Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৭

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৭

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৭
রোজ ও রুশা

—স্যার দের ডাকে নাভান অফিস রুমে যায়,সেখানে গিয়ে দেখে আগে থেকে হেরা সেখানে উপস্থিত,প্রিন্সিপাল স্যার নাভান এর উদ্দেশ্য বলে।
” নাভান,আজ থেকে সকল কিছু তুমি হেরাকে বোঝিয়ে দিবে,যেহেতু নির্বাচন হবে না সেহেতু সকল দায়িত্ব যাতে সঠিক ভাবে পালন করতে পারে তার গাইড লাইন দিবে,তোমরা তো এই বছর পরিক্ষার্থী, তাই তাকে আগে ভাগে সকল কাজ বোঝিয়ে দিবে আশা করি।

“স্যার” আমার কারো হেল্প লাগবে না,আমি নিজের মতো সব করতে পারবো।
হেরার কথায় প্রিন্সিপাল স্যার একটু হাসে,দুজন তার প্রিয় ছাত্র ছাত্রি,হেরার বিষয়ে সব জানেন তিনি তাই তো নির্ভয়ে এতো বড় দায়িত্ব দিচ্ছেন, কিন্তু, উপর মহল থেকে কড়া করে বলে দিয়েছে সব কিছু শেহতাজ খান নাভান যাতে হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়,তার আগে এই দায়িত্ব যাতে না দেয় কারোর হাতে , নাভান হাসে।কটাক্ষ করে বলে।
“স্যার” মিস হেরা মনে করছে,এটা দুই বান্ধবি মিলে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিবে এক ফ্ল্যাটে, কোনো ভারাটিয়া জ্বালাতে আসবে না।এটা কোনো ফ্যামিলি চালানো না তা বোঝিয়ে দিন।দায়িত্ব কাধে নিলে কি করতে হয় তা হয়তো মিস হেরা জানে না,পরিক্ষা না দিয়ে GPA5 পাওয়ার আশা করছে ব্যাপার টা এমন হয়ে যাচ্ছে না ।
নাভান এর কথাটা যেনো হেরার গায়ে কাটার মতো লাগে,সে বিশ্বাসের সহিত বলে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“সম্মানিত সিনিয়র ভাই ”
আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে নয়,
আমি এখানে দাঁড়িয়েছি দায়িত্ব নেওয়ার সাহস নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে দাঁড়ানো নয়,
নেতৃত্ব মানে সবার কথা শোনা, সবার পাশে থাকা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আমি এতোটুকু গেরান্টি!!
আমি পারবো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে।
কারণ আমি ভয়কে নয়, দায়িত্বকে বেছে নিই।
আমি নিজের জন্য নয়, আমাদের সবার হয়ে কাজ করতে চাই যেখানে অন্যায় হবে, সেখানে আমি চুপ থাকব না।যেখানে সমস্যা হবে, সেখানে সমাধানের চেষ্টা করবো ।আর যেখানে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর দরকার,সেখানে আমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব।

আমি নিখুঁত নই—কিন্তু আমি সৎ পরিশ্রমি
এই তিনটি গুণ নিয়েই আমি নেতৃত্ব দিতে চাই।
“ইন্টারেস্টিং ” (নাভান ছোট করে বলে তাই কথাটা কেউ শুনে নি)
আচ্ছা মেয়েটা কি কথা আগে থেকে গুছিয়ে রাখে নাকি কথা ,এই যে নাভান একটা বললো আর তিনি ভাষান শুনিয়ে দিলো,না এই মেয়ের প্রতি নাভান এর আরো কড়া কথা বলতে হবে। স্যার হেরার মাথায় হাত রেখে সাহস দেয়।
“নাভান আমি চাই তুমি তোমার বেস্ট টা দাও তার পিছু। তোমার সকল দক্ষতা দিয়ে তাকে গড়ে তোলো!
-বলে প্রিন্সিপাল চলে যায়,নাভান পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে হেরার কানের কাছে গিয়ে বলে।
“সেই তো আমার নিয়মেই চলবে। আমি যা বলবো,তাই হবে।” ও আরেক টা কথা, তুমি যে এতো লাফিয়েছো আর অই বোকা নিলয় চৌধুরী, তারা হয়তো জানে না ক্ষমতা নেয়ার আগে এই নাভান এর সহমত লাগবে! ভুল জায়গায় তোমরা পা ফেলেছ ।বনে ঢুকেছো কিন্তু, বনের রাজা সিংহ কি আছে নাকি বনে তা জেনে আসলে না।
নাভান এর কথায় হেরার চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায়,নির্বাচন করলেই এর থেকে ভালো হতো, কি নিয়ম দিয়েছে,কিন্তু তাও হেরা নিজেকে শক্ত করে নাভান এর চোখে চোখ রেখে বলে।

“ওহ! বনের রাজা সিংহ,আমি কি আপনার কাছে বন্দি হয়ে গেলাম নাকি এখন ?
-নিজের জিনিস ছাড়া এই শেহতাজ খান নাভান কাওকে নিজের দখলে রাখে না, আর তুমি আমার টাইপ নও। আমি কিন্তু আমার কাছে কাওকে আসতে বলি নি কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় আসে তাহলে এখানে আমার কি করার।আমি আমার নিয়মে চলি।আমাকে দেখে শিখো আরো শক্তিশালী হও।তারপর আমার সাথে টক্কর নিও।
“শক্তি পাওয়া মানে কি অন্যের প্রতি দাসত্ব স্বীকার করা? তাহলে অই দাসত্বে “থু” দিলাম!
অভিনয় করে” থু “ফালায় এতেই যেনো ” থু” টা সত্যি নাভান এর শরীরে পরেছে।নাভান এর চোখে আগুন,
দাসত্ব!! “না, শুধু দেখবে কিভাবে সিংহ রাজা হয়েছে।”
“ভালো… আমি শিখতে আসিনি। চ্যালেঞ্জ দিতে এসেছি।”

এবার নাভান হাসে, এই হাসির আড়ালে কিছু একটা ছিলো যেনো তা কেউ ধরতে পারলো না,সেও হেরার আরেকটু কাছে এসে বলে।
“ভালো, তাহলে মজা হবে। ভুল করলে শিকারও পালাবে। আর শিকারি ও!!
নাভান এর মতো হেরা ও হাসে দু হাত বুকে আড়া আড়ি করে বাজ করে বলে উঠে।
“”আমি পালাবো না… আক্রমণ করবো ।মনে রেখো রাজা, প্রতিটি শিকারই প্রতিশোধ চায়। আমিও তার বেতিক্রম নয় কিন্তু।
নাভান ও চেলেঞ্জে এর মতো করে বলে উঠে।
“”ঠিক আছে…তুমি আমার চ্যালেঞ্জ। দেখা যাক, কে আগে হাল ছাড়ে।
“”শেহেতাজ খান নাভান “রাজার একটা ভুল হলেই , তার আসল শক্তি হাড়িয়ে যায় ততক্ষনে সিংহ হন বা বনের রাজা হন, আপনি কিন্তু সাবধান থাকবেন?

“আচ্ছা কি এমন রাগ নাভান এর উপর যে এতো উগ্রতা এতো কঠোরতা,যেখানে মেয়েরা নাভান বলতে পাগল সেখানে এই মেয়ে কেনো এই সুন্দর আকর্ষণীয় পুরুষ টাকে এতো ইগনোর করে,এতো খোভ তার উপর।
“হেরা ফুল কই ছিলে?
” এই তো পিন্সিপাল স্যার এর রুমে,
” তা কি বল্লো স্যার।
” এই যে কাগজ, ৬ মাস ট্রেনিং তার পর আমায় নির্বাচন করবে কর্তৃপক্ষ।
“মানে?

” হ্যাঁ, শেহতাজ খান নাভান এর সাথে বোঝ পরামর্শ করে এই ৬ মাস চালাতে হবে কেম্পাস,
নিলয় এর এবার মুড অফ হয়ে যায়,চিন্তা করে! এটা কিসের রুলস।কিন্তু হেরার সামনে কিছু বলে না।
“চলো আজ তোমায় আমি ট্রিট দিবো।
” কেনো! হটাৎ ট্রিট কেনো। কোনো বিশেষ দিন কি?
“আমার প্রিয় মানুষ কে খাওয়াতে বিশেষ দিন এর প্রয়োজন হয় না, তার জন্য প্রতিদিন দিন আমার কাছে বিশেষ।
” চলো রূশা আর রোজ কে নিয়ে ফুসকা খাওয়াবো,আনলিটেড।
মুচকি হেসে কথা টা বলে নিলয়,হেরার ফুসকা খুব পছন্দের, তাই তো একটু সময় কাটানোর জন্য নিলয় এটা বেছে নেয়।

” এতো ভালো কেনো আপনি?
“তুমার মন ভালো তাই আমায় ভালো বলছো।
” না “সত্যি আপনি অনেক ভালো। আমাদের অনেক বোঝেন আপনার মতো ফ্রেন্ড পাবো ভাবি নি কোনোদিন।
নিলয় এই অল্প প্রশংসাতেই যেনো গলে যাচ্ছে বরফের মতো,
” এতো ভালো বন্ধু ভাবছো আবার আপনি আপনি করছো।
“আ ” আসলে অই টা আমার অভ্যাস।
“চেঞ্জ করতে হবে তো, তা না হলে ফ্রেন্ড বলে দাবি করবে না।
-হেরা একটু চিন্তিত হয়ে বলে।
“আমায় একটু সময় দিন, আশা করি চেঞ্জ হবে।
এবার দুজনি হেসে মাঠের মধ্যে দিয়ে পাশাপাশি হেটে যায়,দূর থেকে এক জোরা তিক্ষ্ণ চোখ খুব ভালো করে পরখ করছে তাদের।

এদিকে রোজ রুশা অধীর আর সৃজন কে খুজছিলো একটা সরি বলবে বলে,একজন কেন্টিনে তো আরেকজন লাইব্রেরি তে ছিলো, খুজে পেয়ে দম নেয় দুই ভন্ড রমনি,রুশা আমতা আমতা করে বলে উঠে।
“স,স, সরি,আ ” আ”আসলে আমি তখন না বোঝে দরজা ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিলাম, ভুল টা কিন্তু দুজনের, দেখতে গেলে দোষ আমার কম,দরজা আটকান নি আপনি, তাই আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও দেখে নিতো আপনার!
মেয়েটা আর বলতে পারে না,অধীর লাফ দিয়ে দু কদম সরে যায়,গিয়ে বলে। সে একটা বই দেখছিলো, হটাৎ কারো কথায় পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে লাইভ টেলিকাস্ট লাল গোলাপি ম্যাডাম।
-এই চোখ ঢাকো লাল গোলাপি,চোখ ঢেকে কথা বলো,তোমায় দেখলে এখন আমার নজর চুন্নিদের মতো লাগে,
“কি আমি নজর চুন্নি” আপনি যে সিনারি দেখানো লোক।
“এই মেয়ে তুমি অইটার কথা বলো কেনো? আমার বোঝি লজ্জা করে না।(অধীর)
” মানুষ কে দেখানোর সময় লজ্জা কই ছিলো, নির্লজ্জ লোক।সেখানে আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও দেখতো।(রুশা)

“এই” একদম বাজে কথা বলবা না,আমার পরনে পেন্ট ছিলো!তুমি সত্যি করে বলো তো কতোটুকু দেখেছো?
-রুশা চোখ বন্ধ করে হাত দিয়ে একটু বোঝিয়েছে,যা দেখে অধীর এর চোখ বড় বড় হয়ে যায়,তার আকার দেখাচ্ছে!তাও এতো ছোট,ছি কি ফাজিল মেয়ে! অধীর ধমক দিয়ে বলে।
“এই ফাজিল মেয়ে এতো টুকু মানে কি এতো ছোট! ছি ছি!কি বেসরম মেয়েরে বাবা,তোমার লজ্জা করে না অন্যজনের জিনিস এর আকার তুলে ধরতে,
এবার চোখ একটু ফাকা করে, নিজের হাতের দিকে তাকাতেই রুশা হাত তারাতারি নামিয়ে ফেলে চোখ মোখ খিচে বলে উঠে।

” আরে আমি একটু দেখেছি, আপনি লাল পেন্ট পরা ছিলেন।
“-যাক আল্লাহ বাচাইছে,অধীর এর সিনারি দেখে নি তাহলে পুরুটা, মনে মনে নাভান কে ধন্যবাদ দিবে বলে ভাবে অধীর ,তার করনে তার ইজ্জত কিছুটা বেচেছে।একবার নাভান এর শর্ট পেন্ট পছন্দ হইছিলো অইটা সে এনে ইউস করেছে,এরপর আবার যখন নাভান নতুন আনে তখন একটা করে নাই করে দেয় অধীর ।নাভান এর পেন্ট মানে ছোট পেন্ট গুলা খুব দামি আর ব্রেন্ডের ,পরতে খুব আরাম তাই তো যখন নাভান শপিং করে তখন অধীর একটা করে মেরে দেয়।নাভান যখন বোঝতে পারে তখন অধীর এর জন্য তার জন্য সেম কালারের পেন্ট কিনে আনে।অধীর মনে মনে নাভান কে ধন্যবাদ দিচ্ছে।

কিন্তু তাও অধীর দুই হাতে তার মেইন পয়েন্ট ঢেকে রাখে,রুশা ও তার চোখ দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখে,অধীর রুশাকে এই প্রথম খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে,না মনে ধরেছে বেশ মেয়েটাকে,কি টসটসে গাল,আচ্ছা সে কি একটা গালটুস খাবে নাকি,হুম একটা খাওয়া দরকার,মেয়েটা তার এতো বড় সর্বনাশ করেছে, তার ও তো উচিত একটা কিছু করা,একটু হলেও তো শোধবোধ হবে,যেই ভাবা সেই কাজ,মেয়েটার কাছে গিয়ে গালে ধরে এক টান দিয়ে হাতে চুমু খেয়ে দেয় দৌড়, যাক বহু বছর পর একটা গালটুস খেয়েছে সে।( ভন্ড পাঠক-পাঠিকারা তোমরা আবার খেতে যেও না কিন্তু)
রুশা চোখের হাত মুহুর্তে গালে রেখে চেঁচিয়ে ওঠে।

“ও বাবা গো” গালে ব্লাসন স্টিকার লাগিয়ে দিলো গো।
-এদিকে রোজ, সৃজন এর সামনে যায়,লজ্জা ও ভয়ে বেচারি কিছুই বলতে পারছে না,সৃজন ফোনে কথা বলছিলো হটাৎ সামনে রোজ কে দেখে, গালে অটোমেটিক হাত চলে যায়, এই মেয়ে কি তাকে থাপ্পড় মারবে।রোজ সৃজন এর থেকে ১০ হাত দূরে, তাকে কথা বললেও জোরে বলতে হবে তা না হলে শুনবে না,এমনিতে রোজ প্রচুর লজ্জায় আছে যতই হোক সে একটা মেয়ে,আর তার সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনার জন্য সে অনেকটাই সৃজন কে দোষ দিচ্ছে,সেদিন যদি লোক টা ধিরে যেতো ঘোড়ার মতো না ছুটে তাহলে তো অই বাজে ঘঠনার স্বীকার হতে হতো না তাকে, পেয়েছেটা কি রোজকে প্রথমে তার রসুনরানী তার পর এই লোক, রুশার টা হয়তো মানা জায়, কিন্তু অই বেটার টা,যাই হোক তার ভাগ্য ভালো পেটের একটু উপরে লেগেছে, যদি সত্যি অ জায়গায় হাত লেগে যেতো,তাও কেমন ফিল হতো ,আচ্ছা লোকটি!! কি!!

ভাবছে!না না ছি “কি সব ভাবছে সে।মনে মনে পিচ্ছিল হিরো একটা অসভ্য বলে আক্ষায়িত করলো রোজ, লোকটা অসভ্য না লোকটার হাত অসভ্য,হ্যাঁ অই হাত আর ঠোট এর যতো দোষ।সৃজন চারিদিকে তাকায়, না এখানে আপাতত কেউ নেই,যাক এখন যদি মেয়েটা একটা থাপ্পড় মারে তো কেউ দেখবে না,রোজ কে পা থেকে মাথা অব্দি চোখ বুলায়, এসে ঠোটে চোখ স্থির হয় সৃজন এর, মেয়েটার ঠোঁট দুটু গোলাপি আর ঠোঁটের নিচে কালো কুচকুচে তিল, মুখে কিউট ভাব অনেক ,সৃজন দুই বান্ধবির সাথে মিলায়, হুম তাদের মতোই দেখতে প্রায়, কিন্তু কিউটি পাই টা একটু বেশি সুন্দর, পরোক্ষনে রোজ কে ভালো করে খেয়াল করে,না এই মেয়েটিও তো কম সুন্দর না, মাশা-আল্লাহ বলাই যায়, মনে মনে ভাবে সৃজন,রোজের ঠোট থেকে চোখ যেনো সরতে চাচ্ছে না,আচ্ছা অই দিন সে যে কিস করেছিলো তার টেস্ট টা কেমন ছিলো,আবার পরোক্ষনে ভাবে সে লিপ কিস করেছিলো নাকি!মাথায় কি উদ্ভট চিন্তা আসছে ,মেয়েটার ঠোঁট দেখে।সৃজন একটা ঢুক গিলে বলে উঠে।

” থাপ্পড় দেয়ার হলে দিয়ে দিন, আর শুনুন অই দিন অই ঘঠনা ছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত, যেখানে কারো দোষ ছিলো না,দোষ দুই জনের,থাপ্পড় দিলে আপনিও কিন্তু একটা খাবেন,দুই জনেই সমান অপরাধী।আমি একা কেনো খাবো?দুইজন দুজন কে মেরে দি হিসাব ক্লিয়ার।
রোজ যেনো আসমান থেকে পরেছে,এই পিচ্ছিল হিরোর কথা শুনে, সে কি জানে এই লোক।সৃজন বেচারা ইনোসেন্ট মুখ করে যে সামনে যাবে তখনি আবার স্লিপ, কি ভাবছে এবার কই পরেছে? আরে ভাই পরবি পর বেঞ্চ আছে টেবিল আছে,ফ্লোর আছে দেয়াল আছে দরকার পরলে তাতে বাড়ি খা,তা না আবার পিচ্চি মেয়েটার উপর,অই দিন ব্যাথা না পেলে আজ বেশ ব্যাথা পেয়েছে রোজ,আজ হাত ঠিক আছে কিন্তু আবার ঠোঁটের সাথে ঠোট লেগে গেলো,আচমকা ভয়ে হা করার সময় সৃজন এর ঠোঁট রোজের ঠোটের সাথে লাগে, মানে মুখের ভিতর একেবারে।সৃজন এর শরীর কেপে উঠেছে মনে হয়,এই প্রথম এমন স্পর্শ, রোজ মুখ নাড়িয়ে কথা বলতে চাচ্ছে।
“উম্মম, উম্ম,

-এই কথা বলরা কারনে মুখ নরছে আর খুব ভালো করে সৃজন এর ঠোঁটের প্রতিটি ভাজে তা স্পর্শ করছে।এতেই যেনো ছেলেটা কই হাড়িয়ে গেলো,রোজ নিজের হাত দিয়ে জোরে ধাক্কা দিতেই, সৃজন এর হুস আসে,লাফ দিয়ে উঠে ছেলেটা, সাথে রোজ কেও টেনে তুলে। রোজ কোমড়ে হাত দিয়ে উঠে একটা থাপ্পড় দেয় সৃজন এর গালে।
” এসেছিলাম সরি বলতে, আপনি আসলেই অসভ্য,অই দিন তাহলে ইচ্ছে করেই করেছিলেন,তোর সরির গুষ্টি মারি ,তুই সরির যোগ্য না সালা আবাল,

-বলে গট গট পায়ে চলে যায় রোজ,বেচারা সৃজন গালে হাত দিয়ে চলে আসে।
মলচত্তরে বসে আছে বন্ধু মহল, হেরা ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট থাকায় এসাইনমেন্ট করে দিচ্ছে রুশা আর রোজ কে,আর তার সাথে ঝিনুক ও আছে মেয়েটা হেরার খবর নিতে আসছে।বাম হাত বেন্ডেজ করা ,ঝিনুক এর তাদের সাথে বেশ ভাব হয়েছে , এসাইনমেন্ট দেখিয়ে দিচ্ছে মেয়েটা, হেরাকে।ঝিনুক এর মনে হচ্ছে হেরা এমন মেয়ে নয় যা নাভান এর সামনে প্রেজেন্ট হচ্ছে।নাভান এর সাথে কথা বলতে হবে হেরাকে নিয়ে ঠান্ডা মাথায়। নিলয় তখন সবাইকে ফুসকা খাইয়ে চলে যায় সে ক্যাম্পাসে বেশি সময় দিতে পারে না তার ব্যাবসার জন্য । কিন্তু এখন বেশির ভাগ সময় ক্যাম্পাসে থাকে শুধু মাত্র হেরার জন্য,। হেরাকে সবার সাথে রেখে সায়েমকে নিয়ে ক্যাম্পাসের পিছনে যায় নিলয়,রোজ বিরক্তিকর মেজাজে বলে।

-এই লেখাপড়া বিয়ে সাদির আইডিয়া যে কার মাথায় ছিলো বা**ল জংগলের ভিতর থাকতাম,খাইতাম,ঘুরতাম আর ঝিংগা লা লা করতে করতে ঘুমাই যাইতাম। বালের জীবন।
এসাইনমেন্ট করতে করতে সবাই ক্লান্ত রুশা রোজ এর সাথে সাথে তাল মিলিয়ে বলে।
– চল যাই ঝিংগা লা লা করমু জঙ্গলের ভিতর!! হ্যা ফোনটাও নিস সাথে” না মানে” ফোন ছাড়া ভালো লাগবে না “আর পিক তুলতে হবে তো..!
এবার ঝিনুক বলে
“প্যরাময় জীবন গো ভালো করে প্রেম ও করতে
পারি না জানো এই পড়ালেখার জন্য (ঝিনুক)
” সালার জীবন ।(রোজ)
হেরা রাগী চোখে তাকায় রোজ এর দিকে।

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৬

“”অভদ্র মাইয়া,আমার চিন্তা হয় তুই কেনো যে আইন নিয়ে পরাশুনা করছিস,বিতর্ক করার সময় না তোর বেফাস মুখ দিয়ে কখন গালি বের হয়ে যায়।
“তা যা বলেছিস হেরা পাখি ।এই মাইয়ার মুখ না কি! স্পিকার কে জানে!!
রুশা রোজ কে উদেশ্য করে বলে কথাটা। রোজ বাচ্চা বাচ্চা ফেস করে বলে।
“হ বইন আমার কথাবার্তা শুনে মনে হবে আমি মোটিভেশনাল স্পিকার কিন্তু আমি নিজেই ডিপ্রেশনের রোগী।বোঝলি রসুন রানী।

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৮