হেরা খাবার খেয়ে যে উঠতে নিবে তখনি একজনের সাথে ধাক্কা খায়,আর হাতের ঠিকানা লিখা কাগজ টা পরে যায়,লোকটা নাম্বার আর ঠিকানা দেখে ভ্রু কুচকায়।
” এই ঠিকানা তোমার কাছে কেন?
লোকটি MLA কাজল এর পারসোনাল ড্রায়ভার।
“আসলে আমি এই এলাকার MLA এর সাথে দেখা করতে এসেছি, তার থেকে একটা পারমিশন নিতে হবে।
ড্রাইভার সিকান্দার বলে?
“কিন্তু তুমি যাকে খুজছো তিনি এই দেশে নেই সে বাহিরে গেছে এক সাপ্তাহর জন্য।
হেরা অবাক হয়? তাহলে অই লোকগুলো বলে নি কেনো তিনি দেশে নেই,কিছু গরবর আছে হেরা সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বলে।
” মানে”
“হ্যাঁ আমি তার নিজস্ব ড্রাইভার,তুমি তার ছেলে শেহতাজ খান নাভান কে বলো সে এই পারমিশন দিতে পারবে,ম্যাডাম না থাকলে সকল কিছুর পারমিশন সে দেয়,তুমি এখানেই পাবা, স্যার অইদিক টায় আছে,
শেহতাজ খান নাভান MLA কাজল এর ছেলে তা অজানা ছিলো হেরার! তার মানে ইচ্ছে করে লোকটা তাকে হয়নি করেছে। রাগে গট গট পায়ে চলে যায় লোকটার দেখানো জায়গাতে,নাভান একজনের সাথে দেখা করতে আসে,হটাৎ কারো চেচানোর শব্দে উপরে তাকায় নাভান,হেরাকে দেখে তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় তার দিকে।
” I have never seen such a rude guy like you. নিজে বড় হবার জন্য এমন টা করেছেন।যেখানে জানতেন আপনার মা দেশে নেই।আমাকে শায়েস্তা করার জন্য এগুলো করেছেন?
“নাভান হেসে জবাব দেয়।
” সহজে পেয়ে গেলে তো সবাই রাজা হয়ে যেতো পরিশ্রম ছাড়া।
“তাই বলে আপনি মিথ্যা বলবেন।
“এটা তোমার শাস্তি বনের রাজার সাথে লাগতে আসার ফল,
রাজা মাই ফুট ,রাগে হেরা বলতে থাকে।
“আপনার মতো ফাতরা পাতি নেতা দের মনে চায় হকিস্টিক দিয়ে মেরে বাপ – দাদার চোদ্দগুষ্টির নাম ভুলিয়ে দিতে ।
” কি আমি ফাতরা পাতিনেতা,(নাভান)
“হ্যাঁ আপনি ফাতরা পাতি নেতা।(হেরা)
” ঠিক করে কথা বলুন মিস হেরা এর ফল ভালো হবে না কিন্তু,
“কি করবেন আপনি শুনি, মেয়েদের কিভাবে রেস্পেক্ট করতে হয় তা মনে হয় পরিবার শিখায় নি।তাই এমন করেন?কি ভেবেছেন আমাকে আমি দুর্বল? আপনার মতো মানুষ দের কিভাবে টেনে নিচে নামাতে হয় তা আমার জানা আছে ।
এবার নাভান এর রাগ হয় সে সামনে থাকা কোল্ড কফি হেরার মাথায় ঢেলে দেয়।
” মাথা ঠান্ডা করে ভাবো কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছো তুমি?
হেরাও এদিক সেদিক তাকিয়ে চিকেন সুপ নাভান এর মাথায় ঢেলে দেয়,তাও টেবিলের উপর উঠে।যদিও এমনিতে পারতো ঢালতে কিন্তু সবার চোখে পরার জন্য এমন করা।হেরার কাজে দাতে দাত চেপে চোখ বন্ধ করে নেয় নাভান।হাত উচিয়ে বলে উঠে।
“তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি এর ফল ভালো হবে না।
– ঝিনুক এসেছে তার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে রেস্টুরেন্টের ভিতর চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনে ভির সরিয়ে এসে দেখে হেরা আর নাভান!অবাক হয় সে! তার মাথায় আসছে না এই দুই টা কিভাবে এখানে, ঝিনুক তার বয়ফ্রেন্ডকে ইশারা করতে সে নাভান এর কাছে গিয়ে বলে।
“ভাইয়া চলুন সিনক্রিয়েট করবেন না এতে আপনার সম্মান নষ্ট হবে।
-এই মেয়েকে আমি দেখে দিবো।(নাভান)
” আরে জান দেখে নিয়েন পারলে জুম করে দেখিয়েন।
“নিজেকে কি নাইকা ভিক্টোরিয়া মনে করেন নাকি। (নাভান)
” তার থেকেও কম না, আপনার মতো পাতি নেতা তো না। (হেরা)
“তোমার সাহস এর তারিফ করতে হয়, তুমি আমার গায়ে সুপ ডেলে দিয়েছো?(নাভান)
” এটা ভালো সুপ ছিলো,পারলে তো মড়া মুরগী, কবুতরের বৃষ্টা,গোবর দিয়ে সুপ বানিয়ে আপনার মাথায় ডালতাম ।(হেরা)
“তা আপনি কি অইগুলার কাজ করেন নাকি,(নাভান)
” না কিছু মানুষ এর জন্য স্পেসাল এগুলা, আপনি বললে আমি বানিয়ে দিতে পারি(হেরা)
–ভাই এ মেহে বহুত ঝগড়াটে, ঝামেলা হবে চলুন ভাই,কি পাতি নেতা ফেতা বলছে,আর কি সুপ এর কথা বলছে ভাই।গা ঘিন ঘিন করছে।চলুন তো।
বলে টেনে নিয়ে যায় নাভান কে। এদিকে ঝিনুক টানতে টানতে হেরাকে নিয়ে যায়।রাগি গলায় মেয়েটাকে বলে।
” তোমরা করছো টা কি! ক্যাম্পাস ছেড়ে এখন বাহিরে শুরু করেছো,তোমাদের কাহিনি কবে জানি দেশবাশি সবাই জেনে ফেলে।বাচ্চাদের মতো বিহেভ!(ঝিনুক)
“আ আপু।
না এখন কথা না শরীর এর অবস্থা বাজে দেখাচ্ছে হেরা,যাও বাসায় যাও আমি ওভার ঠিক করে দিচ্ছি,কাল সব শুনবো,বলে হেরাকে পাঠিয়ে দেয়,এদিকে নাভান বাসায় ঢুকতে অধীর অবাক হয়,এর প্রথম নাভান কে এমন লুকে দেখছে।
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৭
” কিরে ভাই সুপ দিয়ে কি গোসল করে এসেছিস নাকি! না মানে মাথায় সুপ কিভাবে?
কথার জবাব না দিয়ে গট গট পায়ে রুমে যায় নাভান,উপরের ঠাস ঠুস শব্দে বোঝতে বাকি নেই ঘরে এখন সিডর সুনামি বয়ে যাবে,কারো উপর রাগ ঝারতে না পারলে নাভান সবসময় এই কাজ টা করে,
“মিস হেরা ” কাল থেকে দেখবে এই শেহতাজ খান নাভান এর রুপ,আমার সাথে লাগতে আসার ফল কতো খারাপ হতে পারে তা হারে হারে টের পাওয়াবো আমি।
(হেরা কি পারবে নিজেকে কঠিন রাখতে,নাকি হেরে যাবে?কি এমন করবে হেরার সাথে নাভান?
নাকি মোড় নিবে নতুন কিছুর যেখানে ভালোবাসার সূচনা হবে )
