প্রেমের সমর পর্ব ২৫
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
আকাশ মেঘলা। ঘোলাটময় পরিবেশ। আশপাশে জুড়েছে শীতল বাতাস।নাসারন্ধ্রে অনুভূত হয় মৃত্তিকাময় সুভাস। বোধহয় ধরনী তার উদাস মনের পরিচয় দিল মেঘলা আবহাওয়াতে। ছুটি সে মেঘলা আবহাওয়ায় গা না ভাসিয়ে ভার্সিটিতে গেল। অথচ সেখানে গিয়েই তার মন উদাস উদাস লাগল। কেবল আজকের দিন! আজকের দিনটা পার হলেই তার আবির ভাই চলে যাবে অন্য দেশে। আর চাইলেও তার সাথে ছুটির দেখা হবে না। কতোটা দূরের পথ! অন্য একটা দেশ!ছুটির মন খারাপ হয়। উদাস মনে দুটো ক্লাস করে যেই না বাসায় ফিরতে নিবে সেমাত্রই পৃথিবীতে নামল ঝুম বৃষ্টির বিচরণ৷ ছুটি সাথে ছাতাও আনে নি। আচমকা এমন ঝুম বৃষ্টি যে হবে তা বোধহয় আশাতেও রাখে নি সে। তাই তো ছাতা আনে নি। কিন্তু তবুও আজ বৃষ্টিতে ভিজতে খারাপ লাগছে না তার। বৃষ্টির পানি যখন শরীর ছাপিয়ে ভিজিয়ে দিল পুরোটা শরীর তখনই প্রথম ছুটি কেঁদে দিল।
ভাবল, এত অবসন্নতা, এত দুঃখ, এত কষ্ট কার জন্য?কার জন্য আজ এত উদাসীনতা? মানুষটাই তো তার নয়! তাকে ব্যবহার করল কি নিখুঁত ভাবে।তার অনুভূতির সুযোগ নিল। কথাগুলো মাথায় ঘুরতেই ছুটির রাগ হয়। চোখ লাল হয়ে উঠে। আর নোনতা পানিগুলো বয়ে যায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে! ছুটি দীর্ঘশ্বাস টেনে অনেকটা সময় বৃষ্টিতে ভিজে। পরমুহুর্তেই রিক্সা নিয়ে উঠে পড়ে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু যেমাত্রই সে বিল্ডিংয়ের সামনে রিক্সা নিয়ে নামল সেমাত্রই দেখা গেল রাস্তার ধারে একটা গাড়ি। আর গাড়িটা থেকেই ছাতা নিয়ে নেমে আসতে দেখা গেল আবিরকে।ড্রেসআপ ফর্মাল। উপরে ব্লেইজার। সুন্দর দেখাচ্ছে আবিরকে। ছুটি অন্য সময় হলে ড্যাবড্যাব করর তাকিয়ে থাকত কিন্তু আজ ভ্রু কুঁচকায়। আবিরকে এগিয়ে আসতে দেখে ভাড়াটা মিটিয়েই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চায়। কিন্তু চলে যাওয়ার আগেই আবির সামনে এল। ঘড়ি দেখিয়ে বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” দীর্ঘ দুইঘন্টা যাবৎ এখানে অপেক্ষা করছি। কোথায় ছিল এই বৃষ্টিতে হুহ?আর এইভাবে ভিজে এসেছিসই বা কোন আক্কেলে? ভালো দেখাচ্ছে এভাবে তোকে? ”
কথাটা বলার সাথে সাথেই ছুটি নিজের দিকে তাকায়।এতক্ষনে বুঝে উঠতে পারে যে তার জামা শরীরের সাথে ভিজে লেপ্টে আছে। দেখতে নিশ্চয় বিশ্রী দেখাচ্ছে এই দৃশ্য? ছুটি মুহুর্তেই আশপাশে তাকিয়ে দেখল কোন ছেলে আছে কিনা। পরমুহুর্তে আবিরের রাগান্বিত দৃষ্টি দেখে ওড়নাটা ঠিক করে সারা শরীর আবৃত করার চেষ্টা চালাতে চালাতে বলে,
“আমার জন্য তো আপনার দুইঘন্টা অপেক্ষা করার কথা নয় আবির ভাই৷ যদিও দুইঘন্টার অপেক্ষার কারণটা আমি জানি। অনেকদিনের জন্য চলে যাচ্ছেন, মনের মানুষকে না দেখে গেলে কিভাবে হয় বলুন?”
আবির কথাগুলো পাত্তা দিল না। বরং ছটি ওড়না ঠিক করা দেখে বিরক্ত হয় যেন। এক হাতে ছাতাটা ধরে অন্য হাতে নিজের পরণে থাকা ব্লেইজারটা খোলার চেষ্টা করে। পরপরই খুলে ছুটিকে দিকে এগিয়ে বলে উঠে,
“গর্দভ!কাজ করার আগে না ভেবে এখন আমার সামনে ভাবাভাবি দেখাচ্ছিস?
ছুটি সরু শ্বাস টানে।ব্লেইজারটা হাত বাড়িয়ে নেওয়ার আগেই আবির ছাতাটা কাঁধে আটকিয়ে দুইহাতে টানিয়ে দিল তার গায়ে। বলল,
“এতবছর আমার জন্য পাগলামো দেখিয়েছিস। ভালোবাসা দেখিয়েছিস৷ অথচ আমি চলে যাব শুনে তোর একটু পাগলামো নেই। একটু ও কষ্ট নেই। বরং নেচে নেচে ভার্সিটি মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজে আসছিস? ”
ছুটি সবটাই শুনল। পরমুহুর্তেই হেসে বলল,
“ আপনার ব্লেইজারটা? ভিজে গেল তো। পরে ফেরত কি করে দিব? আপনি তো চলে যাচ্ছেন আজ। ”
আবির ভ্রু উঁচু করে বলে,
“ এমন ভাবে বলছিস যেন আর দেখা হবে না? ”
ছুটি ক্লান্ত চাহনিতে তাকায়। হেসে বলে,
“ নাও হতে পারে।আর হলে তো ভালোই। ফেরত দিয়ে দিব তাহলে। ”
আবিরের এই মুহুর্তে কপালে ভাজ পড়েে।মেয়েটা কেমন করে যেন কথা বলে এই কয়েকদিন।কেন যেন মনে হয় মেয়েটা তাকে ইগ্নোর করতে চাইছে। আবির শুধায়,
“ নাও হতে পারে মানে? তোর কথা গুলো কেমন জানি শোনায় এখন। তোকেও কয়েকদিন বুঝে উঠছি না আমি। এমন কেন হচ্ছে? ”
ছুটি হেসে জানায়,
“ জানি না তো।”
আবির এবারে কঠিন স্বরেই বলে উঠে,
“ আমায় ঠকানোর কথা ভুলেও ভাববি না ছুটি। ভুলেও না। খুব খারাপ হবে তাহলে।”
ছুটি তাচ্ছিল্য করে জানায়,
“ আপনাকে? ঠকলে আমি ঠকব আবির ভাই তবুও ভুলেও আপনাকে ঠকতে দিব না।”
“ আমার কেন মনে হচ্ছে তুই আর ভালোবাসিস না আমায়? আগের মতো চেয়ে থাকিস না কেন? আগের মতো আগ্রহ দেখি না কেন তোর? ”
“ বেশি আগ্রহ দেখালে নিজের মূল্য থাকে না আবির ভাই। যায় হোক, নিজের যত্ন নিবেন। ভালো থাকবেন আবির ভাই! আপনি দেশে আসলে জানাবেন। ব্লেইজারটা পার্সেল করে পাঠিয়ে দিব। ”
আবির ভ্রু কুঁচকে শুধায়,
“ পার্সেল? দেশে ফিরলে তোকে সহই পার্সেল করে নিয়ে আসব ছুটি। খালি ওয়েট করিস একটু আমার জন্য। ”
ছুটি হাসে। মনে মনে ভাবে, কি নিখুঁত অভিনয়! এত সুন্দর অভিনয় কেউ করে? কেনই বা করছে এই অভিনয়টা এখন? এখন তো নিশ্চয় কোন স্বার্থ জড়িয়ে নেই? তাই না?তাহলে তো বলেই দিতে পারে৷ ছুটিও অভিনয়ে তাল মেলাল। হেসে বলল,
“ হু! ভালো থাকবেন। যত্ন নিবেন নিজের।”
আবির যেন কেমন করে তাকাল। সে দৃষ্টিতে দৃঢ়তা রেখে বলে,
“ আরো কিছু বলার কথা বোধহয় তোর। বল, ওটা শোনার জন্যই আসা। ”
ছুটি চুপ থাকে। যদিও জানে আবিরের সব কটা কথাই অভিনয় তবুও আলতো স্বরে বলে উঠে,
“ভালোবাসি।”
আবির যেন এবারে শান্তি পেল। মুখে ফুটে উঠে হাসি। ছাতাটা ছুটির দিকেও নিয়ে গিয়ে কাছাকাছি দাঁড়াল সে৷ কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ঠোঁট ছোঁয়াল ছুটির ভেজা কপালে। বলে,
“ অপেক্ষায় থাকিস। ”
ঝুম বৃষ্টিতে শীতল আবহাওয়া জুড়েছে আশপাশে। স্বচ্ছ সেই শীতল আবহাওয়ায় বেলকনিতে বসে ছুটি আর আবিরের দৃশ্যটা দেখল। বিড়বিড় স্বরে বলে উঠল,
“ ওরা বিয়েই করল না। অথচ রাস্তায় দাঁড়িয়ে চুমু খাচ্ছে। আর আমি? বিয়ের চারবছর পরও এই চার দেওয়ালের ভেতর বউকে চুমু খেতে গেলে আতংকে থাকা লাগে। কখন না জানি বউ যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয়।”
কথাটা বলেই স্বচ্ছ কপাল ঠেকায় বেলকনিতে।পরনে তার তখন একটা তোয়ালে কেবল। একটু আগেই তার আব্বু চেঞ্জ করিয়ে দিবে বলে হাওয়া হয় গিয়েছে। স্বচ্ছর বিরক্ত লাগে। বেলকনি ছেড়ে হেঁটে এসে রুমে আসে। হালকা চেঁচিয়ে বলে,
“আব্বু?আব্বু? ”
হঠাৎ স্বচ্ছর এমন স্বরে ছুটে এল স্বচ্ছর মা আর সুহা৷ স্বচ্ছকে এমন চেঁচাতে দেখে ওর মা বলে উঠল,
“ তোর আব্বা মাত্র বাইরে গেল। ষাড়ের মতো চেচাচ্ছিস কেন বাপ?”
স্বচ্ছর মায়ের মুখে স্বচ্ছর সম্বন্ধে এমন সম্বোধন সুহার হাসি পায় পেট ফেটে। তবুও হাসি চেপে রাখে। স্বচ্ছ কোনরকমে বাবার উপর রাগ দেখিয়ে বলে,
“ তোমার বরের উপর রাগ হচ্ছে আম্মু।আমায় চেঞ্জ করানোর কথা ছিল। ”
স্বচ্ছর মা তাকায়। সত্যিই তো। আবির সাদাফের পর স্বচ্ছকে চেঞ্জ করার দায়িত্বটা স্বচ্ছর বাবাই নিয়েছে। অথচ এখন ছেলেটার কোমড়ে একটা তোয়ালে পেঁছানো কেবল। স্বচ্ছর মা ছোট শ্বাস টানে। বলে,
“ তোকে দেখতে এল কয়েকজন বাসায়। তোয়ালে পড়েই থাকবি? নাকি চেঞ্জ করবি? তোর আব্বা তো বাসাতেও নেই।”
স্বচ্ছ বিরক্ত নিয়ে বলে,
“আমি কি মেয়ে? আমায় কেন দেখতে আসবে?আজব!”
“পাগল। তুই অসুস্থ! তাই দেখতে এসেছে তুই কেমন আছিস। তুইও না। ”
স্বচ্ছ তখনও অসন্তুষ্টু। বলে,
“ উনাদের দেখাতে কি আমি সুস্থ হবো?যাদের দেখার তারাই তো দেখছে না। যেমন তোমার বর? সে তো আমায় একটা তোয়ালে পড়িয়ে দিয়ে চলে গেছে। আমার বউ আমায় ফ্রেশ করাবে বলে চলে গেছে। আজ অসুস্থ বলে সবাই আমায় পাত্তা দিচ্ছো না। হারে হারে মনে রাখছি আমি। ”
স্বচ্ছর মা চোখ ছোটছোট করে তাকাল। বলল,
“ সুহা? একটু দেখো না ছেলেটাকে চেঞ্জ করিয়ে দিতে পারো কিনা। বুঝোই তো আত্মীয়। তিহানদের ফেমিলি। না দেখা করলে বেয়াদবি বলবে। ”
সুহা অসহায় দৃষ্টিতে তাকায়। সে তো চেঞ্জ করায়ই৷ তবে শুধ শার্ট। কিন্তু পেঁচানো তোয়ালে খুলে চেঞ্জ করাবে নাকি এখন? ছিঃ ছিঃ! সুহা মনে মনে একবার ভেবেই কেমন করে। ততক্ষনে অবশ্য স্বচ্ছর মা চলে গিয়েছে অনুরোধ করে কথাটা বলে। সুহা বিরক্ত হয়ে বলে,
“ একটা তোয়ালে পরে একটা মেয়ের সামনে বসে আছেন। লজ্জা লাগে না। ”
স্বচ্ছ কেমন করে যেন তাকায়। বলে,
“ এটা আব্বু করেছে। আমার দোষ নেই।আমি এক হাতে নিশ্চয় চেঞ্জ করতে পারব না তাই না? ”
সুহা এগিয়ে আসে। স্বচ্ছর শার্টে হাত দিয়ে বোতাম খুলে প্রথমে। বুক পিঠ মুঁছিয়ে দিতে দিতে বলে,
“আমার নামে আপনার আম্মুর কাছে বিচার দিচ্ছিলেন নাকি অভিযোগ যে ফ্রেশ করাব বলে করাইনি? ”
“ কোনটাই না। ”
সুহা সরু চোখে তাকায়। মুুছিয়ে দিতে দিতে পিঠ মুঁছানোর উদ্দেশ্যে কাঁধ বরাবর ঝুকল। মুহুর্তেই সুহার অল্প ভেজা খোলা চুলগুলো গিয়ে পড়ল স্বচ্ছর মুখেচোখে। এতোটা কাছে সুহাকে সে আজ প্রথম অনুভব করছে না। যখন থেকেই সে অসুস্থ হওয়ার পর সুহা এই কাজ করছে তখন থেকেই এই মুহুর্তটাতে সে খুব মনোযোগ দিয়ে সুহাকে অনুভব করে৷ তাকিয়ে থাকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে। আজও তাই। তবে চুলগুলো মুখচোখে পড়তেই চোখ বুঝে সে। মুগ্ধ হয়ে ঘ্রাণ নেয়। পরমুহুর্তেই কেমন স্বরে জানায় তার মুগ্ধতা,
“ একটা স্মেল তোমার চুলে সুহাসিনী। যদিও কোনদিন কোন মেয়ের চুলের ঘ্রাণ নেইনি তবে শুনেছি আমি। এখন মনে হচ্ছে এটা সত্যিই সুন্দর! ”
সুহা বিরক্তি নিয়ে তাকায়। স্বচ্ছর মুগ্ধতাতে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে সরে গিয়ে বলে,
“ চুলের কোন নিজস্ব ঘ্রাণ নেই ভাই৷ ওটা শ্যাম্পুর ঘ্রাণ। ”
স্বচ্ছ কেমন করে তাকায়। সুহা ততক্ষনে সরে দাঁড়িয়েছে।যাতে স্বচ্ছর মেজাজ বিগড়ে যায়। বিরক্ত গলায় বলে,
“ ভাই? কে ভাই ? ভাই হলে সারাক্ষন বউ বউ হয়ে ঘুরঘুর করছো কেন আমার আশপাশে? বলেছি আমি ঘুরঘুর করতে? ”
“আপনার কথা অনুযায়ী ঘুরঘুর করব নাকি?”
স্বচ্ছ ভ্রু বাঁকিয়ে শুধায়,
“ কার কথা অনুযায়ী করবে? ”
“সুহা কারো কথা অনুযায়ী চলে না। ”
“ ভালো!”
সুহা ছোট শ্বাস টানে। পরমুহুর্তে বলে,
“ উঠুন! আপনাকে একগাধা মেয়েলোক দেখতে এসেছে। তোয়ালে পরে গেলে অবশ্য বেশিই অ্যাটেনশন পাবেন। তবে আপনার আম্মু যেহেতু বলেছে সেহেতু চেঞ্জটা করিয়ে দেওয়াটা উচিত। ”
“ নাকি মেয়েগুলা আসবে এসে আমায় এই অবস্থায় দেখবে আর তাকিয়ে তাকিয়ে থাকবে তা সহ্য হবে না তোমার? ”
“ সুহার অতোটা খারাপ সময় আসেনি স্বচ্ছ।একটা সময় ছিল আপনাদের পাড়ার এত এত মেয়েদের থেকে আপনার রূপের প্রশংসা শুনেছি। এই পাড়ার অর্ধেক মেয়ে আপনার রূপে মোহিত আমি জানি তখন থেকেই। সুতারাং তখন যেহেতু সহ্য হয়েছে এখনও সহ্য হবে। ”
“ সব মেয়ে মোহিত অথচ তুমি ফিরেও চাও না। নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর! ”
“ বেশি কথা বলেন। উঠুন।”
স্বচ্ছ উঠতে উঠতেই বলে,
“ এখন কি তুমি চেঞ্জ করিয়ে দিবে সুহাসিনী? ”
সুহা মাথা নাড়িয়ে শুধায়,
“ কেন? সমস্যা হবে ?”
” আমার তো এক হাত ভালো আছেই। দাঁড়াতে,হাঁটতে সবই পারি। তুমি কেবল একটু সাহায্য করলেই হবে। ”
“ আমি সাহায্য করব৷ কিন্তু তোয়ালে খুলবেন না একদম। কিংবা কোন ফাজলামো করবেন না। মে’রে দিব তাহলে। ”
সুহা কথাটা বলতেই স্বচ্ছ হাসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
” খুললেও কি? তোমারই তো বর তাই না?অধিকার রাখো তুমি। ”
সুহার কান গরম হয়ে উঠে। উষ্ণ ধোঁয়া বের হয় যেন নাক মুখ দিয়ে। রক্তিম ঠেকে মুখটা। তবুও স্বচ্ছর কথার উত্তর করল না। নিশ্চুপ থেকে স্বচ্ছর প্যান্টটা হাতে নিল৷তারপর স্বচ্ছ বিছানায় বসতেই সুহার সাহায্য নিয়ে প্যান্টের দু পা ডুকিয়ে যখনই উঠে দাঁড়াতে নিল ঠিক তখনই আচমকা ঘটে গেল এক বিপর্যয়। সাদা তোয়ালেটা ডিলে হয়ে পড়ে গেল এক মুহুর্তেই ফ্লোরে। স্বচ্ছ মুহুর্তে চোখ গোল গোল করে তাকায় সুহার দিকে। মেয়েটা চোখ খিচে নিয়েছে। রাগে দুঃখে লজ্জায় রক্তিম হয়ে দুই হাত চেপে ধরে স্বচ্ছর গলায়।দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে,
প্রেমের সমর পর্ব ২৪
“ বলেছিলাম না তোয়ালে যেন না পড়ে। বেয়াদব, নির্লজ্জ লোক আপনি। কি করেছেন হুহ?”
স্বচ্ছ প্রথম দফায় কিঞ্চিৎ ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও এই মুহুর্তে সুহার রক্তিম চোখ বুঝে রাখা মুখটা দেখে হাসি পায়। এভাবে চোখ খিচে রেখে কে রাগ দেখায় হু?তার বউই দেখাতে পারে। স্বচ্ছ হাসি চেপে ফের খোঁচাতে বলে উঠে,
“দেখে নিয়েছো? সত্যিই দেখে নিয়েছো সুহাসিনী? ”
সুহা আরেকটু জোরে চেপে ধরে স্বচ্ছর গলাটা। বলে,
“ নির্লজ্জ, বেহায়া পুরুষমানুষ! ”
স্বচ্ছ হাসে এবারে। বাম হাতে প্যান্ট টেনে কোমড়ে উঠিয়ে নিতে নিতে বলে,
“ নিষ্ঠুর! আমার অসুস্থতায় ও একটু মায়া নেই তোমার। ”
