ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫২
শানজানা আলম
নাসিরের মুড ঠিক হয়েছে। সনিকা নামের একটা উঠতি মডেল এসেছিল রাতে। মডেল নামে, আসলে প্রফেশনাল প্রসটিটিউট। এক রাতের জন্য হাই পেমেন্ট নেয়। তবে এক্সপার্ট। নাসিরকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে।
এধরনের মেশিন গার্লকে নাসিরের বেশিক্ষণ ভালো লাগে না। মেয়েটাকে পাঠিয়ে নাসির ঐশিকে ফোন করল।
ঐশি ঘুমিয়ে পড়েছিল, ধরফর করে উঠে বসল নাসিরের কল দেখে।
হ্যালো, বেবি ডল, কি খবর তোমার?
নাসিরের ফোন দেখে ঐশির অস্বস্তি লাগতে শুরু করল, গতকালকের বিভৎস অভিজ্ঞতা গায়ে কাটা দিলো।
এই তো, জড়তা নিয়ে বলল ঐশি।
রাগ করে আছ? – নাসির আহ্লাদী করে জিজ্ঞেস করল।
ঐশি উত্তর দিলো না।
আরে আর বলো না, মেজাজ খারাপ ছিল কালকে বা★ল, এত স্ট্রেসফুল লাইফ! তাই বেশি খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি! প্লিজ সুইটি, রাগ করো না।
না ঠিক আছে। বাসায় চলে গেছ, নাকি ওখানেই আছ?
বের হবো, আজকে কয়েকটা মিটিং আছে।
আচ্ছা।
শোনো, রাতের ফ্লাইটে মালদ্বীপ যাব৷ প্যাক করে রেখো।
ঐশি অন্য সময় হলে লাফিয়ে উঠত, এবারে কেমন ভয় ভয় লাগল।
ঐশি বলল, কাজ আছে, বললে, এর মধ্যে যাবে?
হুম, দুটো দিন থেকে আসব তোমাকে নিয়ে, সমুদ্রের মধ্যে ওভারওয়াটার ভিলা, শুধু তুমি আর আমি! আই নিড ইউ বেবি!
ঐশি ভাবল, এই নাসির কাল কোথায় ছিল, আজ তো মনে হচ্ছে কালকের জন্য সরি ফিল করে ওকে ট্যুর দেওয়াতে চাচ্ছে। আর নাসিরকে কিনা ঐশি ভুল বুঝেছিল, ঐশি কি বোকা!
ঐশি বলল, আমার শোরুম উদ্বোধন পরশু, আমরাই থাকব না?
নাসির বলল, তুমি মালকিন, তোমার থাকার কি দরকার। ওরা সব করে ফেলবে, সব জাতীয় দৈনিকে ছবি যাবে, অনলাইন পোর্টালে নিউজ যাবে, আরিশা কে বলে দিব, ও হোস্টিং করবে। তরী মনি, নিপা বিশ্বাস, জবা চেরী সবাই যাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করে আসবে। টিকটকার কয়েকটাকেও বলব ডাকতে। আর কিছু লাগবে তোমার?
ঐশি বলল, না না, এটাই অনেক। কিন্তু আমি ভাবছি, এত খরচ করে শোরুম করা হলো, কেউ কি কিনবে?
নাসির বলল, কিনলে কিনবে, না কিনলে কিনবে না। তোমার কি এটা বেচে চলতে হবে? বোকা মেয়ে কোথাকার! যাও প্যাকিং করে ফেলো।
বাইই, রাখছি এখন।
ঐশি উঠে বসল। প্রথমেই হোয়াটসঅ্যাপ চেক করল৷ এখনো মেসেজ সিন করে নি এহসান। টুপ করে আনসেন্ড করে দিলো ঐশি।
এহসান ঐশির টেক্সট দেখে নি, কারন এহসান ঐশিকে ব্লক করে রেখেছে, মেসেজ আর্কাইভড হয়েছিল।
ফোন চেক করার আগে তো আনসেন্ডই করে দিয়েছে।
সকালে ঘুম ভাঙলো অথৈ এর। এহসান এলোমেলো ভাবে ঘুমিয়ে আছে। অথৈ এহসানের চুলগুলো ঠিক করে দিলো, কেমন মায়া মায়া লাগছে, কই আগে তো কখনো এমন লাগে নি! এখন কি একটু বেশি মায়া লাগছে ওর জন্য! এহসান মনপ হচ্ছে পুরো পৃথিবীকে সরিয়ে অথৈকে নিয়ে বাঁচতে চাইছে। অথৈ সরে যাচ্ছিল, এহসান হাত ধরে ফেলল।
কি হলো?
আরেকটু হাত বুলিয়ে দাও।
অথৈ এহসানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।
এহসান উঠে বসে অথৈ এর কপালে চুমু খেলো।
ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে বসতেই এহসান দেখল, রুবাই টেক্সট করেছে, গুড মর্ণিং, কেমন আছেন?
এহসান ওপেন করল না। পরে রিপ্লাই করা যাবে। রিপ্লাই করলে দুয়েকটা কথা বলতে হবে।
রুবাই অনেক দ্বিধা নিয়ে টেক্সট করবে কি করব না ভাবতে ভাবতে টেক্সট করেছে, বারবার ফোন চেক করেছিল। রিপ্লাই না পেয়ে কিছুটা আশাহত হলো।
ঐশি প্যাকিং করছিল। নায়েব পাশা ফোন করল দুপুরের দিকে।
-হেইই, কি খবর, একদম হাওয়া হয়ে গেলে মনে হয়!
ঐশি বলল, আরে না, কি যে৷ বলব, এটা ভেবে আর ফোন করি নি!
কেন কি হলো? সম্পর্ক হলে তো তুমি মুরুব্বি হয়ে যাবে!
ঐশি বুঝতে পারল, নায়েব জানে না। জানার কথাও নয়।
ঐশি বলল, অথৈ বিয়ে করে নিয়েছে।
হোয়াট, ওর সাথে না দেখা করে এলাম আমি, কয়েকটা দিন আগে! সপ্তাহ পেরোয়নি, তখন তো বলল, সে বিয়ে করতে চায় না।
ঐশি বলল, অথৈ আমার এক্স হাজবেন্ডকে বিয়ে করেছে! ওদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল।
তার মানে এটা তুমি জেনেই বোনকে বিয়ে দিতে চাচ্ছিলে?
এই না, আমি এত জটিল না। আমি কিছুই জানতাম না। আর এহসান একটা হারামি টাইপের ছেলে, আমার সাথে থাকতে পারল ন, অথৈ বোকা,ওকে পটিয়ে নিয়েছে!
সি ইজ রিয়েলি সুইট! আমি সিরিয়াসলি ভাবছিলাম।
ঐশি বলল, সবার ভাগ্যে সব থাকে না, ও ঠেলুক হাড়ি, রান্নাঘরে পচে মরুক। ওর কপালে ভালো লাইফ নেই।
বাদ দাও, সরি, তোমাকে শুধু শুধু ভোগান্তি দিলাম, লজ্জায় আমি কল করি নি।
নায়েব পাশা বলল, লিভ ইট, তুমি তো ভালোই চেয়েছ।
সন্ধ্যায় ফ্রি আছ? চলো মিট করি?
না, আমি তো আজ মালদ্বীপ যাচ্ছি!
ওহ, নাসিরের সাথে?
হ্যা!
তো বেস্ট অফ লাক। ঘুরে এসো। ফিরে এসে দেখা হবে।
ওকে।
ইয়ে মানে ঐশি, একটা কথা বলার ছিল।
হ্যা বলো।
মালদ্বীপে তুমি নাসিরের সাথে কিছু পার্সোনাল পিকচার নিয়ে রেখো।
কেন?
এমনিই বললাম, প্রাইভেট মোমেন্টের ছবি প্রয়োজন হবে তোমারই। কারন নাসির কিন্তু তোমাকে এখনো বিয়ে করে নি। এগুলো তোমার সম্পর্কের একটা ডকুমেন্ট হয়ে থাকবে। এজ এ ফ্রেন্ড সাজেশন দিলাম, তোমার ওয়েল উইশার হিসেবে। মানা না মানা তোমার উপর!!
ঐশি বলল, ওকে, আমার মনে থাকবে।
ফোন রেখে নায়েব পাশা ভাবল, মিনিস্টারের ছেলেকে রিফিউজ করে বোনের এক্স হাজবেন্ডকে বিয়ে করেছে,
বিষয়টি ইন্টারেস্টিং। একটু নাড়াচাড়া করে দেখতে হচ্ছে।
নায়েব আবার ঐশিকে ফোন করল।
হ্যা বলো, ঐশি বলল।
ঐশি, আমি অথৈকে একবার ফোন করতে চাই, তোমার আপত্তি আছে?
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫১
ঐশির মাথায় হঠাৎ বিদ্যুৎ খেলে গেল, নায়েবকে দিয়েই এহসানের সংসারে বিষ ঢোকানো যেতে পারে।
ঐশি বলল, একদম না। ফোন করো, দেখো গাধাটাকে কনভিন্স করে বের করতে পারো কিনা!
না মানে, আমি দেখতে চাই, সে যাকে বিয়ে করল, ওই ছেলেটা কি আমার থেকে এলিজিবল! কৌতূহল হচ্ছে।
সিওর, আমি নম্বর সেন্ড করে দিচ্ছি।
ঐশি অথৈ এর ফোন নম্বর টেক্সট করে দিলো নায়েব পাশাকে।
