Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৪
শানজানা আলম

এহসান, আজ একটু বাসায় এসো তো। ডিনার করে ফিরবে। – ভাবী ফোন করে এহসানকে ইনভাইট করলেন সকালেই।
এহসান বুঝতে পারল, বিষয়টা কি হতে পারে। হয়তো নীলার বিষয়ে কোনো কথা বলবে। মাও আছে ওখানে।
সন্ধ্যার দিকে ভাবী আবারও ফোন করে মনে করিয়ে দিলো, এহসান, আসার সময়ে দই নিয়ে এসো তো। বাসায় গেস্ট আছে, তোমার ভাইয়ার ফিরতে রাত হতে পারে।
এহসান দই নিয়ে পৌঁছাল সাড়ে সাতটার দিকে। বাসায় কিছু মেহমান আছে, ভাবীর বাপের বাড়ির দিকের। নীলা আর তার বাবা মাকেও দেখা গেল।
এহসান মায়ের রুমে ঢুকলো। ভাবী পেছন পেছন এসে বলল, এই নাও টাওয়েল, ফ্রেশ হয়ে একটু নাস্তা খাও। আম্মা, এসি অন করে দিচ্ছি।
এহসানের মা বললেন, দাও।

-এহসান, নীলার বাবা মা সহ এসেছে, তোমরা নিজেদের দেখো, বাবা মায়ের সাথেও আলাপ হোক।
এসি অন করে দিতে দিতে ভাবী বলল, মা, একটু বোঝান এহসানকে। আমরা তো ওর ভালোই চাই। জানাশোনার মধ্যে একটা ভালো মেয়ে হলে ওর জন্যও ভালো।
এহসান একটু হেসে ওয়াশরুমে ঢুকলো। ফ্রেশ হয়ে জামার হাতা গুটিয়ে ইন আলগা করে মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।
মা বললেন, কি খাইছ দুপুরে?
অফিসেই খাইছি মা।
মুখটা শুকনা দেখা যায়-
এহসান মুখ লুকিয়ে শুয়ে থাকল।
রান্না করে খাও?
ইচ্ছা হলে করি। না হলে করি না।
এহসানের মা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, জন্ম মৃত্যু বিয়ে তো আল্লাহ ঠিক করে।
এহসানের বলতে মন চাইল, তালাক? এটাও তো ঠিক করা! কিন্তু মায়ের সাথে তর্ক করতে মন চাইলো না।
আহারে মায়ের শখের পরীর মতন বউ! শুধু দেখতে সুন্দর হওয়ায়, কেউ কিচ্ছু চিন্তা করে নি ঐশিকে আনতে।

বড় ভাবী মোটামুটি সুন্দরী, এম এ পাশ, হাউজওয়াইফ, চাকরি করতেন, বাচ্চা হওয়ার পরে সংসারে ঢুকে গেছেন৷ সবার সব দায়িত্ব পালন করেন। ডানা কাটা পরী তো উড়াল দিলো।
ভাবী এসে উঁকি দিয়ে বলল, এহসান, এসো আমাদের রুমে।
এহসান উঠে গেল।
ভাবীর বেডরুমে নীলা, নীলার মা বসে ছিলেন। প্রাথমিক আলাপের পরে ভাবী বলল, মামী আসেন তো কিচেনে, একটু দরকার আছে।
এহসান বসল। ভাইয়ার দুই বাচ্চা খেলছে বিছানায়।
নীলাকে এহসান জিজ্ঞেস করল, ভালো আছেন আপনি?
নীলা ঘাড় নাড়লো।
কি করছেন এখন?
পড়ছি, অনার্স থার্ড ইয়ারে।
আচ্ছা। কোন সাবজেক্ট?
সমাজকল্যান।

বাহ, বেশ ভালো। আচ্ছা, আপনি বোধহয় জানেন আপনাকে আর আমাকে ভাবী কথা বলতে সুযোগ করে দিলেন।
জি, আপা বলেছে।
আপনি কি জানেন, আমার ডিভোর্স হয়েছে কিছুদিন আগে?
জি জানি। তাতে আপনার তো কোনো দোষ ছিল।না। ওই মেয়ে টাই ভালো ছিল না। সুন্দরী মেয়েরা।একটু এমনি হয়।
এহসান মুচকি হেসে বলল, আপনিও তো।বেশ সুন্দর।
নীলা লাজুক হাসি হেসে বলল, সবাই এক হয় না।
এহসান বলল, আপনি কেন আমাকে বিয়ে করতে রাজী হচ্ছেন, আপনার তো একটা ভালো বিয়ে হবে, সিঙ্গেল ছেলের সাথে।
নীলা বলল, ডিভোর্সি ছেলেরা বউকে বেশি ভালোবাসে।
এহসান বলল, কেন, আমারও তো দোষ থাকতে পারে, বউকে পিটাইছি এজন্যও চলে যেতে পারে।
নীলা বলল, ইশ, এসব না। আমি জানি, আপা সবই বলছে।
এহসান হেসে ফেলল।
মেয়েটার বুদ্ধি কম, সহজ মনে হচ্ছে। কিন্তু গল্প জমবে না এর সাথে। লাইফে সাজানো গোছানো ঘরোয়া মেয়ে যেমন দরকার তেমন গল্প করার পার্টনারও দরকার। কথার পিঠে দুটো কথা বলে শান্তি না পেলে কেমনে কি!

ভাবী চলে এলো, এহসান, তুমি নীলার ফোন নম্বরটা নিও, ওর সাথে কথা বলে একটু আলাপ করে নাও।
এহসান বলল, ঠিক আছে ভাবী, আমি একটু মায়ের কাছে যাই।এখন।
এহসান উঠে গেল মায়ের কাছে।
মায়ের পাশে শুয়ে বলল, মা, অথৈকে এনে দাও। ওকে বিয়ে করতে চাই।
মা মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, এখন এইটা জিদ থেকে বলতেছ, অথৈ ভালো কিন্তু অনেক কথাবার্তা হবে বাবা, এমনিই নানান দোষ, সবাই কত কথা শোনাচ্ছে, আজে বাজে কথা বলে তোর নামে, এগুলো আরো বাড়বে। পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব, নীলাকে ভালো না লাগলে আবার মেয়ে খুজবে, পাওয়া।যাবে, কিন্তু অথৈ না। এই ফ্যামিলিতে আর না আব্বা, একটু চিন্তা করিস!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৩

ডিনার টেবিলে নীলার বাবা মা সবাই এহসানের সাথে আগ্রহ করে আলাপ করলেন। এহসান সাভাবিক ভাবেই কথা বলল। কোথায় চাকরি করতেছে, ব্যবসা করবে কিনা থেকে।শুরু করে।রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আমেরিকা ইরান ইসরাইল কোনো কিছুই বাদ গেল।না।
রাতে খাওয়া শেষ করে এহসান বের হলো। ভাবী একগাদা খাবার সাথে দিয়ে দিয়েছে, কয়েকদিন রান্না করতে হবে না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৫