Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৭

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৭

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৭
শানজানা আলম

ঐশির ট্রিপ শেষ। লাগেজ ভরে শপিং করেছে, যেটা কল্পনায়ও ছিল না। নাসির যেমন পুরোটা সময় কাটিয়েছে ইচ্ছে মতো, তেমন দুই হাত ভরে খরচও করেছে। জুতা, ব্যাগ, ড্রেস, কসমেটিকস কোনো কিছুই বাদ নেই। নাসির একজন এক্সপার্ট গাইড দিয়েছিল ঐশির সাথে, ঐশি ঘুরে ঘুরে শপিং করেছে।
ফেরার সময় হয়ে এসেছে। নাসির একটু বাইরে ছিল, সুবহানাকে এই কয়েকদিন ফোন করাও হয় নি, সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় একদম পোস্ট করা বন্ধ রেখেছিল ঐশি।
লাগেজ গুছিয়ে নিতে নিতে সুবহানা কল করল ঐশিকে।
কিরে, তোর তো কোনো খোজই নেই, আছিস, নাকি ইম্পোর্ট করে দিয়েছে?
ঐশি বলল, বাজে কথা রাখ, নাসির একদম পছন্দ করে নি ফোনে সময় কাটানো।
তাহলে?

পুরোটা সময় চিপকে ছিল!
তাহলে তো তোকে খুশি করে দিয়েছে মনে হয়!
ইচ্ছে মতন শপিং করেছি!
শুধু শপিং? ব্যালান্স ট্রান্সফার করিস নি?
নাহ, কিসের ব্যালান্স?
এই যে ট্রিপে গেলি, এজন্য কিছু নিবি না! আশ্চর্য! লাখ লাখ টাকা নিতে হবে তো!
নাহ, আমি কেন ওর থেকে টাকা নিব, ও তো আমাকে না চাইতেই সব কিছু দিচ্ছে।
তুই কি বোকা নাকি বলদ ঐশি, নাসির কি তোকে বিয়ে করবে? তুই জাস্ট গার্লফ্রেন্ড, ওর সাথে শুবি, আর নিজের ভবিষ্যত নিশ্চিত করবি!
ঐশি বিরক্ত হয়ে বলল, সুবহানা, একটা বিষয় সত্যি যে নাসিরকে আমি তোর মাধ্যমে পেয়েছি, কিন্তু ওর বিষয়ে কোনো বাজে কথা শুনব না, ওর আর আমার সম্পর্ক নিয়েও বাজে কথা বলবি না!
যে কোনো কারনেই হোক, আমি নাসির ভালোবাসি।
সুবহানা হা হা করে হেসে বলল, ঐশি, তুই অনেক ইমম্যাচিউর, যাই হোক দেশে আয় আগে, তারপর
বুঝে নিব।
নাসির রুমে ঢুকতে গিয়ে ঐশির কথা শুনতে পেলো।
নাসির আসছে দেখে ফোনটা ব্যাগে রেখে দিলো।
নাসির জানতে চাইলো, কে ফোন করেছিল?

সুবহানা!
কি বলছিল?
কিছু না!
কিছু তো বলছিল,
না না তেমন কিছু নয়।
বলো আমাকে!
ও মাঝে মাঝে খুব অদ্ভুত কথা বলে!
যেমন!
বলে আমি কেন তোমার থেকে টাকা নিয়ে লাইফ সেট করছি না! ব্লা ব্লা, বাদ দাও তো। আমার গোছানো শেষ।
তোমার লাইফ সেট করতে চাচ্ছে সুবহানা!
হ্যা!
তা তুমি কি বললে?

নাসির, আমি না চাইতেই তুমি আমাকে অনেক অনেক কিছু দিয়েছ, আমার কিছু প্রয়োজন হওয়ার আগেই , তুমি সেটা দিয়ে দাও। আমার আর কিছু দরকার নেই।
কিভাবে যেন নাসিরের ঐশির এই কথাটা ভালো লাগল। অন্য সব মেয়েদের মত ঐশির এখনো টাকা টাকা বাতিক হয় নি! তবে হতে সময় লাগবে না। সুবহানা লাইনে নামিয়ে ফেলবে!
নাসির বলল, তুমি ফ্যাশন হাউজটা নিয়ে একটু ভাবো।
এটা দাঁড়িয়ে গেলে তোমার এ্যাসেট হয়ে যাবে। আমি দেশে ফিরে কয়েকজনকে বলে দেব, তোমার সাথে কথা বলে সব ঠিক করে দেবে। চলো এখন!
ফ্লাইটের সময় হয়ে এসেছে।

ডিনারের পরে এহসান বাগানে বসতে চেয়েছিল, তবে মশার কামড়ে বসার উপায় রইলো না। রিসিপশন সাড়ে নয়টায় বন্ধ হয়ে যায়। এখন দশটা বাজে।
এহসান রুমে গিয়ে মুভি দেখবে ভাবলো। রুবাই হেঁটে হেঁটে আসছে দেখে আবার বসল, মেয়েটা কথা বলতে চাইছে বেশ কিছু সময়।
রুবাই এসে বলল, চলে যাচ্ছিলেন? উঠে দাঁড়ালেন দেখলাম।
এহসান বলল, আপনাকে দেখে বসলাম।
আমাকে তুমি করেই বলতে পারেন।
এহসান হেসে বলল, তুমি একটু সময় নিয়ে বলা ভালো।
রুবাই বলল, আমি তো আপনার থেকে ছোট!
হ্যা, বেশ কিছুটা।
যাই হোক, আমি আসলে জানতে চাচ্ছি আপনার সম্পর্কে!
এহসান বলল, আমার নাম এহসান, একটা প্রাইভেট ফার্মে জব করি। আপাতত সিঙ্গেল, একাই থাকি, ভাইবোন সবাই বড়, মা তাদের সাথে থাকেন এই তো!

ব্যস, এনাফ?
হুম, এর বাইরে আর কিছু নেই!
বান্ধবী?
রুবাইয়ের প্রশ্নে এহসান হাসল। ঠিক কি জানতে চাইছেন?
মানে গার্লফ্রেন্ড আছে?
নাহ, বয়সও নেই!
আচ্ছা। আমার সম্পর্কে জানতে চান না?
বলুন!
আপনার আগ্রহ নেই?
আমি আসলে একটু নিরাশক্ত মানুষ, আগ্রহ কম।
রুবাই বলল, তাহলে বলব না।
এহসান হেসে বলল, রাগ করলে? রাগ করো না। মানুষের সম্পর্কে যত কম জানবে, ততই ভালো।
যাক তুমি করে বললেন তাহলে!
হ্যা, নিজে থেকেই তুমি হলো, জোর করিনি!
রুবাই হাসলো। বীচে যাবেন?
এত রাতে, এই জায়গা সেফ না।
আচ্ছা, পরিবেশ ভীষণ সুন্দর।
হুম, তবে আমি তেমন বীরপুরুষ টাইপের কেউ না, ভীতু মানুষ, আমি যাব না।
আচ্ছা, আমার সম্পর্কে বলি, আমি রুবাই, অনার্স সেকেন্ড ইয়ার শেষ করলাম, বাবা নেই, মা খালারা একসাথেই থাকে, নানাবাড়িতে। আসলে ওখানে পৈতৃক ফ্লাট পেয়েছে সবাই। আমরা তিন ভাইবোন, আমিই বড়। বাকিদের তো দেখলেনই।
আচ্ছা। তুমি সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছ?

হ্যা৷
আমার সম্পর্কে আরেকটা কথা আছে, তবে সেটা শুনলে তোমার হয়তো আমার সাথে কথা বলার আগ্রহ কমে যাবে।
কী এমন কথা?
এই যে তুমি জিজ্ঞেস করলে না, আমার গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা? আমি আসলে ডিভোর্সড, খুব রিসেন্টলি আমার ওয়াইফের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে।
আপনি বিয়েও করেছিলেন, আবার ডিভোর্সও হয়েছে?
অবিশ্বাসের সুরে রুবাই বলল।
হ্যা। – এহসান সংক্ষিপ্ত করে বলল।
কেমন যেন অবিশ্বাস্য।
তাই!! কিন্তু কেন? ডিভোর্স কি হয় না মানুষের?
মানে আপনি এত হ্যান্ডসাম, আপনাকে ছেড়ে গেছে, কোন মেয়ে! জানতে ইচ্ছে করছে!
এহসান হো হো করে হাসল।
হাসছেন কেন?
তোমার চাইল্ডিস কথাবার্তা শুনে, আমি তোমাকে একটু ম্যাচিউর ভাবছিলাম।
আপনি নিশ্চয়ই ঠাট্টা করছেন!
নাহ, কেন ঠাট্টা করব বলো!
আচ্ছা।

এখন কি বিব্রত বা বিরক্ত লাগছে, মনে হচ্ছে না খাইস্টা ব্যাটা!
রুবাই বলল, নাহ, মনে হচ্ছে না। বরং কৌতূহল বেড়ে যাচ্ছে।
এহসান বলল, অযাচিত কৌতুহল ইগ্নোর করতে হয়।
আর কিছু বলতে চান না, তাই তো?
হুম, অনেক বুদ্ধিমতী তুমি৷
রুবাইয়ের ফোন এসেছে, রুবাই বলল, মা ফোন করেছে, যেতে হবে।।
হ্যা যাও, রাত কম হয় নি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৬

রুবাই কতদূর গিয়ে ফিরে এলো, সকালে যাবেন বীচে?
এহসান বলল, সিওর না, ঘুমাব একটু, এমনি সময়ে তো সকালে আরামে ঘুম হয় না।
রুবাই বলল, ঠিক আছে, আমরা যাচ্ছি। আপনি যেতে পারেন আমাদের সাথে।
এহসান একটু হাসল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৮