Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৩
শানজানা আলম

অথৈ পেয়াজ কাটছিল কিচেনে দাঁড়িয়ে। ফোন পাশে রাখা, সাধারণত কখনো পাশে রাখে না, আজ নিয়ে এসেছে৷
তাহিরা বেগম অথৈকে বললেন, অথৈ, তোর আরাফাত আঙ্কেল ফোন করেছিলেন, কি বলব? তোর সাদিককে পছন্দ হয় নি?
অথৈ হাতের কাজ থামিয়ে বলল, এভাবে বললে বিষয়টা ভালো দেখায় না। বলো যে অথৈ এখনি বিয়ে করতে চায় না। ওনাদের তো তাড়া আছে, আমার সময় লাগবে।
কত সময় লাগবে? – তাহিরা বেগম বিরক্ত হলেন। মেয়েদুটো ভালো ছিল, এখন বড় হয়েছে, যে যার মতন চলছে৷ সাজানো সংসার ভেঙে দিয়ে বড় মেয়ে একা একা ঢাকায় আছে, কি করছে, কি খাচ্ছে, সেটা জানেন না তিনি। ছোটো মেয়েটা এত ভালো পাত্র না করে দিচ্ছে।
অথৈয়ের হোয়াটসএ্যাপে টেক্সট এলো, রিচড সেফলি।

এহসান!!
অথৈ নিজের অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
বুয়াকে পেয়াজ ছেড়ে দিয়ে অথৈ রুমের দিকে চলে গেল, মাকে উত্তর না দিয়ে। রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে, টেক্সট রিপ্লাই করল।
পথে কষ্ট হয় নি তো? –
না, অল ওকে!
লাঞ্চ কোথায় করবেন?
দেখি কিছু একটা অর্ডার করে নিবো।
আচ্ছা। ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিন তাহলে।
হ্যা, শাওয়ার নিয়ে ঘুমাব।
বাস কখন?
সাড়ে দশটায়।
সায়দাবাদ?
না, পান্থপথ থেকে।
আচ্ছা।

এহসান শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে বসে ভাবল, বাসে ঘুম হয়েছে, এখন ঘুম আসছে না। কোনো কাজও নেই। শুধু খিদে পেলে খেতে হবে, ভাত আর আলু ডিম সিদ্ধ করে নিলেই হয়। বাইরে খাওয়া মানে তিন চারশ টাকা খরচ হয়ে যাবে!
এহসান মনে মনে ভাবল, এখন তাকে দুই তিনশ টাকা বাঁচাতে চিন্তা করতে হচ্ছে! কয়েকমাস এরকম যাবে। তারপর হয়তো সব ঠিক হবে আস্তে আস্তে।
এহসান কিচেনে ভাত বসিয়ে এসে ড্রয়িংরুমে বসল।
ফোন হাতে নিয়ে আবার অথৈকে টেক্সট করল, তুমি কি করছ?
অথৈ উত্তর দিলো। বেশ কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পরে এহসান ফোন করল। অথৈ পিক করল না।
অথৈ শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে ঢুকেছিল। বের হয়ে ফোন ব্যাক করল।
এহসান ভাত নামিয়েছে, অথৈয়ের সাথে কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ করল।
ফোন রেখে একটু গা এলিয়ে দিলো বিছানায়, অদ্ভুতভাবে, তার আগের খারাপ লাগা, বিষণ্নতা নেই। বরং একটু ভালো লাগছে। এর কারন কি অথৈ!

সে কি অথৈ কে পছন্দ করতে শুরু করেছে!
কিন্তু অথৈ কেন! এত মানুষ থাকতে অথৈকে কেন ভালো লাগতে হবে!
অথৈয়ের বিয়ে অনেকটা এগিয়েছে, অথৈ বলেছে সাদিককে তার ভালো লাগে নি, তাই বলে এহসানকে ভালো লাগবে, এমনটা নয়। অথৈ হয়তো তাকে সহানুভূতি দেখাচ্ছে। তবে এমনটা মনে হচ্ছে না। ঐশি তার ওয়াইফ থাকাকালীন অথৈয়ের সাথে কখনো ফোনে তেমন বলার মত কথা হয় নি, ঐশি দুয়েক মিনিট ফোনটা দিতো, তখন শ্যালিকা হিসেবে যেটুকু কথা! এখন অথৈকে একদম অন্যরকম মনে হচ্ছে।
ধুর, কি সব ভাবছে এহসান, অথৈ কে নিয়ে আর কিছু ভাবা ঠিক হবে না। আর ফোন বা টেক্সটও করা যাবে না। হয়তো একা বলেই এমন মনে হচ্ছে।
মেসেঞ্জারে কয়েকটা মেয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। তাদের দুয়েকজনকে এহসান নক করল, রিপ্লাইও পেলো, হাই হ্যালোর পরে এহসান আর এগুতে পারল না। তার অবচেতন মন অথৈয়ের টেক্সটের অপেক্ষা করতে লাগল।

সারাদিন টুকটাক মেসেজ ফোন কলের পরে, অথৈয়ের মনে হলো, কাজটা ঠিক হলো না। আপু জানতে পারলে রেগে যাবে, আব্বা আম্মাও ভালো ভাবে নেবে না।
এখানে এহসান ভাইয়ের সাথে সব সম্পর্ক শেষ, সে কেন এমন করছে, বিষয়টা খুবই বাজে হচ্ছে।
নিজেকে একশ নীতিকথা বুঝিয়ে, বিকেলের শেষ দিকে অথৈ ফোনটা হাতে নিলো, আবার রেখে দিলো।
কেমন অস্থির লাগতে শুরু করল, আবার ফোন হাতে নিলো। অস্থিরতা কমাতে ফোন রেখে শেষ বিকেলে ছাদে গেল।

ফিরে এসে দেখল এহসান ফোন করেছিল, টেক্সট করে রেখেছে, বিজি?
অথৈ সাথে সাথে ফোন ব্যাক করল।
এহসান ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছিলো।
হ্যালো,কোথায় ছিলে, বিজি?
নাহ, ছাদে গিয়েছিলাম।
আচ্ছা, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
কখন বের হবেন?
এই তো নয়টার দিকে।
আপনার রিসোর্ট বুক করা আছে?
হ্যা, বুক করেছি। ওইসাইড এমনিও নিরিবিলি, ফাঁকাই থাকে।
ঘুরে আসুন ভালো লাগবে।
এহসান বলল, মনটা এত অদ্ভুত অথৈ৷ কি যে ভালো লাগে আর কি যে ভালো লাগে না, সেটা নিজের হাতে থাকে না।

একদম! কফি খেয়েছেন?
নাহ, ভালো কথা মনে করেছ, এককাপ কফি এখন দরকার ছিল! ওয়েট, রেডি করে নিই!
এহসান ভাই, আপনি একাই তো সব পারেন! দুপুরে রান্না করে নিলেন!
তা পারি, তবে করতে ইচ্ছে করে না। সত্যি বলতে আমি একদম বাঙালি পুরুষ বলতে পারো, ডিপেন্ড করতে পছন্দ করতাম!
এই অবধি বলে থামল এহসান। পুরো আলাপে কোথাও ঐশির কথা এলো না। যেন ঐশি বলে কোথাও কেউ ছিল না।
অথৈয়ের সাথে আবার দশ মিনিট কথা বলে খুব রিলাক্সিং লাগল!
অথৈ এতক্ষণ যেন অনেক ভারী হয়েছিল, এহসানকে ফোন করার পরে হালকা লাগল নিজেকে!

ঐশিকে নিয়ে নাসির মেতে রইল রাতভর! ঐশির নাসিরকে একটু অপরিচিত মনে হতে লাগল, আগে তো এমন মনে হয় নি, ব্যাংককে এসে সে পুরো পার্ভাট আচরণ করছে!
ঐশি সকালের দিকে শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে সুন্দর একটা টপস স্কার্ট পরল। নাসির ঐশিকে দেখে বলল, এই ভিলা একদম প্রাইভেট, এখানে তোমার কাপড় পরার কোনো প্রয়োজন নেই!
ঐশি অবাক হয়ে বলল, মানে?
মানে বোঝো নি, তোমাকে আমি ন★গ্ন দেখতে চাই৷
নাসির, তুমি কি পাগল হয়ে গেছ! কি সব বলছ তুমি!
নাসির ঐশির কাছে এসে ওকে পেছন থেকে আলিঙ্গন করে বলল, এটা দেশ না, তোমার এরকম এত জামাকাপড় পরে থাকার দরকার নেই, তুমি এত সুন্দর, হট, সেক্সি, থাকো না একটু আমার মনের মতন!
তোমাকে এরকম করে কাছে কতটুকু সময় পাবো বলো! সব সময় দেশের মতন লুতুপুতু হয়ে থেকো না, বি মোর স্মার্ট! অবশ্য আমার তোমার অ্যামেচারনেস ভালো লাগে, সো সুইট মাই ডার্লিং,
তাই বলে….

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২২

নাসির ঐশির কথা শুনলো না। ওর বাঁধা উপেক্ষা করেই টপস স্কার্ট, ইনার গার্মেন্টেস খুলে ফেলে দিয়ে বলল, ব্যস, এরকমই থাকো! বিকেলের দিকে একটা স্পা নিয়ে নিও, আমি বুক করে দিচ্ছি!
নাসিরের একটা ফোন আসায় সে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেল।
ঐশির ভীষণ অস্বস্তি লাগতে শুরু করল, এটা কেমন কথা হলো, সুবহানাকে একটা ফোন করবে!
ঐশি ফোন ধরতে গেল, নাসির ফোনটা টেনে ছুড়ে সোফায় রেখে বলল, এটুকু সময় শুধু আমার, ফোন ধরবে না৷ মুখ ভার করে আছ কেন!
ঐশি বলল, এরকম কখনো থাকি নি তো!
নাসির অগ্রাহ্য করে বলল, তুমি জাকুজিতে গিয়ে অপেক্ষা করো, আমি আসছি!!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৪